শেষ নিমন্ত্রণ (১ বছর পর) # ২য় পর্ব

চেম্বারে রোগীদের ভিড় হবে ভেবেছিল ফয়সাল। তাই তো হয়ে থাকে। দেশে কি অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না কি মানুষের ডাক্তার দেখানোর সক্ষমতা বাড়ছে সেটা একটা গবেষণার বিষয়। তবে এই ডাক্তারের মার্কেট মনে হয় খারাপ। এই বিকেল বেলায় একজন রোগীও নেই। পাগলের সংখ্যা কি এই দেশে কম নাকি? চেম্বারের বাইরে লেখা আছে ৬ টার পর কোন রোগী দেখা হয় না। রিসেপশনে এক সুন্দরী বসে আছে। নাহ, কর্পোরেট যুগে আমাদের চিন্তাভাবনাগুলোও কেমন জানি কর্পোরেট হয়ে গেছে। সব জায়গাতেই মেয়ে লাগবেই। সেটা গাড়ির বিজ্ঞাপনেই হোক, কিংবা জৈব সারের মার্কেটিং এই হোক। অবশ্য সাইকিয়াট্রিস্ট, মেয়ে রিসেপশনিস্ট রাখার পিছনে হয়ত কোন যুক্তি আছে।

“এক্সকিউজ মি। আমি সাব-ইন্সপেক্টর ফয়সাল। বাংলাদেশ পুলিশ। ডাক্তার আতিকের সাথে দেখা করতে এসেছি। আপনি কে?“

মেয়েটার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে পুলিশ দেখে কিছুটা ভড়কে গেছে।

“আমি পিঙ্কি, স্যারের এসিস্ট্যান্ট। স্যার চেম্বারেই আছেন। আপনারা প্লীজ বসুন। আমি স্যারের সাথে কথা বলে আসছি।“

মেয়েটা ভেতরে চলে গেল। ফয়সাল চারপাশে তাকাল। ওয়েটিং রুমটা খুব সাজানো গোছানো। কিন্তু কেমন যেন একটু আলো আধারি করে রাখা হয়েছে। অদ্ভুত রকমের একটা দেয়াল ঘড়ি চোখে পড়ল। একটা সাপ ছোবল দেওয়ার ভঙ্গিতে ফণা তুলে আছে। জিহ্বাটা বেড়িয়ে পেন্ডুলামের মত দুলছে। রক্তলাল চোখ দুটোর একটাতে ঘণ্টার কাটা আরেকটাতে মিনিটের কাটাগুলোকে বসানো আছে। এমন অদ্ভুত দেয়াল ঘড়ি আগে কখনও দেখে নি ফয়সাল। দেশের বাইরে থেকে কেনা হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে।

তবে ফয়সাল সবথেকে অবাক হল দেয়ালে ঝোলানো ছবিটা দেখে। একটা পৌরাণিক যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি। একজন লম্বা চুলের যোদ্ধাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে পেছন থেকে। যোদ্ধার চেহারা দেখা যাচ্ছে না। এক হাতে খোলা তলোয়ার আর আরেকহাতে অদ্ভুত একটা জন্তুর কাটা মাথা। সামনে দিগন্ত বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্রে সেই অদ্ভুত প্রাণীদের সাথে মানুষের যুদ্ধ চলছে। এরকম একটা ছবি ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখা যায় কিন্তু কেউ তার চেম্বারে রাখবে ভাবা যায় না। গা টা কেমন জানি শিরশির করে উঠল ফয়সালের। এই ছবিটা তাঁর খুব পরিচিত লাগছে। কি যেন একটা মনে আসি আসি করেও আসছে না। মানসিক রোগের ডাক্তাররা কি এমনই হন নাকি? দীর্ঘদিন মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করতে করতে তারাও মনে হয় কিছুটা খাপছাড়াই হয়ে যান। অথবা এমনও হতে পারে মানসিক রোগীদের মনের উপর প্রভাব ফেলবার জন্যই তারা এসব করেন তন্ময় হয়ে ভাবছিল ফয়সাল। জামানের ডাকে সে বাস্তবে ফিরে আসল।

“স্যার, কেমন কেমন জানি লাগছে। বুঝতে পারছি না, অস্বস্তি হচ্ছে খুব।“
“অস্বস্তির কি আছে?”

কথাটা বলে ফয়সাল নিজেও চমকে গেল। কারণ আসলেও তার কেমন জানি অস্বস্তি হচ্ছে। তার চেয়েও বড় কথা জামান তাঁকে প্রশ্নটা করেছে ফিসফিস করে আর সেও জবাব দিয়েছে ফিসফিস করে। নাহ, স্বীকার করতেই হবে আতিকুল হক বেশ ভাল ডাক্তার। সাধারণ লোকের মনেই যদি সে এমন প্রভাব ফেলতে পারে তাহলে রোগীদের ক্ষেত্রে সেই প্রভাবের মাত্রা যে আরও বেশি হবে সেটা বলে দেওয়া যায়।

“স্যার, আপনাদেরকে ভেতরে যেতে বলেছেন।“

পিঙ্কির ডাকে ফিরে তাকাল ফয়সাল। ওয়েটিং রুমের শেষ মাথায় একটা দরজা খোলা আছে। সেদিকেই তাঁদেরকে যেতে ইঙ্গিত করছে মেয়েটা।

*****
ওয়েটিং রুমটাকে যদি আলো আধারির বিচরণক্ষেত্র বলা যায় তাহলে চেম্বারটাকে বলতে হবে অন্ধকারের রাজ্য আর তারা সেই অন্ধকারের রাজ্যের অনাহুত আগন্তুক। রুম অন্ধকার করে বসে আছেন ডাক্তার আতিক। একটা টেবিল ল্যাম্প জ্বালানো আছে কেবল। সেই আলোতে ডাঃ আতিককে দেখে প্রথমদর্শনেই মনে হয় যেন গ্রিক উপন্যাস থেকে উঠে আসা কোন দেবদূত। যা ভেবেছিল তার থেকেও অনেক কমবয়স্ক লাগছে তাঁকে। অদ্ভুত সুন্দর চেহারা। তার থেকেও সুন্দর চোখ দুটো। রুপালী ফ্রেমের চশমার গ্লাস সেই চোখের বুদ্ধিদীপ্ত আভাকে আটকে রাখতে পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছে।

“সরি, আমার মাইগ্রেনের সমস্যা আছে। ব্যথাটা কিছুক্ষণের মধ্যেই উঠবে তাই ঘর অন্ধকার করে বসে আছি। কিছু মনে করবেন না এর জন্য। আপনারা পুলিশের লোক না হলে সময় দিতাম না। দেখছেনই তো কোন রোগী নেই। আজ আর রোগী দেখব না।“
“সমস্যা নেই। আমরা বেশি সময় নিব না। আচ্ছা ওয়েটিং রুমের দেয়ালে একটা ঘড়ি আর পেইন্টিং দেখলাম। কোথা থেকে জোগাড় করেছেন?”

ডাঃ আতিকের মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল।

“অনেকেই অবাক হয় তবে আপনারাই প্রথম জিগ্যেস করলেন। আমার ঘোরাঘুরির শখ আছে। ব্রাজিলে গিয়েছিলাম একবার সাম্বা ফেস্টিভালে। সেখানকার পুরাতন এক এন্টিকের দোকান থেকে ঘড়িটা কিনি। এক জিপসির কাছ থেকে দোকান মালিক এই সাপটা কালেকশন করেছিল। পরে সাপের উপর কারিগরি ফলিয়ে ঘড়ি সেট করেছিল। এই সাপটা নাকি ইনকাদের রাজার শাস্তির প্রতীক ছিল। রাজার নিজের একটা সাপের সংগ্রহশালা ছিল। যারা অপরাধী তাঁদেরকে এমন সাপের খাচায় ফেলে দেওয়া হত। ঐ সাপগুলোকে এরপর বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিষমুক্ত করে রান্না করে ডিনার সারত রাজা।“
“আর পেইন্টিংটা?”
“এটা জোগাড় করেছিলাম আসাম থেকে। একজন মানসিক রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়েছিলাম। লোকটার অনেক অদ্ভুত পেইন্টিং এর কালেকশন ছিল। এই ছবিটা আমার পছন্দ হয়ে যায় তাই পারিশ্রমিক হিসাবে আমি ছবিটাই নিয়ে আসি। শোনা কোথা এই ছবিটা সম্রাট অশোকের। কলিঙ্গের যুদ্ধের ছবি।“
“কিন্তু কলিঙ্গের যুদ্ধে অশোকের সাথে ভিনগ্রহের প্রাণীরা যুদ্ধে নেমেছিল এমন তো কিছু শুনি নি।“
“আমিও শুনি নি। অনেক রকম মিথ প্রচলিত থাকে ইতিহাসের সাথে জানেনই তো। এমনই কোন মিথকে আশ্রয় করেই হয়ত চিত্রকর ছবিটা এঁকেছে। বেচারা বেঁচে থাকলে না হয় জিগ্যেস করা যেত এই ছবির পিছনের রহস্য কি।“
“হুম। আচ্ছা, কাজের কথায় আসি। ডাঃ আতিক, আমরা আসলে আপনার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। গত ১ বছরে ৪ জন সাইকিয়াট্রিস্ট নিখোঁজ হয়েছেন। যে বা যারাই এই কাজের সাথে জড়িত তাঁদের নেক্সট টার্গেট সম্ভবত আপনি। তাই আপনাকে আমরা সাবধান করতে এসেছি। ইদানিং সন্দেহজনক কিছু কি আপনার চোখে পড়েছে?”
“দেখুন আমি নিজেও চিন্তিত এই নিয়ে। তাই পার্মানেন্টলি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার পরিবার অস্ট্রেলিয়াতে থাকে। তারাও চাইছে যেন আমি সেখানে চলে যাই। আর ১০ দিন পর আমার ফ্লাইট। এই সময়টুকু যদি আপনারা আমাকে একটু নিরাপত্তা দেন তাহলে খুব ভাল হয়। আর সন্দেহজনক তেমন কিছুই আমার চোখে পড়ে নি। দেখুন আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণভাবেই থাকতে পছন্দ করি। আমার পিছনে কেউ কেন লাগবে সেটা বুঝতে পারছি না।“
“ঠিক আছে, আজ উঠছি। আমি একজন কনস্টেবলকে দায়িত্ব দিব সাদা পোশাকে আপনার উপর নজর রাখার জন্য। আর আপনার কাছে কোন ব্যাপার সন্দেহজনক মনে হলেই আমাকে জানাবেন। আমার মোবাইল নাম্বারটা সেভ করে রাখুন।“

ফয়সাল আর জামান উঠে দাঁড়াল। ডাঃ আতিকের মুখে যন্ত্রণার চিহ্ন ফুটে উঠেছে। বোঝাই যাচ্ছে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়ে গেছে। খুব খারাপ রোগ এই মাইগ্রেন। নিসার আছে, তাই ফয়সাল খুব ভালো করেই এই রোগ সম্পর্কে জানে।

*****
ধড়মড় করে ঘুম থেকে জেগে উঠল নিসা। সারা শরীর তাঁর ঘামে ভিজে গেছে। আবারও সেই স্বপ্নটা। বেডসাইড টেবিলে রাখা পানির গ্লাসটাকে এক নিঃশ্বাসে খালি করে দিল সে। বুকটা ধরফর করছে। হার্টবিট বেড়ে গেছে। শান্ত হতে একটু সময় লাগবে। উফফ, কি ভয়ংকর স্বপ্ন। ভুলতে চাইলেও ভোলা যায় না, এতটাই বাস্তব। চোখ বন্ধ করে আবারও স্বপ্নটার কথা ভাবল নিসা।

একটা পৌরাণিক যুদ্ধক্ষেত্রে সে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে তুমুল যুদ্ধ চলছে। তবে যুদ্ধটা মানুষে মানুষে হচ্ছে না। একপক্ষে মানুষ আর অন্যপক্ষে অদ্ভুত দেখতে একরকম প্রাণী। সে দাঁড়িয়ে আছে একজন যোদ্ধার পিছনে। লম্বা চুলের সেই যোদ্ধার শুধু পেছনটাই সে দেখতে পাচ্ছে। এক হাতে তাঁর তলোয়ার আর অন্যহাতে অদ্ভুত জন্তুগুলোর একটার কাটা মাথা। হঠাত সেই যোদ্ধা তাঁর সামনে থেকে উধাও হয়ে গেল। আর সাথে সাথেই সেই অদ্ভুত প্রাণীগুলো তাঁকে ধরবার জন্য দৌড়ে আসতে থাকলো। সেও দৌড়াচ্ছে আর তাঁর পেছন পেছন সেই জন্তুগুলোও দৌড়াচ্ছে। তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব ক্রমেই কমছে। এমন সময় সে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল আর সাথে সাথেই একটা জন্তু লাফ দিয়ে তাঁর শরীরের উপর চড়ে বসল। দুধসাদা দাঁতের ফাঁক দিয়ে লাল জিহ্বা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এখুনি তাঁকে কামড়ে দিবে।

প্রতিবার এই জায়গায় এসেই স্বপ্নটা ভেঙ্গে যায়। নিসা বিছানা থেকে নেমে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। অসময়ে ঘুমানো ঠিক না। ফয়সালের সাথে রাগ করে ফোনটা কেটে দেওয়ার পর থেকেই তাঁর মনটা খারাপ। যদিও সে জানে ফয়সাল বাসায় এসে ঠিকই তাঁর মনটা ভালো করে দিবে। ছেলেটা তাঁকে এত ভালোবাসে। সে নিজে কোনোদিন ফয়সালের মত করে ফয়সালকে ভালবাসতে পারবে না। আচ্ছা, আজকে ফয়সালকে একটা সারপ্রাইজ দেওয়া যায়। ও খুব খুশি হবে। ভাবনাটা মনে আসতেই নিসার মনটা ভালো হয়ে গেল। গুণগুণ করতে করতে সে বাথরুমে ঢুকল।

*****
হুমায়ূন আহমেদের বই আর ক্রিস্টোফার নোলানের মুভির ডিভিডি খুব সহজেই পাওয়া গেল, কিন্তু সমস্যা হল গাঁদা ফুল নিয়ে। সারা উত্তরা খুঁজেও ফয়সাল আজ গাঁদা ফুল পায় নি। শাহবাগে চলে গেলে পাওয়া যেত কিন্তু রাস্তায় যে জ্যাম। এই জ্যাম ঠেলে ফুল নিয়ে ফিরতে নিশ্চিত রাত হয়ে যেত। এমনিতেই নিসা রাগ করে আছে সেটা বাড়ানোর কোন ইচ্ছে তাঁর নেই। তাই শেষ পর্যন্ত গোলাপ ফুলই ভরসা।

কলিংবেলের শব্দের সাথে সাথেই দরজাটা খুলে গেল যেন আগে থেকেই নিসা জানত যে সে এই সময়েই আসবে। দরজায় নিসাকে দেখেই ফয়সাল একটা ধাক্কা খেল। সেই শাড়িটা, সেই শাড়িটাই নিসা পড়েছে। নিসাকে ফয়সালের দেওয়া প্রথম শাড়ি। লাল-সাদা স্ট্রাইপের শাড়িটা আজিজ সুপার মার্কেট থেকে নিসাকে নিয়েই সে কিনেছিল। এই শাড়িটা দিয়েই নিসাকে সে প্রথম প্রেমের প্রস্তাব দেয়। নিসা জানে যে এই শাড়িটাই ফয়সালের সবথেকে পছন্দের। একবারই শাড়িটা সে পড়েছিল। আজ দ্বিতীয়বার পড়ল। শাড়ির সাথে ম্যাচ করা লাল টিপ আর চোখের নিচে টানা টানা করে কাজল দেওয়াতে নিসাকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। মুগ্ধ দৃষ্টিতে ফয়সাল নিসার দিকে তাকিয়ে রইল।

“ভেতরে আসুন জনাব; নাকি ভুল বাসায় চলে এসেছেন বলে মনে হচ্ছে?”
“বাসা ভুল হয় নি, তবে মানুষটাকে কেমন জানি অচেনা অচেনা লাগছে।“

ফয়সাল ভিতরে ঢুকে দরজা লাগানোর সাথে সাথেই নিসা তাঁকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ফয়সাল বাঁধা দিল না। ভালোবাসার এই অনুভূতিটুকুর জন্য একটা জীবন সে হেসেখেলেই বিসর্জন দিতে পারে।

“তোমার জন্য একটা সুসংবাদ আছে। শুনবে?”
“বল“
“I am pregnant”
“সত্যি?”
“হুম”

এবার ফয়সাল নিসাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। পুরো পৃথিবীটাই তাঁর কাছে একমুহূর্তে রঙিন মনে হচ্ছে। কিন্তু একি, নিসা কাঁদছে কেন?

“কি হয়েছে টুলটুলি? কাঁদছ কেন?”
“সেই যুদ্ধের স্বপ্নটা আবার দেখেছি। আমার খুব ভয় করছে।“

সাথে সাথেই ফয়সালের মাথায় সমাধান চলে আসল। এখন বুঝতে পারছে ডাঃ আতিকের চেম্বারের ওয়েটিং রুমে কেন তাঁর অস্বস্তি হচ্ছিল। যেই স্বপ্ন নিসা গত কয়েকদিন ধরে দেখছে সেই ছবিটাই সে ওয়েটিং রুমে দেখেছে। এটা কিভাবে সম্ভব? কো-ইনসিডেন্স? ব্যাখার অতীত কোন রহস্য? নাকি নিতান্তই সাধারণ একটা ঘটনা?

“ধুর বোকা, ভয়ের কি আছে? যাও, চা বানাও। আজ সারারাত তোমাকে ঘুমাতে দিব না। শুধু গল্প করব। প্রেমে পড়বার পর যেমন গল্প করতাম, ঠিক তেমন।“

নিসা চলে যাবার পর ফয়সাল মোবাইলটা বের করল। এইত, নাম্বারটা ডায়াল লিস্টেই আছে। দুইবার রিং হওয়ার পরেই ওইপাশ থেকে ফোনটা রিসিভ করা হল।

“ডাঃ আতিক বলছেন? আমি সাব-ইন্সপেক্টর ফয়সাল বলছিলাম।”
“হ্যাঁ, ফয়সাল সাহেব। বলুন কি করতে পারি আপনার জন্য?”
“আগামী শুক্রবার আমার বাসায় আপনাকে ডিনারের নিমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার স্ত্রী ইদানিং ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখছেন। আপনি অস্ট্রেলিয়া চলে যাবার আগে যদি ওর সাথে একটা সিটিং দেন তাহলে মনে হয় ওর মনটা শান্ত হত। এই উপকারটুকু করলে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।“
“অবশ্যই আসব। আমি তো এখন এমনিতেই ফ্রি। আপনি আমার নিরাপত্তার জন্য এত কিছু করছেন আর আমি আপনার জন্য এইটুকু করব না তা কি হয় নাকি? অবশ্যই আসব।“
“অনেক ধন্যবাদ।“

ফয়সাল কিছুটা চিন্তিত। তাঁর মনটা কেন জানি খুব খচখচ করছে। কিছু একটা যেন সে মিস করে যাচ্ছে। কি হতে পারে সেটা?
(…………পরের পর্বে সমাপ্ত)

শেষ নিমন্ত্রণ (মূল গল্প)

শেষ নিমন্ত্রণ (১ বছর পর) # ১ম পর্ব

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৮ thoughts on “শেষ নিমন্ত্রণ (১ বছর পর) # ২য় পর্ব

  1. অসাধারন। খুব থ্রীল নিয়ে
    অসাধারন। খুব থ্রীল নিয়ে লেখাটা পরলাম।
    এক্টা প্রশ্ন; আচ্ছা এটা কি আতিক ভাই এর রিয়েল বায়োগ্রাফি,
    সত্য ঘটনা গল্পের আকাড়ে লেখা হচ্ছে নাতো !!

  2. যদিও হুম্যানিক ভাব রয়ে যাচ্ছে
    যদিও হুম্যানিক ভাব রয়ে যাচ্ছে তারপরও বলব মন্দ লাগছেনা। হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া বাংলা সাহত্যে আর কেউ তেমনভাবে সাইকো/থ্রিলার লিখেননি তাই ফলো করলে ত হুম্যানকেই করতে হয় ঐ ভদ্রলোক যদি সারাজীবন রহস্যউপন্যাস লিখতেন তাহলে পৃথিবীতে নাম করে যেতেন ডন ব্রাউনের মতো। অবশ্য একটু বেশি বলে ফেললাম। ডন ব্রাউনের মতো না হলেও অর্ধকেক নাম করতে পারতেন,

    1. কাউকে অনুকরণ করে লিখি না
      কাউকে অনুকরণ করে লিখি না তারপরেও যদি কারও লেখার ছায়া খুঁজে পান তাহলে সেটা আমার ব্যর্থতা হিসাবে ধরে নেওয়া ছাড়া তো উপায় নেই। :মনখারাপ:

  3. গল্পটা মিস করে গেছিলাম।
    গল্পটা মিস করে গেছিলাম। :মাথাঠুকি: ১৮তারিখে পোস্ট করেছেন এইজন্যই। ১৮-১৯-২০ তিনদিন টানা জার্নিতে ছিলাম। যাই হোক, গল্প পড়ে এতো রাতে আমারই গাঁ ছমছম করছে। স্বপ্নে আবার কি না কি দেখি… :চিন্তায়আছি:

    এই পর্ব আরও ভালো হইছে। দিনদিন আপনার রহস্য গল্প লেখার হাত পাকনা হচ্ছে। চালায়ে যান। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

54 − 53 =