নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সিয়ামুজ্জামান মাহিন
  • সলিম সাহা
  • নির্যাতিতের দীর...
  • সুখ নাই

নতুন যাত্রী

  • মোঃ হাইয়ুম সরকার
  • জয় বনিক
  • মুক্তি হোসেন মুক্তি
  • সোফি ব্রাউন
  • মুঃ ইসমাইল মুয়াজ
  • পাগোল
  • কাহলীল জিব্রান
  • আদিত সূর্য
  • শাহীনুল হক
  • সবুজ শেখর বেপারী

আপনি এখানে

বিষাক্ত রাজনীতি:- দ্বাদশ পর্ব-


পূর্বোক্ত পর্বের আলোচনা গুলি থেকে একথা পরিষ্কার বোঝা যায়- ধর্ম রাজনীতি কখনোই দেশ বা জাতির পক্ষে মঙ্গলজনক নয়। ভারত ও বিশ্বের ইতিহাস সাক্ষী যখনই বিষাক্ত ধর্ম রাজনীতির উত্থান হয়েছে তখনই তার চরম মূল্য দিতে হয়েছে দেশের আপামর জনসাধারণকে, একই সঙ্গে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে বিশ্বমানবতা! এই বিষাক্ত ধর্ম রাজনীতির ছোবলে যুগে যুগে কত যে মানুষের রক্তগঙ্গা বয়েছে তার কোন হিসেব নেই। প্রাচীনকালে ধর্মযুদ্ধ, ক্রুসেড, জেহাদ এগুলির বলি কত যে মানুষ হয়েছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। অথচ মানুষের এই আদিম পাশবিক মনোবৃত্তি আজও পরিবর্তন হয়নি বরং বলা ভালো 'ধর্ম রক্ষার নামে সবচেয়ে বেশি অধর্মের কাজ আজও এইভাবেই সংগঠিত হয়ে চলেছে'। এই ধর্মের রক্ত পিপাসা আজও মেটেনি এরই ফল হিসাবে আধুনিক যুগে আমরা দেখতে পাই আরব- ইজরায়েল দ্বন্দ্ব, হিটলারের ইহুদি নিধনযজ্ঞ, সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সমস্যা ইত্যাদি। বিশ্বজুড়ে জেহাদি মনোবৃত্তি বৃদ্ধি ও তার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ গোটা বিশ্ব জুড়েই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় চেতনার উত্থান ঘটছে যা সাধারণ বিশ্ব মানবতার পক্ষে ভয়াবহ সতর্কবার্তা!

আর এই বিষাক্ত ধর্ম রাজনীতির ছোবল ভারতকে ও কম ক্ষতবিক্ষত করেনি। এরই ফলস্বরূপ ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে আজ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নামে তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম। তবুও আমরা এই সর্বনাশা খেলা থেকে সচেতন হচ্ছি কই? বরং ইতিহাসের নির্মম পরিহাস আমাদের রাজনেতারা ইতিহাস থেকে কোন শিক্ষা নেন না! তাই ক্ষমতা ধরে রাখার মনোবৃত্তি থেকেই ভিন্দ্রানওয়ালার জন্ম দেয় এই রাজনীতির কারবারিরা। আর এই ভিন্দ্রানওয়ালার সাহস এত বেড়ে যায় যে সে ভারত রাষ্ট্রকেই চ্যালেঞ্জ করে বসে, তাই ধর্ম ও ভাষার আড়ালে দেশের অখণ্ডতা সঙ্কটে পড়ে যায়। দেশের অখণ্ডতা রক্ষার্থে ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণ মন্দিরে ব্লু স্টার অপারেশন শুরু করে, তাতে দেশের অখণ্ডতা রক্ষা পেলেও নিজের শিখ রক্ষী বাহিনীর হাতে গুলি বিদ্ধ হয়ে জীবন আহুতি দেন। এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ দেশে 1984 সালে শিখ দাঙ্গা সংগঠিত হয় এটি ছিল স্বাধীন ভারতে ধর্ম রাজনীতির প্রথম বড় ধরণের শিকার।

