দুঃস্বপ্ন : বোবা ভুত নয়, বাস্তবতা। এবং ভুত!

মাঝে মাঝেই দুঃস্বপ্ন দেখি। খুব
ভয়ংকর হয় এগুলো। আমার সাথে
যেগুলো হয় তার অধিকাংশই হয়
আমাকে শক্তিশালী কেউ মারতে
আসছে, কোন অদৃশ্য শক্তি আমাকে ভয়
দেখাচ্ছে অথবা অনেক উচুঁ থেকে
আমি পরছি তো পরছিই…
যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন ধরফড়িয়ে উঠি।
অনেকেই এগুলোকে বোবায় ধরা,
বোবা জ্বিন এর আছর বলে থাকে।
আমার এসবে বিশ্বাস নেই মোটেই।
মাঝে মাঝেই এসব স্বপ্ন দেখার পরে
ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলাম। কারণ
কী হতে পারে? আমি কিছু কারণ খুঁজে
পেয়েছি। কিংবা খোঁজার চেষ্টা
করেছি। এটা আমার সাথে মিলে
গেছে। আপনার সাথে মিলতেও
পারে, আবার নাও মিলতে পারে।
একান্তই ব্যক্তিগত মতামত এগুলো।
আমি খেয়াল করেছি, প্রতিটা দুঃস্বপ্ন
ভেঙ্গে যাওয়ার পরে চারপাশে এমন
একটা পরিবেশ থাকে যার জন্য আমার
ঘুম ভাঙ্গাটা প্রয়োজন ছিল। এগুলো খুব
ছোট ছোট কারণ। যেমন: অতি মাত্রায়
গরম, কিংবা ঠান্ডা, আশেপাশে
কোথাও প্রচন্ড শোরগোল ইত্যাদি। এই
চারপাশের ছোট খাটো ঘটনা গুলোতে
আমাদের ঘুম ভাঙ্গার কথা। কিন্তু
আমরা গভীর ঘুমে থাকলে আমাদের
তৎক্ষণাৎ ঘুম ভাঙ্গেনা। তখন, আমাদের
মস্তিষ্ক চেষ্টা চালাতে ঘুম
ভাঙ্গানোর। ব্যর্থ হলে মস্তিষ্ক তার
স্মৃতি থেকে এমন একটি ঘটনা উপস্থাপন
করে যা আমাদের ঘুম ভাঙ্গতে বাধ্য
করে। এবং এই ঘটনা গুলোর অধিকাংশই
হয় ভয়ংকর। এগুলো আমাদের জীবনে
দেখা বা ঘটে যাওয়া
অথবা সিনেমায় দেখা কোন ঘটনাও
হতে পারে।
কয়েকটা উদাহরণ দিচ্ছি-
১. গত পরশু রাতের ঘটনা। আমাদের
বাসার সামনের গলিতে এক লোক
প্রতি রাতে সেহরির টাইমে গলির
ভেতর দিয়ে দৌড়ায় আর বলে…
জাগোওও… সেহরির সময় হইছে ইত্যাদি
ইত্যাদি। এবং এটা বলে প্রচণ্ড জোরে।
তো হঠাৎ শুনলে আসলে বোঝার উপায়
থাকেনা যে উনি কী বলছে। এইসময়ে
আমি স্বপ্নে দেখছিলাম আমি একটা
রাস্তায় পরে রয়েছি। চারদিক থেকে
বাস আসতেছে। আমার ওঠা খুব দরকার।
কিন্তু আমি পারছি না। ইনফ্যাক্ট,
হাতপা নাড়াতেই পারছি না! প্রচণ্ড
শব্দে হর্ন বাজছে। আমি নিশ্চিত মারা
যাচ্ছি! এ অবস্থায় ঘুম ভেঙে যায়। উঠে
জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি ঐ
লোকটা দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে কী যেন
বলছে। কিছুক্ষণ পরে বুঝতে পারি আসল
ঘটনা।
২. একবার স্বপ্নে দেখি আমার হাত-পা
ঠান্ডায় কালো এবং ছোট হয়ে
যাচ্ছে! আমি কিছুই করতে পারছি না!
পাশে কে যেন দাঁড়িয়ে অট্টহাসি
হাসছে। কী যে খারাপ অবস্থা! আমি
নড়তে পারছি না। কথা বলতে পারছি
না। ছটফট করতে করতে ঘুম ভাঙে। বড় বড়
নিশ্বাস নেই। পরে দেখি, ফুল স্পিডে
ফ্যান চলছে, বৃষ্টির পরে হওয়ার রুম
পুরোপুরি ঠান্ডা!ফ্যান অফ করে ঘুমিয়ে
পরলাম।
৩. মাঝে মাঝে পা এর উপর পা তুলে
ঘুমানোর অভ্যাস আছে। একবার স্বপ্নে
দেখি উচুঁ বিল্ডিং এর ছাদ থেকে
পরে যাচ্ছি। ঘুম ভাঙার পরে বুঝলাম
যে পা টা উপরে ছিল সেতা ঘুমের
ঘোরে আলগা হয়ে হঠাৎ পরে
গিয়েছিল!
আমার ক্ষেত্রে আমি এভাবে প্রতিটা
দুঃস্বপ্নের কারণ খুঁজে পাই। আপনিও
জিন ভুতের চিন্তা মাথা থেকে
ঝেড়ে ফেলে ভাবুন। অবশ্যই চিন্তা
শক্তি এবং মানসিক শক্তি থাকলে
কারণ খুঁজে পাবেন।
ভুত নিয়ে অনেকের অনেক কৌতূহল।
শুনেছি অনেক গবেষণাও হয়েছে। তবে,
আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার
কারণেই এট্য বিশ্বাস করিনা।

অভিজ্ঞতাটা শেয়ার করছি।
আমার বাড়ি গ্রামে। অজো পাড়াগাঁ বলতে যা বুঝায় তাই। বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি। একবার রাত প্রায় দেড়টার মতো হবে। বন্ধুদের সাথে পূজা দেখে ফিরছিলাম। ফেরার পথে যে যার বাড়ি চলে যাচ্ছে। এক জন করে কমে যাচ্ছে। সর্বশেষ আমি। প্রায় দেড় কি.মি পথ বাকি। বন্ধুমহলে সাহসী হিসেবে নাম ছিল। তাই একা ছাড়তে কেউ দ্বিধা করেনি। তাছাড়া জোৎস্না রাত। অবশ্য হাতে টর্চ লাইট ছিলোনা, প্রয়োজনও ছিলনা।

আপন মনে হাটছিলাম। হঠাৎ, সামনে দেখি কে যেন দাঁড়িয়ে! রাস্তার মোড় ছিল ওটা। তাই দেখে মনে হচ্ছিল ঠিক রাস্তার মাঝে দাঁড়ানো! দেখলে মনে সাদা কাপড় পরা এক বুড়ি দাঁড়িয়ে মাথা নাড়ছে এদিকওদিক। আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন একটু ভয় পেতে শুরু করলাম। পাশে রেইনট্রির ডাল কাটা ছিল। একটা হাতে নিয়ে পা বাড়ালাম। কী আর করার? রাতে বাড়ি না ফিরলে তো বাপের পিটুনি নিশ্চিত! বাড়ি ফিরতেই হতো। কিন্তু দু পা এগুতেই দেখি, বুড়ির মাথা নাড়ানো বন্ধ! সাহস নিয়ে আবার এগুতে থাকলাম। আবার, বুড়ির মাথা নাড়ানো শুরু! একেবারে কাছে গিয়ে ব্যাপারটা স্পষ্ট হলো। ওখানে কোন বুড়িটুরি ছিলনা! একটা কলাগাছ। তার সাদা একটা পাতা। জোৎস্নার আলোতে এবং বাতাসে মিলে এমন একটা অবয়ব সৃষ্টি হয়েছিল।

এই ঘটনাকে রঙচঙ মাখিয়ে ভুত বলে চালিয়ে দেয়া যেত। আমার মনে হয় এরকমই হয়।

5 total views, 1 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of