হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় খেলা?

  জাতীয় যে কোন কিছুই একটু আলাদা মর্যাদা পাবে এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে কিছু কিছু ব্যাপারে অবশ্যই খুব গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যেমন বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় ইন্ডিয়া সহ অন্যান্য অনেক দেশই চিন্তিত। আমাদের জাতীয় মাছের উৎপাদন কমে গেলে জেলে সমাজসহ তাবত ভোজনরসিক এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়। কিন্তু আমাদের জাতীয় খেলা

  জাতীয় যে কোন কিছুই একটু আলাদা মর্যাদা পাবে এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে কিছু কিছু ব্যাপারে অবশ্যই খুব গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যেমন বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় ইন্ডিয়া সহ অন্যান্য অনেক দেশই চিন্তিত। আমাদের জাতীয় মাছের উৎপাদন কমে গেলে জেলে সমাজসহ তাবত ভোজনরসিক এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়। কিন্তু আমাদের জাতীয় খেলা
হা-ডু-ডু যে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে তা যেন আমরা কেউই খেয়াল করছি না। হয়তো এখনও একজন শিশু থেকে বিসিএস পরীক্ষার্থী যে কেউকে যদি জিজ্ঞেস করা যে বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কী তাহলে তারা সঠিক উত্তরই দিতে পারবে। কিন্তু খেলাটি কীভাবে, কখন, কয়জনে খেলা হয় তার সঠিক উত্তর দিতে পারবে এমন লোক খুজে পাওয়া দায়। ব্যাপারটা একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে আমার কাছে লজ্জাকর মনে হয়। একটা স্বাধীন দেশের মানুষ তার জাতীয় বিষয় গুলো সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান রাখবেনা এটা কী করে হয়? এটা ঠিক যে তরুণ প্রজন্মের কাছে আস্তে আস্তে ক্রিকেট-ফুটবল জনপ্রিয় থেকে জনপ্রিয়তর হচ্ছে। কিন্তু চাইলে হা-ডু-ডু কেও এভাবে জনপ্রিয় করা সম্ভব হতো। অন্ততঃ আমি তাই মনে করি। এইযে ক্রিকেট-ফুটবল এতো জনপ্রিয় হচ্ছে এর প্রধান কারণ কী? প্রচার মাধ্যম। তরুণ প্রজন্ম থেকে বুড়োরা পর্যন্ত হুমড়ি খেয়ে পরে টিভিতে। সেখানে যে খেলা দেখানো হয় তাই দেখে জনগণ। আপনি হয়তো খেয়াল করবেন যে, ইন্ডিয়ান চ্যানেল গুলোতে লাইভ খেলা তো বটেই প্রতিদিন অনেক পুরোনো খেলাও দেখানো হয় যার প্রতিটিতেই ইন্ডিয়ার জয় দেখানো হয়। অর্থাৎ তারা ইন্ডিয়া যেসব ম্যাচ জিতে সেগুলোই দেখায়। আমরা কিন্তু সেগুলোই দেখি। সেক্ষেত্রে যদি ব্যতিক্রম হিসেবে আমাদের দেশের চ্যানেল গুলোতে হা-ডু-ডু খেলার কোন লীগ প্রচার করা হয় তাতে বোধকরি আনন্দ এবং দর্শক কোনটিরই অভাব হবেনা।

   খুব ছোটবেলার কথা মনে পরে যখন বল নিয়ে দৌড়াতে শিখে গেছি। তখন আমাদের গ্রামে বিশেষ করে বর্ষার বিকেলে একটা আনন্দের রেশ বয়ে যেত। সবাই ছুটতো পাড়ার প্রাইমারি স্কুল মাঠে। আজ বিবাহিত বনাম অবিবাহিতদের খেলা আছে। কাল হয়তো এ গ্রামের সাথে ও গ্রাম। অলস বিকেলগুলোতে আমরা ছোটরা প্রায়ই বাড়ির উঠোনে দাগ কেটে খেলা শুরু করে দিতাম। তখন বড়রা উপভোগ করতো আমাদের খেলা। ভুল হলে নির্দেশনা দিত। এ বাড়ির সাথে ওবাড়ির খেলা হতো। আসলেই উপভোগ্য ছিল খেলা গুলো। কিন্তু এখন আমার শহরকেন্দ্রিক বন্ধুরা শুনে হাসে এই ভেবে  যে আমি হা-ডু-ডু খেলেছি! আমি মনে মনে ভাবি তোরা আমাদের জাতীয় খেলাটাই চিনলি না।

হা-ডু-ডু খেলার নিয়ম খুবই সহজ। প্রথমে একটা আয়তাকার ক্ষেত্র আকাঁ হয়। তারপর এর ঠিক মাজখান বড়াবড় দাগ টেনে প্রস্তুত করা হয় খেলার মাঠ। সাধারণত সমান এবং পরিষ্কার জায়গা দেখে মাঠ বাছাই করা হয়। মাঠের চারপাশে জড়ো হয় দর্শক। খেলোয়াড়ের সংখ্যা ৫-৭ জন হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে এ খেলার জন্য বাড়তি কোন উপকরণ কিনতে হয়না। খেলার শুরুতে রেফারির নির্দেশ অনুযায়ী একদল থেকে একজন খেলোয়াড় ডু (এর নাম এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে) দেয়ার জন্য অন্য দলের কোর্টে প্রবেশ করে। সে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি অন্য দলের একজনকে ছুয়ে আসতে পারে তাহলে যাকে ছুয়ে আসবে সে মারা পরবে (আউট হবে)। এভাবে দলের সবাই মারা পরলে এক গোল হয়। আর যে লোক ডু দিতে যায় তাকে অন্য দলের সবাই মিলে রেখে দিলে সে মারা পরবে। এভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক গোলে অথবা নির্দিষ্ট সময়ে যত গোল হয় তাতে খেলা শেষ হয়। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে পয়েন্টের হিসেবে খেলা হয়। সেক্ষেত্রে যতজন মারা পরবে তত পয়েন্ট। কোন দলের সবাই মারা পরলে বিপক্ষ দল বোনাস পয়েন্ট পাবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত পয়েন্টে খেলা শেষ হয়।

   যেহেতু খেলাটি আমাদের জাতীয় খেলা এবং খেলাটি খুব একটা ব্যয়সাপেক্ষও না তাই আমাদের সরকার বা ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে নজর দেয়া উচিত। কিছুদিন পরে এদেশের বাবাদের কাছে যদি সন্তানেরা জিজ্ঞেস করে খেলাটি সম্পর্কে তাহলে হয়তো তারা উত্তর দিতে পারবে না! আমি মনেকরি খেলাটি টিকিয়ে রাখা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী। এজন্য সরকারের উচিৎ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া। সেটা হতে পারে এরকম যে প্রথমে ইউনিয়ন ভিত্তিক পরে উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে টুর্নামেন্টের আয়োজন করা। তারপর হয়তো জয়ীদের নিয়ে বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। এভাবে  আয়োজন করলে জনগণ আগ্রহী হবে খেলাটি সম্পর্কে। তখন হয়তো আন্তর্জাতিকভাবেই খ্যাতি পাবে বাংলাদেশের কাবাডি। আমি মনেকরি বাংলাদেশের মানুষের রক্তে সুপ্ত অবস্থায় আছে হা-
ডু-ডু খেলাটি। আর এভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে আয়োজন করলে স্পন্সরেরও বোধকরি অভাব হবেনা। আমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি‚ প্লিজ আপনারা এগিয়ে এসে আমাদের জাতীয় খেলাটিকে জীবন দান করুন। জাতীয়ে ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ হই আমরা।

 

4 total views, 1 views today

6
Leave a Reply

avatar
2 Comment threads
4 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
0 Comment authors
শওকত খানআবীর সমুদ্রআকাশ Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
আকাশ
ব্লগার
শওকত খান
ব্লগার

আকাশ ভাইয়ের লেখাটা পড়েছিলাম
আকাশ ভাইয়ের লেখাটা পড়েছিলাম আগেই। তবুও পড়লাম, লিখে যান।