নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নরসুন্দর মানুষ
  • সিয়ামুজ্জামান মাহিন
  • সলিম সাহা
  • নির্যাতিতের দীর...
  • সুখ নাই

নতুন যাত্রী

  • মোঃ হাইয়ুম সরকার
  • জয় বনিক
  • মুক্তি হোসেন মুক্তি
  • সোফি ব্রাউন
  • মুঃ ইসমাইল মুয়াজ
  • পাগোল
  • কাহলীল জিব্রান
  • আদিত সূর্য
  • শাহীনুল হক
  • সবুজ শেখর বেপারী

আপনি এখানে

পাহাড়ের ৪-সন্ত্রাসি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী


সরকারি হিসেবে পাহাড়ে বিগত ২১-বছরে ১০৮৩-জন খুন হয়েছে উপজাতি কর্তৃক উপজাতিদের হাতে। গত ২/৩ দিন আগে পাহাড়ে উপজাতিদের গোলাগুলিতে ৭-জন নিহত হয়েছে, আহত অন্তত ৩-জন চাকমা। কিন্তু এ হত্যাকান্ড বা অবৈধ অস্ত্রবাজি বা গোলাগুলি নিয়ে পাহাড়ি সংগঠনগুলো কোন মানববন্ধন, হত্যাকারীদের বিচার বা কোন আন্দোলন করছে না। কিন্তু কোন কারণে যদি বাঙালি বা বাংলাদেশ সেনা বা পুলিশ কর্তৃক ১-জন উপজাতি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসি নিহত হতো, তাহলে পুরো দেশ মাথায় করতো উপজাতি ও তাদের পেইড দালালরা। এ্যামনেস্টিসহ মানবতার ধ্বজাধারী আমেরিকানরা "বাংলাদেশ সেনা কর্তৃক আদিবাসি নিধনের নিন্দা" জানিয়ে বিবৃতি দিতো। এখন প্রায় প্রতি সপ্তাহে কিংবা প্রতিমাসে পাহাড়ে উপজাতি উগ্র সংগঠনগুলোর মধ্যে নিয়মিত গোলাগুলি হচ্ছে। যদিও নিজেদের তারা "গণতান্ত্রিক সংগঠন" বলে থাকে। কিন্তু "গণতান্ত্রিক" এ সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন কার কাছে কত অস্ত্র কিংবা কার কত অবৈধ শক্তি। কে কত প্রতিপক্ষকে হত্যা করতে পারে!
:
কিন্তু ১৯৯৭ সালে বর্তমান সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির প্রধান কথাই ছিল, পাহাড়ে অস্ত্রবাজ উপজাতি সন্ত্রাসিরা বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তাদের অস্ত্র জমা দেবে। তারা শান্তির পথে ফিরে আসবে। সরকার যথাসম্ভব তাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করবে। চুক্তি অনুসারে সরকার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছে উপজাতিদের পুনর্বাসনের। আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শান্তি বাহিনি নামক অশান্তি বাহিনি তৈরি করে যারা হাজার হাজার বাঙালিকে হত্যা করেছিল, সে সকল সন্ত্রাসিদের সরকার চুক্তি মোতাবেক বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চাকুরির ব্যবস্থা করে। ৫% সংরক্ষিত উপজাতি কোটার মাধ্যমে অনেক চাকমা-মারমা এখন সরকারি প্রশাসনে ভাল পদে কাজ করছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জনসংখ্যার অনুপাতে মূল বাঙালির চেয়ে চাকমারা প্রশাসনে অনেক বেশি পদ দখল করেছে কোটা, সরকারি পুনর্বাসন ও সাধারণ চাকুরী প্রাপ্তির মাধ্যমে!
:
কিন্তু তারপরো তারা ও তাদের পেইড দালালরা প্রত্যহ ফেসবুক ব্লগসহ নানাবিধ প্রচার মাধ্যমে অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে যে, সরকার নাকি শান্তিচুক্তি পুরো বাস্তবায়ন না করার কারণে উপজাতিরা এভাবে সন্ত্রাসি হয়ে আধুনিক অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। কি হাস্যকর যুক্তি! বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ইত্যাদি মৌলিক চাহিদাগুলো পুরণের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র। কিন্তু সম্পদের স্বল্পতার কারণে দীর্ঘ ৪৫ বছরেও এদেশের সব নাগরিক এখনো তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পুরণ করতে পারেনি বা রাষ্ট্র দিতে পারেনি রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতার কারণে। এ অজুহাতে কোন বাঙালি কি রাষ্ট্র বা সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে? আমাদের জলে ভাসমান ৬/৭ লাখ বেদে সম্প্রদায় বলতে গেলে রাষ্ট্রের সব অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত। তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ইত্যাদির কোন অধিকার কখনো রাষ্ট্র থেকে পায়নি। দেশের চরাঞ্চলের জলদাসরা অত্যন্ত অমানবিক জীবন যাপন করে! এ কারণে তারা কখনো কি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছে? নাকি অস্ত্র ধরেছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে!
:
উপজাতিরা ও তাদের দালাল সাঙ্গপাঙ্গরা নিজেদের অবৈধ "আদিবাসি" দাবী করে বলে থাকে যে, শান্তিচুক্তি পুরো বাস্তবায়ন না করার কারণে নাকি উপজাতিরা হাতে অস্ত্র নিয়েছে। কিন্তু এ কথা কি সত্যি? শান্তিবাহিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির একটি সশস্ত্র অঙ্গ সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সেই ১৯৭৩ সনে, তখন কেন অস্ত্র ধরেছিল তারা? আসলে প্রকৃত সত্যি এই যে, ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি শান্তিবাহিনি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করে আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী উপজাতিরা। ১৯৭৪ সাল নাগাদ বিপুল সংখ্যক পাহাড়িদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে শান্তিবাহিনিভুক্ত করে তারা। শান্তিবাহিনি পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী বাঙালিদের আক্রমণ ও হত্যা, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনিকে আক্রমণ, তাদের মতাদর্শ বিরোধি উপজাতীয়দের হত্যা, সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন, অপহরণ ও বলপূর্বক চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ জোরদার করতে থাকে সেই ১৯৭৩ থেকেই। ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর অন্তর্দলীয় কোন্দলে নিহত হবার পূর্ব পর্যন্ত মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জনসংহতি সমিতি ও শান্তিবাহিনির নেতৃত্ব দেন। মানবেন্দ্র লারমার হত্যাকান্ডের পর শান্তিবাহিনি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে (লারমা ও প্রীতি গ্রুপ) নিজেরা আত্মঘাতি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বাংলাদেশ সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা দিয়ে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য শান্তিবাহিনির সদস্যদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় এবং তাদের প্রতি অস্ত্র সমর্পণ ও বিদ্রোহ সংঘাত বন্ধ করার আহবান জানায়। প্রীতি গ্রুপের কিছু নেতা-কর্মী ১৯৮৫ সালের ২৯ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করলে সরকার চুক্তি মোতাবেক তাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করে। কিন্তু লারমা গ্রুপ নাশকতামূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখে তখন থেকেই!
:
এভাবে চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি তথা ক্ষমতার ভাগবাটোয়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় এরা ৪টা উপদলে বিভক্ত হয়ে নিজেরা বর্তমানে (১) জেএসএস (সন্তু গ্রুপ), (২) জেএসএস(সংস্কার), (৩) ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং (৪) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামক সংগঠন গঠন করে প্রতিযোগিতা করছে চাঁদাবাজির, প্রতিযোগিতা করছে অস্ত্রসংগ্রহ ও তা প্রতিপক্ষের উপর প্রয়োগের। পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২০-বছর পার হলেও পার্বত্য অঞ্চলে চলছে পুরোদমে অস্ত্রের ঝনঝনানি, অপহরণ ও চাঁদাবাজি। সরকারিসূত্র মতে, পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ১০৮৩, আহত হয়েছে ১৩৮২ জন, অপহরণ হয়েছে ৩৫৩৮ জনের বেশি। ২০১৮ সালেই পাহাড়ে ৪৮ জন নিহত ও ১৩৭ জন অপহূত হয়েছে।
:
চুক্তি অনুসারে আত্মসর্মপণের দিনই পাহাড়িদের একটি অংশ চুক্তির বিরোধিতা করে অনুষ্ঠানস্থলে চুক্তিবিরোধী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। এরপর চুক্তির বিরোধিতা করে প্রসীত খিসার নেতৃত্বে জন্ম নেয় ইউপিডিএফ। চুক্তির কয়েক বছর যেতে না যেতেই চুক্তির পক্ষের জনসংহতি সমিতি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একইভাবে ইউপিডিএফও দুইভাবে বিভক্ত হয়। এরপর থেকে ৪-ভাগের পাহাড়ি সংগঠনের মধ্যে শুরু হয় অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজির সংঘাত। পার্বত্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘাত যতটা না আদর্শিক কারণে, তারচেয়ে বেশি এলাকার দখলদারিত্ব, দখল নিয়ন্ত্রণে রাখা, চাঁদাবাজির পয়েন্টগুলো নিয়ন্ত্রণ, বিশাল সশস্ত্র গ্রুপের কর্মীদের ভরণপোষণের ব্যয়ভার আদায়, প্রতিপক্ষের কর্মসূচিতে বাধা প্রদান-পাল্টা প্রতিরোধ এসবই তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধের কারণ। খাগড়াছড়ির প্রায় পুরো জেলায়ই ইউপিডিএফের শক্ত নিয়ন্ত্রণ। সব উপজেলায়ই বিশাল কর্মী-সমর্থক বাহিনী রয়েছে তাদের।
:
পাহাড়িদের চারটি রাজনৈতিক দলই সশস্ত্র কর্মী পোষে নিয়মিত বেতন দিয়ে। সকলের রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনি। তবে সশস্ত্র ক্যাডার ও আধুনিক অস্ত্রের দিক দিয়ে স্পষ্টতই এগিয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি। পাহাড়ের প্রাচীন এই সংগঠনের প্রশিক্ষিত সাবেক গেরিলাদের প্রায় সবাই আর্থিক সক্ষমতা, বিদেশি কানেকশন ও সামাজিক কাঠামোয় শীর্ষে। সশস্ত্র লড়াইয়ে তারাই পাইওনিয়ার। তাদের সশস্ত্র ক্যাডাররা আমাদের সেনাদের মত জলপাইরঙের পোশাক ব্যবহার করে। অস্ত্রের সক্ষমতায় দ্বিতীয় অবস্থানে ইউপিডিএফ। মূলত তরুণ ছাত্র ও যুবকদের এই সংগঠনটি সশস্ত্রভাবে বেশ উন্নত অস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদ মজুদ থাকা সত্ত্বেও জনসংহতির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই পেরে উঠে না মূলত অভিজ্ঞতার অভাবে। অস্ত্র সংগ্রহ ও লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে জনসংহতি (এমএন লারমা)। তাদের সঙ্গেও বেশ কিছু সাবেক গেরিলা সম্পৃক্ত থাকলেও অস্ত্র ও অর্থের দিকে পিছিয়ে থাকায় খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না তারা। সম্প্রতি অস্ত্রের চালান আনতে গিয়ে ভারতের মিজোরামে গ্রেফতার হন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা অংশুমান চাকমা। হাতছাড়া হয় অস্ত্রের চালানটিও।
:
সুতরাং (১) জেএসএস (সন্তু গ্রুপ), (২) জেএসএস(সংস্কার), (৩) ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং (৪) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামক উপজাতি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম, অস্ত্রবাজি, সংঘাত, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনির প্রতি দৃষ্টভঙ্গী বিচার করলে দেখা যাবে, এরা পুরোই এখন অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসি এবং বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র বিরোধী সংগঠন। যেহেতু এরা শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পরও পুরো অস্ত্র সমর্পণ করেনি, শান্তির পথে ফিরে আসেনি। তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে, ভারতের সহযোগিতা নিয়ে পাহাড়ের ৩- জেলাতে সেনাবাহিনির কার্যক্রম আরো জোরদার করে, এ ৪-সংগঠনকে "সন্ত্রাসি সংগঠন" হিসেবে নিষিদ্ধ করে পাহাড়ের ৩-জেলাকে বাংলাদেশের সমতল ভূমির মত শান্তপূর্ণ অবস্থানে ফিরিয়ে আনা। যাতে সেখানে অবস্থানরত সাধারণ শান্তিপ্রিয় উপজাতি ও বাঙালিরা নিরাপদে বসবাস করতে পারে! অবশ্যই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসি উপজাতি ছাড়া সাধারণ উপজাতিরা নিরাপদে বসবাসের অধিকার রাখে, যেমন রাখে সাধারণ বাঙালিরা। আর যে সকল উপজাতি কিংবা তাদের দোশর বাঙালি সংবিধান লঙ্ঘন করে উপজাতিদের "আদিবাসি" বলে দেশে বিভেদ সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আশা করি বর্তমান সরকার বিষয়টির গুরুত্ব দিয়ে এর বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 13 ঘন্টা 23 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর