পরিকল্পিতভাবে পাটখাত ধ্বংস করছে সরকার

পরিস্থিতি যা, তাতে আমাদের বলতেই হচ্ছে, পাটশিল্প ধংসের মুখে। আর সেজন্য প্রধানত সরকারের নীতির পরিবর্তনই দায়ী। গত মেয়াদে এই সরকার পাটখাতে পুনরুজ্জীবনের ঘোষণ দেয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঁচটি পাটকল চালুও করে তারা। কাজ চলে ২০১৩ পর্যন্ত। ২০১৩ সালের শেষ দিক থেকেই কার্যত সরকারের নীতি বদলে যায়। রপ্তানি আয় কমতে দেখে সরকারের কর্তারা আগ্রহ হারিয়েছে, এমনটা অনেকে বললেও আমার কাছে মনে হয়, এর উৎস আরো গভীরে। তবে উৎস যেখানেই থাক, সরকারের পরিকল্পনাতেই যে এখন পাটখাত ডুবছে তাতে দ্বিমতের কোনো জায়গা দেখি না।

বলা হচ্ছে, ঘটনার শুরু রপ্তানি কমা দিয়ে। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায় তারা বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানি প্রায় বন্ধ করে দেয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকায় ছুঁয়েছিল। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা কমে ৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। জুন নাগাদ তা বড়জোর ৪.৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

অর্থমন্ত্রী এই ক্ষতিতেই হুঁশ হারিয়ে ফেললেন? একটু অবাক হওয়ার মতো বিষয় বটে। পাটকলগুলোকে ঢেলে সাজানোর জন্য পরিচালক সংস্থা বিজেএমসিকে এই সরকারই তার গত মেয়াদে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়। এমনকি এবার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেও সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে এমাজউদ্দীন প্রামাণিক ঘোষণা দেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে, বন্ধ সকল পাটকল আমরা চালু করব। আদমজিও চালু হবে। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে সরকার পাটশিল্পের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

কিন্তু কেন? এরকম একটা শিল্পখাত কি দুই এক দিনের ক্ষতির কারণে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া যায়?
বিজেএমসি এখন সরকারের কাছে পাট কেনার জন্য ৪০০ কোটি টাকা চেয়েছে। কারখানা চালু রাখার জন্য তাদের কাছে এখন পাট নেই। অথচ রপ্তানি কমে যাওয়ায় পাটজাত পণ্য জমা আছে প্রায় ৭শ কোটি টাকার। বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। কয়েক দফায় এলসি খুলেও তা বাতিল করেছে ক্রেতারা। ফলে সরকারি ২৬টি পাটকলই আছে ঘাটতিতে। পাটকল টিকিয়ে রাখতে এখন জরুরি ৪০০ কোটি টাকা দরকার। কিন্তু অর্থমন্ত্রী তা দিতে নারাজ।

২৭ এপ্রিল, ২০১৪ প্রাক বাজেট বিষয়ক এক আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পাটের পেছনে পড়ে থেকে লাভ নেই। সরকারের কাছ থেকে পাটে কোনো বরাদ্দ পাওয়ার কথা নয়। প্রতি বছর পাটে হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের পুরনো কথা ভুলে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক কারণে পাটের বাজার হারিয়েছি। এখন খামোখা আমরা পাটশিল্পে বরাদ্দ দিচ্ছি। এতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, সরকার বছর বছর পাটে হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিচ্ছে। কিন্তু সরকারি সূত্রেই আমরা জানি, গত মেয়াদের পাঁচ বছরে পাট খাতে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা দেয়া হয়, তাও ঋণ, অনুদান না। এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর হিসাবের সঙ্গে গোলমাল লেগে যায়। তবে এর বাইরেও কিছু সুযোগ সুবিধা পাট খাতে দেয়া হয়। কিন্তু খোঁজ নিলে জানা যায় যে,পাট রপ্তানিতে উৎসাহ জোগাতে সরকার প্রণোদনা হিসেবে ১০ শতাংশ রপ্তানি ভর্তুুকি দিয়ে থাকে। কিন্তু এ ভর্তুকির ওপর থেকে  উৎস কর কাটা হয়। এতে প্রণোদনার পুরোপুরি সুফল পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীদের দাবি, উৎসে কর কর্তনের বর্তমান হার দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা দরকার। সেই দরকারটা তো পাওয়াই যাচ্ছে না, উপরন্তু সরকারের কাছে রপ্তানি ভর্তুকি হিসেবে ৬৩৮ কোটি টাকা পাওনা আছেন পাট ব্যবসায়ীরা।

পাটখাতের উন্নয়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, তার কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আজ বন্ধের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধুঁকছে সরকারি পাটকলগুলো। আর বেসরকারি পাটকল তো একের পর এক বন্ধ হচ্ছেই। গত তিন বছরে বন্ধ হওয়া পাটকলগুলোর মধ্যে রয়েছে এ আর হাওলাদার জুট মিলস, এলাইড জুট মিলস, দি ঢাকা জুট মিলস, ফৌজি চটকল, নিশাত জুট মিলস, সুলতানা জুট মিলস, তাজ জুট মিলস, প্রিতম জুট জুটেক্স, সালেহ কার্পেট, সালেহ জুট মিলস, খানসনস জুটেক্স, ইসমাইল কার্পেটস, বেঙ্গল কার্পেটস, একেডব্লিইউ বারলেপ অ্যান্ড ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রি, চিটাগাং জুট কোম্পানি, নওয়াব আসকারী জুট মিলস, ন্যাশনাল জুট মিলস, পূবালী জুট মিলস, মহসিন জুট মিলস, জব্বার জুট মিলস, কোহিনূর জুট মিলস ও এজাক্স জুট মিলস। পাট সুতাকলগুলোর মধ্যে সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে ফাতেমা জুট স্পিনার্স, আজিজ জুট ফাইবার, সালাম জুট মিলস, ফেরদৌস জুট স্পিনার্স ও আলনাস জুট মিলস, আনোয়ারা জুট মিলস। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পাঁচটি নীলফামারির পাট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। তালা ঝুলছে এলআর এন্টারপ্রাইজ, রাইট ফাইবার, গোল্ডেন ফাইবার ও জুলু জুট ট্রেডিং কোম্পানিতে। বন্ধের অপেক্ষায় আরও অনেকগুলো!

পাট নিয়ে সরকারের নীতিতে যে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে এটা তিন বছর আগের পাঁচটি পাটকল চালু আর তিন বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ৪০টি পাটকলের পরিসংখ্যানই বলে দেয়। পাট নীতি আর বর্তমানের পদক্ষেপগুলো দেখলে এটা আরো স্পষ্ট হয়। ২০১২ সালে প্রণীত পাটনীতিতে সরকার কী বলেছে আর বাস্তবে কী করেছে, তার একটা তুলনা এখানে হাজির করা হলো।

পাট নীতিমালা ২০১২ তে আছে
১. বন্ধ সরকারি ও বেসরকারী পাটকল চালু করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে সরকার
২. বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানী ২০১৫ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে
৩. পাটকলসমূহ এবং পাট ব্যবসায়ীগণ যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যাংক ঋণ পায় তার ব্যবস্থা নিবে সরকার
৪. সরকার পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইনটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে
৫. পাটজাত পণ্য ও শিল্পকে আধুনিকায়ন করা হবে। পাটের আঁশ থেকে উন্নত সুতা প্রস্তুত হবে। প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ ও জনবল সৃষ্টিতে সরকার যথার্থ পদক্ষেপ নেবে

সরকার যা করেছে
১. নীতিমালা হওয়ার পর এ পর্যন্ত বন্ধ হয়েছে প্রায় ৪০ এরও বেশি পাট, পাট-সুতাকল ও সংশ্লিষ্ট কারখানা
২. রপ্তানি ক্রমাগত কমছে। সরকার হাল ছেড়ে দিয়েছে। বিদেশে নতুন বাজার অনুসন্ধানে সফলতা নেই
৩. অর্থমন্ত্রী বলছেন, পাটের পেছনে বরাদ্দ দিয়ে কোনো লাভ নেই। বাজেটে পাটক্রয়ে বরাদ্দ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি
৪. আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে দেশের অভ্যন্তরে পাটের চাহিদা তৈরি হচ্ছে না
৫. কিছুই হয়নি। পাটকলে এখনো ৫০ বছরের পুরনো মেশিন। ভারতে পাটজাত ফেব্রিক হয় ৫০ ধরনের আর এদেশে হয় ৪/৫ ধরনের। ডাইং, ল্যামিনেশন ও এক্সেসরিজ সুবিধা অনুপস্থিত

এ অবস্থা তাহলে কেন হলো? সরকার যদি আন্তরিক হতো তাহলে কি পাটজাত মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইনটি প্রয়োগ করতে পারতো না? কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই যদি তাদের প্যাকেটের স্থলে পাটের প্যাকেট ব্যবহার করে তাহলেই পাটের চাহিদা অনেকখানি বেড়ে যাওয়ার কথা। মানুষ এখন পরিবেশ রক্ষায় আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। উদ্বুদ্ধ করা গেলে মানুষ পাটজাত পণ্যের প্রতি অধিকতর আগ্রহী হয়ে উঠবে। মানুষের এ আগ্রহ ও চাহিদাকে ধরে সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ খাতকে পুনরায় চাঙ্গা করার আরো সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিলে তা ব্যর্থ হতো না। কিন্তু সরকার সে পথে এগোয়নি। সরকার পাটখাতে বরাদ্দ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে!

দুনিয়াব্যাপী সচেতনতা বেড়েছে। পাটের ব্যাগের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়টি কাজে লাগাতে পারলেই পাটে সফলতা আসতে পারে। দেশে বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু ডাইভারসিফাইড জুট প্রডাক্ট তৈরির প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও তারা খুব বড় আকারে উৎপাদনে সক্ষম নয়। এ দেশের জুট মিলগুলো চলছে প্রায় ৫০ বছরের পুরনো মেশিন দিয়ে। ফলে উন্নত সুতা ও ফেব্রিক পাওয়া যায় না। ভারতে ফেব্রিক আছে প্রায় ৫০ রকমের আর বাংলাদেশে আছে ৪/৫ ধরনের। এছাড়া পর্যাপ্ত সরবরাহও নেই। আবার ডাইং, ল্যামিনেশন ও এক্সেসরিজ সুবিধা অনুপস্থিত। প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের জন্য রিসার্চার, ডিজাইনারের অভাব। আছে দক্ষ জনশক্তির অভাব। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে সুষ্ঠু কোনো পরিকল্পনা করতে বা অন্য কিছুও করে দেখাতে পারেনি। এ কারণে পাটশিল্প ক্রমশ ধংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে পাটশিল্পকে টেনে না তুলে সরকার কফিনে পেরেক ঠোকার ধান্দায় আছে।

কেউ কেউ এটাকে সরকারের অপারগতা বলে ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, সরকার ইচ্ছা করেই পাটখাতকে এ অবস্থায় টেনে নিয়ে এসেছে। আইন আছে, আইনের প্রয়োগ নেই, নীতিমালা আছে তার বাস্তবায়ন নেই। নতুন বাজার খোঁজার উদ্যোগ নেই, পুরনো কল-কব্জা পাল্টানোর উদ্যোগ নেই, নতুন প্রযুক্তি আনার উদ্যোগ নেই, শুধু লাভ খোঁজা হচ্ছে। এসব ঘাটতির কারণে যখন লাভ দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে কোম্পানীগুলো, তখন বাজেট বন্ধ করে সেগুলোকে পাকাপাকি বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কী সুন্দর ফন্দি!

অর্থমন্ত্রী মহাশয় তার বক্তব্যে বলেছেন যে,’আন্তর্জাতিক কারণে পাটের বাজার হারিয়েছি। এখন খামোখা আমরা পাটশিল্পে বরাদ্দ দিচ্ছি। এতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।’ -এখানে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি দিয়েই আসল ফাঁকিটা মেরেছেন। সব দোষ তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের দোষমুক্ত করেছেন। একইসাথে বিদেশীদের কারণে পাটশিল্প ধ্বংস হয়েছে বলা হলেও তা রক্ষার উদ্যোগ নিতে তিনি নারাজ, এও জানিয়ে দিয়েছেন। পাটশিল্পে এখন তারা কোনো বরাদ্দ দিতে চান না। এটা লোকসানী খাত। একই যুক্তি দিয়ে বিশ্বব্যাংকের ষড়যন্ত্রে পাটশিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে এর আগে।

আদমজী বন্ধ করার সময় নিজামী ছিলেন শিল্পমন্ত্রী। খালেদা প্রধানমন্ত্রী। হাসিনা বিরোধী দলীয় নেত্রী। শেখ হাসিনা আদমজী বাঁচানোর কোনো চেষ্টা তখন করেননি। পাটকল খুলে দেয়ার দাবীকে তারা রাজনীতির পুঁজি বানিয়েছেন। ক্ষমতায় এসে কিছু পাটকল খুলেছেন বটে, তবে তা যাতে না আগায় সেজন্য তাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আদমজীর মতো করেই, এই পাটকলগুলো বন্ধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে লোকসানের কথা বলে। অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য সেই বিদেশী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ!

পাটশিল্প বন্ধ হলে প্রতিযোগী ভারতের বিরাট লাভ। আবার পশ্চিমারা জানে বাংলাদেশে পাট শিল্প বিকশিত হলে তা হবে স্বনির্ভর, তাই তারা এটাকে ভেঙে দিতে চায়। বিশ্বব্যাংক কায়দা করে পাটশিল্প ধ্বংস করে এখানে গার্মেন্ট শিল্প প্রবেশ করিয়েছে। যা পুরোপুরি বিদেশীদের ওপর নির্ভরশীল। এর কাঁচামাল আমদানী হয়, উৎপাদিত পণ্য রপ্তানী হয়। মোটকথা এতে তাদের সবদিকেই লাভ।

পাটশিল্প ধ্বংসের পেছনে বিদেশীদের সঙ্গে এখানকার রাজনীতিকরাও যুক্ত। তারা এদেশে গার্মেন্ট ব্যবসার মালিক বনেছেন, টাকা কামাচ্ছেন। আর দেশের স্বল্পমূল্যের জ্বালানী ও শ্রমিকের শ্রমে সৃষ্ট সম্পদ থেকে মুনাফা গুণছে বিদেশীরা। কিছু উচ্ছিষ্ট ও ভাগ পাচ্ছেন এই মুহিত সাহেবেরাই বা তাদের দলের লোকেরা। এজন্যই ঘুরে ফিরে তারা এই শিল্পের মহত্ব বর্ণনা করেন আর পাটশিল্পের বিষোদগার করেন।

ইতিপূর্বে আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো বিদেশী সংস্থার পরামর্শে বাংলাদেশের সরকারগুলো পাটখাতকে বঞ্চিত করে, ধংসের মুখে ঠেলে দেয়। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কঠিন কিছু নয়। কারণ এই সরকারই বিদেশি সংস্থার পরামর্শে বিদ্যুৎ খাতে ক্ষতিকর কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। আজ যখন সরকার পাটখাতে বরাদ্দ দিতে অস্বীকৃতি জানায় তখন তো আমরা এই আশঙ্কার মধ্যে পড়েই যাই।

শাসকরা যখন গণবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, শুধুমাত্র বিদেশী প্রভুদের কথায় ওঠে বসে তখন তাদের পক্ষে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব না। আওয়ামী লীগ সরকার তার আগেকার সরকারগুলোর মতোই আপাদমস্তক বিদেশীদের দালালদের একটা সরকার। ফলে পাটখাত, যা কিনা আমাদের স্বনির্ভরতার পথ, তাকে তারা ধ্বংস করে দিতে চায়। যারা মুক্তির স্বপ্ন দেখেন, বিকশিত হওয়ার কথা ভাবেন, নতুন দিনের আশা এখনো ছাড়েননি, এই গণবিরোধী শাসকদের চিনে রাখাটা তাদের জন্য খুবই জরুরী।