এরপর রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীত্বে বিখ্যাত সাহাবানু মামলার উত্থান হয় এই মামলায় সুপ্রিমকোর্ট সাহাবানুর পক্ষে রায় দেয় তবে কট্টরপন্থীদের চাপে পড়ে সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অকার্যকর করে দেয়। এই তালাকের রায় কার্যকর হলে আজ আর নতুন করে তিন তালাক নিয়ে আন্দোলনে নামতে হত না। তবে যাইহোক এই কট্টরপন্থী মুসলিমদের তুষ্ট করার ফলে একশ্রেণীর হিন্দুদের মনোক্ষুন্ন হয়। তদের সন্তুষ্ট করতে আবার বাবরি মসজিদ রাম মন্দিরের গেটের তালা খুলে দেওয়া হয়। এথেকেই বাবরি সমস্যার নতুন করে সূত্রপাত হয়। এই ঘটনার শেষ পরিণতি হিসাবে বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়। বাবরি ধ্বংসের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ গোটা দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠিত হয় তারমধ্যে সর্ববৃহৎ দাঙ্গা হয় মুম্বাইয়ে। আবার এই দাঙ্গার প্রতিশোধ নিতেই মুম্বাই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করা হয় এবং বাবরি মসজিদের সর্বশেষ বিষাক্ত ছোবল দেখা যায় গুজরাট দাঙ্গাতে। এগুলি দেখে মনে হয় সবই যেন একসূত্রে গাঁথা। একটি ক্রিয়া অপর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে বলা ভাল একটি অন্যায় নতুন অনেক অন্যায়ের জন্ম দেয়।

আমাদের দুর্ভাগ্য রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার মনোবাসনা হেতু ইতিহাস থেকে কোন শিক্ষা নেয় না যার সবচেয়ে উজ্জ্বল নিদর্শন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মমতা ব্যানার্জি সরকারের কাজকর্ম অনেকাংশেই রাজীব গান্ধী সরকারের কাজকর্মের সঙ্গে তুলনীয়। যদিও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাজের মধ্যে তুলনা চলে না তবুও মৌলিক নীতি গুলি বোঝানোর জন্য এই তুলনা অনেকাংশেই প্রাসঙ্গিক। এটা ঠিক রাজীব গান্ধীর নোংরা ধর্ম রাজনীতির ফলে দেশে প্রভূত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল সাহাবানু মামলা থেকে যার সূচনা সেটিই বাবরি ধ্বংসের প্রেক্ষাপট রচনা করে আর বাকি কি হয়েছিল তা সবই ইতিহাস! তার এই রাজনীতির বলি শুধু ভারত হয়নি বরং এই উপমহাদেশ এর চরম মূল্য দিয়েছিল। তবে এটাও মনে রাখতে হবে রাজীব গান্ধী প্রথম দিকে সাহাবানুর পক্ষেই ছিলেন কিন্তু তিনি কট্টরপন্থীদের চাপের কাছে মাথানত করেন তার সেই বিখ্যাত উক্তি "I am also a politician"। ভোটের রাজনীতির জন্য কিভাবে নিজের নীতি আদর্শ বিসজর্ন দিতে হয় রাজীব গান্ধী তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এটাও বিচার্য যে রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীত্বে শত সমস্যা সত্ত্বেও বহু যুগান্তকারী কাজ হয়েছিল পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ব্যাপক রূপায়ণ, শিল্পের উপর জোর, গোটাদেশে কম্পিউটার ও টেলিকমিউনিকেশন বিপ্লব রাজীব গান্ধীর আমলেই হয়েছিল। পঞ্চায়েতি রাজ, অপারেশন ব্ল্যাক বোর্ড, নবোদয় বিদ্যালয়, জাতীয় শিক্ষানীতি, চীন ও পাকিস্তান সমেত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের নাম নতুন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত হয় রাজীব গান্ধীর আমলে। তাই শত সমালোচনা সত্ত্বেও রাজীব গান্ধী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ছিলেন। এগুলি সবই তার সফল্যের মুকুটে যুক্ত হবে। অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জি সরকার গত সাত বছরে পরিকাঠামো উন্নয়ন, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সবুজ সাথী, ক্লাবে ক্লাবে অর্থদান এগুলি করেছেন। এটা ঠিক কন্যাশ্রী, যুবশ্রী এই সমস্ত প্রকল্পে সমাজের প্রান্তিক গরিব মানুষের বহু উপকার হয়েছে কিন্তু নিন্দুকেরা বলে- 'সবই পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি'। প্রকৃতপক্ষে তার শাসনামলে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মৌলিক কোন পরিবর্তন হয়নি। বরং পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা দিন দিন খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে।

