প্রতিটা মুসলমানই আসলে মুশরিক

আপনি কোরান হাদিস যদি ভালভাবে অধ্যয়ন করেন , এবং তার সাথে মুসলমানরা যে আচরন ও বিশ্বাস করে , সেটা যদি তুলনা করেন , তাহলে দেখবেন , প্রতিটা মুসলমানই আসলে মুশরিক, কিন্তু সেটা সে জানে না। এই নিবন্ধে দেখানো হবে , কিভাবে প্রতিটা মুসলমানই আসলে মুশরিক।

আপনি কোরান হাদিস যদি ভালভাবে অধ্যয়ন করেন , এবং তার সাথে মুসলমানরা যে আচরন ও বিশ্বাস করে , সেটা যদি তুলনা করেন , তাহলে দেখবেন , প্রতিটা মুসলমানই আসলে মুশরিক, কিন্তু সেটা সে জানে না। এই নিবন্ধে দেখানো হবে , কিভাবে প্রতিটা মুসলমানই আসলে মুশরিক।

সর্ব প্রথমেই একটা জিনিস জানা দরকার , মক্কার কুরাইশরা যাদেরকে ইসলাম পূর্ব যুগে পৌত্তলিক বলা হতো , তারাও আল্লাহকে তাদের প্রধান দেবতা হিসাবে বিশ্বাস করত। তবে তারা সেই সাথে বিশ্বাস করত , সেই আল্লাহর তিনটা কন্যা আছে – লাত , মানাত ও উজ্জা , যাদের মাধ্যমে তারা আল্লাহর কাছে তাদের আবেদন নিবেদন প্রার্থনা পৌছতে পারে। মুহাম্মদ এসে যেটা প্রচার শুরু করে , তা হলো – আল্লাহর এ ধরনের কোন কন্যা নেই। পার্থক্য এটাই। আর সেটা আমরা খোদ কোরান থেকেই জানতে পারি , যেমন —

সুরা আল জুমের – ৩৯: ৩৮: যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে-আল্লাহ। বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে? বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে।( মাক্কি সূরা)

উক্ত মাক্কি সুরার বক্তব্য গুলো বলা হচ্ছে পৌত্তলিক কুরাইশদের উদ্দেশ্যে। কারন সুরা জুমের নাজিল হয় মক্কাতে। উক্ত আয়াতে পরিস্কার ভাবে বলা হচ্ছে – পৌত্তলিক কুরাইশরাও বিশ্বাস করত আসমান জমিন সব কিছুই সৃষ্টি করেছে আল্লাহ। তার অর্থ , কুরাইশরাও বিশ্বাস করত , একজন সর্ব শক্তিমান আল্লাহতে। একই আয়াতের পরবর্তী বাক্যে এটাও বলা হচ্ছে –তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? সুতরাং বোঝা যাচ্ছে , পৌত্তলিক কুরাইশরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু দেব-দেবীর উপাসনাও করত। সেই দেব দেবীদের নাম কোরান থেকেই জানা যাক –

সুরা আন নাজম-৫৩: ১৯-২০: তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে।এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?( মাক্কি সুরা)

উক্ত তিনটা দেবীর নাম ছিল লাত , মানাত ও উজ্জা। কুরাইশরা সর্ব শক্তিমান একজন সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বিশ্বাস করলেও , তারা বিশ্বাস করত , সেই আল্লাহর কাছে তাদের উপাসনা পৌছে দেয়ার জন্যে এই তিনটা দেবীকে মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা যায়। সেই জন্যেই তারা যখন কাবা ঘরে আল্লাহর উপাসনা করত , তখন সেই আল্লাহর নাম উচ্চারনের সাথে সাথে তারা এই দেবীর যে কোন একজনের নাম উচ্চারন করত। আর সেই কারনেই মুহাম্মদ কুরাইশদেরকে মুশরিক বলে অভিহিত করেছিল। এই বিষয়টাই য়ে ইসলামের সাথে কুরাইশদের ধর্মের মূল পার্থক্য ছিল সেটা বোঝা যায় নিচের আয়াতে –

সুরা আল জুমের -৩৯:৪৫: যখন খাঁটিভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়, আর যখন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠে।

উক্ত আয়াতের বিভিন্ন বিখ্যাত অনুবাদ দেয়া হলো , পরিস্কার বোঝার স্বার্থে ====

Muhammad Asad: And yet, whenever God alone is mentioned, the hearts of those who will not believe in the life to come contract with bitter aversion – whereas, when those [imaginary powers] are mentioned side by side with Him, lo, they rejoice!

M. M. Pickthall :And when Allah alone is mentioned, the hearts of those who believe not in the Hereafter are repelled, and when those (whom they worship) beside Him are mentioned, behold! they are glad.

Yusuf Ali : When Allah, the One and Only, is mentioned, the hearts of those who believe not in the Hereafter are filled with disgust and horror; but when (gods) other than He are mentioned, behold, they are filled with joy!

Shakir: And when Allah alone is mentioned, the hearts of those who do not believe in the hereafter shrink, and when those besides Him are mentioned, lo! they are joyful.

Muhammad Mahmoud Ghali: And when Allah is mentioned alone, the hearts of the ones who do not believe in the Hereafter get disgusted, and when the ones apart from Him are mentioned, only then are they glad at the tidings.

(সূত্র: https://www.islamawakened.com/quran/39/45/default.htm)

উক্ত আয়াতে বলছে , শুধুমাত্র আল্লাহর নাম উচ্চারন করলে পৌত্তলিকরা সংকুচিত হয়ে যেত , কিন্তু সেই আল্লাহর নামের সাথে অন্যদের নাম উচ্চারন করলে , তারা উল্লসিত হয়ে উঠত। এর আগের আয়াত ৩৯:৩৮ নম্বরে দেখানো হয়েছে , যে পৌত্তলিকরাও কিন্তু আল্লাহকে বিশ্বাস করত। কিন্তু তারা সেই আল্লাহর নামের সাথে সাথে অন্য দেবী যেমন- লাত, মানাত ও উজ্জার নামও উচ্চারন করত। তার অর্থ , যখন আল্লাহর নাম উচ্চারন করতে হবে , তখন বিশুদ্ধভাবে বা খাটি ভাবে শুধু আল্লাহর নামই উচ্চারন করতে হবে। তার নামের সাথে অন্য কারও নাম উচ্চারন করা যাবে না। যদি সেটা করা হয় , তাহলে সেটা হবে শিরক।

সুতরাং একটা বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা গেল যে , আল্লাহর নাম উচ্চারনের পাশাপাশি অন্য কারও নাম যদি উচ্চারন করা হয় , তাহলে সেটা শিরক হবে। তা সজ্ঞানে করা হোক , অথবা অজ্ঞানেই করা হোক না কেন।

এবার আসা যাক একজন মানুষ কিভাবে মুসলমান হয় এবং মুসলমান পরিবারের একটা শিশুকে কিভাবে মুসলমানি করা হয়। অর্থাৎ ইসলামের প্রথম স্তম্ভ যে ইমান যা একটা শাহাদা এর মাধ্যমে উচ্চারন করা হয় সেটা কিরকম।

লা ইলাহা ইল্লাহ আল্লাহ , মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ , যার অর্থ – আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই , মুহাম্মদ তার রসুল।

এই শাহাদায় , আল্লাহর নামের সাথে সাথেই মুহাম্মদের নাম উচ্চারন করা হচ্ছে। কুরাইশরা যদি আল্লাহর নামের সাথে সাথে লাত ,মানাত ও উজ্জার নাম উচ্চারন করার কারনে মুশরিক হয়ে যায় , তাহলে মুসলমানরা শাহাদা উচ্চারনের সময় , আল্লাহর নাম উচ্চারনের সাথে সাথে মুহাম্মদের নাম উচ্চারন করার কারনে , কেন তারা মুশরিক হয়ে যাবে না ?

কোরানের কোথাও কিন্তু এই শাহাদা উচ্চারনের এই বাক্যটা নেই। কোরানের মধ্যে এর মূল থিমটা আছে , কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন আয়াতে। এক সাথে কোন আয়াতে এটা নেই। নিচের কিছু আয়াত থেকে এই শাহাদার বাক্যটা তৈরী করা হয়েছে —-

সুরা আস সাফফাত- ৩৭:৩৫: তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।( মাক্কি সুরা)
সুরা মুহাম্মদ -৪৭:১৯: জেনে রাখুন, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্যে। আল্লাহ, তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত।

সুরা ফাতহ-৪৮:২৯:মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন । তওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে-চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে-যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।

একসাথে এই বাক্যটা নেই , কারন তার ফলে আল্লাহর নামের সাথে মুহাম্মদের নাম সংযুক্ত হয়ে সেটা শিরকে পরিনত হবে। কিন্তু মুসলমানরা কোরানের বিধান লংঘন করে , নিজেরাই শাহাদার নামে , আল্লাহর নামের সাথে মুহাম্মদের নাম উচ্চারন ক’রে , নিজেদেরকে মুশরিকে পরিনত করেছে। কিন্তু সেটা তারা উপলব্ধি করে না।

এবার আসা যাক , হজ্জের সময় মুসলমানদের কালো পাথর চুম্বনের বিষয়। এই কালো পাথরকে কেন তারা চুম্বন করে , তার কারন বর্ণিত আছে নিচের সহিহ হাদিসে —

সুনান তিরমিজি, অধ্যায়-৯( ইফা) , হাজরে আসওয়াদ রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের ফযীলত
হাদিস নং- ৮৭৮. কুতায়বা (রহঃ) ……. ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ন হয়েছিল তখন সেটি ছিল দুধ থেকেও শুভ্র। মানুষের গুণাহ- খাতা এটিকে এমন কালো করে দিয়েছে। – মিশকাত ২৫৭৭, তা’লীকুর রাগীব ২/১২৩, আল হাজ্জুল কাবীর, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

সাদা পাথর আদম সন্তান অর্থাৎ মানুষের পাপ শুষে নিয়ে কালো হয়ে গেছে , তার অর্থ , কালো পাথরটা মানুষের পাপ মোচন করে দিয়েছে। এটাই মুহাম্মদের উক্ত হাদিসের সার কথা। উক্ত হাদিসে বলে নাই উক্ত পাথর আল্লাহর ইচ্ছায় , মানুষের পাপ মোচন করেছে। বিষয়টার গুরুত্ব মুহাম্মদের সাহাবি ও দ্বিতীয় খলিফা ওমর বুঝতে পেরেছিল , তাই সে বলেছিল —

সুনান তিরমিজি, অধ্যায়-৯(হজ্জ) (ইফা) , হাজরে আসওয়াদে চুম্বন দেওয়া
হাদিস নং- ৮৬২: হান্নাদ (রহঃ) …… আবিস ইবনু রাবীআ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে হাজরে আসওয়াদে চুমা দিতে দেখেছি। তিনি তখন বলছিলেন, আমি জানি তুমি একটি পাথর, তবুও তোমাকে আমি চুম্বন করছি। যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চুম্বন দিতে না দেখতাম তবে তোমাকে আমি চুমা দিতাম না। – ইবনু মাজাহ ২৯৪৩, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ওমর বলছে , উক্ত পাথরের কোনই ক্ষমতা নেই। কিন্তু মুস্কিলটা হলো , ওমর একথা বলে বরং নিজেকে মুর্তাদে পরিনত করেছিল। কারন , ইসলামের নবী হলো মুহাম্মদ , মুহাম্মদের কথাই হলো ইসলাম। যে কেউ মুহাম্মদের কথা অবিশ্বাস বা অস্বীকার করবে , সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। দুই দুইটা সহিহ হাদিসে মুহাম্মদ বলছে কাল পাথর মানুষের পাপ মোচন করতে পারে তথা কাল পাথরের পাপ মোচন করার ক্ষমতা বিদ্যমান , কিন্তু ওমর বলছে ভিন্ন কথা । সে বলছে , কাল পাথরের কোনই ক্ষমতা নেই। সুতরাং ওমর সরাসরি তার নবী মুহাম্মদের বক্তব্যকে অস্বীকার করছে , অবিশ্বাস করছে। মুহাম্মদের কথা অবিশ্বাস করে , ওমর কিভাবে অত:পর মুসলমান থাকতে পারে ?
এখন আসল বিষয় হলো – প্রতিটা মুসলমানই বিশ্বাস করে , পাপ মোচন বা মাফ করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। একই সাথে তারা বিশ্বাস করছে , উক্ত কাল পাথরেরও পাপ মাফ করার ক্ষমতা বিদ্যমান। তাহলে , প্রকারান্তরে , দুনিয়ার সব মুসলমান কি সেই কাল পাথরটাকেই তাদের আল্লাহর প্রতীক হিসাবে বিশ্বাস করছে না ? অন্য কথায় , তারা কি এই কাল পাথরকে তাদের আল্লাহর সাথে শিরক করছে না এবং সেই কারনে নিজেদেরকে মুশরিক হিসাবে প্রমান করছে না ?

হাদিস সূত্র : https://www.hadithbd.com/

195 total views, 3 views today

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of