কোরান কি একটা বেহেস্তী কিতাব ? পর্ব -১

কোরান নিজেই দাবী করেছে , কোরান হলো একটা বেহেস্তী কিতাব। সেই দাবীর পিছনে একটা সাক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ সে উপস্থাপন করেছে , যেমন – সুরা হিজর-১৫:৯: আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।(মাক্কি)। এখন দেখা যাক , কোরানকে আল্লাহ সংরক্ষন করতে পেরেছে কি না।

কোরান নিজেই দাবী করেছে , কোরান হলো একটা বেহেস্তী কিতাব। সেই দাবীর পিছনে একটা সাক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ সে উপস্থাপন করেছে , যেমন – সুরা হিজর-১৫:৯: আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।(মাক্কি)। এখন দেখা যাক , কোরানকে আল্লাহ সংরক্ষন করতে পেরেছে কি না।

প্রথমেই নিচের সহিহ হাদিসটা পড়া যাক –

সুনানে ইবনে মাজা( তওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নং- ১৯৪৪। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রজম সম্পর্কিত আয়াত এবং বয়স্ক লোকেরও দশ ঢোক দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা একটি সহীফায় (লিখিত) আমার খাটের নিচে সংরক্ষিত ছিল। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এবং আমরা তাঁর ইন্তিকালে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

কোরানের আল্লাহ তার কোরানকে সামান্য ছাগলের মত জন্তুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে নাই। তার প্রমান উক্ত রজম ও দুধ পানের আয়াত বর্তমান কোরানে নেই। অথচ সেসব মুহাম্মদ নাজিল করে তার চর্চাও করত , সেটা দেখা যাবে নিচের হাদিসে —

সহিহ বুখারি(ইফা), হাদিস নং- ৬৩৬৯। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেছেনঃ, আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, দীর্ঘ যুগ অতিক্রান্ত হবার পর কোন ব্যাক্তি এ কথা বলে ফেলতে পারে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের বিধান পাচ্ছি না। ফলে এমন একটি ফরয পরিত্যাগ করার দরুন তারা পথভ্রষ্ট হবে যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন। সাবধান! যখন প্রমাণ পাওয়া যাবে অথবা গর্ভ বা স্বীকারোক্তি বিদ্যমান থাকবে তখন ব্যভিচারীর জন্য রজমের বিধান নিঃসন্দেহ অবধারিত। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, অনুরূপই আমি স্মরণ রেখেছি। সাবধান! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন, আর আমরাও তারপরে রজম করেছি।

সহিহ বুখারি(ইফা), হাদিস নং- ৬৩৭৪। আসিম ইবনু আলী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা ও যায়িদ ইবনু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল। এ সময় তিনি ছিলেন উপবিষ্ট। সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দিন। এরপর তার প্রতিপক্ষ দাঁড়াল এবং বলল, এ সত্যই বলেছে হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কিতাব মুতাবিক আমাদের ফায়সালা করে দিন। আমার ছেলে তার অধীনে চাকর ছিল, সে তার স্ত্রীর সহিত যিনা করে ফেলে। তখন লোকেরা আমাকে জানাল যে, আমার ছেলের উপর রজমের হুকুম হবে। ফলে আমি একশ ছাগল ও একজন দাসীর বিনিময়ে আপোস করে নেই। এরপর আমি আলিমদেরকে জিজ্ঞাসা করি, তখন তারা বললেন যে আমার ছেলের হদ হল একশ- কশাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। তা শুনে তিনি বললেনঃ কসম ঐ সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই তোমাদের উভয়ের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে দেব। ঐ ছাগল ও দাসীটি তোমার কাছে ফেরত যাবে এবং তোমার ছেলের ওপর অর্পিত হবে একশ কশাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। হে উনাইস! তুমি প্রত্যূষে ঐ মহিলার কাছে যাও এবং তাকে রজম কর। উনাইস সকালে গেলেন ও তাকে রজমকরলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ বুখারি(ইফা), হাদিস নং- ৩৪৬৬। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনে এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলঃ عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ ‘দশবার দুধপানে হারাম সাবিত হয়।’ তারপর তা রহিত হয়ে যায় خَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ এর দ্বারা। (পাঁচবার পান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয়) তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কুরআনের আয়াত হিসাবে তিলাওয়াত করা হত।
‘A’isha (Allah be pleased with, her) reported that it had been revealed in the Holy Qur’an that ten clear sucklings make the marriage unlawful, then it was abrogated (and substituted) by five sucklings and Allah’s Apostle (ﷺ) died and it was before that time (found) in the Holy Qur’an (and recited by the Muslims).
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)পুনঃনিরীক্ষণঃ

সুনানে ইবনু মাজা( তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নং- ১৯৪২। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথমদিকে কুরআনে এই বিধান ছিলো, যা পরে রহিত হয়ে যায়ঃ দশ ঢোক বা পাঁচ ঢোক দুধপানের কমে নিষিদ্ধতা প্রতিষ্ঠিত হয় না।

সকল সহিহ হাদিস প্রমান দিচ্ছে যে রজমের ও দুধপানের আয়াত নাজিল হয়েছিল। সেসব মুহাম্মদের সময় মুসলমানরা চর্চা করত। সেই অনুসারে আমলও করত। অথচ বর্তমান কোরানে তা লিপিবদ্ধ নেই। সামান্য ছাগলেই আল্লাহকে পর্যুদস্ত করে তা খেয়ে হজম করে ছাগলের নাদিতে(পায়খানায়) পরিনত করে ফেলেছে।

কোরানের আল্লাহ তার চ্যালেঞ্জ রক্ষায় সম্পূর্ন ব্যর্থ। তাহলে কোরান কিভাবে বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষিত হলো ? এইমত অবস্থায় কোরানকেই বা কিভাবে বেহেস্তী কিতাব হিসাবে বিশ্বাস করতে পারি ?

কোরানের লিংক: http://www.quraanshareef.org/
হাদিসের লিংক: https://www.hadithbd.com/

197 total views, 1 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of