শিশুধর্ষণ!

আমার নিজের শিশুধর্ষণ নিয়ে লিখতে কষ্ট হয় এবং একমাত্র এই বিষয় নিয়ে লিখতেই কষ্ট হয়। তাও কতগুলো কথা।

দয়া করে কারো নাম করে পোস্ট দেবেন না।

ধর্ষক-এর ধর্মপরিচয় তখনই জানা প্রয়োজন, যখন একটি শরীরকে ধর্ষণ করার সময় মনে মনে একটি ধর্মকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। ভারতের কাঠুয়ার ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছিল। কিন্তু সকল মেয়ের ক্ষেত্রেও কি তার ধর্মপরিচয়কেই এফোঁড়ওফোঁড় করতে চেয়েছিল ধর্ষক? আমি জানিনা। অন্তত কাঠুয়ার মতো সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই যে ধর্মপরিচয়ই কাল হয়ে যায় মেয়েদের। তা যদি হয়, তাহলে ধর্ষককে নির্দিষ্ট ধর্মের লোক বলে উল্লেখ করা যায় বটে।

কিন্তু তাতে কী মহৎ উদ্দেশ্য সাধিত হয় জানা নেই। দিনের শেষে প্রমাণ তো এটাই হল যে হিন্দু- মুসলিম উভয়েই পরস্পরকে হেয় করার সহজ পথ হিসেবে একটি উপায়ই বাছে।

হিন্দুত্ববাদী/মুসলিমবাদীদের এজেণ্ডা সবাই জানে। তাদের প্ররোচনায় পা যেমন দেওয়া চলে না, তেমনই এটা হিন্দু কিংবা মুসলিম বা কোনো ধর্মকে গাল দেওয়ার সময় নয়। ধর্ষণ করতে এলে আমাদের বাচ্চারা কোনো প্রতিরোধই স্রেফ দেখাতে পারবে না। নিজেদের শরীর নিয়ে সচেতন করে, ভালো-মন্দ স্পর্শ চিনিয়ে তো কিছুই লাভ হবে না সেসব সময়। তাহলে উপায়? উপায় কী?

বাচ্চাদের সেক্সুয়াল এবিউজ নিয়ে সচেতনতা প্রসারের ওয়ার্কশপে গেছেন কখনো? আমি গেছি। শ্রোতা হিসেবে। ওরা খুব মন দিয়ে শোনে। নিয়মগুলো মনের মধ্যে গেঁথে নেয়। ওরা রিসেপ্টিভ। ওরা সতর্ক হয়।

কিন্তু তারপর ওরা প্রশ্ন করে। আপনি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারপর এমন প্রশ্ন আসতে থাকে যার উত্তর আপনার অজানা।

”আমার মুখ যদি এরকম করে চেপে ধরে?” -যে মেয়েটি বলছে, ধরা যাক, সে তার নিজের মুখ চেপে ধরেছে কচি হাত দিয়ে আর তার বিস্ফারিত চোখে আপনি ভয় দেখতে পাচ্ছেন।

”যদি মারে?”

“যদি দরজা বন্ধ করে দেয়?”

“যদি আর কখনো ফিরতে না দেয়, বাবা-মাকে বলব কী করে?”

আর আপনি প্রশ্নের সামনে অসহায় বোধ করেন। আপনার মাথাতেও ঘুরতে থাকে-যদি মারে…যদি ছিঁড়ে ফ্যালে… যদি#### যদি### ইত্যাদি।

আমার মাথায় শুধু এসবই আসে। দুশ্চিন্তা! আপনাদের মাথায় হিন্দু/ মুসলিম/বামপন্থী -এই এত কিছু আসে কী করে?

6 total views, 1 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of