নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নির্যাতিতের দীর...
  • সিয়ামুজ্জামান মাহিন
  • মৃত কালপুরুষ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সলিম সাহা

নতুন যাত্রী

  • মোঃ হাইয়ুম সরকার
  • জয় বনিক
  • মুক্তি হোসেন মুক্তি
  • সোফি ব্রাউন
  • মুঃ ইসমাইল মুয়াজ
  • পাগোল
  • কাহলীল জিব্রান
  • আদিত সূর্য
  • শাহীনুল হক
  • সবুজ শেখর বেপারী

আপনি এখানে

(৩০) বানু কুরাইজা গণহত্যা!


কুরআন, সিরাত ও হাদিস-গ্রন্থের আলোকে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মদিনার নবী জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে যে প্যাটার্ন-টি লক্ষণীয় তা হলো, লক্ষ্য অর্জনে যখনই মুহাম্মদ তার প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রত্যক্ষ বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন তখনই তিনি অত্যন্ত হিংস্র ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন।

https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOT3l5NmpOR3VwWEE/view

তার চরিত্রের এই রূপটি আমরা দেখতে পাই বদর যুদ্ধকালীন সময়ে আবু-সুফিয়ানের মালামাল লুণ্ঠনে বাধাপ্রাপ্ত অবস্থায় কুরাইশদের বিরুদ্ধে, বদর যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে তার কর্মকাণ্ডের মৌখিক সমালোচনা-কারী ও বানু কেউনুকা গোত্রের লোকদের বিরুদ্ধে, ওহুদ যুদ্ধের চরম ব্যর্থতার পর বানু নাদির গোত্রের লোকদের বিরুদ্ধে; অতঃপর খন্দক যুদ্ধে আবারও তার চরম ব্যর্থতা - যার আলোচনা গত পাঁচটি পর্বে করা হয়েছে। খন্দক যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিও তার চরিত্রের এই অমানুষিক ও নৃশংস রূপটির ব্যতিক্রম ছিল না। আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই প্রাণবন্ত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি খন্দক যুদ্ধ শেষে ফিরে আসার ঐ দিনটিতেই তিনি মদিনায় ইহুদি বানু কুরাইজা গোত্রের মানুষদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালান।

বানু নাদির গোত্রের ওপর অতর্কিত আক্রমণের মতই এবারেও তার অজুহাত ছিল, "জিবরাইল বার্তা (৩৩:২৬)!” কুরআন ও মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী ২৯০ বছরের কম সময়ের মধ্যে রচিত মুহাম্মদের পুর্নাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ ও হাদিস গ্রন্থের তথ্য-উপাত্তের আলোকে এই গণহত্যা উপাখ্যানের প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহ পৃথক পৃথক ভাবে আমি আমার "ইসলামের অজানা অধ্যায় (তৃতীয় খণ্ড)" বইটিতে সবিস্তারে (Extensive detail) আলোচনা করেছি। ইসলামের ইতিহাসের আদি উৎসে এই গণহত্যার বিষয়ে যে তথ্য-উপাত্ত বর্ণিত হয়েছে, উৎসাহী মুক্তচিন্তার পাঠকরা তার প্রতিটি রেফারেন্স চেক করে নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই গণহত্যার পাশবিকতা ও তার প্রকৃত কারণ অনুধাবন করতে পারবেন। একই সাথে, মুহাম্মদ-অনুসারী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা কীভাবে আদি উৎসে বর্ণিত এই গণহত্যা উপাখ্যানের তথ্য-বিকৃতি ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমান ও অমুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তারও কিছুটা সম্যক ধারণা পাবেন। [1]

সংক্ষেপে,
মুহাম্মদ তার সুদীর্ঘ ২৩ বছরের নবী জীবনে (৬১০-৬৩২ খৃষ্টাব্দ) যে-সব মানবতা-বিরোধী নৃশংস অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তার সবচেয়ে জঘন্যটি হলো ‘বনি কুরাইজা গণহত্যা!’ শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত বংশ পরস্পরায় মদিনায় বসবাসরত ইহুদি বনি কেউনুকা ও বনি নাদির গোত্রের সমস্ত মানুষ-কে তাঁদের ভিটেমাটি থেকে প্রায় এক বস্ত্রে বিতাড়িত করে তাঁদের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করার পর মদিনায় তখনও অবশিষ্ট তৃতীয় ও শেষ সম্পদশালী এই ইহুদি গোত্রের লোকদের ওপর মুহাম্মদ এই গণহত্যাটি সংঘটিত করেন। সময়টি ছিল ৬২৭ সালের মার্চ-এপ্রিল মাস (হিজরি ৫ সাল)। মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের অতর্কিত আক্রমণের শিকার হয়ে সুদীর্ঘ ২৫ দিন যাবত চারদিক থেকে অবরুদ্ধ থাকার পর বনি কুরাইজার লোকেরা অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত (কুরান: ৩৩:২৬) ও দুঃসহ অবস্থায় মুহাম্মদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। মুহাম্মদের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে তার অনুসারীরা মদিনার বাজারে গর্ত খুঁড়ে সেই গর্ত পাশে বনি কুরাইজা গোত্রের ৬০০-৯০০ জন নিরস্ত্র প্রাপ্তবয়স্ক (যৌনাঙ্গে লোম গজানো) পুরুষকে দলে দলে ধরে এনে এক এক করে জবাই করে তাঁদের কাটা মুণ্ডু ও লাশ সেই গর্তে নিক্ষেপ করেন। তাঁদেরকে হত্যা করার পর মুহাম্মদ তাঁদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ও তাঁদের স্ত্রী, কন্যা, মাতা, ভগ্নি ও শিশুদের নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। তাঁদের মা-বোন-স্ত্রী-কন্যাদের ভাগাভাগি করে তিনি তাঁদের-কে করেন যৌন-দাসীতে রূপান্তর ও ধর্ষণ! পরবর্তীতে তিনি এই দাসীদের অনেককে নাজাদ অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে করেন বিক্রি ও উপার্জিত সেই অর্থে ক্রয় করেন 'জিহাদের' জন্য অস্ত্র-শস্ত্র ও ঘোড়া। আর তাঁদের অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের তিনি করেন ভাগাভাগি ও দাস ও দাসীতে রূপান্তর।

মুহাম্মদের ভাষায়: [2] [3]

৩৩:২৬ (সূরা আল আহযাব) - "কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফেরদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দুর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা একদলকে হত্যা করছ এবং একদলকে বন্দী করছ।"

৩৩:২৭ - "তিনি তোমাদেরকে তাদের ভূমির, ঘর-বাড়ীর, ধন-সম্পদের এবং এমন এক ভূ-খন্ডের মালিক করে দিয়েছেন, যেখানে তোমরা অভিযান করনি।"

>>> মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গর্হিত, নৃশংস, ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক জঘন্য অপরাধের একটি হলো এই 'বনি কুরাইজা গণহত্যা।' তাই সঙ্গত কারণেই মুহাম্মদের এই অপরাধের বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে মুহাম্মদ-অনুসারী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা গত ১৪০০ বছর যাবত এই উপাখ্যানের বিষয়ে সবচেয়ে বেশী তথ্য-বিকৃতি, মিথ্যাচার ও কলা-কৌশল অবলম্বন করে চলেছেন। এই অপকর্মে তারা এতটাই সফল যে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত মুসলমান জনগোষ্ঠী ও সিংহভাগ অমুসলমান আদি উৎসে মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণিত এই গণহত্যার পটভূমি ও অমানুষিক পাশবিকতার ইতিহাস সম্বন্ধে একেবারেই অজ্ঞ। ইন্টারনেট প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে এই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এই গণহত্যার সপক্ষে ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা (অধিকাংশই না জেনে) সচরাচর যে-সব মিথ্যাচার ও কলা-কৌশলের আশ্রয় নেন, সেগুলো হলো:

(১) খন্দক যুদ্ধকালে বানু কুরাইজা গোত্রের লোকেরা ‘চুক্তি ভঙ্গ’ করে মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করেছিল!

(২) বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা 'মুহাম্মদের প্রস্তাবে' রাজি হয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল।

(৩) তাঁরা সা'দ বিন মুয়াদ কে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে মেনে নিতে রাজি হয়েছিল ও সা'দের এই রায় ছিল ইহুদিদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ 'তৌরাত' এর নিয়ম অনুযায়ী!

>>> বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা চুক্তি ভঙ্গ করে খন্দক যুদ্ধকালে মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন, এমন দাবি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মুহাম্মদ নিজেও তা জানতেন, আর সেই কারণেই তিনি তার আক্রমণের "অজুহাত জিবরাইল"-এর ওপর ন্যস্ত করেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগের যদি সুনির্দিষ্ট একটি প্রমাণও মুহাম্মদের গোচরে থাকতো, তবে তাকে আর অশরীরী জিবরাইলের অজুহাতের আশ্রয় নিতে হতো না।

মুহাম্মদের প্রকৃত অভিপ্রায় যে বনি কুরাইজা গণহত্যা, তা মুহাম্মদ অনুসারীরা শুরু থেকেই অবগত ছিলেন। যা আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনধির নামের এক মুহাম্মদ অনুসারী বনি কুরাইজা গোত্রের লোকদেরকে তাঁদের আত্মসমর্পণের পূর্বেই ইশারায় জানিয়ে দিয়েছিলেন। একই কারণে, বনি কুরাইজা গোত্রের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পর তাঁদের মিত্র আল-আউস গোত্রের মুহাম্মদ অনুসারীরা দৌড়ে এসে মুহাম্মদের কাছে বনি কুরাইজার লোকদের প্রাণ-ভিক্ষার আবেদন জানিয়েছিলেন। তারা এই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। আবু লুবাবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ তার আল্লাহর নামে হাজির করেন:

৮:২৭ (সূরা আল-আনফাল) - "হে ঈমানদারগণ, খেয়ানত করো না আল্লাহর সাথে ও রসূলের সাথে এবং খেয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে জেনে-শুনে।"

৯:১০২ (সূরা আত তাওবাহ) - "আর কোন কোন লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ ও অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই আল্লাহ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়।"

>>> “বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা 'মুহাম্মদের প্রস্তাবে' রাজি হয়েছিলেন" এই দাবিটির সপক্ষে একমাত্র ইমাম বুখারীর এক ছোট্ট হাদিস ছাড়া আদি উৎসের অন্য কোন মুসলিম ঐতিহাসিকদের ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। আদি উৎসের আর সকল মুসলিম ঐতিহাসিকরা যা বর্ণনা করেছেন তা হলো, বনি কুরাইজা গোত্রের ওপর আক্রমণের পর থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে রায় প্রদান পর্যন্ত "তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিণতির ব্যাপারে" যে সব ঘটনাপ্রবাহ সংঘটিত হয়েছিল, তা ছিল "মুহাম্মদ ও আল-আউস গোত্রের লোকদের মধ্যে।" বনি কুরাইজার কোনো লোক এ সকল ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। তাঁদেরকে বন্দী অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্যে যখন দলে দলে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখনও পর্যন্ত তাঁরা জানতেন না যে, ধরে নিয়ে গিয়ে তাঁদেরকে কী করা হবে। তাঁরা তা বুঝতে পেরেছিলেন ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে। আর সা'দ যে তার রায়-টি ইহুদিদের পবিত্র ধর্ম-গ্রন্থ 'তৌরাত' এর নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণা করেছিলেন, আদি উৎসের বর্ণনায় এই দাবির আদৌ কোনো ভিত্তি নেই। [ 4] [5]

>>> মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা খন্দক যুদ্ধে কীরূপ অসহায় ও ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন, মুহাম্মদের অধিকাংশ অনুসারী কীরূপে তার প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছিলেন ও যথারীতি মুহাম্মদ তাদেরকে কীরূপে আনুগত্য-হীন (মুনাফিক) ঘোষণা দিয়ে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করেছিলেন তা কুরআনে অত্যন্ত সুস্পষ্ট (৩৩:৯-৩৩:২৭)। ইসলামের ইতিহাসের আদি উৎসে বর্ণিত তথ্য-উপাত্তের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে যা স্পষ্ট তা হলো, মুহাম্মদ এই নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত করেন এক বিশেষ উদ্দেশ্যে। ওহুদ যুদ্ধের চরম ব্যর্থতার পর মুহাম্মদ যেমন তার হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় 'বনি নাদির' গোত্র-কে উচ্ছেদ করেছিলেন, ঠিক তেমনই খন্দক যুদ্ধের চরম ব্যর্থতার পর অনুসারীদের কাছে মুহাম্মদ তার হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা ও তার অনুসারীদের লুটের মালের (গনিমত) জোগান নিশ্চিতকরণ এবং "প্রয়োজনে তিনি কতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন", প্রতিপক্ষের কাছে তার উদাহরণ প্রদর্শনের প্রয়োজনে মুহাম্মদ এই গণহত্যাটি সংঘটিত করেছিলেন।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] ইসলামের অজানা অধ্যায় (তৃতীয় খণ্ড):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOT3l5NmpOR3VwWEE/view

[2] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/

[3] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

[4] দলে দলে ধরে এনে গর্ত পাশে এক এক করে জবাই!"
http://www.dhormockery.net/2015/09/blog-post_42.html

[5] ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ ও লুট:
http://www.dhormockery.net/2015/08/blog-post_35.html

Comments

সলিম সাহা এর ছবি
 

দয়া করে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।
আবু সুফিয়ান মোহাম্মদের হাতে হাত রেখে বাইয়াত হয়েছিলো কি-না? হলে কতো হিজরি সনে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলো?

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

My dear সলিম সাহা,
লিখাটি 'বানু কুরাইজা গণহত্যা' সম্বন্ধে। আপনার মন্তব্যটি এই বিষয়ে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। তথাপি, আমি আপনার এই মন্তব্যের জবাব দিচ্ছি। আপনার এই প্রশ্নের জবাব আমি "ইসলামের অজানা অধ্যায় (তৃতীয় খণ্ড)" বইটির পর্ব-৬৫ ('আবু সুফিয়ানের উপাখ্যান')-তে তথ্য-উপাত্ত সহ বর্ণনা করেছি। বইটির লিঙ্ক ওপরে দেয়া আছে। "উপযুক্ত রেফারেন্স সহ " প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করুন। পাঠকরা উপকৃত হবেন।

ভাল থাকুন।

গোলাপ মাহমুদ

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আমি কিন্তু বলি নাই যে আপনি কোন এক গ্রন্থের তথ্য উপাত্ত ছাড়া লিখেছেন। তবে আমি সন্দেহ করছি আপনি যে গ্রন্থের তথ্য উপাত্তের উপর নির্ভর করে এই পোষ্ট লিখেছেন, সে গ্রন্থটি সঠিক তথ্য উপস্থাপন করে নাই।
আপনি আপনার পোষ্টে লিখেছেন- বদর যুদ্ধকালীন সময়ে আবু-সুফিয়ানের মালামাল লুণ্ঠনে বাধাপ্রাপ্ত অবস্থায়
তাই আপনি যে গ্রন্থের তথ্য উপাত্তের উপর নির্ভর করে লেখা পোষ্ট করছেন, সে গ্রন্থের তথ্য উপাত্ত সত্য না মিথ্যা তা প্রমাণের জন্যই আমার প্রশ্ন ছিল- আবু সুফিয়ান মোহাম্মদের হাতে হাত রেখে বাইয়াত হয়েছিলো কি-না? হলে কতো হিজরি সনে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলো?
আপনি বলেছেন এটা এই পোষ্টের প্রাসঙ্গিক বিষয় নয়। "আবু সুফিয়ানের" প্রসঙ্গ আপনি আপনার পোষ্টে উপস্থাপন করেছেন। তাহলে আবু সুফিয়ানের বিষয় জানতে চাওয়া অপ্রাসঙ্গিক হয় কীভাবে? দয়া করে আমার উপরিউক্ত প্রশ্নের জবাব দিবেন, কারণ এটা আপনার পোষ্ট প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

আবু সুফিয়ানের উপাখ্যান:
http://www.dhormockery.net/2015/01/blog-post_88.html

গোলাপ মাহমুদ

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

আবু সুফিয়ানের উপাখ্যান:
http://www.dhormockery.net/2015/01/blog-post_88.html

গোলাপ মাহমুদ

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আমার ছোট্ট প্রশ্ন হল-
আবু সুফিয়ান মোহাম্মদের হাতে হাত রেখে বাইয়াত হয়েছিলো কি-না? হলে কতো হিজরি সনে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলো?
আপনি ধরিয়ে দিলেন লিঙ্ক। এটা কোন সভ্যতা? কোন লিঙ্ক নয়। এই পোষ্টে সংক্ষেপে জবাব করুন। ইষ্টিশন ব্লগের সকল পাঠক দেখুক যে, আপনি বা আমি কে কতটুকু সঠিক তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করছি।
দয়া করে আমার প্রশ্নের জবাব করুন।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

আবারও বলি, আপনার প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব তথ্য-উপাত্ত সহ আমার বইটির পর্ব-৬৫ লিখে রেখেছি। সেটি না পড়েই তড়িৎ জবাবে আপনি বইটির রেফারেন্স "মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী ২৯০ বছরের কম সময়ের মধ্যে রচিত মুহাম্মদের পুর্নাঙ্গ জীবনী ও হাদিস" গ্রন্থগুলোরই ওপরই সন্দেহ পোষণ করলেন। সাথে আবারও আপনার একই প্রশ্ন। জবাবে যখন ঐ লিখাটির specific link -টি পাঠালাম, তখন আপনি আমার 'সভ্যতার' প্রশ্ন তুলে ব্যক্তি আক্রমণ শুরু করলেন। প্রশ্নের জবাব জানতে চান কিন্তু সেই জবাব সমৃদ্ধ আমারই লিখার লিঙ্কে গিয়ে তা পড়তে রাজী নন। আজিব! অসুবিধা নাই। ইষ্টিশন ব্লগের মুক্ত মনের উৎসাহী পাঠকরা হয়তো ইতিমধ্যেই ঐ লিঙ্কে গিয়ে আপনার প্রশ্নের জবাব ঠিকই খুঁজে বের করেছেন।

আপনার মত এ ধরণের সন্দেহ পোষণ ও ব্যক্তি-আক্রমণ তথাকথিত মোডারেট মুসলমানদের জন্য নতুন কোন বিষয় নয়। ইতিপূর্বে আমার "এই লেখার (লিংক)" মন্তব্যগুলো পড়লেই পাঠকরা তা জানতে পারবেন। সে কারণেই এই সিরিজটির "ভূমিকাতেই (লিংক)" আমি এ ধরণের সন্দেহ রোগের কারণ ও তার উপসর্গের বিষয়ে আলোকপাত করেছি।

ত্যানা প্যাঁচানো ও ব্যক্তি-আক্রমণ পরিহার করে উপযুক্ত রেফারেন্স সহ আপনার বক্তব্য প্রকাশ করুন। পাঠকরাই উত্তম বিচারক। মুক্তমনের পাঠকরা আপনার লেখার উপযুক্ত মূল্যায়ন করবেন। তাঁদেরকে বোকা ভাবার কোন কারণ নেই।

গোলাপ মাহমুদ

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

পাঠকেরা আপনার দেওয়া লিঙ্কে গিয়ে পড়ে নিয়েছে, এ বিষয়ে আপনি নিশ্চিত হচ্ছেন কীভাবে? মুলতঃ আপনি যে গ্রন্থের তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে পোষ্ট সমূহ করে চলেছেন। সে গ্রন্থ ইসলাম বিদ্বেষীদের দ্বারা রচিত। সে সকল ইসলাম বিদ্বেষীরা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মোহাম্মদ ও ইসলামকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করেছে।
এখন প্রমাণ হয়ে যাবে যে, আমার বলা উক্তি সঠিক, না- আপনি যে গ্রন্থের তথ্য উপাত্তে পোষ্ট করে চলেছেন সেই গ্রন্থ সঠিক। আর সেই প্রমাণের জন্যই আপনাকে জবাব করতে হবে যে- আবু সুফিয়ান মোহাম্মদের হাতে হাত রেখে বাইয়াত হয়েছিলো কি-না? হলে কতো হিজরি সনে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলো?
আর আমি কোন প্যাঁচানো পথে হাঁটছি না, বরং আপনি আমার প্রশ্নের সঠিক জবাব উপস্থাপন না করে, প্যাচাপেচির মাধ্যমে সময় ক্ষেপন করছেন। কারণ, আপনি নিজেও জানেন যে, আপনি যে গ্রন্থের তথ্যে উপাত্তে পোষ্ট করে চলেছেন, সে গ্রন্থ সঠিক তথ্য উপস্থাপন করে নাই। ার আমার প্রশ্নের জবাব দিলে আপনার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মুখোশ খুলে যাবে। সে জন্যই আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টাপাল্টা বক্তব্য উপস্থাপন করে চলেছেন।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

আবারও ব্যক্তি আক্রমণ!
My dear Mr. সলিম সাহা, আজকের এই তথ্য-প্রযুক্তির ইন্টারনেট যুগে ১৪০০ বছরের পুরানো "মুহাম্মদ/আল্লাহ বিদ্বেষী, ইসলাম বিদ্বেষী" জাতীয় মুহাম্মদী ডায়ালগ একান্তই অসাড়, একঘেয়েমি ও বিরক্তিকর। কারণ, এ যুগের মানুষের কাছে প্রায় সকল ইনফর্মেশান কম্পুটারের "মাউস ক্লিপ" দূরত্বে। উৎসাহী পাঠকরা সঠিক তথ্য ইচ্ছে করলেই খুঁজে বের করতে পারেন। এ সমস্ত সস্তা অতি সেকেলে "মুহাম্মদী ডায়লগ" ইষ্টিশনের পাঠকদের জন্য অনুপযুক্ত ও হাস্যকর।

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম স্কলারদের লেখাগুলো "ইসলাম বিদ্বেষীদের দ্বারা রচিত" জাতীয় ইসলামী ত্যানা ১৪০০ বছরের পুরনো ইতিহাস, আর বিশ্ব বিখ্যাত কুরআনের তফসীরকারদের "তফসীর শুদ্ধ নয়, প্রেক্ষাপট জানতে হবে, আরবি না জনালে কুরআনের সহি অর্থ বোঝা যায় না" ইত্যাদি ত্যানা-প্যাঁচানো চাতুরী-পনা অপেক্ষাকৃত মডার্ন। এই সিরিজের সর্বপ্রথম লেখা "ভূমিকা"-তেই আমি এ বিষয়ে আলোকপাত করেছি। 'বনি কুরাইজা গণহত্যা' বিষয়ে মুহাম্মদ (আল্লাহ) তার কুরআনে সাক্ষ্য দিচ্ছেন,

৩৩:২৬ (সূরা আল আহযাব) - "কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফেরদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দুর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা একদলকে হত্যা করছ এবং একদলকে বন্দী করছ।"

৩৩:২৭ - "তিনি তোমাদেরকে তাদের ভূমির, ঘর-বাড়ীর, ধন-সম্পদের এবং এমন এক ভূ-খন্ডের মালিক করে দিয়েছেন, যেখানে তোমরা অভিযান করনি।"

অর্থাৎ, মুহাম্মদ (আল্লাহ) সাক্ষ্য দিচ্ছে যে তিনি ও তার অনুসারীরা একদল "কিতাবী" লোকদের খুন করে তাদের ভূমির, ঘর-বাড়ী ও ধন-সম্পদ লুট করেছিলেন। কুরআন সাক্ষ্য মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের "এসকল সন্ত্রাসী কর্ম-কাণ্ডকে" ডিফেন্ড করুন।

'আবু সুফিয়ান মোহাম্মদের হাতে হাত রেখে বাইয়াত কবে কোথায় কখন হয়েছিলো' - এ ব্যাপারে আপনার অতি আগ্রহ দেখে আমি অবাক হচ্ছি এই কারণে যে যেখানে "মুহাম্মদ/আল্লাহর চরিত্র" নিয়ে আমারা কুরআনের রেফারেন্স দিচ্ছি, সেখানে আপনি তাদেরকে কলঙ্ক-মুক্ত করার কোন চেষ্টায় না করে "আবু-সুফিয়ানের বাইয়াত" এর সহি রেফারেন্স নিয়ে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। ব্যাপারটা বেশ হাস্যকর!

আদি উৎসের জগত বিখ্যাত মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত সিরাত-হাদিসের রেফারেন্স ও বিশ্ব বিখ্যাত কুরআনের তফসীরকারদের রেফারেন্স পরিবর্তে আপনার বিবেচনায় 'সহি ও সদা-শুদ্ধ রেফারেন্সগুলো" পাঠকদের সামনে হাজির করুন ও প্রমাণ করুন যে আপনার রেফারেন্সই "একমাত্র" সহি! চেষ্টা করতে থাকুন। Bye.

