আমাদের ১৫টা সুগার মিল ও তা বাঁচিয়ে রাখার উপায়

?_nc_cat=109&oh=11baa48df17d7bbf3c7f3c90d0f04214&oe=5C14956E” width=”500″ />

কৈশোরে আমার গাঁয়ের বাড়িতে গরু মহিষ প্রতিপালন, কৃষিকাজ করা, বাগান ও ফসল রক্ষণাবেক্ষণ, নৌকা চালনা, আমাদের ডিজেলচালিত রাইস হাসকিং মেশিন পরিচালনা ইত্যাদি কাজের জন্য অন্তত ৬-জন বিভিন্ন পদের মানুষ ছিল। শীত সিজনে আরেকজন লোক কাজ করতো, তার পদের নাম ছিল “হিয়ালি”! মানে তিনি প্রত্যহ প্রাকসব্ধ্যায় আমাদের অন্তত ৪০/৪২টা খেজুর গাছ কেটে তাতে হাঁড়ি টানিয়ে দিতেন এবং খুব ভোরে তা নামিয়ে উঠোনে জড়ো করতেন, তারপর তা “তাফাল” নামক এক বিশাল পাত্রে ৫/৬ ঘন্টা জাল দেয়ার পর তৈরি হতো প্রথমে পাতলা ভীড় গুড়, তারপর ঘন ঝোলা ঘুড়, ক্রমে পাটালি ও শেষে চিট গুড়। বর্তমান চকোলেট, টফি ইত্যাদির সাথে আমাদের গাঁ পরিচিত ছিলনা বলে আমরা ঐ সুসাধু “চিটগুড়” হাতে করে খেতাম মুড়ি দিয়ে। ঘরে রাখার কদিন পর ঝোলাগুড় ক্রমে “মিশ্রি গুড়ে” রূপান্তরিত হতো। এ গুড় আমরা খেতাম ঘন মহিষের দধি দিয়ে! যে ঘ্রাণময় স্বাদের গুড় এখন স্বপ্নের মত। বাংলাদেশে ভেজাল গুড়ের কারণে মাঝে মাঝে কলকাতা থেকে নলেন গুড় নিয়ে আসি আমি কষ্ট করে!
:
গুড় আকালের এ যুগে ফেসবুক বন্ধু আনসারী ভাইর আমন্ত্রণে কদিন আগে গেলাম পাবনা সুগার মিল দেখতে। সেখানে জিএম পদে কাজ করেন তিনি। বাংলাদেশে ১৫/১৬টা সুগারমিল টানা লোকসান দিয়ে যাচ্ছে কেবল কেরু এন্ড কোম্পানী ছাড়া এ কথা আগেই জানতাম। তাই দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি হিসেবে জানার আগ্রহ ছিল, কেন সরকারি সুগারমিলগুলো লাভ করতে পারছেনা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসায়ীরা কিভাবে ৪৫/৫০ টাকা দরে চিনি বিক্রি করেও লাভ করছে ক্রমাগত। বিস্তারিত বলা ও চাক্ষুস দেখানোর জন্য তিনি আমায় সাথে নিলেন তার আখ চাষের দুর্গম চর এলাকাতে। পদ্মায় জেগে ওঠা চরে তখন বন্যার জল থৈথৈ পানিতে মাথা তুলে বাঁচার চেষ্টা করছে পাবনা সুগার মিলের প্রণোদনায় চাষকৃত কৃষকের আখগাছগুলো! আনসারী ভাইর সাথে আমি ছাড়াও তার মাঠ সুপারভাইজার, আর এলাকার অন্তত ১০/১২ কৃষক, যারাই মূলত চাষ করেছে আখ পাবনা সুগার মিলের অর্থানকুল্যে তাদের নিজ কিংবা বর্গা জমিতে। যে আখ মাড়াই মৌসুমে সরকারি রেটে কিনে নেবে সুগার মিল। উজানের জলে জল টইটুম্বুর আখ বিলে বাংলাদেশের সুগার মিলের তথ্যভিত্তিক একটানা গল্প শোনাতে থাকে আনসারি ভাই।
:
ঐদিনই প্রথম আলোতে দেখলাম, সরকারি চিনিকলে ১৬ বছরে লোকসান ৩১৭৯ কোটি টাকা। ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলায় উন্নতমানের চিনি সুপরিচিত ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা থেকে বিপুল পরিমাণ চিনি রপ্তানি করতো। ১৭৯৫ সালে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮,২০,১৮৬ মণ ও ১৮০৫ সালে ৩৩,২৪,১৬৮ মণ। পরবর্তীকালে চাষিরা পাট চাষের দিকে ঝুঁকে পড়লে চিনি শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে ভারত তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত চিনি উৎপাদন করতে না পারলেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চিনি রপ্তানি অব্যাহত ছিল। প্রধানত জাভা থেকে আমদানির মাধ্যমে এ ঘাটতি পূরণ করা হতো। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান উত্তরাধিকারসূত্রে মাত্র কয়েকটি চিনিকল লাভ করে। এগুলি ছিল রাজশাহীর গোপালপুরে, দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জে, কুষ্টিয়ার দর্শনায়, ঢাকার চিত্তরঞ্জন ও আড়িখোলা এবং ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জে। এ সকল মিলের মোট আখ মাড়াই ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪,৩৫০ মেট্রিক টন। ১৯৪৭ সালে সর্বমোট ফসলি এলাকার মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় আখ চাষ হতো। পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন চিনির উৎপাদন ক্ষমতা ১০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে ১০টি নতুন চিনিকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়।
:
চাষাবাদ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে চিনি শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। চিনিকলগুলিতে ১৮ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা ছাড়াও ৫ লক্ষ ইক্ষুপরিবারসহ প্রায় ৪৫ লক্ষ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চিনি শিল্পের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে প্রায় ৪ লক্ষ একর জমিতে আখ চাষ করা হয় এবং এতে উৎপাদনের পরিমাণ ৭২ লক্ষ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ২২ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ব্যবহূত হয় চিনিকলে এবং অবশিষ্ট ব্যবহূত হয় গুড় তৈরিতে। বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে ১ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১ লক্ষ মেট্রিক টন ঝোলাগুড় এবং ৪ লক্ষ মেট্রিক টন ছোবড়া তৈরি হয়। প্রতি একরে উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ সর্বনিম্নে। এখানে প্রতি একরে উৎপাদন মাত্র ১৫ মেট্রিক টন অথচ কিউবায় ৩৬ মেট্রিক টন, ইন্দোনেশিয়ায় ৪৫ মেট্রিক টন, অস্ট্রেলিয়ায় ৫৫ মেট্রিক টন এবং হাওয়াই-এ ৭০ মেট্রিক টন আখ উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশে চিনি আহরণের হারও খুবই কম, মাত্র ৭.৪ শতাংশ। পক্ষান্তরে, ইন্দোনেশিয়ায় চিনি আহরণের পরিমাণ হচ্ছে ৯%, কিউবায় ১২.৩%, হাওয়াই-এ ১২.৪% এবং অস্ট্রেলিয়ায় ১৫.৬%। বাংলাদেশ বিশ্বের মোট চিনির মাত্র ১.৫% উৎপাদন করে এবং বিশ্বের ১৩০টি চিনি উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ৬৭তম।
:
এদেশে বর্তমানে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, শ্যামপুর, রাজশাহী, মহিমাগঞ্জ, জয়পুরহাট, দর্শনা, কুষ্টিয়া, মোবারকগঞ্জ, জামালপুর, কালিয়াচাপরা, নরসিংদী, পাবনাসহ মোট ১৫ টি চিনিকল রয়েছে। এসব চিনিকলগুলিতে বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয় প্রায় ২১৫,০০০ টন। কিন্তু চিনিকলগুলিতে পূর্ণমাত্রায় কাজ করতে পারেনা বলে প্রকৃতপক্ষে ১ লাখ টনের কম চিনি উৎপাদিত হয়। সরকারি হিসাবে দেশে এখন বছরে ১৪ লাখ টন পরিশোধিত চিনির প্রয়োজন হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকারি চিনিকলে উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ৫৮ হাজার টন চিনি। বিপরীতে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের চিনি উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) এক সমীক্ষা অনুযায়ী, এক কেজি সরকারি চিনি উৎপাদনে খরচ হয় ৮৮ টাকা। অথচ বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা দরে। চিনিকলগুলো এখনো আখ আইন, ১৯৩৪; প্রেসিডেন্টস অর্ডার নং ২৭ খসড়া সুগার রোড সেস আইন; গুড় নিয়ন্ত্রণ আইন ইত্যাদি দ্বারা পরিচালিত হয়।
:
বিশ্বের প্রথম প্রজন্মের শিল্পগুলোর একটি হচ্ছে বাংলাদেশের চিনিকলগুলো, যার টেকনোলজি অনেকেটাই সেকেলে। অনেক দেশেই এ পুরনো টেকনোলজি বন্ধ করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এসব চিনিকলের উৎপাদন ক্ষমতা আধুনিকায়ন কিংবা বাড়ানো হয়নি। আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি। বিপরীতে বেসরকারি খাতে বিপুল উৎপাদন ক্ষমতার আধুনিক মিল চালু হয়েছে। তাদের টেকনোলজি ও উৎপাদন ক্ষমতার কাছে মার খাচ্ছে সরকারি প্রথম প্রজন্মের যন্ত্রপাতি। ফলে বাজারে সরকারি চিনিকলের ভূমিকা এখন গৌণ হয়ে গেছে।
:
যে সকল কারণে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে সরকারি মিলে
————————————————————
পুরণো যন্ত্রপাতি ছাড়াও্ বেসরকারি মিলগুলো্ যেখানে একটি ভবনে কিংবা ২/৩ একর জমি নিয়ে কাজ করছে, সেখানে প্রতিটি সরকারি মিল বিশাল স্থাপনা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। যাতে মিল, কারখানা ছাড়াও শ্রমিকদের আবাসস্থল, তাদের সন্তানদের জন্য স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, বৃক্ষরাজিসহ পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম, আখ পরিবহণের জন্য গ্রামীণ রাস্তা মেরামত, প্রচারের জন্য বিনামূল্যে পত্রিকা প্রকাশ ও কৃষকদের কাছে তা বিতরণ, সচেতনতামূলক মাইকিং, পোস্টারিং, সিনেমা, লিফলেট, স্বল্পঋণে বীজ, সার, কীটনাশক, নগদ টাকাসহ উপকরণ সরবরাহ ইত্যাদি। সকল মিলগুলোতে মসজিদ ও তাতে সরকারি বেতনে ইমাম মুয়াজ্জিন নিয়োজিত। কোন কোন মিলে সরকারি খরচে মন্দির প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে। তা ছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সুপারভেশন ইত্যাদি খরচ। কেবল নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের নিজস্ব জমি আছে ৫৮০০ একর!
:
আর সবচেয়ে প্রধান কারণ হচ্ছে বছরে মাত্র ৩/৪ মাস মাড়াই মৌসুমে মিলগুলো চালু রাখার পর ৮/৯ মাস তা উৎপাদন বন্ধ থাকা। পৃথিবীর যে কোন শিল্প মাত্র ৩/৪ মাত্র উৎপাদনে থেকে তা ৮/৯ মাস বন্ধ থাকলে তাতে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা কোনভাবেই থাকে কি? চিনিকলগুলি থেকে উৎপাদিত উপজাত পণ্যের (by-products) সঠিক ও ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে লাভ করতে পারে সুগার মিলগুলো। এ সমস্যা সমাধানে পৃথিবীর সকল চিনি কলে চিনি ইউনিটের সাথেই থাকে “ডিস্টিলারি ইউনিট”। যা বাংলাদেশের ১৫টা কলের মাত্র ১টি তথা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে বিদ্যামান। যে কারণে বাকি ১৪টিতে লোকসান হলেও, কেবল কেরু অ্যান্ড কোম্পানিই আছে লাভের খাতে। গত অর্থবছরে কেরুর চিনি ইউনিটে ৪৩ কোটি টাকা লোকসান হলেও, ডিস্টিলারি ইউনিট ৫৮-কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ডিস্টিলারি ইউনিট হচ্ছে চিনি উৎপাদেনর পর উপজাত হিসেবে প্রাপ্ত মোলাসিস বা চিটাগুড় থেকে লিকার তথা এলকোহল উৎপাদন। বাংলাদেশে প্রচুর ওয়াইন বিদেশ থেকে আমদানী করা হলেও আমাদের ১৪-টি চিনিকলে ব্যাপক এলকোহল উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকার পরও তা করা যাচ্ছেনা, তাই লোকসানও কমছে না।
:
তা ছাড়া আখ একটা ১৩/১৪ মাসি ফসল। এ সময় কৃষকরা ঐ জমিতে ৩-টা ফসল উৎপাদন করতে পারে। যে কারণে বাজারে অন্যান্য অর্থকরী ফসলের চেয়ে আখের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা আখ চাষে অনীহা দেখান। কৃষকরা সারাবছর জমিতে আখ রাখতে রাজি নন, কারণ একই সময়ে তারা ৩-টি অন্য ফসল তুলতে পারেন। এ ব্যাপারে এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ঝিনাইদহের কৃষক আব্দুল বাতেন দু’বছর আগে আখ চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি একর জমিতে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ১৯ টন আখ উৎপাদন করতে পারি। যা প্রতিটন তিন হাজার ১২০ টাকা দরে ৫৯ হাজার ২৮০ টাকা বিক্রি করা সম্ভব। কিন্তু একই সময়ে একই পরিমাণ জমিতে আলু, ধান ও সবজি বা আলু, ভুট্টা ও ধান চাষ করে দ্বিগুণ মুনাফা করা সম্ভব’!
:
এক সময় পাকশির নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলে কাগজ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হতো ১৫টি সুগার মিলের ছোবড়া বা ভোগাজ। কিন্তু বেশ কবছর ধরে কাগজ কলটি বন্ধ থাকাতে সুগার মিলগুলোর ছোবড়া বিক্রি করা যাচ্ছেনা। সুতরাং লোকসান বেড়ে যাওয়ার এটাও অন্যতম কারণ!
:
কিভাবে সরকারি মিলগুলো লাভ করে টিকে থাকতে পারে?
———————————————————–
১। আখ থেকে চিনি উৎপাদন যেহেতু সব দেশেই একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, তাই পৃথিবীর অন্যান্য দেশ তথা কেরু এন্ড কোম্পানীর মত এদেশের বাকি ১৪টা মিলে ডিস্টিলারি ইউনিট করা হলে মিলগুলো লাভের মুখ দেখতে পারবে। উৎপাদিত এলকোহল দেশের হোটেলগুলোতে সরবরাহ ছাড়াও বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে মিলগুলোর মুনাফা বাড়ানো যায়।

২। তা ছাড়া বছর ৩/৪ মাস চলার পর আখের অভাবে যখন মিলগুলোর উৎপাদন বন্ধ থাকে, তখন আমদানীকৃত “র-সুগারের” মাধ্যমে যাতে মিলগুলো ১২-মাস চলমান থাকে তার ব্যবস্থা করা।

৩। চিনি আমদানী নিরুৎসাহিত করার জন্য চিনির উপর শুল্ক বাড়িয়ে অন্তত ১০০-টাকা কেজি দরে যাতে বাজারে চিনি বিক্রি হয়, তার ব্যবস্থা করা। তাতে সরকারি মিলগুলো মোটামুটি লাভ করতে পারবে। বর্তমান বাজারদর অনুসারে ১০০ টাকা প্রতিকেজি চিনির দাম খুব বেশি বলে মনে করেনা অনেক ভোক্তারা।

৪। আখের ছোবড়া নির্ভর পাকশির নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলটি অবিলম্বে চালু করা, যাতে ১৫টি সুগার মিলের ছোবড়া বা ভোগাজ তারা ঐ পেপার মিলে বিক্রি করতে পারে।
:
আমাদের স্বভাব হচ্ছে ঘটনার গভীরে প্রবেশ না করে কেবল সমালোচনা করি। প্রয়োজনে চিনিকলগুলিতে একটা নীতিমালার মাধমে ভর্তুকি দিয়ে হলেও এগুলি টিকিয়ে রাখতে হবে। শুধুমাত্র আর্থিক লাভ লোকসানের কথা বিবেচনা করলেই হবেনা. চিনিকলগুলি একটা এলাকার “গ্রোথ সেন্টার” হিসেবেও কাজ করছে। অনেক সামাজিক দ্বায়িত্ব পালন করছে সরকারি মিলগুলো। মিলগুলির পরোক্ষ অবদানের কথাও বিবেচনায় নিতে হবে সবাইকে। ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় প্রত্যেক সেক্টরে কিছু কিছু সরকারি সামাজিক প্রতিষ্ঠান না রাখলে এক সময় এর চরম মূল্য দিতে হতে পারে। সুতরাং রাষ্ট্রীয় চিনি শিল্পে লোকসানের কারণ ও তা সমাধানের চেষ্টা করলে আাশা করি দেশের ১৫টা চিনি কারখানা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে ১৪টা মিল তাদের উপজাত ব্যবহারের মাধ্যমে সবগুলোতে ডিস্টিলারি ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প হিসেবে টিকে যাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে রইলাম সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে!

5 total views, 1 views today

1
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
0 Comment authors
ড. লজিক্যাল বাঙালি Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of