নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নির্যাতিতের দীর...
  • সিয়ামুজ্জামান মাহিন
  • মৃত কালপুরুষ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সলিম সাহা

নতুন যাত্রী

  • মোঃ হাইয়ুম সরকার
  • জয় বনিক
  • মুক্তি হোসেন মুক্তি
  • সোফি ব্রাউন
  • মুঃ ইসমাইল মুয়াজ
  • পাগোল
  • কাহলীল জিব্রান
  • আদিত সূর্য
  • শাহীনুল হক
  • সবুজ শেখর বেপারী

আপনি এখানে

বিষাক্ত রাজনীতি:- ত্রয়োদশ পর্ব-



পূর্বোক্ত পর্বের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি এ বঙ্গের মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীদের চাটুকারি মনোবৃত্তির ফলে প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হচ্ছে না বরং প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ না হওয়ার ফলে শাসকদল আরও অরক্ষিত ভাবে স্বৈরতান্ত্রিক সরকার চালাচ্ছে। তাই বর্তমান দিনের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সমাজিক অবস্থা প্রতিনিয়ত নিম্নাভিমুখী। তবে সামগ্রিক ভাবে বিশ্লেষণ করলে এটা সুস্পষ্ট যে শাসক দল মোটেই পরিতৃপ্ত নয় বরং এদের রক্তচাপ ক্রমবর্ধমান। তাই সমস্ত সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টিকোণ অন্য দিকে পরিবর্তিত করার লক্ষ্যে শাসকদল 'ধর্মান্ধতা শিল্প' শুরু করেছে। শাসকদল এটা বোঝে- মানুষকে একবার ধর্মের অফিম খাইয়ে দিলে তারা বোধবুদ্ধিশূন্য বিবর্জিত প্রাণীতে পরিণত হয়। আর এদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়। এই মনস্কামনা হেতু মমতা ব্যানার্জি সরকার তীব্রভাবে মোল্লা তোষণ শুরু করে। ইমাম ভাতা, মোয়াজ্জিন ভাতা, তিন তালাকের পক্ষে কথা বলা, পীর মোল্লাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা, এগুলি করে মুসলমানদের এই বার্তা প্রেরণ করা হচ্ছে যে আমি তোমাদেরই লোক এবং আমার থেকে মুসলিমদরদি ভূভারতে আর একটি নেই।

বলাই বাহুল্য এই ধরণের কর্মকান্ডের ফলে সাধারণ মুসলমানদের জীবনের মৌলিক কোন পরিবর্তন হয়নি বরং এই মৌলবাদী কট্টরপন্থীদের উত্থানের ফলে সাধারণ মুসলিম মহিলা ও প্রগতিশীল মুসলিম সমাজের জীবন দুর্বিসহ হয়েছে। তাই তিন তালাক বিতর্কে সমাজ আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত একদিকে কট্টরপন্থী সমাজ ও অন্যদিকে প্রগতিশীল সমাজ। যদিও শেষ পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের রায়ে প্রগতিশীল মুসলিম সমাজ জয়যুক্ত হয়েছে কিন্তু এখনও বহু সংগ্রামের পথ বাকি আছে। কারণ মুসলিম সমাজ মৌলিক দিক থেকে অনেক বেশি কট্টরপন্থী আসলে যে ধর্মে প্রশ্ন করলেই ঈমান নষ্ট হয় এবং অবিশ্বাসীদের মৃত্যু ফরজ; সেখান থেকে মুক্তচিন্তার প্রসার হওয়া কতটা কঠিন তা সহজেই অনুমান করা যায়। যদিও বর্তমান দিনে ইন্টারনেটের হাত ধরে মুক্তচিন্তার ধীরে ধীরে প্রসার হচ্ছে, আশাবাদী আগামী দিনে এই কট্টরপন্থা অতীত স্মৃতি হয়েই থাকবে!

তবে যাইহোক এই রকম বার্তা দেওয়ার ফলে সমাজে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প প্রসারিত হচ্ছে। হিন্দুদের মনে হচ্ছে মমতা ব্যানার্জি আসলে মুসলিমদের মুখ্যমন্ত্রী এবং আমরা বঞ্চিত। আপাত অর্থে এটি মনে হলেও শেষ পর্যন্ত দেখা যায় তাঁর মোল্লাতোষণ নীতি মুসলিম সমাজের কাছে গরলসুধা পানের সমতুল্য। তবে এই বোধ থেকেই হিন্দুদের মনে হতে থাকে আমাদের এবার একত্রিত হওয়ার প্রয়োজন আছে; আর এই বোধের উন্মেষ ঘটার ফলে হিন্দুরা দলে দলে হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলির ছাতার তলায় আসছে। জনমানসে এই রকম বার্তা প্রসারিত হওয়ার ফলে স্বভাবতই বঙ্গে বিজেপির মত দলের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন বিজেপির প্রভাব বৃদ্ধির ফলে মমতা ব্যানার্জি ভীত হয়ে বলতে শুরু করেছেন- "আমি সবচেয়ে বড় হিন্দু"। তাই হিন্দু ভোটারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে তিনি গরুর বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন, পুরোহিত সম্মেলন, রাম নবমী পালন, হনুমান জয়ন্তি পালন এবং সাম্প্রতিক ঘোষণা প্রতিটি পুজো কমিটিকে দশ হাজার টাকা করে সাহায্য দেবেন। এখন প্রশ্ন হল এতগুলি পুজো কমিটিকে এত টাকা অনুদান দেওয়ার অর্থ কি? ওই পুজো কমিটিগুলি কি এই অর্থ ছাড়া পুজো সম্পন্ন করতে সক্ষম নয়? ওই টাকায়(প্রায় 28 কোটি টাকা। তথ্যসূত্র: এই সময়) যদি কিছু বেকার ছেলেমেয়েদের চাকরি দেওয়া যেত তাহলে কি তা রাজ্যের পক্ষে মঙ্গলকর হোত না? ক্ষমতায় আছে বলে জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা এভাবে খরচ করার নৈতিক অধিকার কি রাজ্য সরকারের আছে? আসলে পুরো সরকার মেলা, খেলা, উৎসব নিয়েই মেতে আছে কিন্তু নতুন চাকরি বা সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য ডিএ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের অর্থ থাকে না! কথায় কথায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক বঞ্চনার অভিযোগ করেন কিন্তু প্রাপ্য অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি?

আসলে তিনি এটা সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন এই সরকারের জনভিত্তি বলে কিছু নেই তাই ধর্মিয় সুড়সুড়ি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের মাধ্যমে যেনতেন প্রকারনে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা। আর মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীদের কথা কি আর বলব এই অমেরুদণ্ডী স্বার্থজীবীরা যেনতেন প্রকারণে প্রতিটি কথাকে সমর্থন করে চলেছেন। মমতা ব্যানার্জির কর্মকান্ড থেকে বোঝা যায় তিনি সফটহিন্দুত্ব লাইটি নিয়েছেন। ঠিক যেমনটি করেছিলেন রাজীব গান্ধী প্রথমে সাহাবানু মামলার রায় পরিবর্তন করে মৌলবাদীদের খুশি করার চেষ্টা করেন এবং পরে রাম মন্দির বাবরি মসজিদ গেটের তালা খুলে দিয়ে হিন্দু কট্টরপন্থীদের খুশি করার চেষ্টা; তার কি ভয়াবহ ফল হয়েছিল তা গোটা দেশ জানে! বর্তমান মমতা ব্যানার্জি সরকার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করছেন। প্রথমে মোল্লাদের তোষণ করে মুসলিম কট্টরপন্থীদের খুশি করার চেষ্টা এবং এখন বিজেপির ক্রমবর্ধমান উত্থানের ফলে হিন্দুত্ববাদীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে- রাম নবমী, হনুমান জয়ন্তি, পুরোহিত সম্মেলন, গো দান কর্মসূচি ইত্যাদির আয়োজন করছেন। এক শ্রেণীর তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের পক্ষথেকে এগুলিকে সর্বধর্ম সমন্বয়ের প্রচেষ্টা ইত্যাদি বলে দেখানোর প্রচেষ্টা চললে ও আসলে যে এটি ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বর্হিপ্রকাশ তা দিবালোকের মত সুস্পষ্ট। তাঁর এই কর্মকান্ডের ফলে উভয় ধর্মের কট্টরপন্থীদের অবস্থান শক্ত হচ্ছে এবং এ বঙ্গের জনসাধারণের মধ্যে খুবই সুকৌশলে সাম্প্রদায়িকতার সমাগম হচ্ছে।

এতদিন পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু মুসলমান, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একসঙ্গে পাশাপাশি সহাবস্থানের নীতি ছিল; তাঁর এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ফলে সমাজ আজ বহুধা বিভক্ত। এক সম্প্রদায়ের মানুষ অপর সম্প্রদায়ের মানুষকে ঘৃণা ও অবিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখছে। এগুলি পুরোই রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে সংগঠিত করা হচ্ছে। যার ফল স্বরূপ আমরা দেখতে পাই মাত্র এই কয়েক বছরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বহু স্থানে ছোটবড় নানা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখা যায়। যেমন- মালদহের কালিয়াচক, ধূলাগড়, তেহট্ট, বাদুড়িয়া ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে বলা যায় এই সরকারের এই জঘন্য ধর্ম রাজনীতির ফলে পশ্চিমবঙ্গ এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মত অবস্থানে আছে এবং যে কোন মুহূর্তে এতে বিস্ফোরণ হতে পারে। ইতিহাসের আলোকে বলা যায় এই ধরণের সম্প্রদায়িক নীতির ফলে দেশ বা জাতির কখন ও মঙ্গল হয়নি এবং এই ধরণের সরকারের পতন এই ভাবেই হয়।

এই দল কথায় কথায় বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ আনেন। বিজেপি দলের একটি ঘোষিত সাম্প্রদায়িক নীতি ছিল কিন্তু রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলটি যে ধর্মনিরপক্ষেতার লেবাস পরে যে সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে চলেছে তা ভয়াবহ। আসলে ঘোষিত শত্রুর থেকে ছদ্মবেশী শত্রুদের সঙ্গে লড়াই করা অনেক বেশি কঠিন। ক্ষমতাসীন দলের এক সাংসদের দৈনিক এক সংবাদপত্র বিক্রি হয়। এই ধর্মান্ধ সংবাদপত্র একই সঙ্গে নারী স্বাধীনতা বিরোধী, উস্কানিমূলক এবং মুক্তচিন্তা বিরোধী। এই সাম্প্রদায়িক সংবাদপত্রের জন্য মানুষের মননে সংকীর্ণতা ও সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য এই বঙ্গের মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা মোদী ও হিন্দুত্ববাদীদের কঠোর সমালোচনা করলে ও মৌলবাদীদের উত্থান ও রাজ্য সরকারের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির তোষণ দেখতে পায় না। তাই বঙ্গের এই অবস্থানের জন্য মিডিয়াও বুদ্ধিজীবীরা কম দায়ি নয়!

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিচার করলে এটা সুস্পষ্ট ভাবে বলা যায় যে বঙ্গে বিজেপির মত দলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যেত না তারা আজ এক বৃহৎশক্তিতে পরিণত হয়েছে, তাদের এই উত্থানের মূল কারণ হল মমতা ব্যানার্জির মৌলবাদ তোষণ নীতি। ঠিক এখানেই উলুবেড়িয়া লোকসভা ও নোয়াপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলের গুরুত্ব। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অভিমুখ আগামী দিনে কোন দিকে যাবে তা এখান থেকেই নির্ধারিত হয়, শুধুতাই নয় সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ও দেখা যায় তৃণমূল প্রথম এবং বিজেপি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। বাম শক্তিগুলি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং কংগ্রেস চতুর্থ শক্তি। এই নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায় বামেরা ক্ষয়িষ্ণু এবং বিজেপি বর্ধিষ্ণু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুসারে প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখি প্রতিক্রিয়া থাকে। তাই বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে জনমানসে একথা প্রচলিত তৃণমূল কংগ্রেসের মৌলবাদী ও সন্ত্রাসের রাজনীতির সমুচিত জবাব একমাত্র বিজেপির মত চরমপন্থী দলই দিতে পারবে। সেখানে বাম চিন্তা চেতনার কথা বড্ড ফিঁকে মনে হয়। বামেরা যেখানে তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম সেখানে তারা লড়াইয়ের ময়দানে থাকবে কি করে? তাই বর্তমান দিনে বামেরা নিজেরদের নেতৃত্বের দুর্বলতা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঠিক মোকাবিলা না করতে পারলে তাদের পক্ষে ফিরে আসা বেশ কঠিন!

চলবে ...

তথ্যসূত্র:-
1. আনন্দবাজার পত্রিকা।
2. এই সময়।
3. বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 43 min ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর