নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সিয়ামুজ্জামান মাহিন
  • সলিম সাহা
  • নির্যাতিতের দীর...
  • সুখ নাই

নতুন যাত্রী

  • মোঃ হাইয়ুম সরকার
  • জয় বনিক
  • মুক্তি হোসেন মুক্তি
  • সোফি ব্রাউন
  • মুঃ ইসমাইল মুয়াজ
  • পাগোল
  • কাহলীল জিব্রান
  • আদিত সূর্য
  • শাহীনুল হক
  • সবুজ শেখর বেপারী

আপনি এখানে

বানু কুরাইজা জেনোসাইড ও ইসলামিক ডিফেন্স


ভূমিকা

হিজরী ৫ সনে (৬২৭ খ্রিষ্টাব্দ) ইসলামের নবী মোহাম্মদের আদেশে বানু কুরাইজা নামক মদিনার ইহুদীদের একটি গোত্রের প্রায় ৯০০ জনকে মুসলিমরা হত্যা করেন। হত্যাকান্ড শুরু হয় দিনের প্রথম দিকে এবং রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। যাদের হত্যা করা হয়নি তাদেরকে বন্দী করা হয় এবং দাসী হিসেবে বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

কোরআনের বিবরণ

33:26

وَأَنزَلَ الَّذِينَ ظٰهَرُوهُم مِّنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ مِن صَيَاصِيهِمْ وَقَذَفَ فِى قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ فَرِيقًا تَقْتُلُونَ وَتَأْسِرُونَ فَرِيقًا

আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা তাদের সহযোগিতা করেছিল, আল্লাহ তাদেরকে অবতরণ করালেন তাদের দুর্গসমূহ থেকে এবং তাদের অন্তরসমূহে ভীতির সঞ্চার করলেন। ফলে তোমরা হত্যা করছ একদলকে, আর বন্দী করছ অন্য দলকে।

33:27

وَأَوْرَثَكُمْ أَرْضَهُمْ وَدِيٰرَهُمْ وَأَمْوٰلَهُمْ وَأَرْضًا لَّمْ تَطَئُوهَا ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرًا

আর তিনি তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করলেন তাদের ভূমি, তাদের ঘর-বাড়ী ও তাদের ধন-সম্পদের এবং এমন ভূমির যাতে তোমরা পদার্পণও করনি। আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

কোরআনের বিবরণ বিশ্লেষণ

উপরের আয়াতসমূহে যে মানুষদের কথা বলা হয়েছে তারা হলেন বানু কুরাইজা গোত্রের মানুষ। মক্কাবাসী যারা মদিনার মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিলো তাদেরকে তথাকথিত সহায়তা করাই বানু কুরাইজাদের হত্যার কারণ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতসমূহ একটু খেয়াল করে পড়লেই আমরা বুঝতে পারি, কোরআন আলোচ্য ঘটনাটি ঘটার পর উল্লেখ্য করছে। এবং মক্কাবাসীদের সহায়তা করার জন্য আল্লাহ্‌ তাদেরকে দোষারোপ করছেন। মুসলিমরা সচরাচর বানু কুরাইজার ঘটনা সমর্থন করে থাকেন এই আয়াতসমূহের ওপর নির্ভর করে যা প্রকাশ করে বানু কুরাইজা গোত্রটি তাদের চুক্তি ভঙ্গ করেছিলো এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে যেয়ে মক্কাবাসীদের সাথে যোগদান করেছিলো। তাদের দাবি অনুযায়ী, যেহেতু চুক্তি ভঙ্গ করা এবং মক্কাবাসীদের সহায়তা করা বিশ্বাসঘাতকতা সেহেতু পুরো বানু কুরাইজা গোত্রের পুরোপুরি ধ্বংস প্রাপ্য।

অভিযোগটি পুরোপুরি অমূলক এবং বানু কুরাইজা গোত্রের দিক থেকে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা ছিলো না যা পুরোপুরিভাবে একটি গোত্রকে ধ্বংস করে দেওয়া সমর্থনযোগ্য করে তোলে। ইসলামের ধর্মীয় কিতাবসমূহের সাথে আমরা বিষয়টি পরিষ্কার করে তুলে ধরবো। সেজন্য কোরআন প্রথম যেখানে খন্দকের যুদ্ধের কথা উল্লেখ্য করেছে সেখান থেকে শুরু করা প্রয়োজন। আলোচ্য গণহত্যাটি এই যুদ্ধের পর ঘটে।

33:9

يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَآءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا

হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতকে স্মরণ কর, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।

