ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন,পুলিশি নির্যাতন ও চেতনার চৌরাস্তায় পাগলা দাসু

সম্প্রতি বরিশালে মেডিকেল হেলথ টেকনোলোজির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বেধড়ক লাটিচার্জ করেছে পুলিশ। গত সোমবারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ রাখার জন্য যারা দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছিলেন তাদেরও বেধড়ক পিটিয়েছে পুলিশ।

চেতনায় যুদ্ধাপরাধ বাহিরে ভং

বরং এইভাবে বুটের তলায় নিহত হলে বাংলাদেশ, আমরা যারা কৃষকের, শ্রমিকের, কেরানির, আদিবাসীর জরায়ুবা লহু থেকে এসেছি মানুষ নয় কেবলি সংখ্যা হয়ে তাদের তখন গ্রামের কথাই মনে পড়ে যায়। কাজিয়া দাঙ্গা ফ্যাসাদের কথা মনে পড়ে যায়, ধর্মঘট লকাউটের কথা মনে পড়ে যায়। বাকি দিনগুলো আমরা ঝিমাই।

ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের পিটুনি, টিয়ারগ্যাস এসব বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে জড়িয়ে আছে। পাকিস্তান আমলে ছাত্রদের পুলিশ পিটিয়েছে, সেই ছাত্ররা অগ্রগন্য ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে। স্বাধীনতার পর স্বৈরাচার এরশাদও বেধড়ক পিটিয়েছে, হত্যা করেছে। সেরকম একটি হত্যার দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। ওই দিন জয়নাল দিপালীদের নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে স্বৈরাচার এরশাদ। জামানা পরিবর্তন হয়েছে। দেশে এখন নির্বাচিত সরকার। তারাও সমানে পেটায় ছাত্রদের। সব ক্ষোভ ছাত্রদের ওপর। কী খালেদা কী হাসিনা সব আমলেই ছাত্ররা আন্দোলন করলে মারের অভাব নেই। এমন কী তা মঈন ও ফখরুদ্দীন আমলেও।
আমাদের জমানায় আমরা পুলিশি আক্রমন থেকে মিছিল ও সমাবেশ প্রতিরোধ করতে নারীদের আগে রাখতাম। এরপরও যে পিটুনি খেতাম না, তা নয়, তবে নারী আন্দোলনকর্মীরা মারের ভাগটা একটু কমই পেতেন। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশ নারীদের ওপর বেপরোয়া হয়ে উঠছে। টার্গেট করেই নারীদের পেটাচ্ছে। পেটানোর ভঙ্গি ও আঘাতের স্থানগুলো নিশ্চিতভাবেই অভব্য এবং কুরুচিপূর্ণ।

চেতনার পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত বাংলাদেশ
কিন্তু আরো উদ্বেগ ও যাতনার বিষয় হলো নারীরা যখন এমন নিগ্রহের স্বীকার হচ্ছেন তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দল ও অন্যতম বৃহত দলের প্রধানরা হলেন নারী। তাহলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠে, যে দেশে এতোগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান পদে নারীরা, সেই দেশে নারীরা কি এমন যন্ত্রণা, অপমান, লাঞ্ছনার স্বীকার হতে পারেন?
গত ১৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যার ফলে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন মূহুর্তেই ধুলিস্মাৎ হয়ে যায়। সিদ্ধান্তটি হলো আগামি আগামী বছর থেকে শুধু ওই বছরে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় যারা পাস করবেন তারাই কেবলমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। অর্থাৎ যারা এ বছর ২০১৪ সালে এইএসএসি সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছেন তারা আগামী বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। বহুকাল ধওে চলে আসা কোন পদ্ধতি যদি বাতিল করতে হয় তাহলে প্রথমেই তা নিয়ে পর্যালোচনা করতে হয়, তর্ক বিতর্ক উঠে এবং একটি সমাধানে পৌছানো যায়। এটাই হলো সভ্য সমাজের প্রচলিত নিয়ম। যেহেতু বাংলাদেশের সবখানে, সব জায়গাতে অসভ্যতা গিলে ফেলছে, যা কিছু সুন্দও তা পরাজিত হচ্ছে সে কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সভ্যতা দেখাবেন এটা আশা করারও কোন সুযোগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তীর সুযোগ বিষয়ক তর্কে যাবার আগে কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের আগে ভেবে দেখা দরকার।

উচ্চ শিক্ষা নিয়ে সরকারের ভাবনা কী?

এক কথায় যদি বলি উচ্চ শিক্ষা নিয়ে সরকারের ভাবনা হলো, দেশের উচ্চ শিক্ষাখ তে প্রতি বছর যুক্ত প্রায় নয় লাখ শিক্ষার্থীর বিশাল বাজারটি বিশ্বব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সহ তাবৎ বৃহৎ করপোরেশনের হাতে ছেড়ে দেওয়া। এটাই বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর নীতি। এই নীতির ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এ জন্য তারা বিশ্বব্যাংকের একটি প্রেসক্রিপশন নিয়েছে দেশের উচ্চ শিক্ষা কেমন হবে তার ব্যাপারে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) বিশ্বব্যাংক ২০ বছর মেয়াদী একটি প্রেসক্রিপশন দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে বেসরকারিকরণ করতে হবে। শিক্ষার ব্যায়ভার শিক্ষার্থীকেই নিতে হবে। অর্থ্যাৎ আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েন আর নর্থ সাউথে পড়েন আপনাকে আসলে টাকা দিয়ে পড়তে হবে।
এ বিষয়ে প্রতিবেদন পড়তে নিচের লিংকে যান

সরকার এই নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে শাসকশ্রেণীর দল ছাত্রলীগ, ছাত্রদল বা শিবিরের কাছ থেকে কোন বাধা পায়নি। মূল বাধা এসেছে বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর কাছ থেকে। আপাত দূর্বল হলেও এই বামপন্থিরাই বড় ধরনের মতামত তৈরী করতে পেরেছে উচ্চ শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরনের বিরুদ্ধে। এ কারণে সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্রুত বেসরকারিকরণের পথ থেকে কিছুটা সরে এসেছে। এবার তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা যাতে বেশি করে ভর্তী হতে পারে সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে। এদের প্রথম ঢাকায় যারা পড়তে চান এমন শিক্ষার্থীদের। এ কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তী হতে চান এমন শিক্ষার্থীরাই হলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শ ‘মুরগী’ বা খদ্দের। কারণ দেশের ৯৫ ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকায়। এ কারণেই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বার ভর্তীর সুযোগ রহিত করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে আরো কিছু পরিস্কার ধারণা তৈরীর আগে বিশ্বরাজনীতি অর্থনীতির ব্যাপারেও কিছু ধারণা আমাদেরকে নিতে হবে যদি শিক্ষার আন্দোলন ও শিক্ষার অধিকারের ব্যাপারে আমরা বুঝতে চাই।

বিশ্বমন্দারকালে নতুন বাজার খোজাই বৃহৎ পুঁিজর লক্ষ্য
সারা পৃথিবীতে ইকোনমিক মেল্ট ডাউন বা অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা চলছে। কারণ কী? সেটা বিস্তারিত আলোচনা। জার্মান দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ হেনরিক কার্ল মার্কস পুঁজিবাদের এই সংকট যে অবম্ভাবি এ নিয়ে ডাস ক্যাপিটাল নামে বিশাল এক গবেষণা কর্ম রেখে গেছেন। সে কারণে দু চার কথায় একে বুঝতে যাওয়া ও ব্যাখা করার বহু বিপদ আছে। তবে একদম সংক্ষেপে যদি বলতে হয় তাহলে, প্রথম বিশ্ব বা চলতি ভাষায় ধনি রাষ্ট্রগুলোর নিজ দেশে ব্যবসা করে তাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বহু আগেই। এ কারণেই তাকে পন্য উৎপাদনের কাচামাল ও পন্য বিক্রির বাজার দখল করতে হয়। এসব করতে গিয়ে তাকে বিশ্বযুদ্ধও করতে হয়। এসব না করতে পারলে সে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। বর্তমান এরকম একটি বিশ্বমন্দার কাল পৃথিবীজুড়ে চলছে। তার প্রভাব অত্যান্ত ভয়ঙ্কর।
পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার সারকথা হলো মুক্তবাজার অর্থনীতি। অর্থনীতিতে বাজার হবে অবাধ এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন। এই নিয়ন্ত্রণহীনতাই জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার। এই মন্দা ইতিমধ্যেই মুক্তবাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনীতিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এবারের বিশ্ব মন্দায় রাষ্ট্রকে তার মুক্তবাজার চরিত্র ভেঙে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা একে পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হিসেবে দেখছেন। পুঁজিবাদী অর্থনীতি তার নীতির বাইরে গিয়ে বাজার ব্যবস্থার রাষ্ট্রীয়করণ করছে। কিন্তু তার পরও বিশ্ব মন্দা কাটেনি। চলমান এই বিশ্ব মন্দা এই পর্যায় পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার গৃহনির্মাণ খাতে ঋণদানকারী সর্ববৃহৎ দুটি কম্পানি Freddie Mac, Fannie Mae-কে ২০ হাজার কোটি ডলারের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। আর্থিক বিনিয়োগ ব্যাংক ‘লেহম্যান ব্রাদার্স’ নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। মার্কিন সরকার এই ধস থামানোর জন্য মার্কিন কংগ্রেসে বেইল আউট কর্মসূচির জন্য ৭০০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। শুধু মার্কিন অর্থনীতি নয়, ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশেও মন্দা চলছে। অস্থিতিশীল বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইউরো অঞ্চল নামে পরিচিত ইউরোপের ১৫টি দেশ প্যারিসে বৈঠক করেছে। ব্রিটেনে এই সংকট থাবা বসিয়েছে রয়েল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড (আরবিএস), লয়েডস টিএসবি ও এইচবিওএসের ওপর। এ কারণে সংকটে থাকা ব্যংকগুলোকে দেওয়া হবে তিন হাজার ৭০০ কোটি পাউন্ড।
জার্মান সরকার ৫০ হাজার কোটি ইউরোর একটি প্যাকেজ পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে। ফ্রান্স ব্যয় করবে ৩৫ হাজার কোটি ইউরো আর স্পেন সরকার ১০ হাজার কোটি ইউরোর প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে। ইতালি, অস্ট্রিয়াও তাদের মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
Realty Track-এর সূত্রে জানা গেছে, ওই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ ৮১ হাজার ৩০০ বাড়ি নিলামে তোলা হয়েছে, আগস্ট ২০০৭ থেকে এ পর্যন্ত মোট আট লাখ ৫১ হাজার বাড়ি ঋণদাতারা অধিগ্রহণ করার জন্য অগ্রসর হয়েছে। এই তথ্য আরো ভাবনায় ফেলে দেয় যখন জানা যায়, মার্কিনিদের ঘর-বাড়ি হারানোর আরো করুণ কাহিনী। ২০১২ সালে ৫০ লাখেরও বেশি আমেরিকান পরিবার তাদের বাড়ি হারিয়েছে, আর ২০১৮ সালেই বাড়ি হারানো পরিবারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৬ লাখ ৯০ হাজার।
মার্কিন মন্দা তাই চীনের বাজার ব্যবস্থায়ও হানা দিয়েছে। মার্কিনিদের রিয়েল এস্টেটের ধস চীনের পিভিসি পাইপ ম্যানুফ্যাকচারিং কমিয়ে দিয়েছে ৩০ শতাংশ উৎপাদন। শুধু পিভিসি নয়, চীনের চারটি বৃহত্তম ইস্পাত কম্পানি ২০ শতাংশ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে দেশটি। ইউরোপেও এই প্রভাব পড়ায় ইউরোপিয়ান গৃহনির্মাণ সামগ্রী প্রস্তুতকারকেরা হয় ফ্যাক্টরি বন্ধ নতুবা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
মোটরযান কেনার লোক নেই GM, Ford, Toyota, BMW, Daimler, Volkswagen, Audi, Porsche-এর ইউরোপের কার্যক্রম সংকুচিত করেছে। এই সংকচনের ফলে শুধু গাড়িশিল্প নয়, এর প্রভাব গিয়ে পড়েছে অন্য শিল্পেও। ইস্পাত, গ্লাস, রাবার, ইলেকট্রনিক পার্টস, রাবারসহ একাধিক শিল্পে। আরো অসংখ্য খাতের ওপরও তার প্রভাব ফেলছে। তাৎক্ষণিক ফল হচ্ছে বিভিন্ন প্ল্যান্ট ও ফ্যাক্টরি বন্ধ অথবা লে-অফ ঘোষণা। General Motors-এর মধ্যেই তার ছয়টি ফ্যাক্টরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, যার পাঁচটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত (জর্জিয়া, মিশিগান, নিউইয়র্ক, ওহিও ও উইসকনসিন), সেই সঙ্গে মেক্সিকোর ঞড়ষঁপধ এবং কানাডার ঙহঃধৎরড়-তেও প্ল্যান্ট বন্ধের ঘোষণা এসেছে। শুধু তা-ই নয়, জার্মানি, স্পেন, ব্রিটেন, পোল্যান্ড, সুইডেন ও বেলজিয়ামেও ফ্যাক্টরি সাময়িক বন্ধ করছে।
ইউএস গাড়ি-প্রস্তুতকারকেরা দেউলিয়াত্বের কিনারে এসে অটো শ্রমিকদের চাকরির ওপর খৰহস্ত হচ্ছে। জেনারেল মোটর (gm) গত ১৬ অক্টোবর তাদের তিনটি প্ল্যান্টে (একটি দেলাওয়ার ও বাকি দুটি মিশিগানে-পনটিয়াক ও ডেট্রোইট) এক হাজার ৬০০ কর্মীর লে-অফ ঘোষণা করেছে। ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত তার অর্ধেক লোকবলকে ছাঁটাই করেছে, শ্রমিকের সংখ্যা এক লাখ ৩৩ হাজার থেকে এখন ৭২ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে।
এ রকম ছাঁটাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, অন্যান্য শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেও শুরু হয়েছে। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানির দুই বৃহৎ অটো-পার্টস প্রস্তুতকারক কম্পানি ‘উল্লেখযোগ্য’ সংখ্যায় লে-অফের ঘোষণা দিয়েছে। জার্মান অটো-Daimler-এর স্টার্লিং ট্রাক ডিভিশন বন্ধ এবং অন্টারিও, কানাডা ও অরেগন রিজিয়নে প্ল্যান্ট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, যাতে তিন হাজার ৫০০ শ্রমিক কাজ হারাবে।
এতো কথার মানে হলো বা ধান ভানতে শীবের গীতের প্রয়োজনীয়তা হলো কেন বিশ্বব্যাংকের মত বৃহৎ করপোরেশনগুলো বাংলাদেশের শিক্ষাখাত দখলে নিতে মরিয়া? কারণ হলো অলস পুঁজি বসে থাকার সুযোগ নেই। যেহেতু বাংলাদেশে প্রতি বছল নয় লাখ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশ করছে, এই নয় লাখ মুরগি বা খদ্দেরের বিশাল বাজারে বিশ্বব্যাংক বিনিয়োগ করতে চাইবে এটাই সহজ কথা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজার মন্দা

গত বছর সারাদেশে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে আট লাখ ৮৫ হাজার ৭০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ হাজার ৬০২ জন। কিন্তু দেশের ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে প্রায় ৪৩ হাজারের মতো। আর সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় সাড়ে আট হাজারের মতো আসন রয়েছে। অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ ফল করেও উচ্চশিক্ষায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে না অনেকেই। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ছয় হাজার আসনর বিপরীতে চলতি বছর আবেদন করেছে প্রায় চার লাখ। কাজেই তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। তবে এইক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিকে অনেক ভাল ভালফলধারী সুযোগ না পেলেও অপেক্ষাকৃত কম ফলধারী শিক্ষার্থীরাও সুযোগ পাচ্ছে এটা সত্য। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের একমাত্র যোগ্যতা নয় ভালো ফল। এর সঙ্গে তার অন্যান্য জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ধরনের প্রশ্ন করে তা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষককে ধরিয়ে দিলেও নির্ঘাত ফেল করবেন এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। ভর্তী পরীক্ষার অসম লড়াইয়ে মেধা দিয়ে তাকে পাস করতে হয়। মূখস্থ্য নির্ভর এইচ এসসি পরীক্ষার পরে বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত ভর্তী পরীক্ষা প্রকৃত মেধাবীদের ভর্তী হবার একটি ভালো সুযোগ। যেখানে গাদা গাদা ভালো রেজাল্টই নয় বরং মেধা ও তাৎক্ষনিক ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ।

1983 সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নিহত ঢাবি ছাত্র জয়নালের লাশ ঘিরে সতির্থ

শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরপরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েকবছর আগেও বুয়েটেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েই কোন শিক্ষার্থীকে মেধার স্বাক্ষর রাখতে হবে। দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশগ্রহনের কোন সুযোগ থাকবে না। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এটা অবশ্যই প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু দেশে যে বিরাট সংখ্যাক উচ্চ শিক্ষা নেবার জন্য শিক্ষার্থী তৈরী হয়েছে তাহলে তারা যাবে কোথায়? প্রশ্ন সহজ উত্তরওতো জানা। তারা যাবেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
দু’ চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যা কিছু পড়ালেখা করা হয় বাকিগুলো সব সার্টিফিকেট বিক্রির ব্যবসা করে। সারাদিন চাকরি বাকরি করেন পার্ট টাইম রাতে গিয়ে ঝিমুনির মধ্যে ঘন্টাখানেক ক্লাস করে বিবিএম এমবিএ সহ নানা কিসিমের সনদপত্র কিনে নিচ্ছেন। এতে উচ্চ শিক্ষার আসলে হচ্ছে টা কি?
অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে তাও যাওয়া লাগে না। ডাইরেক্ট অ্যাকশান। মানে আপনি সনদ পেয়ে যাবেন। দরকার শুধু টাকার। অনার্স, মাস্ট্রার্স এমন কী পিএইচডি ডিগ্রির। লন্ডনে এমন বহু কলেজ আছে, এগুলোর নাম ভিসা কলেজ। মানে ওই কলেজে আপনি ছাত্র হবেন শুধু এই কারণে যে বাংলাদেশের মত দেশগুলো থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করে সেখানে যাবেন, পড়ালেখা কিছু হবে না। সেখানে গিয়ে কুলি মুজুরের কাজ করে আপনাকে টিকে থাকতে হবে। লন্ডনের কুলি মজুর বলেও কথা। ব্রিটেন অবশ্য এ ধরনের কলেজ খুলতে দেওয়ার অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশ সহ বিদেশী ছাত্রদের সেখানে নিয়ে গিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আয় করা। হাজার হলেও ব্রিটিশ বুদ্ধিতো।!
বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার অবস্থা কত খারাপ তা পড়তে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে কালের কন্ঠে করা রিপোর্টগুলো দেখতে পারেন।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানই শুধু খারাপ এমনটি নয়, এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান টার্গেট হলো ব্যবসা করা। আলু পটল মাংসের দোকানের ওপর এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদেরকেও আলু পটলের মতই মনে করেন।
এ বিষয়ে আরেকি প্রতিবেদন পড়তে ক্লিক করুন

তাহলে মূল বিষয়টি হলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসার জন্য খদ্দের জোগাড় করা। এখন সেই খদ্দের জোগাড় করার দায়িত্ব কি সরকারের? এই প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদেরও। তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবেন না আমাদের গ্রাম থেকে আসা কৃষকের, শ্রমিকের, কেরানির সন্তানরা? খদ্দের জোগাড় নিয়ে একটি প্রতিবেদন পড়তে ক্লিক করুন।

এখন বিজ্ঞজনেরা প্রশ্ন তুলতেই পারেন যে, উচ্চ শিক্ষা না নিলেই হয়। কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তর হলো এখনতো দুধ বিক্রির সেলসম্যানের জন্য মার্কেটিং থেকে বিবিএম এমবিএ চায়। তাহলে শিক্ষার্থীরা কি করবেন?
একটি নগদ উদারণ দেই। আলী হায়দার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী আমার পরিচিত ছিলেন। তিনি এখন দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ইউনিভার্সিটিতে উচ্চ উচ্চতর শিক্ষা নিচ্ছেন।
প্রাণ গ্রুপের সেলস এক্সিকিউটিভের বিজ্ঞাপন দেখে আলী হায়দার সেখানে গিয়েছিলেন। ভাইবাতে তাকে জানানো হয় যে ভ্যানে করে তাদের তরল প্যাকেটজাত দুধ বিক্রি করতে হবে। বেতন ৮ হাজার টাকা। ভ্যানে করে দুধ বিক্রিতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এ জন্য কেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করা মানুষ দরকার? তো, দেশের চাকরির অবস্থা প্রকৃতই এই। তখন একজন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা না নিয়ে সাধারণ বিএ যখন করবেন তখন তাকেতো আপনি পিয়ন দারোয়ানেরও চাকরি দিবেন না। কিন্তু তাকে আবার বলবেন, কর্মমুখী শিক্ষা শেখো উচ্চ শিক্ষার দরকার কী। কথা বলতেতো টাকা লাগে না। কিন্তু কর্মমুখী শিক্ষা নিয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী দেখবেন যে এই চাকরিতে কোন সম্মান নেই, অর্থ নেই তখন যদি তারা তার জন্য আন্দোলন করেন তাহলে পেদিয়ে সোজা বানিয়ে দিবেন। সম্প্রতি বরিশালের মেডেকেল টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের কথা একটু স্মরণ করুন। তাদের দাবি তারা যেনো দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা পায়। এতে অন্যায়ের কী আছে। একজন কনস্টেবল থেকে এএসআই হয়ে এসই হচ্ছেন। চতুর্থ শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণী হচ্ছেন পুলিশের সদস্যরা। সেখানে আমাদের কর্মমুখী জানা ছেলেদের রাখবেন তৃতীয়শ্রেণীতে? আর আন্দোলন করলে যা খুশি যে ভাবে ইচ্ছে পিটাবেন? কারণ হলো, পুলিশ মানে সরকারের মাস্তান বাহিনী। সরকারের বেআইনি কার্যকলাপের পুলিশ পাহারাদার। জনগণবিহীন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পাহারাদার পুলিশ আর সাধারণ শিক্ষার্থীদেরতো সেই সুযোগ বা ইচ্ছে নেই। এ জন্য তাদের প্যাদাও। আর পুলিশকে গত ৫ বছরে তৃতীয়শ্রেণীকে দ্বিতীয়শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণীকে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দিয়েছে সরকার। তখনতো কোন পুলিশ এভাবে প্যাদানি খায়নি?
ঢাবি নেই ৫০০ তালিকাতেও
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হোত। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে চরম দলীয়করণ, সাবেক ধরনী শিক্ষা পদ্ধতি, গবেষণা সহায়ক ব্যবস্থা না থাকা সব মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন পৃথিবীর সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার মধ্যেও নেই।
এ সংক্রান্ত রিপোর্ট জানতে ক্লিক করুন ঢাকা ট্রিবিউনের নিচের লিংকে

এ ছাড়া সরাসরি র্যাংকিং করে এমন সাইটের তালিকা থেকেও দেখে নিতে পারেন

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হলো তার শিক্ষার মান ধরে রাখা আরো উন্নত করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেই কাজে মনোযোগী না থাকলেও কিভাবে সাধারণ ঘরের লোকদের ছেটে ফেলা যাবে তা নিয়ে ব্যস্ত।

চেতনার চৌরাস্তায় পাগলা দাশু
এই সরকার সব কিছুর ভেতরই চেতনা আবিস্কার করে। আমরা অহর্নিশি চেতনার পানীয় পান করি। পানীয় আমাদেরকে বধির করে রাখে অপিয়মের মত। আমরা বেদনা হারিয়ে আনন্দ অনুভব করি। আর সেই ফাকে সরকার যুদ্ধাপরাধী জামাত ইসলামের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সাত বীরশ্রেষ্টের বুকে সেটে দেয় গাড়ো অন্ধকার।

প্রকাশ্য ও মুখোশের আড়ালের সামরিকতন্ত্র বিদায় নিক

এবার বিজয় দিবসের অন্যতম স্পন্সর হলো যুদ্ধাপরাধী জামাত ইসলামের ইসলামী ব্যাংক। অর্থ্যাৎ যুদ্ধাপরাধীদের টাকায় পালিত হবে বিজয় দিবস। সব কিছু যখন নস্টদের অধিকারে যায় তখন নুরুলদিনের মত কেউ একজন ডাক দেয় না, ‘জাগো বাহে কুন্ঠে সবাই।’ আজকের নুরুলদিনরা তখন ধানক্ষেতের পাশে সেলফি তোলেন, আর শীতের কুয়াশা ভেদ করে গরম স্ট্রেটাস দেন। নীলাক্ষার চাঁদ ঢেকে যায় অদ্ভুত গাড়ো কুয়াশায়। আর তখনই ঝাপির ভেতর থেকে কালো সাপ বেরিয়ে আসে, সাত বীরশ্রেষ্টকে পেচিয়ে ধরে। বাংলাদেশের তখন শ্বাস নিতে কস্ট হয়। লাখ লাখ বীরেরা তখন কবরের ভেতর থেকে তড়পায়, আর তাদের রাইফেলগুলো কাৎলাহারের বিলের পেটের ভেতর বাঘাড় কিম্বং কৈ পুটিং শিংরা গা মারে।

এইভাবে বুটের নিচে বেঁচে থাকে বাংলাদেশ

হেরে যাচ্ছে বাংলাদেশ?
কোনএ একদিন হেরে যাবে মানুষ। কোন একদিন হেরে যাবে মানুষ আর তখন চৌরাশিয়ার বাশির বদলে বিশ্রি টিয়ার গ্যাসের ঝাজালো ঘ্রাণ, প্রিয়তমার চুম্বনের দাগের বিপরীতে বুটের তলায় পিষ্ট হবে কোমল ঠোট।
কোন একদিন হেরে যাবে মানুষ। মানুষ হেরে গেলে যেমনটি হয়, দখল হয়ে যায় সকালের রোদ, জায়নামাজের পাটি থেকে মায়ের ঘাড় ঘুরিয়ে ফেরেশতা দেখার সেই প্রিয়বাক্য ‘আসলামু ওলাইকুম ওয়া রহমতউল্লাহ’ অথবা শীতের রাতে হালের বলদের জন্য আব্বাজানের মায়া।

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে এভাবে লাঞ্ছিত!

কোন একদিন এইভাবে বুটের নিচে হেরে যাবে মানুষ, কোন একদিন বুটের তলায় নিহত হবে লাঞ্ছিত বাংলাদেশ। আর তখন তরুন তরুনেরা বেহুদা কস্টের সাইরেন বাজিয়ে দেশপ্রেম বিক্রি করবে, ধর্ম কিম্বা সমাজতন্ত্র হবে তাদের কেতাদুরস্ত হাল ফ্যাশন।
বরং এইভাবে বুটের তলায় নিহত হলে বাংলাদেশ, আমরা যারা কৃষকের, শ্রমিকের, কেরানির, আদিবাসীর জরায়ু বা লহু থেকে এসেছি মানুষ নয় কেবলি সংখ্যা হয়ে তাদের তখন গ্রামের কথাই মনে পড়ে যায়। কাজিয়া দাঙ্গা ফ্যাসাদের কথা মনে পড়ে যায়, ধর্মঘট লকাউটের কথা মনে পড়ে যায়। বাকি দিনগুলো আমরা ঝিমাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন,পুলিশি নির্যাতন ও চেতনার চৌরাস্তায় পাগলা দাসু

  1. পুলিশ বাহিনী তো ফ্যাসিস্ট ও
    পুলিশ বাহিনী তো ফ্যাসিস্ট ও নিরলজ্জ আওয়ামী সরকারের ক্ষমতা রক্ষার প্রধাণ বরকন্দাজ ! তাদের স্পর্ধা আর নিরলজ্জতাতো সীমাহীন হবেই!

    আর এটা দুঃখজনক যে ইসলামী ব্যাংকের টাকায় বিজয় দিবসের উৎসব হবে।

    আওয়ামী সরকারের হাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তো বটেই, আজকের মানবাধিকার আর আইনের শাসনও লাঞ্ছিত !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 − 45 =