নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সিয়ামুজ্জামান মাহিন
  • সলিম সাহা
  • নির্যাতিতের দীর...
  • সুখ নাই

নতুন যাত্রী

  • মোঃ হাইয়ুম সরকার
  • জয় বনিক
  • মুক্তি হোসেন মুক্তি
  • সোফি ব্রাউন
  • মুঃ ইসমাইল মুয়াজ
  • পাগোল
  • কাহলীল জিব্রান
  • আদিত সূর্য
  • শাহীনুল হক
  • সবুজ শেখর বেপারী

আপনি এখানে

বিষাক্ত রাজনীতি:- নবম পর্ব-


মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দেশের অবস্থা বহু পরিবর্তিত হয়। বাবরি ধ্বংসের পর মুম্বাইয়ে দাঙ্গা এবং দাঙ্গার প্রতিক্রিয়া হিসাবে মুম্বাই বিস্ফোরণ হয়। সরকারি হিসাবে 257 জনের মৃত্যু হলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে শুধুমাত্র মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের হামলায় পাঁচশো থেকে হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। তাহলে ওই হামলায় মোট কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল ও কতজন আহত হয়েছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়। চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ ও ছিন্নভিন্ন দেহ, শহরে যেন রক্তের বন্যা বয়ে চলেছিল! চারিদিকে শুধু মানুষের হাহাকার ও আর্তনাদ! তবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এই রকম হামলা হতে পারে? দেশ প্রথম বার এই ধরণের সন্ত্রাসবাদী হামলার শিকার হয়। এই প্রথম জনসাধারণ আরডিএক্স নামের সঙ্গে পরিচিত হয়। দেশ বিদেশ থেকে সরকারের উপর প্রচুর চাপ আসতে থাকে এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শরদ পাওয়ার যে কোন মূল্যে এই মামলার শেষ দেখে যেতে চান! মুম্বাইয়ের সাধারণ জনগণ, পুলিশ ও সরকারের সহযোগিতা করেছিল। এত বড় ঘটনা ঘটার পরের দিনই মুম্বাইয়ের সব অফিস আদালত স্বাভাবিক ভাবে চলে এবং সাধারণ মানুষ কাজে যোগ দেয়। সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসীদের এই বার্তা দিতে চেয়েছিল আমরা ভীত নয়; আমরা মুম্বাইকে স্বাভাবিক করার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। একেই মুম্বাই স্পিরিট বলে। বলাই বাহুল্য বহু ত্যাগ স্বীকার করেও সাধারণ মানুষ মুম্বাইয়ের জনজীবন স্বাভাবিক করতে সফল হয়েছিল।

পুলিশের উপর প্রচুর চাপ আসতে থাকে এই সমস্যার সমাধান করতে। পুলিশ হন্য হয়ে খুজতে থাকে এই ঘটনার আসল মূলচক্রী কে? খুব তাড়াতাড়ি পুলিশ জানতে পারে এই ঘটনার পিছনে টাইগার মেমন, দাউদ ইব্রাহিম ও ডি কোম্পানির হাত আছে। দাউদ ইব্রাহিম কাসকার নামটি প্রথম বার ভূভারতের লোক শোনে। মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরিতে 27 শে ডিসেম্বর 1955 সালে সেখ দাউদ ইব্রাহিম কাসকারের জন্ম হয়। পরবর্তী কালে দাউদ পরিবার মুম্বাইয়ে চলে আসে। দাউদ ইব্রাহিম মুম্বাইয়ের ডোংরি এলাকায় বড় হয়। দশ ভাইবোনের সংসার ও বাবা সেখ ইব্রাহিম আলি কাসকার ছিলেন মুম্বাই পুলিশের সাধারণ কন্সটেবল। দাউদ ছোটবেলা থেকেই দেখে তীব্র দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়া। সে এটাও দেখত তৎকালীন সময়ের ডন হাজী মাস্তান ও করিম লালার বখশিস যেদিন বাড়ি আসত সেদিনই ঘরে কিছু ভাল খাবার জুটত। দাউদ স্বভাবতই খুব দুরন্ত ও সাহসী ছিল। ছেলেবেলায় খেলতে খেলতে কিছু ভুল করেছিল যার জন্য তৎকালীন ডন করিম লালা দাউদকে প্রহার করে দাউদ কোন দিনই এই ঘটনা ভুলতে পারেনি এবং মনে মনে সংকল্প নেই করিম লালাকে একদিন এর ফল ভুগতে হবে। একটু বড় হলে সংসারে তীব্র অনটন দেখা দেয়। দাউদ ছোটখাটো চুরি করে খবরটি দাউদের পিতার কাছে এসে পৌঁছয় দাউদের আদর্শবাদী পিতা ডান্ডা ও জুতো মারতে মারতে ছেলেকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। আসলে দারিদ্রতা দূর করতে দাউদ যে কোন কর্ম করতেই রাজি ছিল; স্বাভাবিক ভাবেই অসৎ পথে পা দেয় এবং এক সাধারণ ছেলে কুখ্যাত ডন দাউদ ইব্রাহিম হয়ে ওঠার শুরু হয়।

দাউদ যখন প্রথম অপরাধ জগতে একটু একটু করে পা দিচ্ছে তৎকালীন বোম্বাইয়ে তিনজন বড় ডন ছিল। এরা ছিলেন- করিম লালা, হাজী মাস্তান মির্জা ও বারদা ভাই। আসলে এদের উপস্থিতি ছিল বহু পুরানো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে আব্দুল করিম শের খান বা করিম লালা নিজেদের বণিক পরিবার সহ বোম্বাইয়ে চলে আসে। 1911 সালে আফগানিস্তানের উন্নব প্রান্তে এই করিম লালার জন্ম হয়। করিম লালা বোম্বাই এসে অন্ধকার জগতে পা রাখে এবং সোনা, রূপার চোরাকারবার, তোলাবাজি এছাড়াও বিভিন্ন রকম অসামাজিক কার্যে লিপ্ত হয়। তার বিরাট ব্যাক্তিত্বর জন্য হাজী মস্তান করিম লালাকে 'আসলি ডন' বলে সম্বোধন করত। বিশেষজ্ঞরা করিম লালাকেই মুম্বাইয়ের প্রথম ডন বলে মনে করেন। নব্বই বছর বয়সে 19 শে ফেব্রুয়ারি 2002 সালে মুম্বাইয়ে করিম লালার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে 1 লা মার্চ 1926 সালে তামিলনাড়ুর পেন্নাকুলামে হায়দার মির্জার ঘরে জন্ম হয়- হাজী মাস্তান মির্জার। হায়দার মির্জা ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী কৃষক কিন্তু তার দারিদ্রতার কারণে তাকে তার গ্রাম ছেড়ে মুম্বাই চলে আসতে হয়। মুম্বাই এসে অনেক চেষ্টা করেও কিছু হয়নি শেষ পর্যন্ত এক সাইকেল সারানোর দোকান খোলেন কিন্তু তাতেও সংসার চলতে চাই না। তবে হায়দার মির্জার ছেলে হাজী মাস্তান মির্জার বিশ্বাস ছিল একদিন এই দারিদ্রতা থেকে নিশ্চিয় মুক্ত পাব!

হাজী মাস্তান যেমন করেই হোক এই তীব্র দারিদ্রতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিল। এই সময় হাজী মাস্তান বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারে ব্রিটেন থেকে আসা পণ্য কাস্টম ট্যাক্স না দিয়ে দেশে আনতে পারলে প্রচুর মুনাফা অর্জন করা যায়। হাজী মাস্তান বন্দরে কুলির কাজ করত এবং কাস্টম অফিসারদের নজর এড়িয়ে ছোট ছোট রেডিও, দু একটা সোনার বিস্কুট ইত্যাদি নিয়ে আসত; তৎকালীন আইন অনুসারে এগুলিকে স্মাগলিং হিসাবে গণ্য করা হত। এভাবে ছোট ছোট স্মাগলিং থেকে আস্তে আস্তে হাজী মাস্তান খুব বড় হয়ে যায়। পরবর্তী কালে মোরারজি দেশাই তৎকালীন বোম্বাই প্রদেশের (বর্তমানে মহারাষ্ট্র + গুজরাট= বোম্বাই প্রদেশ) মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মদ নিষিদ্ধ করেন এর ফলে হাজী মাস্তানের খুব সুবিধা হয়, চোরাপথে মদের ব্যবসা করে রাতারাতি হাজী মাস্তান প্রভূত অর্থশালী ও ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে। সিনেমাতে ও টাকা ঢালতে শুরু করে আসলে মুম্বাইয়ের সর্বত্র হাজী মাস্তানের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। হাজী মাস্তান এতটা ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন কিন্তু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় হাজী মাস্তান গ্রেফতার হয়নি। এর কিছুদিন পর ইন্দিরা গান্ধী সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে। হাজী মাস্তানকে ও গ্রেফতার করা হয় এবং এরপর থেকে মাস্তান অন্ধকার জগৎ ছেড়ে দিয়ে রাজনীতির জগতে চলে আসে।

দীর্ঘ দুই বছর মাস্তান জেলে ছিলেন এরপর তিনি জেল থেকে বের হন ও সাধারণ মানুষের সহায়তা করতে থাকেন খুব তাড়াতাড়ি জনসাধারণের কাছে হাজী মাস্তান হিরো হয়ে ওঠে। জরুরি অবস্থা জারির সময় বহু বিরোধী নেতাদের তিনি বাঁচিয়ে ছিলেন তাই অনেক রাজনৈতিক নেতাও হাজী মাস্তানকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতে শুরু করে। 1984 সালে মুম্বাই ও ভেভান্ডিতে হিংসাত্মক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। এই দাঙ্গার পর সমাজে ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মহারাষ্ট্রের দলিত নেতা- যোগেন্দর কাওড়ে ও হাজী মাস্তান ঐক্যবদ্ধ হয়ে 'দলিত মুসলিম সুরক্ষা মহাসংঘ' নামে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও পরবর্তীকালে 1990 সালে এই দলের নাম পরিবর্তিত করে 'ভারতীয় সংখ্যালঘু মহাসংঘ' করে দেওয়া হয়। হাজী মাস্তানের পার্টির প্রচারে মহানায়ক দিলীপকুমারকে প্রায়শই দেখা যেত। এই সময় অ্যান্টি ড্রাগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ইউসুফ মার্চেন্ট এর সঙ্গেও তিনি যুক্ত হন, যুব সমাজ যাতে ড্রাগের নেশা থেকে মুক্ত হয় সেই চেষ্টা ও করেন। পরবর্তী কালে গরিব দুঃখিদের জন্য অনেক কাজ করেন এবং নিজের সমস্ত সম্পত্তি দরিদ্র মানুষদের সেবার কাজে লাগিয়ে দেন। তিনি আর নতুন করে হাজী মাস্তানের মত ডন তৈরী করেন নি, 9 ই মে 1994 সালে ক্যান্সারের কারণে হাজী মাস্তানের মৃত্যু হয়।

তৎকালীন সময়ে মুম্বাইয়ের এই তিন ডন- করিম লালা, হাজী মাস্তান মির্জা ও বারদা ভাই কেউ কারোর থেকে কম ছিল না তাই এরা নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে নিয়ে কাজ করত ফলে কারোর মধ্যে কোন সমস্যা হত না। এই যুগকে আন্ডারওয়ার্ল্ডে শান্তির যুগ বলেও অভিহিত করা হয়। এই অবস্থা বহু দিন ছিল, সত্যি বলতে কি এই তিন ডনের পরস্পরের সঙ্গে হৃদতা ও প্রগাঢ় বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। বিশেষত হাজী মাস্তান ও করিম লালার মধ্যে বন্ধুত্বের চর্চা সাধারণ মানুষদের মধ্যেও হত। পরবর্তীকালে বরদ রাজন বা বরদা ভাই চেন্নাই চলে গেলে মুম্বাইয়ে হাজী মাস্তান ও করিম লালা ডন হিসাবে টিকে থাকে।

এই সময়ই উল্কার মত আবির্ভাব হয় দাউদ ইব্রাহিমের। দাউদ ইব্রাহিম করিম লালাকে নিজের গুরু মনে করত এবং করিম লালার মত হতে চেষ্টা করত। সেই উদ্দেশ্যে করিম লালার গ্রুপে যোগাদান করে দীর্ঘদিন এই গ্রুপে কাজ করে ও গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হয়। তবে দাউদ ইব্রাহিম এখানেই থেমে থাকেন নি, ভাই সাব্বির ও পরিচিতদের নিয়ে অন্য একটি স্বতন্ত্র গ্রুপ তৈরি করে যা ডি কোম্পানি নামে পরিচিত হয়। এই খবর যখন করিম লালার কাছে যায় তখন লালা দাউদের উপর রেগে যায় এবং দাউদকে প্রহার করে। দাউদ চুপচাপ শুধু সহ্য করে যায় কারণ করিম লালার বিরুদ্ধে কথা বলার মত যোগ্যতা দাউদের তখন ছিল না।

দাউদ পরবর্তীকালে লালার গ্রুপ ছেড়ে দিয়ে হাজী মাস্তানের গ্রুপে যোগদান করে। দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে হাজী মাস্তানের স্নেহ ছায়া দাউদের উপর পড়ে। দাউদ আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। হাজী মাস্তানকে পুলিশে গ্রেফতার করার পর হাজী মাস্তান রাজনীতিতে যোগদান করে এই সময় তাঁর স্মাগলিং, জুয়া, রিয়েল এস্টেট, তোলাবাজি ইত্যাদি অসামাজিক কাজ দাউদ দেখত। আস্তে আস্তে হাজী মাস্তান অপরাধের জগৎ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে এবং সেই শূন্যস্থান দাউদ পূরণ করে। দাউদ এই সময় খুব হিংস্র হয়ে ওঠে এবং করিম লালার পাঠান গ্যাং এর সঙ্গে তার খুনি সংঘর্ষ হত। 1981-1985 এই দুই গ্যাং এর খুনি সংঘর্ষ লেগেই থাকত এবং উভয় পক্ষের অনেক সদস্যেরই মৃত্যু হয়। আস্তে আস্তে দাউদ, করিম লালা ও তার পাঠান গ্যাং কে মুম্বাইয়ে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়। তবে এই সময় বেশ কয়েকবার দাউদ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে 1984- 85 সালে হজ করার নাম করে দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যায় এবং সেই থেকে দাউদ বিদেশেই থাকে। দুবাইয়ে থেকেও দাউদ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিজের ব্যাবসা ছড়িয়ে দেয় এবং আন্ডারওয়াল্ডের ডন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বলা হয় সেই সময় দাউদের ইশারা ছাড়া মুম্বাইয়ের পাতা ও নড়ে না। কোন সিনেমা ও কোন নায়ক নায়িকা দাউদের ইচ্ছা ছাড়া মুক্তি পেত না। সিনেমা ও অন্ধকার জগতের সম্বন্ধ সেই সময় খুব গভীর ছিল। দাউদ রিয়েল এস্টেট ও শেয়ার ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করেও প্রচুর অর্থ উপার্জন করে এবং ডি কোম্পানিকে কর্পোরেট ঢঙে চালাতে থাকে। তবে এই সময় দাউদ বস্তির গরিব মানুষদের ও কিছু কিছু সাহায্য করত এটাও জানা যায় সেই জন্য দাউদ, দাউদ ভাই নামেও পরিচিত ছিল।

বাবরি ধ্বংসের পর মুম্বাইয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠিত হয়; এরপর সম্পূর্ণ অবস্থা পরিবর্তত হয়ে যায়। দাঙ্গার প্রতিশোধ হিসাবে মুম্বাই বিস্ফোরণ হয় এবং মূলচক্রী হিসাবে দাউদের নাম উঠে আসে। তাই দাউদ ইব্রাহিম রাতারাতি অন্ধকার জগতের ডন থেকে, ভারতের সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহীতে পরিণত হয়। যদিও দাউদ এইসময় বিশিষ্ট আইনজীবী রামজেঠ মালানির মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করার প্রস্তাব দেয় সেপ্টেম্বর,1993।

দাউদ দাবি করেছিল, সে এই মুম্বাই বম বিস্ফোরণে কোন ভাবেই যুক্ত নয়, অযথা তাঁকে এই মামলার মূলচক্রী মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে আত্মসমর্পণের দুটি শর্ত রেখে ছিল;

প্রথমত:- শুধুমাত্র বিস্ফোরণের এই মামলাটি তার উপর চালানো হোক এবং বাকি পুরানো মামলাগুলি তুলে নেওয়া হোক।

দ্বিতীয়ত:- অ্যারেস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে তাকে যেন বেল দেওয়া হয়। ট্রায়াল যতদিন চলবে ততদিন নজর বন্দি করে রাখলে ও সমস্যা নেই। এটাও শোনা যায় দাউদ সরকারের কাছে প্রচুর অর্থ জরিমানা স্বরূপ দেওয়ার ও প্রস্তাব দেয় ।

কিন্তু সরকার স্পষ্টভাবে জানায় এই মামলায় কাউকে নূন্যতম ও সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে না; সে যত বড় ব্যাক্তিত্বই হোক না কেন। তবে পরবর্তীকালে সরকারের মনে হয় এই পদক্ষেপ ভুল ছিল, আগে দেশে এনে তারপর বিচার প্রক্রিয়া চালানোই সঠিক ছিল। বলাই বাহুল্য এই ভুলের মাশুল আজ ও ভারত সরকারকে দিয়ে যেতে হচ্ছে, বহু পরিকল্পনা করা সত্ত্বেও দাউদ আজও অধরা। দাউদ প্রথমে দুবাইয়ে থাকত মুম্বাই বিস্ফোরণের পর পরিবার সমেত পাকিস্তানে চলে যায়। সেই থেকে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও সেনার ছত্রছায়ায় আছে, যদিও পাকিস্তান বার বার দাবী করে দাউদ পাকিস্তানে নেই। আমেরিকা ও ইন্টারপোল দাউদকে বিশ্বের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছে তাই অন্য কোন দেশে এভাবে বছরের পর বছর আত্মগোপন দাউদের পক্ষে সম্ভব নয়। গোয়েন্দা সংস্থা দাবী করে দাউদের সঙ্গে লাদেন ও অন্যান্য বিশ্বের জঙ্গি সংগঠন গুলির যোগাযোগ রয়েছে।

শোনা যায় এই অন্ধকার জগতে দাউদ অগাধ অর্থ সম্পত্তি উপার্জন করেছে। যে দাউদ একদিন একটুকরো রুটির জন্য মুখ চেয়ে বসে থাকত এবং এই সামান্য এক টুকরো রুটি ও কিছু অর্থের জন্য চোর হয়; আজ বিশেষজ্ঞদের মতে দাউদের অর্থসম্পত্তির পরিমাণ 35,000 কোটির ও অধিক। দাউদ কি খুব সুখে আছে? দাউদ কিন্তু খুব একটা সুখে নেই কারণ আইএসআই ক্রমাগত দাউদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নেয় এবং বহু কাজ দাউদকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতে হয়। দাউদ কার্যত আইএসআই ও পাকিস্তানি সেনার হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। বহু বার এমনও শোনা যায় দাউদ এই অন্ধকার জগত থেকে বেরিয়ে আসতে চাই কিন্তু পথ কি খোলা আছে? আর সর্বোপরি এটাও জানা যায় বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন আজও মুম্বাইয়ের জন্য দাউদের হৃদয় কেঁপে ওঠে! বস্তুত জন্মভূমির টান অস্বীকার করা কি এতই সহজ? দাউদ ইব্রাহিমকে ও জন্মভূমি টানে না এটা কি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়? দাউদের বিচার যখন হবে তখন হবে, তবে দেশের মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকাও কম বড় শাস্তি? যার সাজা খেটে চলেছে দাউদ! আসলে দিনের শেষে একথা প্রমাণিত হয়- 'পৃথিবীটা এক আয়নার মত এখানে যে যেমনটি করে পৃথিবীও কিন্তু তেমনই প্রত্যুত্তর দেয়'!

চলবে...

তথ্যসূত্র:-
1. উইকিপিডিয়া।
2. এবিপি নিউজ।
3. আজতক নিউজ।
4. ইন্ডিয়া টিভি।
5. তেজ নিউজ।
6. বিভিন্ন ধরণের ইন্টারনেট থেকে পাওয়া সূত্র।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 6 min ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর