” লাইসেন্স ” — বিবাহের জন্য। ২য় পর্ব

সাময়িক উত্তেজনা বা শুধুমাত্র রতিবৈচিত্র্যৈর জন্য বহু পুরুষ বা নারীকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে দেখা যায়। কত বিবাহিত পুরুষকে কুলি-কামিন, ভিখারিনী বা কুমারী কন্যার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলতে দেখা যায়। বিবাহিত নারীদেরও এইরকম যৌনাসক্তি লক্ষ করা যায়। নাগরিক জীবনের ধনী-দরিদ্র, সম্ভ্রান্ত-সাধারণ সকল স্তরেই এই প্রবণতা থাকে। এসব ক্ষেত্রে নারীরা সাধারণত বাবুর্চি, খানসামা, ড্রাইভার, মালি, আর্দালি, চাকর, এমন কী পথের মানুষদের সঙ্গেও ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। নারীর এই ব্যভিচারের মনস্তত্ত্ব অনুসন্ধান করতে গিয়ে নন্দগোপাল সেনগুপ্ত তাঁর “সমাজ সমীক্ষা : অপরাধ ও অনাচার” গ্রন্থে লিখেছেন : নারীরা ভদ্রলোকের কাছে কাছে আপন সম্ভ্রম ক্ষুণ্ণ করতে চান না। কারণ তাতে অসন্মানের ভয় আছে। কিন্তু অন্ত্যজ বরাবর নীচুতে অবস্থিত সে কিন্তু প্রকাশও করতে পারবে না, কোনো অমর্যাদাও ঘটাতে সাহস পাবে না। সুতরাং তাকে আয়ত্ত করলে বদ-খেয়ালও চরিতার্থ হয়, আবার গৌরবও রক্ষা পায়। তা ছাড়া এই শ্রেণির সহযোগী জোগাড় হলে, তাকে দিয়ে কোনো কদাচার অনাচার নেই, যা অনায়াসে না রিয়ে নেওয় যায়। অপরদিকে পুরুষের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

বিবাহ প্রথাই মূলত সৃষ্টি হয়েছে, নারীকে পুরোপুরি যৌনদাসী হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা। নারী যাতে তার তথাকথিত সতীত্বকে টিকিয়ে রাখতে যত্নবান হয়, তার জন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বিবাহের ফর্মূলা তৈরি করেছে। সময়ের সঙ্গেই বিবাহের ফর্মুলা জাদুঘরে চলে যাবে। শুধু নারী কেন ? পুরুষরাও কি যৌনদাস নয় ? মানুষ প্রকৃতিতে বহুগামী। তাকে জোর করে মনোগ্যামিস্ট বানানো এক ধরনের অসভ্যতা বলেই মনে হয়। বিয়ে নিয়ে অনেকই অনেক মহত্ত্বপূর্ণ দার্শনিক কথাবার্তা বলবেন। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সবাই একরকম ভাববেন কেন ? অন্যরকম যাঁরা ভাবেন, তাঁরা বলছেন — বিয়ে অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও ক্ষতিকর একটা নষ্ট প্রথা। সে আপনাকে এই বিশ্বাস দেবে যে একজনকে আপনি সম্পূর্ণ অধিকার করেছেন। কিন্তু সংসার জীবনে পদে পদে দেখবেন, সে আলাদা একটা মানুষ। তখন ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকবেন। আর সঙ্গে যদি সেক্সুয়াল জেলাসির যাতনা যুক্ত হয় তাহলে তো কথাই নেই। হয় নিজে বিধ্বস্ত হবেন, অথবা সঙ্গীকে করবেন। কিংবা দুটোই ঘটবে।

আরও বেশি ধ্বংস হবে আপনার সন্তান। জীবনের প্রতি পদে সে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি অনুভব করবে এবং এভাবেই শেষ হয়ে যাবে। অথচ সন্তান যদি দেখে যে তার জন্মের আগেই তার পিতামাতা আলাদা হয়ে গেছে, তাতেও তার মধ্যে হতাশা আসে না (যতক্ষণ সমাজ নিজে তাকে ডিপ্রেসড্ না করে) যদি কারো শৈশবে/কৈশোরে পিতামাতার বিচ্ছেদ হয়, তখন কী ঘটবে তা নির্ভর করে নানা পরিস্থিতির উপর। কিন্তু বিয়ে কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান নয়। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উৎপত্তির জন্যই নারী আজ যৌনদাসী। তার আগে যতদিন মানুষ নমাডিক বা প্যালিওলিথিক সমাজের অংশ ছিল, সেখানে বিবাহের প্রয়োজন ছিল না। শিশুরা ছিল কমিউনিটির সম্পতি। কে বাবা তাতে কিছু যায় আসত না। কারণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বালাই ছিল না। নারী বা পুরুষের একাধিক সঙ্গী ছিল। তারা একাধিক লিভ-ইন করত। যেমনভাবে মানবেতর অন্য প্রাণীরা জীবন যাপন করে। মানবেতর অন্য প্রাণীরা এইভাবেই জীবন যাপন করে চলেছে আবহমান কাল ধরে। তাতে কোন অসুবিধাটা হয়েছে? বিবাহ অবাধ যৌনাচারের বৈধ ছাড়পত্র বই তো নয় ! সেই যৌনাচার বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে উপভোগ করে। যৌনবোধকে অবদমন করা যায় না। আইন দিয়েও নয়, ধর্ম দিয়েও নয়। বিবাহের মাধ্যমেও নয়, বিবাহ বহির্ভূতও নয়।

বিবাহ নিয়ে নারী এবং পুরুষ একইরকম ভাবে না। বিবাহ নিয়ে নারী ও পুরুষের চিন্তা ও চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। আমি না। এ ব্যাপারে এক আলোচনায় রনবীর সরকার কী বলছেন, সেটা দেখে নিতে পারি – (১) অধিকাংশ নারীই পার্টনার পছন্দ করার ক্ষেত্রে লং টার্মের কথা চিন্তা করেই করে। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে ব্যপারটা ভিন্ন, একটা নারীকে দেখে লং টার্ম পার্টনার হিসেবে গ্রহণ করার থেকে সেক্স করে আনন্দ পাওয়ার কথাই সে বেশি চিন্তা করবে। এখন ধরুন একটা পুরুষ এক নারীকে প্রলুব্ধ করে সেক্স করে চলে গেল, হয় নারীকে গর্ভপাত করতে হবে, অথবা সেই ছেলের দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। কী করবে সেই নারীটি? (২) সন্তানের জন্মদানের পর সে যদি বাবার সঙ্গে থাকে, তাহলে মার ভালোবাসা হতে বঞ্চিত হবে, আর মার সঙ্গে থাকলে বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবে, আর অন্য কোথাও থাকলে তো বাবা-মা উভয়ের ভালোবাসা থেক বঞ্চিত হল। উপরন্তু আমাদের মতো অসভ্য সমাজে স্বাভাবিকভাবে বাবা বা মার নতুন পার্টনারের খারাপ ব্যবহার হয়তো-বা তার জীবনকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দেবে। (৩) পুরুষদের এখানে দায় থাকবে না কন্ট্রাসেপশন ব্যবহার করার, কারণ সে সন্তানের দায়-দায়িত্ব নিতে বাধ্য নাও থাকতে পারে। আর যদি এখানে আপনি আইন দিয়ে পুরুষকে বাধ্য করতে চান সন্তানের দায়িত্ব নিতে তাহলে কি আইন দিয়ে বাধ্য করবেন ? আইনগুলো কী ধরনের হবে ? (৪) ধরুন আপনি ২৫ বছর বয়সে সেক্স করার পর আপনার পার্টনারকে ছেড়ে দিলেন। তার একটা মেয়ে হল যে মেয়েকে আপনি দেখেনইনি। ২০ বছর পর আপনার বয়স ৪৫ আর মেয়ের ১৯-২০। (৫) একটি ছেলে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করল। মেয়েটি ছেলেটির বিরুদ্ধে মামলা করল। হ্যাঁ, প্রমাণিত হল যে ছেলেটি মেয়েটির সঙ্গে সেক্স করেছে। কিন্তু এর অর্থ কি এই যে সে ধর্ষণ করেছে ? হয়তো ধরা পরতে পারে কিছুটা forced sex হয়েছে। ছেলেটি বলতেই পারে তারা ভালোবাসা থেকেই সেক্স করেছে। ছেলেটির বিরুদ্ধে কি এখন আমরা সত্যি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারব ? (৬) অনেকে ছেলেমেয়েই আছে যারা প্রেম করতে পারে না। তাই বলে কি তাদের কখনো সেক্স করা হবে না ? অ্যারেঞ্জড ম্যারেজই তাদের অনেকক্ষেত্রে ভরসা। মতান্তর আছে বইকি।

বিবাহ বলতে আজকের সমাজ যেটা দেখছে বা জানে, সেই মন্ত্র আর আইনের কাগজপত্র খুবই আধুনিক ব্যাপার-স্যাপার। ঘটা করে বিয়ে প্রাচীনকালে একমাত্র রাজা-উজিরদের মধ্যেই চালু ছিল। নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকলেই সমাজ তাকে স্বীকৃতি দিত। রোমেও সাড়ম্বর বিবাহ বলতে অভিজাত শ্রেণিদের মধ্যে রাজনৈতিক পুনঃবিন্যাস। সাধারণ মানুষের এত ঘটা করে বিয়ে করার কোনো উপায় ছিল না। লিভ-ইন করত, আর তাই-ই ছিল বিবাহ। সেটা করত সমাজের উঁচুশ্রেণির ব্যক্তিরা। সে যুগের আম-আদমির জন্য যাই-ই লিভ-ইন, তাই-ই বিবাহ। ‘বিবাহ ব্যতীত যে-কোনো যৌনমিলন হল ঈশ্বরের বিরুদ্ধে উদ্ধত মানুষ ঔদ্ধত্য প্রকাশের স্বাভাবিক ভঙ্গি’ – একথা সব ধর্মের ধর্মবাদীরা মনে করেন। দুর্বিনীত পুরুষ অতি সহজ শর্তে বিবাহ নামক কঠিন সামাজিক বাধানিষেধের বেড়াজালে নারীকে শৃঙ্খলিত করেছিল। নারীজাতিকে গৃহপালিত পশুরূপে গণ্য করার মধ্যে পুরুষ-হৃদয়ে আনন্দ সঞ্চারিত হতে পারে, এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু নারীদের কাছে এই অবস্থা যন্ত্রণার এক ধারাবাহিক উপাখ্যান মাত্র।

বাইবেল বা টোরায় দেখা যায় ইজরায়েলিরা প্রথম বিয়ের ব্যাপারে কড়াকড়ি শুরু করে। বিবাহ বর্হিভূত সেক্সের জন্য শাস্তির ধারণা একেশ্বরবাদী ধর্মগুলির আমদানি। কনস্টানটাইন, যিনি আদতে খ্রিস্টান ধর্মের আসল প্রতিষ্ঠাতা, তার আমলেই প্যাগান রোমানদের বিবাহের “পবিত্রতার” প্রথম প্রকাশ। এরপরে ইসলাম এসে বিবাহের পবিত্রতার উপর আর-এক প্রস্থ পোঁচ লাগায়। ক্যাথলিক চার্চ বিবাহের পবিত্রতা রক্ষায় এবং নরনারীর ব্যাভিচারিতা আটকাতে অদ্ভুত অদ্ভুত সব আইন জারি করে মধ্যযুগে। নরনারীর স্বভাবসিদ্ধ আকর্ষণ এবং সেই কারণে আরও স্বাভাবিক লিভ-ইন সম্পর্কের ফল্গুধারা ধ্বংস করে আব্রাহামিক ধর্মগুলি। ফলে চার্চের বন্ধন আলগা হতেই এখন ফ্রান্সের ৩০% লোক ও বিবাহিত নয়, সেখানে লিভ-ইনকেই বিবাহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইউরোপের বাকি সভ্য দেশগুলিতেও আস্তে আস্তে বিবাহ প্রায় অবলুপ্তির দিকে। বিবাহিত নর-নারীর জীবন এমন কোনো স্বর্গীয় শয্যা নয়, যে লিভ টুগেদারকে বৈধতা দিলে একেবারে অনর্থ ঘটে যাবে সমাজে। আসলে আমরা “পরিবর্তন” শব্দটাকে খুব ভয় পাই। আমরা চাই সমাজ তেমন থাকুক, যেমনটা দেখে আমরা অভ্যস্ত। আইনি সংস্কার আর তার সমান্তরালে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। বিয়ে কখনোই কোনো কিছুর সমাধান নয়। বিবাহ সংঘঠিত সম্পর্কটি টিকে থাকে অনেকটা জোর করেই। তবে অনেক চেষ্টা ও সাধানার ফলে এটি একটি স্বাভাবিক শিল্পায়িত পরিমার্জিত রূপে আনা সম্ভব। তবে স্বভাবতই মানুষের ভিতরেই বহুগামিতার লক্ষণ থেকে গেছে। এটি স্বীকার করেই সভ্য দেশগুলী তার প্রচলন রেখেছে। সাধারণ মানুষের জন্য যা খুবই গুরুত্বপুর্ণ ও সমাজ ও সুন্দর থাকে।

প্রাবন্ধিক রতন পাল মনে করেন, “সময়ের নিয়মে যে কোন সভ্য সমাজে বিবাহর অবলুপ্তি দরকার। বিয়ের পেছনে না আছে যুক্তি, না স্ফূর্তি। এক পার্টনারের সাথে সারাজীবন কাটানো যাব্জজীবন কারাদন্ড। প্রেমের সমাধি। যদি ধরে নেওয়া যায় সন্তানের কারনে সেটা দরকার, তাহলেও এটা পরিষ্কার নয় কেন ঘটা করে, এত অপচয় করে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে হবে। কেউ যদি সারাজীবন এক পার্টনারের সঙ্গে থেকে খুশি থাকে, থাকুক। কিন্ত কেউ যদি সেটা না চায়, উকিলদের পকেটে পয়সা দিয়ে ডিভোর্স মামলা, খরপোশ মামলা কেন? বিবাহ একটি অসভ্য প্রথা। জোর করে দুই নরনারীকে চিড়িয়াখানার খাঁচায় ভরে সামাজিক তামাশা। এই বৈবাহিক অসাড়তা আমরা যত দ্রুত বুঝব, ততই মঙ্গল”। যদিও পরিবারের অন্তরালে জৈবিক কারণ বিদ্যমান, কিন্তু সুসভ্য সমাজব্যবস্থায় বিবাহের মধ্য দিয়ে পরিবার হল আইনসিদ্ধ ফলশ্রুতি।

অনেকেই বিপ্লববাবুর চিন্তায় আঁতকে উঠে বলতেই পারেন — বিবাহ প্রথা উঠে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নারীরা। যেমন আমি ভালোবেসে আমার স্বামীকে বিয়ে করলাম বা লিভ টুগেদার শুরু করলাম। আমি আর আমার স্বামী দুজনেই সমবয়সি। আমরা পরিশ্রম করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলাম। স্বাভাবিকভাবেই একজন ৪০ বছরের নারী আর পুরুষের মধ্যে পুরুষটি অধিক যুবক থাকে। এখন এই চল্লিশে এসে যদি আমার সঙ্গী আমাকে ছেড়ে চলে যায় তাহলে সে খুব সহজেই একটা যুবতী মেয়ে পাবে। কিন্তু আমার সঙ্গী পেতে সমস্যা হবে।। এছাড়া কেউ যদি অসুস্থ হয়, আর তা হতেই পারে তখন বিবাহ প্রথার কারণে সঙ্গীর দায়িত্ব নেওয়া জরুরি। বাবা মা যদি সারাজীবন প্রেমকেই গুরুত্ব দিয়ে সঙ্গী পালটানোতে ব্যস্ত থাকে, তাহলে সেই সন্তানও বড়ো হয়ে বাবা-মাকে ওল্ড হোমে পাঠাতে দ্বিধা করে না। সমস্ত ভালোর মন্দ দিক থাকে, আর মন্দেরও ভালো দিক থাকে। তবে ভালো মন্দের উভয়ের বিচারে একটা স্থিতিশীল সমাজ তৈরিতে যেই নিয়ম বেশি কার্যকরী আমরা সেটাই সমর্থন করব।

“রাতভোর বৃষ্টি”-তে বুদ্ধদেব বসুর বিয়ে প্রসঙ্গে বলেছেন – বিয়ে ! কী জটিল, কঠিন, প্রয়োজনীয়, সাংঘাতিক মজবুত একটা ব্যাপার, আর কী ঠুনকো ! দুজন মানুষ সারজীবন একসঙ্গে থাকবে – পাঁচ দশ পনেরো বছর নয় – সারাজীবন – এর চেয়ে ভয়ংকর জুলুম, এর চেয়ে অমানুষিক আদর্শ আর কী হতে পারে ? সন্তানের সঙ্গেও সারাজীবন একত্রে থাকি না আমরা, বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন বন্ধু বেছে নিই। কিন্তু আশা করা হয় দাবি করা হয় যে একবার যারা স্বামী-স্ত্রী হল, তারা চিরকাল তাই থাকবে। এই অস্বাভাবিক অবস্থাটা সহ্য করা যায় এটাকে ঈশ্বরের বিধান বলে মেনে নিলে, আমাদের ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখলে। কিংবা যদি বিয়েটাকে শুধু একটা নিয়মমাফিক পোশাকি গোয়াল বলে ধরে নিয়ে, দূরে-কাছে ঘুরে বেড়াবার স্বাধীনতা থাকে দুজনেরই।

“বিয়ে অনেকটা দিল্লির লাড্ডুর মতো, যে খেয়েছে সে পস্তায়, যে না খেয়েছে সেও পস্তায়। ……… বিয়ে কোনও সমাধান নয়। ভালোবাসা সমাধান। ভালোবেসে একত্রবাস করো, অথবা পৃথকবাস করো। প্রথাট্রথা ঝেঁটিয়ে বিদেয় করো। মানুষকে প্রথার উর্ধ্বে উঠতে হবে, এ ছাড়া আর উপায় নেই। প্রথাকে বিদেয় না করলে প্রথা বিকট হতে হতে মানুষকে একদিন গিলে ফেলে। আসলে গেলা হয়ে গেছে অনেক আগেই। প্রথার পেটের ভেতর মানুষ এখন বাস করছে, মানুষ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হচ্ছে। ওই অন্ধকার গহ্বর থেকে মানুষকে বেরোতেই হবে, এ ছাড়া আর উপায় নেই”-– তসলিমা নাসরিন।

পরিশেষে বলব, একমাত্র একজোড়া নর-নারীকেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা তিল তিল করে নির্মাণ করতে হয় অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে। বাকি সব সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে মানুষ জন্মসূত্রে পেয়ে থাকে। যেমন – মা, বাবা, ভাই বোন, মাসি, পিসি ইত্যাদি। বিয়ের উদ্দেশ্য যাই-ই হোক, যেমনই হোক – বিয়ে ব্যতীতও একটি মানুষ সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে বা করতে পারে না এটা অনেকটা তার উপর। তবে বিয়ে নিষিদ্ধ হলে মানুষের কিছু সমস্যও হতে পারে।
যেমন:- সম্পর্ক-শৃঙ্খল বাধাপ্রাপ্ত হবে। মানুষ পুনরায় দিশেহারা হয়ে পড়বে। হয় তো যৌন অবদমনে মানুষ হিংস্র হয়ে যাবে, অথবা সীমাহীন যৌনতা এবং যৌনসঙ্গী ভোগের ফলে ভয়ংকর যৌনরোগে মনুষ্যসমাজে ধস নামবে।
(কৃতজ্ঞতা কবির ভাই)
——————————————-

402 total views, 4 views today

1
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
1 Comment authors
রাজকাহন Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
রাজকাহন
ব্লগার

দারুণ বিশ্লেষন করেছেন।