অসাধারণ প্রতিবাদ।

আমাদের সমাজে ভাইরাসের মতো কিছু নেতিবাচক আচরন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে থাকে আমরা জানি। যেমন একটি মানুষের খারাপদিক গুলো নিয়ে মানুষ যতটা আলোচনা সমালোচনা করে ঠিক সেই মানুষটির ভালো কোন দিক নিয়ে কিন্তু সবাই সেই পরিমান আলোচনা সমালোচনা করেনা। কারণ আমাদের সমাজে নেতিবাচক চিন্তা, ভাবনা প্রসারের একটি প্রভাব আছে যা ইতিবাচক চিন্তাভাবনাকে এতটা প্রসারিত করেনা। এইযে মানুষের সামাজিক আচরন তার সৃষ্টি হয়েছে যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্মের মাধ্যমে সৃষ্ট পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বসবাস করা থেকে। যার প্রভাব আছে প্রতিটি নারী এবং পুরুষের মস্তিষ্কে। কিভাবে, তার প্রমাণ আমি নিচেই দিয়েছি দেখতে পারেন মিলিয়ে।

আমাদের দেশের প্রসাশনের দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের নামে আমরা অনেক অনেক নেতিবাচক আলোচনা সমালোচনা হরহামেশায় দেখে থাকি স্কাইমিডিয়াতে এবং অনলাইন প্লাটফর্মে। কিন্তু তাদের ইতিবাচক কর্মকান্ডের বিষয়গুলিকে নিয়ে খুব একটা আলোচনা আমরাও করিনা বা মূল বিষয়টি এড়িয়ে যায়। গতকাল থেকে ফেসবুকে দেখছি পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজ ব্যাবস্থায় বেড়ে উঠা একটি অসুস্থ মস্তিষ্কের নারীর একজন ট্রাফিক সার্জেন্টের প্রতি বাজে আচরনের ভিডিও খুব ভাইরাল হয়েছে। আসলে এই নারীকে সেই ভিডিওটিতে আমরা যেভাবে তার ক্ষমতার দাপট দেখাতে দেখেছি এবং শুনেছি তা এই পুলিশ সদস্যদের নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু তার প্রতিবাদ অনেক সময় হয়না দেখেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এরকম ভাইরাস আক্রান্ত মস্তিষ্ক জন্ম নিচ্ছে। তাই আমি চাই এধরনের ঘটনা প্রচুর ভাইরাল হোক এবং তা থেকেই সমাজের মানুষ আরো সচেতন হোক। প্রয়োজনে এই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে তাকে ক্ষমা চাওয়া ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানাচ্ছি।

ঘটনাটি ছিলো, গতকাল ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট “ঝোটন” রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরের স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক প্রফাইলে এবং সেই সাথে ঘটনার ভিডিওটিও তিনি পোস্ট করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায় এক ভদ্র ম‌হিলা তার প্রাইভেট কার (ঢাকা মে‌ট্রো~গ~২৬~৯৩৪৭) ডাবল লে‌নে পা‌র্কিং ক‌রে রে‌খে‌ছেন। তার গা‌ড়ির জন্য পিছ‌নের গা‌ড়িগু‌লো আস‌তে পার‌ছে না। প্রচণ্ড জ্যাম সৃষ্ট হয়ে আছে রাস্তায়। সেই জন্য তাকে অনেকবার স‌বিনয় অনু‌রোধ করেন এই সার্জেন্ট, তিনি বলেন, আপু আপনার গা‌ড়ির ড্রাইভা‌র‌কে ডে‌কে দ্রুত গা‌ড়ি‌টি স‌রি‌য়ে পিছ‌নের গা‌ড়িগু‌লো আসার সু‌যোগ দিন এবং জ্যাম মুক্ত ক‌রুন। এতে করে গাড়ির ভেতরে থাকা ভাইরাস আক্রান্ত নারী যাত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে উচ্চকণ্ঠে তিনি নিজের ক্ষমতা প্রকাশ করে ওই ট্রাফিক সার্জেন্টকে তাচ্ছিল্য করতে থাকেন। ভিডিওতে তিনি বলছেন – “এই কার গাড়ির ছবি তোলো? এটা সরকারি দলের লোকের গাড়ি। কার গাড়ির ছবি তোলো? বেশি…কইরো না! তোমার মতো সার্জেন্ট কয় টাকা বেতনে চাকরি করে? কয় টাকা বেতনে চাকরি করে তোমার মতো সার্জেন্ট? আমরা প্রধানমন্ত্রীর লোক, ঠিক আছে? যদি সাহস থাকে…আমার বাবা জাতীয় কমিটির সদস্য, আমার বাবা এমপি, ঠিক আছে? তোমার মতো হাজারটা সার্জেন্ট…ঠিক আছে? কয়টাকা বেতনে চাকরি করো? হ্যাঁ চাকরই তো..চাকরই তো!’

যদিও তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি। তবে ওই নারীর তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঝোটনের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, অনেকটা হুমকি-ধামকি দিয়ে ঝোটনকে শাসিয়েছেন এমপির কন্যা পরিচয় দেওয়া সেই নারী। তবে ঝোটন নামের পুলিশ সার্জেন্ট যে কাজটি করে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ করেছেন সেটা হচ্ছে এই ঘটনাটি মানুষের মাঝে সাহসের সাথে ভাইরাল করেছেন। তাই অন্তত আর কিছু না হোক তাকে ধন্যবাদ দেবার জন্য বিষয়টি আবারও আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।

-মৃত কালপুরুষ
২৬/০৯/২০১৮

8 total views, 1 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of