নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সিয়ামুজ্জামান মাহিন
  • মৃত কালপুরুষ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সলিম সাহা
  • নির্যাতিতের দীর...

নতুন যাত্রী

  • মোঃ হাইয়ুম সরকার
  • জয় বনিক
  • মুক্তি হোসেন মুক্তি
  • সোফি ব্রাউন
  • মুঃ ইসমাইল মুয়াজ
  • পাগোল
  • কাহলীল জিব্রান
  • আদিত সূর্য
  • শাহীনুল হক
  • সবুজ শেখর বেপারী

আপনি এখানে

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ধারাবাহিক উপন্যাস: মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয় নাই (প্রথম খণ্ড—দ্বিতীয় পর্ব)


মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ধারাবাহিক উপন্যাস:
মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয় নাই
(প্রথম খণ্ড—দ্বিতীয় পর্ব)
সাইয়িদ রফিকুল হক

অধ্যাপকসাহেব আবার বলতে শুরু করলেন:

“পাকিস্তানের মতো একটি শয়তানরাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠায় সর্বপ্রথম স্বপ্ন দেখেছিলো আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক-কবি ইকবাল। তারপর আরও অনেক শয়তান এই শয়তানের রাষ্ট্র নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আর অনেকে তো পাকিস্তানকেই ধর্ম মনে করে তার পূজা করতে থাকে। শয়তানী-পাকিস্তানপ্রতিষ্ঠায় ও শয়তানী-পাকিস্তানরক্ষায় পাকিস্তানের জাতীয় কুলাঙ্গার ও শয়তানপুত্রদের নামের তালিকায় রয়েছে:

১.শয়তানের জারজপুত্র ও বিশ্বশয়তান মোহাম্মদ আলী জিন্না। সে তৎকালীন পাকিস্তানের সমস্ত জাতীয় শয়তান, জাতীয় কুলাঙ্গার ও শয়তানপুত্রদের ইমাম-নেতা ছিল। এইজন্য পাকিস্তানীরা তাকে ভালোবেসে ‘কায়দে আযম’ খেতাবে ভূষিত করেছে। কারণ, এমন শয়তান ছাড়া আর কে হবে তাদের জাতির পিতা? এই ভারতীয় উপমহাদেশে সে-ই সর্বপ্রথম অপরাজনীতির, শয়তানী-সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ও সাম্প্রদায়িক-দাঙ্গার সূচনা করে। আর তার কলংকিত হাতেই ভারতবর্ষে একাধিকবার হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও সাম্প্রদায়িক ভয়াবহ ‘রায়টে’র সূত্রপাত ঘটে। ভারতীয় উপমহাদেশে সে-ই সমস্ত শয়তানী অপরাজনীতির জনক। এই শয়তানই ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে চিরস্থায়ী বিভেদ ও দ্বন্দ্বসৃষ্টি করতে ১৯৩৯ সালে শয়তানী-ফর্মুলা-মোতাবেক ভারতবাসীর সামনে ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব’ নামক এক জারজতত্ত্ব ঘোষণা করে। আর তখন থেকেই ভারতবর্ষের স্থানে-স্থানে এই শয়তানী দ্বিজাতিতত্ত্বের কুফলে উগ্রবাদী হিন্দু-মুসলমানের শয়তানী সাম্প্রদায়িক-দাঙ্গা সংঘটিত হতে থাকে। মূলত ভারতবর্ষের সমস্ত শয়তানীর মূলে এই পাপিষ্ঠ জিন্না। আর তার মতো কুচক্রীশয়তান ভারতীয় উপমহাদেশে কখনও জন্মায়নি এবং জন্মাবেও না। সে আমৃত্যু বাংলাদেশরাষ্ট্রের ভাষা ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শয়তানীআগ্রাসন চালিয়েছে। পাকিস্তানের অন্যান্য শয়তানের জারজপুত্রদের তালিকায় রয়েছে:
২.শয়তানের জারজপুত্র ও পাকিস্তানে প্রথম সামরিকশাসন-সূচনাকারী স্বঘোষিত জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা।
৩.শয়তানের জারজপুত্র ও স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান।
৪.শয়তানের জারজপুত্র, বাংলাদেশে গণহত্যার নায়ক ও বিশ্বের সর্বাপেক্ষা নাজায়েজসন্তান জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান পাপিষ্ঠশয়তান।
৫.শয়তানের জারজপুত্র, বিশ্ববদমাইশ, বাংলাদেশে গণহত্যার অন্যতম নায়ক, লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী।
৬.শয়তানের জারজপুত্র ও বিশ্বলম্পট লে. জেনারেল টিক্কা খান কসাই।
৭.শয়তানের জারজপুত্র ও বিশ্বপাপিষ্ঠ লে. জেনারেল মিক্কা খান কসাই।
৮.শয়তানের জারজপুত্র ও বিশ্বশয়তান মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী।
৯.শয়তানের জারজপুত্র ও বিশ্বশয়তান জুলফিকার আলী ভুট্টো।
১০.শয়তানের পালিতপুত্র, বিশ্বশয়তান, পাকিস্তানের দালাল ও পবিত্র ইসলামধর্মবিকৃতকারী আবুল আলা মওদুদী। সে ইসলামবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী ‘জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানে’র প্রতিষ্ঠাতা।
১১.শয়তানের জারজপুত্র, বিশ্বশয়তান ও পাকিস্তানের পাপের সন্তান লিয়াকত আলী খান।
১২.শয়তানের জারজপুত্র, বিশ্বশয়তান ও পাকিস্তানের পাপের সন্তান খাজা নাজিমউদ্দীন।
১৩.শয়তানের জারজপুত্র, বিশ্বশয়তান ও পাকিস্তানের পাপের সন্তান নুরুল আমীন।
১৪.শয়তানের জারজপুত্র ও পাকিস্তানের পা-চাটা কুকুর খান আব্দুস সবুর খান।
১৫.শয়তানের জারজপুত্র ও পাকিস্তানের পা-চাটা কুকুর আব্দুল মোনায়েম খাঁ।
১৬.শয়তানের জারজপুত্র, বিশ্বশয়তান ও পাকিস্তানের পাপের সন্তান আব্দুল মালেক।
১৭.শয়তানের জারজপুত্র ও পাকিস্তানের গোলাম: গোলাম আযম। এই শয়তান বাংলাদেশে ইসলামবিরোধী এজিদবংশীয় মওদুদীবাদের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭১ সালে, তার নেতৃত্বেই একদল কালশয়তান-জাতীয় কুলাঙ্গার পাকিস্তানের সঙ্গে এদেশের মানুষহত্যায়—যুদ্ধাপরাধে মেতে ওঠে। এইসব পাকিস্তানের দালাল পবিত্র ইসলামধর্মের দোহাই দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত অন্যায়-অবিচারকে জায়েজ ঘোষণাপূর্বক সেদিনের পশ্চিমপাকিস্তানের হানাদারবাহিনীকে সবরকমের সাহায্য-সহযোগিতা করেছিলো। তাই, এরা আমৃত্যু ১৯৭১-এ তাদের দ্বারা সংঘটিত সবরকমের জঘন্য ও নৃশংস অন্যায়-অপকর্মকে সবার সামনে বুক-ফুলিয়ে জায়েজ বলে প্রচার করেছিলো। আর তারা মনে করতো এবং এদের শিষ্যরা এখনও মনে করে থাকে: ১৯৭১ সালে, তারা পাকিস্তানের পক্ষে সমস্ত শয়তানী-আগ্রাসন চালিয়েও কোনো অন্যায় করেনি। এরা এতোটাই ধৃষ্ট ও নিকৃষ্ট যে, এদের মধ্যে কোনো পাপবোধ কিংবা অনুশোচনা নাই।
১৮.শয়তানের জারজপুত্র, পাকিস্তানের চিরদালাল, একাত্তরের জল্লাদ ও মাওলানা-লকবধারী চাঁদপুর-জেলার ফরিদগঞ্জ-থানার আব্দুল মান্নান। এই বেজন্মাই দেশস্বাধীনের পর এরশাদ-সরকারের দালালি করে এবং মাদ্রাসার গরিবশিক্ষকদের আমানতের অর্থ ও রাষ্ট্রীয় অর্থসম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী ‘জমিয়েতুল মুদাররেছীন’ ও ‘ইনকিলাব’ নামক জারজ পত্রিকা ও সংগঠন তৈরি করে গেছে। ১৯৭১ সালে, এই রাজাকার আব্দুল মান্নান তার নিজ-এলাকা ফরিদগঞ্জসহ ঢাকার বিভিন্নস্থানে তথা সমগ্র বাংলাদেশের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত। এই বেজন্মা দেশস্বাধীনের পর ইসলামধর্মকে নিজের অপরাজনীতি-ব্যবসার অপকর্মে খাটিয়ে অনেক লাভবান হয়েছে। বর্তমানে তার কুলাঙ্গারপুত্র এএমএম বাহাউদ্দিনও পিতার মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী অপকর্মে নিয়োজিত রয়েছে।
১৯.পাকিস্তানীদের জারজপুত্র পিরোজপুরের শর্ষিণাছারছীনা আলিয়ামাদ্রাসার কথিত মুহতামিম (অধ্যক্ষ) আবু জাফর ছালেহ। এর পিতা নেছারউদ্দীনও পাকিস্তানীদের পা-চাটা-কুকুর, গোলাম ও দালাল ছিল। ১৯৭১ সালে, কুখ্যাত রাজাকার ও শয়তানের জারজপুত্র আবু জাফর ছালেহ তাদের শর্ষিণামাদ্রাসাকে পাকবাহিনীর ক্যাম্প বানিয়েছিলো। আর ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মাদ্রাসাই ছিল পাকবাহিনীর ক্যাম্প। তথাপি, এটি ছিল বাংলাদেশে পাকবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ ক্যাম্প। এখানে, নিয়মিত পাকবাহিনীর সদস্যদের জন্য মাদ্রাসা-কর্তৃপক্ষ তিনবেলা উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করতো। আর সেইসঙ্গে আশেপাশের গ্রামগুলো থেকে শর্ষিণামাদ্রাসার ছাত্র-রাজাকাররা বিভিন্ন বয়সী হিন্দুনারীদের ধরে এখানে নিয়ে আসতো। আর এসব অসহায় হিন্দুমেয়েদের পাকবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হতো। পাকবাহিনী এভাবে দিনের-পর-দিন শর্ষিণামাদ্রাসায় নিজেদের ক্যাম্পে হিন্দুরমণীদের ধর্ষণ করতো। আর এসব ধর্ষণ-অনাচার ও ব্যভিচারকে জায়েজ ঘোষণা করেছিলো সেদিনের শর্ষিণামাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-মুহতামিম, কুখ্যাত রাজাকার ও শয়তানের জারজপুত্র আবু জাফর ছালেহ। যুদ্ধাপরাধের দায়ে এই হারামজাদাকে গ্রেফতার করে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু-সরকার। বিচারাধীন-আসামী হিসাবে তাকে জেলেও রাখা হয়েছিলো। ১৯৭৩ সালের দালালআইনে তার বিচারও হতো। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শাহাদাতবরণ করলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করে রাজাকারপিতা, সামরিকজান্তা ও বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান। এই কুখ্যাত জিয়াউর রহমানই কুখ্যাত রাজাকার আবু জাফর ছালেহকে জেল থেকে ছেড়ে দেয়।
২০.পাকিস্তানের দালাল, শয়তানবংশজাত ও বাংলাদেশের চিরশত্রু বরিশালের কুখ্যাত চোরমোনাইপীরগোষ্ঠী। ১৯৭১ সালে, চোরমোনাইয়ের একটা ভণ্ডপীর-শয়তানপুত্র ফজলুল করিমসহ এই গোষ্ঠীর প্রায় সবাই ছিল পাকিস্তানের দালাল, গোলাম ও রাজাকার। এদের পরিচালিত মাদ্রাসাও ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর ক্যাম্প ছিল।
২১.বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানীদের কুখ্যাত দুর্গ ছিল চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী ওরফে হাটহাজারীমাদ্রাসা। এরাও সরাসরি পাকিস্তানীদের সঙ্গে হাতমিলিয়ে রাজাকারি করেছে। আর পিরোজপুরের শর্ষিণাআলিয়ামাদ্রাসার মতো এটিও ছিল পাকবাহিনী নামক শয়তানদের দুর্গ। এই মাদ্রাসার অতীত-বর্তমান মুহতামিম থেকে শুরু করে আজকের ‘হেফাজতে শয়তানে’র আমির শাহ আহমেদ শফীও এই দলভুক্ত। শয়তানপুত্র শফী থেকে শুরু করে এই মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক সবাই ছিল শয়তানের বশংবদ ও রাজাকার। এরা একাত্তরে এই মাদ্রাসাকে পাকবাহিনীর ক্যাম্প বানিয়েছিলো। এরা পাকবাহিনীর পক্ষে সদাসর্বদা কাজ করার জন্য গঠন করেছিলো মুজাহিদবাহিনী।

