মেয়েরা অদ্ভুত!

আমি শীতকাল ছাড়া বাকি বছর খালি গায়ে থাকি, ওকে কিন্তু ওর মা পারতপক্ষেও খালি গায়ে রাখে না।

মেয়েরা অদ্ভুত….
মেয়েরা বড্ড অদ্ভুত। ছোট থেকে দেখে আসছি তারা আমার মত নয়। মানে আমার যখন তিন, আমার পাশের বাড়ির মেয়েটিও তিন, কিন্তু কত তফাৎ। যতই বড় হচ্ছি, এই তফাৎটা বেড়ে যাচ্ছে। আমার শরীর শক্ত হচ্ছে, ওর শরীর নরম। আমি বুঝতে পারছি ও আলাদা, অনেক আলাদা।

প্রথমে যে পার্থক্যগুলো চোখে প্রবলভাবে পড়া শুরু করল তা হল আমি দাঁড়িয়ে হিসি করি, ও বসে। আমি শীতকাল ছাড়া বাকি বছর খালি গায়ে থাকি, ওকে কিন্তু ওর মা পারতপক্ষেও খালি গায়ে রাখে না। আমি ছয়ের পর থেকে একা মাঠে যেতে পারি। ওকে মাঠে যেতেই দেওয়া হয় না। আরেকটু বড় হওয়ার পর কাকিমা আর মা মিলে আমাকে ভাইফোঁটা দেওয়াল ওকে দিয়ে। আমি তো ওকে বোন ভাবি না। আমার তো বোন আছে। তবু কেন দিচ্ছে ভাইফোঁটা? আমি আলাদা তাই? আমি খালি গায়ে দাঁড়িয়ে হিসি করি বলে?

আরেকটু যেই বড় হলাম, আমি বুঝলাম ওর সঙ্গে খেলার সময়ে আমার অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে। বুঝলাম না সেটার কারণ কী? মনের মধ্যে কেমন করে ও আমাকে ছুঁলে। অল্প অস্বস্তি, অনেকটা ভাল লাগা। এত্ত আলাদা ও! শুধুমাত্র আঙুল দিয়ে স্পর্শ করে ও আমাকে বশ করে ফেলছে! শুধু ও নয়, স্কুলের আরও কিছু মেয়ে। আমরা সবাই জানি যারা আমাদের বশ করতে পারে, তাদের কাছে আমরা নিজেদের সমর্পণ করি। কারণ ও মেয়ে, কারণ আমার ভাল লাগে মেয়েদের। আমি বুঝতে পারি যে ওরা আলাদা তাই ওদের এত কদর, এত সামলে রাখা।

এরপর স্কুলের গণ্ডীর শেষভাগ এল। মেয়েদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে আমার। এখন শুধু স্পর্শ এবং মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা নয়। পর্নো বই এবং ছবির কল্যাণে আমি জেনে গেছি মেয়েদের প্রতি ভাললাগা আসে আমার ওই জিনিসটা থেকে যা আগে শুধুই ব্লাডারে চাপ পড়লে কাজে লাগত। যন্ত্রটার এই ভার্সিটালিটি আমায় বিস্মিত করেছে। শুধু তাই নয়, আমি জেনে গেছি বাচ্চা ঈশ্বরের দান নয়। বা যেভাবে হয় সেটাই ঐশ্বরিক। আমার ইচ্ছে করে সেটা করতে। একদিকে ভালবাসতে, একইসাথে ভালবাসার মানুষকে নগ্ন দেখতে।

কিন্তু এই ইচ্ছার কথা কাউকে বলা যায় না। এই ইচ্ছাগুলো খারাপ। আমার মেয়েদের স্পর্শ পেয়ে ভাল লাগা খারাপ, আমার মেয়েদের নগ্ন দেখার ইচ্ছা হওয়া খারাপ, সারা শরীর উথালপাথাল হওয়া খারাপ, বন্ধুরা যেভাবে এই ইচ্ছা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশমিত করে, তাও খারাপ। এসব কবে ভাল হবে? বিয়ে করলে। যা অনেক দেরী।

আমি ভাল ছেলে। তাই আমি প্রাণপণ চেষ্টা করি এই ইচ্ছেদমনের। বিয়ে বিয়ে, আগে বিয়ের বয়স হোক। হয় না, পারি না। নগ্নতার ছবি কল্পনা করে ফেলি, কেউ একজনকে আদর করার কথা ভেবে ফেলি। কেন আসছে মাথায় এমন? খারাপ হয়ে যাচ্ছি। ভাল লাগছে না কিচ্ছু। বন্ধুরা কদর্যরূপ গল্প পড়ছে। বোনের সঙ্গে ভাই এর যৌনতা, বউদির সঙ্গে দেবর এর যৌনতা, বাবার সঙ্গে মেয়ে, মায়ের সঙ্গে ছেলে। এতদিন ধরে এই সম্পর্কগুলোর ধারণা বদলে যাচ্ছে অচিরেই। মা’কে আদর করতে ভয় লাগছে। ওসব ভেবে ফেলব না তো? বোন জড়িয়ে ধরলে ভাবছি ইচ্ছে করবে না তো? ভীষণ ভয় লাগছে আমার। কবে হবে বিয়ে? এই প্রবল অপরাধবোধ থেকে কবে মুক্তি পাব আমি?

এখানেই শেষ নয়। রাস্তায় স্বল্পবসনা মেয়ে দেখলে আমার তাকে ছুঁতে ইচ্ছে করছে। বাসে – ট্রেনে মেয়েদের ছোঁয়া লেগে গেলে আমার আবার তাকে ছুঁতে ইচ্ছে করছে। পাশের বাড়ির বৌদি স্নান করলে সব বন্ধুরা যখন দেখতে ছুটছে, খারাপ লাগলেও আমি নিজেকে আটকাতে পারছি না। সব ভাল লাগাই অপরাধ মনে হচ্ছে আমার। এ যেন নিজের শরীরের সঙ্গে যুদ্ধ। শরীর চায় এক, মন বোঝেই না তাকে। মন ভয় পায়, গিল্টে ভোগে, বারণ করে।

এই উপরের ঘটনাগুলো আমার একার গল্প নয়। প্রায় সবার, প্রত্যেকের। আমি চিরকাল জেনে এসেছি হর্নি হওয়া খারাপ। আমাদের আশেপাশের মানুষরা আমাদের তাই বুঝিয়েছে। বলেছে বিয়ে হোক, তারপর ওসব করলে খারাপ হয় না। তারা এটা তো বলে দিয়েছে মেয়েরা আলাদা, তাদের ছুঁতে নেই। তারা বলেনি মেয়েরা অনুমতি দিলে ছোঁয়া যায়। তারা বলেনি, ঠিক আমারই মতন মেয়েটিরও সব, সঅঅঅব এক হচ্ছে। তারা আলাদা খালি শারীরিক গঠনে। আমাকে যেমন বোঝানো হয়েছে এইসব কল্পনা করা পাপ, মেয়েটিকে বোঝানো হয়েছে এমন কিছু কোর না যাতে ছেলেদের এমন ইচ্ছে হয়। হলেই কিন্তু তোমার সর্বনাশ হয়ে যাবে। সর্বনাশ, একটা ছেলেকে ছুঁয়ে ফেললে সর্বনাশ হয়ে যায়। কী হয়? লোকে খারাপ মেয়ে বলে। খারাপ মেয়ের ডেফিনেশন কী? সেই এক গল্প। আমি এখানে ভুগছি অপরাধবোধে, মেয়েরা ভুগছে ভয়ে। নিজেদের ইচ্ছাদমন করে অপেক্ষা করছি বিয়ের। আমাকে শেখানো হচ্ছে, বিয়ে করলেই এইসব অপরাধবোধ শেষ। তারপর আর অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। রাষ্ট্র তোমাকে অধিকার দেবে নিজের স্ত্রীকে ছোঁয়ার। মেয়েটিকে বোঝানো হচ্ছে বিয়ের পর সেই একমাত্র পুরুষদেবতাটির তোমাকে আদর করার অধিকার আছে।

এই ভুলেরই মাশুল দিতে হচ্ছে গোটা দেশের ছেলেমেয়েদের। আমাদের জানানো হচ্ছে না এই শরীর যা চাইছে খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা। অপরাধ হল কাউকে তার অনুমতি ছাড়া ছুঁয়ে ফেলা। হ্যাঁ, সেটা বিয়ের আগে হোক কী পরে। কোনও পার্থক্য নেই। কেন আমরা পরিবারের মধ্যে যৌনতা করি না? জিনগত সমস্যা হতে পারে তা করলে, তা জানানো হচ্ছে না। হস্তমৈথুন/হ্যান্ডেল মারা/ খিঁচিয়ে নেওয়া খারাপ নয়। হিসু – হাগু – খিদে – ঘুমের মতই। এগুলোর মতই পর্যাপ্ত পরিমাণে করতে হয়। শরীরকে আটকে রাখতে নেই। ভাবুন তো, আপনাকে বলা হচ্ছে হাগু পেলে যাবেন না, ওটা নোংরা।
শুনবেন…?

সময় এসে গেছে। আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে বোঝান সেক্স একটি অসম্ভব সুন্দর বিষয়। ভালবাসা এবং সেক্স অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। কন্ডোম কাকে বলে, কেন সেটার প্রয়োজন বোঝান। সমকামিতা কাকে বলে বোঝান, বোঝান আসল অপরাধগুলি কি কি? মেয়েরা অদ্ভুত নয়, মেয়েরা কোন সম্পদ নয়, মেয়েরা মালিক নয়, মেয়েরা গোলাম নয়, শুধু তাদের শারীরিক গঠন আলাদা, ব্যস।

তার সাথেই মনে রাখবেন মেয়েদের অধিকার দেওয়ার আমরা কেউ নই। তারা আমার আপনার মতই তা নিয়ে জন্মেছে। লড়াইটা সেটা যারা কাড়তে চায় তাদের বিরুদ্ধে।

সেক্স এডুকেশন বাড়ি থেকে শুরু করুন। ১০ পেরিয়ে গেছে আপনার ছেলে/মেয়ে? কথা বলুন। আপনি জানেন না কিভাবে বলতে হয়? শিখুন। সন্তানদের ভুল পথে চালনা করে, তারপরে সেই ভুলের জন্য শত কান্নাকাটি করলে কিন্তু তার ঠিক হয় না…©ns

20 total views, 1 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of