নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নরসুন্দর মানুষ
  • সিয়ামুজ্জামান মাহিন
  • সলিম সাহা
  • নির্যাতিতের দীর...
  • সুখ নাই

নতুন যাত্রী

  • মোঃ হাইয়ুম সরকার
  • জয় বনিক
  • মুক্তি হোসেন মুক্তি
  • সোফি ব্রাউন
  • মুঃ ইসমাইল মুয়াজ
  • পাগোল
  • কাহলীল জিব্রান
  • আদিত সূর্য
  • শাহীনুল হক
  • সবুজ শেখর বেপারী

আপনি এখানে

ভুঁড়ি নাকি পুরুষের অহংকার


অধিকাংশ বাঙালি পুরুষই নিজের শরীর নিয়ে সচেতন নয়। কিন্তু অন্যের শরীর নিয়ে তাদের অনেক চিন্তা-দুশ্চিন্তা-ভাবনা। তারা অন্যের শরীর নিয়ে যতোটা সমালোচনা করতে আগ্রহী, ততোটাই নিজের দিকে তাকাতে অনাগ্রহী।

আমাদের সমাজব্যবস্থা যেহেতু প্রভুদের দখলে, তাই নিজের দিকে লক্ষ্য রাখা খুব একটা জরুরী নয়। কিন্তু বিপরীত লিঙ্গের শরীর নিয়ে তারা বড্ড সচেতন। কোথায় মাংস বেশি, কোথায় চর্বি বেশি, কে কতো মোটা, কে কতো চিকন, কার কোন অংশে মাংস বেশি ও কম, শরীরের কোন অংশ বেশি চোখে পড়ে, কার শরীরে কোথায় দাগ, চামড়া কতোটা ঝুলে পড়েছে, আরও কতো কী ঝুলে পড়েছে, রঙ, উচ্চতা এইসব তো আছেই।

কিন্তু পুরুষেরা নিজের বেলায় এতো কিছু লক্ষ্য করতে চায় না। প্রভুরা বোধ করে, দুনিয়া যেহেতু প্রভুদের দখলে সেহেতু প্রভুদের শরীর হাতির মতো হলেও তা মানানসই। কিন্তু বিপরীত লিঙ্গের শরীর নির্ধারণের দায়িত্ব তাদের এবং এ-ক্ষেত্রে তারা যদিও সফল।

পুরুষ মানেই সেরা, পুরুষ মানেই শ্রেষ্ঠ। শ্রেষ্ঠদের এতো সময় নেই যে তারা নিজেদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে গবেষণা করবে। কিন্তু তাদের যথেষ্ট পরিমাণ সময় থাকে- যৌন বিকৃত মানুষজনের কাছ থেকে নারীর শরীর নিয়ে বিজ্ঞবিজ্ঞ জ্ঞান আহরণ এবং পরবর্তীতে বিতরণ করার। পুরুষের খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না নারীকে জিজ্ঞেস করার যে তার শরীরটি নারীর কাছে আকর্ষণীয় কি না? কিন্তু একজন নারীর বারবার জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন পড়ে। এই অন্ধভূমিতে পুরুষ যেহেতু শ্রেষ্ঠ; এবং নারী দমিত, তাই নারীর একাধিকবার জেনে নিতে হয় তার প্রাণপ্রিয় মানুষ সন্তুষ্ট কি না!

অধিকাংশ পুরুষই নিজের পেটের মেদ বা ভুঁড়ি কমানোর চেষ্টা করে না। তাদের মধ্যে কোন আগ্রহই দেখা যায় না। তারা ভুঁড়ির মতোই বুক ফুলিয়ে গর্বের সাথে বলে ভুঁড়ি পুরুষের অহংকার। এটি মূলত নিম্নমানের পুরুষতান্ত্রিক চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ। অথচ প্রেমিকা না স্ত্রীর ভুঁড়ি হলে তা পুরুষেরা মেনে নিতে পারে না। এ-ক্ষেত্রে কটু বাক্য শোনাতে বিন্দুমাত্র সময়ও নষ্ট করে না। প্রাণপ্রিয় পুরুষের কটু বাক্য হজম করতে করতে নারীরা পূর্বের রূপ ফিরে পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও অধিকাংশ সময়ে প্রভুর হৃদয় জয় করতে পারে না। বয়সের সাথে সাথে যখন নারীর শরীর ভাঙতে শুরু করে, তখন প্রভুরা ঘর থেকে বেড়িয়ে সূর্যের খোঁজে হাঁটতে শুরু করে।

নারীর ধৈর্য্য ক্ষমতাকে প্রভুরা বাহবা দেয়। যদিও এই বাহবা নারীদের কোন প্রয়োজন নেই। নারীরা যদি পুরুষের মতো বাছবিচার শুরু করতো তাহলে অধিকাংশ পুরুষের কপালে কোন নারীই জুড়তো না।

Comments

সিয়ামুজ্জামান মাহিন এর ছবি
 

অনন্য আজাদ,
আমি একমত ভাইয়া

সিয়ামুজ্জামান মাহিন (স্যাম)- The Om'ni
===============
প্রাণে প্রাণ মিলাবই ......

 
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
 

এটাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চিন্তাধারা। এই মনোভাবের পরিবর্তন করতে পারে একমাত্র নারীরাই। তবে তাদেরকে আরো প্রগতিশীল হত হবে। নারীমুক্তির আন্দোলন যেদিন প্রতিটি সমাজের কুসংস্কার ভাঙতে পারবে সেদিন পুরুষ আর নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করবে না।

-------- মৃত কালপুরুষ

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অনন্য আজাদ
অনন্য আজাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 6 দিন ago
Joined: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর 4, 2015 - 10:56অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর