নারীর জন্যে শেখ হাসিনা : নারীর জন্যে খালেদা জিয়া

?_nc_cat=0&oh=1efda7ffe3cf71d0c82f0a0730d895cf&oe=5BEE66D8″ width=”500″ />

১৯৯৭ সনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে বাংলাদেশ সরকার একটা প্রস্তাব দেয় হাজার কোটি টাকার Female Empowerment প্রকল্প পাসের, যা বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ৫০% বাংলাদেশ সরকার ও ৫০% অর্থ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দিতে রাজি হয়। দরকষাকষিতে বন্ধ থাকে প্রকল্পে অর্থ সংগ্রহ ও বাস্তবায়ন। মাস খানেক পর কি একটা সম্মেলনে “ব্রাসেলসে” যান তখনকার+ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘটনাটি শুনে অতিরিক্ত সচিব তহমিনা হোসেনকে প্রকল্পের কাগজপত্রসহ সাথে নেন তার। নিজেই প্রকল্পের কাগজপত্র নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রধানের সাথে কথা বলে ৯০% ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ১০% বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে, এভাবে প্রকল্পটি পাস করাতে সক্ষম হন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ৯০% টাকা ছিল “গ্রান্ট-এইড” মানে “ফিসাবি হিল্লাহি”। আর বাংলাদেশ সরকারের ১০% ছিল কেবল প্রকল্পের জন্যে সরকারি খাস জমি দেওয়ার চুক্তি। মানে বাংলাদেশ সরকার কোন টাকাই মূলত দেবে না।
:
৬৮০০ মহিলাকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের টাকায় বিএড করিয়ে বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতার চাকুরি দেবে প্রকল্প থেকে। দেবে তাদের বেতন ভাতা, শিক্ষা উপকরণ এবং তাদের জন্যে উপজেলা পর্যায়ে বানাবে “ফিমেল হোস্টেল”। ৬৮০০ মেয়েকে ফিউচার টিচার বানাতে সব কটি সরকারি টিটি কলেজে ভর্তি করা হয় বিনে পয়সায় মেয়েদের ২০০০ সন থেকে। দেয়া হয় মাসিক ভাতা, পুস্তক ইত্যাদি সুবিধাদি। ১৭৭-টি ফিমেল হোস্টেলের টেন্ডার আহবান করে প্রজেক্ট থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে।
:
২০০১ সনে বেগম খালেদা জিয়া জামাতকে নিয়ে ক্ষমতায় আসে। মেয়েদের ক্ষমতায়ন হবে তাই ৬৮০০ বিএড সম্পন্নকারী মেয়ের চাকুরী প্রদানে নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করে সরকার। ১৭৭-টা হোস্টেলের পর আর কোন হোস্টেল নির্মাণের টেন্ডার আহবান করা হয়না আর। ৬৮০০ মেয়ের মধ্য মাত্র ৩০০০ মেয়ের চাকুরি হয় স্কুলে নানাবিধ জটিলতার পরও। বাকি মেয়েরা পাইপ লাইনে পড়ে থাকে। এর মধ্যে ২০০৫ সনে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হয়। মাদ্রাসাকে এ প্রকল্পে আনতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে বলে বাংলাদেশ সরকার কিন্তু ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মাদ্রাসাকে আনতে রাজি হয়না। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নানাবিধ চেষ্টা তদবিরেও আর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ায় না সরকার সেকেন্ড ফেইজে নিতে। হোস্টেলের বিল পরিশোধ না করে আর অনেকগুলো হোস্টেল অসমাপ্ত রেখেই সরকার প্রকল্পের টাকা স্বাস্থ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে ট্রান্সফার করে। তাই ৫২% অব্যবহৃত টাকা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ফেরত নেয় নিজ দেশে। হোস্টেল বানানোর বিল বকেয়া রেখে, প্রায় ৩০০০ মহিলার স্কুলে চাকুরী হওয়ার পরও তাদের বেতন ভাতাদি অপরিশোধিত রেখে, ৩১/১২/২০০৫ তারিখে প্রকল্পটি সরকার বন্ধ করে দেয়। ১৭৭-টা হোস্টেল বানিয়ে অনেক বছর শিক্ষা ভবনে বকেয়া বিলের জন্যে ঠিকাদারগণ ঘোরার পর হাসিনা সরকার আবার ২/৩ বছর আগে পরিশোধ করেছে তাদের বকেয়া, প্রকল্পের অর্থ অন্য মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া টাকাটা ফেরত দেয়া হয়েছে অবশেষে।
:
এ হচ্ছে নারী উন্নয়নে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার কার্যাবলির একটা তথ্যচিত্র। খুঁজলে হয়তো আরো এমন অনেক তথ্য পাবে যাবে। তারপরো বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশের অনেক নারী শেখ হাসিনার চেয়ে বেগম খালেদা জিয়াকেই নাকি বেশি পছন্দ করে। এর ভেতরের মাজেজাটা কি কেউ বলবেন দয়া করে?

16 total views, 1 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of