যৌনতা!

যেহেতু যৌনতা একটা মানুষের জৈবজীবনে অপরিহার্য অংশ এবং একাগ্রতার বিষয়, সেহেতু আড়ালে থাকাই ভালো। আড়ালেই স্বচ্ছন্দ। মুক্ত যৌনতায় আড়ালের বিকল্প আছে নাকি ? কুকুর, বিড়াল, গরু , ছাগল ইত্যাদি পশুদের মতো আচরণ করার কোনো মানে নেই।
?_nc_cat=0&efg=eyJpIjoiYiJ9&oh=94edc8b61cf24459af9e2e556da744b6&oe=5B8D59E9″ width=”500″ />

যা যেখানে শোভনীয়, তা সেখানেই হোক। পশু নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট ঋতুতে যৌনতা করে থাকে। পশু মূলত যৌনতা করে প্রজননের সময়ে, যৌনসুখের জন্য নয়। মানুষ বেসিক্যালি যৌনতা করে যৌনসুখের লোভে। মানুষের যখন-তখন যৌনসুখ পেতে ইচ্ছে করে। যৌনতায় মানুষের সময় নির্দিষ্ট না-থাকলেও, স্থান নির্দিষ্ট। মানুষ যখন-তখন যৌনতায় লিপ্ত হলেও; যত্রতত্র যৌনতায় লিপ্ত হতে পারে না। তাই মানুষকে আড়াল খুঁজতে হয়। কারণ মানুষ মনে করে তাঁর যৌনতা একটা প্যাশন, একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। শুধু দুজনেই উপভোগ করতে চায়, নিজেদের মধ্যে বিলীন হতে চায়। আবেশে স্বর্গলোকে হারিয়ে যেতে চায়। জনসমক্ষে বা পাবলিক প্লেস মানুষের যৌনতার ক্ষেত্র নয়। এক্ষেত্রে একজন সুস্থ মানুষ সংযমের পরিচয় দেয়।

বাৎসায়নের কামসূত্র অনুযায়ী যৌনতার অঙ্গ হল যথাক্রমে আলিঙ্গন, চুম্বন, মর্দন, চোষণ, মৈথুন। অতএব এগুলি প্রকাশ্যে করা মানে অসংযম যৌনতা, আধুনিকতা নয়। এর ফল মারাত্মক হতে বাধ্য। একজন প্রেমিক-প্রেমিকা যে আলিঙ্গনাদি করে তা অবশ্যই যৌনতার টানেই সংঘটিত হয়। যৌনতা না-থাকলে তো যে-কোনো পুরুষ যে-কোনো নারীকেই আলিঙ্গনাবদ্ধ করতে পারত। দু-দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যে আলিঙ্গন করে, তাতে কোনো যৌনতা থাকে না। থাকে সৌজন্য, থাকে প্রথা। কারণ দু-দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কেউ কারোর প্রমিক-প্রেমিকা নয়। রাষ্ট্রপ্রধানরা আলিঙ্গন করার সময় অনেকক্ষেত্রেই একে অপরের বুক পর্যন্ত স্পর্শ করে না।

প্রতিটি মানুষের যৌনতা করার অধিকার আছে, যদি তা আইনসম্মত হয়। আইনসম্মত হলেও সেই যৌনতা প্রকাশ্যে করা যায় না। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে রাষ্ট্র যৌনতার অধিকার দিয়েছে কেবলমাত্র বৈধ যুগলকে, যাঁরা স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচিত। বৈধতা থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী-স্ত্রী প্রকাশ্যে যৌনমিলন করতে পারে না। বৈধতা থাকা সত্ত্বেও যদি স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন যৌনতা থেকে বিরত থাকে, তাহলে অপরপক্ষ অন্যের বিরুদ্ধে ডিভোর্স ফাইল করতে পারে। অতএব বৈধ সম্পর্কের বাইরে কোনো নরনারী যদি যৌনতা (প্রকাশ্যে বা আড়ালে) করে, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েই করতে হয়। এমন যৌনতায় যে ঝুঁকি আছে, তা ভুক্তভোগীমাত্রই বিলক্ষণ জানেন। পত্র পত্রিকা থেকে অনেক কিছু জানা যায়।

অস্বীকার করবেন কোন অজুহাতে ?

আজকাল কলিকাতার এবং ঢাকার পার্কগুলিতে সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারে না। সদরঘাট থেকে উত্তরা সবখানে একই চিত্র — খোলা আকাশের নীচে খুল্লামখুল্লা যৌনতা সম্পন্ন হয়।

কী হয় না সেখানে !

আলিঙ্গন থেকে যৌনমিলন সবই হয়। সব হয় সাধারণের চোখের সামনেই। এখন সবার হাতে হাতে ক্যামেরা সহ মোবাইল। মোবাইলে বন্দি হয়ে যাচ্ছে সেইসব যৌনতার চলচ্চিত্র। আপলোড হয়ে যাচ্ছে পর্নসাইটগুলিতে। এরকম লাখো লাখো পার্কপর্ন মজুত হচ্ছে পর্নসাইটগুলিতে। প্রতিদিন। পর্নসাইটগুলি কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা করে নিচ্ছে অসংযমী প্রেমিক-প্রেমিকাদের অজান্তেই। এই যে মেট্রোতে প্রেমের আবেশে একে অপরকে লেপটে থাকছে, এ দৃশ্যও মোবাইল বন্দি হয়ে যাচ্ছে। মোবাইল থেকে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ছে সেই ভিডিও।

যৌনতা আমরা এড়াতে পারি না। এড়াবই-বা কেন ? যৌনতা অবশ্যই চাই, তা সে বৈধই হোক কিংবা অবৈধ। ( তবে Illegal সেক্স সব ধর্মে নিষিদ্ধ) । তাই বলে জনসমক্ষে ? নিজেদের পণ্য করার পণ করে ? যৌনতা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই অতি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ও জৈবিক ব্যাপার নিয়ে এত নিষেধাজ্ঞা ট্যাবু বিরক্তিকর মনে হলেও লাগামটা টানতেই হয়। তবে যেহেতু আমরা পশু নই। তাই স্থান-কাল-পাত্র ব্যাপারটাও মাথায় রাখতে হবে, কারণ সমাজের নিজস্ব কিছু নিয়ম আছে। আমরা সেই সমাজে থাকি, যে সমাজের মানসিকতা বৈচিত্র্যে পূর্ণ। এক সরলরেখায় চলে না। তাই একজনের দৃষ্টিতে যা শ্লীল মনে হয়, অন্য জনের কাছে তা তীব্র অশ্লীল মনে হতেই পারে।

আবেগ সামলাতে না-পারলে যৌনতা করুন এবং তা ব্যক্তিগত স্তরেই রাখুন। আপনার যৌনতা অন্যকে দেখাতে বাধ্য করতে পারেন না, অন্যেও দেখতে বাধ্য নয়। আপনারা কোনো আচরণ যদি অন্যের বিরক্তি বা অস্বস্তির কারণ হয়, তা থেকে আপনাকে বিরত থাকতেই হবে। সবার স্ক্রুলিং এক নয়, এটা মাথায় রেখে করুন। দর্শকদের বয়সটা গুরুত্ব দিন। সমবয়সীদের আড্ডায় এসব করুন, কেউ কিচ্ছু বলবে না। অসমবয়সী লোকালয়ে এসব করলে প্রত্যাঘাত আসতেই পারে। আপনার ওপেন সেক্স যদি আপনার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়, তাহলে প্রত্যাঘাতটাও স্বাভাবিক আমাদের সমাজব্যবস্থায়।

ভেবে দেখুন।

13 total views, 1 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of