তথ্যসূত্র :
পাটনীতি, ২০১২
পত্রিকার প্রতিবেদন-১
পত্রিকার প্রতিবেদন-২
পত্রিকার প্রতিবেদন-৩
পত্রিকার প্রতিবেদন-৪
পত্রিকার প্রতিবেদন-৫
পত্রিকার প্রতিবেদন-৬

ফেসবুক মন্তব্য

১৩ thoughts on “পরিকল্পিতভাবে পাটখাত ধ্বংস করছে সরকার

  1. দুনিয়াব্যাপী সচেতনতা বেড়েছে।

    দুনিয়াব্যাপী সচেতনতা বেড়েছে। পাটের ব্যাগের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়টি কাজে লাগাতে পারলেই পাটে সফলতা আসতে পারে।

    রাইট!

  2. আমাদের দেশে কি একটাও
    আমাদের দেশে কি একটাও দেশপ্রেমিক নেতা নাই? কেমনে যে এই দেশটা টিকে আছে আল্লাই জানে। :মাথাঠুকি:

    1. এদেশে অনেক মানুষ, তারা সবাই
      এদেশে অনেক মানুষ, তারা সবাই বেঁচে থাকার জন্য প্রচুর শ্রম দিচ্ছে,। সেই শ্রমে এত সম্পদ তৈরী হয় যে, লুটপাটের পরেও দেশ চলে যাচ্ছে। কিন্তু লুটপাট ঠেকানো গেলে আমাদের বিকাশ হতো ও মানুষ এই দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতো!

  3. ‘পাটের পেছনে পড়ে থেকে লাভ

    ‘পাটের পেছনে পড়ে থেকে লাভ নেই। সরকারের কাছ থেকে পাটে কোনো বরাদ্দ পাওয়ার কথা নয়। প্রতি বছর পাটে হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের পুরনো কথা ভুলে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক কারণে পাটের বাজার হারিয়েছি। এখন খামোখা আমরা পাটশিল্পে বরাদ্দ দিচ্ছি। এতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।’

    – মাল মুহিত সহ এই সরকারের গালে কোষে একটা থাপ্পড় দিলাম । শালারা সাম্রাজ্যবাদী দালাল সরকার কোন সন্দেহ নাই । জাগো বাহে কোনঠে সবায় … ????????????

    একটা জিনিস অবাক লাগছে – আমাদের প্রভুভক্ত মিডিয়া এই ব্যাপারটা আলোচনায় আনছে না কেন ? আনিস রায়হান’কে ধন্যবাদ এই চমৎকার পোষ্টটি লেখার জন্য ।

  4. ‘পাটের পেছনে পড়ে থেকে লাভ

    ‘পাটের পেছনে পড়ে থেকে লাভ নেই। সরকারের কাছ থেকে পাটে কোনো বরাদ্দ পাওয়ার কথা নয়। প্রতি বছর পাটে হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের পুরনো কথা ভুলে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক কারণে পাটের বাজার হারিয়েছি। এখন খামোখা আমরা পাটশিল্পে বরাদ্দ দিচ্ছি। এতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।’

    অর্থমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্যের পর স্পষ্ট হয় সরকার এই শিল্পকে পরিকল্পিতভাবেই ধ্বংস করছে। সব কিছু্‌ই পরিকল্পিত। এরা বিদেশী প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। ধিক্কার জানালাম সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি। বিশ্বে এখনো পাটের বিকল্প কিছু নাই। এমনকি দেশেও পরিকল্পিতভাবে এই শিল্পের বিকাশ করা যায়। প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা। সেটা নেই।

    1. বলদ মন্ত্রীর বলদমার্কা
      বলদ মন্ত্রীর বলদমার্কা কথাবার্তাই প্রমাণ করে সরকার পরিকল্পিতভাবেই পাটশিল্পের ধ্বংস করছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 − = 74