রাস্তায় হাটা যাবে না প্রশাসনের এমন মাস্তানি বেআইনি

যে কেউ যে কোন সময় রাস্তা পারপারের কারণে জেলে চলে যেতে পারেন। এমন কী আপনি যদি জেব্রা ক্রসিং মেনে, সবুজ বাতি দেখেও রাস্তা পার হন। কারণ হলো আপনি মফিজ, আপনার কারণে এই নগরের যানজট বাড়ছে।

অথচ বুয়েট বলছে ভিন্ন কথা। নগরীতে বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর ৭৩ শতাংশই পুরোপুরি অপরিকল্পিত। ঢাকা শহরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। বুয়েটের এ গবেষণায় দেখানো হয়, জলাশয় ও নিম্নাঞ্চল ভরাট করে গড়ে ওঠা অপরিণামদর্শী উন্নয়নের ফলে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে রাজধানীর পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা। অপ্রতুল সড়ক ব্যবস্থার কারণে বিপর্যস্ত পরিবহন খাতও। শহরের বাসিন্দাদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ সড়কের প্রয়োজন হলেও রাজধানীতে রয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। এখানে মোট সড়কের আয়তন ১ হাজার ২৮৬ কিলোমিটার। তার ৫২ শতাংশই আবার মোটরযান চলাচলের অনুপযোগী। এ কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানজট। তাহলে কী দাড়ালো? দাড়ালো তানিয়া নামের যে মেয়েটিকে রাস্তা পারপারের সময় বীরবঙ্গুব নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেআইনি ১ মাসের জেল দিলেন, সেই তানিয়া এই শহরের যানজটের জন্য দায়ি নন। বরং তার নাগরিক সেবা হুট করে বন্ধ করে দেয়ার জন্য এই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে নিদেন পক্ষে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া উচিত ছিলো।
বুয়েটের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পড়তে বণিকবার্তার নিচের লিংকটি দেখতে পারেন।বণিক বার্তার

শহরের পৌনে দুই কোটি লোকের বাস। এর মধ্যে শতকতরা ৯৫ শতাংশ মানুষের চলাচলের নেই নিজস্ব যান। পাবলিক পরিবহন, রিকশা ও হেটে চলাচলই তাদের একমাত্র ব্যবস্থা। ধনি ও সরকারি গাড়ি দিয়ে রাস্তা দখল করে পার্কিং করা হয় যত্রতত্র। আর ফুটপথগুলো সরকারি দলের মাস্তানরা দখল করে হকার বসানোর কারণে সেখান দিয়েও হাটা দায়। রাস্তা পার হবার জন্য জেব্রা ক্রসিং থাকার নিয়ম থাকলেও বাংলাদেশে হয়েছে এর উল্টোটা।

জেব্রাক্রসিং বন্ধ করে স্বাস্থ্যঝুকির উচ্চ সিড়িওয়ালা ফুটওভার ব্রিজ করা হয়েছে। ঢাকা মহনাগরের তীব্র যানজট কমানোর জন্য রাস্তা পারাপার পায়ে হেটে নিষিদ্ধের জন্যই এমনটি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এসব ব্যবস্থা না করেই সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ পায়ে হেটে রাস্তা পার হওয়া মানুষের উপর নাজিল করেছে সাক্ষাত গজব। ভ্রাম্যমান আদালত নামিয়ে যত্রতত্র জরিমানা, জেল দিচ্ছেন একের পর এক। এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, গরিবের জন্য কী ব্যবস্থা ঠিক করে সরকার এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে যে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে সাধারণ মানুষকে জেল জরিমানা করছে তাও যথাযথ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে না বলেও অনুসন্ধানে প্রমান মিলেছে। ভ্রাম্যমান আদালতের নামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে বিচারবর্হিভূত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাচ্ছে প্রশাসন।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, একটি নগর বাসযোগ্য থাকার জন্য ২৫ শতাংশ রাস্তা থাকার দরকার। কিন্তু ঢাকা শহরে আছে মাত্র ৮ শতাংশ।১৯৫৯ সালে মাস্টারপ্ল্যানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এ শহর। নিয়ন্ত্রণে শৈথিল্যের কারণে এ শহরের অবকাঠামো উন্নয়নে সে প্ল্যানও অনুসরণ করা হয়নি। ওই সময়ের তুলনায় এখন জনসংখ্যা বেড়েছে ৩০ গুণ। সে অনুযায়ী মাস্টারপ্ল্যান আধুনিকায়ন করা হয়নি, যার প্রভাব পড়েছে অন্যান্য উন্নয়নে। ঢাকায় প্রতিদিন নামছে অন্তত ২০০টি গাড়ি নামছে যার মধ্যে ৪০টি প্রাইভেট কার। আর ঢাকা শহরের যানজটের জন্য দায়ি করা হচ্ছে তানিয়া নামের সাধারণ মানুষদের!!
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পড়তে প্রথম আলোর নিচের রিপোর্টটি দেখতে পারেন। প্রথম আলোর রিপোর্টটি