গত সাত বছরে রাজ্যে নতুন কোন বড় শিল্প আসেনি। কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা নেই চারিদিকে শুধু হাহাকার। এই রাজ্যে কর্মসংস্থানের জন্য মমতা ব্যানার্জির স্বপ্নের প্রকল্প- তেলে ভাজা শিল্প, মুড়ি শিল্প, মেলা শিল্প, ল্যাংচা হাব এগুলিই সম্বল। কথায় কথায় বলেন চৌত্রিশ বছরে বাম সরকারের দুই লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমাদের বইতে হচ্ছে অন্যদিকে এই সরকারের আমলে গত সাত বছরে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি ঋণ নেওয়া হয়েছে সেবিষয়ে তিনি নিশ্চুপ। সাম্প্রতিককালে সিএজির প্রাথমিক হিসাবে গত আর্থিক বছরে রাজ্যের ঘাড়ে পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপছে। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন- "বাম জামানার দায় মাথায় নিয়েও সরকারটা যে চলছে সেটা গবেষণা করা উচিত। আমরা বলেই চালাচ্ছি।" (তথ্যসূত্র: আনন্দ বাজার পত্রিকা) এথেকেই প্রমাণিত মুখ্যমন্ত্রী কতটা হতাশ ও অবস্থা কতটা শোচনীয়। আসলে অর্থনীতি বড় নিষ্ঠুর সাধারণ মানুষকে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির দ্বারা বিভ্রান্ত করা গেলেও অর্থনীতিকে বিভ্রান্ত করা যায় না। অর্থনীতি তার মধুর প্রতিশোধ সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই নিতে থাকে। তাই নতুন চাকরির কোন ব্যবস্থা নেই সরকারি কাজে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে কোন রকমে অবস্থা সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। অবস্থা এতটাই সঙ্গিন যে আগামীদিনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সময় মত সরকার দিতে পারবে কি না তা নিয়েও অর্থনীতিবিদদের মনে যথেষ্ট সংশয় আছে!

আর এত ঋণ নিয়ে সরকার করছে কি? সরকার কিছুটা পরিকাঠামো মূলক কাজে লাগালে ও বেশিরভাগটিই পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি ও খাদ্য উৎসব, মাটি উৎসব ইত্যাদি নামে খরচ করছে। নিন্দুকেরা বলে নিজেদের দলের লোকজন ও দল ঘনিষ্ঠ শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই আয়োজন। প্রতিদিন যেহারে খবরের কাগজে সরকারের কাজের বিজ্ঞাপন ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে যেভাবে হোডিং এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে তার ফলে রাজ্যে আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তোলাবাজি শিল্প ও ধর্মীয় সুড়সুড়ি শিল্পও চোখে পড়ার মত অগ্রসরতা লাভ করেছে। গত সাত বছরে সুষ্ঠভাবে কোন সরকারি নিয়োগের পরীক্ষা সম্পন্ন হয় নি। একমাত্র বড় নিয়োগের পরীক্ষা হয় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা তবে নিন্দুকেরা বলেন- 'দুধের মধ্যে জল না জলের মধ্যে দুধ তা বোঝা বড়ই কঠিন'। নিন্দুকেরা আরও বলেন- শাসকদলের ছোট, বড়, মাঝারি নেতা নেত্রীরা প্রকাশ্যেই সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে অর্থ তুলছেন যা ভোটে লড়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। অনেকে আক্ষেপের সুরে বলেন 'আগের সরকার যদি মাছ চুরি করে থাকে; এরা তো পুকুর চুরি করে বসে আছে'। যার জ্বলন্ত নিদর্শন সারদা নারদা মামলা এই মামলাগুলিতে যেভাবে কোটি কোটি টাকা আত্তসাৎ হয়েছে তা গোটা বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়! এই মামলাগুলি আদালতের বিচারাধীন হলেও যেভাবে শাসকদলের নেতা নেত্রীদের ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গেছে তার স্মৃতি এত তাড়াতাড়ি মোছবার নয়। দোষী কে তা আদালত সময় মতো বিচার করবে।

এখন প্রশ্ন হল এতকিছু প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তৃণমূলের এমন বৃদ্ধির কারণ কি? পত্র পত্রিকায় কিছু আঁতেল গোছের বুদ্ধিজীবী লিখছেন তৃণমূলের কাজকর্মকে বর্তমানে নব্য বামপন্থা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় আর এটাই এদের সাফল্যের মূল কারণ। এই ধরণের চাটুকার বুদ্ধিজীবীরা প্রকৃত সত্যকে অস্বীকার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এটা ঠিক দুটাকা কেজি চাল এই ধরণের কিছু জনমোহিনী নীতি গরিব মানুষের উপকার করছে এবং এই সরকারের জনভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে। তবে প্রশ্ন হল এর টাকাটা আসে কোথা থেকে? এর অর্থ আসে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজকোষ থেকে। সর্বপরি একটা রাজ্যে বিপুল পরিমাণ জনগণের অবস্থা কতটা শোচনীয় যে তাদের দুটাকা কেজি চালের উপর ভরসা করতে হচ্ছে। মানুষের উপযুক্ত কর্মের ব্যবস্থা করলে তাকে আর দুটাকা কেজি চালের মুখাপেক্ষি থাকতে হয় না বরং এটা রাজ্যের জন্য চরম লজ্জা। রাজ্যে উন্নয়নের ফানুস এখানেই ফেঁসে গেছে। তৃণমূলের আসল রাজনৈতিক ভিত্তি হল ধর্মীয় সংকীর্ণ রাজনীতি ও পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি।

জীবন বড়ই অদ্ভুত। যুধিষ্ঠিরকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আশ্চর্য কি? তার প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন- 'বেঁচে থাকায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশ্চর্য'। আসলে মৃত্যু আছে কিন্তু প্রতিটি মানুষই একটু স্বাচ্ছন্দ্যতার সঙ্গে বেঁচে থাকতে চাই। আর এই বেঁচে থাকতে গেলে অর্থের প্রয়োজন হয়। মানুষের আয় না থাকলেও জীবন নির্বাহের জন্য ব্যায় আছে, তাই জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেকেই এই দলে ভিড়ছেন উদ্দেশ্য যেনতেন প্রকারণে কৃচ্ছসাধন। তাই এই দলের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সর্বত্র ভাগ বাঁটোয়ারার রাজনীতি চলে। তাই ভাগ বাঁটোয়ারা সর্বত্র সঠিক ভাবে না হওয়ার ফলে দলের মধ্যে অন্তঃকলহ প্রবল যা তাদের অস্তিত্বের জন্য তীব্র সংকটজনক। এরই মধ্যে ভাইপোর উত্থান যা দলে নব্য ও প্রবীণদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করছে। এই ভাইপোর উত্থান দলের বহু প্রবীন নেতাই মেনে নিতে পারছে না এথেকেই মুকুল রায়ের মতো নেতা বিজেপিতে যোগদান করেন। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায় এই দলের বহু বড় বড় নেতারা যেকোন দিন অন্যদলে যোগদান করতে পারে। এই দলের আদর্শগত ভিত্তি সুদৃঢ় নয় তিনিই আদর্শ ও তিনিই শেষ কথা। তাই যে যত পদচুম্বন করতে পারবে তার পদোন্নতি তত দ্রুত হবে। নীতি নৈতিকতা না থাকার ফলে সকলে মধুর লোভে এখানে ছুটে আসে। একবার মধু ফুরিয়ে গেলে ভ্রমরদের আর দেখা মিলবে কিনা এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

সেই সঙ্গে এই দলের ভয়াবহ ইচ্ছা হল বিরোধীশূন্য রাজনীতি করা এবং সংবাদ মাধ্যম সহ গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। গণতন্ত্রে বিরোধী দলের গুরুত্ব প্রচুর। গণতন্ত্রে বিরোধী দলকে মানুষের বিবেক বলা হয়। সরকার কোন ভুলত্রুটি করলে বিরোধী দলের সহায়তায় সেই ভুল ত্রুটি জনগণের সর্বসমক্ষে তুলে ধরা হয় এবং সরকারকে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়। বাস্তবে আমরা বিপরীত চিত্র দেখি সরকারের বড় বড় নেতারা প্রকাশ্যে বিরোধী শূন্য পঞ্চায়েতের কথা বলে। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া আসনের সংখ্যা দেখে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত চিন্তিত। সংবাদ মাধ্যমে এমন ছবি এসেছে যেখানে ভোটের নমিনেশন ফাইল পর্যন্ত করা যাচ্ছে না। রাস্তায় বোমা, বন্দুক, ছোরা নিয়ে উন্নয়ন দাড়িয়ে আছে এই উন্নয়নের চাপে মানুষ প্রার্থী পর্যন্ত হতে পারে নি। আবার অনেককে এমন ভয় দেখানো হয় যে তারা পার্থী পদ তুলে নিতে বাধ্য হয়। আবার এই নির্বাচনে এমন রক্তাক্ত খুনোখুনি, ছাপ্পা, ভোট লুঠ, বুথ জাম, ভোট বাক্স চুরি হয় যা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্ক। শুধু তাই নয় এখানেও শেষ নয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় ভোটের গণণা কেন্দ্রে ও দেদার ছাপ্পা। এথেকেই বোঝা যায় শাসক দলের অবস্থা আজ কতটা শোচনীয় এরা নিজেদের নিশ্বাসকে ও বিশ্বাস করতে পারছে না। এই রকম চরম লজ্জাজনক উপায়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েও কি করে আবির মেখে ক্যামেরার সামনে ছবি তোলে বোঝা বড় শক্ত সামান্য চক্ষু লজ্জা থাকলেও একাজ করতে পারত না। এত কিছুর মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বিজেপি অনেক আসনেই নির্ণায়ক শক্তি হিসাবে উঠে এসেছে এ থেকেই বোঝা যায় তৃণমূল দলের অবস্থা আজ কোথায়। সঠিকভাবে নিরপেক্ষ ভোট হলে এই দলের কপালে দুঃখ আছে এটা সহজেই অনুমান করা যায়!

এই সরকার বিরোধীদের অর্থের লোভ দেখিয়ে ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিরোধীশূন্য করতে চাই যা গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। আবার মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীদের নিজেদের পক্ষে রেখে বকলমে স্বৈরতান্ত্রিক সরকার চালাচ্ছে। সরকারের প্রধানকে প্রশ্ন করা যাবে না প্রশ্ন করলেই ওনার মেজাজ বিগড়ে যায়। সারের দাম কেন বাড়ছে এই নিরীহ প্রশ্ন করলে শুনতে হয় 'মাওবাদী'। কোন ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে সর্বজ্ঞ জ্ঞাত তিনি বলেন "সবই সাজানো ঘটনা" (পার্কস্ট্রীট ধর্ষণ কান্ড ও অন্যান্য)। কিন্তু পরবর্তী কালে তদন্তে ধরা পড়ে ধর্ষণের ঘটনাগুলি মোটেই সাজানো ঘটনা নয় বরং চরম সত্য ঘটনা। আবার অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষিতাকে শুনতে হয় তোমার স্বামীতো সিপিএম করে। আবার ধর্ষণের বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন না করেই অনেক সময় ঘোষণা করেন ধর্ষিতাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। একজন প্রশাসকের ধর্ষিতাকে সঠিক ন্যায় এর ব্যবস্থা না করে ক্ষতিপূরণ দিলে কি তার যথার্থ বিচার হবে? কিসের স্বার্থে এক মহিলা মুখ্যমন্ত্রী অপর মহিলাদের দুঃখ দুর্দশার প্রতি এত অবজ্ঞা প্রদর্শন করে তা বোঝা বড়ই দায়। প্রশ্ন করলেই শুনতে হয় চোপ!

ইনি কখন ও দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন আমি কি তাঁকে মারব।(মনমোহন সিং এর উদ্দেশ্যে) আবার কখন ও বলেন রাজা চলে বাজার ** ভৌকে হাজা*। এরকমই অসংখ্য ঘটনার সাজানো ডালি আছে তার শাসনামলে যা বলে শেষ করা যায় না। তবে তার মধ্যে একটি ঘটনা না বললেই নয়, ইনি আবার সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না তাই সামান্য একটু বিরোধীতা মূলক কার্টুন আঁকালে ও তাকে জেলের ঘানি টানতে হয়। অম্বিকেশ মহাপাত্রের ঘটনাটি এর চরম নিদর্শন। বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়ারা আজ অসম্ভব রকম নিশ্চুপ। তাই যা থেকে বোঝা যায় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ আজ বড়ই নড়বড়ে। মিডিয়া হাউজ গুলি ভাবছে আমাদের যদি বিক্রি কমে যায় অন্যদিকে বুদ্ধিজীবীরা ভাবছে এই সুযোগে শাসকের কাছ থেকে যতটা সুবিধা আদায় করা যায় ততটাই লাভ। তাই শাসকের লাল চোখ এড়িয়ে সত্য কথা বলার সৎ সাহস বর্তমান দিনের মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীদের খুব একটা দেখা যায় না। তাই প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী একবার বলেছিলেন- "আমরা কি একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে শাসন ব্যবস্থার ভার দিয়েছি?" যদিও পরবর্তীকালে মহাশ্বেতা দেবী না জানি কি অদ্ভুত কারণে নিজের অবস্থান বদল করে মমতার ভূয়ষী প্রশংসা করেন। তিনি একবার বলেছিলেন- "আমি মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই।" আসলে বুদ্ধিজীবীদের চিন্তা বোঝা বড়ই দায়!

চলবে...

তথ্যসূত্র:-
1. আনন্দ বাজার পত্রিকা।
2. এই সময়।
3. এবিপি আনন্দ।
4. ইন্টারনেট ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 23 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর