আলেম ওলামারা ভালমতই জানে ইসলাম একটা শয়তানের ধর্ম , পর্ব-১

মুহাম্মদ নিজেকে আব্রাহামিক ধারায় ইব্রাহিম , ইসহাক , ইয়াকুব , মূসা ইত্যাদির পর দাবী করে সে হলো সর্বশেষ নবী। কোরান হাদিসের বক্তব্য অনুযায়ী দেখা যাবে , মুহাম্মদ হলো আসলে ভন্ড নবী , আর তার ইসলাম হলো শয়তানের ধর্ম।মোল্লা, আলেম ও রাজনৈতিক নেতারা কিন্তু বিষয়টা ভালভাবেই জানে , কিন্তু তাহলে কেন তারা ইসলামকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় ? সেটাই বলা হবে এই সিরিজে।

প্রথমেই আমাদেরকে জানতে হবে , মুহাম্মদ ইব্রাহিম , আইজাক , ইয়াকুব , মূসা ইত্যাদির ধারায় নিজেকে নবী দাবী করেছিল। আর তাই সে দাবী করেছিল , উক্ত সব নবীর কাছে যে ঈশ্বর বানী পাঠাত , সেই ধারায় তার কাছেও বানী পাঠিয়েছিল , এবং সে হলো শেষ নবী। ভাল কথা। নিজেকে নবী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে মুহাম্মদ কোরানে যেসব কথা বলেছিল , সেসব একটু দেখা যাক —

সুরা বাকারা -২: ৮৭: অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মোজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তিদান করেছি। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।

সুরা বাকারা-২: ৮৯: যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সেই বিষয়ের(পূর্ববর্তী কিতাব তৌরাত ও ইঞ্জিল) সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত। অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছল যাকে তারা চিনে রেখেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল। অতএব, অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।

সুরা বাকারা-২:৯১:যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তা মেনে নাও, তখন তারা বলে, আমরা মানি যা আমাদের প্রতি অবর্তীণ হয়েছে। সেটি ছাড়া সবগুলোকে তারা অস্বীকার করে। অথচ এ গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের(তৌরাত ও ইঞ্জিল) যা তাদের কাছে রয়েছে। বলে দিন, তবে তোমরা ইতিপূর্বে পয়গম্বরদের হত্যা করতে কেন যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে?

সুরা বাকারা-২:৯৭:আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয়-যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের( তৌরাত ও ইঞ্জিল) এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা।

সুরা বাকারা-২:১০১: যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল আগমন করলেন-যিনি ঐ কিতাবের( তৌরাত ও ইঞ্জিল) সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল-যেন তারা জানেই না।

সূরা আল ইমরান-৩:৩-৪: তিনি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন সত্যতার সাথে; যা সত্যায়ন করে পূর্ববর্তী কিতাবসমুহের।নাযিল করেছেন তাওরত ও ইঞ্জিল, এ কিতাবের পূর্বে, মানুষের হেদায়েতের জন্যে এবং অবতীর্ণ করেছেন মীমাংসা। নিঃসন্দেহে যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশীল, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

কোরানের বানীর নামে মুহাম্মদ বার বার আগের কিতাব তৌরাত ও ইঞ্জিলকে সত্যায়ন করে , তারপর যা দাবী করছে সেটা দেখুন —

সুরা আল ইমরান-৩: ৮১: আর আল্লাহ যখন নবীগনের কাছ থেকে অস্বীকার গ্রহন করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রসূল আসেন তোমাদের কিতাবকে সত্য বলে দেয়ার জন্য, তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তার সাহায্য করবে।

অদ্ভুত দাবী !মুহাম্মদ বার বার কোরানের বানীর নামে আগের তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবকে সত্যায়ন করে বা সত্য বলে স্বীকার করে , তারপর দাবী করছে , সেই কারনেই সে নবী। এই হিসাবে তাহলে মুহাম্মদের আগের সব ইহুদি ও খৃষ্টান সবাই নবী হবে। কারন তারা সবাই তো তাদের নিজ নিজ কিতাবকে সত্য বলে বিশ্বাস করে।

এখন প্রশ্ন হলো – সত্যায়ন কাকে বলে ? যদি আপনি আপনার শিক্ষাগত সনদ পত্র কোন গেজেটেড অফিসার দ্বারা সত্যায়ন করতে চান , তাহলে কি করেন ? তাহলে আপনার মূল সনদপত্র ও তার ফটোকপি সাথে করে নিয়ে সেই অফিসারের কাছে যেতে হবে , তখন সেই অফিসার মূল সনদপত্র ও ফটোকপি চেক করে যদি দেখে , যে তারা হুবহু এক , দাড়ি কমা অক্ষর কোথাও কোন ভুল নেই , তাহলেই একমাত্র সে আপনার ফটোকপিকে সত্যায়িত করবে। তাহলে মুহাম্মদ যে বার বার কোরানের বানীর নামে তৌরাত ও ইঞ্জিলকে সত্যায়ন করছে , তার অর্থ কি দাড়াল ? অর্থ দাড়াল এই যে , মুহাম্মদের সময়কালে ইহুদিদের কাছে যে তৌরাত এবং খৃষ্টানদের কাছে যে তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব ছিল , তারা যে সেই হাজার হাজার বা শত শত বছর আগ থেকে হুবহু একই ছিল সেটাই মুহাম্মদ কোরানের বানীর নামে স্বীকার করে নিচ্ছে , সত্য বলে স্বীকার করছে।

আর বলা বাহুল্য, ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে বর্তমানে যে তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব আছে , তা সেই মুহাম্মদের সময়কালের তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবের হুবহু কপি। অথচ বর্তমানে যখন মুসলমানরা ইসলাম সম্পর্কিত কোন প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারে না , তখন তাদের মোল্লাদের শিখিয়ে দেয়া বুলি –” তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব বিকৃত”– তোতাপাখির মত এটা আওড়াতে থাকে।

উল্লেখ্য – তৌরাত ও ইঞ্জিল এই দুটি কিতাবকে একত্রিকরন করে যে কিতাব প্রকাশ করা হয় , সেটাকেই বাইবেল বলে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় , সিংহভাগ মুসলমানই জানে না আসলে বাইবেল কিতাবটা কি জিনিস। তাই তারা সারাদিন তোতাপাখির মত বলতে থাকে -” বাইবেল বিকৃত” অথচ তারা জানেই না বাইবেল জিনিসটা কি।

সুতরাং মুসলমানদের জানা উচিত , যখন তারা বলে বাইবেল বিকৃত , তখন বস্তুত: তারা তাদের মুহাম্মদ ও কোরান উভয়কেই অস্বীকার করে। তাদের আরও জানা উচিত , কেন মোল্লারা তাদেরকে শিখিয়েছে বাইবেল বিকৃত। কারনটা আর কিছু না – বাইবেলের বানীকে আল্লাহর বানী হিসাবে স্বীকার করে নিলে পরিশেষে মুহাম্মদ হয়ে যাবে একজন ভন্ড নবী তথা শয়তানের দুত , এবং ইসলাম হয়ে যাবে আসলে শয়তানের ধর্ম। এটা ইসলামী আলেম ও মোল্লারা খুব ভাল করেই জানে। জানে বলেই তারা সর্বদাই মুসলমানদের কাছ থেকে এই সত্যটা লুকানোর জন্যেই সর্বদা তোতা পাখির মত প্রচার করে – বাইবেল বিকৃত।

আলেম ও মোল্লারা কেন সারাক্ষন মিথ্যাচার করে বলে যে – বাইবেল বিকৃত? কারন আর কিছুই না, আলেম ও মোল্লাদের কাছে ইসলাম আসলে একটা ব্যবসা ও পেশা। আর রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ইসলাম হলো রাজনৈতিক হাতিয়ার। তাদের আয় উপার্জন ও রাজনৈতিক সাফল্য ইসলামের ওপর নির্ভরশীল। তাই তারা যদি উপলব্ধিও করে যে ইসলাম একটা আসলে শয়তানের ধর্ম ,তাহলেও তাদের করার কিছু নেই , বেঁচে থাকার জন্যে তারা তো আর কিছু শেখে নি ও জানে না। তাই বাধ্য হয়েই তারা ইসলামকে শয়তানের ধর্ম জেনেও সেটা গোপন করে , মানুষকে অন্ধকারে রেখে , তাদের জীবিকা অর্জন করে থাকে।

চলবে =======================

5 total views, 1 views today

1
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
0 Comment authors
Rajib Biswas Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Rajib Biswas
পথচারী
Rajib Biswas

I need to learn this book
I need to learn this book