এ কারণে বাড়ছে যানজট। অথচ সারা পৃথিবীতে পাবলিক পরিবহন বাড়ে, কমে ব্যাক্তিগত পরিবহন। ইউরোপ, চীন সহ বহু দেশেই ব্যাক্তিগত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নানান রকমের বাধা নিষেধ দেওয়া হয়। আর ঢাকায় বিদেশে থেকে বাতিল হয়ে যাওয়া গাড়ি রিকন্ডিশন নামে প্রতিদিন নামছে কারণ এখনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের দাম অত্যান্ত কম। দুই শ’ থেকে আড়াই শ’ টাকার গ্যাসে প্রতিদিন গাড়ি নামানো যায় রাস্তায। অন্যদিকে পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে একই রাস্তা যেতে প্রতিদিন খরচ হোত দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। কম দামের জ্বালানির কারণেই ঢাকায় বেশি গাড়ি নামছে, বাড়ছে যানজট আর তার ভোগান্তি নেমে আসছে সাধারণ মানুষের ওপর। এই হিসেবে ২০১০ সালের। তারপরও প্রতিদিন যদি ১০০ হয মাসে তিন হাজার আর এক বছরে তা সাড়ে তিন লাখ গাড়ি।
এর বিপরীতে পাবলিক বাস কতগুলো আছে? অবিশ্বাস তথ্য। এক দশক আগে মানে ১০ বছর আগে ঢাকায় ১০ হাজার বাস চলাচল করতো। এক দশকে পৌনে এক কোটি মানুষ ঢাকায় নতুন করে যোগ হয়েছে বাসের সংখ্যা না বেড়ে উল্টো কমেছে। বিআরআটিএর ওয়েবসাইট থেকে জানা যাচ্ছে বর্তমানে ঢাকায় বাসের সংখ্যা মাত্র ৫ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে মিনিমাসের সংখ্যা ৩ হাজার ১২৬, বাসের সংখ্যা ২ হাজার ৮১টি। আর পরিবহন মালিকদের হিসেবে বিআরটিএর এ হিসেবের চেয়ে বাসের সংখ্যা কম।
তাহলে সাধারণ মানুষ রাস্তায হাটবে নাতো আকাশ দিয়ে উড়াল দিবে? দেশের শাসকেরা কতটা গণবিরোধী হলে দিনের পর দিন এরকম একটি অসনীয় অবস্থা তৈরী করে রাখে?

আইনের মোড়কে বিচারবর্হিভূত ‘বিচার’

তানিয়া নামের যে মেয়েটিকে নিবার্হী হাকিম ১ মাসের জেল দিলেন তা বেআইনি। এভাবে কোন নাগরিকের নাগরিক অধিকার কেড়ে তাকে দণ্ড দেয়া যায় না। প্রথমতো জেব্রা ক্রসিং দিয়ে মানুষ রাস্তা পার হবেন এটা আইনসিদ্ধ। বরং এই জেব্রা ক্রসিং দিয়ে হাটার কারণে যদি কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে আটক করে, জেল দেয় তাহলে সেটাই বরং আইন ভাঙ্গার সামিল। এসবের পাশাপাশি যে প্রক্রিয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে তাও আইন লঙ্ঘন করে করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট ট্রাইব্যুনালের আইনটি নিজেই একবার পড়ে দেখতে পারেন।
আওয়ামী লীগ এর আগেরবার সরকার গঠন করে ২০০৯ সালে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ প্রণয়ন করে। এই আইনের ৬ নম্বর ধারার উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, ‘ধারা ৫-এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ধারা ১১-এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করিবার সময় তফসিলে বর্ণিত আইনের অধীন কোনো অপরাধ, যাহা কেবল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য, তাহার সম্মুখে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হইয়া থাকিলে তিনি উক্ত অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে গ্রহণ করিয়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করিয়া এই আইনে নির্ধারিত দণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন।’
মোবাইল কোর্ট আইনের ৭ নম্বর ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করিবার সময় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে গৃহীত হইবার পরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত অভিযোগ লিখিতভাবে গঠন করিয়া তা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাঠ বা ব্যাখ্যা করিয়া শুনাইবেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি গঠিত অভিযোগ স্বীকার করেন কি না তাহা জানিতে চাহিবেন। অস্বীকার করিলে তিনি কেন স্বীকার করেন না উহার বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানিতে চাইবেন।’
উপধারা (২)-এ বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার করিলে তাহার স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করিয়া উহাতে অভিযুক্তের স্বাক্ষর বা ক্ষেত্রমতে টিপসই এবং দুইজন উপস্থিত সাক্ষীর স্বাক্ষর বা ক্ষেত্রমতে টিপসই গ্রহণ করিতে হইবে; এবং অতঃপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এএক্সকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট তাহার বিবেচনায় যথোপযুক্ত দণ্ড আরোপ করিয়া লিখিত আদেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত আদেশে স্বাক্ষর করিবেন।’ উপধারা (৩)-এ বলা হয়েছে, ‘অভিযোগ অস্বীকার করিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাখ্যা সন্দেহজনক মনে না হইলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট তাহাকে অভিযোগ হইতে
অব্যাহতি প্রদান করিবেন।’ উপরাধা (৪)-এ বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক উপধারা (৩)-এর অধীন প্রদত্ত ব্যাখ্যা সন্দেহজনক মনে হইলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি বিচারার্থে উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে প্রেরণ করিবেন।’
এই আইনের একটি সোজা ব্যাখা হলো, অপরাধ সংগঠনকালে আপনাকে হাতে নাতে নির্বাহী হাকিমের ধরতে হবে। নির্বাহী হাকিম আপনাকে ধরার পর আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখে বলবে, যে আপনি কি দোষ স্বীকার করছেন? যদি আপনি দোষ স্বীকার করেন তাহলে আপনাকে তারা জেল বা জরিমানা দিবে। আর যদি বলেন, আমি নির্দোষ। তাহলে হয় আপনাকে তিনি ছেড়ে দিবেন নতুবা আপনাকে তিনি নিয়মিত আদালত বা বিচারবিভাগীয় আদালতে পাঠাবেন।
তবে শুনে অবাক হবেন না যে, এভাবে মোবাইল কোর্টের নামে যত মামলা বিচার বিভাগের জজদের কাছে আপিলে যায় তার প্রায় ৯৯ শতাংশই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দেওয়া দণ্ড খারিজ করে দেন।
এই ব্লগ যারা পড়ছেন তারা এখন রাস্তায় নেমে সতর্ক থাকবেন। কোন নির্বাহী হাকিম আপনার উপরে যতই হম্ভিতম্ভি করুক আপনি তার দেওয়া কাগজপত্রে সাক্ষর করবেন না।
গরিবের গ্যাস বড়লোকের গাড়িতে
দেশে যে গ্যাস আছে যদি নতুন কোন গ্যাস খনি আবিস্কার না হয় তাহলে ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। অমূল্য প্রাকৃতিক গ্যাসকে দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনে ব্যবহারে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। সরকার তা না করে দামি গাড়িতে কমদামি জ্বালানি হিসেবে গ্যাস দিচ্ছে। যে ব্যাক্তি ৩০ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনবেন তিনি দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত মানুষ নন, তাকে দাবি জ্বালানি অকটেন বা পেট্রোল কিনতে হবে। তিনি তা না করে সারাদিন দুই থেকে আড়াই শ টাকার গ্যাসে দিন পার করছেন।
কম দামে গ্যাস ব্যবহার করার সুযোগ থাকায় প্রতিদিন ঢাকায় ১০০ প্রাইভেট কার নতুন করে নামছে। যেভাবে পারো একটা গাড়ি কেনো, গ্যাসতো আছে। এ জন্য বাড়ছে জ্যাম। আর উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ের চাপানোর নামে নিরীহ পথচারিকে ধরা হচ্ছে। ভাবটা এমন, ‘ব্যাটা তুই কেন রাস্তায় নামলি?’
অবৈধ পার্কিং : ঢাকা শহরে যত্রতত্র অবৈধ পাকিং করা থাকে বড় লোকের গাড়ি ও সরকারি গাড়িতে। পুলিশ মাঝে মধ্যে ঘুষ খাওয়ার জন্য অবৈধ পার্কিং করা গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করার ভয় দেখিয়ে ঘুষ খায়। কিন্তু কোন দামি গাড়ি বা সরকারি গাড়ির ধারের কাছেও তারা যায় না। আর যদি আর্মিদের গাড়ি হয় তাহলে ওই অঞ্চলেই পুলিশ তাদের ঘুষ কার্যক্রমও সীমিত রাখে।
বড়লোকের এলাকায় যে পুলিশ কার্যক্রম নেই অবৈধ গাড়ি পাকিং তা নতুন করে বলার কিছু নেই। আর গরিবের সিএনজিতে আছেই। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পড়তে কালের কন্ঠের নিচের লিংকে দেখতে পারেন।

ঢাকার উপর থেকে চাপ কমাতে হবে। গত এক দশকে ঢাকার লোক সংখ্যা ৭৫ লাখের উপরে বেড়েছে। এই বিপুল পরিমান মানুষের চাপ নেওয়ার মত আধুনিক ব্যবস্থা নেই এই শহরে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকায জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বাংলাদেশে যে কোন চাকরির জন্য থমে ঢাকায় আসতে হয়। সরকারি বেসরকারি সব ক্ষেত্রেই ঢাকাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে অর্থনীতির খাত। জনসংখ্যার চাপ কমাতে অঞ্চল ভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। সরকারের এরকম পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখে না।

ছবির নারী পুলিশটি হযতো ৩ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশ বিভাগে ঢুকেছে। হয়তো ক্ষমতাসীন দলের পাতি নেতা ছিলো বা সমর্থক অথবা একটি নির্দিষ্ট জেলার মানুষও হতে পারেন। যদি একজন পুলিশ সদস্য প্রকাশ্য দিনে দুপুরে টেনে হিচড়ে এভাবে অপমানিত করতে পারে দেশের সাধারণ মানুষকে আর মহা ক্ষমতাবান আমলা ম্যাজিস্ট্রেট কলমের এক খোচায় ১ মাসের জেল দিতে পারে, তাহলে সেই দশে রাতের আধারে বা যেখানে মিডিয়া নেই সেখানে কী কী হতে পারে তা আন্দাজ করলে নিরাপদে থাকা মধ্যবিত্তের হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবার কথা।

গণ পরিবহন বাড়াতে হবে। ঢাকার চারপাশের জেলাগুলো ও উপ শহর থেকে দ্রুতগামির যানে চড়ে ঢাকায় আসার সুযোগ তৈরী করতে হবে। সকাল নয়টার মধ্যেই ঢাকার কর্মস্থলে পৌছে ছয়টার মধ্যে বাসায় ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে শুধু ঢাকার উপরই চাপ কমবে না তা নয়, উপ শহরগুলোতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এসব পাশ্ববর্তী জেলা ও উপশহরগুলো অর্থনীতির বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

মোবাইল কোর্ট মিডিয়াবাজির নিদারুন উদাহরণ
আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে ভ্রাম্যমান আদালতের হিরো রোকনউদ্দৌলার কথা। পত্রিকা থেকে শুরু করে টিভিগুলোর বদৌলতে তিনি রিতিমত কিংবদন্তি হয়ে উঠেন। মিডিয়া তখন রোকনউদ্দৌলাকে সতোতার পরাকাস্টা হিসেবে কত ঢংয়ে যে দেখিয়েছেন তার শেষ নেই। অথচ এই রোকনউদ্দৌলা যখন খাগড়াছড়িতে ইউএনও ছিলেন তখন তার স্ত্রী অবৈধভাবে একাধিক পাহাড় নিজের নামে নিয়েছেন। কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তিনি দেশে ভেজালমুক্ত খাদ্য আমাদের সরবরাহে আপোষহীন ভূমিকা রাখবেন?
বর্তমানে আরেকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন নাম আনোয়ারপাশা। মাঝে মধ্যে তিনিই অভিযান চালিয়ে ভেজাল দ্রব্য আটক করেন, নানান জেল জরিমানা দেন। অথচ এই আনোয়ার পাশা যখন খাদ্য আদালতের (বাংলাদেশে মাত্র একটি খাদ্য আদালত আছে, ঢাকায়) দায়িত্বে ছিলেন, দেশের একমাত্র খাদ্য আদালতের কাজ হলো বিশুদ্ধ খাদ্য যারা সরবরাহ করছে না তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া, সেই বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের তৎকালিন ম্যাজিস্ট্রেট (তখনো নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়নি) আনোয়ার পাশা দেদারছে ঘুষ গ্রহণ করেছেন। এটা আমার বক্তব্য নয়, স্বয়ং বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন থেকে উল্লেখ করলাম। বিচার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনের পরও আনোয়ার পাশার কিছু হয়নি। উল্ট্ তিনি মিডিয়ার কল্যানে এখন জাতীয় হিরো!! এই জাতীয় হিরোর দুনীতি বিষয়ক প্রতিবেদন পড়তে নিচের সাপ্তাহিকের লিংকে যান।
মোবাইল কোর্ট নাকি গণবিরোধী আস্ফালন!
মোবাইলে কোর্টের নামে নির্বাহী হাকিমরা গণবিরোধী আস্ফালন দেখান। কেন দেখান? কারণ হতে পারে যে তারা এক সময় ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা অনুশিলন করতেন। ক্ষমতা হারালে সবারই মাথা নস্ট থাকে, নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও এক্ট অবস্থা।
এ কারণে সরকার মোবাইল কোর্ট দিয়ে নিজের বেআইনি কার্যকলাপও করে থাকেন। এই যেমন বিএনপি হরতাল দিলে সরকার মোবাইল কোর্টেই বিচারের কাজ সেরে ফেলতে পারে। মোবাইল কোর্টের ভয়ে বিরোধীরা রাজপথ থেকে বিদায় নিলো। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পড়তে নিচের কালের কন্ঠের লিংকে যেতে পারেন
তানিয়া ও আমরা
আমরাই দেশ, আমরাই জনগন, আমরা ৯৯ শতাংশ মানুষ। আমাদের জন্য কঠিন গরমে শীতল গাড়ি নেই এমন কী ভাঙ্গাচোরা বাসও নেই। আমাদের জন্য আছে মোবাইল কোর্টের ১ মাসের জেল। তানিয়া আদৌ কামড়ে দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। অন্তত ছবি দেখে তা বোঝা যাচ্ছে না। উল্টো কী ভয়ানক অপমান করা হচ্ছে প্রকাশ্য এ মেয়েটিকে তারই চিত্র ফুটে উঠেছে এই ছবিতে।
ছবির নারী পুলিশটি হযতো ৩ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশ বিভাগে ঢুকেছে। হয়তো ক্ষমতাসীন দলের পাতি নেতা ছিলো বা সমর্থক অথবা একটি নির্দিষ্ট জেলার মানুষও হতে পারেন। যদি একজন পুলিশ সদস্য প্রকাশ্য দিনে দুপুরে টেনে হিচড়ে এভাবে অপমানিত করতে পারে দেশের সাধারণ মানুষকে আর মহা ক্ষমতাবান আমলা ম্যাজিস্ট্রেট কলমের এক খোচায় ১ মাসের জেল দিতে পারে, তাহলে সেই দশে রাতের আধারে বা যেখানে মিডিয়া নেই সেখানে কী কী হতে পারে তা আন্দাজ করলে নিরাপদে থাকা মধ্যবিত্তের হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবার কথা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “রাস্তায় হাটা যাবে না প্রশাসনের এমন মাস্তানি বেআইনি

  1. হ্যা সব অভিযোগ মেনে নিয়েই
    হ্যা সব অভিযোগ মেনে নিয়েই বলতে পারি আপনি রাষ্ট্র কে দোষ দিয়ে গেলেন একতরফা কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমরা নিজেরাও কি রাষ্ট্র কে সহযোগিতা করি ? যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের কারনে দূর্যটনার সংখ্যা কিন্তু কম না , প্রশাসনের এই উদ্যোগে অন্তত নাগরিকেরা সাবধান তো হবে অন্তত যেখানে ওভারব্রীজ আছে সেখানে কেউ তা না ব্যাবহার করার দুঃসাহস দেখাবে না , রাস্তা পার হতে মরে কিন্তু গরিবেরাই ।

  2. যে কোন আইন করার আগে জনগনের
    যে কোন আইন করার আগে জনগনের স্বার্থ সংশিষ্ট বিষয় মনোযোগ দেওয়া ও মতামত নেওয়া বান্চনিয়।পুলিশ প্রশাসন যে আইনটি করেছে তা কোন ক্রমেই এই মূহর্তের জন্য ঠিক নয়।কারন জেব্র ক্রসিং কিংবা ফুট ওভার ব্রিজ দিয়ে পারাপার করতে হলে আগে রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা,অবৈধ গাড়ি পাকিং ও ফুঠ ওভার ব্রিজের মানুষ চলাচলের উপযোগী করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =