মসজিদের এইসব ইমামকে ‘মানুষ’ বলা মহাপাপ


মসজিদে ঢুকলেই দেখা যায়, ইমাম-নামধারী একেকটা নরপশু কুরআন-হাদিসের প্রয়োজনীয় আলোচনা বাদ দিয়ে গগণবিদারীকণ্ঠে সরাসরি রাজনৈতিক ওয়াজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এরা বর্তমান-বিশ্বে মুসলমানদের সকলপ্রকার অধঃপতনের জন্য একমাত্র দায়ী করে থাকে ইহুদী-খ্রিস্টানদের।

মসজিদের এইসব ইমামকে ‘মানুষ’ বলা মহাপাপ
সাইয়িদ রফিকুল হক

মসজিদের ত্রিসীমানায় যাওয়ামাত্রই শুনতে পাই ভিন্নধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অবিরাম, অবিচ্ছিন্ন ও মুষলধারে গালিগালাজ। আর এইসব আক্রমণাত্মক গালিগালাজ—পৃথিবীর সকল ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও শিখসম্প্রদায়সহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে। বিশেষত আমাদের বর্তমান-বাংলাদেশের মসজিদগুলোর অধিকাংশ ইমাম-নামধারী-নরপশু, মুসলমানদের বর্তমানে সকল দুরবস্থার জন্য আজ একমাত্র দায়ী করে থাকে ইহুদী-খ্রিস্টান ও হিন্দুসম্প্রদায়কে। এদের মতে, বর্তমান-বিশ্বে মুসলমানদের সকলপ্রকার অধঃপতনের জন্য দায়ী ইহুদী-খ্রিস্টানসম্প্রদায়। এরাই যেন একমাত্র পাপী! আর এই যে, মুসলমান আজ সারাপৃথিবীতে খুন-খারাবি, ধর্ষণ, ব্যভিচার, অনাচার, অত্যাচার, নির্যাতন ইত্যাদির মাধ্যমে ‘রক্তের হোলি’ খেলছে—তার কোনো দোষ নাই। এইসব মসজিদের ইমামদের চোখে মুসলমানদের কোনো অপরাধ নাই। আজ মুসলমানরা মনে করে থাকে: তাদের কোনো অপরাধ নাই! তাদের কোনো গোনাহ-পাপ নাই! আর সমস্ত দোষ শুধু ইহুদী-খ্রিস্টান ও হিন্দুদের। তাদের জন্যই মুসলমানদের আজ এই অধঃপতন! মসজিদের অধিকাংশ ইমাম আজ এই শয়তানীধারণার বশবর্তী হয়ে মসজিদের মিম্বরে বসে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের ভয়ংকরভাবে আক্রমণ করে লাগামহীন কথাবার্তা বলছে। আর এইসব অশিক্ষিত-ইমাম-নামধারী পাগল-ছাগলদের জন্য দেশের সাধারণ মুসলমান পরমতসহিষ্ণুতার পরিবর্তে সীমাহীন বিভ্রান্তি ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে বড় হচ্ছে। এটি আজকের স্বাধীন, সার্বভৌম ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের আদর্শ ও চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আমাদের দেশের অধিকাংশ মসজিদের ইমাম অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, মূর্খ, জাহেল, আনপাড়াহ, ভণ্ড, ওহাবী, মওদুদীবাদী-জামায়াত-শিবিরপন্থী, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীবংশজাত (রাজাকার, আলবদর ও আলশামস), অর্থলোভী, চাকরিলোভী, পাকিস্তানীদালালবংশের উত্তরাধিকারী, ভণ্ডপীরের মুরীদ ও স্রেফ ধর্মব্যবসায়ী। এদের কেউই কখনও সত্যিকারের ধার্মিক নয়। কিন্তু এরা আরবের মরুদস্যুদের মতো শুধু নামকাওয়াস্তে একেকটা মুসলমান। মসজিদের অতিসস্তা এইসব ইমাম মাদ্রাসার সামান্য ডিগ্রী নিয়েই নিজেদের ‘আলেম ভেবে ও সবজান্তা মনে করে’ মসজিদের মিম্বরে বসে দেশের সাধারণ শিক্ষিত, ভালোমানুষ ও দেশপ্রেমিক-নাগরিকদের উদ্দেশ্যে যা-খুশি তা-ই বলে যাচ্ছে। দেশের ১০০০টা ইমামের মধ্যে হয়তো দুই-একটা মানুষ হতে পারে। আর বাকী ৯৯৯টাই অমানুষ—মানুষ-নামের জানোয়ার। এরা এদের পূর্বপুরুষদের মতো এখনও পাকিস্তানের দালাল। আবার কেউ-কেউ সরাসরি পাকিস্তানের দালাল ছিল আর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী। এই নরপশুগুলোই এখন ফ্রি-থাকা-খাওয়া ও বেতনের লোভে মসজিদের ইমাম সেজে বসেছে। এদের অত্যাচারে দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অবস্থা আজ ত্রাহি-ত্রাহি। এরা মসজিদে বসে দিন-রাত ইসলামের নামে মিথ্যাকথা বলে যাচ্ছে।

মসজিদে ঢুকলেই দেখা যায়, ইমাম-নামধারী একেকটা নরপশু কুরআন-হাদিসের প্রয়োজনীয় আলোচনা বাদ দিয়ে গগণবিদারীকণ্ঠে সরাসরি রাজনৈতিক ওয়াজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এরা বর্তমান-বিশ্বে মুসলমানদের সকলপ্রকার অধঃপতনের জন্য একমাত্র দায়ী করে থাকে ইহুদী-খ্রিস্টানদের। আর তাই, এরা মসজিদের মাইক-ব্যবহার করে আমেরিকা, ইসরাইল, রাশিয়া, ভারত, ইতালী, জার্মানী, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশের মুণ্ডুপাত করতে থাকে। কিন্তু এরা কখনও এদের জন্মজন্মান্তরের বাপ—পাকিস্তান, সৌদিআরব, তুরস্ক ইত্যাদির বিরুদ্ধে কোনোকিছু বলে না। এই ইমাম-নামধারী-কাটমোল্লাদের দ্বিতীয় বাপ সৌদিআরব নিজেদের শয়তানী সাম্রাজ্যবিস্তার ও আধিপত্যপ্রতিষ্ঠার জন্য আজ প্রকাশ্যে ইয়েমেন ও সিরিয়ায় প্রতিদিন একের-পর-এক বিমান-হামলা, বোমা-হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র-মারণাস্ত্র প্রভৃতি-ব্যবহার করে নারী-শিশু থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করছে! বর্তমানে রুটিন করে প্রতিদিন-নিয়মিত সৌদিবাহিনী ইয়েমেন ও সিরিয়ার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, মার্কেট ও বসতবাড়িতে বিমানহামলাসহ অন্যান্য ভয়ানক হামলাও পরিচালনা করছে। এতে মসজিদের এইসব ইমামের কোনো ভাবান্তর হয় না। কারণ, সৌদিআরব এদের দ্বিতীয় বাপ। আর এদের প্রথম বাপ পাকিস্তান প্রতিদিন তালেবানীহামলায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লী, শিশু ইত্যাদি হত্যা করছে। এমনকি বিবাহের বরযাত্রী, বর-কনে থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষও মারছে—তাতে এই মসজিদের ইমাম-নামধারী-শয়তানদের মনে একবার কোনো দরদভাব জাগে না। এখানে, তারা তালেবানদের কোনো দোষ বা অপরাধ খুঁজে পায় না। এখানে, তালেবানরা লোকালয় থেকে শুরু করে মসজিদে পর্যস্ত হামলা করছে! তবুও আমাদের দেশের এইসব ইমাম-নামধারী বরাহ-হায়েনাদের মনে কোনো মায়া জন্মে না! আসলে, এদের চোখে মুসলমানের কোনো দোষত্রুটি, অপরাধ বা পাপ নাই! তাই, মুসলমান যত খুশি তত অকাম-কুকাম ও গোনাহ করতে পারবে। এইজন্য এইশ্রেণীর মুসলমান আজকে দেশব্যাপী-বিশ্বব্যাপী ‘মানুষহত্যা’ করতে ভালোবাসে।

আমাদের দেশের ইমামদের তৃতীয় বাপ তুরস্ক তার দেশের মানুষকে মৌলিক-মানবিকসহ সকলপ্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তুরস্কের বর্তমান-প্রেসিডেন্ট এরদোগান নামক একটা কাটমোল্লা ও মৌলবাদীশয়তান দেশটাকে মোল্লাতান্ত্রিক-সমাজব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর সেখানে, বিনাবিচারে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নির্মূল করা হচ্ছে—তবুও এই ইমাম-নামক শয়তানদের মুখে এসবের বিরুদ্ধে কখনও একটা কথাও বলতে শুনি না। বিগত কয়েক-মাস যাবৎ একনাগাড়ে জুম্মার নামাজের খুতবার আলোচনায় শুধু ইহুদী-খ্রিস্টানদের গালিগালাজ করতে শুনেছি। সৌদিআরব, পাকিস্তান কিংবা তুরস্কের শয়তানীকর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এইসব ইমাম-নামধারী-খবিসদের একটা কথাও বলতে শুনি নাই। অধিকন্তু, মসজিদের এইসব ইমাম তুরস্কের নতুন মোল্লা একটা এরদোগানের প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলে ফেলছে! আর পরের বাড়ি ও জাকাত-ফিতরা খাওয়া এইসব মোল্লা একটা ছদ্মবেশীসন্ত্রাসী এরদোগানকে “বর্তমান মুসলিম-মিল্লাত তথা মুসলিম-জাহানে’র খলিফা হিসাবে অভিহিত করছে! এছাড়া, তাদের পাকিস্তান আর সৌদিআরব বাপ যা করে তা-ই সঠিক। আর দোষ শুধু ইহুদী-খ্রিস্টানদের! এই হলো বাংলাদেশের অধিকাংশ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঈমান, বিশ্বাস ও ধারণা!

মসজিদের ইমাম-নামধারী-মোল্লাগুলো মসজিদের মতো জায়গায় বসে পরধর্মের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও বিষোদগার করতে বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ করে না। এরা এমনই একজাতের মুসলমান! অথচ, এইসব ইমাম-নামধারী-কাটমোল্লাদের যদি আজ বলা হয়, খুব শীঘ্র তোমাদের আমেরিকায় কিংবা ইউরোপের যেকোনো দেশে যাওয়ার জন্য ভিসার ব্যবস্থা করা হবে—তোমরা যেতে রাজী কিনা? তখন, সবাই একবাক্যে-একলাফে রাজী হয়ে যাবে। আর সবার চাহিদার শীর্ষে থাকবে আমেরিকা! তারপর যদি আরও বলা হয়—ভিসা-অফিসে গিয়ে তোমাদের সবার ‘পায়জামা-পাঞ্জাবি-জাঙ্গিয়া’ খুলে একেবারে উলঙ্গ হয়ে দাঁড়াতে হবে—এরা তাতেও রাজী। দেখুন, ইহুদী-খ্রিস্টানদের দেশের ভিসা পাওয়ার জন্য এরা সবার সামনে ন্যাংটা হতেও রাজী! নিজেদের স্বার্থে এভাবে এদের কাছে সবকিছু জায়েজ। আর এই শয়তানগুলোই কিনা সামাজিক অস্থিতিশীলতাসৃষ্টির লক্ষ্যে মুসলমানদের নিজস্ব পাপকে ‘পাপ’ বলে স্বীকার না-করে নিজেদের নৈতিক অধঃপতনের জন্য আজ অহেতুক ইহুদী-খ্রিস্টানদের গালিগালাজ করছে। আর সাধারণ মুসলমানদের আরও বিভ্রান্ত করছে। এরা সবসময় মিথ্যার বেসাতি করে দেখাতে চায় যে, পৃথিবীর সকল সমস্যার জন্য একমাত্র দায়ী ইহুদী-খ্রিস্টানগণ। আসলে, আজ পৃথিবীর প্রমাণিত সত্য হলো—মুসলমান-জঙ্গিরাই এখন পৃথিবীর সকল মানুষের মাথাব্যথার মূলকারণ, এবং এরাই সারাবিশ্বের শান্তিকামীমানুষের শান্তিবিনষ্টকারী-শয়তান। এদের জন্যই পৃথিবীতে আজ ধর্মের নামে অধর্ম প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এইসব ইমাম-নামধারী-নরপশুর চোখে এখন মুসলমানদের সাতখুন পর্যন্ত মাফ! আর অন্য ধর্মাবলম্বীদের সুন্দর, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনপ্রণালীও এদের চোখে দোষণীয়! কারণ, তারা কেন মুসলমান হয়নি!

বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘জামায়াত-শিবিরে’র মতো নিকৃষ্ট কোনো প্রাণি পৃথিবীর আর-কোথাও নাই। এদের মতো নৃশংস প্রাণি পৃথিবীর আর-কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরা প্রতিদিন যে পরিমাণে মিথ্যাকথা বলে—তা শুনে স্বয়ং ইবলিশ শয়তানও যারপরনাই লজ্জিত ও বিস্মিত। অথচ, আমাদের দেশের অধিকাংশ মসজিদের ইমাম-নামধারী-শকুন এই ‘জামায়াত-শিবিরে’র পদলেহন করতে সদাব্যস্ত। এদের কাছে ধর্ম আজ শুধুই ভোগ-বিলাসিতা ও বিনোদনের একমাত্র হাতিয়ার। জামায়াত-শিবিরের এতো-এতো অপকর্ম চোখের সামনে সংঘটিত হতে দেখেও আমাদের দেশের মসজিদের ইমামদের কখনও প্রতিবাদী হতে দেখেছেন? উত্তরটি নিশ্চয়ই সবার জানা আছে। আর সেটি একমাত্র ‘না’।

আমাদের দেশের একশ্রেণীর মুসলমানের যাবতীয় অপকর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করা যেতে পারে। কারণ, এইসময় তাদের আসল চেহারা ও চরিত্র প্রকটভাবে প্রকাশিত ও বিকশিত হয়েছিলো। আর সেই ধারা এখনও বহাল রয়েছে। এখানে, খুব সংক্ষেপে বঙ্গীয়-মুসলমানদের পাপের ও অপকর্মের কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো:

১. ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের মুসলমান-নামধারী জামায়াত-শিবিরচক্র (শিবিরের পূর্বনাম: ইসলামী ছাত্রসংঘ) তথা সেদিনের ‘জামায়াতে ইসলামী পূর্বপাকিস্তান’ যারপরনাই পাপ, অপকর্ম ও শয়তানী করেছিলো। আর এরা ‘পাকিস্তান’ নামক রাষ্ট্রটির পক্ষ নিয়ে নিজদেশের বাঙালিদের হত্যা করার জন্য গঠন করেছিলো—পৃথিবীর সর্বকালের সর্বকুখ্যাত ‘রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটি’ নামক হায়েনাবাহিনী। এরা খুন, ধর্ষণ, লুটতরাজ, ব্যভিচার, গণহত্যা, গণধর্ষণ থেকে শুরু করে পৃথিবীর ইতিহাসে সংঘটিত সমস্ত জঘন্য অন্যায় ও অপকর্ম করেছিলো। এদের অপকর্মের কথা সবার নিশ্চয়ই জানা আছে? আজও এই জামায়াত-শিবিরের একটি প্রাণি কি তাদের দ্বারা সংঘটিত এই সমস্ত অপকর্মের জন্য কখনও অনুতপ্ত হয়েছে? না, হয়নি। আরও হবেও না কখনও। তবুও এই হায়েনাগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের দেশের মসজিদের ইমামরা একটি কথাও বলে না। এরা ওই হায়েনাগোষ্ঠীরই বংশধর ও বশংবদ। এরা শুধু অন্যের দোষ ধরতে জানে।

২. ২০১৩ সালের ৫ই মে’র ‘হেফাজতে শয়তানে’র দেশবিরোধী-ধ্বংসাত্মক-তাণ্ডবলীলার কথা সবার মনে আছে? নিশ্চয়ই আছে। এই হেফাজতীশয়তানরা সেদিন রাস্তাঘাট, সরকারি-অফিস-আদালত, সাধারণ মানুষের দোকানপাট, বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ও মানুষের ক্ষতি করা থেকে শুরু করে মুসলমানদের ‘কুরআনশরীফে’ আগুন দিয়েছিলো! তবুও এই শ্রেণীর ইমামরা এব্যাপারে এখনও নীরব। আর এরা নিজেরাও ‘হেফাজতে শয়তানে’র অনুসারী ও অনুগামী।

৩. ২০১৪ সালের ৫ই জানুআরির জাতীয় সংসদের নির্বাচন বানচাল করার জন্য সেদিনের কুখ্যাত ‘জামায়াত-শিবির-বিএনপি’রা একযোগে-একটানা ৯০দিন আন্দোলনের নামে ‘হরতাল-অবরোধ’ করাসহ দেশের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা লোমহর্ষক ‘আগুনসন্ত্রাসে’র মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিলো। এসব দেখেশুনে-জেনেশুনেও কোনো মসজিদের কোনো ইমাম কোনোদিন কি এইসব শয়তানের বিরুদ্ধে একটি বাক্যও তৈরি করেছে? না, করেনি। তার কারণ, এরাও এই শয়তানীঅপকর্মে বিশ্বাসী। এরাও ‘জামায়াত-শিবিরে’র ভয়াবহ পেট্রোলবোমা-মারার পক্ষে। এরা আজও সেইসব চিহ্নিত-শয়তানের সমগোত্রীয়। আর বাংলাদেশবিরোধী-প্ল্যাটফর্মের সক্রিয় সদস্য।

৪. বিশ্বব্যাপী ‘আইএস-জঙ্গিরা’ প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে নির্বিচারে মানুষহত্যা করছে—এসব দেখেও মসজিদের ইমামরা নীরব ও নিশ্চুপ। কেউ-কেউ লোকদেখানো-দায়সারাভাবে এর সামান্য সমালোচনা করলেও আবার সঙ্গে-সঙ্গে শয়তানী করে বলে থাকে: এসবের পিছনেও আজ ইহুদী-খ্রিস্টানদের চক্রান্ত! অর্থাৎ, মুসলমানদের কোনো দোষ, অপরাধ ও পাপ নাই!

৫. পাকিস্তান নামক শয়তানের রাষ্ট্রটি পৃথিবীতে ‘তালেবানে’র মতো ভয়ংকর নরপশুদের জন্ম দিয়ে আজও তালেবানীসন্ত্রাস-সম্প্রসারণে নিয়োজিত। আর এই পাকিস্তান আজও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানারকম শয়তানীষড়যন্ত্র ও তালেবানী অসভ্যতা-সন্ত্রাস-বিস্তারের চক্রান্ত করছে। আমাদের বাংলাদেশের কোনো মসজিদের ইমাম কি কখনও এর বিরোধিতা করেছে? না, করেনি। কারণ, এরা পাকিস্তানের দালাল ও সন্তানসন্ততি। এরা সবসময় ভিতরে-বাইরে তালেবানীসন্ত্রাসসৃষ্টির পক্ষে।

৬. সৌদিআরব, পরিকল্পিতভাবে ইয়েমেনে-সিরিয়ায় নিরীহ মুসলমানদের হত্যা করছে। নিজদেশের শিয়াসম্প্রদায়কে একের-পর-এক হত্যা করছে। আর এই সৌদিরা ইসলামের নামে যথেচ্ছা নারীসম্ভোগ করছে। নারীসম্ভোগের জন্য সৌদিআরব আমাদের দেশের কমবয়সী ও অভাবী মেয়েদের সৌদিয়ানদের গৃহপরিচারিকা বানানোর কথা বলে তাদের উপর ইতিহাসের ভয়ংকর ‘যৌননির্যাতন ও যৌনসন্ত্রাস’ চালাচ্ছে। এসব জেনেশুনে আমাদের দেশের মসজিদের গলাবাজ-ইমামরা নীরব-নিশ্চুপ! সৌদিআরবের ভোগবাদী ও যৌনবিলাসী বাদশাহ ও শাহজাদাদের এতো-এতো ‘পাপ’ আমাদের দেশের এইসব তেলবাজ ও চালবাজ ইমামদের চোখে পড়ে না! কারণ, এরা যে শয়তানের অনুসারী।

৭. আমাদের দেশের হেফাজতীরা (হেফাজতে ইসলাম ওরফে হেফাজতে শয়তান) বর্তমানে নিয়মিত রাষ্ট্রবিরোধী শয়তানী করে যাচ্ছে—তবুও এইসব ইমাম নামক নরপশু এদের বিরুদ্ধে কখনও-কোনোদিন একটি কথাও না-বলে দিন-রাত শুধু নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত রয়েছে।

৮. সারাবিশ্বে মুসলমান-সন্ত্রাসীদের কারণে আজ সকল ধর্মের মানুষ অতিষ্ঠ, নির্যাতিত, তটস্থ ও আতঙ্কিত। তবুও এই মোল্লাগুলো মসজিদের মিম্বরে বসে মুসলমানদের নিজস্ব-পাপকে সম্পূর্ণ আড়াল করে গালিগালাজ করছে ইহুদী-খ্রিস্টানদের! এরকম শয়তান শুধু ভারতীয় উপমহাদেশে চোখে পড়বে।

৯. আজ পর্যন্ত (বর্তমান-পৃথিবীতে) ‘ইহুদী-খ্রিস্টান’দের কোনো জঙ্গিসংগঠন আছে? উত্তরটি নিশ্চয়ই না। অথচ, বর্তমানে-মুসলমানদের দেশে-বিদেশে জঙ্গিসংগঠনের সংখ্যা কমপক্ষে হাজারখানেক। এসব কীসের আলামত? সত্য কখনও ধামাচাপা থাকে না। এরপরও মসজিদের মিম্বরে বসে অশিক্ষিত ইমামরা ভিন্নধর্মাবলম্বী তথা ‘ইহুদী-খ্রিস্টান’দের অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করবে? এটি কোন ধরনের স্বাধীনতা বা ধর্মবিশ্বাস? আর এসব জঘন্য মতপ্রকাশকে কি ধর্ম বলা যায়? স্বাধীন ফিলিস্তিন আজও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেনি—একমাত্র সে-দেশের জঙ্গি-মুসলমানদের কারণে। কারণ, সেখানে ‘হামাসে’র মতো একটি নৃশংস ‘মুসলমান-জঙ্গিসংগঠন’ রয়েছে। আজ আমাদের দেশের অশিক্ষিত ইমামরা দিন-রাত শুধু ইসরাইলীদের তথা ইহুদীদের গালিগালাজ করছে! কিন্তু সব জেনেশুনেও তারা ‘হামাসে’র মতো নৃশংস সংগঠনের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলে না। এক্ষেত্রে কে তাদের মুখে তালা দিয়েছে?

১০. বাংলাদেশে এখনও ‘জামায়াত-শিবির’ পাকিস্তানপন্থী, রাজাকারপন্থী ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতির ধারক ও বাহক। তারা আগের মতো বাংলাদেশবিরোধী-অপশক্তি। তবুও মসজিদের ইমামরা এদের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলে না।

১১. বাংলাদেশের কওমীমাদ্রাসা, নুরানীমাদ্রাসা, হেফজখানা ও আলিয়ামাদ্রাসাগুলোতে একশ্রেণীর হাফেজ, মোল্লা, মৌলোভী, মাওলানা নামধারণকারী দুনিয়ালোভী ইতর প্রাণি ছাত্রদের উপর যৌননির্যাতন করছে। এরা মাদ্রাসার কোমলমতীশিক্ষার্থীদের নিয়মিত বলাৎকার করছে। এখানকার অনেক হুজুর, পাতিহুজুর ও মোল্লা সমকামী। কিন্তু কোনো হুজুর, পাতিহুজুর বা মসজিদের ইমাম তা কখনও স্বীকার করে না। এরা সব জেনেশুনেও এসবকে আরও ধামাচাপা দেয়। আর এগুলো যারা প্রকাশ করে তাদের ‘নাস্তিক’ ও ‘মুরতাদ’ বলে তিরস্কার করে থাকে। এরাই আজ সমকামিতার বিরুদ্ধে মাঠে-ময়দানে বীরদর্পে ওয়াজ-নসিহত করে বেড়ায়। আর এসবের পিছনেও ‘ইহুদী-খ্রিস্টান’দের চক্রান্তকে দায়ী করে থাকে! হায়রে ধর্ম, সত্য বলতে ও স্বীকার করতে আজ এতো ভয়!

১২. দেশের অধিকাংশ মাদ্রাসার বেশিরভাগ হুজুর ও পাতিহুজুর পরীক্ষায় পাসের জন্য নকলকে এখনও ‘জায়েজ ও হালাল’ মনে করে থাকে। এরা মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় নকলে সর্বপ্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা করে থাকে। কিন্তু মসজিদের ইমামরা সব জেনেশুনে কোনোদিনও এসবকথা স্বীকার করে না। কারণ, সে নিজেও হয়তো নকল করে পাস করেছে। আর এদের কাছে পরীক্ষায় পাসের জন্য নকল সবসময় ১০০% জায়েজ ও হালাল।

১৩. সৌদিআরবের ভয়াবহ আগ্রাসনে ইয়েমেনে ৫২লক্ষ শিশু আজ দুর্ভিক্ষের শিকার। সিরিয়ায় মরছে আরও লক্ষ-লক্ষ মানুষ। রেহাই পাচ্ছে না নারী ও শিশুরাও। তবুও বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ইমামরা সৌদিআরবের ‘মুত’ খেতে সদাব্যস্ত। ইয়েমেনে ও সিরিয়ায় শিশুরা তথা শিক্ষার্থীরা বছরের-পর-বছর স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। লক্ষ-লক্ষ আহত মানুষ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তবুও আমাদের বাংলাদেশের মসজিদের একটা ইমাম এদের জন্য একটা কথা বলে না! একটু কাঁদে না। অথচ, পার্শ্ববর্তী মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য এদের কলজে একেবারে ফেটে যায়! আমাদের পার্শ্ববর্তী মায়ানমার বৌদ্ধরাষ্ট্র! তাই, তাদের বিরুদ্ধে ইমাম-নামধারী মোল্লারা দিন-রাত কত গালিগালাজ করেছে, করছে। কিন্তু এদের সৌদি-বাপ-কর্তৃক এতো-এতো হত্যা, অত্যাচার, নির্যাতন, ব্যভিচার ও অনাচার দেখেও কারও মুখে একটা প্রতিবাদী কথা ফোটে না! এরা মসজিদে বসে গালিগালাজ করে ইহুদী-খ্রিস্টানদের!

১৪. সারাবিশ্বে জঙ্গি-উৎপাদনের প্রধান দেশ হলো পাকিস্তান। এমনকি পৃথিবীতে প্রতিদিন মোট যে পরিমাণে শয়তানী, সন্ত্রাস, জঙ্গিপনা, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি হয় তার ৭০ভাগ এক পাকিস্তান দ্বারাই সৃষ্ট। এই পৃথিবীতে পাকিস্তানের মতো শয়তানরাষ্ট্র আর-কোথাও নাই। তবুও আমাদের দেশের অশিক্ষিত ইমামরা তাদের প্রথম ‘বাপ’ পাকিস্তানের এহেন-যাবতীয় শয়তানীর ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে দিন-রাত ভারতের বিরুদ্ধে তথ্যসন্ত্রাস ও তথ্যআগ্রাসন চালাতে থাকে। ভারত হিন্দুপ্রধান রাষ্ট্র বলে সবসময় তাদের গা-জ্বালা হতে থাকে। তবুও ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষরাষ্ট্র। আর পাকিস্তান ইসলামের নামে একটি মোল্লাতান্ত্রিক শয়তানরাষ্ট্র। তবুও বাংলাদেশী ইমাম-নামধারী কাটমোল্লারা ভারতের বিরুদ্ধে সবসময় মনগড়া, বানোয়াট, আবোলতাবোল, আলতুফালতু, আজেবাজে, অশ্লীল, উদ্ভট ও মিথ্যা বলে থাকে। আর এসব মিথ্যা বলতে আমাদের দেশের ইমাম-নামধারী মোল্লাদের ভালো লাগে। এই মিথ্যাবাদীরাই এখন আমাদের দেশের মসজিদের ইমাম!

১৫. ওয়াজ-নসিহতের নামে অশিক্ষিত মোল্লা ও ইমামরা সারাদেশে আজ ত্রাসের রাজত্ব-কায়েম করেছে। এরা ওয়াজ-নসিহতের নামে নিজদলীয় শয়তানীএজেন্ডা-বাস্তবায়নের নীলনকশা করে যাচ্ছে। ওয়াজমাহফিলের নামে অশিক্ষিত-মোল্লারা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এদের ওয়াজের শতকরা ৯৮ভাগ কথাই সম্পূর্ণ মিথ্যা। মসজিদের ইমাম-নামধারী-অমানুষগুলো এসব দেখেশুনেও চুপচাপ। আর অনেক মসজিদের ইমামই এইসব শয়তানীওয়াজ-নসিহতে লিপ্ত। আজকাল এসবকিছু বুঝি তারা ইহুদী-খ্রিস্টানদের কথায় করছে! তাদের শয়তানীধারণা তা-ই। এরা নিজেদের সমস্ত শয়তানীকে ইহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র বলে চালাতে চায়।

সারাবিশ্বে আজ পাপ করছে মুসলমান। তারা মানুষহত্যা থেকে শুরু করে মানুষের জানমালের বিরাট ক্ষতিসাধন করছে। এব্যাপারে তাদের মতো নৃশংস আর-কেউ নাই। এদের এসব অপরাধের কথা বললে—আমাদের দেশের নাপিত-মার্কা ও ইমাম নামক মুসলমানরা বলে থাকে—এসবের মদদদাতা আমেরিকা! মুসলমান আজ জেনেশুনে সমস্ত শয়তানী করে এর দায়ভার চাপাতে চায় ইহুদী-খ্রিস্টানদের উপর। আসলে, আমাদের বাংলাদেশসহ মুসলমানের একটি বড় অংশ আজ শয়তানের অনুসারী হয়ে পৃথিবীতে পাপ ও অশান্তির বীজবপন করে চলেছে। আর এদের পাপের পক্ষে সরাসরি সাফাই গাইছে আমাদের দেশের মসজিদের ইমামরা।

নিজেদের পাপকে আজ কোনো পাপ মনে করে না মুসলমান। নিজেদের পাপে তারা ডুবছে। তবুও তারা এসব কখনও স্বীকার করে না। আর দোষ দেয় সবখানে ইহুদী-খ্রিস্টানদের! তারাই যেন সকল পাপে জড়িত! সত্যকে আড়াল করার জন্য এসব মুসলমানদের একটা অজুহাত মাত্র। আজ সৌদিআরব ইয়েমেনে ও সিরিয়ায় মানুষহত্যা করছে, সেখানে আছে তাদের মিত্রশক্তি আমেরিকা। কিন্তু আমেরিকাকে কে ঘাতকসঙ্গী বানিয়েছে? নিশচয়ই এই সৌদিআরব। ১৯৭১ সালে, আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশরাষ্ট্রটি ধ্বংস করার জন্য আমেরিকাকে জীবনসঙ্গী বানিয়েছিলো পাকিস্তান। সবখানে এই মুসলমানের শয়তানী, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র—আর তারা সবসময় দোষ দেয় ইহুদী-খ্রিস্টানদের!

মসজিদের এইসব ইমাম চিরদিন সত্যকে পাশ কাটিয়ে মিথ্যার ধারক-বাহক হয়ে শয়তানের পূজারী। এরা মিথ্যা বলতে ভয়ানকভাবে পারদর্শী ও অভ্যস্ত। এরা মানুষ কিনা আজ সন্দেহ। এদের মানুষ বলা পাপ আর মহাপাপ।

সাইয়িদ রফিকুল হক
১৯/০৯/২০১৮

392 total views, 4 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of