এখানে, আল্লাহ্‌ বিশ্বাসীদের সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করতে বলছেন যা তিনি তাদের ওপর অর্পণ করেছিলেন। "যখন অনেক শত্রু আক্রমণ করতে তাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিলেন তখন আল্লাহ্‌ শত্রুদের দূর করতে তাদের বিরুদ্ধে ঘূর্ণিঝড় পাঠিয়েছিলেন, এইভাবে শত্রুদের কাছে ধ্বংস হওয়া থেকে আল্লাহ্‌ মুসলিমদেরকে বাঁচিয়ে ছিলেন"। আয়াতটি থেকে জানতে পারি, আল্লাহ্‌ মুসলিমদেরকে শত্রুদের হাতে ধ্বংস হওয়া থেকে উদ্ধার করেছিলেন। তবে সন্দেহ থেকে যায়, শত্রুরা কি যুদ্ধের আগেই ঝড়ের কবলে পড়ে ফিরে গিয়েছিলেন নাকি যুদ্ধও করেছিলেন? আবারও দেখা যাক কোরআন কি বলে?

33:10

إِذْ جَآءُوكُم مِّن فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصٰرُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا۠

যখন তারা তোমাদের কাছে এসেছিল তোমাদের উপরের দিক থেকে এবং তোমাদের নিচের দিক থেকে আর যখন চোখগুলো বাঁকা হয়ে পড়েছিল এবং প্রাণ কন্ঠ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম ধারণা পোষণ করছিলে।

এখানে আল্লাহ্‌ মুসলিমদের অবস্থা প্রকাশ করেছেন, যখন তাদের বিশাল সংখ্যক মক্কাবাসীদের মুখোমুখি হতে হয়েছিলো। এতো সুবিশাল সৈন্যের সাথে সংঘর্ষ তাদের ওপর অবশ্যই বিধ্বংসী হবে ভেবে তারা সন্দেহ করতে শুরু করেছিলো।

কোরআনের আয়াতসমূহের সাথে উপরের ব্যাখ্যা প্রকাশ করে, মোহাম্মদ এবং তার সৈন্যরা মোটেও একটি যুদ্ধে লড়াই করার অবস্থায় ছিলেন না। মোহাম্মদ অনেক আগেই মক্কাবাসীদের সৈন্যবল সম্পর্কে শুনেছিলেন, তাই তার একজন সহচর সালমান ফারসীর পরামর্শে মুসলিমদের এলাকা থেকে মক্কাবাসী শত্রু প্রতিরোধ করতে চারপাশে পরিখা খনন করা হয়েছিলো। এই যুদ্ধকৌশলের কারণে যুদ্ধটি 'খন্দকের যুদ্ধ' নামে পরিচিতি পায়। দুটি গোত্রের গঠনে মক্কাবাসী সৈন্যরা সংখ্যায় ছিলেন বিশাল, গোত্র দুটি হলো কুরাইশ এবং গাতফান। বাস্তবতা হলো, মোহাম্মদের অতি আত্মরক্ষামূলক অবস্থান অবলম্বন করা সেইসময় মুসলিমদের দূর্বলতা এবং তাদের শত্রুদের সৈন্যবল প্রমাণ করে।

এটা পরিষ্কার যে, খন্দকের যুদ্ধ এমন এক যুদ্ধ যে যুদ্ধে কোনো লড়াই বা সংঘর্ষ ঘটেনি। যদিওবা মক্কাবাসী সৈন্য বিশাল সংখ্যক ছিলেন এবং সেইসময় পুরো মুসলিম জনসংখ্যা ধ্বংস করে দিতে পারতেন, মুসলিমদের এলাকায় প্রবেশ করার কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে মক্কাবাসী সৈন্যদের পরিখার কারণে থামতে হয়েছিলো। মুসলিমদের কাছে পৌঁছানোর একমাত্র সুযোগ ছিলো বানু কুরাইজা গোত্রের পথ দ্বারা যেখানে মোহাম্মদ পরিখা খনন করেননি, তবে যারা যুদ্ধে লড়তে এবং জিততে এসেছিলেন তাদেরকে যুদ্ধে জয়লাভ ছাড়াই ফিরে যেতে হয়েছিলো। আল্লাহ্‌ কোরআনে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ঘূর্ণিঝড় পাঠানোর মাধ্যমে শত্রুদের ওপর আক্রমণ করেছিলেন, আর সেজন্যই তাদেরকে ফিরে যেতে হয়েছিলো। সুতরাং, কোরআন নিশ্চিত করে যে, যুদ্ধটি প্রকৃত অর্থে ঘটে নি।

হাদিসসমূহের বিবরণ বিশ্লেষণ

কোরআনের আয়াত দ্বারা খন্দকের যুদ্ধে কোনো লড়াই হয়নি প্রমাণ করার পর এবার, ঠিক কি মোহাম্মদ এবং তার সৈন্যদের মনোযোগ বানু কুরাইজার দিকে ঘুরিয়েছিল তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। কোরআন অনুযায়ী আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ মক্কাবাসীদের তাড়িয়ে ছিলেন এবং মুসলিমদের বিধ্বংস হওয়া থেকে বাঁচিয়েছিলেন। তারপর কি ঘটলো জানতে হাদিস কি বলে সেটা জেনে নেই চলুন :

এই বিবরণ থেকে প্রমাণিত হয়, মক্কাবাসী ফিরে যাওয়ার পর মোহাম্মদ এবং তার অনুসারীরা নিশ্চিত ছিলেন। জিবরাইল আল্লাহ্‌র আদেশ নিয়ে হাজির হওয়ার আগ পর্যন্ত বানু কুরাইজার বিরুদ্ধে অভিযান তাদের পরিকল্পনার অংশ ছিলো না। এটা আরও প্রমাণ করে, বানু কুরাইজা গোত্র মুসলিমদের সাথে অমানবিক কিছু করে নি যখন মক্কাবাসী সৈন্যবাহিনী পরিখার কাছে নিরুপায় হয়েছিলো। মক্কাবাসীদের জন্য যুদ্ধে রত হওয়ার কোনো উপায় ছিলো না, কেননা মুসলিমদের যুদ্ধকৌশল একেবারেই নতুন যুদ্ধকৌশল ছিলো যা মক্কাবাসীরা মুসলিমদের কাছে আশা করেনি। তারপরও তারা বানু কুরাইজা গোত্রের দূর্গের দিক থেকে একটি সবুজ সংকেত আশা করেছিলেন, কেননা মুসলিমদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সেটাই ছিলো একমাত্র উপায়, তবে সেই সবুজ সংকেত কখনওই আসেনি। অবশেষে, পরিখার বাধা পার করে এবং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ করে মুসলিমদের পৃথিবীর বুক থেকে ধ্বংস করে দেওয়ার সকল আশা হারিয়ে মক্কাবাসীরা ফিরে যান।

যখন শত্রুরা যুদ্ধে রত হতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান তখন মুসলিমদের আরাম করার সময় চলছিলো, তবে তাদের নবীর জন্য আরাম করার সময় চলছিলো না। তিনি প্রত্যাগমনের জন্য ব্যাপারটাকে অনুপযুক্ত মনে করলেন। খন্দকের আগে তিনি যতো যুদ্ধ লড়েছিলেন, তিনি আর তার অনুসারীরা জয়লাভ করেছিলেন এবং যুদ্ধে জয়লাভ তাদেরকে লুন্ঠিত দ্রব্য এনে দিয়েছিলো, মানে ধনসম্পদ এবং নারী পুরুষ। যেহেতু খন্দকের সময় তাদের কেবল টিকে থাকতে হয়েছিলো সেহেতু সেইসময় তারা কিছুই লুণ্ঠন করতে পারেননি।

জিবরাইলের উপস্থিত হওয়ার সময় হলো। মোহাম্মদের নিজেকে এবং নিজের অনুসারীদের তৃপ্ত করতে যুদ্ধবন্দী নারী পুরুষ এবং মালামাল প্রয়োজন ছিলো। কাছাকাছি থাকা ছোট্ট একটি বাসভূমিও এসব পরিতৃপ্তি পূরণের জন্য সহজ লক্ষ্য। অতঃপর জিবরাইল আল্লাহ্‌র আদেশ নিয়ে হাজির হয় ও মোহাম্মদকে জানায় যে, লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। এবং এখানে প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, ব্যাপক পরিমাণ মানুষ হত্যা করা ও ব্যাপক পরিমাণ ধনসম্পদ লুট করা।

বানু কুরাইজা যদি বিশ্বাসঘাতক হতো তাহলে মোহাম্মদ এবং ইসলাম ধর্মকে সেসব পরিখার মধ্যে কবর দেওয়া হতো যা মুসলিমরা খনন করেছিলো। তবে সেরকম কিছুই ঘটেনি এবং মোহাম্মদের সহকর্মী যোদ্ধারা বানু কুরাইজাদের হত্যা করারও কোনো প্রয়োজন বোধ করেননি। তারা তথাকথিত বিশ্বাসঘাতকতার ব্যাপারে অবগত ছিলেন না, যার ফলে মক্কাবাসীরা ফিরে যাবার পর তারা অস্ত্র রেখে আরাম করছিলেন। সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেলো যখন জিবরাঈল উপস্থিত হলো। আর এটাই প্রমাণ করে তথাকথিত বিশ্বাসঘাতকতা একটি গণহত্যাকে সমর্থনযোগ্য করে তুলতে মুসলিমদের বানানো অজুহাত ছাড়া কিছুই নয়।

তারপর ইসলামের যোদ্ধারা একটি দূর্বল গোত্রকে প্রায় একমাস ধরে ঘেরাও করে রাখে আত্মসমর্পণ করার আগ পর্যন্ত। শর্তহীন আত্মসমর্পণের সাথে অবরোধকাল শেষ হয়। এখন আত্মসমর্পণ করা গোত্রের ভাগ্য মোহাম্মদের হাতে।

আত্মসমর্পণ করা গোত্র যাদের ভাগ্য মোহাম্মদ এবং তাদের সহকর্মী যোদ্ধাদের হাতে ছিলো তাদের সাথে ঠিক কি ঘটলো সেটা বর্ণনা করতে চলুন বিস্তারিত দেখে নেই Muhammad Husayn Haykal এর The life of Muhammad থেকে :

বানু কুরাইজা গোত্র মোহাম্মদের নিকট তাদের এলাকা ত্যাগ করার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন। তবে মোহাম্মদ তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং তার নিজ সিদ্ধান্তের ওপর জেদ ধরে বসেছিলেন। তারা আল-আস গোত্রের নিকট মিনতি করে জানান, তাদের তাদেরকে (বানু কুরাইজা) সাহায্য করা উচিত যেমন আল খাজরাজ তাদের ক্লায়েন্ট ইহুদিদের সাহায্য করেছিলো। আল-আস গোত্রের একটি দল মোহাম্মদকে তাদের মিত্রদের কাছ থেকে অনুরূপ সমঝোতা গ্রহণ করতে অনুরোধ করেছিলেন যা তিনি আল-খাজরাজের মিত্রদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন। মোহাম্মদ জিজ্ঞেস করলেন, "ওহে আল-আসের পুরুষেগণ, তোমরা কি খুশি হবে যদি তোমাদের মধ্যে একজনকে আমরা ঘটনাটি মধ্যস্থতা করতে সুযোগ দেই?" তারা এতে রাজি হলে, তিনি তাদেরকে তাদের মধ্যে থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে নির্বাচিত করতে বললেন। বিষয়টা ইহুদীদের সংলগ্নে ছিলো, তাদের ভাগ্যে কি ঘটতে চলেছে তা সম্পর্কে তারা সজ্ঞাত ছিলেন না, সা'দ ইবনে মুয়ায নির্বাচিত হন। সা'দ আল-আসের একজন সুখ্যাতিপূর্ণ মানুষ ছিলেন, তিনি তার বিচার বা মীমাংসার জন্য শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। সা'দ ইহুদীদের কাছে সমীপবর্তী হওয়া, তাদের সতর্ক করা, এমনকি 'একদিন তাদেরকে মোহাম্মদের মুখোমুখি হতে হবে' ভবিষ্যৎবাণী দানকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ইহুদীদের মোহাম্মদ এবং মুসলিমদের প্রতি অভিশাপ দেওয়ার সাক্ষী দিয়েছিলেন। তার মনোনয়ন এবং বিচারক হিসেবে নিয়োগ হওয়ার পর, সা'দ উভয় দলের প্রতিশ্রুতি চেয়েছিলেন যে, তারা যেন তার ফয়সালা অনুযায়ী চলে। এই প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত হলে, তিনি বানু কুরাইজাকে তাদের দূর্গের বাইরে আসতে বললেন এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্র ত্যাগ করতে বললেন। সা'দ তারপর তার রায় ঘোষণা করলেন, যুদ্ধকারীদের হত্যা করা হবে এবং তাদের ধনদৌলত জব্দ করা হবে যুদ্ধের লুণ্ঠিত দ্রব্য হিসেবে এবং তাদের নারী ও ছেলেমেয়েদের যুদ্ধবন্দী হিসেবে বন্দী করা হবে। মোহাম্মদ যখন রায়টি শুনলেন, তখন তিনি বললেন, "আল্লাহ্‌ আপনার রায় নিয়ে খুশি, ওহে সা'দ, আপনি নিশ্চয় আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন"। তারপর তিনি মদিনার দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন যেখানে তিনি একটি বিশাল কবর খনন করতে বলেছিলেন ইহুদী যুদ্ধকারীদের হত্যা করে কবর দেবার জন্য। [1]

Muhammad Husayn Haykal - The Life of Muhammad. (p. 337)

ইবনে ইসহাকের বানু কুরাইজা হত্যার বর্ণনা তুলে ধরা হলো :

তখন তারা আত্মসমর্পণ করেন এবং নবীজী (সাঃ) তাদেরকে মদিনায় আল হারিসের আবাসস্থলে অবরুদ্ধ করলেন। তারপর তিনি মদিনার বাজারে গেলেন এবং সেখানে পরিখা খনন করলেন। তারপর তাদেরকে নিয়ে আসার জন্য পাঠালেন এবং তাদের মাথা কেটে ঐসব পরিখায় ফেললেন, তাদেরকে শ্রেণীবদ্ধভাবে নিয়ে আসা হয়েছিলো। তাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র শত্রু আখতাব এবং কাব ছিলেন তাদের নেতা। তারা সংখ্যায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন ছিলেন, আবার কারো কারো মতে ৮০০ থেকে ৯০০ জন। যাইহোক, তাদেরকে শ্রেণীবদ্ধ ভাবে আল্লাহ্‌র নবীর কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা কাবকে জিজ্ঞেস করলেন, তাদের সাথে কি করা হবে। তিনি জবাব দিলেন, তোমরা কি কখনওই বুঝবে না? তোমরা কি দেখছো না যাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারা ফিরে আসছে না? এটা মৃত্যু! আল্লাহ্‌র নবী তাদেরকে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়ার আগ পর্যন্ত হত্যা চলতে থাকে। হুয়ায়কে আনা হলো একটি কুসুমিত পোশাক পড়িয়ে যার প্রত্যেক অংশে তিনি আঙুলের ডগা আকৃতির ছেঁদ করেছিলেন যেন সেটা নিয়ে যাওয়া না হয়, তার হাত দুটো একটি দড়ি দ্বারা তার গর্দানের সাথে বাধা ছিলো। যখন তিনি আল্লাহ্‌র নবীকে দেখলেন তখন তিনি বললেন, 'আপনার বিরোধিতা করার জন্য আমি নিজেকে দোষারোপ করিনা, তবে যিনি ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করেন তিনি পরিত্যক্ত হবেন'। তারপর তিনি লোকটির কাছে গেলেন এবং বললেন, 'আল্লাহ্‌র আদেশ যথার্থ, বনী ইসরাইলীদের বিরুদ্ধে একটি গ্রন্থ, একটি ফরমান, এবং সর্বসংহার লেখা হয়েছে। তার তিনি বসলেন এবং তার কল্লা কেটে নেওয়া হলো। [2] [3] [4]

ইবনে ইসহাক

ইবনে কাসির অনুযায়ী :

তারপর আল্লাহ্‌র নবী (সাঃ) তাদেরকে ভূমিতে পুতে ফেলার জন্য পরিখা খনন করতে আদেশ করলেন। তারপর তাদেরকে নিয়ে আসা হলো এবং শিরচ্ছেদ করা হলো। তাদের সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০ জনের মধ্যে ছিলো। তাদের নাবালক সন্তান এবং মা বোনদেরকে বন্দী করা হয় এবং তাদের ধনদৌলত জব্দ করা হয়।

Tafsir Ibn Kathir - The Campaign against Banu Qurayzah

আবারও Muhammad Husayn Haykal থেকে :

নবী বানু কুরাইজা গোত্রের ধনদৌলত, নারী ও সন্তানসন্ততিদের মুসলিমদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন জনসাধারণের উদ্দেশ্যে এক পঞ্চমাংশ ভাগ করে দেবার পর। অশ্বারোহী সৈন্যদের প্রত্যেকে দুটি করে ভাগ পেলো, একটি তার নিজের জন্য এবং অপরটি তার ঘোড়ার জন্য। সেইদিন মুসলিম বাহিনীর অধীনে ৩৬ জন অশ্বারোহী সৈনিক ছিলো। সা'দ ইবনে জায়েদ আল আনসারি মুসলিমদের সামরিক বল বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কিছু সংখ্যক বানু কুরাইজা বন্দি বন্দিনী নজদে পাঠান যেখানে তিনি তাদেরকে ঘোড়া এবং অস্ত্রশস্ত্রের বিনিময়ে বদল করেন। [5]

Muhammad Husayn Haykal - The Life of Muhammad. (p. 338)

বন্দি বন্দিনী যাদের ঘোড়া ও অস্ত্রশস্ত্রের বিনিময়ে বদল করা হয় তারা বানু কুরাইজা গোত্রের নারী ছিলেন, যা ইবনে ইসহাক নিশ্চিত করে :

আল্লাহ্‌র নবী বানু কুরাইজার কিছু বন্দিনী নারীদের বিন আব্দুল আশহালের ভাই সা'দ বিন জায়েদ আল আনসারির সাথে নজদে পাঠান এবং তিনি তাদেরকে ঘোড়া ও অস্ত্রশস্ত্রের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন।

ইবনে ইসহাক : ৬৯৩

মুসলিমদের দাবি

বানু কুরাইজা গণহত্যা নিয়ে মুসলিমদের সবচেয়ে পরিচিত দাবি হলো, মোহাম্মদ বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তবে বানু কুরাইজার তথাকথিত এই বিশ্বাসঘাতকতা একটি সুবিবেচক মস্তিষ্ক থেকে মেনে নেওয়া খুব কষ্টসাধ্য। বিশ্বাসঘাতকতা হতো, যদি বানু কুরাইজা মক্কাবাসীদের সাথে হাত মিলিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতো। বিষয়টা যদি সেরকম হতো (বানু কুরাইজা যদি মক্কাবাসী সৈন্যদের সাথে যোগদান করতো) তাহলে যুদ্ধ শেষ হতো মুসলিমদের পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করার মাধ্যমে। তবে যুদ্ধ থেকে ফিরে যাবার আগে আবু সুফিয়ানের বানী সাক্ষ্য দেয় যে, বানু কুরাইজা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মক্কাবাসীদের সাথে যুদ্ধে যোগদান করে নি। ইবনে ইসহাক থেকে উদ্ধৃতি :

তারপর আবু সুফিয়ান বললেন : "ওহে কুরাইশ, আমরা কোনো স্থায়ী শিবিরে নেই ; আমাদের ঘোড়া ও উট মারা যেতে চলেছে ; বানু কুরাইজা আমাদের প্রতি কথার খেলাপ করেছে এবং আমরা তাদের ব্যাপারে উদ্বেজক খবর শুনেছি। তোমরা ঝড়ের হিংস্রতা দেখতে পারো যা আমাদের জন্য না রান্নার পাত্র বাকি রাখছে, না রাখছে তাবু। আমি চলে যাচ্ছি"।

ইবনে ইসহাক : ৬৮৩

এছাড়াও মোহাম্মদ বা তার অনুসারীদের মধ্যে কেউই বানু কুরাইজা গোত্রকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিযুক্ত করেননি। মক্কাবাসীরা ফিরে যাবার পর ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা তথাকথিত ফেরেশতা জিবরাইলের নাম ব্যবহার করে সাক্ষ্য দেন যে, বানু কুরাইজা গোত্রের ওপর অভিযান চালাতে হবে। আর এটাই প্রমাণ করে বানু কুরাইজা গোত্রের দিক থেকে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা ছিলো না যা গণহত্যাটি সমর্থনযোগ্য করেছিলো। কোরআন বানু কুরাইজা গোত্রকে খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমদের শত্রুদের সহযোগী বলে দাবি করে আলোচ্য ঘটনাটি ঘটার পরে, চলাকালীন সময়ে নয়। মোহাম্মদ পুরো বানু কুরাইজা গোত্রকে ধ্বংস করার ঘটনা সমর্থনযোগ্য করতে একটি কারণ দাঁড় করানোর প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। সেজন্যই পরবর্তীতে তিনি তার তথাকথিত ঈশ্বর আল্লাহ্‌র নাম ব্যবহার করে কোরআনের আয়াত নিয়ে আসেন, যা দাবি করে বানু কুরাইজা মক্কাবাসীদের সহযোগী ছিলো।

মুসলিমদের আরেকটি দাবি হলো, বানু কুরাইজা গোত্রকে বিচারের ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত নেবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো। বানু কুরাইজাদের সা'দ বিন মুয়াযের সিদ্ধান্তে হত্যা করা হয়, বিচারক হিসেবে যাকে তারা মান্য করতে রাজি হয়েছিলেন। সুতরাং তাদেরকে হত্যা করে মোহাম্মদ একেবারেই নির্দোষ।

প্রথমত, ইসলামিক সোর্সসমূহ থেকে এটা পরিষ্কার হওয়া যায়না যে সা'দ বিন মুয়াযকে বিচারক হিসেবে মেনে নিতে কারা রাজি হয়েছিলেন, বানু কুরাইজা গোত্র নাকি আল আস গোত্র। আসুন সহিহ বুখারী থেকে জানি :

হাদিসটির বাংলা অনুবাদে "বনী কুরায়যার ইয়াহূদীগণ" ব্রাকেটে রাখা হয়েছে এবং বোঝানো হয়েছে, বানু কুরাইজার ইহুদীরা সা'দ বিন মুয়াযকে বিচারক হিসেবে মেনে নিতে রাজি হয়েছিলেন। তবে, আরবিতে মূল সহিহ হাদিসে ব্রাকেট ব্যবহার করে কিছু লেখা হয়নি। সুতরাং এটা খুব সম্ভবত আল আস গোত্র যারা সা'দ বিন মুয়াযকে বিচারক হিসেবে মেনে নিতে রাজি হয়েছিলেন, বানু কুরাইজা নয়। বানু কুরাইজার মতো একটি পরাধীন জাতি যাদের ভাগ্য তখন মুসলিমদের হাতে ছিলো তাদের কাছে নিজেদের পছন্দ মতো বিচারক নির্বাচন করার সুযোগ অর্থহীন। সুতরাং আমরা যা তথ্যপ্রমাণ পাই তা মুসলিমদের দাবির বিরুদ্ধে বলে যে, আত্মসমর্পণ করা বানু কুরাইজা গোত্রের কাছে নিজেদের পছন্দমত বিচারক নির্বাচন করার সুযোগ ছিলো।

আমরা যদি ধরেও নেই, মুসলিমদের দাবি সঠিক, তাহলেও বিষয়টা তাদের জন্য সুবিধাজনক হয়ে যায়না। এই কাহিনীর ওপর সহিহ হাদিসসমূহের নিখুঁত বিশ্লেষণ থেকে বেরিয়ে আসে, সা'দ বিন মুয়ায মোহাম্মদের পরিকল্পনা তার রায় হিসেবে ঘোষণা করছিলেন। সা'দ বিন মুয়ায তার রায় ঘোষণার পরেই মোহাম্মদ তার রায়ের প্রশংসা করে বলেন, সা'দ আল্লাহ্‌র নির্দেশ অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। আবারো বুখারী থেকে :