গোলাপ মাহমুদ

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আপনার ঐ মাথা দিয়ে প্রচলিত কোরআনের মূল বিষয় অনুধাবন আদৌ সম্ভব কি-না সে বিষয়ে আমি সন্দিহান। কারণ, প্রচলিত কোরআন মহা বিজ্ঞানময়। কুসংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধ বিশ্বাস দ্বারা প্রচলিত কোরআন জানা ও বুঝা সম্ভব নয়। আর ব্যক্তি আক্রমনের কথা বলছেন। হ্যাঁ! আমি ব্যক্তি আক্রমণ করছি। কারণ, যেখানে সঠিক তথ্যের উপস্থাপন থাকে, সেখানে তথ্য দিয়েই আক্রমণ প্রতিহত করা হয়, কিন্তু যেখানে তথ্যে মিলের অভাব থাকে, সেখানে ব্যক্তিকে সন্দেহের আওতায় এনে, ব্যক্তি আক্রমণ করা হয়। এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।
আপনি আবু সুফিয়ানের বাড়ি ও সম্পদ লুট বিষয়ে মোহাম্মদকে আক্রমণ করেছেন। যে মোহাম্মদ লুট করতে ব্যর্থ হয়ে রাগাম্বিত হয়ে কি-কি করেছে তা উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তাহলে মোহাম্মদ ইন্তেকালের পরে, আবু সুফিয়ান ও আবু সুফিয়ান পুত্র মুয়াবিয়া এমনকি মুয়াবিয়া পুত্র এজিদ ক্ষমতার মসনদে বসে কীভাবে? তারা কি ইসলাম গ্রহণের পরে ক্ষমতার মসনদে বসেছিল, নাকি ইসলাম গ্রহণ না করেই ক্ষমতার মসনদে বসেছিল? এই তথ্যের সুরাহা হলেই বুঝা যাবে যে, আপনি যে গ্রন্থের তথ্য উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে মোহাম্মদকে দোষী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা করছেন, মূলত সে গ্রন্থ কতটুকু মিথ্যার উপরে দণ্ডায়মান, তাহা প্রকাশ হয়ে যাবে। তাই আপনি আজেবাজে কথা না বলে, আমার প্রশ্নের জবাব করুন।
আবু সুফিয়ান মোহাম্মদের হাতে হাত রেখে বাইয়াত হয়েছিলো কি-না? হলে কতো হিজরি সনে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলো?
ইষ্টিশনের পাঠকেরা, কি ও কতটুকু বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সে বিষয়ে বিচার ও বিবেচনা পরে করা যাবে। কারণ, যখন আপনার ও আমার উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের মতামত উপস্থাপিত হবে তখন সে বিষয়ে বিবেচনা করে দেখবো। আপাতত ও সকল উদ্ভট প্রসঙ্গ বাদ রেখে আমার প্রশ্নের জবাব করুন। আমি মনে করি ইষ্টিশন ব্লগের পাঠক সমূহের বিবেচনা বোধ ও আপনার কুসংস্কারাচ্ছন্ন চিন্তা এক নয়। আর কোন কারণে যদি এক হয়, তবে ইষ্টিশন ব্লগের জন্য সেটা অকল্যাণকর বলেই আমি মনে করি।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

রেফারেন্স কোথায়? আমি তো ভেবেছিলাম এইবার আপনি আপনার মন্তব্যের সপক্ষে 'সহি-শুদ্ধ রেফারেন্স' পাঠকদের জানাবেন!

গোলাপ মাহমুদ

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

রেফারেন্স আমি তখনই উপস্থাপন করবো, যখন আপনি আমার প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ অথবা না বলবেন তখন। তাই কালক্ষেপন না করে জবাব দিন- আবু সুফিয়ান মোহাম্মদের হাতে হাত রেখে বাইয়াত হয়েছিলো কি-না? হলে কতো হিজরি সনে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলো?
তবে নিশ্চিত থাইকেন, আমি কোন লিঙ্ক ধরিয়ে দেবো না। আমি তথ্যের সঠিক উদ্ধৃতি দেবো।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

আপনার প্রশ্নের জবাব আমার লিখায় দেয়া আছে, উৎসাহী পাঠকরা তা পড়ে নেবেন। আপনার "এলেম' পাঠকদের জানাবেন কি জানাবেন না তা সম্পূর্ণ আপনারই অভিরুচি।

গোলাপ মাহমুদ

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

আপনাদের মত লোকেদের কাছে ইসলাম চিরকৃতজ্ঞ। কারণ, আপনাদের মত লোকেরা ইসলাম বিষয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে, ইসলাম বিষয়টিকে মানবমণ্ডলীতে প্রচার করে চলেছেন। যেমন করেছিলো আবু জেহেল, আবু লাহাবেরা। আপনাদের মত লোকের কাছ থেকে মানুষ ইসলাম বিষয়ে মিথ্যা তথ্য জানার পরে, আরও ইসলামকে জানার আগ্রহি হচ্ছে। এবং তারা শেষ পর্যন্ত জানতে পারছে যে, ইসলাম আসলে সঠিক এক ধর্ম, আর যে ইসলাম বিষয়ে অপপ্রচার করছে, তারা মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। পরিশেষে অনেকে ভিন্ন ধর্ম থেকে এসে ইসলাম গ্রহণ করছে। ইসলাম বিষয়ে এই অপপ্রচার চালিয়ে ইসলামকে মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

@ সলিম সাহা, আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে আপনার এই ধন্যবাদ আমি গ্রহণ করতে পারলাম না এই কারণে যে এই লেখাগুলো "একটি তথ্যও আমার নয়"; যা আমি বারবার উল্লেখ করেছি। Let me try one more time:

"--এই বইটির মূল অংশের সমস্ত তথ্য-উপাত্তের রেফারেন্সই মূলত ইসলামের ইতিহাসের প্রাপ্তিসাধ্য সবচেয়ে আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণিত ইতিহাস থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। আরও সুনির্দিষ্ট ভাবে বললে যা বলা যেতে পারে, তা হলো, কুরান ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যু পরবর্তী ২৯০ বছরের কম সময়ের মধ্যে লিখিত বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের লিখিত মুহাম্মদের পুর্নাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ ('সিরাত') ও হাদিস গ্রন্থের তথ্য-উপাত্তের উদ্ধৃতি, অতঃপর সেই তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সর্বজনবিদিত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সে বিষয়ের আলোচনা ও পর্যালোচনা।"

সুতরাং, ধন্যবাদ দিন এই তথ্যগুলোর রচয়িতাদের:
১) কুরআনের লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ-কে
২) সীরাতের লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-ওয়াকিদি, মুহাম্মদ ইবনে সাদ, আল-তাবারী প্রমুখ; ও
৩) হাদিস গ্রন্থের লেখক: ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরিমিযী, আবু দাউদ প্রমুখ বিশ্ববরেণ্য লেখকদের।

আপনি ইতিমধ্যেই সীরাত ও হাদিস গ্রন্থের লেখকদের তথ্যগুলোকে "ওয়াক-থু" বলে বাতিল করে তা ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন। বাঁকি রেখেছেন "শুধু মুহাম্মদ ও তার কুরআন-কে!" তাও আবার বিশ্ববরেণ্য অনুবাদকারীদের অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্য করে, "সলিম সাহা স্টাইলে!" আপনার মন্তব্যগুলো পড়ে আমি নিশ্চিত, সেই দিন বেশী দূরে নয়, যেদিন "মুহাম্মদ ও তার কুরআনেরও" একই দশা হবে।

না ভাই, আমরা "ইসলামের" খেদমত করছি না। আমরা খেদমত করছি "মুসলমানদের।" তাঁদেরকে ভালবেসে। মুহাম্মদ ও তার ইসলামের অভিশাপ থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে তাঁদের মুক্তি নেই।

আপনার মন্তব্যগুলো পড়ে মজাই লাগছে! প্রতিটি মন্তব্যে মুখোশের আড়ালে আপনার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পাচ্ছে। চালিয়ে যান!

গোলাপ মাহমুদ

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 9 ঘন্টা 1 min ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর