দেশের বন দখলে মার্কিনীদের মহাপরিকল্পনা, আমরা বার বার হেরে যাবো অমলকান্তি!

সুন্দরবন, লাউয়াছড়া, রেমাকালিঙ্গা, মধুপুরসহ দেশের সবগুলো বনই এক সময় ধ্বংস করে দিবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পোর্টম্যান অ্যাক্ট চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ২০০১ সালে।

এর মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ধ্বংসের কাজকে ত্বরান্বিত করেছে। বেশ কিছু বছর ধরে বলা হচ্ছিলো বাংলাদেশের সুন্দরবনসহ গুরুত্বপূর্ণ বনগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দখলে নিতে চায়। তাদের ব্যাপারে সুদীর্ঘ পরিকল্পনা করেছে। এ পরিকল্পনায় দুটি দিক আছে। এক, সামরিক দিক অন্যটি হলো বহুজাতিক কম্পানি কিভাবে এসব বনের নিচ থেকে খনিজ সম্পদ তুলে নিবে সেদিক।

বাংলাদেশের বনগুলো ধ্বংস হলে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিম্বা বাংলাদেশের শাসকশ্রেণী আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদের কিছু যাবে আসবে না। যা হবে তা হলো বাংলাদেশের অপূরনিয় ক্ষতি হবে। হয়তো দেশটার ভূ-খন্ডই স্থায়ী পরিবর্তন হবে। তবে তখন আর আজকের শাসক সরকারগুলোর কেউ-ই বেঁচে থাকবেন না। সে কারণে তাদের বিচারের মুখোমুখি করাও সম্ভব হবে না। তবে একমাত্র সরকার ছাড়া সারা পৃথিবীর তাবৎ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সুন্দরবন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। আর সরকার ভাঙা রেকর্ড বার করে বাজিয়ে শোনাচ্ছেন, ‘রামপাল কেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কিছুই হবে না।’ একশ্রেণীর ভাড়াটিয়া বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া তা আবার না কুযুক্তি দিয়ে তা প্রচার করছে। এ ধরনের বুদ্ধিজীবীদের কুসিতবুদ্ধীজীবী হিসেবে ও তাদের মিডিয়াগুলোকে শয়তানের মস্তিস্ক ছাড়া আর কিছুই বলা যাচ্ছে না। প্রথমেই আসা যাক দেশের বন নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনার ব্যাপারে।


বনের বাঘে নয়, শাসকরাই খাচ্ছে চেটেপুটে আমাদের


ভয়ঙ্কর চুক্তির বেড়াজালে বাংলাদেশ!

২০০১ সালে আওয়ামী লীগের একদম শেষ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করে সরকার। পোর্টম্যান অ্যাক্ট নামের ওই চুক্তিটি ছিলো এমন, ‘বাংলাদেশের যত ঋণ আছে তার ৪০ শতাংশ আমেরিকা ক্ষমা করে দিবে এই চুক্তির কারণে। তবে শর্ত থাকে যে, ঋণের যে টাকা আমেরিকা বাংলাদেশকে মাপ করে দিবে তা ব্যায় করতে হবে বাংলাদেশের বন রক্ষার জন্য। আর সেই অর্থ বাংলাদেশ ব্যায় করতে পারবে না। ব্যায় করবে আমেরিকা নিজে তার রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান ইউএসএইড দিয়ে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশের কাছে পাওনা আমেরিকা ঋন আবার আমেরিকার কাছেই ফেরত দিতে হবে, তারা এ অর্থ তাদের মত করেই তা খরচ করবে। এই পোর্টম্যান অ্যাক্টের অধিনে বাংলাদেশের বনগুলো দখলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ কী? কারণ হলো এসব বনের নিচে হাইডো কার্বন ( খনিজ জ্বালানি) বিশাল মজুদ রয়েছে। এসব বন রক্ষার নামে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইউএসএইড প্রথমে সেখানে প্রবেশ করে। এরপর সেই বনে মার্কিন আরেক কম্পানি শেভরন প্রবেশ করবে। তারপর তারা বনে আগুন লাগিয়ে, বন ধ্বংস করে সেখানে গ্যাস তুলবে। কিন্তু এসব বন সংরক্ষিত হওয়ায় আপনি ইচ্ছে করলেই সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না। কারণ এসব সংরক্ষিত বনে কোনরকম শব্দ করা, খোড়াখুড়ি, আগুন জ্বালানি নিষেধ। কিন্তু চিন্তা নেই। আপনার দেশে বেলার মত কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন আছে। তারা বনে প্রবেশেরও পথ তৈরী করে দিয়েছে মার্কিন কম্পানি শেভরনকে।

লাউয়াছড়ায় শেভরনের আগুন, নেপথ্যে পরিবেশবাদীরা!
মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া বন সংরক্ষিত। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শেভরনকে পরিবেশবিরোধী এ কাজের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর। শেভরনকে সিসমিক জরিপের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিদ্যমান আইনের শর্তও শিথিল করা হয়। আর তা করা হয় আইআরজি (ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ গ্রুপ) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার তৈরি করা খসড়ার আলোকে। সংরক্ষিত বনে শেভরন যাতে নির্বিঘ্নে ঢুকতে পারে, সে জন্য ১৯৭৪ সালের সংশোধিত বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ) আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারা পরিবর্তন করে কিভাবে বনে প্রবেশ করতে হবে তার একটি খসড় লিখে দেয় বেলা। এ জন্য বেলা তখন নিসর্গ সাপোর্ট প্রজক্টে থেকে ৭ কোটি টাকা পেয়েছিলো।

১৯৭৪ সালের সংশোধিত বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ) আইনের ২৩(২) ধারায় বনের মধ্যে কোনো ধরনের কর্মতৎপরতা নিষিদ্ধ করা আছে। সেখানে আইআরজি ও বেলার তৈরি খসড়ায় বলা হয়, ‘সায়েন্টিফিক রিসার্চ’ বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য বনের মধ্যে তৎপরতা চালানো যাবে। সায়েন্টিফিক গবেষণা বলতে আসলে কী বোঝানো হয়েছে, এ ব্যাপারে খসড়া আইনে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া নেই। সংশোধিত আইনটির ২৩(২) ও ২৩(৩)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধারা ছাড়াও অন্তত ৩৭টি ধারায় পরিবর্তন এবং এর সঙ্গে নতুন করে ২৬টি ধারা যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয় বন বিভাগকে। এরই ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শেভরনকে জরিপের অনুমতি দেওয়া হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শেভরন বাংলাদেশ লিমিটেডকে সিসমিক সার্ভে পরিচালনার জন্য ১৯৭৪ সালের সংশোধিত বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ) আইনের ২৩ (১) ধারা মোতাবেক শর্ত শিথিলপূর্বক জনস্বার্থে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

ফলেই আইআরজির মতো লাভজনক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করা বেলার পক্ষে সম্ভব হয় বেলার সাংগঠিনক যে নীতিমালা আছে যদি সেটা তারা মেনে চলেন। কিন্তু বাংলাদেশে কে শোনে কার বানী? এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পড়তে নিচের লিংকে যেতে পারেন।

এসব কুকির্তী নিয়ে অামার একটি রিপোর্ট দেখতে পারেন।
তো, শেভরন বনে প্রবেশের পর বনে আগুন ধরে যায়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে দেশের অন্যতম এই জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়া। এরপর বনে কি ঘটেছে সেটা জানতে নিচের লিংকে যেতে পারেন।

বনে আগুন ধরে যাবার পর আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন আইইউসিএনসহ বেশ কিছু মানুষকে দিয়ে একটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটি জানায় যে, বনে আগুন ধরার ব্যাপারে শেভরনের কোন দোষ নেই। আইইউসিএন শেভরনের দোষ কেন দেখবেন? কারণ এই সংগঠনটি সরাসরি শেভরনের টাকা নিয়ে থাকে। আইইউসিএন ২০০৬ সালে পরামর্শ ফি বাবদ শেভরনের কাছ থেকে চার কোটি ৬২ লাখ ৮৬ হাজার ৮৭৫ ডলার গ্রহণ করে। অন্য এক তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৭ সালের নিসর্গ প্রজেক্টের বাজেটের ১৭ শতাংশ পরামর্শক মার্কিন প্রতিষ্ঠান আইআরজিকে দিতে হয়, যার পরিমাণ ১৯ লাখ ছয় হাজার ৮২৫ ডলার। ইহাকেই বলে শয়তানের অক্ষশক্তি বা এভিল এক্সিস। এ সম্পর্কে জানতে নিচের লিংকে যেতে পারেন।

ঠিক এ বিষয়ে আমার আরেকটি রিপোর্ট দেখুন, কিভাবে এনজিও মাকির্ন ও শেভরন মিলেমিশে থাকে।

আজকের জমানায় কোথাও যদি খনিজ সম্পদ নিরাপদে উত্তোলন করতে হয় তাহলে বাংলাদেশ তার একটি বড় উদাহরণ হতে পারে। কোনরকম প্রতিরোধ ছাড়াই বনের চৌদ্দটা নস্ট করেই এভাবেই খনিজ সম্পদ তোলা যেতে পারে। আর সামনে রাখতে হবে ইউএসএইড, আইআরজি, আইইউসিএন, বেলার মত সংগঠনগুলো। এ সম্পর্কে নিচের মাস্ট্রার পিস লেখাটি থেকে ঢু মেরে আসতে পারেন।

বিষয় যত লেখা পড়েছেন তার মধ্যে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তানজিম স্যারের লেখাটাই মাস্টার পিস”


কী আছে লাউয়াছড়ায়?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলোজিক্যাল সার্ভে ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের অনশোরে বা স্থলভাগে সব থেকে বেশি গ্যাস আসে সুরমা বেসিনে যা সিলেটে অবস্থিত। ইতোমধ্যে এই ব্লকগুলো থেকে মার্কিন কম্পানি শেভরন বিবিয়ানা থেকে সব থেকে বেশি গ্যাস উত্তোলন করছে প্রতিদিন ১২ মিলিয়ন ঘনফুট (বেশি গ্যাস তুলে এ ক্ষেত্রের চৌদ্দটা বাজিয়ে দিচ্ছে তারা। এ বিষয়ে পড়তে ক্লিক করুন সোনার ডিম পাড়া হাস জবাই করছে শেভরন প্রতিবেদনটি।
এই অঞ্চলে কত গ্যাস আছে জানতে ক্লিক করুন মার্কিন জিওলোজিক্যাল সার্ভে ডিপার্টমেন্টের
নিচের লিংকে

এবার কী পরিস্কার কেন মার্কিনীরা বন দখলে মরিয়া হয়?
এতো গেলো লাউছড়া বন। তো সুন্দরবনের কি দশা? সেই উত্তর জানতে এখন আমরা নিচের দিকে চোখ দিবো। সুন্দরবনের ভেতর কি আছে সেই তথ্য এখনো আমাদের কাছে নেই। তবে দেশের উত্তরের জেলা রংপুর ও কুড়িগ্রামের ব্রক্ষ্মপুত্র বেসিনে সম্প্রতি বেশ কিছু ভারি মিনারেল আবিস্কার হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাটোনিয়াম, ইলমেনাইট, জিরকন সহ বেশ কিছু দামি মিনারেল রয়েছে। এই ধরনের ভারি মিনারেল পাওয়া গেছে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতেও। বাংলাদেশের মানুষ একে আদর করে নাম দিয়েছে ব্লাক গোল্ড বা কালো সোনা নামে। এখন হিমালয় থেকে উৎসারিত নদীগুলো হাজার বছর ধরে ভারি মিনারেল বয়ে নিয়ে নদীর মুখে সেডিমেন্ট করবে এটাই সাধারণ ঘটনা। এখন সুন্দরবনের নিচে চাপা পড়াই সাধারণ ঘটনা। থাকতে পারে তেল গ্যাসের মত বড় কোন জ্বালানি রিজার্ভ। তবে কি আছে সেটা আমরা জনতা জানি না।
বাংলাদেশে পাওয়া ব্লাক গোল্ডে কি হয় জানতে নিচের লিংকটি দেখুন
তবে সম্প্রতি এই অমূল ভারি খনিজ বালু অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যাপক দৌড়ঝাপ করছে।


এবার দেখুন সুন্দরবন নিয়ে হচ্ছে!

গত মঙ্গলবার সুন্দরবনের শেলা নদীতে সাড়ে তিন লাখ ফার্নেস ওয়েল নিয়ে একটি ট্যাংকার ডুবে তেল ছড়িয়ে পড়ার বগু আগে থেকেই দেশের বামপন্থিরা সুন্দরবন নিয়ে অসাধারণ এক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। অসাধারণ বলছি এ কারণে যে, যে দেশে ভাত, শিক্ষা, বস্ত্র, চিকিৎস্যার মত মৌলিক বিষয়গুলোই পূরণ হয়নি সে দেশে বন বাচাতে লংমার্চ, সমাবেশ, মিছিল, ধারাবাহিক কর্মসূচী রাখা আসলেই অনেক বড় তাৎপর্য আছে। আজকের দুনিয়ায় শ্রেণী আন্দোলন করতে গেলে সামগ্রিক পরিবেশ প্রতিবেশকে আলাদা করা যাবে না। কারণ সাম্রাজ্যবাদের নগ্ন থাবা পরিবেশের উপর পড়েছে।

বামপন্থিদের উদ্বেগের পাশাপাশি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্বেগ আগের চেয়ে বেড়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো, জাতিসংঘের বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা রামসার কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্বেগের কথা সরকারকে একাধিক চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। এসব সংস্থার মতে রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ওইসব অঞ্চলের বেশ কিছু সরকারি প্রকল্পের কারণে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন তার গৌরবই শুধু হারাবে না, একইসঙ্গে এই অমূল্য প্রাকৃতিক বন ধ্বংস হতে পারে। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা এসব উব্দেগে সাড়া দিচ্ছে না। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে দেশের বামপন্থিরা না হয় ‘চিঙ্কু’ মানে চিনা বাম কিন্তু জাতীসংঘও কি চীনা বামদের কবলে পড়লো?


শ্যালা নদীতে ট্যাংকার ডোবার পর ইরাবতী ডলফিন মরে ভেসে ইঠছে। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

গত ১১ জুলাই ইউনেসকোর ওয়াল্ড হেরিটেজ সেন্টারের পরিচালক কিশোর রাও স্বাক্ষরিত সুন্দরবনসংক্রান্ত একটি চিঠি ইউনেসকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে দেওয়া। গত ১৮ জুলাই এ চিঠি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে কিশোর রাও সুন্দরবনের সম্ভাব্য ক্ষতির ব্যাপারে প্রধান দায়িত্ব নিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন। সুন্দরবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কার কারণ হিসেবে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল ও বন-সংলগ্ন এলাকায় দূষণকারী শিল্পকারখানা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। চিঠির জবাবে বাংলাদেশের বন বিভাগ তাদেরকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলো, সুন্দরবনের এ প্রকল্পের বনের ক্ষতি হবে।

এর আগে সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, দিনাজপুরের ফুলবাড়ি থেকে উত্তোলিত কয়লার সম্ভাবব্য নৌপথ এবং কয়লার ডিপো ও টাঙ্গুয়ার হাউড়ের ব্যাপারে জানতে চেয়ে রামসার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয় রামসার। রামসারের চিঠির জবাবে বাংলাদেশের বন বিভাগ তাদেরকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলো, সুন্দরবনের এ প্রকল্পের বনের ক্ষতি হবে।
সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে এভাবেই চলছে নৌযান। রামপাল বিদ্যুৎেকন্দ্র হলে নৌযানের সংখ্যা আরো বাড়বে। ছবি: ডিব্লিউ

এর পেক্ষিতে বন বিভাগ রামসারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম পানি নির্গত হবে যা পশুর নদীতে ফেলা হবে। এতে সুন্দরবন সংলগ্ন নদী গুলোতে বসবাসকারি প্রাণী ও উদ্ভিদ কনারা বাঁচতে পারবেনা। সুন্দরবনের বিপুল সংখ্যক মাছ, পাখি ও বণ্যপ্রাণী এই প্রানী ও উদ্ভিদ কনা গুলো খেয়ে বেঁচে থাকে। এর ফলে সুন্দরবনের নদীগুলোতে বসবাসকারি ডলফিনদের বিচরনও বাঁধাগ্রস্ত হবে এবং তাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

সুন্দরবনের জোয়ারভাটার স্থানগুলোতে পানির ওপরে নির্ভরশীল পাখিদের বসতি এলাকা। সেখান থেকে তারা খাবার সংগ্রহ করে ও বিচরন করে। নদীর পানিতে গরম পানি ছাড়া হলে ওই পাখিদের পক্ষে সেখানে অবস্থান করা সম্ভব হবেনা।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বের হওয়া উত্তপ্ত পানি সুন্দরবনের নদীর পাড় ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অধিক তাপমাত্রার কারনে পানিতে অক্সিজেনের পরিমান কমে আসবে। এতে সুন্দরবনের শ্বাসমুলিয় বৃক্ষের জীবন বিপন্ন হয়ে এক সময়ে মারা যাবে। পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে নদী ও খাল গুলো দিয়ে বিচরনকারি প্রাণীদের বিচরন সমীতি হয়ে পড়বে। বিশেষ করে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ এর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। কেননা স্থানীয় জলবায়ুগত পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে ব্যাঙের ওপরে।

কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির বড় অংশ ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হবে। এতে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় দির্ঘ্যমেয়াদে পানির সংকট দেখা দেবে। এমনিতেই ওই এলাকায় মিষ্টি পানির সংকট রয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে বনবিভাগ তার উদ্বেগ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জানিয়েছে। বোর্ড এ ব্যপারে যথেষ্ট সচেতন এবং তারা ইতিমধ্যে সমিন্বত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (ইএমপি) তৈরি করছে। যাতে সুন্দরবনের প্রতিবেশের ওপরে এর সম্ভাব্য প্রভাবগুলো কমিয়ে আনা যায়।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ি থেকে উত্তোলিত কয়লা বিদেশে রপ্তানির জন্য এই নৌ পথটি ব্যবহারর ব্যাপারে বন বিভাগের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খনির কয়লা পরিবহনের সময় অগ্নিকান্ডের দূর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি উল্লে¬খ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুন্দরবন এলাকায় যে কোন অগ্নিকান্ড সেখানকার বাস্তুসংস্থানকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

অন্যদিকে রামপাল কেন্দ্রের প্রভাব সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের কারণে বিপুল পরিমানে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং মারকারি নিঃস্বরিত হবে। এই তিনটি পদার্থ বাতাসে মিশলে সংশি¬ষ্ট এলাকায় এসিড বৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে সেখানকার জীববৈচিত্র এবং আশপাশে বসতি গড়া মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

বাঘের বিচারণক্ষেত্র নস্ট হবে
সুন্দরবনের ভেতর পশুর নদী দিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতিদিনই বড় বড় জাহাজ চলাচল করবে। এই জাহাজ চলাচলের কারণে বাঘের বিচারণক্ষেত্র ধ্বংস হবে। হিংস্র বেঙ্গল টাইগার তার চারিত্রিক বৈশিষ্টও হারাবে। সুন্দরবন থেকে উত্তর ও দক্ষিণ দুইভাগে বিভক্ত আর মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে পশুর নদী। বাঘ উত্তর থেকে দক্ষিণে অভিবাসন করে। প্রজনন ও সাভাবিক বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই অভিবাসন ও পরিভ্রমন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পশুর নদী দিয়ে বড় বড় জাহাজ চলাচল করলে বাঘের এই অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে বাঘ তার সাভাবিক হিংস্রতা হারাবে।/ALTERNATES/w300/sundarban-1.jpg” width=”400″ />শেলা নদীর তীরে তেলে জড়ানো মরা কাকড়া, ছবি: বিডি নিউজ

সুন্দরবন যে রামপাল কেন্দ্র হলে থাকবে না সেটাতো রামসারে দেওয়া বন বিভাগের চিঠি থেকেই বোঝা যায়। এরপরও সরকার কোন মুখে বলে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে না রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে?

ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউটের অ্যানিমাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারবেশন বায়োলোজি বিভাগের অধ্যাপক, দেশটির বাঘ শুমারির প্রধান এবং বাংলাদেশ বাঘ শুমারি প্রধান অধ্যাপক ড. বিশেষজ্ঞ দেবেন্দ্রদেব ঝালা বলছেন, ভিন্ন কথা। তিনি বলছেন

, ‘রয়েলে বেঙ্গল টাইগারের চেয়ে সুন্দরবনে আর কোন শক্তিশালী প্রাণী নেই। এ কারণে তাকে বনের রাজা বলা হয়। বাঘের মনস্তত্ব হলো, এই বনে সেই সব থেকে শক্তিশালী। এখন যদি পশুর নদীর ভেতর দিয়ে বড় বড় জাহাজ চলাচল করে তাহলে প্রথমত সুন্দরবনের উত্তর অঞ্চল থেকে বনের দক্ষিণ অঞ্চলে যে অভিবাসন ও পরিভ্রমন হোত তা ব্যাহত হবে। এর ফলে বাঘের প্রজননে মারাÍক সমস্যা দেখা দিবে। দ্বিতীয়ত, পশুর নদীর ভেতর দিয়ে যখন বড় বড় জাহাজ চলাচল করবে তখন বাঘ যে আর এ বনে সেরা বা ক্ষমতাবান নয় তার চেয়েও ক্ষমতাবান আকারে জাহাজকে সে দেখবে এর ফলে তার মনস্তত্বের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।’ এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এর ফলে বাঘ হিংস্রতা হারাবে। পরিচিত বেঙ্গল টাইগারের স্বভাব তার ভেতর থাকবে না।’