এই সম্মিলিত শয়তানপুত্ররা সবসময় জোরেশোরে ঘোষণা করতো যে, পাকিস্তান একটি ইসলামীরাষ্ট্র! আসলে, এটি একটি মস্তবড় শয়তানী ধোঁকা মাত্র। ১৯৪৭ সালে, পাকিস্তানরাষ্ট্রের জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত পাকিস্তানে ইসলামের লেশমাত্র ও নামগন্ধ নাই। এখানে আছে শুধু সাইনবোর্ড-সর্বস্ব শয়তানী-উদ্দেশ্যে মুখে-মুখে ইসলামী-শব্দব্যবহার ও লোকদেখানো ইসলামের কথিত ব্যবহার। মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য তারা মুখে-মুখে শুধু ইসলাম-ইসলাম করে থাকে। আমাদের বর্তমান বাংলাদেশে এখনও বিএনপি-জামায়াত-জোট যেমনিভাবে পাকিস্তানী-কায়দায় ভোটের রাজনীতিতে সহজ-সরল মানুষকে কাছে বা দলে টানার জন্য সবসময় অসৎ-উদ্দেশ্যে মুখে-মুখে ‘বিসমিল্লাহ-বিসমিল্লাহ’ করে থাকে। আসলে, কেউ যদি জীবনে বিশ্বাসের সঙ্গে শুধু একবার ‘বিসমিল্লাহ’ বলে থাকে—তাহলে, সে আর কোনোদিন মানুষের প্রতি অন্যায়-অবিচার করতে পারবে না। আর সে নিজেদের স্বার্থে কখনও মানুষখুনও করতে পারবে না। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত-জোটের রাজনীতির একমাত্র উদ্দেশ্যেইতো সবসময় মানুষহত্যা করে যেন-তেন-প্রকারেণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাদখল করা। আর এই উদ্দেশ্যেই তারা এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনীতি করে খাচ্ছে। তাদের এই ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মূলমন্ত্র হলো: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’। এরা এই ‘বিসমিল্লাহ’র অপব্যবহারের জোরেই বাংলাদেশের সাধারণ মূর্খজনতার মধ্যে এখনও টিকে আছে। নিরেট বোকা-পাঁঠা ছাড়া আর-কেউ তাদের শয়তানী-ফাঁদে পা দেয় না। মানুষ এখন বুঝতে শিখেছে। আশা করি, আরও বুঝতে শিখবে। আর মানুষ সবসময় এই দেশে একাত্তরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তাতে সবসময় কায়েম থাকবে। আর তাতেই এই দেশটার চিরমুক্তি। পাকিস্তানীদের প্রতি চিরআনুগত্যশীল ও পাকিস্তানীশয়তানী ভাবধারায় চিরবিশ্বাসী বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতি দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কোনোদিন কোনো কল্যাণ হতে পারে না। যাক, আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে আসি।
পাকিস্তানীরা নামসর্বস্ব ইসলামীরাষ্ট্রের আড়ালে সমস্ত অনৈসলামিক ও শয়তানী কাজ করে বেড়াতো। এরা এজিদের মতো মুখে-মুখে ইসলাম-ইসলাম করে সাধারণ মানুষকে সবসময় ধোঁকা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতো। তাই, তারা রাতের আঁধারে ঘুমন্ত বাঙালিদের উপর পৈশাচিক হামলা পরিচালনা করেও তাকে আবার ইসলামরক্ষার ‘জিহাদ’ বলেছিলো। এরা এমনই ধোঁকাবাজ-শয়তান। আর তাই, পবিত্র কুরআন-হাদিসের বিচারে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, পাকিস্তান আসলেই একটি শয়তানরাষ্ট্র। কারণ, তারা কোনোদিন ইসলামের কোনোকিছুই মানেনি ও পালন করেনি। ১৯৪৭ সাল থেকে অদ্যাবধি সম্পূর্ণ শয়তানীনীতির উপর ভিত্তি করে পাকিস্তানরাষ্ট্র পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই সময়ের মতো এখনও পাকিস্তান-দখল করে রেখেছে পাকিস্তানের শয়তানী-বর্বর সেনাবাহিনী নামক এক শয়তানী-হানাদারবাহিনী। এরা এখনও ভয়াবহ আর নৃশংস। ১৯৭১ সালে, নয়মাস যাবৎ বাংলাদেশে যে পাকিস্তানীশয়তানী সেনাবাহিনী আগ্রাসন চালিয়েছিলো—এরা তাদেরই বংশধর। পৃথিবীর ইতিহাসে এদের মানবতা ও মনুষ্যত্ব বলতে কিছুই নাই। এরা ইসলামবিরোধী-অপশক্তি। অথচ, আমাদের দেশের সকল যুদ্ধাপরাধী ও সকল পর্যায়ের রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের সন্তানরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নামক বিশ্বহায়েনা ও বিশ্বলম্পট-বাহিনীকে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের চেয়ে বেশি ভক্তি করতো। ১৯৭১ সালে, পাকিস্তানী-দালালদের ঈমানের মূলস্তম্ভ (ভিত্তি) পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল: পাকিস্তান, পাকিস্তানের বিজাতীয় উর্দুভাষা, পাকিস্তানী ক্রিকেট-খেলোয়াড়, শয়তানপুত্র জেনারেল ইয়াহিয়া খান, আর পাকিস্তানের নাজায়েজ-জারজ সেনাবাহিনী।
১৯৭১ সালে, পাকিস্তানের হানাদারবাহিনী যে-সব পৈশাচিকতা ও সীমাহীন বর্বরতার সঙ্গে নিরীহ, ধর্মভীরু, শান্তশিষ্ট ও ধার্মিক বাঙালি-জাতির উপর নির্বিচারে হামলা করাসহ যে জুলুমনির্যাতন চালিয়েছিলো—তার প্রধান-প্রধান নৃশংস-বিষয়গুলোর কিছু অংশ খুব সংক্ষেপে এবার আমি তোমাদের সামনে তুলে ধরছি:

১.পাকিস্তানীশাসকগোষ্ঠী তথা পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে নির্বিচারে, বিনাবিচারে ও অন্যায়ভাবে একের-পর-এক দীর্ঘ নয়মাস যাবৎ মানুষহত্যা করেছে। অথচ, আমাদের কাউকে হত্যা করার কোনো অধিকার তাদের ছিল না। কারণ, দুই পাকিস্তানের ‘জাতীয় সাধারণ নির্বাচনে’ পূর্বপাকিস্তানের একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে বাংলাদেশআওয়ামীলীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতালাভ করে। নিয়মঅনুযায়ী দুই পাকিস্তান পরিচালিত হবে বাংলাদেশআওয়ামীলীগের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের অধীনে। বাংলাদেশআওয়ামীলীগই পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় সরকারগঠন করবে। কিন্তু সেদিন তারা আমাদের কাছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা-হস্তান্তর না করে উল্টা আমাদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদের এক মিথ্যা ও শয়তানী অভিযোগ চাপিয়ে দিয়ে, আমাদের বিরুদ্ধে বনের আদিম-প্রাগৈতিহাসিক হিংস্র শূয়রের মতো রাতের আঁধারে একতরফা যুদ্ধঘোষণা করলো। আর আমরা বাঁচার জন্য শুরু করলাম মুক্তিযুদ্ধ। এখানে, আমাদের দোষ কোথায়? আর যুদ্ধেরও একটা নিয়মরীতি থাকে। কিন্তু ১৯৭১ সালের পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনী নামক নরপশুরা সেদিন কোনো নিয়মরীতিনীতি কিছুই মানেনি। আর তারা সেদিন আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামকে কতিপয় লোকের—ভারতীয় দালালদের—আর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্দোলন বলে অভিহিত করে এ-কে কঠোরহস্তে দমন করতে চেয়েছিলো। এরা এমনই জঘন্য শয়তান আর এমনই কাপুরুষ। তাই, আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি: পৃথিবীতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনীদের কোনো ধর্ম ছিল না। এরা সেই মক্কার সেই মোনাফেক আর কাফেরদের চেয়েও ভয়াবহ শয়তান ছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী-শাসকগোষ্ঠী শয়তানীতে শয়তানের চেয়েও কয়েকশ’ ধাপ বেশি এগিয়ে ছিল। এসময় তারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশবিরোধী শয়তানী প্রচার-প্রচারণায় ও অপ্রচারে লিপ্ত হয়। তারা সেদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একতরফা যুদ্ধঘোষণা করে বাংলাদেশকে চিরতরে দাবিয়ে রাখতে চেয়েছিলো। তাই, তারা সেদিন অন্যায়ভাবে বাঙালি-জাতির বিরুদ্ধে শয়তানীযুদ্ধঘোষণা করে জাতিসংঘেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। তারা বিশ্বমানুষের জন্য গঠিত জাতিসংঘকে হাত করে নিজেদের স্বার্থের শয়তানীযুদ্ধকে জায়েজ করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন শয়তানী-কূটনৈতিক চাল চালতে শুরু করে। আর সেই সময় বিশ্বমিশনে তাদের এই যাবতীয় শয়তানীপ্রচেষ্টার মূল হোতা ছিল শয়তানপুত্র জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং অন্যান্য শয়তানের জারজপুত্রগণ। তারা জাতিসংঘে আমাদের বিরুদ্ধে এমন কোনো শয়তানীপ্রচেষ্টা বাদ রাখেনি। আর তারা বারবার আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ‘কতিপয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ আক্রমণ বলে অপপ্রচার চালিয়ে তারা তাদের পক্ষে বিশ্বজনমতগঠন করতে চেয়েছিলো। কিন্তু সেই সময় পাকিস্তানীশয়তানরা বিশ্ববিবেক ও বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করার সবরকম চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এসময় তাদের কোনো হিতাহিতজ্ঞান ছিল না। তারা ছলে-বলে-কলে-কৌশলে শয়তানী করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে চিহ্নিত করে পূর্বপাকিস্তানে নিজেদের শয়তানী সামরিক-আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছিলো। তাদের এই শয়তানী-কাজে অংশীদার হয়েছিলো—সেদিনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির অমানবিক ও জারজ-সরকার। সেদিন, রিপাবলিকান পার্টির হয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিল: শয়তানের দোসর ও শয়তানের জারজপুত্র রিচার্ড নিক্সন আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিল: শয়তানের আরেক জারজপুত্র হেনরী কিসিঞ্জার। এছাড়াও জারজরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে ছিল আরও কতিপয় শয়তানরাষ্ট্র: গণচীন, ইতালী, ইংল্যান্ড, কানাডা, ফ্রান্স, শয়তানের জারজপুত্র গাদ্দাফীর লিবিয়া, আর্জেন্টিনা, ওহাবী-রাজতন্ত্র-জারজতন্ত্রের ধারক-বাহক সৌদিআরবসহ আরও কতিপয় গণবিরোধী ও মানবাতবিরোধী-শয়তানরাষ্ট্র। আর তাদের সম্মিলিতপ্রয়াসে দুনিয়ার সর্বনিকৃষ্ট জারজনীতির ভিত্তিতে পাকিস্তান একের-পর-এক শয়তানী করতে-করতে বাংলাদেশটাকে ধ্বংস করার সমস্ত নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে থাকে। আর তারা খোদ ইবিলিশ শয়তানের পরামর্শে বাংলাদেশের মুক্তিকামী-স্বাধীনতাকামী মানুষকে তথা বাংলাদেশের পবিত্র মাটির সর্বোকৃষ্ট পবিত্র সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের ‘ভারতীয় চর’ আখ্যায়িত করে আমাদের মহান বিপ্লবকে স্তিমিত করতে চেয়েছিলো। কিন্তু সেদিন তারা তা করতে পারেনি। কারণ, শয়তান সবসময় সফল হয় না। আর শেষপর্যন্ত শয়তানের পরাজয় ঘটে। তাই, বিশ্বের সমস্ত শয়তানের রক্তচক্ষুকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাআন্দোলনে নিমজ্জিত-প্রজ্জ্বলিত বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ায় তৎকালীন মহান কম্যুনিস্ট-রাষ্ট্র মহান সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, ভুটান, ইরাকসহ আরও কিছু মানবতাবাদীরাষ্ট্র। আর তখন বাংলাদেশের পাশে এসে আরও দাঁড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবতাবাদী হাজার-হাজার সাধারণ মানুষসহ কিছুসংখ্যক বিশিষ্ট নাগরিক। তারা বাংলাদেশের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলে নিজেদের মানবিকসত্তাকে বিকশিত করতে থাকে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন—সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডী, পপগায়ক ও পপসুপারস্টার জর্জ হ্যারিসন, সাংবাদিক সাইমন ড্রিং প্রমুখ। মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক বিবেকবান সাধারণ মানুষ আমাদের নানাভাবে সাহায্য করেছে। তোমাদের মনে রাখতে হবে যে, সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জারজ-সরকার শুধু আমাদের বিরুদ্ধে ছিল—কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আমাদের পক্ষে ছিল। আর এইসময় সমস্ত বাধাকে অতিক্রম করে বীর-বাঙালি অস্ত্রধারণপূর্বক বীরত্বের সঙ্গে শয়তান-পাকিস্তানবাহিনীকে চরমভাবে মোকাবেলা করতে থাকে। ১৯৭১ সালে, আমাদের বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা মোতাবেক বীর-বাঙালি ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে’ তারা শয়তানবংশের পশ্চিমপাকিস্তানের চিরচেনা নরপশু, শয়তানশাসকগোষ্ঠী ও এই শয়তানদের দোসরদের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের বুকভরা ছিল শুধু সাহস আর অনন্ত দেশপ্রেম। আর মুখে ছিল সবসময় দুইটি প্রিয় শ্লোগান: ‘জয়-বাংলা—জয়-বঙ্গবন্ধু’। পাকিস্তানীশয়তানরা এই দুইটি পবিত্র শ্লোগান শুনে ক্রমান্বয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়তে থাকে।

১৯৭১ সালে, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা-কায়দায় যুদ্ধ করতো। আর এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত বিবেচনায় এই বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গেরিলাবাহিনী—আমাদের ‘মুক্তিবাহিনী’।

তাঁরা, মানে—আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা ভারত থেকে ক্রমাগত দলে-দলে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে বেজন্মা-পাকিস্তানী-নরপশুদের বধ করতে থাকে। পাকিস্তানী-নরপশুরা তখন উন্মত্ত-পশুদের মতো বাংলার আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে সাঁঝের শূয়রের মতো ক্ষিপ্ত হয়ে বাংলার গ্রাম, বন্দর, শহর, জনপদ ইত্যাদি দাপিয়ে বেড়াতে থাকে। আর তাদের বাধা দিতে থাকে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। সেদিন আমাদের পবিত্র মুক্তিযোদ্ধাদের পরনে ছিল না তেমন কোনো পোশাক আর তাঁদের পেটে ছিল না ভাত। তাঁদের পায়ে জুতা ছিল না—গায়ে পোশাক ছিল না। তাঁরা সামান্য এক চিলতে গামছা কিংবা লুঙ্গি পরে পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনীর মোকাবেলা করেছে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায় তাঁরা শত দুঃখ-কষ্ট, আপদবিপদ, মৃত্যুভয়, মৃত্যুঝুঁকি ইত্যাদি মাথায় নিয়ে হাসিমুখে দেশের জন্য পাকিস্তানী-নরপশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। এভাবে, তাঁরা না-খেয়ে দিনের-পর-দিন যুদ্ধ করেছেন। তাঁদের পেটে ভাত ছিল না। তাঁরা যে দেশের জন্য কী কষ্ট করেছেন তা আমি তোমাদের বলে বোঝাতে পারবো না। সামান্য খাবার পেলে তা তাঁরা ত্রিশ-চল্লিশজন একসঙ্গে ভাগ করে খেতেন। যখন তাঁরা ক্ষুধার যন্ত্রণায় আর টিকতে পারতেন না—তখন তাঁরা কারও বাড়িতে গিয়ে চারটে ভাত চেয়ে খেয়েছেন। কিংবা ক্যাম্পে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা সামান্য কিছু খেয়ে দিনের-পর-দিন বাংলার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিজের জীবনবাজি রেখে মাসের-পর-মাস যুদ্ধ করেছেন। তাই, তোমরা এই বাংলাদেশে যতোদিন বাঁচবে, এখানে বাস করবে, ততোদিন এই মাটির পবিত্র সন্তান, বীরসন্তান, শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার চোখে দেখবে। আরও একটি কথা সবসময় মনে রাখবে: একজন খাঁটি মুক্তিযোদ্ধা যে-পথ দিয়ে হেঁটে যাবে, তোমরা সেই পথের ধুলাবালিকেও শ্রদ্ধার চোখে দেখবে। আর যারা মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করে না কিংবা শ্রদ্ধা করবে না—তারা এই মাটির অপবিত্র সন্তান, নাপাক সন্তান, খবিসশয়তান, জারজসন্তান কিংবা শূয়রের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো জীব। আমাদের দেশের বীর-মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে, তাঁদের জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগস্বীকার করেছেন। এককথায়: তাঁরা যে-ত্যাগস্বীকার করেছেন পৃথিবীতে তার কোনো তুলনা নেই। তাঁরা এই বাংলার চিরকালীন বীরকুলোদ্ভবা-বীরসন্তান। আর এই বীর-মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পর্যুদস্ত হয়ে, তাঁদের সামনে টিকতে না পেরে, পৃথিবীর সর্বকালের সর্বকুখ্যাত কাপুরুষ, নরপশু, হায়েনা ও হানাদার পাকিস্তানীরা নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর যারপরনাই শয়তানীচালে শয়তানী-আক্রমণ পরিচালনা করেছে। তারা যুদ্ধের কোনো নিয়মরীতি মানতো না। তারা শয়তানপুত্র, শয়তানের অতি নাজায়েজপুত্র তথা শয়তানের জারজপুত্র: জেনারেল টিক্কা কসাই খানের কথায় বাংলার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে এই বাংলাদেশকে পাকিস্তানীরা নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করেছিলো। শয়তান ও শয়তানের জারজপুত্র টিক্কা কসাই খান একাত্তরে বলেছিলো: ‘আমি বাংলাদেশের মানুষ চাই না—মাটি চাই। আমি বাঙালির রক্ত চাই। আর বাঙালির প্রতিটি নারীকে ধর্ষিত দেখতে চাই’। পাকিস্তানী-জারজসৈন্যরা এই টিক্কা নামক ক্ষিপ্তকুকুরের কথায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে সম্পূর্ণ উন্মত্ত হয়ে দিনের-পর-দিন আর একের-পর-এক তাণ্ডবলীলা পরিচালনা করতে থাকে। এদের সবার ডিএনএ-টেস্ট করলে দেখা যাবে, এদের সবারই পূর্বপুরুষ আসলেই, সত্যি-সত্যি, একেবারে শূয়র ছিল আর নয়তো হায়েনা ছিল। কারণ, কোনো মানুষের সন্তান আর কোনো মানববংশের সন্তান এভাবে নির্বিচারে মানুষহত্যা করতে পারে না। একাত্তর-সালে, পাকবাহিনী যাকেতাকে হত্যা করতো। আর তারা যাকে সামনে পেতো তাকেই হত্যা করতো। তাদের কাছে কোনো বাচবিচার ছিল না। তারা এই বাংলায় মুসলমানের ঘরে ঢুকে নামাজরত মানুষকে-মুসলমানকে হত্যা করেছে। এইসময় তারা পিতার সামনে মেয়েকে, মায়ের সামনে মেয়েকে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে, সন্তানের সামনে মাকে আর ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষণ-গণধর্ষণ করেছে। তারা মসজিদে নামাজরত মানুষকে হত্যা করেছে। আর পবিত্র মসজিদে আশ্রয়গ্রহণকারী নিরীহ সাধারণ অসহায় মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে। এমনকি তারা সাঁঝের শূয়রের মতো দল-বেঁধে মসজিদে ঢুকে মসজিদে আশ্রয়রত-নারীদের নানাভাবে বেইজ্জতি করেছে—আর ক্রমাগত ধর্ষণ-গণধর্ষণ করেছে। সেইসঙ্গে তারা পবিত্র মসজিদের ভিতরে-বাইরে এমনকি বারান্দায় পর্যন্ত নারীদের সম্ভ্রমলুট করেছে। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে পর্যন্ত হত্যা করেছে। আর নিরীহ ঘুমন্ত মানুষের বাড়িতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তাদের ঘরের মধ্যেই হত্যা করেছে। সেই সময় টিনের ঘরের বেড়া বন্দুকের গুলিতে ফুটো হয়ে মানুষগুলো পর্যন্ত গুলিতে-গুলিতে একেবারে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে। এইসময় তারা স্বয়ংক্রিয় ‘আমেরিকান’ ও ‘চায়না’ মেশিনগান চালিয়ে মানুষহত্যা করতো। এখানেই শেষ নয়—তারা কী জঘন্য শয়তানীই না করেছে, তার তুলনা এই পৃথিবীতে নাই। তাই, সেদিন তাদের শয়তানী-কালোহাতের হিংস্র-থাবা থেকে ঘুমন্ত, জাগ্রত, নিরীহ, নিরস্ত্র, ধার্মিক, হিন্দু-মুসলমান, নর-নারী-শিশু, অসুস্থ, বৃদ্ধ, নামাজরত, ইবাদতমগ্ন, ধ্যানমগ্ন ইত্যাদি কোনোপ্রকারের মানুষ কেউই রক্ষা পায়নি। তোমাদের মনে রাখতে হবে: তারা তাদের শয়তানপিতা-শয়তানের জারজপুত্র: টিক্কা কসাই খানের কথামতো এদেশের মানুষকে হত্যা করে এদেশের পবিত্র মাটিদখল করতে এসেছিলো। আর ওরা মনে করেছিলো: এই দেশটা বুঝি ওদের বাপের। তাই, ওরা যা-খুশি তাই করতে পারবে। আর ওরা ওদের শয়তানীকাজে জনসমর্থন বাড়াবার জন্য সেই সময় দেশে-বিদেশে বারবার প্রচার করছিলো: ‘পাকিস্তান আর ইসলাম এক। তাই, ইসলামকে রক্ষা করতে হলে আগে পাকিস্তানকে রক্ষা করতে হবে। পাকিস্তান-ভাগ করলে ইসলাম-ভাগ হয়ে যাবে। তাই, ইসলামের স্বার্থে, পাকিস্তান-রক্ষার্থে, পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দাও’। কিন্তু সেদিন কোনো সত্যিকারের মানুষ, বাঙালি, মুসলমান আর কোনো বৈধ মানবসন্তান পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়নি। তাই, তারা তাদের দোসর পা-চাটা-কুকুর রাজাকারদের সহায়তায় বাঙালিদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খোঁজ করতো আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের আর মুক্তিযোদ্ধাদের। ‘জয়-বাংলা’র সৈনিকদের ধরতে পারলে সঙ্গে-সঙ্গে তাদের নিষ্ঠুরভাবে তারা হত্যা করতো। মানুষহত্যা করতে তাদের কখনও বিলম্ব হতো না। কারণ, তারাতো মানুষহত্যা করতেই এদেশে এসেছিলো। আর তারা যে হন্তারকের সন্তান। তারা মানুষ নয় বলেই মানুষহত্যা করতো। পাকিস্তানী-আর্মিদের যারা মানুষ ভাবে—তারাও এই বাংলার জারজসন্তান। এরা এখনও বাংলাদেশের প্রধান শত্রু। পাকিস্তানী-দালালরা বাংলাদেশের চিরশত্রু।
২.পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনী ১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘যুদ্ধ ও সহিংসতা’র আওতাবহির্ভূত নিরপরাধ ‘নারী ও শিশুদের’ও হত্যা করতো। তারা কোলের শিশুকে—মানে, দুগ্ধপোষ্য শিশুকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের আছাড় মেরে কিংবা বুটের তলায় পিষ্ট করে কিংবা বিষাক্ত বেয়নেটের খোঁচায় হত্যা করতো। আর সেইসঙ্গে শিশুদের মাকেও তারা ধর্ষণ করতো। তাদের সামনে কোনো যুবতী এবং যেকোনোবয়সের যৌবনবতী-নারীরই নিরাপত্তা ছিল না—এমনকি তারা বৃদ্ধাদের পর্যন্ত রেহাই দিতো না। তারা বনের পশুদের চেয়ে বেশি হিংস্র আর বেশি ক্ষিপ্ত আর বেশি ক্ষুধার্ত ছিল। পাকিস্তানী-মিলিটারিরা এই পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা হিংস্র-পশু। তাই, তাদের কাছে মা-বোন বলে কোনো কথা ছিল না। তারা সেদিন হিন্দু-মুসলমান তথা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-নির্বিশেষে সকল নারীকে নিজেদের ভোগের সামগ্রী মনে করে তাদের ‘গনীমাতের মাল’ হিসাবে ঘোষণা করেছিলো। এরা এমনই ভয়াবহ শয়তান ছিল যে—এরা যেকোনোবয়সী মেয়েদের একবার ধরতে পারলে সঙ্গে-সঙ্গে তাদের উলঙ্গ করে ফেলতো আর তাদের এভাবেই মাসের-পর-মাস উলঙ্গ করে তাদের উপর পাশবিক-নির্যাতন বা যৌননির্যাতন চালাতো। পাকিস্তানীশাসকগোষ্ঠী মনে করতো: জিনাব্যভিচার তাদের জন্য সম্পূর্ণ হালাল—কারণ, তারা পাকিস্তানী। তাই, তারা সকল ধর্মের নারীদের উপর যখন-তখন পাশবিক-নির্যাতন চালাতো। আর এভাবে তারা মসজিদ-মন্দিরে ঢুকে, গীর্জায় প্রবেশ করে নারীদের বেইজ্জতি করতেও ছাড়তো না। ১৯৭১ সালে, এই নারকীয় হারামজাদাগোষ্ঠী আমাদের ৫৬হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট বাংলাদেশটাকে খুন-ধর্ষণের মাধ্যমে একেবারে স্তিমিত ও স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিলো। তারা ভেবেচিন্তে অত্যন্ত কুপরিকল্পিতভাবে ‘নারী ও শিশুদের’ উপর নির্যাতন চালাতো।
৩.১৯৭১ সালে, পাকিস্তানী-হায়েনাবাহিনী নারীধর্ষণের ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে এক ভয়াবহ রেকর্ড-স্থাপন করেছে। ওরা শুধু আমাদের দেশের অসহায় ও পবিত্র নারীদের ধর্ষণই করতো না—ধর্ষণের পর তাদের উপর একের-পর-এক, মাসের-পর-মাস ক্রমাগত উলঙ্গ-নির্যাতন চালাতো, আর তাদের পালাক্রমে গণধর্ষণের পর সবশেষে হত্যা করতো। সেদিনের পাকিস্তানী-হায়েনাবাহিনী পিতার সামনে মেয়েকে, ছেলের সামনে মাকে, ভাইয়ের সামনে বোনকে আর স্বামীর সামনে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করতো। মূলত একাত্তর-সালে সমগ্র পাকবাহিনী ছিল পাকিস্তানের জাতীয় ধর্ষকবাহিনী। এরা ছিল বিশ্বের সর্বকালের সর্বকুখ্যাত বিশ্বলম্পটবাহিনী। এরা কেউই মানুষ ছিল না। কিন্তু নামধারী-মুসলমান ছিল। এরা নির্বিচারে নারীধর্ষণ করতো। এভাবে, ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের লক্ষ-লক্ষ মুসলমান-নারী পাকবাহিনীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এরা মুসলমান-নারীদেরও রেহাই দেয়নি। এদের হাতে হিন্দু-মুসলমান কোনো নারীই রেহাই পায়নি।
৪.একাত্তর-সালে পাকবাহিনীর জঘন্য শয়তানীর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল: তারা মানুষহত্যা ও নারীধর্ষণের পাশাপাশি নির্বিচারে সাধারণ বাঙালিদের—হিন্দু-মুসলমানের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতো। তারা নিজের হাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিতো। আবার কখনও-কখনও তারা ‘গানপাউডার’ ছিটিয়ে শান্তিকামী মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতো। আর তা দেখে তারা একেকজন জীবন্ত শয়তানের মতো অট্টহাসিতে ফেটে পড়তো। এমনও দেখা গেছে, তারা মানুষের ঘরবাড়ির দরজা-জানালা আটকিয়ে অস্ত্রের মুখে তাদের ঘরের ভিতরে বন্দী করে তারপর তাদের আগুনে পুড়িয়ে মারতো। এসময় মানুষের তীব্র চিৎকারে বাংলার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে এলেও তবুও কখনও ওইসব পাকিস্তানী-শয়তানের মনে কখনও এতোটুকু দয়ামায়া জন্মেনি। আবার কোনো বাড়িতে মানুষজন না থাকলেও তারা সেখানে ‘গানপাউডার’ ছিটিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দিতো। কোনো-কোনো সময় তারা আবার নির্বিচারে গুলি করতে-করতে যেকোনো গ্রামে ঢুকে পড়তো। তারপর তারা নির্বিচারে মেশিনগান চালিয়ে বেধড়ক গুলির সাহায্যে অগুনতি মানুষকে হত্যা করতো। পাকিস্তানীরা রাজাকারদের সহায়তায় অস্ত্রের মুখে নিরীহ গ্রামবাসীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাদের উপর বিশ্বের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বকুখ্যাত পৈশাচিক হামলা পরিচালনা করতো। আর একেকটা হামলায় কখনও শত-শত আবার কখনও হাজার-হাজার নিরীহ গ্রামবাসী নিহত হতো। এভাবে, তারা বাংলার আনাচেকানাচে সর্বত্র ব্রাশফায়ারের সাহায্যে গণহত্যা চালাতো। বাংলার খালে-বিলে-মাঠে-ময়দানে-ফসলের ক্ষেতে লাশের স্তূপ জমে থাকতো। এমনও দেখা গেছে, এদের দাফন-কাফন পরানোর মতো আর গ্রামে কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তখন সেইসব আদমসন্তানের লাশ শিয়ালে-শকুনে-কুকুরে খেতো। একাত্তর সালে পাপিষ্ঠ-পাকবাহিনী হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ নিরীহ বাঙালির ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। পাকবাহিনীর কেউই মানুষ কিংবা মানুষের বাচ্চা ছিল না। এরা ছিল শূয়রের বাচ্চা।
৫.লুটপাট আর লুটতরাজ ছিল পাকবাহিনীর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। আর তাদের চেয়েও বেশি লুটপাট করতো তাদের দোসর: শান্তিকমিটির সদস্য, রাজাকারবাহিনী, আলবদরবাহিনী ও আলশামসবাহিনীর সদস্যরা। তারা তাদের পিতা পাকবাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘর নির্বিচারে লুটপাট করতো। আর তারা এটাকে সবসময় জায়েজ ও হালাল মনে করতো। আর তারা এসময় বলতো: ‘পাকিস্তানীরা আর রাজাকাররাই শুধু মুসলমান। আর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা সব হিন্দু’। এইরকম একটা আস্ত শয়তানী ও জারজনীতির ভিত্তিতে রাজাকাররা একাত্তর-সালে হিন্দু-মুসলমানের বাড়িঘর সমানে লুটপাট করতো। এরা লুটপাটকারী ধর্মের লোক।
৬.১৯৭১ সালে, পাকবাহিনীর স্পেশাল নারকীয় তাণ্ডব পরিচালিত হতো বাংলার সংখ্যালঘুসম্প্রদায় তথা হিন্দুদের উপর। এইসময় পাকবাহিনী বিশেষভাবে হিন্দুনিধনে মেতে ওঠে। আর কোনো হিন্দু একবার তাদের হাতে ধরা পড়লে আর রক্ষা ছিল না। হিন্দুনিধনের জন্য তারা তৎকালীন পাকিস্তানী-পশুশাসকগোষ্ঠীর নিকট থেকে ‘স্পেশাল-অ্যাসাইনমেন্ট’ নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলো—১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পরিচালিত তাদের জারজ ‘অপারেশন সার্চ-লাইট’-এর অংশ ছিল এটি। তারা ধাপে-ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে শুরু করে দেয়। এই জারজনীতির প্রবক্তা ছিল সরফরাজ নামক পাকিস্তানী এক জারজ-মেজর। পরবর্তীকালে একটা সরফরাজ থেকে শুরু করে এইরকম আরও অনেক হিংস্র-শূয়র একাত্তর-সালে নিরীহ হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর নিষ্ঠুর অভিযান পরিচালনা করতে থাকে। এইসময় যেকেউ তাদের একবার দেখলে তারা একেবারে নিশ্চিন্ত হয়ে নির্দ্বিধায় বলতে পারতো: আসলে, এই পৃথিবীতে পাকবাহিনীর কোনো ধর্ম নাই। এরা মুসলমান নয়—এরা অন্যকিছু। আর হয়তো পশু। বনের হিংস্র-শূয়রও কখনও-কখনও মানবিক আচরণ-প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু এই পাকবাহিনীর কাছে ১৯৭১ সালে, কেউ কোনোদিন মানুষের ব্যবহার-লাভ করতে পারেনি।
৭.হিন্দুনারীদের উপর পাকবাহিনীর আক্রোশ ছিল সর্বাপেক্ষা বেশি। ওরা কথায়-কথায়, আচার-ব্যবহারে বারবার বুঝিয়ে দিতো যে, হিন্দুনারীদের ধর্ষণ করলে পাকিস্তানী-মুসলমানদের কোনো গুনাহ হবে না। বরং এতে আরও সওয়াব হবে। তাই, তারা একাত্তর-সালে নির্বিচারে হিন্দুদের হত্যা করতো আর তাদের পবিত্র নারীদের ধর্ষণ করতো। সেজন্য ১৯৭১ সালে, পাকিস্তানীশূয়র কর্তৃক হাজার-হাজার হিন্দুনারী-ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ওরা এমনই শয়তান যে, ওরা ব্যভিচারকে গৌরবের বিষয় বলে মনে করতো। আর তাই, ১৯৭১ সালে, বেজন্মা-পাকবাহিনী আমাদের বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমানসহ যেকোনো ধর্মের নারীদের ধর্ষণ করতে কোনো দ্বিধাবোধ করতো না।
৮.১৯৭১ সালে, পাপিষ্ঠ-পাপাচারী-দুরাচারী-ব্যভিচারী পাকবাহিনী ইসলামের নামে সারাবাংলায় খুন-ধর্ষণ-গণধর্ষণ-হত্যা-গণহত্যা-লুণ্ঠন-অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি চালিয়ে আবার এগুলোকে তারা সবসময় জায়েজ-হালাল মনে করতো। আর তারা মনে করতো: এসব তাদের জন্য ‘গনীমাতের মাল’। তাই, তারা একাত্তর-সালে নিরীহ-নিরস্ত্র-নিরপরাধ বাঙালি-জাতির উপর যখন-তখন একের-পর-এক ঘৃণ্য পাশবিক-নির্যাতন চালাতো। আর এভাবে এতো-এতো পাপ করেও তারা নিজেদের মুসলমান ভাবতো। অথচ, এরা কেউই মানুষ ছিল না। আর তাদের কারও মানুষ হওয়ার কোনো যোগ্যতাও ছিল না।
৯.পবিত্র ইসলামের নামে তারা এইসমস্ত শয়তানীকর্মকাণ্ড পরিচালনা করে নিজেদের ইসলামবিরোধী কাফের হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করলেও—তারা নিজেদের মুসলমান ভাবতো! তারা নির্বিচারে এতো-এতো নিরীহ ও নিরপরাধ বাঙালিদের হত্যা করার পরও তারা আবার নিজেদের মুসলমান ভাবতো! আর তারা কথিত-মুসলমান সেজে প্রকৃত-মুসলমানদের ধোঁকা দিতো। এই হলো পাকিস্তানীমুসলমানদের আদি-আসল চরিত্র।
১০.পাকবাহিনী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির সঙ্গে যুদ্ধে কুলিয়ে উঠতে না পেরে অবশেষে তাদের ‘কিবলা-প্রভু-উপাস্য’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন সরকারের দ্বারস্থ হয়। এইসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরও সাহায্য-সহযোগিতা করতে চেয়েছিলো। আমেরিকা সেই সময় শয়তান পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনীকে সাহায্য করতে তাদের ভয়ংকর যুদ্ধযান ‘সপ্তম-নৌবহর’ আমাদের দেশে পাঠাতে চেয়েছিলো। কিন্তু তৎকালীন সারাবিশ্বের নির্যাতিত-শোষিত-বঞ্চিত-লাঞ্ছিত-নিগৃহীত মানুষের নেতা এবং তৎকালীন সেভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মহান লিওনেদ ব্রেজনেভের হুমকির কারণে আমেরিকা সেদিন পাকিস্তানকে সরাসরি সাহায্য করা থেকে বিরত থাকে। এরপর বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় গড়ে তোলে অকুতোভয় যৌথবাহিনী—মিত্রবাহিনী। আর এই যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় বাংলার মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা পাকবাহিনীর উপর তাদের আক্রমণ আরও জোরদার করতে থাকে। এইসময় তাদের সম্মিলিত-আক্রমণে বিশ্বের বুকে জন্ম নেওয়া বিশ্বকুলাঙ্গার পাকবাহিনী সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়ে। বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতায় পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনীকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলতে থাকে।
১১.একাত্তর-সালে, পাকবাহিনী শুধু বাংলার নিরীহ-ধর্মভীরু হিন্দু-মুসলমান নরনারীর উপর হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি। তাদের হাত থেকে আমাদের দেশের মানুষের গৃহপালিত পশু-পাখি তথা গোরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগী ইত্যাদিও রেহাই পায়নি। তাদের নির্বিচারে গণহত্যায়, অগ্নিসংযোগে, লুটতরাজে বহু গোরু-ছাগল-ভেড়া ইত্যাদি মানুষের মতো জীবন্ত-অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে। আর নয়তো তাদেরও গুলি করে মেরেছে নৃশংস পাকবাহিনী। এরা বাংলার ও বাঙালির কোনোকিছুকেই সেদিন রেহাই দেয়নি।
১২.পাকিস্তানী-সৈন্যরা ও তাদের এদেশীয় দোসর: রাজাকার-আলবদর-আলশামসগং নামাজরত, কুরআন-তিলাওয়াতরত মুমীন, মুসলিম, মুসলমান-নারীকে পর্যন্ত নামাজের জায়নামাজ ও কুরআনের সামনে থেকে তুলে তাকেও ধর্ষণ-গণধর্ষণ করেছে। এভাবে, ১৯৭১ সালে, তারা বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানী-জারজধর্মপালন করেছে। আসলে, পাকিস্তানী-নরপশুদের সামান্যতম মানবতাবোধ, মনুষ্যত্ব ও ধর্মবোধ কোনোকিছুই ছিল না। আর তারা এই পৃথিবীতে মানুষ আর মানবতার চিরকলঙ্ক।
১৩.পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনী একাত্তর-সালে মসজিদে পর্যন্ত আগুন দিয়েছিলো। আর এই হানাদার পাক-আর্মিদের ভয়াবহ অগ্নিসংযোগে এবং শয়তানী-নৃশংসতায় পবিত্র কুরআন শরীফও পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। মূলত সেদিন ওদের কোনো ধর্ম ছিল না। ওরা পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ কাফেরবাহিনী হয়ে সেদিন আমাদের বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছিলো। আর তারা সেদিন যার যা-খুশি তা-ই করেছিলো। ১৯৭১ সালে, এসব জঘন্য শয়তানী ও নৃশংস অপকর্মে তারা লিপ্ত হলেও তাদের মধ্যে কখনও বিন্দুমাত্র অনুশোচনা জাগ্রত হতো না। এরা ছিল এমনই নামকরা ও বিখ্যাত পাকিস্তানীমুসলমান!

এবার তোমরা একটু ভেবে দেখো, ১৯৭১ সালের নৃশংস পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা-যুদ্ধাপরাধীরা কি মুসলমান ছিল? তোমরা হয়তো বলবে: ‘অবশ্যই না, এবং না-না-না। কারণ, তারা কোনো মানুষই ছিল না। তারা আবার মুসলমান হবে কীভাবে? আগে তো মানুষ হতে হবে। তারপর তো মুসলমান হতে হবে। আর মুসলমান হওয়া এতো সহজ নয়। মুসলমান খুব দামি-নামি-মর্যাদার বিষয়। যেকেউ চাইলে কিংবা সবার সামনে নিজের গলা-ফাটিয়ে কিংবা তারস্বরে চিৎকার করে নিজেকে মুসলমান-ঘোষণা করলেই মুসলমান হওয়া যায় না’। এসব কথা আমরা সবাই ভাবি আর বলি: পাকবাহিনীরা মুসলমান ছিল না। কিন্তু আমি এখন বলছি: ওরা মুসলমানই ছিল। আর ওরা এই কুজাতেরই মুসলমান। ওরা লম্পট, বদমাইশ, লুচ্চা, শয়তান, বেজন্মা, ব্যভিচারী, ধর্ষণকারী, লুণ্ঠনকারী, মদ্যপায়ী, অত্যাচারী আর দুশ্চরিত্রবান মুসলমান ছিল। এখানে, গভীর মনোযোগের সঙ্গে সবসময় মনে রাখবে: পাগল-ছাগল-শয়তান আর বনের পশু কখনও মুসলমান হতে পারবে না। এবার তোমরা জেনে নাও—আমাদের ইসলামীশরীয়তের দৃষ্টিতে মুমীন-মুসলমানের বৈশিষ্ট্য কী। তারপর এরসঙ্গে একবার মিলিয়ে দেখো একাত্তরের পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগী-সহকারীরা মুসলমান ছিল কিনা?

ইসলামের দৃষ্টিতে মুমীন-মুসলমানের আচরণিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে:
১.মুমীন-মুসলমান জীবনে-মরণে সবসময় কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহ ও তাঁর পবিত্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করবে এবং তাঁদের প্রতি সার্বক্ষণিক পূর্ণ ঈমান বজায় রেখে একমাত্র তাঁদের প্রদর্শিত পথেই সারাজীবন চলবে।
২.এঁরা কখনও ব্যক্তিস্বার্থে, নিজদলের স্বার্থে, নিজেদের রাষ্ট্রক্ষমতার স্বার্থে, নিজেদের রাজনৈতিক দলের ব্যবসাবাণিজ্য-সম্প্রসারণের জন্য মানুষহত্যা করবে না—মুসলমানদেরও হত্যা করবে না।
৩.এঁরা রাতের আঁধারে কোনো ঘুমন্ত জাতির উপর আক্রমণ পরিচালনা করবে না। কারণ, মুসলমানজাতি কখনও-কোনোদিন কারও উপর আগে থেকে আক্রমণ পরিচালনা করেনি। আমাদের প্রিয়-নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র শিক্ষাঅনুযায়ী মুসলমানজাতি কোনো বিধর্মী কিংবা কাফেরদের উপরও আগে আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে না। আর আমরা তো মুসলমানজাতি। ১৯৭১ সালে, পাকিস্তানীরা আমাদের সঙ্গে আর আমাদের উপর কী করেছে? আমাদের সঙ্গে তারা কী রকম ব্যবহার করেছে? আর কোনো মানুষ কেন—কোনো পশুও এমন জঘন্য শয়তানীআচরণ প্রকাশ করতে পারবে না। পাকিস্তানী-নরপশুরা ১৯৭১ সালে বনের পশুকেও হার মানিয়েছে।
৪.মুসলমান কখনও শিরক করতে পারে না। কিন্তু ১৯৭১ সালে, পাকিস্তানীরা তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, সমস্ত শয়তানী টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এবং আমাদের সঙ্গে যেকোনোভাবে যুদ্ধে জয়লাভের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা আমেরিকাকে সিজদাহ করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। মুসলমান এক আল্লাহ ছাড়া আর-কারও কাছে কখনও মাথানত করতে পারে না। কিন্তু ১৯৭১ সালে, পাকিস্তানীরা আমাদের বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ধ্বংস করার জন্য গোপনে আমেরিকাকে সিজদাহ করতে কোনোপ্রকার কুণ্ঠাবোধ করেনি। এই হলো পাকিস্তানীমুসলমানের চেহারা।
৫.কোনো মুসলমান মদ্যপান করতে পারে না। কিন্তু পাকিস্তানী-জেনারেলরা আর হানাদারবাহিনীর সদস্যরা সারাক্ষণ মদের নেশায় চুর হয়ে থাকতো। তারা পানির চেয়ে বেশি মদ্যপান করতো। আর তারা সবসময় ইসলামের নামে জিনাব্যভিচারে মেতে উঠতো। তারা এভাবেই পাকিস্তানে শয়তানের রাজত্বপ্রতিষ্ঠা করেছিলো।
৬.মুসলমান কখনও ব্যভিচার করতে পারে না। তারা জীবন গেলেও কখনও নিজ-স্ত্রী ব্যতীত পরস্ত্রীগমন করতে পারে না। আর সেখানে জোরপূর্বক মুসলমান বা অন্যকোনো ধর্মের মেয়েদের ধর্ষণের তো কোনো প্রশ্নই আসে না। অথচ, ১৯৭১ সালে, পাকবাহিনীর সদস্যরা নির্দ্বিধায় আমাদের দেশের মাবোনদের নির্বিচারে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ করেছে। তারা প্রতিদিন একটি বাঙালি-মেয়ের উপর কয়েকটা মিলে সীমাহীন ও নৃশংস পাশবিক-নির্যাতন চালিয়েছে। এমনকি তারা পবিত্র মসজিদ-দখল করে তার ভিতরেও বাঙালি-রমণীদের জোরপূর্বক আটকিয়ে রেখে তাদের দিনের-পর-দিন, আর মাসের-পর-মাস ধর্ষণ-গণধর্ষণ করেছে। এরা কি মুসলমান হতে পারে? এর উত্তর তোমরা ভেবেচিন্তে দিবে। এরা এখন সাধারণ মানুষ ও মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য নিজেদের রূপ ও বেশ-ভূষার পরিবর্তন করেছে। এরা দুনিয়ার স্বার্থে এজিদের ত্বরীকায় শয়তানী ওহাবী-মওদুদী অপআদর্শে গভীরভাবে বিশ্বাসী। তাই, এদের কাছে পাপ-তাপ বা হারাম-নাজায়েজ বলে কিছু নাই। নিজেদের স্বার্থে এই পৃথিবীর হারাম তথা নাজায়েজ সবকিছু এদের কাছে সবসময় হালাল আর নিজেদের স্বার্থে হালাল সবকিছু এদের কাছে একমুহূর্তের মধ্যে সবসময়ের জন্য হারাম-নাজায়েজ ঘোষিত হতে পারে। কারণ, এরা পাকিস্তানীমুসলমান! পৃথিবীর ইতিহাসে পাকিস্তানীমুসলমানরা সবচেয়ে হিংস্র আর নারীলোলুপ।
৭.কোনো মুমীন-মুসলমান কখনও অপর কোনো মুসলমান বা অন্যকোনো ধর্মের তথা সংখ্যালঘুদের—মানে, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের উপর আক্রমণ পরিচালনা করতে বা তাদের জানমালের কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে না। অথচ, ১৯৭১ সালে আমরা কী দেখেছি? আর বিশ্বকুখ্যাত পাকবাহিনী কী করেছে?
৮.কোনো মুমীন-মুসলমান অপর কোনো মুসলমানসহ অন্যকোনো ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে পারে না।
৯.মুসলমান কারও বাড়িঘর লুট করতে পারে না।
১০.কোনো মুমীন-মুসলমান নিজের স্বার্থে, নিজেদের শয়তানীরাজত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে, পবিত্র ইসলামধর্মের দোহাই দিতে পারে না। কারণ, ইসলামধর্ম কাউকে সেই অধিকার প্রদান করেনি। আর যারা এভাবে সম্পূর্ণ নিজস্বার্থে মানুষহত্যা করেছে—তারা কখনও মুসলমান হতে পারে?
১১.কোনো মুমীন-মুসলমান নিজদেশকে অপরের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নিজদেশের মাবোনের ইজ্জতনাশ করাসহ নিজদেশের মানুষকে হত্যা করে নিজদেশের পবিত্র ভূখণ্ডকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার মতো শয়তানীষড়যন্ত্র করতে পারে না। ১৯৭১ সালে, এদেশে পাকিস্তানীদের দালালরা তা-ই করেছে। আর এইসব জঘন্য শয়তানীঅপকর্ম পরিচালনা করেও তাদের মধ্যে কখনও-কোনোদিন সামান্যতম অনুশোচনা জাগ্রত হয় নাই। এই হলো পাকিস্তানীমুসলমানদের সাচ্চা ঈমান।
১২.কোনো মুমীন-মুসলমান নামাজরত-মুসলমানকে ও প্রার্থনারত অন্য ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করতে পারে না।
১৩.কোনো মুমীন-মুসলমান মসজিদে ঢুকে মুসলমানদের হত্যা করতে পারে না।
১৪.কোনো মুমীন-মুসলমান কখনও বেয়নেটের আঘাতে মুসলমান কিংবা অন্য ধর্মাবলম্বী যেকোনো গর্ভবতী-রমণীদের পেট চিরে তাদের অকালে ভূমিষ্ট নিষ্পাপ সন্তানদের করুণ দৃশ্য দেখে পৈশাচিক উল্লাসে ফেটে পড়তে পারে না। পাকিস্তানীরা ১৯৭১ সালে এইসব শয়তানী করেছে।
১৫.কোনো মুমীন-মুসলমান অন্যকোনো মুসলমান ভাইয়ের দেশ-দখল করতে সেই দেশের বিরুদ্ধে বা সেই দেশের মানুষের উপর এভাবে নির্বিচারে হামলা পরিচালনা করতে পারে না।
১৬.কোনো মুমীন-মুসলমান সংখ্যালঘুসম্প্রদায়ের মন্দির-গীর্জা-প্যাগোডা-গুরুদুয়ারা-মঠ-বৌদ্ধমন্দির-বৌদ্ধবিহারসহ কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করতে পারে না। ১৯৭১ সালে, পাপিষ্ঠ-পাকবাহিনী তা-ই করেছে। এরা মানুষের উপাসনালয়কে পর্যন্ত আক্রমণ করতে ছাড়েনি।
১৭.কোনো মুমীন-মুসলমান হত্যা-গণহত্যার মাধ্যমে কাউকে বা কোনো জাতিকে ধ্বংস করার শয়তানীষড়যন্ত্র করতে পারে না।
১৮.মুমীন-মুসলমান হবে পৃথিবীর সকল মানুষ থেকে শুরু করে সকল জীবের প্রতি দয়াবান। তারা কোনো মানুষের ক্ষতিসাধন করতে পারে না।
১৯.এঁরা মানুষের সেবায় তথা ‘খিদমতে খালকে’ নিজের জীবন কাটিয়ে দেবে। অথচ, একাত্তর-সালে পাকবাহিনী কুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশটাকে ও বাংলাদেশের মানুষগুলোকে গণহত্যার মাধ্যমে সমূলে ধ্বংস করতে চেয়েছিলো। আর কোনো হত্যাকারী বা হত্যাকারীসম্প্রদায় কখনও নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করতে পারবে না। যারা অহেতুক আল্লাহর সৃষ্টি মানুষকে হত্যা করে বা করবে, তারা যেন মহান আল্লাহর বিরুদ্ধেই অস্ত্রধারণ করে বা করবে। আর যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে তারা নিশ্চিতভাবে কাফের এবং কাফেরসম্প্রদায়ের সদস্য। এরা মুসলমান-দাবি করলে সেটা হবে চরম বোকামি, ধোঁকাবাজি, ভণ্ডামি, বেআদবি, শয়তানী ও হাস্যকর। এরাই ইবলিশশয়তানের প্রকৃত উত্তরাধিকারী।
২০.কোনো মুমীন-মুসলমান ব্যক্তিস্বার্থে কোনো ধর্মের মানুষের উপর সামান্যতম জুলুমনির্যাতনও করতে পারে না।
২১.কোনো মুমীন-মুসলমান কাউকে কিছু না বলে ১৯৭১ সালের ২৫-এ মার্চ কালরাতের মতো মানুষহত্যায়-গণহত্যায় মেতে উঠতে পারে না। আর তারা কখনও ক্ষমতালোভী হতে পারে না। সেই সুযোগ ইসলামে নাই।
২২.কোনো মুমীন-মুসলমান অপর-কোনো মুসলমান-ভাইকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা তাকে প্রতারিত করার অভিপ্রায়ে বা অন্য ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য কখনও কোনোভাবেই মিথ্যাকথা বলতে পারে না। মুসলমানের জন্য মিথ্যাকথা বলা সম্পূর্ণ হারাম-নাজায়েজ। অথচ, ১৯৭১ সালে, আমাদের এই বাংলাদেশে পাকিস্তান নামক একটি শয়তানরাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা নির্লজ্জভাবে যারপরনাই—সীমাহীন মিথ্যাকথা বলেছে। আর এতোকিছু—মানে, এতো অপকর্ম করার পরও তারা নিজেদের বাঁচাবার জন্য এখনও মুষলধারে বৃষ্টির মতো বিরামহীন গতিতে একের-পর-এক মিথ্যাকথার শয়তানীজালবিস্তার করে চলেছে। আর তোমরা মনে রেখো: এরা ইসলামের নামে সম্পূর্ণ জালিয়াতচক্র। এদের ধর্মব্যবসার মূলমন্ত্র হচ্ছে: মিথ্যার বেসাতি, সন্ত্রাস, ধোঁকাবাজি, অস্ত্রবাজি ও গলাবাজি।
এছাড়াও আরও কতকগুলো সুনির্দিষ্ট কারণে ও ইসলামীশরীয়তসম্মত আইনের ভিত্তিতে ঊনিশশ’ একাত্তর-সালের চিহ্নিত পাপী-পাপাচারী তথা পাপীগোষ্ঠী কোনোভাবেই নিজেদের মুসলমান-দাবি করতে পারবে না। এই কারণগুলোও তোমরা জেনে নাও। আর এগুলো সবসময় মনে রাখবে আর প্রয়োজনে সবসময় এগুলো আমাদের সমমনা অপরাপর সকল ভাই-বোনের কাছে ছড়িয়ে দিবে। এবার ভালোভাবে জেনে নাও—কেন আমাদের দেশের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী—তৎকালীন ও আজকের ‘জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানে’র চিহ্নিত নেতা-কর্মী, ইসলামী-ছাত্রসংঘের চিহ্নিত নেতা-কর্মী, নেজামে ইসলাম পার্টি’র চিহ্নিত নেতা-কর্মী, মুসলিমলীগের চিহ্নিত দালাল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দালাল, আর পাকিস্তান-রক্ষায় নিয়োজিত সর্বস্তরের পাকিস্তানের চিহ্নিত দালালবর্গ ইত্যাদি কেন মুসলমান নয়—

প্রথমত; একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা বা যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী মোশরেক। তারা জেনেশুনে আমাদের-মুসলমানদের একমাত্র প্রভু একমাত্র মালিক-খালিক মহান আল্লাহতায়ালার সঙ্গে সরাসরি শিরক করেছে। কারণ, তারা একাত্তর-সালে এই বাংলাদেশভূখণ্ডে গায়ের জোরে শয়তানীবুদ্ধিতে পবিত্র ইসলামধর্মের নাম-ভাঙ্গিয়ে প্রচার করেছিলো যে, ‘ইসলাম আর পাকিস্তান এক।... আর পাকিস্তানকে রক্ষা করা মানে ইসলামকে রক্ষা করা।... তাই, পাকিস্তানকে রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।... পাকিস্তানকে রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানীদায়িত্ব-কর্তব্য।... পাকিস্তান আল্লাহর ঘর!... পাকিস্তান-ভাঙ্গা কুফরী!... মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় এজেন্ট—ভারতের চর।... মুক্তিযোদ্ধারা হিন্দু—তারা হিন্দুস্তানী।... আমাদের মহান আল্লাহ পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছেন।... আল্লাহ পাকিস্তানের পক্ষে।... পাকিস্তানের জন্য জীবন দিলে বেহেশতো পাওয়া যাবে।... ইত্যাদি’। এইজাতীয় শয়তানী ও মনগড়া কথাবার্তা একমাত্র মানবজাতির প্রধান শত্রু ইবলিশশয়তান ও তদানুসারী কাফের-মোশরেকরাই বলতে পারে। ইসলামীশরীয়তের দৃষ্টিতে, পাকিস্তান ইসলামের কোনোকিছু নয়। পাকিস্তান কিছুসংখ্যক অমানুষের তৈরি একটি শয়তানীরাষ্ট্র মাত্র। তাই, এ-কে মহান আল্লাহর ঘর বলা মহান আল্লাহর সঙ্গে সীমাহীন বেআদবি ও চরম ধৃষ্টতা ছাড়া আর-কিছু নয়। আর এধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী। আর সামান্য স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে সৃষ্ট একটি শয়তানীরাষ্ট্র কখনও মহান আল্লাহর ঘর হতে পারে না। মহান আল্লাহর ঘর কোনটি তা মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় ঘোষণা করেছেন। এবিষয়ে কারও কোনোকিছু বা মনগড়া বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আর তাই, মহান আল্লাহর ঘর বলতে বোঝায়: একমাত্র ‘বায়তুল্লাহ শরীফ’ তথা ‘খানে কাবাহ’-কে। শুধু ‘কাবাঘর’ আল্লাহর ঘর। এছাড়াও আরও দুইটি পবিত্র মসজিদ-ঘর মহান আল্লাহর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও আল্লাহর নিকট প্রিয়। এ-দু’টি মসজিদঘর হচ্ছে—মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ বা ‘মসজিদে আকসা’ ও সারাবিশ্বের মুসলমানদের নিকট চিরআদরের, চিরভালোবাসার ও অতিপ্রিয়—আমাদের প্রিয়-নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাতে তৈরি মসজিদ—‘মসজিদে নব্বী’ বা ‘মসজিদে নববী’। এই তিনটি পবিত্র মসজিদ ছাড়া আর-কোনো মসজিদকে যাচাইবাছাই ছাড়া সরাসরি ‘আল্লাহর ঘর’ বলা যাবে না। কারণ, অন্য মসজিদগুলোকে মহান আল্লাহ যে স্বীকৃতি দিয়েছেন—তার প্রমাণ কোথায়? তাই, যেকোনো মসজিদ তৈরি হলেই তা আল্লাহর ঘর হয়ে যায় না। এগুলোকে মুসলমানদের ‘সিজদার স্থান’ বা ‘নামাজের ঘর’ বা ‘নামাজের স্থান’ বা সাধারণভাবে বড়জোড় ‘মসজিদ’ বলা যেতে পারে—কিন্তু তাকে কোনোভাবেই মহান আল্লাহর ঘর বলে প্রচার করা যাবে না। কারণ, আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেও তৎকালীন কাফেররা মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য মসজিদ-নির্মাণ করেছিলো, এবং এখনও ইসলামের ছদ্মাবরণে বহু আধুনিক-কাফের ও কাফেরগোষ্ঠী ইসলামের ক্ষতিসাধন করার চরম অসৎ-উদ্দেশ্যে, ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার অভিপ্রায়ে বহু অবৈধ মসজিদ-নির্মাণ করছে, এবং তারা ভবিষ্যতেও এভাবে এইসব অবৈধ মসজিদ-নির্মাণ করতেই থাকবে। তাই, ইসলামীশরীয়তের দৃষ্টিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইবাছাই না-করে দুনিয়ার সব মসজিদকে আর ঢালাওভাবে ‘আল্লাহর ঘর’ বলা যাবে না। যেকোনো মসজিদের ক্ষেত্রে আগে দেখতে হবে—এই মসজিদটি মসজিদ তৈরির নিয়মকানুন মেনে, এবং তা সত্যিকারের বা আসলখাঁটি মুসলমানদের দ্বারা তৈরি হয়েছে কিনা। তারপর তাকে মসজিদ হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। আজকাল অনেক ঘুষখোর-শূয়র, সুদখোর-কুকুর অবৈধভাবে সরকারি জায়গাজমি-সম্পদসম্পত্তি দখলপূর্বক নিজেদের অবৈধ জায়গাজমি-রক্ষার্থে ও ধর্মব্যবসার আড়ালে এক-একখান মসজিদ-দাঁড় করাচ্ছে। আর এগুলোকে কোনোভাবেই মসজিদ বলা যাবে না। মসজিদ পবিত্র স্থান। আর তা পবিত্র টাকায়, পবিত্রভাবে, পবিত্র মনে, পবিত্র উপায়ে নির্মাণ করতে হবে। তারপর বুঝেশুনে-দেখেশুনে আবার যাচাইবাছাই করে তাকে একটা মসজিদ হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। আর এজাতীয় বিশুদ্ধ ও পবিত্র নামাজের স্থানকে ভালোবেসে আল্লাহর ঘর বলা যেতে পারে। কিন্তু যা মসজিদও নয়—আবার নামাজের স্থানও নয়—এমন কোনো স্থান বা দেশ বা রাষ্ট্রকে বা নাপাক-স্থানকে সরাসরি আল্লাহর ঘর বলা আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি বেআদবি করা। অথচ, পাকিস্তান কোনো মসজিদ কিংবা নামাজের স্থান কিংবা মহান আল্লাহর মনোনীত কোনো স্থান নয়—বরং এটি একটি শয়তানীরাষ্ট্র মাত্র। আর এই রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেছে পাকিস্তানের তৎকালীন মদ্যপ, অগ্নিপূজক, বিভ্রান্ত ধর্মব্যবসায়ী ও লম্পট জেনারেলরা। আর এইসব জেনারেল অজু-গোসল-তায়াম্মুম জানতো এবং মানতো না। আর তারা ইসলামীশরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: ফরজ-ওয়াজিব-সুন্নত-নফল-মুস্তাহাব ও মুবাহ সম্পর্কেও কিছুই জানতো না। আর এই রাষ্ট্রকেই—পৃথিবীর এই নাজায়েজ-হারাম রাষ্ট্র পাকিস্তানকে ‘আল্লাহর ঘর’ বলে একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী তথা যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী সরাসরি মহান আল্লাহর সঙ্গে শিরক ও কুফরী করেছে। কারণ, মহান আল্লাহ কখনও-কোথাও পাকিস্তানকে তাঁর ঘর হিসাবে স্বীকৃতি দেননি। এগুলো বানোয়াট-ভিত্তিহীন-অসত্য ও লম্পটদের কল্পনাপ্রসূত কল্পকাহিনী মাত্র। তারা একাত্তর-সালে মহান আল্লাহর নামে মানুষকে তথা নিরীহ বাঙালি-জাতিকে ধোঁকা দিয়েছে এবং তারা এভাবে সমগ্র বাঙালি-জাতির সঙ্গে চরম গাদ্দারি করেছে, এবং নিজেরা পবিত্র ইসলামধর্মের মধ্যে ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’ সেজে ধর্মের বিরাট ক্ষতিসাধন করেছে, এবং এখনও তা অব্যাহতভাবে করে চলেছে। তাই, এরা কেউই মুসলমান কিংবা মানুষ নয়। এদের সঙ্গে একমাত্র তুলনা চলে বনের জন্তুজানোয়ারের। এদের ভুলক্রমেও মুসলমান বলা যাবে না। কারণ, কোনো মুসলমান নিজের কথাকে কখনও মহান আল্লাহর কথা বলে অপপ্রচার চালাতে পারে না। আর এটা একমাত্র একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী কাফের-মোশরেকদের দ্বারাই সম্ভব।
দ্বিতীয়ত; মহান আল্লাহ যা কখনও বলেননি তা মহান আল্লাহর নামে চালানো, আল্লাহর নামে প্রচার করা সম্পূর্ণ কুফরী—একমাত্র মোশরেকদের কাজ। এরা মোশরেক। এরা কাফের। কারণ, এরা এখনও বলে থাকে: “আল্লাহর আইন ও সার্বভৌমত্ব-প্রতিষ্ঠা করতে হবে”। কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব? কারণ, ‘আল্লাহর আইন ও সার্বভৌমত্ব’ তো মহান আল্লাহ নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটা আর কারও প্রতিষ্ঠা করার কোনো প্রয়োজন বা সুযোগ নাই, এবং এসব কথা বলাও সম্পূর্ণ কুফরী। আল্লাহর আইন ও সার্বভৌমত্ব পৃথিবীর সর্বত্র এবং এই পৃথিবীর বাইরেও সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহর আইন ও সার্বভৌমত্ব-প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহই যথেষ্ট। তাই, মহান আল্লাহর নামে যেকেউ ইচ্ছে করলেই যা-তা বলতে ও যা-তা করতে পারবে না। আর মহান আল্লাহ সাধারণ কোনো মানুষ বা সাধারণ কোনো মুসলমান বা সাধারণ কোনো মানবগোষ্ঠী বা সাধারণ কোনো মুসলমানগোষ্ঠীর কাছে তাঁর ইসলামধর্মকে জিম্মা-টেন্ডার-ইজারা দেননি। কারণ, মুসলমানদের পথপ্রদশর্কের জন্য রয়েছে নবী-রাসুলগণ। তাঁদের পরে আহলে বাইয়্যেত ও বিশ্বস্ত-সাহাবাগণ, এরপরও আহলে বাইয়্যেতগণ, তাঁদের পরে এখনও পর্যন্ত আমাদের পথপ্রদর্শক হিসাবে কায়েম থাকবেন: মহান আল্লাহর অতিপ্রিয় পাত্র-বান্দা ওলীগণ, এবং আহলে বাইয়্যেতের অনুসারীগণ। আর এভাবে মহান আল্লাহর ওলীগণ কিয়ামত পর্যন্ত সারাবিশ্বের মুসলমানদের ইমাম ও পথপ্রদর্শক-নেতা হিসাবে জারী ও কায়েম থাকবেন। আল্লাহর ওলীগণ আহলে বাইয়্যেতের যথার্থ অনুসারী। তাই, সারাবিশ্বের মুসলমানকে আল্লাহর ওলীদের সোহবতে আসতে হবে, এবং তাদের আল্লাহর ওলীদের সোহবতেই থাকতে হবে, এবং কেউ মুসলমান হতে চাইলে তাকে অবশ্যই ত্বরীকতপন্থী হতে হবে। পৃথিবীতে এর কোনো বিকল্প নাই—এবং ভবিষ্যতেও এর কোনো বিকল্প হবে না। শুধু আল্লাহর ওলীগণই আমাদের একমাত্র পথপ্রদর্শক। অথচ, আমাদের দেশের একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীগণ ইসলামের কেউ না-হওয়া সত্ত্বেও তারা সবসময় ইসলামধর্ম নিয়ে খুব বেশি লাফালাফি আর বাড়াবাড়ি করে। আসলে, একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী তথা জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান এবং তাদের সমমনা সব দলের একেকটা স্বঘোষিত-তথাকথিত-আত্মস্বীকৃত মোল্লা, এবং এরা সবসময় সাবেঈন, ধর্মব্যবসায়ী ও এজিদপন্থী একজাতীয়-একদলীয়-বিজাতীয় ধর্মীয় নেতা। এরা নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় নিজেদের নামের আগে সম্পূর্ণ অসৎ-উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকে: হাফেজ, মাওলানা, মুফতী, আল্লামা, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ইসলামীচিন্তাবিদ, মুফাস্সিরে কুরআন, শায়খুল হাদীস ইত্যাদি। এরা কেউই ত্বরীকতপন্থী নয়। এরা ওলীআল্লাহবিরোধী একশ্রেণীর সাক্ষাৎ শয়তান মাত্র। আর এরাই কিনা একাত্তর-সালে আমাদের দেশে স্বঘোষিত ধর্মীয় নেতা সেজে শয়তানের আবিষ্কার: পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে একের-পর-এক অনাচারে-ব্যভিচারে আর সর্বপ্রকার অবিচারে বাংলাদেশটাকে ভরিয়ে ফেলেছিলো। এরা সাক্ষাৎ ইবলিশশয়তানের অনুসারী হয়েও ইসলামের অপব্যাখ্যা করে শয়তানের পাকিস্তানকে সরাসরি প্রকাশ্যে ‘বাপ’ ডেকে মানুষ আর মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান-গ্রহণ করেছিলো। এখনও তারা রাজনীতির কথা বলে। অথচ, একাত্তরে আমাদের দেশের এইজাতীয় মুসলমান-নামধারী যুদ্ধাপরাধীরা যারপরনাই ইসলামবিরোধী, মানবতাবিরোধী পাপ-অপকর্ম সাধন করে একের-পর-এক কুফরী করে কাফেরী-ধর্মপালন করেছিলো। তারা নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের দম্ভ ও অহংকার রক্ষার্থে মহান আল্লাহ-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলামের দোহাই দিয়ে যা-খুশি তা-ই বলেছিলো আর যা-খুশি তা-ই করেছিলো। এদের এসকল অপকর্ম দেখে কালের বিচারে আজ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের দেশের একাত্তর-সালের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা কোনোভাবেই মুসলমান নয়। এমনকি তাদের কাউকে ভুলেও মুসলমান বলা যাবে না। তাছাড়া, এরা আকিদাহগত দিক থেকেও আজন্ম ইসলামবিরোধী এজিদবংশীয় শয়তানী-বাতিল আকিদাহ-অনুযায়ী ওহাবী-খারিজী-মওদুদীপন্থী। তাই, এরা সরাসরি কাফের। আর তাই, পবিত্র ইসলামধর্ম যাদের অনুমোদন দেয়নি, তারা যদি ইসলামের কেউ-একটা হয়ে বা কোনোকিছু সেজে নিজেদের ইসলামের স্বঘোষিত ধর্মনেতা ঘোষণা করতে চায়—তবে তারা সরাসরি কাফের। কারণ, ইসলামের ইমাম-নেতা-ত্বরীকা-ত্বরীকার পথপ্রদর্শক ইত্যাদি সবকিছু বহু আগে থেকে—মানে, আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল থেকে নির্ধারিত হয়ে আছে। এখন কারও ইসলামের পরিচয়ে আত্মস্বীকৃত আলেম-উলামা-পীর-মাশায়েখ ইত্যাদি সাজার কোনো সুযোগ নাই। আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন আমাদের সবচেয়ে বড় মুরশীদ—আর তাঁর থেকে বর্তমানের আহলে বাইয়্যেতগণ হচ্ছেন আমাদের মুরশীদ-রাহবার-পথপ্রদর্শক। এঁরাই ইসলামের ধর্মীয় নেতা। আর এভাবে চিরদিন আমাদের কাছে একমাত্র নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশই সবচেয়ে বড় পথপ্রদর্শক। আমরা, নবী ও নবীবংশ ছাড়া আর-কাউকে চিনি না, মানি না এবং জানি না। তাই, তোমরা আজ প্রকাশ্যে শুনে রাখো: ইসলাম মানে—নবী ও নবীবংশ। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীবংশজাত এজিদপন্থী তথা কোনো বেত্বরীকতপন্থী জালেম-জাহেল-ফাসেক-ফুজ্জার-বাতিল-তাগুতদের ইসলামে ঢুকে আলেম-উলামা-পীর-মাশায়েখ দাবি করার কোনো আইনগত ভিত্তি ও অধিকার নাই। আমরা, মহান আল্লাহর ওলীদের পথে হাঁটব, এবং তাঁদের চিরঅনুসারী হবো, এবং তাঁদের মতো পবিত্র জীবন গড়বো। আর এই জীবনকে সুন্দর-পবিত্র-সুস্থ-মনোমুগ্ধকর হিসাবে গড়ে তোলার জন্য মহান আল্লাহর একজন বিশ্বস্ত ওলীর নিকট নিজেকে সমর্পণ করবো। আর যারা আল্লাহর ওলীদের চেনে না—তারা কখনও নিজেদের মুসলমান বলে দাবি করতে পারবে না। বরং তারা, মহান আল্লাহর এই পৃথিবীতে একেকটা জালেম, ফাসেক, ফুজ্জার, তাগুত ও শয়তান।
তৃতীয়ত; আল্লাহ পাকিস্তানের পক্ষে, পাকিস্তান-রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ ও ঈমানীদায়িত্ব-কর্তব্য, পাকিস্তান-ভাঙ্গা কুফরী ইত্যাদি শয়তানী-বেশরীয়তী-বেফাঁস-মনগড়া-উদ্ভট কথাবার্তা বলা সম্পূর্ণ কুফরী। কারণ, মহান আল্লাহ যা বলেননি—তা মহান আল্লাহর নামে প্রচার করাটা মিথ্যা-রটনা এবং মহান আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি বেআদবি, এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির ব্যক্তিগত নাজায়েজ-হারাম কথাবার্তাকে মহান আল্লাহর নামে চালানো স্পষ্টতঃ প্রকাশ্য কুফরী। একমাত্র কাফের-মোনাফেক ও মোশরেকরাই নিজেদের কথাবার্তাকে মহান আল্লাহর নামে অপপ্রচারের চেষ্টা করে থাকে। তাই, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা একাত্তর-সালে নিজেদের স্বার্থের শয়তানীপাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য এসব শয়তানীউক্তি করে নিজেদের কাফের-মোনাফেক ও মোশরেকদের কাতারে দাঁড় করিয়েছে। আর আমাদের পবিত্র ইসলামধর্ম এদের কাউকেই চেনে না, মানে না, জানে না এবং গ্রহণ করে না। আর এদের কাউকেই কখনও আলেম-উলামা বলে স্বীকার করে না। এরা ইসলামের কেউ না। এরা শুধু পাকিস্তানীদের আত্মীয়-পরমাত্মীয় ও তাদের আজীবন-দোসর। সুতরাং, আজকের এই স্বাধীন-সার্বভৌম-পবিত্র গণতান্ত্রিক বাংলাদেশরাষ্ট্র একাত্তরের মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের দায়ে তাদের সরাসরি-প্রমাণসাপেক্ষে অভিযুক্ত ও গ্রেফতার করে তাদের বিচার-শেষে কঠিন শাস্তিপ্রদান করতে পারবে। আর এই শাস্তিপ্রদান ইসলামীশরীয়তও অনুমোদন করে। কারণ, ইসলামে পাপের কোনো স্থান নাই।
চতুর্থত; কোনো মুসলমান-ভাইকে আক্রমণ করে তাকে হত্যা করা সম্পূর্ণ কুফরী। একাত্তর-সালে যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী: রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটি’র সদস্যরা পাকবাহিনীর সঙ্গে নিজেরা ও তাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষ তথা মুসলমান-নরনারীকে নির্বিচারে হত্যা করেছিলো। মুসলমান-মাবোনদের নিজেরা অহরহ বেইজ্জতি করতো—আবার তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে পাক-আর্মিদের ক্যাম্পে জমা দিতো। আর আমাদের দেশের মাবোনদের পাকিস্তানীদের দ্বারা আরও বেশি ধর্ষণ করানোর জন্য রাজাকাররা এমনটি করতো। কোনো মুসলমান নিজে ব্যভিচার করতে পারে না এবং অপর কাউকেও ব্যভিচারের মতো জঘন্য অপরাধে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে না। ইসলামের নামে কেউ-কখনও মুসলমান সেজে, মুসলমান-চরিত্রে অভিনয় করে, নিজেকে মুসলমান-দাবি করে কিংবা নিজেকে মুসলমান-বংশের মুসলমানপরিচয় দিয়ে অপর-কোনো মুসলমান-ভাইয়ের ঘরবাড়ি, সহায়সম্বল, ধনসম্পদ ইত্যাদি লুটপাট করতে পারে না—আর তাদের ঘরবাড়িতেও আগুন দিতে পারে না। আর কোনো মুসলমান বিনাকারণে ভিন্নধর্মাবলম্বীদেরও হত্যা করতে পারবে না। সেই সুযোগ আধুনিক-ইসলামে নাই। নিজেদের শয়তানী-স্বার্থসিদ্ধির অভিযানকে ‘জিহাদ’ নামে অভিহিত করাও কুফরী। কোনো মুসলমান বিধর্মীদের জানমালের সর্বনাশ করতে পারবে না। তাদের স্ত্রী-কন্যাকেও বেইজ্জতি করতে পারে না। তাদের কোনো ক্ষতিও করা যাবে না। অথচ, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-নির্বিশেষে সব মানুষের উপরই জুলুমনির্যাতন চালানো থেকে শুরু করে ব্যভিচার, হত্যা, ধর্ষণসহ যাবতীয় অপকর্মসাধন করেছে। এবার তোমরাই বলো: এরা কি মুসলমান হতে পারে? অবশ্যই না, এবং না-না-না। আর কক্ষনো না। আর তাই, আমার উত্তর হচ্ছে: একমাত্র কাফের-মোনাফেক ও মোশরেকদের দ্বারাই এইসব নির্লজ্জ পাপাচার ও অপকর্মসাধিত হতে পারে। এধরনের কোনো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে কোনো মুসলমানের সংশ্লিষ্টতা নাই।
পঞ্চমত; কোনো মুসলমান-ভাইকে কাফের বা হিন্দু বা বিধর্মী বলে গালিগালাজ করা এবং তাদের যেকোনো ধরনের তিরস্কার করাও কুফরী। সেই একাত্তরে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির শয়তানী-পাকিস্তানরাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের দেশের এইসব পাপাচারী-ব্যভিচারী রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটি’র সদস্যরা বাঙালি-মুক্তিযোদ্ধা তথা হাজার-হাজার মুসলমান-মুক্তিযোদ্ধাদের ‘হিন্দু’ বলে গালিগালাজ করেছিলো। তারা নিজেরা কাফের হয়ে বাংলাদেশের প্রকৃত মুসলমানদের উপর ‘হিন্দু-নামের অপবাদ’ দিয়ে আমাদের বীরমুক্তিযোদ্ধাদের অসীম বীরত্ব ও সাহসিকতাকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিলো, এবং আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শের লড়াইসংগ্রামকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় সেদিন এইসব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী—বাংলাভাষা, বাংলাদেশ ও বাঙালি-জাতির বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলো। তারা নিজেরা ছিল সবসময় কাফের। আর তাই, আমাদের পবিত্র মুক্তিযুদ্ধকে বানচাল করার জন্য ওরা সেদিন পবিত্র ইসলামধর্মকে অপব্যবহার করে একের-পর-এক আল্লাহ, রাসুল ও ইসলামবিরোধী উক্তি করে নিজেরাই কাফের হয়ে আজও কুফরীধর্মপালন করে চলেছে। এদের বিচার—আমাদের পবিত্র ইসলামধর্ম অনুমোদন করে। আমাদের পবিত্র ইসলামধর্মে এদের শাস্তিরও বিধান রয়েছে।
ষষ্ঠত; বেহেশতো মহান আল্লাহর কুদরতী-হাতের সংরক্ষিত বিষয়। এখানে, কেউই হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। মহান আল্লাহই একমাত্র বলতে পারেন ‘কে বেহেশতে যাবে, আর কে যাবে না’। আর পবিত্র কুরআনপাঠ করে আমরা জানতে পারি কোন্-কোন্ কাজ করলে আমাদের বেহেশতো পাওয়া সহজ হবে। কথিত ‘আশারায়ে মুবাশশারা’র কথাও শোনা যায়—অবশ্য এটি মহান আল্লাহ ঘোষণা করেননি। কারণ, আমরা শুধু বলতে পারি: একমাত্র আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশধরগণই বেহেশতীজান্নাতী। এছাড়া, মহান আল্লাহ দুনিয়ায় আর-কারও জন্য বেহেশতের কথা ঘোষণা করেননি। অবশ্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশ্বস্ত সাহাবাগণ ও মহান আল্লাহর ওলীগণের ব্যাপারে এই কথা প্রযোজ্য হবে না। তাঁরা মহান আল্লাহর মদদপ্রাপ্ত। তাঁদের কোনো চিন্তা বা ভয় নাই। কিন্তু দুনিয়ার অপরাপর কোনো সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কাউকে ‘দোজখীজাহান্নামী’ আর কাউকে ‘বেহেশতীজান্নাতী’ বলা সম্পূর্ণ কুফরী। ১৯৭১ সালে, এই যুদ্ধাপরাধীরা গায়ের জোরে দম্ভোক্তি করেছিলো: ‘পাকিস্তান-রক্ষার জন্য জীবন দিলে—মানে, কেউ রাজাকারি করতে গিয়ে মারা গেলেও সে শহীদী-দরজালাভ করতে পারবে’! কতবড় জঘন্য কথা! ছিঃ ছিঃ ছিঃ, লজ্জায় মরে যাই। একথা কোনো মুসলমান বলতে পারে? একাত্তরের চিহ্নিত রাজাকাররা পাকবাহিনীর সঙ্গে নিজদেশের মানুষহত্যা থেকে শুরু করে আমাদের মাবোনদের ধর্ষণসহ মানুষের ঘরবাড়ি লুটপাট, তাতে অগ্নিসংযোগ করা, পরের জায়গাজমিদখল করা ইত্যাদি অপকর্মে জড়িত ছিল। এসব অন্যায়-পাপাচার তথা গোনাহের কাজ করতে গিয়ে কেউ মারা গেলে তাদের বেহেশতো দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলো—ওই নাপাক, পাপিষ্ঠ, কমজাত ও বেজন্মা যুদ্ধাপরাধীরা। আমরা জানি: বেহেশতো সরাসরি মহান আল্লাহর হাতে। আর এই বেহেশতো নিয়ে নোংরা রাজনীতি করেছিলো একাত্তরের সবচেয়ে নাপাক—নাজাসাতে গালীজা জাতীয় প্রাণীবস্তু যুদ্ধাপরাধীগং। মহান আল্লাহর পবিত্র বেহেশতো নিয়ে এধরনের শয়তানীউক্তি করা আল্লাহদ্রোহিতার শামিল। একমাত্র ইসলামবিরোধী তথা আল্লাহবিরোধী কাফেররাই এভাবে বেহেশতো নিয়ে নিজেদের বদখেয়ালের-বদমায়েশীর রাজনীতি করতে পারে। আর এভাবেই ওইসব শয়তান ধর্মব্যবসা করতে-করতে একসময় নিজেরা ধর্মহীন কাফের-মোনাফেক ও মোশরেকে পরিণত হয়। আমাদের পবিত্র ইসলামধর্মে এদের মতো শয়তানের কোনো ঠাঁই নাই। আর আমাদের পবিত্র ইসলামধর্ম থেকে এরা চিরতালাকপ্রাপ্ত।
সপ্তমত; ১৯৭১ সালের জাতীয় কুলাঙ্গার তথা শয়তানের জারজপুত্র রাজাকার, আলবদর, আলশামসরা ঘোষণা করেছিলো: ‘পূর্বপাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মেয়েরা পশ্চিমপাকিস্তানীদের জন্য ‘মালে গনীমাত’—অর্থাৎ ‘গনীমাতের মাল’—অর্থাৎ, যুদ্ধক্ষেত্রে লুটের মালের মতো এদেরও লুটপাট করে নিজের ইচ্ছেমতো ভোগ ও ব্যবহার করা যাবে। আর এমন নোংরা, জঘন্য, শয়তানী ও জারজ ফতোয়া তারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে প্রচার করেছিলো। এরা কতবড় কাফের! আর এরা কতবড় জালেম! তাই, এরা একাত্তর-সালে কী বলেছিলো আর কী করেছিলো—তা তোমরা আজ একবার ঠাণ্ডামাথায় ভেবে দেখো তো। নিজদেশের মাবোনকে এরা পাকিস্তানী-জানোয়ারদের হাতে তুলে দিতো ধর্ষণ করার জন্য! আর তারা নিজেরাও নিয়মিত এই অপকর্মটি করতো। তারা অহেতুক নারীদের বিরুদ্ধে ‘যৌনযুদ্ধ’ ঘোষণা করেছিলো। অথচ, আমাদের পবিত্র ইসলামধর্মে ‘ব্যভিচার ও নারীধর্ষণ’ সম্পূর্ণরূপে হারাম-নাজায়েজ-নিষিদ্ধ। এরা মহান আল্লাহর আইন অমান্য করে রাজাকার সেজে নারীধর্ষণ করতো এবং পাকিস্তানী-জারজবাহিনীকে নারীধর্ষণে সদাসর্বদা সাহায্য-সহযোগিতা করতো। আজ তোমাদের কাছে আমি সবিনয়ে ঘোষণা করছি: এরা প্রত্যেকে ছিল একেকটা আস্ত কাফের—আর এদের কেউই কখনও মুসলমান ছিল না। আরও একটা কথা মনে রাখবে: তারা ছিল আপাদমস্তক ভ-শয়তান আর লম্পট—একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-রাজাকাররা ছিল সম্পূর্ণ চরিত্রহীন। যেকোনো যুদ্ধের একটা সাধারণ নিয়মরীতি আছে। আর এই নিয়মরীতিনীতি মেনেই সবাইকে যুদ্ধপরিচালনা করতে হয়। আর তাই, পৃথিবীর সর্বত্র (এমনকি ইসলামের দৃষ্টিতেও) যুদ্ধকালীনসময় নারী, শিশু, বৃদ্ধ, ধর্মযাজক ইত্যাদি যুদ্ধের আওতাবহির্ভূত। আর পাকিস্তানীরা কিনা সেদিন ভোগবিলাসের দুর্গ, পাপের সাম্রাজ্য ও শয়তানরাষ্ট্র পাকিস্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে পবিত্র ইসলামধর্মের নামে কী সাংঘাতিক কুফরী-কথাবার্তা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করেছিলো। তারা সেদিন প্রকাশ্যে নারীধর্ষণ করতো আর নারীধর্ষণে সবসময় পাকিস্তানীদের হাসিমুখে সাহায্য-সহযোগিতা করতো। তারা নিয়মিত ব্যভিচার করতো, এবং তাদের অধীনস্ত রাজাকারদের ব্যভিচারে উৎসাহিত করতো। মূলত এ থেকেও প্রতীয়মান হয় যে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা কোনোভাবেই মুসলমান ছিল না এবং তারা আজও মুসলমান নয়। আর তারা মানুষও নয়। তার কারণ, মানুষ হওয়ার জন্য যে-সব বৈশিষ্ট্যের তথা যে-সব মানবিক গুণের প্রয়োজন তা এদের কারও মধ্যে ছিল না। এরা আদিমপশুদের সরাসরি উত্তরাধিকারী—এরা ছিল কোনো প্রাগৈতিহাসিক জীব, এবং আজও তা-ই।

আমার দৃষ্টিতে: একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা কেউই মানুষ না—মুসলমান না। এমনকি মুসলমান হওয়ার কোনো যোগ্যতাও তাদের নাই। আর মুসলমান হওয়া এতো সহজও নয়। মুসলমান গাছের আমপাতা, জামপাতা, লিচুপাতা, বেলপাতা, কলাপাতা, ধনিয়াপাতা, পুদিনাপাতা নয় যে, মুসলমান গাছে ধরে। একটা আরবি-নাম রাখলেই আর সবসময় মুখে-মুখে দুই-চারটা আরবি-শব্দ বললেই মুসলমান হওয়া যায় না। মুসলমান হতে হলে নিজের ভিতরের পশুর খাসিয়ত তথা শূয়রের খাসলত-স্বভাবকে আগে পরিবর্তন করতে হবে। মুসলমান খুব দামি আর খুব নামি আর খুব পবিত্র এক জীবাত্মার নাম—আর যে সাধনাবলে জীবাত্মা, পরমসত্তা তথা পরমাত্মার সঙ্গে মিলে যায়—আর সে নীরবে-নিভৃতে ‘ফানাফিল্লাহ’ ও ‘বাকাবিল্লাহ’র সম্মোহনী পবিত্র দরজা উন্মোচন করে আল্লাহতে মিশে যায়। সে হয় মহান আল্লাহর একজন ওলী। আর তাই, মুসলমান খুব নামি। খুন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, গণহত্যা, ধারাবাহিক গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ইত্যাদি অপকর্ম চালিয়ে কেউ যদি নিজেকে মুসলমান-দাবি করে তবে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গণআদালত বসিয়ে তাকে সরাসরি জুতাপেটা করতে হবে। ১৯৭১ সালে, দখলদার নাজায়েজ-হারাম পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনী নামক গণধিকৃত শূয়রবাহিনী ও এদেশীয় গণধিকৃত শূয়র যুদ্ধাপরাধীরা যে-পাপ করেছে তাতে কেউ যদি তাদের মুসলমান বলে তবে তাদেরও অমুসলমান বলে শনাক্ত করতে হবে। ত্রিশলক্ষ শহীদের রক্তভেজা বাংলার পবিত্র মাটিতে এইসব জীবন্ত খবিসশয়তানের কোনো ক্ষমা নাই। ১৯৭১ সালে, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান তথা আজকের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জামায়াত-শিবির এইসব পাপাচারে লিপ্ত হয়েও তারা বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নয়। বরং তারা ভিতরে-ভিতরে আবার এইসব শয়তানী-কার্যকলাপ শুরু করতে চাচ্ছে। ওদের মূল টার্গেট হচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হওয়া একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া নস্যাৎ করা। কিন্তু আমরা জেগে আছি—এই মাটিতে ওদের বিচার হবেই হবে, ইনশা আল্লাহ। আর বাংলার মাটিতে রাজাকারদের ঠাঁই হবে না।

এবার তোমরা, ইসলামবিরোধী, বাংলাদেশবিরোধী, পাকিস্তানপন্থী, পাকিস্তানের গোলামবংশ, যুদ্ধাপরাধীবংশজাত, এজিদবংশীয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী, ওহাবী, খারিজী, মওদুদীবাদী শয়তানদের সহজে চেনার কতিপয় সহজপন্থা বা সহজসূত্র জেনে নাও। যাদের মধ্যে তোমরা এইসব বৈশিষ্ট্য দেখবে সঙ্গে-সঙ্গে বুঝে নিবে এরা সেই যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী কিংবা সেই যুদ্ধাপরাধীবংশজাত নব্যরাজাকার ও ইসলামের নাম-ভাঙ্গিয়ে শয়তানীতে লিপ্ত কালশয়তানগোষ্ঠী।

১.যারা বলবে: ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তান-ভাঙ্গা ঠিক হয় নাই। পাকিস্তানই ভালো ছিল’—তারাই বাংলার চিরশত্রু রাজাকার অথবা নব্যরাজাকার। আর প্রকৃতপক্ষে, এরাই ইসলামবিরোধী এজিদবংশীয় ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী পাপিষ্ঠসম্প্রদায়।
২.যারা বলবে: ‘ভারতের চক্রান্তে-ষড়যন্ত্রে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে’—তারাই এজিদবংশীয় পাকিস্তানী-নষ্টবীজের নষ্টফসল। এরা ধুতুরাফুলের মতো আমাদের ক্ষতি ছাড়া ভালোকিছুই করতে পারবে না। এদের এই দেশ থেকে ঘাড়ধরে বের করে না দিলে এই দেশের মঙ্গলকর্ম-সাধিত হবে না। আর এদের পাপে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ চিরদিন অন্ধকারেই নিমজ্জিত হতে থাকবে।
৩.যারা বলবে: ‘মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের দালাল-ভারতের গুপ্তচর’—তারাও এজিদবংশীয় পাকিস্তানী-নষ্টবীজের নষ্টফসল। আর সহজকথায় এরা পাকিস্তানের জারজসন্তান।
৪.যারা বলবে: ‘বাংলাদেশআওয়ামীলীগ ভারতের দালাল’ কিংবা ‘রুশ-ভারতের দালাল’—তারাও সেই অভিশপ্ত এজিদবংশীয় শয়তানপুত্র ও পাপিষ্ঠসন্তান। এদের কোনো জাত-ধর্ম-চরিত্র-মনুষ্যত্ব বলে কিছু নাই। এভাবে, তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য, আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে খাটো করে দেখতে চায়। আর তাই, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে এদেরও বিচার করা অত্যাবশ্যক।
৫.যারা এখনও কথায়-কথায় বলে: ‘ভারত আমাদের শত্রু’ বা ‘ভারত আমাদের শত্রুরাষ্ট্র’—তারাই পাকিস্তানের পাপিষ্ঠসন্তান। আর তারাই এই স্বাধীন-সার্বভৌম-পবিত্র বাংলাদেশের চিরশত্রু। আর ভারত কখনওই আমাদের শত্রু নয়—বরং ভারত সবসময় আমাদের নিকটপ্রতিবেশী এবং আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে সাহায্যকারী-বন্ধুরাষ্ট্র।
৬.যারা বলে: ‘এতোকাল পরে আবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কীসের? আর এতোকাল পরে ‘কে মুক্তিযোদ্ধা’ আর ‘কে মুক্তিযোদ্ধা নয়’—তা বাচবিচার করে লাভ কী?’—তারা অতিশয় অভিশপ্ত সেই এজিদবংশীয় রাজাকার অথবা রাজাকারসন্তান।
৭.যারা বলে: ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা-ঘোষণা করেননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-ঘোষণা করেছে অমুক-তমুক কিংবা জিয়াউর রহমান।’—তারা আর কেউ নয়—পাকিস্তানবাদী এজিদবংশীয় লোক এবং বাংলাদেশের চিরশত্রু।
৮.যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ‘গণ্ডগোল’ বা ‘গণ্ডগোলে’র বা ‘গোলমালে’র বছর বলে অভিহিত করে তারাও এজিদবংশীয় রাজাকার।
৯.যারা বলে ‘মুক্তিযুদ্ধতো শেষ—এখন এসব নিয়ে আলোচনা করে লাভ কী?’—তারাও নিশ্চিতভাবে পাকিস্তানের দালাল ও দালালচক্রের চিরকালীন অংশীদার।
১০.যারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে না—তারা সরাসরি রাজাকার কিংবা রাজাকারপরিবারের সন্তান। আর এরা সাপের চেয়েও ভয়ংকর কোনো কালসাপ। এদের ক্ষমা করা ভয়ানক পাপ।
১১.যারা বাঙালি-জাতির জীবনে সংঘটিত পবিত্র ঘটনাবলী ২১-এ ফেব্রুআরি, ২৬-এ মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর ইত্যাদি পালন করে না—আর আমাদের এসব দিবসপালনকে ‘বিদআত ও হারাম’ বলে তারা আর কেউ নয়, তারা চিহ্নিত পাকিস্তানীবংশোদ্ভূত রাজাকার কিংবা রাজাকারপরিবারের পাপিষ্ঠসন্তান। এরা শয়তানের জারজসন্তান। এরাই ইসলামবিরোধী এজিদবংশীয় ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী পাপিষ্ঠচক্র।
১২.যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট-সংঘটিত বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত-বার্ষিকীতে আনন্দফুর্তি করে এবং এই দিনটিকে ‘জাতীয় শোকদিবস’ হিসাবে পালন করে না, তারাও রাজাকার কিংবা রাজাকারপরিবারের সন্তান কিংবা নব্যরাজাকার। আর এদের মধ্যে মনুষ্যত্বের লেশমাত্র নাই। এরা এখনও মহান আল্লাহর চেয়ে শয়তানপাকিস্তানকে বেশি ভালোবাসে।
১৩.যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ভালোবাসে, নীরবে তাদের জন্য চোখের জল ফেলে আর তাদের সঙ্গে জোটবেঁধে শয়তানী করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার চক্রান্ত করে তারাও এই বাংলার চিহ্নিত এজিদবংশীয় যুদ্ধাপরাধী কিংবা যুদ্ধাপরাধীবংশজাত বাংলাদেশবিরোধী নব্যরাজাকার। এই শয়তানচক্র কোনোদিনও ভালো হবে না। এরা যতোই ধার্মিক-সাজার চেষ্টা করুক না কেন এদের শয়তানী কখনও থামবে না। আর শয়তান কখনও ভালো হয় না। তাই, সময় থাকতে শয়তাননিধন করাই উত্তম। তাছাড়া, ভেবেচিন্তে সময়-সুযোগ মতো এই শয়তানদের দমন না করলে একদিন জাতির সমগ্র ভবিষ্যৎ-বংশধরদের নিকট আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। আর আমাদের এই বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যই এইজাতীয় শয়তানদের সবসময় প্রতিহত ও প্রতিরোধ করতে হবে। আর এই মহৎকাজ করতে গিয়ে আমাদের কখনও-কোনোদিন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগলে চলবে না। বরং দেশের স্বার্থে আমাদের সবসময় দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকতে হবে। আর মনে রাখতে হবে: ‘আমরা ভাঙ্গবো কিন্তু মচকাবো না’।
১৪.যারা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত মানে না কিংবা জাতীয় সঙ্গীত ভালোবাসে না কিংবা আমাদের পবিত্র জাতীয় সঙ্গীত কখনও গায় না কিংবা বলে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত তো হিন্দুর লেখা—তারা অতিশয় পাপিষ্ঠ, পামর ও দুর্বৃত্ত। এরাও শয়তানের জারজপুত্র। আর এরা এজিদবংশীয় ইসলামবিরোধী অপশক্তি। এদের হাত থেকেই আজ আমাদের দেশজাতি ও ধর্ম দুটোই বাঁচাতে হবে। আর বাংলাদেশের ‘জাতীয় সঙ্গীত’ ও ‘জাতীয় পতাকা’—এই দুইটি বস্তুকে যারা ভালোবাসে না এবং মানে না—তারা কোনোভাবেই বাঙালি ও মুসলমান না।
১৫.যারা এখন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে ‘সস্তা-সেন্টিমেন্ট’ বা ‘পুরাতন কাঁসুন্দি’ বলে তারা নিশ্চিতভাবে খাদ্যলোভী শিয়াল, শকুন, কুকুর, শূয়র ও হায়েনা কিংবা তদাপেক্ষা নিকৃষ্ট কোনো প্রাণী—যার নাম আমার জানা নাই। এরা স্বয়ং ইবলিশশয়তানের চেয়েও ভয়াবহ ও ভয়ংকর।
১৬.যে বা যারা বা যে-গোষ্ঠী বলবে: ‘শেখ মুজিব তো রাজাকারদের সাধারণ ক্ষমাঘোষণা করেছেন বা শেখ মুজিবই তো রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়েছেন’। তারা এদেশের চিহ্নিত রাজাকার এবং চিহ্নিত জাতীয় কুলাঙ্গার। এরা এভাবে সবসময় কুপরিকল্পিতভাবে আমাদের বঙ্গবন্ধুর নামে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর তাই, একাত্তরের মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে এদেরও সমান বিচার ও সমান শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তবেই এই জাতি পাপমুক্ত হতে পারবে। আজকাল লাগামহীন কথা বলতে-বলতে এদের জিহ্বা অতিরিক্ত লম্বা হয়ে গেছে। জাহান্নামের আগুনের কাঁচি দ্বারা এদের জিহ্বা কেটে দিতে পারলে খুব ভালো হতো। বাংলাদেশরাষ্ট্রের স্বার্থে এইজাতীয় চিহ্নিত শয়তানদের কখনওই ক্ষমা করা যাবে না।
১৭.যারা বলবে: ‘এতোদিন পরে রাজাকারদের বিচারের নামে দেশকে বিভক্ত করা হচ্ছে’—তারাও রাজাকারের বাচ্চা রাজাকার। তোমরা আরও মনে রাখবে: তারা সবসময় রাজাকার আর রাজাকারবংশজাত নতুনধারার নব্যরাজাকার কিংবা নতুনমাত্রার বাংলাদেশবিরোধী কুলাঙ্গার।
১৮.যারা বলে: ‘গোলাম আযম, সাঈদী, নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লারা আলেম—তারা যুদ্ধাপরাধী নয়’।—এরা বাংলাদেশের আদি-আসল রাজাকার এবং রাজাকারবংশের প্রকৃত উত্তরাধিকারী। আর এদের নির্মূল করা আমাদের সকলের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব।
১৯.যারা বলবে: ‘আওয়ামীলীগসরকার পক্ষপাতমূলকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে’—তারাও এই বাংলার আদি-আসল রাজাকার। বাংলাদেশের মাটিতে এদের কখনও-কোনোভাবে ক্ষমা করা যাবে না। এরা আমাদের বাংলাদেশের সবসময়ের জন্য ভয়াবহ কালসাপ—কালশয়তান। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে এদেরও নিধন করতে হবে।”

অধ্যাপক লিটু মিয়া আবার একটুখানি থামলেন। এবার তিনি তার পাশে রাখা গেলাস থেকে জলপান করলেন। তারপর সবার দিকে চেয়ে তিনি মুচকি হেসে বললেন, “তোমাদের হয়তো শুনতে কষ্ট হচ্ছে!”

তার কথা শুনে সঙ্গে-সঙ্গে আবু কায়েস বললো, “স্যার, খুশি হচ্ছি। আরও বলুন। আমরা আরও শুনতে চাই।”
তারপর আবু কায়েস চারপাশে সবার দিকে তাকিয়ে তাদের সম্মতি জানতে চায়। সবাই ঘাড় নেড়ে তার কথায় সম্মতি জানাতে কালবিলম্ব করলো না।

(চলবে)

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
রচনাকাল: ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
০৪/০৯/২০১৮

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 6 ঘন্টা 16 min ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর