শেখ হাসিনাকে গালি দিচ্ছিস কেন বেআদব?


একটি সড়ক-দুর্ঘটনায় ঢাকা-ক্যান্টনমেন্ট-এলাকার ‘শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে’র দুটি ছেলেমেয়ে নিহত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। এতে ওইদিন ওই স্কুলের ছেলেমেয়েরা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভে ফেটে পড়ে কয়েকটি গাড়ি-ভাংচুরসহ দুটি গাড়িতে আগুন দিয়েছিলো। সরকার সহানুভূতির সঙ্গে তা মোকাবেলা করেছে।…

শেখ হাসিনাকে গালি দিচ্ছিস কেন বেআদব?
সাইয়িদ রফিকুল হক

পৃথিবীর কোন্ দেশে সড়ক-দুর্ঘটনা নাই? জানি, কেউই উত্তর দিতে পারবেন না। সকল দেশেই সড়ক-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তবে তা কম আর বেশি। আমাদের মতো ‘উন্নয়নশীল দেশে’ এখনও নানারকম প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও, দেশ এগিয়ে চলেছে। আমরা বসে নাই। কিন্তু এখানকার মতো অতিতুচ্ছ ও সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরাট কোনো ‘হিংসাত্মক-ঘটনা’ ঘটানোর নজির হয়তো পৃথিবীর আর-কোথাও নাই। গত কয়েকদিন-যাবৎ আমরা তা-ই দেখেছি, এবং দেখছি।
একটি সড়ক-দুর্ঘটনায় ঢাকা-ক্যান্টনমেন্ট-এলাকার ‘শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে’র দুটি ছেলেমেয়ে নিহত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। এতে ওইদিন ওই স্কুলের ছেলেমেয়েরা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভে ফেটে পড়ে কয়েকটি গাড়ি-ভাংচুরসহ দুটি গাড়িতে আগুন দিয়েছিলো। সরকার সহানুভূতির সঙ্গে তা মোকাবেলা করেছে। এই সংবাদ শুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঙ্গে-সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় দুঃখিত হয়েছেন, এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মাসখানেক আগে জনাব শেখ হাসিনা স্বউদ্যোগে দেশে সড়ক-দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তাঁর ৬-দফা ঘোষণা করেছিলেন।

একটি দুর্ঘটনায় আমরা সকলেই সমব্যথী। এরকম ঘটনা আমাদের জীবনেও তো ঘটতে পারতো। তাই, সাধারণ কিছুসংখ্যক ছেলেমেয়ে ওই ঘটনার পর থেকে দুই-তিনদিন ‘নিরাপদ সড়কে’র দাবিতে এবং ‘সড়ক-দুর্ঘটনা’ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তাদের ৯-দফা পেশ করলে দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার তা মেনে নেন। সরকারিভাবে নিহতদের দুই পরিবারকে ২০লক্ষ করে মোট ৪০লক্ষ টাকাও প্রদান করা হয়েছে। সড়ক-দুর্ঘটনা-প্রতিরোধে সরকার আরও বেশি কার্যকর ভূমিকাপালনের জন্য অঙ্গীকারও করেছেন। তা সত্ত্বেও, একটি দেশবিরোধী-চক্রান্তকারীগোষ্ঠী (জামায়াত-শিবির-বিএনপি) এই সাধারণ প্রতিবাদী-আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা শুরু করেছে। এদের উদ্দেশ্য দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। ইতোমধ্যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া পূরণ হয়ে যাওয়ায় তারা ঘরে ফিরে গিয়েছে। কিন্তু নিজেদের রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা-বাস্তবায়নের জন্য এখনও রাস্তায় বিশৃঙ্খলাসৃষ্টির অপচেষ্টা করছে জামায়াত-শিবির-বিএনপি নামক চারদলীয় জোট।

অতিসম্প্রতি (গত ২৯/০৭/২০১৮ খ্রিস্টাব্দ) একটি সড়ক-দুর্ঘটনায় ‘দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম’ নামের ঢাকা-ক্যান্টনমেন্ট-এলাকার ‘শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে’র ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের দুইটি ছাত্রছাত্রী নিহত হওয়ায়—দেশজুড়ে এই ঘটনাকে পুঁজি করে একটি অশুভশক্তি তথা বাংলাদেশরাষ্ট্রের বিরোধিতকারী জারজচক্র—রাষ্ট্রবিরোধী-অপতৎপরতার নাশকতাসৃষ্টি করতে চাইছে। তারা এখনও এজন্য নানারকম শয়তানী-পরিকল্পনা-বাস্তবায়নের জন্য একেবারে উঠে পড়ে লেগেছে। এরা বহু পুরাতন পাপী আর দেশবিরোধী-ঘাতকচক্র। এদের কাজই হলো দেশে প্রতিবাদী কোনো মিছিল বা আন্দোলন শুরু হলে সেখানে ঢুকে পড়ে এটিকে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী-অপকাণ্ডে পরিণত করা। কিছুদিন আগের কোটাসংস্কার-আন্দোলনেও এই বেজন্মাগুলো সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মিশে নিজেদের ‘নষ্ট-জারজ-রাজনীতি’র ফায়দা লোটার অপকর্মে নিয়োজিত হয়েছিলো। কিন্তু সেখানে তারা পুরাপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য তারা কিছুদিন-যাবৎ হিংস্র-নেকড়ের মতো একেবারে ওঁত পেতে ছিল যে, দেশের ভিতরে কোনোকিছু ঘটে কিনা। গত ২৯/০৭/২০১৮ তারিখ একটি মর্মান্তিক-দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের হাতে সেই সুযোগটি আসে। এতে তারা আগের মতো পরিকল্পিতভাবে, জোটবেঁধে সরকারবিরোধী একটা অপআন্দোলন গড়ে তোলার অপচেষ্টা করতে থাকে। এরা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীবংশজাত নব্যরাজাকার-অপশক্তি।

দুইটি শিক্ষার্থী নিহত হওয়ায় দেশের সকল মানুষই শোকাহত। এরকম ঘটনা যখনই ঘটে তখন মানুষ সমব্যথী হয়ে থাকে। এটাই স্বাভাবিক। এটি আমাদের দেশে নতুনকিছু নয়। কিন্তু এই দুটি ছাত্রছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে মহলবিশেষের ষড়যন্ত্র এখন দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট ও প্রমাণিত। তারা এমন একটি ঘটনার জন্যই এতোদিন উদগ্রীব হয়ে বসে ছিল। এরা এখন ১৯৭১ সালের পাকিস্তানীদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের মতোই নাশকতার ছক কষছে। এরা সবাই যেন একাত্তরের সেই ভয়াবহ নৃশংস ‘শান্তিকমিটি’র সক্রিয় সদস্য।

দুজন সহপাঠী-সহপাঠিনীকে হারিয়ে তাদের বন্ধুরা ঘটনার পর-পর প্রতিবাদী হয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি ও আশেপাশের এলাকায় কয়েকটি গাড়ি-ভাংচুর করে, এবং একইসঙ্গে দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগও করে। তারপরও এটি স্বাভাবিক একটি ঘটনা বলে মনে হয়। আর এটি বিক্ষুব্ধ-মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পরদিন থেকে দেখা গেল, এই ঘটনা ‘শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে’র গণ্ডি পেরিয়েছে! আর শিক্ষার্থীদের সাধারণ এই ‘প্রতিবাদ-মিছিল’ আরও কয়েকটি স্কুল-কলেজে একটি আন্দোলন-রূপে ছড়িয়ে পড়ছে। আর সেদিন থেকেই এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে শুরু করে—বাংলাদেশরাষ্ট্রের চিরশত্রু, জন্মলগ্ন থেকে বাংলাদেশরাষ্ট্রকে অস্বীকারকারী পাকিস্তানের রক্তবাহিত জামায়াত-শিবিরের নরপশুরা। পূর্বপরিকল্পিত এই অপআন্দোলনের নেতৃত্ব এখন তাদের হাতে। তাদের সঙ্গে রয়েছে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন।

এবারও তারা সাধারণ প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের আগে-পিছে থেকে দেশবিরোধী নানারকম অশুভ-তৎপরতা চালানোর অপচেষ্টা করছে। ইদানীং আমরা লক্ষ্য করছি, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা দেশের কোনো সমস্যা নিয়ে যখনই কোনো শান্তিপূর্ণ-আন্দোলন করার চেষ্টা করে তখনই সেখানে তাদের অপরাজনীতির অপকৌশল নিয়ে ঢুকে পড়ে “জামায়াত-শিবির-বিএনপি” নামক অপরাজনীতির ধারক-বাহকরা। আর তারা এখানে ঢুকে নিজেদের দলীয় স্বার্থের ফায়দা লুটতে চায়। মিম ও করিমের মৃত্যুর পর তাদের স্বজন ও বন্ধুরা শান্তিপূর্ণভাবে যে প্রতিবাদ ও মিছিল করছিলো সেখানে এখন দানবীয় আগ্রাসন দেখতে পাচ্ছি।

সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যানারে (যদিও এখন আর তা নেই) ‘নিরাপদ সড়কে’র দাবিতে জাতির সামনে ৯-দফা পেশ করা হয়েছিলো। বর্তমান গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার দেশ ও জাতির স্বার্থে তা সহজেই মেনে নিয়েছেন। এজন্য সরকারকে সাধুবাদ ও ধন্যবাদ।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ৯-দফা নিজেও মেনে নিয়েছেন। তিনি নিহত মিম ও করিমের পিতা-মাতাকে ডেকে তাদের সঙ্গে শোকাভিভূত হয়েছেন। তাদের হাতে ২০লক্ষ করে মোট ৪০লক্ষ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র তুলে দিয়েছেন। ‘রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে’র জন্য ৫টি বাসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা-বৃদ্ধি করেছেন। তিনি আপনজনের মতো এই দুটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিরাপদ সড়ক গড়ার জন্য তিনি সরকারের দায়িত্বশীল সকল প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন।

সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নামে শুরু হওয়া আন্দোলন ইতোমধ্যে ‘ছিনতাই’ হয়ে গিয়েছে। তারা নানারকম সহিংসতাসৃষ্টি করেছে, করছে। বাসে আগুন দিয়েছে। এখনও হয়তো আগুন দিচ্ছে। এই আন্দোলনে ঢুকে পড়া ‘জামায়াত-শিবিরের ও বিএনপি’র একাধিক সন্ত্রাসী-ক্যাডার পর্যন্ত ধৃত হয়েছে। তবুও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ ও প্রশাসন সকলের সঙ্গে ভদ্রোচিত আচরণ করছে। এটি সরকারের মহানুভবতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতা। তবুও একটি ষড়যন্ত্রকারীগোষ্ঠী এই সাধারণ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু তা কখনও সফল হবে না, ইনশা আল্লাহ। এরা বাংলাদেশের সেই পুরাতন শকুনগোষ্ঠী। এরা পাকিস্তানের কসাইবংশের কসাই, জল্লাদ আর রাজাকার।

রাস্তায় ছাত্র-নামের একশ্রেণীর ঘৃণ্য জীব এখন শ্লোগান দিচ্ছে: পুলিশ কোন চ্যাটের বাল; লাঠিচার্জ চুদি না; পুলিশ চোদার টাইম নাই; ব্রিজের উপর কাউয়া পুলিশ কার শাউয়া; টিনের চালে কাউয়া নৌমন্ত্রী আমার শাউয়া; বিচারপতি চোদার টাইম নাই; ক্ষমতা চুদি না; মদ খাবা আর পুলিশ চোদবা; পাতার নাম পুদিনা পুলিশ তোমায় চুদিনা; ছাত্রলীগ আওমালীগ চুদি না, দেশ আমার রাস্তা আমার (এই বেজন্মারা আওয়ামীলীগ-শব্দটিও শুদ্ধভাবে লিখতে জানে না!); লাঠির ভয় দেখাবে না, লাঠি একদম ভরে দিব; কমরেড, রাজনীতি মেধায় লাথি মারছে, রাজা আছে নীতি নাই, নেতা চোদার টাইম নাই; পুলিশ আমার শাউয়ার বালও না; আমি পুলিশের ছেলে কিন্তু পুলিশ চোদে কে; পুলিশ খানকির পোলা; নিরাপদ কনডম নয় নিরাপদ সড়ক চাই; তালগাছে কাউয়া পুলিশ আমার শাউয়া ইত্যাদি। তবুও দেশের সরকার এদের প্রতি সহানুভূতিশীল-আচরণ-প্রকাশ করছে।
ছাত্রছাত্রী-নামধারী এই বেজন্মাদের বহনকৃত পোস্টারের নিচে লেখা রয়েছে: wwj আর spsc এগুলো কী? এগুলো কোন জারজসংগঠন? দেশবাসী তা আজ সবিনয়ে জানতে চায়। আর কেনই-বা এইসব জারজসংগঠন কোমলমতী-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে এসব অপসংস্কৃতি ও অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে? আমরা বুঝে গিয়েছি, এরা সেই দেশবিরোধীজারজশক্তি। এদের উদ্দেশ্য যে ভালো নয়—তা এইসব লেখা দেখলেই বোঝা যায়। আর এর পিছনে ইন্ধনদাতা হিসাবে রয়েছে ‘জামায়াত-শিবির-বিএনপি’র নষ্টরাজনীতি। এদের কঠোরহস্তে দমন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শেখ হাসিনা মানুষের জন্য কাজ করছেন, লড়াই করছেন—তবুও তাঁর এতো দোষ! আর যারা দেশের মাটিতে ‘গ্রেনেড-হামলা’ করে শত-শত মানুষের জীবনবিপন্ন করে ইংল্যান্ডে পলাতক—তারা বুঝি খুব সোনার ছেলে?

এই দেশে কতরকমের নরপশু বিচরণ করছে। একটার নাম জামায়াত-শিবির। আরেকটার নাম বিএনপি। এরা এই দেশের সবচেয়ে বড় পশুগোষ্ঠী। আর এদেরই আবার আন্ডাবাচ্চা রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তিকমিটি, জেএমবি, হিযবুত তাহরীর নামে এখনও সক্রিয়। এরা প্রতিনিয়ত তথা নিত্যনতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আর এই নরপশুদের নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্রপরিচালনা করতে হচ্ছে শেখ হাসিনাকে। পৃথিবীর কোনো দেশে এইজাতীয় হিংস্র শ্বাপদ-হায়েনাসদৃশ আপদ নাই। এদের মতো ভয়ংকর পশুদের নিত্যনৈমিত্তিক ষড়যন্ত্র-মোকাবেলা করে রাষ্ট্রপরিচালনা করা চাট্টিখানি কথা নয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গঠনমূলক সমালোচনা যেকেউ করতে পারেন। সমালোচনার দরজা খোলা। কিন্তু তা-না করে একটি সড়ক-দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি নগ্নভাবে আক্রমণ ও গালিগালাজ করছে! এরা কারা? এদের উদ্দেশ্যই-বা কী? এরা কী চায়? এরা কি আবার ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ১লা অক্টোবরের ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ‘বিএনপি-জামায়াত’ নামক চারদলীয় জোটকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে চায়? তাদের ভাব-সাব দেখেতো তা-ই মনে হচ্ছে। এরা মনে করে, এদের ‘বিএনপি-জামায়াত’ কোনোরকমে আর-একবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাদখল করতে পারলে আবার এরা জামাইআদরে থাকবে! কিন্তু চারদলীয় ‘রাজাকার-জোটে’র দুঃশাসনের কথা এই জাতির এখনও মনে আছে।

ভুলত্রুটি মানুষের থাকবেই। শেখ হাসিনার সরকারেরও ভুল হবে—এটাই স্বাভাবিক। তাঁর বিরুদ্ধে যেকোনো ভদ্রোচিত সমালোচনা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু একটি চিহ্নিত-নরপিশাচগোষ্ঠী আজকাল দেশের যেকোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করে কথা বলতে ভালোবাসে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত-আক্রমণ করতে সামান্যতম লজ্জাবোধ করে না, এবং তাঁকে গালিগালাজ করতে শুরু করে দেয়। তারা শেখ হাসিনার দেশপ্রেম দেখতে পায় না। আর দেশের সকল ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য কি শেখ হাসিনা একাই দায়ী? আর-কারও কোনো ভুলত্রুটি নাই? তোমাদের কোনো ভুলত্রুটি নাই? তোমরা যারা শেখ হাসিনাকে অহেতুক গালি দিচ্ছো তাদের উদ্দেশ্যেই বলছি: শেখ হাসিনাকে গালি দিচ্ছিস কেন বেআদব? আর তুমি নিজে কী করছো? আর দেশের পক্ষে তোমার ভূমিকাই বা কী—তা একটুখানি স্পষ্ট করে বলো তো? আজ আমাদের এই রাষ্ট্রপরিচালনায় সরকারপ্রধান হিসাবে তাঁর ব্যর্থতা-সফলতা যাই থাকুক না কেন, শেখ হাসিনার জন্যই বাংলাদেশ আজও পাকিস্তান হয়নি। আর তাঁর প্রচেষ্টায় আগামীর বাংলাদেশ পাকিস্তান না-হয়ে চিরদিন বাংলাদেশই থাকবে। আমরা শেখ হাসিনার ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি—যাতে তিনি দেশের জন্য আরও বেশি কার্যকর ও সঠিক সিদ্ধান্তগ্রহণের মাধ্যমে আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন।

সাইয়িদ রফিকুল হক
০৩/০৮/২০১৮

6 total views, 1 views today

2
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
1 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
0 Comment authors
সাইয়িদ রফিকুল হকনুর নবী দুলাল Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
নুর নবী দুলাল
ব্লগার

সাধারণ কিছুসংখ্যক ছেলেমেয়ে ওই

সাধারণ কিছুসংখ্যক ছেলেমেয়ে ওই ঘটনার পর থেকে দুই-তিনদিন ‘নিরাপদ সড়কে’র দাবিতে এবং ‘সড়ক-দুর্ঘটনা’ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তাদের ৯-দফা পেশ করলে দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার তা মেনে নেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনেও শেখ হাসিনা দাবী মেনে নিয়েছিলেন জাতীয় সংসদে ঘোষনা নিয়ে। এরপর শেখ হাসিনা কিভাবে পল্টি খেয়েছিল সেটা সবাই দেখেছে। এখন শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করবে কেন? মুখের ঘোষনাতে শেখ হাসিনাকে এখন কেউ বিশ্বাস করে না। আর এই যৌক্তিক সামাজিক আন্দোলনে যে কোন পক্ষ সমর্থন জানাতেই পারে, এতে দোষের কি দেখলেন? জামাত-শিবির আওয়ামীলীগে ঝাকে ঝাকে প্রতিদিন ঢুকছে। সেটা কি দোষের নয়?