এপার-ওপার

রুমটিতে হঠাৎ ঢুকে পরে অপ্রস্তুত হয়ে পরে হরেন্দ্র। পথে অবশ্য বাধা এসেছিল। কিন্তু এখানে কে কার বাধা মানে! ঢোকার পরে প্রথমে মনে হলো যাহ বাব্বা কোন যাদুঘরে ঢুকে পরলাম না তো! পরক্ষণেই সামলে নিল নিজেকে। এ এক আজব রাজ্য বাবা! আজ থেকে যারা হাজার বছর আগে মারা গেছে তারাও এখানে দিব্যি ঘুরে বেরায়। জীবনে কি কোন দিন ভাবতে পেরেছিল নলিনী জ্যাঠার সামনে আবার তাকে পরতে হবে। সেবার তার গাছের আম তো খেয়েছিলই উল্টো আমের খোসাগুলোর সাথে এক বালতি মনুষ্য বিষ্ঠা তার ঘরের দোর গোরায় রেখে এসেছিল। তার কিছু দিন পরেই অক্কা পায় জ্যাঠা , ফলে তার সামনে আর পরতে হয়নি। এখানে এসে তাই তার সামনে পরে হঠাৎ থমকে গিয়েছিল।

রুমটিতে হঠাৎ ঢুকে পরে অপ্রস্তুত হয়ে পরে হরেন্দ্র। পথে অবশ্য বাধা এসেছিল। কিন্তু এখানে কে কার বাধা মানে! ঢোকার পরে প্রথমে মনে হলো যাহ বাব্বা কোন যাদুঘরে ঢুকে পরলাম না তো! পরক্ষণেই সামলে নিল নিজেকে। এ এক আজব রাজ্য বাবা! আজ থেকে যারা হাজার বছর আগে মারা গেছে তারাও এখানে দিব্যি ঘুরে বেরায়। জীবনে কি কোন দিন ভাবতে পেরেছিল নলিনী জ্যাঠার সামনে আবার তাকে পরতে হবে। সেবার তার গাছের আম তো খেয়েছিলই উল্টো আমের খোসাগুলোর সাথে এক বালতি মনুষ্য বিষ্ঠা তার ঘরের দোর গোরায় রেখে এসেছিল। তার কিছু দিন পরেই অক্কা পায় জ্যাঠা , ফলে তার সামনে আর পরতে হয়নি। এখানে এসে তাই তার সামনে পরে হঠাৎ থমকে গিয়েছিল। কিন্তু জ্যাঠা স্মিথ হেসে বললেন , কিরে হরাই আম-টাম কিরাম হইছিল এবার? এলাকার হগলের খবর ভালোতো? সাথে সাথে সকল ভয় কেটে গেল।

– কীহে হরেন্দ্র, তুমি অনুমতি বিনে এখানে প্রবেশ করিয়াছ কেন?
নাম শুনে নিজের কাছেই অপরিচিত মনে হলো তার। জীবনে কেউ তো হরেন্দ্র বলে ডাকেনি। সবার হরাই নামই পছন্দ। রবি ঠাকুরের শ্যেনদৃষ্টি দেখে বুঝতে বাকি রয়না একথা তাকেই বলা হয়েছে।
-জি, ঠাকুর সাহেব ভুলে ঢুইকে পরলাম আরকি!
-দেখিয়াছ? তোমরা কি অবলোকন করিয়াছো? আগন্তুক কিপরিমাণে বেয়াদব। ভাষা শুনিলেই বোঝা যায় ইহা বাঙ্গাল।
-রবি বাবু আপনি তার ভাষার জন্য তাকে অপমান করতে পারেন না। আমি তো বরিশালের মানুষ। সুকান্ত বাবুও ওপারের। কই আমাদের ব্যাপারে তো সমস্যা শুনিনি। তবে কি লোকটা গরিব কিংবা অশিক্ষিত বলে . . .

পাশে বসে মুচকি হাসসেন মাইকেল। মনে মনে ভাবছেন বাহঃ এপার ওপার নিয়ে কবিরাই বাধিয়ে দিল!
-না গুরুদেব আপনার কথাটা অনুচিত। আমিতো বলতে গেলে দুই বাংলারই নাগরিক। আমি দেখেছি ওরা আপনাকে কত্ত সম্মান করে।
-সম্মান করে না ছাই। ঐ পারের লোকজনতো মনে করে গুরুদেব নোবেল পেয়েছে কাজী সাহেবের লেখা চুরি করে!
-আহঃ আপনি এভাবে বলছেন কেন? আপনিতো দেখছি উগ্রপন্থী!
-হুমম এখন এসব বললেই তো দোষ! দাদা খারাপ কি বলেছে শুনি? এখনকার দিনের বাংলা সাহিত্যের খবর জানেন? এটা টিকিয়ে রেখেছেই তো পশ্চিম বাংলার লেখকরা। ঐ যে সুনীল তো কিছুদিন আগে আসলো। জিজ্ঞেস করে দেখুন না।

– হাঃ হাঃ বাবু হাসাইলেন বটে। আমাদের কথা নাহয় বাদই দিলাম। হুমায়ূন এর নাম শুনেছেন? বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের জীবিত রেখেছে ছেলেটা একা। এর পাশাপশি বর্তমানে যারা আছে তারাও খারাপ না। সুনীল তো তার পাশেই আছে , জিজ্ঞেস করে দেখুন না।

সিনিয়রদের আলোচনা শুনে পাশাপাশি বসা দুজনেই মাথা নিচু করে বসে থাকলেন। তারা ভাবলেন যেখানে এই সভার উদ্দ্যেশ্য ছিল কীভাবে দুই বাংলার সাহিত্যিকদের সেতুবন্ধন হবে। কিন্তু এখন হচ্ছে কী?

হরেন্দ্র এই পর্যন্ত দেখার পরে আর সেখানে থাকার সাহস করলেন না।
ভাবলেন , যাই একটু বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের দেখে আসি। নিজেকে জমালয়ে জীবন্ত মানুষ সিনেমার নায়ক মনে হলো তার। রাজনৈতিক রুমে গিয়ে দেখেন সেখানের ভজঘট অবস্থা। বেশকিছু নেতারা বঙ্গবন্ধুর পা ধরে মাফ চাচ্ছে। কেউ কেউ মুন্ডুপাত করছে বর্তমান রাজনীতিবিদের।

শিক্ষকদের কথা একটাই। দেশটা গোল্লায় গেল। মাস্টার হওয়ার জন্য যে পরীক্ষা হবে সেই পরীক্ষার আগের রাত্রে যদি তারা পড়াশুনা না করে প্রশ্নের সন্ধানে নামে তাহলে এরা মাস্টার হইয়া ছাত্রগো কী শেখাবে?

হঠাৎ একটা রুমের উকি মেরে অবাক হয়ে গেল হরেন্দ্র। একি কাদের মোল্লা একা বসে তার ডান্ডায় মালিস করতেছে ক্যান?
কৌতুহল চেপে না রেখে জিজ্ঞেস করে ফেলল ‘কনতো হুজুর ব্যাপার খানা কী?

– কী আর হবে? গোলাম সাহেব কি কম অপরাধ করছে? তারে তো ফাসি দিলোনা। সাঈদীর ও মনে হয় হবেনা। আর সাকা আজীবন মাইনষের পুটু মারছে। তাই ডান্ডা লইয়া ওয়েট করতাছি , ওগোরে আমি পুটু মারা খাওয়ামু!!

সামনে চললো হরেন্দ্র। কিছুদুর যাওয়ার পরে দেখে মানুষের চিল্লাচিল্লি ! সাথে সমিলের শব্দ। কিছু মানুষের শিস্ন কেটে কুকুরদের খাওয়ানো হচ্ছে। এরা সবাই নারী ধর্ষণকারী যারা কিনা ওপারে কোন শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে গেছে। করাতের
তীব্র শব্দ অসহ্য মনে হলো হরেন্দ্রর্। কান টিপে ধরলেন তিনি।

এমন সময় ঘুম ভেঙ্গে গেল হারুনের। হাত বারিয়ে এলার্ম ঘড়িটা বন্ধ করলো হারুন।

2 total views, 1 views today

3
Leave a Reply

avatar
2 Comment threads
1 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
0 Comment authors
আকাশআবীর সমুদ্রশওকত খান Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
শওকত খান
ব্লগার

মূল বক্তব্যটা বুঝলাম না।
মূল বক্তব্যটা বুঝলাম না। ঘুমানোর আগে কিছু পাণীয় খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে যে ধরনের দৃশ্যাবলী দেখার কথা, সেসব ঘুম থেকে উঠেই লিখে ফেলা কাহিনী মনে হচ্ছে।

কোন ক্যাটাগরী, কোন ব্র্যান্ড? :পার্টি:

আকাশ
ব্লগার

হুম জা ব লেন ভাই
হুম জা ব লেন ভাই