তার মানে বাঘ তার সভাব হারিয়ে বিড়ালে পরিণত হবেন। এটা আমি আপনি বললে না হয় এর বিরোধীতা করতে পারতেন। এ কথা বলছে একজন পৃথিবী সেরা বাঘ বিশেষজ্ঞ যিনি আবার বাঘ গননায় বাংলাদেশের প্রধান।

তবে বাঘ গননার ভেতর ফাকি আছে। বাঘ শুমারি হচ্ছে ইউএসআইডির টাকায়। ওই যে প্রথমে বলেছিলাম পোর্টম্যান অ্যাক্টের কথা। তার মানে সুন্দরবনেও ইউএসআইডির নিসর্গ প্রজেক্ট সক্রিয়। তারা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল সকল পেশাজীবীদের প্রথমেই সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কারণ কী? যাতে সুন্দরবনের চৌদ্দটা বাজাতে থাকলে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। এ জন্য সুন্দরবনে তারা একটি গণহত্যা করে গত কয়েক মাস আগে। এক সঙ্গে ১৬ জন মানুষকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে গুলি করে হত্যা করে সরকারি বাহিনী। বোঝা গেলো?


সুন্দর ধ্বংস হয় আর পরিবেশমন্ত্রী জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু সেবন করেন!

রোম যখন পুড়ছিলো নিরু তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। সুন্দরবনের প্রাণ প্রতিবেশ যখন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তখন বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলনে পেরুর লিমায় আমাদের পরিবেশমন্ত্রী। তাও আবার ৫দিনের সফরে। এরকম ধ্বংসযজ্ঞে অন্য কোন দেশের মন্ত্রী হলে সম্মেলন ফেলে দ্রুত ছুটে আসতেন দেশে। কিন্তু এটা যে বাংলাদেশ।

এ কারণে সুন্দরবন ধ্বংসের তেল ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারের সকলপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তেল তোলার দায়িত্ব দিয়েছে স্থানীয় মানুষদের। তারা যে তেল তুলবে সেই তেল সরকার কিনে নিবে। ফাজলামোর একটা সীমা থাকা দরকার। এই তেল যেভাবে গায়ে লাগছে তার প্রভাব ওইসব মানুষের কি হবে তা কি বুঝে শুনে দেশের সংশ্লিষ্টরা এ অর্ডার দিয়েছেন নাকি বাহাবা কুড়াবার জন্য। ভালো হয় এসব মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই গায়ে তেল মেখে নদী থেকে তেল উত্তোলন করলে। অত্যান্ত স্বাস্থ্য ঝুকির এসব তেল গায়ে মাখা নিয়ে মিডিয়াও দেখছি দেশপ্রেমের গান গাচ্ছে। আহারে আমার মিডিয়া!! একবারও কি মনে হলো না ভয়ঙ্কর দরিদ্র এসব মানুষকে কতটা স্বাস্থ্যঝুকির ভেতর ফেলো দিলো তারা?

একদা একটি বন ছিলো
বাংলাদেশের বই পুস্তকে একদিন গোটা গোটা অক্ষরে লেখা থাকবে ‘৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটারের বিশাল জায়গাজুড়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমে একটি বন ছিলো। আদর করে মানুষ তার নাম রেখেছিলো সুন্দরবন। এই বনে মায়াবি চিত্রল হরিণ মধ্যরাতে নেমে আসতো পাল ধরে। ঘাই হরিনের ডাকে শিকার হোত নিরীহ হরিণরা। আমাদের হƒদয় এক পুরষ হরিণ। আমরা গোটা সুন্দরবনকেই শিকার করেছি। এ জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শোয়া পাতি আধা মন্ত্রীরা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেছিলেন, এ বনের কিছুই হবে না।

সব লড়াইয়ে আমরা হারছি। ইতিহাস তাই সাক্ষ্য দেয়।

৫২, ৬৯, ৭১, ৯০, ২০০৭ এর জরুরী সরকারের বিরোদ্ধে কিম্বা গণজাগরণ মঞ্চে জ্বলে উঠা সাহসি মানুষেরা। অমলকান্তি আমরা এইভাবেই বার বার হারি। আমাদের শবদেহের উপর নৃত্য করে অশুভ প্রেত। আমরা হেরে যেতে যেতে ভুলে যাই একদিন লড়াইয়ে আমাদের রক্ত ঝরেছিলো।

কৈফিয়তনামা:
এ লেখাটির ভেতর দুটি ছবির ব্যাপারে অনেকে আপত্তি তুলেছেন। ছবিটি সরিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের ছবিটি দেয়া হলো।
সুন্দরবনে কী ক্ষতি হয়েছে তা এখনি বলা যাবে না। এটা খালি চোখে বোঝাও সম্ভব নয়। যারা ছবির বিরোধীতা করছেন তাদের জন্য বলি, এই লেখা নিয়ে কথা বলুন।
আপনারা যারা ভাবছেন কী হতে পারে সুন্দরবনের? তাদের জন্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফির একটি খবর শোনাই শ্যালা নদীর অয়েল স্পিলের ব্যাপারে।
তারা ধারণা করছেন, ১০টি রেয়ার স্পেসিস হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।
দেখুন নিচের লিংকে।
http://news.nationalgeographic.com/news/2014/12/141216-sundarbans-oil-spill-bangladesh-tigers-dolphins-conservation/

শেষ করছি কফিল আহমেদের একটি গানের কয়েকটি লাইন দিয়ে:

‘সুন্দরবন জুড়ে কাটাতার দিলে
চিড়িয়াখানার বাঘ হরিণি কাদে
টারজান জাগো যদি টারজান থাকো
রুপকথা রুপ ধরে টারজান জাগো’

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “দেশের বন দখলে মার্কিনীদের মহাপরিকল্পনা, আমরা বার বার হেরে যাবো অমলকান্তি!

  1. সবই ঠিক আছে। কিন্তু নেট থেকে
    সবই ঠিক আছে। কিন্তু নেট থেকে ডাউনলোড করা ছবি নিয়ে শ্যালা নদীর তেল দূষণের ছবি বলে চালিয়ে দেয়ায় কিঞ্চিৎ বিরক্ত হলাম।

    1. সত্যিই হতাশাব্যাঞ্জক।
      যাদের

      সত্যিই হতাশাব্যাঞ্জক।
      যাদের উদাসীনতায় এই রকম ঘটনা ঘটছে আর যারা ঘটার পরেও ঢাকা’র চেষ্টা করছে তাদের নিন্দা জানাই।
      আবার যারা এই রকম একটা বিষয় নিয়ে জল ঘোলা করার জন্য মিথ্যে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তাদেরকেও ধিক্কার।

    1. সব কিছু নস্টদের অধিকারে গেছে
      সব কিছু নস্টদের অধিকারে গেছে এই বাক‌্যর পরে আপনি যদি থেমে যান তাহলে নস্টদের থেকে তা ফেরত আনার কোন পথ থাকবে না। বরং যা গেছে তা ফেরত আনার জন্য মাঠে নামা কার্যকর। প্রচুর লেখা লেখি প্রয়োজন। মানুষকে জানানো দরকার আসলেই কি ঘটছে। শুধু তেল দেখলেই হবে না। তেল ঢালার যে পথ তৈরী করেছে শাসকশ্রেণী সেই রাজনীতি ও শত্রু মিত্র সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

      1. সুন্দরবন নিয়ে ব্যাপক প্রচারে
        সুন্দরবন নিয়ে ব্যাপক প্রচারে যাওয়া উচিত। যতটুকু যার যেখানে সুযোগ আছে তা ব্যবহার করা উচিত। ইস্টিশন কর্তৃপক্ষের ব্যানার পরিবর্তনের আহবান জানাচ্ছি।

  2. দুটো ছবি সরিয়ে নেবেন। ডলফিন
    দুটো ছবি সরিয়ে নেবেন। ডলফিন আর কচ্ছপের টা। ওগুলো শ্যালা নদী কিংবা ইরাবতি ডলফিনের বা সুন্দরবনের ছবি না। ছবির সোর্স যাচাই করে পোস্ট দেবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 2 =