নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সিয়ামুজ্জামান মাহিন
  • মৃত কালপুরুষ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সলিম সাহা
  • নির্যাতিতের দীর...
  • সুখ নাই

নতুন যাত্রী

  • মোঃ হাইয়ুম সরকার
  • জয় বনিক
  • মুক্তি হোসেন মুক্তি
  • সোফি ব্রাউন
  • মুঃ ইসমাইল মুয়াজ
  • পাগোল
  • কাহলীল জিব্রান
  • আদিত সূর্য
  • শাহীনুল হক
  • সবুজ শেখর বেপারী

আপনি এখানে

কুরবানী ও ধার্মিক ষাঁড়


চাইনিজ বন্ধুর আমন্ত্রণে অবশেষে চায়না ইস্টার্ন এয়ারে ফ্ল্যাই করে প্রথমে কুনমিং শেষে সাংহাই বিমানবন্দরে নামলাম ঠিক বিকেল ৪টায়। উ সি চ্যাং নামের আমার চাইনিজ বন্ধু জিন বিজ্ঞানী স্ত্রী চিয়াং ফি সহ উপস্থিত রইলো আমাকে তার অফিস কাম বাড়ি কাম গবেষণা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে। আমরা দুজনে পেছনে বসলাম, আর পুরো পথ ড্রাইভ করলো চ্যাং এর স্মার্ট স্ত্রী ফি। উ সি চ্যাংয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল হংকংয়ে একটা বাণিজ্য সেমিনারে বছর দশেক আগে আমার। সেই সূত্রে পরিচয় গভীর হলো এ জিন বিজ্ঞানির সাথে। ২০১৬ এর ঈদের ৪-দিন আগে সে ঢাকা বেড়াতে এলো তার স্ত্রীকে নিয়ে। আমার সাধ্যমত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখালাম তাকে। কুরবানী ঈদের আগের দিন তাকেসহ গেলাম গরুর হাঁটে। তার সখ কুরবানীর গরু কেনা থেকে কুরবানী পর্ব পর্যন্ত পুরো উৎসবটা নিবিঢ়ভাবে দেখবে সে স্ত্রীসহ!
:
কুরবানীর দিন আমার পরিবারে কেনা ৯৬-হাজার টাকার লাল ষাঁড় কুরবানীতে হাত লাগিয়ে সরাসরি ব্যাপারটা উপভোগ করতে চাইলো উ সি চ্যাং। কিন্তু বিশালদেহী ষাঁড়কে শিং ও ২-পায়ে রশি লাগিয়ে কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছিলনা। ড্রাইভার রুবেলসহ তার পরিচিত ৭/৮ জন বন্ধুরা মিলে বাঁশের বিরাট টুকরোর সাহায্যে অনেক কষ্টে মাটিতে শোয়ানো হলো ষাঁড়কে। উ সি চ্যাংসহ ৮/৯-জন চেপে ধরে রাখরো কুরবানীর ষাঁড়কে। দুতিন জনে ষাঁড়ের উপর চড়ে বসে রইলো, যাতে তা উঠতে না পারে। গলা আর শিং চেপে ধরে রাখলো দুজন। আল্লাহু আকবর বলে ছুরি চালানোর সময় ৪-পায়ের ব্যর্থ লাথি দিয়ে উঠার চেষ্টা করলো ষাঁড়। কিন্তু ৯-বলবান পুরুষের প্রচল শক্তিতে চেপে রাখার কারণে রক্তাক্ত ষাঁড় আর উঠতে পারলো না। গলনালি ছিন্ন হওয়ার পর সবাই যখন ষাঁড়টা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে যাচ্ছিল, ঠিক সে সময় প্রচন্ড বিকৃত গো গো শব্দ করে প্রায় দাঁড়িয়ে গেল মৃতপথযাত্রী ষাঁড়টা। মুহূর্তে রুবেলদের ৮-জনের গ্রুপ আবারো বাঁশ দিয়ে ধরাশায়ী করে ফেললো ষাঁড়কে। কয়েক মিনিট ব্যর্থ পা ছুঁড়ে, গলায় গো গো শব্দ করে, চোখ বড় বড় করে উল্টে, জিভ বের করে মারা গেল কুরবানীর ষা্ঁড়।
:
এসব দৃশ্য দেখে চীনা নাস্তিক বন্ধু উ সি চ্যাং বেশ ভয় পেয়ে গেল। সে জানতে চাইলো, আল্লাহ তথা গডের উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত এ পশু এমন আচরণ করছে কেন? ধর্মের কাজে কুরবানীর জন্যে কেনা ষাঁড় তথা পশুর এ আচরণে রীতিমত বিস্মিত হলো সে। দুদিন পর ঢাকা ছাড়ার প্রাক্কালে আমাকে কথা দিলো, চীনে ফিরে গিয়ে জিন বদলের মাধ্যমে এমন ধর্মভীরু ষাঁড় উদ্ভাবনের চেষ্টা করবে সে, যে ষাঁড় এমন "বেআদব" হবেনা, বরং কুরবানীর সময় মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে একজন প্রকৃৃত ধার্মিকের মত নিজেকে উৎসর্গ করবে সে পশু।
:
চীনে ফিরেই সব কাজ বাদ দিয়ে নিজের বহু পূর্বে আবিস্কৃত ষাঁড়ের জিনম রহস্য নিয়ে আবার বসলো। স্ত্রী চিয়াং ফি সহ সারা দিন-রাত কাজ করলো জিনের নির্দেশনামূলক রহস্যগুলো উদঘাটন করতে। জিন ও ডিএনএ-র সেটিং অদল বদল করে কয়েকবার নানাবিধ পরীক্ষা নীরিক্ষা করলো। শেষে এমন ষাঁড় বের করলো যা "আল্লাহু আকবর" ধ্বনি শুনলেই সমস্ত শক্তি রহিত হয়ে মরার মত পড়ে যাবে। ইমেইলে আমাকে তার এমন আবিস্কৃত ষাঁড়ের বিস্তারিত জানালো এবং ভিডিও কলিংয়ে আবিস্কৃত ষাঁড়ের শোয়ার দৃশ্য দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেল আমার পরিবারের সকল সদস্যের। অবশেষে আমাকেই বিস্তারিত জানাতে হলো, আসলে একটা কুরবানীর ষাঁড়ের ধর্ম অনুসারে প্রকৃত আচরণ কি হওয়া উচিত। এবং আমার নির্দেশনা পেয়ে সেভাবেই সে আবার জিন ও DNA-কে পুন: সজ্জিত করে বানালো তার এ নতুন আবিস্কৃত "হাইব্রিড ষাঁড়"। যার "প্রিমিয়ার শো" দেখাতেই মূলত আমাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসা সাইহাই থেকে ৪০-কিমি দূরের তার নিজের গবেষণা কেন্দ্র কাম বাড়িতে।
:
প্রথমে তাত্ত্বিক সবকিছু বোঝানোর পর সরাসরি সবকিছু দেখাতে শুরু করলো বন্ধু উ সি চ্যাং। তার গবেষণাগারে মোট ৮টি বিভিন্ন আচরণ ও বৈশিষ্ট্যের ষাঁড় বানিয়ে রেখেছে সে। আমার পাঠানো ১০০% নির্দেশনামত তৈরিকৃত ষাঁড়টি এবার সামনে আনলো সে। যা দেখতে বেশ তেলতেলে। বাঁকানো বিরাট দুটো শিং। বড় বড় চোখ। লাল টকটকে রঙ। প্রায় ৪০০ কেজি ওজনের ১০০-অশ্বশক্তির এ ষাঁড়কে সহজে কেউ কাবু করতে পারবে না। কেবল "কুরবানী" ও "আল্লাহু আকবর" শব্দ বিশেষ আরবি রীতিতে উচ্চারণ করলে, এ বলশালী ষাঁড় নিজে নিজে কুরবানী হতে শুয়ে পড়বে, গলা বাড়িতে দেবে নিজেকে উৎসর্গ করতে। কোন বলপ্রয়োগ কিংবা মানুষ ছাড়া একজন মাত্র ইমাম ছুরি চালিয়ে এ "নীরিহ" ধার্মিক ষাঁড়কে কুরবানী করতে পারবে। কোনরূপ পা ছোঁড়াছুটি করবে না, যে কারণে ইমাম বা আশেপাশের লোকজনের গায়ে কোন রক্ত ছিটবে না। খুব শান্তভাবে চোখ বুজে আল্লাহর পথে মারা যাবে ষাঁড়টি, যাতে এলাকার নরম দিলের মানুষের গোঙানি শুনে হার্ট এ্যাটাক তথা শিশুদের উপর কোন প্রভাব না পড়ে। তা ছাড়া পশু প্রেমিক বা কুরবানী বিদ্বেষীরাও যাতে কোন সমালোচনা না করতে পারে মানুষের "পশুত্ব" নিয়ে।
:
এবার পরীক্ষার পালা। বিশেষ স্থানে ষাঁড়কে এনে হাতে ধারালো ছুরি নিয়ে "কুরবানী" ধ্বনি উচ্চারণ করলাম আমি। কিন্তু ষাঁড় একটুও মানলো না আমার নির্দেশ। বন্ধু উ সি চ্যাঙয়ের নির্দেশমত এবার একসাথে "কুরবানী" ও "আল্লাহু আকবর" ধ্বনি উচ্চারণ করলাম। না এবারো কোন কাজ হলোনা। ষাঁড় বরং চোখ ত্যাড়া করে ফোঁস ফোঁস করে রাগি চোখে তাকাতে রইলো আমার দিকে। টেনশনে পড়লো ক্লোন বিজ্ঞানী উ সি চ্যাঙ! কেন ষাঁড় কথা শুনছে না! আমাকে সরিয়ে নিজে ধারালো ছুরি হাতে এবার "কুরবানী" কথাটা উচ্চারণ করতেই সার একদম চলে গেল তার কাছে। এবার কুরবানী + আল্লাহু আকবর বলতে ষাঁড় একদম শুয়ে পড়লো মাটিতে। টানটান গলাকে মাটিতে লুটিয়ে শুয়ে রইলো চোখ বুজে। মানে ১০০% সে প্রস্তুত কুরবানীর জন্য।
:
এ দৃশ্যে টেনশন মুছে হা হা করে হেসে উঠলো চীনা জিন বিজ্ঞানী উ সি চ্যাঙ। বললো - বুঝেছি সমস্যাটা। আসলে আমাদের চীনা উচ্চারণে কুরবানী ও তোমাদের বাঙালি উচ্চারণে কুরবানী এক রকম নয় বলে এমনটা হয়েছে। এখন থেকে জিন আর DNA-গুলোকে আরেকটু এদিক সেদিক সাজিয়ে দিতে হবে। যাতে বাংলা বা অন্য কোন ভাষার উচ্চারণেও কুরবানীর ষাঁড়ের উদ্দীপক একই থাকে।
:
এমন ধর্মভীরু, কুরবানী উপযোগী ক্লোন ষাঁড়ের বাজার ধরতে চীনারা উ সি চ্যাঙ থেকে তার মেধাসত্ব কিনে নিলো খুব শীঘ্রই। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তুান ও মধ্যপ্রাচ্যের কুরবানীর বাজার ধরতে চীনারা এমন লাখে লাখে পশু উদপাদন শুরু করলো্। পুরো কুরবানীর বাজার চলে গেলো চীনাদের হাতে। কেবল ষাঁড় নয় চীনারা এমন ধর্মভীরু ভেড়া, দুম্বা, ছাগল এবং উট উৎপাদন করে পুরো মুসলিম দেশগুলো ভরিয়ে দিতে প্রস্ততি নিলো। কুরবানীর আগে মুসলিম দেশগুলোতে চীন উৎপাদিত এমন হাইব্রিড ধর্মভীরু পশুতে ভরে দেয়ার প্লান করলো তারা।
:
বাংলাদেশে এমন পশু বাজারজাত করণের আ্গে আসন্ন কুরবানীর সপ্তাহ খানেক আগে উ সি চ্যাঙ এলো ঢাকাতে। বিশাল সাংবাদিক সম্মেলন করে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠে যখন উ সি চ্যাঙ পরীক্ষামূলক "ডামি" কুরবানী করে দেখালো লাখো মুসলিম মুসল্লির সামনে। উপস্থিত দেশের হাজার হাজার ওলামায়ে কেরাম বলতে থাকলেন, সব-ই মহান আল্লাহর কুদরত। জগতের সব আবিস্কার নিহিত রয়েছে পবিত্র কুরআনে। যা চীনা আল্লাহর বান্দা উ সি চ্যাঙ এর মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তা বাস্তবায়ন করেছেন। হয়তো আল্লাহর কুদরতে এ দীনি ভাইর নাম মুহম্মাদ কুদ্দুস আলী হতে বেশিদিন সময় লাগবেনা। চলুন সবাই উ সি চ্যাং এর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে মুহম্মাদ কুদ্দুস আলী বানিয়ে দেন।
:
উপস্থিত হাজারো মুসল্লি একসঙ্গে গলা কাঁপিয়ে ধ্বনি তুললো "আল্লাহ আকবর"! হঠাৎ এমন তীব্র ধ্বনিতে কাচা ঘুম ভেঙে কাঁপতে থাকি আমি। ঘরির দিকে চেয়ে দেখি রাত ৩-টা। বুকে থু_থু দিয়ে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করে মনে মনে বলতে থাকি - "কি স্বপ্ন দেখলাম! এটা কি শয়তানে দেখালো? নাকি নেক ফেরেস্তার!

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 13 ঘন্টা 46 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর