বাংলাদেশের জাতীয় বেশ্যা মাহমুদুর রহমানের সংক্ষিপ্ত আমলনামা


পত্রিকার নাম ‘দৈনিক আমার দেশ’। আসলে, এর প্রকৃত নাম দৈনিক আমার দেশ পাকিস্তান। এটি একটি ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর পত্রিকা। এটি একসময় বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু’র মালিকানায় ছিল। পরবর্তীতে, সর্বশেষ হাতবদল হয়ে এর শয়তানী-মালিকানা নির্ধারিত হয়েছে মাহমুদুর রহমানগংদের হাতে।

বাংলাদেশের জাতীয় বেশ্যা মাহমুদুর রহমানের সংক্ষিপ্ত আমলনামা
(দৈনিক ‘আমার দেশ পাকিস্তান’ এবং দেশবিরোধী এই পত্রিকার আড়ালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা রাজাকারসন্তান মাহমুদুর রহমানের বেশ্যাবৃত্তি)
সাইয়িদ রফিকুল হক

অতিসম্প্রতি কুষ্টিয়ার আদালতে একটা মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে মাহমুদুর রহমান নামক বাংলাদেশের একটা ‘জাতীয় বেজন্মা’ স্থানীয় কতিপয়-লোকজন-কর্তৃক প্রহৃত হয়েছে। কেউ-কেউ এটিকে বলেছেন, গণধোলাই! আবার কেউ-কেউ এ-কে গণপিটুনিও বলেছেন। আবার কেউ-কেউ এ-কে ‘গণরোষের শিকার’ বলে অভিহিত করেছেন। এই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরে প্রথমে বাংলাদেশের হলুদ-সাংবাদিকতার পথিকৃৎরা বলেছিলো, এটি স্থানীয় ছাত্রলীগের কাজ। পরে দেখা গেল, এর সঙ্গে আসলে যুবদল ও ছাত্রদলের সম্পৃক্তা রয়েছে! এখানে, জটিল রহস্য আছে। এটি মদীয় আলোচনার বিষয় নয়। এখানে, আমি আসলে তুলে ধরতে চাচ্ছি—এই বেজন্মা মাহমুদুর রহমানের সংক্ষিপ্ত আমলনামা। কারণ, এতোবড় ভয়াবহ বেজন্মা, বেশ্যা, রাজাকার, অর্থলোভী, সাম্প্রদায়িক-নরপশু ও স্বাধীনতাবিরোধী-জারজসন্তান এই বাংলাদেশে খুব কমই আছে।

পত্রিকার নাম ‘দৈনিক আমার দেশ’। আসলে, এর প্রকৃত নাম দৈনিক আমার দেশ পাকিস্তান। এটি একটি ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর পত্রিকা। এটি একসময় বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু’র মালিকানায় ছিল। পরবর্তীতে, সর্বশেষ হাতবদল হয়ে এর শয়তানী-মালিকানা নির্ধারিত হয়েছে মাহমুদুর রহমানগংদের হাতে। আর এই পত্রিকাটি সম্পাদনার ভার ন্যস্ত হয়েছে মাহমুদুর রহমান নামক এক পতিতার হস্তে। সোজা বাংলায় যাকে বলে বেশ্যা—এই মাহমুদুর রহমান তা-ই। কেউ-কেউ হয়তো ভাবছেন, নাম তো পুরুষের! সে আবার পতিতা হয় কী করে? পতিতা হয় তো সাধারণতঃ একশ্রেণীর বাজে রমণীরা! আসলে, আমাদের অনেকেরই ধারণা নাই যে, আজকাল বিপথগামী-পুরুষও পতিতা হয়। আর এই দেশে এখন মহিলা-পতিতার চেয়ে পুরুষ-বেশ্যার সংখ্যা অনেক বেশি। হ্যাঁ, দেশে এখন পুরুষ-বেশ্যার সংখ্যা বাড়ছে। একশ্রেণীর অমানুষ এখন লোভে পড়ে ও লাভের আশায় দেদারসে বেশ্যা হচ্ছে। আর রাজনৈতিকক্ষেত্রে পুরুষ-বেশ্যার সংখ্যা সর্বাধিক।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় বেশ্যা হচ্ছে—একটা মাহমুদুর রহমান। এই বেজন্মা বাংলাদেশের সর্বস্তরের স্বাধীনতাবিরোধী-বেশ্যাদের ইমাম। তার অধীনে রয়েছে—রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও দেশদ্রোহী ঘাতক ও জল্লাদ। এইসব বেশ্যাদের সবচেয়ে বড় ইমাম এই মাহমুদুর রহমান। সে ভয়ংকর এইডসের মতো একটা নীরব-ঘাতক। সে সাম্প্রদায়িক-সংক্রামক ভয়ানক ব্যাধি। তার একমাত্র কাজ হলো—বাংলাদেশরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সদাসর্বদা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করা। বাংলাদেশে মিথ্যাখবর-পরিবেশন করে ভয়ংকর সব গুজবসৃষ্টিতে এই বেজন্মা মাহমুদুর রহমান সবসময় অদ্বিতীয়। এজন্য সে প্রায় সকলের নিকট “গুজব-কিং” হিসাবে খ্যাত। দেশের সচেতন জনসাধারণ তার চরিত্রসম্পর্কে কমবেশি ওয়াকিবহাল।

মাহমুদুর রহমান নাকি পেশায় ছিল একটা ইনজানোয়ার মানে ইঞ্জিনিয়ার। সে একসময় চাকরিও করতো। ২০০১ সালে, বিএনপি-জামায়াত নামক চারদলীয় রাজাকারজোট শয়তানের জারজপুত্র লতিফুর রহমান নামক একটা অবিচারপতির অধীনস্থ তত্ত্বাবধায়ক-সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কথিত জাতীয় সংসদ-নির্বাচনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করে নিলে মাহমুদুর রহমানগংরা রাতারাতি দেশে খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠে, এবং তারা সর্বস্তরের ‘বাংলাদেশবিরোধী-প্ল্যাটফর্মে’র রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী-কর্মী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন চারদলীয় রাজাকারজোটসরকার তাকে রাতারাতি বড়সড় পদও পাইয়ে দিয়েছিলো। তাকে দেশের ‘জাতীয় বিনিয়োগ-বোর্ডে’র চেয়ারম্যানও বানানো হয়েছিলো। এটি মাহমুদুর রহমানের সামান্য একটু প্রাথমিক পরিচয়। এর বাইরেও তার আরও অনেক পরিচয় ছিল এবং এখনও রয়েছে। একটা সময় সে নাকি তারেক জিয়ার অন্যতম বিশ্বস্ত ডানহাত ছিল, এবং এখনও আছে।
শয়তানের জারজপুত্র মাহমুদুর রহমানের জন্ম-বংশ-পরিচয়:

মাহমুদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ৬ই জুলাই কুমিল্লা-জেলায় জন্মগ্রহণ করে। তার পিতা একসময় দাউদকান্দি-উপজেলার পাঁচগাছিয়া (পুরাতন নাম) বর্তমানে দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিল। সে এই সাবেক চেয়ারম্যান লতিফ মিয়াজীর জ্যেষ্ঠ্যপুত্র। মাহমুদুর রহমানের পিতা লতিফ মিয়াজী ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী জামায়াতে ইসলামীপাকিস্তানের অঙ্গসংগঠন “শান্তিকমিটি”র সক্রিয় সদস্য ছিল। এই রাজাকার লতিফ মিয়াজী, বঙ্গবন্ধু-হত্যার মূলহোতা খন্দকার মোশতাকের আপন-ভগ্নিপতি (দুলাভাই)। সেই হিসাবে খন্দকার মোশতাকের আপন-ভাগ্নে এই কুখ্যাত-কুলাঙ্গার মাহমুদুর রহমান। ১৯৭১ সালে, দাউদকান্দি-উপজেলাসহ সমগ্র কুমিল্লা-জেলার অন্যতম কুখ্যাত রাজাকার ছিল এই লতিফ মিয়াজী। আর তারই গুণধর পুত্র এই মাহমুদুর রহমান।

আমরা এক্ষুনি মাহমুদুর রহমান নামক এই বেজন্মার কতিপয় অপকর্ম দেখি। আশা করি, এর মাধ্যমে এই বেজন্মার উজ্জ্বল চরিত্র দেশ ও জাতির সামনে পরিষ্কারভাবে পরিস্ফুট হবে।

১. বাংলাদেশবিরোধী-মিথ্যাসংবাদ-পরিবেশনকারী, গুজবসৃষ্টিকারী, সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি-বিনষ্টকারী ও ধর্মীয় উন্মাদনাসৃষ্টিকারী কুলাঙ্গার মাহমুদুর রহমান একাত্তরের কুখ্যাত-রাজাকার লতিফ মিয়াজীর সন্তান। অপরদিকে, সে বঙ্গবন্ধু-হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা খন্দকার মোশতাক আহমেদের আপন-ভাগ্নে।

২. সে বিতর্কিত, রাষ্ট্রবিরোধী ও সামাজিক-সম্প্রীতি-বিনষ্টকারী ‘দৈনিক আমার দেশ’ নামক একটি জারজপত্রিকার মালিকপক্ষের (মালিকানার) একটা অংশীদার। সে এই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদক। সাংবাদিকতায় তার কোনো পূর্বঅভিজ্ঞতা না-থাকা সত্ত্বেও সে রাতারাতি এর সম্পাদক হয়ে গিয়েছে! ২০০৮ সালে, হঠাৎ সে এই পত্রিকার দায়িত্ব নেওয়ার (সম্পাদক হওয়ার) পর থেকেই পত্রিকাটি সংবাদ-পরিবেশনের নামে পুরাপুরি ‘হলুদ-সাংবাদিকতায়’ নিমজ্জিত হয়েছে, এবং এই পত্রিকায় সবসময় দেশবিরোধী-মিথ্যাখবর-পরিবেশন করা হয়। এটিই এর একমাত্র কাজ।

৩. মাহমুদুর রহমান ঘরে-বাইরে ‘দৈনিক আমার দেশ’ নামক একটা জারজপত্রিকার সামান্য একটা সম্পাদক। কিন্তু সে ভিতরে-ভিতরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীচক্র ‘জামায়াত-শিবির-বিএনপি’র সবচেয়ে বড় এজেন্ট। এই এজেন্ট হিসাবে তার সবচেয়ে বড় অপকর্ম হচ্ছে—ধর্মের নামে দেশের ভিতরে সাম্প্রদায়িক-সংঘাতসৃষ্টি, ধর্মীয় দাঙ্গাসৃষ্টির অপচেষ্টা, প্রগতিশীল-ব্যক্তিদের ‘নাস্তিক’ বলে তাদের জনসমক্ষে হেয়প্রতিপন্ন করা, এবং নাস্তিক না-হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ ‘মুক্তমনা-ব্লগারদের’ ‘নাস্তিক’ বলে আক্রমণ করা, এবং তাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ বিষোদগার করা ইত্যাদি।

৪. সে একাত্তরের কুখ্যাত-রাজাকার ও বিএনপি’র সাবেক এমপি ও মন্ত্রী হারুন-অর-রশীদ খান মুন্নু’র মেয়ের জামাই। এজন্য সে ‘বিএনপি-জামায়াত-জোটে’র একজন বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা, নীতিনির্ধারক ও কূটকৌশলী। এজন্য দেশের বাইরেও তার দেশবিরোধী-অপতৎপরতা রয়েছে।

৫. একটা ইনজানোয়ার হিসাবে তার পেশাজীবনের সূচনা হয় বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো-গ্রুপে। কিন্তু এখানে, বেক্সিমকো-গ্রুপের ‘শাইনপুকুর-সিরামিক্সে’ অর্থআত্মসাতের দায়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর সে যোগ দেয় তার শ্বশুরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মুন্নু-সিরামিক্সে। সেখানেও অর্থ-কেলেংকারীর দায়ে তাকে চাকরিচ্যুত ও বহিষ্কার করা হয়। তখন সে দিশেহারা হয়ে তারেক জিয়ার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। এখানেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়।

৬. বিএনপি-সরকারের আমলে সে ‘জাতীয় বিনিয়োগ-বোর্ডে’র চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ‘জ্বালানি-মন্ত্রণালয়ে’র উপদেষ্টা পর্যন্ত হয়েছিলো। সেখানেও তার সীমাহীন দুর্নীতি ধরা পড়েছে। ‘জ্বালানি-মন্ত্রণালয়ে’র উপদেষ্টা হওয়ার সুবাদে একসময় সে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া-কয়লাখনিরও বারোটা বাজিয়েছে। এখানেও তার অর্থ-কেলেংকারী।

৭. ২০০৬ সালের ২৮-এ অক্টোবর বিএনপি-সরকারের পতনের পর বিএনপি-জামায়াত-জোটকে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আনার জন্য ২০০৬ সালের ২৪-এ নভেম্বর ঢাকার উত্তরায় এক ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বিএনপি’র প্রতি আনুগত্যশীল তৎকালীন জনপ্রশাসন-মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ পুলিশের কিছুসংখ্যক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও এতে যোগ দেয়। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের কারিগর এই মাহমুদুর রহমান। সেই সময় এই বৈঠক ‘উত্তরা-ষড়যন্ত্র’ নামে অভিহিত হয়।

৮. ২০১২ সালে, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন-বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আমাদের দেশের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ-ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান বিচারপতি নিজামুল হক সাহেবের কথিত ‘স্কাইপে-কথোপকথন’কে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশ করে এই মাহমুদুর রহমান।

৯. একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ‘কসাই কাদের মোল্লা’র রায়কে কেন্দ্র করে ‘কাদের মোল্লা’র ফাঁসির দাবিতে ঢাকার শাহবাগে গড়ে ওঠে ঐতিহাসিক ‘গণজাগরণমঞ্চ’। এই ‘গণজাগরণমঞ্চ’ গড়ে তোলার পিছনে অনলাইন-অ্যাক্টিভিস্টদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এদের আন্দোলনকে স্তিমিত করার দুরভিসন্ধি নিয়ে একটা মাহমুদুর রহমান তার ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকায় ‘গণজাগরণমঞ্চে’র দেশপ্রেমমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত সম্পূর্ণ মিথ্যা, আলতুফালতু, অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, আজেবাজে ও উস্কানিমূলক নানারকম খবর প্রকাশ করতো। এজন্য দেশের বোদ্ধাগণ মনে করেন, ‘গণজাগরণমঞ্চে’র বিশিষ্ট নেতা ব্লগার রাজিব হায়দারের হত্যার পিছনে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও, ব্লগার নিলয়, অভিজিৎ, ওয়াশিকুরসহ আরও অনেকের হত্যাকাণ্ডের পিছনে এই মাহমুদুর রহমানের পরোক্ষ ভূমিকা তথা ইন্ধন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। শাহবাগে ‘গণজাগরণমঞ্চে’র আন্দোলন চলাকালে সে তার ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকায় এই আন্দোলনকে ‘নাস্তিকদের আন্দোলন’ বলে অভিহিত করেছিলো। এজন্য তার অপতৎপরতার কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না।

১০. ২০১৩ সালে, সে ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকায় ঢালাওভাবে প্রচার করে যে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-সাঈদীর মুক্তির জন্য নাকি ‘কাবাশরীফে’র ইমামগণ ‘কাবার গিলাফ’ নিয়ে মিছিল করেছেন! এখানেই শেষ নয়, সে ২০১৩ সালের ৫ই জানুআরি ইন্টারনেট থেকে ‘কাবাশরীফে’র একটি গিলাফ নামিয়ে সেটি এডিট করে কাবার ছবিতে টাঙ্গিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে জানায় যে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির জন্য নাকি ‘কাবাশরীফে’র গিলাফে সাঈদীর নাম লেখা হয়েছে! সে সেদিন দেখাতে চেয়েছিলো যে, সাঈদীসহ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির জন্য কাবাঘরের গিলাফ পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এরকম আরও বহু শয়তানী ও বানোয়াট খবর পরিবেশন করেছে এই মাহমুদুর রহমান। এরপরও সে ইসলামের সৈনিক!

১১. ২০০১ সালে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে সে নিজে কুকুরের মাথায় টুপি পরিয়ে তার ছবি তুলে তা আওয়ামীলীগের নামে অপপ্রচার করেছিলো। তার সহযোগী হয়েছিলো ‘দৈনিক ইনকিলাব’ নামক আরেকটি জারজপত্রিকা।

১২. ২০০৪ সালের ২৭-এ ফেব্রুআরি, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বহুমাত্রিক লেখক ড. হুমায়ুন আজাদ মৌলবাদীদের হামলায় আহত হন। তিনি মৌলবাদী-ঘাতকদের হামলায় এতোটা রক্তাক্ত হয়েছিলেন যে, তা দেখে যেকোনো পাষণ্ডের মনেও দয়ামায়া জন্মাতে পারে। কিন্তু সেদিন রাতে স্বনামধন্য ড. হুমায়ুন আজাদের এতো রক্ত দেখেও একটা টিভি-চ্যানেলের টকশোতে এই বেজন্মা মাহমুদুর রহমান খিলখিল করে হেসে বলেছিলো, ‘তিনি সামান্য আঘাত পেয়েছেন!… একটা নাস্তিকের ওপর হামলা হয়েছে!… রাজনীতিতে এমনটা হতেই পারে!’ এই হলো সাংবাদিক-নামধারী একটা বেজন্মা মাহমুদুর রহমানের কথাবার্তা।

১৩. বেজন্মা মাহমুদুর রহমান সম্প্রতি বলেছে, ‘একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার দায়ে রাজাকারদের বিচার করা হচ্ছে। সরকার-পরিবর্তন হলে বা (বিএনপি-জামায়াত নামক) চারদলীয় জোট আবার ক্ষমতায় এলে একাত্তরে রাজাকারদের হত্যার দায়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে!’ পাঠক দেখুন, এই বেজন্মা মাহমুদুর রহমান কতবড় রাজাকার! আর তার ধৃষ্টতা কতখানি!

১৪. এই বেজন্মা মাহমুদুর রহমান সৌদিআরবের বাদশাহর বিলাসবহুল প্রাসাদকে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাড়ি বলে মিথ্যা-প্রচারণা চালিয়েছিলো।

১৫. কুষ্টিয়ার আদালত-প্রাঙ্গণে জনসাধারণের হাতে প্রহৃত হওয়ার পর সে আদালতের মধ্যে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে (চেঁচিয়ে-চেঁচিয়ে) বলেছে, “ইসলামের জন্য কি আমি একাই জীবন দিবো?” হায়রে মূর্খ! এখানেও সে সাম্প্রদায়িক-উস্কানি দিতে ভুল করেনি। সে ইসলামের কে? যার জীবন-যৌবন কেটেছে, কাটছে, এবং ভবিষ্যতেও হয়তো কাটবে মিথ্যার উপাসনা করে, এবং দেশ, জাতি, মানুষ আর মানবতার বিরুদ্ধে নানারকম শয়তানী, বদমাইশী, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও দুরভিসন্ধি করে—তার আবার ইসলামত্ব কীসের? তার আবার মুসলমানিত্বই-বা কীসের? আর মাহমুদুর রহমানের মতো একটা মিথ্যার উপাসক ও শয়তানের পূজারী কখনও মুসলমান হতে পারে?

১৬. কুষ্টিয়ায় মাহমুদুর রহমানের ওপর সামান্য হামলার পরে সে ভয়ংকরভাবে উত্তেজিত হয়ে কী ভয়ানক অশ্লীল ও আপত্তিকর ভঙ্গিতে লাগামহীন কথাবার্তা বলছিলো! আর এখানেও সে দেশের হিন্দুসম্প্রদায়কে আক্রমণ করতে এতটুকু ভুল করেনি। আর সে যে আস্ত একটা পশু—এতেই তার প্রমাণ বহন করে।

১৭. আজীবন-আমৃত্যু মুক্তিযোদ্ধাদের শত্রু এই মাহমুদুর রহমান। তাই, কুষ্টিয়ার আদালত-প্রাঙ্গণে তার ওপরে হামলার সময় (হামলায় অংশগ্রহণকারী) একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সে চড় মেরেছে! কতবড় জঘন্য আর বেআদব এই নরকের কীট। সে আপাদমস্তক ভণ্ড আর প্রথম শ্রেণীর একটা সন্ত্রাসী।

১৮. সে এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আর সে নিত্যনতুন শয়তানীতে নিমজ্জিত।

দেশের ভিতরে নানারকম ধর্মীয় উস্কানি, সাম্প্রদায়িক-সংঘাতসৃষ্টি, সংখ্যালঘুনির্যাতনে পৃষ্ঠপোষকতা, গুজবসৃষ্টি, সীমাহীন মিথ্যা খবর প্রচার-পরিবেশন ও রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ নজিরবিহীন দেশবিরোধী যাবতীয় শয়তানীর দায়ে যার ‘মৃত্যুদণ্ড’ কিংবা ‘চিরস্থায়ী জেল’ হওয়ার কথা—আর সে-ই কিনা হামলার পরে দাঁত-কেলিয়ে হাসে আর দেশের নাগরিক হিন্দুসম্প্রদায়ের ছাল ওঠানোর হুমকি দেয়! কী ধৃষ্টতা আর কী জঘন্য মানসিকতা এদের!

জন্মগতভাবে ও রাজনৈতিক বংশপরিচয়ে সে চিরকাল পাকিস্তানের গোলাম এবং সাম্প্রদায়িক বেজন্মাধারার অন্যতম রূপকার ও কর্মযোদ্ধা। সে বঙ্গবন্ধুর খুনী মোশতাক আহমেদের আপন-ভাগ্নে। পাকিস্তানীমিলিটারি বেজন্মা মেজর জেনারেল জানজুয়াদের রক্তবাহিত কুসন্তান। তার চিন্তাধারা সবসময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-আদর্শবিরোধী তথা বাংলাদেশবিরোধী।

একটা মাহমুদুর রহমানের হঠাৎ রাজনৈতিকক্ষেত্রে আত্মপ্রকাশ ও পত্রিকাসম্পাদনার মতো দুরূহ কাজে প্রবেশ সম্পূর্ণ দুরভিসন্ধি ব্যতীত আর-কিছু নয়। তার কোনো পূর্বঅভিজ্ঞতা না-থাকা সত্ত্বেও সে রাজনীতিতে ও পত্রিকা-ব্যবসায় ভিড়েছে নানারকম ধান্দা নিয়ে। সে বাংলাদেশের সর্বস্তরের স্বাধীনতাবিরোধীদের একনাম্বার এজেন্ট। সে ভয়ানক সাম্প্রদায়িক। তার মতো এই দেশে আরও কয়েকটি সাম্প্রদায়িক-নরপশু হলো—ড. আসিফ নজরুল, ড. তুহিন মালিক ও ফরহাদ মজহারগং।

সাধারণ বেশ্যাদের মতো একশ্রেণীর রাজনৈতিক বেশ্যা এখন নিজেদের আত্মপ্রতিষ্ঠা, অর্থউপার্জন ও ক্ষমতা ভোগদখলের জন্য একেবারে মরীয়া হয়ে উঠেছে। এরা দেশের স্বার্থ-জলাঞ্জলি দিয়ে আজ নিজেদের রাজনৈতিক দলের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। এদেরই প্রতিনিধি ‘দৈনিক আমার দেশ’ নামক একটা জারজপত্রিকার তথাকথিত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

দৈনিক ‘আমার দেশ পাকিস্তান’ আজ বাংলাদেশকে তালেবানী-রাষ্ট্র বানাতে চায়, এবং দেশবিরোধী এই পত্রিকার আড়ালে মাহমুদুর রহমানের রাজনৈতিকক্ষেত্রে বেশ্যাবৃত্তি আজ নতুন-কিছু নয়। সে দিন-দিন আরও বেশি বেপরোয়া ও হিংস্র হয়ে উঠছে। তার কাছে জাতীয় স্বার্থ বা দেশ-জাতি আজ তুচ্ছ। তাই, সে কুষ্টিয়ার আদালত-প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়েও এই দেশের হিন্দুসম্প্রদায়কে ‘ভারতের কুকুর’ বা ‘ভারতের এজেন্ট’ বলে গালিগালাজ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেনি। আমাদের পবিত্র রাষ্ট্র ও সমাজজীবন থেকে চিরতরে অপসারিত-নির্বাসিত হোক এইসব স্বার্থান্ধ-বেশ্যা। জয় হোক মানবতার।

সাইয়িদ রফিকুল হক
২৬/০৭/২০১৮

3 total views, 1 views today

1
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
0 Comment authors
shuvo Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
shuvo
পথচারী
shuvo

informative
informative