বানু কুরাইজা গোত্রের ওপর গণহত্যা চালানো সবসময়ই মোহাম্মদের পরিকল্পনায় ছিলো। তার মনে এই পরিকল্পনা তখনি ছিলো যখন তিনি গোত্রটিকে অবরুদ্ধ করেন। অবরোধ চলাকালীন সময়ে তিনি বানু কুরাইজাদের দূর্গে একজন দূত পাঠান। নিচের বিবরণটি এই ঘটনার যা সিরাত ইবনে ইসহাকে উল্লেখিত রয়েছে :

আল্লাহ্‌র নবী তাকে তাদের কাছে পাঠালেন, এবং যখন তারা তাকে দেখলেন তারা তার সাথে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত হলেন। নারী ও বাচ্চাকাচ্চারা কান্নাকাটি করতে করতে তার কাছে গেলেন, এবং তিনি তাদের জন্য দুঃখ অনুভব করলেন। তারা বললেন, ওহে আবু লুবাবা, তুমি কি মনে করো আমাদের মোহাম্মদের ফয়সালার ওপর বশ্যতাস্বীকার করা উচিৎ? তিনি বললেন হ্যা, এবং তার হাত দিয়ে তার গলা দেখিয়ে হত্যার ইংগিত দিলেন।

ইবনে ইসহাক : ৬৮৬

মনে রাখুন, এই ঘটনা ঘটেছে অবরোধকালে, এবং সা'দ বিন মুয়ায এই বিষয়ে জড়িত হন অবরোধকালের পর। এখানে আমরা দেখতে পাই, মোহাম্মদের দূত মোহাম্মদের পরিকল্পনা বানু কুরাইজা গোত্রের নিকট প্রকাশ করছেন। আবু লুবাবা পুনরায় অনুতপ্ত বোধ করেন অবরুদ্ধ গোত্রের কাছে মোহাম্মদের পরিকল্পনা প্রকাশ করার জন্য। তারপর খুব তাড়াতাড়ি লোকটি জায়গাটি ত্যাগ করেন এবং মসজিদের পিলারের সাথে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখেন। যা ইবনে ইসহাকে লিপিবদ্ধ আছে :

তারপর তিনি তাদেরকে ছেড়ে চলে গেলেন এবং আল্লাহ্‌র নবীর কাছে ফিরে গেলেন না, তবে নিজেকে মসজিদের একটি স্তম্ভের সাথে আবদ্ধ করে রাখলেন এবং বলতে লাগলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্‌ আমার কৃতকর্মের জন্য আমাকে মাফ করে না দিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এই জায়গা ছেড়ে যাবো না এবং তিনি আল্লাহ্‌র কাছে প্রতিশ্রুতি রাখলেন যে তিনি কখনওই বানু কুরাইজা গোত্রের কাছে যাবেন না এবং কখনওই সেই এলাকায় যাবেন না যেখানে তিনি আল্লাহ্‌ ও তার নবীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

ইবনে ইসহাক : ৬৮৬

মুসলিমদের আরও একটি প্রিয় দাবি হলো, বানু কুরাইজাদের হত্যা করা হয়েছিলো "তাদের নিজস্ব আইন" "তোরাহ" দ্বারা। সা'দ বিন মুয়াযের বিচারের মতো বিচার Deuteronomy 20:10-18 এ পাওয়া যায়। আর তাই, আলোচ্য ঘটনার জন্য ইসলাম কিংবা মুসলিম নিন্দিত হতে পারেনা।

বাস্তবতা অনুযায়ী, Deuteronomy 20:10-18 তোরাহ এর আইন নয়। এটা অধিকৃত অঞ্চলের একটি বিশেষ কার্যক্রমের জন্য জুডেও খ্রিষ্টান ঈশ্বরের একটি বিশেষ উপদেশ। বিশ্বাসঘাতকতা কিংবা বিশ্বাসঘাতক সহযোগীদের বিচার নিয়ে এটা কিছুই বলেনা। অর্থাৎ যদি সা'দ বিন মুয়ায বা মোহাম্মদ সত্যিই 'ইহুদীদের নিজস্ব আইন' মনে করে গোত্রটির ওপর এ আইন ব্যবহার করে থাকে, তাহলে তারা ভুল পরিস্থিতিতে ভুল আইনের ভুল প্রয়োগ করেছে আর একজন সুবিচারক ঈশ্বরের দূত কখনওই এমন বিচার গ্রহণ করবেনা।

তাছাড়া মুসলিমদের এই দাবি থেকে কিছু প্রশ্ন উঠে আসে :

  • বর্তমান সময়ের মুসলিমরা কেন Deuteronomy (বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টের পঞ্চম গ্রন্থ) এর আইন নীতিনিষ্ঠ বলে মেনে নিচ্ছেন যেখানে ভিন্ন ঘটনায় একই আইনকে তারা নিষ্ঠুর ও রূঢ় আদেশ বলে আক্রমণ করেন?
  • ইসলামিক সোর্সসমূহ বলে, মোহাম্মাদ কেবল সংগ্রামী পুরুষদের হত্যা করেননি বরং অল্পবয়স্ক কিশোরদেরকেও হত্যা করেছেন যাদের কোনো যোগসূত্র বা দায়বদ্ধতা নেই তাদের বড়দের সিদ্ধান্তের সাথে। তাহলে কেন সেই নিরপরাধ কিশোরদের নির্মমভাবে হত্যা করা হলো?

কিছু মুসলিম দাবি করেন, বানু কুরাইজা গোত্রের মধ্যে যাদের যুদ্ধ করার সামর্থ্য ছিলো তাদেরকেই কেবল হত্যা করা হয়েছে। তাদের নিজস্ব সোর্স অনুযায়ী, দাবিটি ভুল। দেখে নিন তাদের সোর্স থেকে :

আল্লাহ্‌র নবী তাদের সকলকে হত্যা করতে আদেশ করলেন যারা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছে। [6]

Al-Tabari: Vol 8. (p. 38)

আরেকটি সোর্স থেকে জানা যায়, কোন কোন কিশোর বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছে সেটা কিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিলো :

উপরে দেখানো হয়েছে, সা'দ বিন মুয়াযের রায়কে মোহাম্মদ আল্লাহ্‌র রায় বলে ঘোষণা দেন এবং সেই রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে সা'দ বিন মুয়াযের প্রশংসা করেন। সুতরাং 'তোরাহ' নিয়ে মুসলিমদের দাবি পুরোপুরি অর্থহীন।

উপসংহার

  • মুসলিমরা গণহত্যাটি সমর্থনযোগ্য করতে অনেক দাবি তুলে ধরেন। তাদের সবচেয়ে প্রচলিত দাবি হলো বানু কুরাইজাদের তথাকথিত বিশ্বাসঘাতকতা। দাবিটি যে একেবারেই ভুল তা প্রতীয়মান এবং যদি আসলেই বানু কুরাইজা গোত্র বিশ্বাসঘাতকতা করতো তাহলে খন্দকের যুদ্ধে পুরো ইসলাম ধ্বংস হয়ে যেতো। সৌদিআরবের বাইরে ইসলামের কোনো অস্তিত্ব থাকতো না।
  • তারা অজুহাত হিসেবে এমন একজন লোককে ব্যবহার করেন যিনি আলোচ্য বিষয়টির সাথে অনেক পরে জড়িত হন যেখানে গণহত্যার পরিকল্পনা মোহাম্মদের অনেক আগেই ছিলো।
  • তাছাড়াও, সা'দ বিন মুয়ায যখন তার রায় ঘোষণা করেন তখন মোহাম্মদ তার রায়কে আল্লাহ্‌র রায় বলে দাবী করেন এবং তার রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে তার প্রশংসা করেন। সবমিলিয়ে এমন কোনো যুক্তিসিদ্ধ দাবি নেই যা দ্বারা মুসলিমরা গণহত্যাটি সমর্থনযোগ্য করে তুলতে পারে। বানু কুরাইজা গোত্রের ওপর গণহত্যা চালানোর পর সৌদি আরবে বানু কুরাইজা নামে কোনো গোত্রের অস্তিত্ব ছিলোনা।

References

1. Haykal, Muhammad Husayn (Author). Al-Faruqi, Ismail Raji (Translator). (2002). The Life of Muhammad. (p. 337). Selangor, Malaysia: Islamic Book Trust.

2. ‎Guillaume, Alfred, The Life of Muhammad: A Translation of Ibn Ishaq's Sirat Rasul Allah. Oxford University Press, 1955. ISBN 0-1963-6033-1; p. 461-464.

3. ‎Peters, Muhammad and the Origins of Islam, p. 222-224.

4. ‎Norman Stillman, The Jews of Arab Lands: A History and Source Book. Philadelphia: Jewish Publication Society of America, 1979. ISBN 0-8276-0198-0; p. 141f.

5. ‎Haykal, Muhammad Husayn (Author). Al-Faruqi, Ismail Raji (Translator). (2002). The Life of Muhammad. (p. 338). Selangor, Malaysia: Islamic Book Trust.

6. ‎ The History of Al-Tabari: The Victory of Islam, translated by Michael. F. State University of New York Press, Albany 1997, Volume 8. page. 38

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মারুফুর রহমান খান
মারুফুর রহমান খান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 11 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, জানুয়ারী 10, 2018 - 1:19পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর