ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর নিজেই ছিল মুনাফিক , মুর্তাদ

কোরানের আল্লাহ ও তার নবী মুহাম্মদের আদেশ নির্দেশ উপদেশ যারা পালন ও অনুসরন করে তারাই হলো মুসলমান। যারা মুহাম্মদের আদেশ নির্দেশ উপদেশ ও সিদ্ধান্ত মানবে না , বরং বিপরীত কথা বলবে , তারা শুধু মুনাফিকই না , বরং তারা হলো মুর্তাদ। সেই দিক দিয়ে খলিফা হযরত ওমর হলো একজন খাটি মুনাফিক ও মুর্তাদ উভয়ই।

কোরানের আল্লাহ ও তার নবী মুহাম্মদের আদেশ নির্দেশ উপদেশ যারা পালন ও অনুসরন করে তারাই হলো মুসলমান। যারা মুহাম্মদের আদেশ নির্দেশ উপদেশ ও সিদ্ধান্ত মানবে না , বরং বিপরীত কথা বলবে , তারা শুধু মুনাফিকই না , বরং তারা হলো মুর্তাদ। সেই দিক দিয়ে খলিফা হযরত ওমর হলো একজন খাটি মুনাফিক ও মুর্তাদ উভয়ই।

প্রথমেই আমরা দেখ নিচের সহিহ হাদিসটা —

তিরমিজি(ইফা), হাদিস নং- ৮৭৮. কুতায়বা (রহঃ) ……. ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ন হয়েছিল তখন সেটি ছিল দুধ থেকেও শুভ্র। মানুষের গুণাহ- খাতা এটিকে এমন কালো করে দিয়েছে। – মিশকাত ২৫৭৭, তা’লীকুর রাগীব ২/১২৩, আল হাজ্জুল কাবীর, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

তিরমিজি(ইফা) , হাদিস নং- ৯৬২. কুতায়বা (রহঃ) …… উমায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) চাপাচাপি করে হলেও হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামনী বায়তুল্লাহর এই দুই রুকনে যেতেন। আমি একদিন তাঁকে বলাম, আপনি এ দুটি রুকনে ভীড়ে চাপাচাপি করে হলেও গিয়ে উপস্থিত হন কিন্তু অন্য কোন সাহাবী তো ইমন চাপাচাপি করে সেখানে যেতে দেখি না। তিনি বললেন, যদি আমি এরূপ চাপাচাপি-ধাক্কাঁধাক্কি করি তাতে দোষ কি? আমি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এ দুটো রুকন স্পর্শ করণে গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায় তাঁকে আরো বলতে শুনেছি, কেউ যদি যথাযথ ভাবে বায়তুল্লাহর সাতবার তাওয়াফ করে একটি ক্রীতদাস করার মত ছওয়াব হয়। আমি তাঁকে আরো বলতে শুনেছি, তাওয়াফ করতে গিয়ে এমন কোন কদম সে রাখেনা বা তা উঠায়না যদ্বারা তার একটি গুনাহ মাফ না হয় এবং একটি নেকী লেখা না হয়। – তা’লীকুর রাগীব ২/১২০, সহিহ ইবনু মাজাহ ২৯৫৬, মিশকাত ২৫৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]

উপরোক্ত দুইটা সহিহ হাদিস পরিস্কারভাবেই বলছে যে কেউ হজরে আসওয়াদ বা কাল পাথর স্পর্শ করলে , তার পাপের কাফফারা হয়ে যায় বা মাফ হয়ে যায়। এটাই মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত । ঠিক সেই কারনেই সেই মুহাম্মদের আমলেও মুসলমানরা কাল পাথরকে চুম্বন বা স্পর্শ করার জন্যে হুড়োহুড়ি করত। কারনটাও বোধগম্য।বর্তমান কালে হজ্জ করতে যাওয়া মুসলমানদের মধ্যে কাল পাথরকে চুম্বন বা স্পর্শ করার জন্যে কি পরিমান উন্মাদ হয়ে যায় , সেটা সবাই বর্তমানে টেলিভিশনের কল্যানে দেখতে পারে। এতটাই উন্মত্ত হয়ে পড়ে তারা যে , মাঝে মাঝে পদপিষ্ট হয়ে অনেক মুসলমান মারাও গেছে। অথচ , মুহাম্মদের সেই সিদ্ধান্তের বিরোধী কথা বলছে মুহাম্মদের সবচাইতে প্রভাবশালী সাহাবি, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর , সেটা দেখা যাক নিচের হাদিসে—

তিরমিজি(ইফা), হাদিস নং- ৮৬২. হান্নাদ (রহঃ) …… আবিস ইবনু রাবীআ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে হাজরে আসওয়াদে চুমা দিতে দেখেছি। তিনি তখন বলছিলেন, আমি জানি তুমি একটি পাথর, তবুও তোমাকে আমি চুম্বন করছি। যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চুম্বন দিতে না দেখতাম তবে তোমাকে আমি চুমা দিতাম না। – ইবনু মাজাহ ২৯৪৩, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

সহিহ বুখারি(ইফা), হাদিস নং-১৫০২। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।

হযরত ওমর খুব পরিস্কারভাবেই বলছে , কাল পাথরের কল্যাণ বা অকল্যাণ করার কোনই ক্ষমতা নেই। তার মানে সে খুব দৃঢ়তার সাথেই এই কাল পাথর সম্পর্কিত মুহাম্মদের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করছে। বিরোধী কথা বলছে। বিরোধী সিদ্ধান্ত দিচ্ছে।

এখন আমাদের প্রশ্ন হলো – ইসলামের নবী কে ? হযরত মুহাম্মদ , নাকি হযরত ওমর ? কার আদেশ নির্দেশ সিদ্ধান্ত ইসলাম ? মুহাম্মদের , নাকি ওমরের ? যদি কেউ হযরত মুহাম্মদের সিদ্ধান্তের বিরোধী কথা বলে , সে কি আর মুসলমান থাকতে পারে ? তখন সে কি হয়ে যায় ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হাদিসের সূত্র: www.hadithbd.com

2 total views, 1 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of