আলেম ওলামারা ভালমতই জানে ইসলাম একটা শয়তানের ধর্ম , পর্ব-২

প্রথম পর্বে দেখানো হয়েছে , মুহাম্মদের কোরান কিভাবে বার বার পূর্ববর্তী কিতাব তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব যা মুহাম্মদের সময়কালে ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে ছিল তাদেরকে সঠিক ও সত্য বলেছে। এরপর মোল্লারা, তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা যদি বলে , তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব বিকৃত , তাহলে তারা তো সোজা সুজি কোরানকেই অস্বীকার করছে। কোরানকে অস্বীকার করে , তারা কিভাবে মুসলমান থাকে ? সাধারন মুসলমানরা কি বুঝতে পারে যে মোল্লারা ও তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা বস্তুত: তাদেরকে বিভ্রান্ত করছে ? মিথ্যাচার করে তাদেরকে ভুল পথে চালিত করছে ? তারা কি কখনই তাদের মাথা খাটাবে না ? জানবে না ?


প্রথম পর্বে দেখানো হয়েছে , মুহাম্মদের কোরান কিভাবে বার বার পূর্ববর্তী কিতাব তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব যা মুহাম্মদের সময়কালে ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে ছিল তাদেরকে সঠিক ও সত্য বলেছে। এরপর মোল্লারা, তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা যদি বলে , তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব বিকৃত , তাহলে তারা তো সোজা সুজি কোরানকেই অস্বীকার করছে। কোরানকে অস্বীকার করে , তারা কিভাবে মুসলমান থাকে ? সাধারন মুসলমানরা কি বুঝতে পারে যে মোল্লারা ও তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা বস্তুত: তাদেরকে বিভ্রান্ত করছে ? মিথ্যাচার করে তাদেরকে ভুল পথে চালিত করছে ? তারা কি কখনই তাদের মাথা খাটাবে না ? জানবে না ?

এবার আসুন নিচের আয়াতটি পড়ি —

সুরা ইউনুস-১০:৯৪: সুতরাং তুমি যদি সে বস্তু(কোরান) সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাক যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কস্মিনকালেও সন্দেহকারী হয়ো না।

কি কথা বলছে এখানে ? সুরা ইউনুস হলো মাক্কি সুরা অর্থাৎ মক্কায় নাজিল হয়েছিল। কুরাইশরা যখন মুহাম্মদের কোরানের বানী নিয়ে সন্দেহ করছিল তখনই মুহাম্মদ তাদেরকে বলে , তোমরা তো আমার কথা বিশ্বাস করছ না , আমার কথা সত্য নাকি মিথ্যা সেটা যদি জানতে চাও , তাহলে তোমরা আগের কিতাব ( তৌরাত ও ইঞ্জিল) যারা পাঠ করে , অর্থাৎ ইহুদি ও খৃষ্টান , এদের কাছে জিজ্ঞেস করো। এখানে পরিস্কারভাবেই মুহাম্মদ তার নবূয়ত্ব ও তার কোরানের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যে ইহুদি খৃষ্টান তথা তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবকে সাক্ষী মানছে। অন্য কথায় , মুহাম্মদ এখানে বলার চেষ্টা করছে , সে যে নবী সেই সম্পর্কিত কথা বার্তা বা ভবিষ্যদ্বানী তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবে লেখা আছে।

দেখুন , বর্তমান কালের মোল্লা ও কথিত ইসলামী পন্ডিতরা সারাক্ষন তোতা পাখীর মত বলতে থাকে – বাইবেল ( তৌরাত ও ইঞ্জিল ) বিকৃত , অথচ কোরান ও মুহাম্মদ সেই বাইবলকে তার একমাত্র সাক্ষী মানছে এটা প্রমান করতে যে সে নবী কি না , কোরান ঈশ্বরের বানী কি না । অথচ তৌরাত অনুযায়ী যদি বিচার করা হয় , দেখা যাবে নি:সন্দেহে মুহাম্মদ ছিল একটা ভন্ড নবী। আর তার ইসলাম হলো একটা শয়তানের ধর্ম। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে , এই পোষ্টে-

মুহাম্মদের নাম বাইবেলে থাকলে , মুমিনদের এই মুহুর্তে ইসলাম ত্যাগ করা উচিত

মোল্লা ও কথিত ইসলামী পন্ডিতদের সাথে সাথে কিছুই না বুঝে , সাধারন মুসলমানরাও সারাক্ষন তোতাপাখির মত বলতে থাকে , বাইবেল বিকৃত। মোল্লারা ও কথিত ইসলামী পন্ডিতরা কি জানে না এসব কথা বার্তা কোরানে আছে ? অবশ্যই জানে। তারা এটাও ভাল করে জানে যে , এসব কথা বার্তার প্রকৃত অর্থ কি । তাহলে এই ভাবে প্রকাশ্যে সাড়ম্বরে মিথ্যাচার করে কেন ?

কারন একটাই। সাধারন মুসলমানদের অজ্ঞতাকে পুজি করে , তারা তাদের জীবিকা অর্জন করে। এক একজন কথিত ইসলামী পন্ডিত বা আলেমের বার্ষিক আয় সাধারন মানুষকে অবাক করে দেবে। বহুল বিখ্যাত কথিত ইসলামী পন্ডিত ডা: জাকির নায়েক যে কত শত কোটি টাকা উপার্জন করেছে গত ২০/২২ বছরে তার কোন হিসাব নেই। ভারত সরকারের এক তথ্যে জানান হয়েছে , সে শুধু সৌদি আরব থেকেই ২০০ কোটি টাকা পেয়েছে যা সে আত্মস্যাৎ করেছে। এটা নিয়েই বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। জাকির নায়েক এখন আল্লাহর ওপর ভরসা না করে , সৌদি আরব , মালয়শিয়া ইত্যাদি দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে , আর ইসলামকে পুজি করে সেসব দেশের সরকারের করুণা ভিক্ষা করছে।

ইসলামকে পুুজি করে বাংলাদেশের এক একজন নামকরা ওয়াজি মোল্লা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে। বর্তমানে তাদেরকে বিভিন্ন ওয়াজে নিয়ে যেতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। তারপর হয়ত এক ঘন্টার একটা বক্তৃতার জন্যে মজুরি দিতে হয় লাখ টাকার ওপরে। ইসলামকে ব্যবহার করে , হেফাজতে ইসলামী বর্তমান সরকারের কাছ থেকে কত শত কোটি টাকার সুবিধা যে নিয়েছে তার ইয়ত্বা নেই। হেফাজতি ইসলামীর নেতা উপনেতা পাতি নেতাদের শান শওকত চোখে পড়ার মত। দেশে লক্ষ লক্ষ মসজিদ , মাদ্রাসা আছে , সেসবে নিয়েজিত আছে লক্ষ লক্ষ মোল্লা মৌলভিরা , তাদের জীবিকার একমাত্র মাধ্যম ইসলাম।

রাজনৈতিক নেতারা ইসলামকে এত পৃষ্ঠপোষকতা কেন দেয় ? কারন একটাই , সাধারন মানুষকে যদি ইসলাম দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা যায় , তাহলে আখেরে তাদের লাভ। তারা নিশ্চিন্ত মনে ক্ষমতা ও সম্পদ উভয়ই উপভোগ করতে পারবে। একজন নেতা যদি এলাকার বিভিন্ন মসজিদে কিছু অনুদান দেয় , কিছু ওয়াজ মাহফিলে বড় অংকের চাঁদা দেয়, কিছু হুজুরদের যদি মাসিক মাসোহারা দেয় , ঈদের সময় কিছু ফিতরা , কাপড় চোপড় দান খয়রাত করে , কোরবানীতে যদি দুই চারটা গরু জবাই দিয়ে গরিব মানুষদেরকে খাওয়ানো যায় , তাহলে তার মত জনদরদী ও ইসলাম প্রিয় নেতা কি আর দুনিয়াতে আছে ?অথচ দেখা যাবে , এই নেতার চাইতে দুর্নীতিবাজ , মদ্যপ , জুয়াড়ী, নারী লিপ্সু আর নেই।বাইরের চেহারা সুরতে এই নেতার চাইতে বড় মুসলমান আর দ্বিতীয়টা নেই। গায়ে পাঞ্জাবী পাজামা, মাথায় টুুপি। মাঝে মাঝে শুক্রবারে মসজিদে গিয়ে সবার সাথে জুমার নামাজ আদায় , স্বাড়ম্বরে ঈদের নামাজে অংশ গ্রহন আর বছর বছর ওমরা বা হজ্জ্ব করা।

ইয়াবা সম্রাট বদির কথাই ধরুন। সারা দেশ জানে সে কি ধরনের লোক। সেই লোক এই কিছুদিন আগে সৌদি আরবে গেছে ওমরা করতে। বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতাই কোন না কোন ভাবে বদির মতই। বদির কার্য কলাপ তার বাড়াবাড়ির কারনে প্রকাশ পেয়ে গেছে , বাকীদের কার্য কলাপ সেভাবে প্রকাশ পায় নি।

এসব নেতাদের অধিকাংশই কিন্তু জানে , ইসলাম আসলে কি জিনিস। কিন্তু তারা এটাও জানে , ইসলামই রাজনীতির সবচাইতে মোক্ষম অস্ত্র। ইসলাম কি জিনিস সেটা তারা জানে কোরান হাদিস পড়ে নয়। বরং তার পেশাগত কারনেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কার্য কলাপ জানতে হয়। সেই পেশাগত কার্য কলাপ থেকে অর্জিত জ্ঞান থেকেই সে বুঝে যায় , সৌদি আরব ইসলাম নিয়ে ব্যবসা করে । তারা ভালো মতই জানে – আই এস , আল কায়েদা , তালেবান , বোকো হারাম ইত্যাদিরাই খাটি মুসলমান। কারন তারা খোজ খবর নিয়ে জানতে পারে – এসব দলের যারা নেতা , তারা সারাজীবন ইসলাম চর্চা করেছে , ইসলামকে ভাল মতো জেনে শুনে বুঝেই তারা এসব দল গঠন করেছে। তাই তাদের সারা জীবনের জানাটা মিথ্যা হতে পারে না। তারা এটাও ভাল মতো জানে , শায়খ আব্দুর রহমান , মুফতি হান্নান , জসিমউদ্দিন ইত্যাদিরাই খাটি মুমিন। আর তাই তারা যেটা প্রচার করে , সেটাই খাটি ইসলাম।

এই কারনেই এইসব নেতারা খুব ভালভাবেই জানে , ইসলাম আসলে একটা শয়তানের ধর্ম। কিন্তু তারা শুধুমাত্র ক্ষমতা ও সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্যেই ইসলামকে ব্যবহার করে থাকে। তারা খুব ভালমতই জানে , সাধারন মুসলমানরা হলো মূর্খ , অজ্ঞ ও অন্ধ। ইসলামই একমাত্র মোক্ষম অস্ত্র যা দিয়ে তাদেরকে বশে রাখা যায়। তাদেরকে দাস বানিয়ে রাখা যায়।

চলবে ————————————-

21 total views, 1 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of