সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও শোষিতের দীর্ঘশ্বাস

ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার সময় একটি কল্পিত দাগ টেনে বাঙলা’কে দুইভাগ করে রেখে গিয়েছিল। যদিও পশ্চিম বঙ্গে হিন্দু এবং পূর্ব বঙ্গে মুসলমানরা সংখ্যা বেশি ছিল কিন্তু পুরো বাঙলা জুরেই দুই ধর্মের মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। মুসলিম এবং হিন্দু সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের রাজনীতির প্রতিনিধী সমাজের অল্প কিছু মানুষের স্বিদ্ধান্তে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুভিটা ছেড়ে কেউ ইন্ডিয়া আবার কেউ পাকিস্তানে যাত্রা করেছেন। একের পর এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মারা গেছে হাজার হাজার মানুষ। বসত ভিটা ছেড়ে যাওয়া এইসব মানুষের ঘড় বাড়ি, সহায় সম্পত্তি দখল করেছে সমাজে বিকাশমান লুটেরা বুর্জোয়া ও লুম্পেন শ্রেণী। ভিটা হারা রিফিউজি জনগোষ্ঠির মধ্যে যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢুকে গিয়েছিল তা আরো নতুন সাম্প্রদায়িকতার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রদায়িকতার এই দুষ্ট চক্র আজ অবধি জারি আছে। সাতচল্লিশ পূর্ব ভারতে মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে যেমন সাম্প্রদায়িক প্রোপাগান্ডা চালানো ও হামলার ঘটনা ঘটতো এখনো তেমন ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একের পর এক হিন্দু বসতি হামলা এবং সাতচল্লিশ পূর্ব সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো একি ধরণের সাম্প্রদায়িক অর্থনীতির ধারাবাহিক প্রকাশ মাত্র। ব্রিটিশ আমলেই সাম্প্রদায়িকতার যে একটি অর্থনীতি ভারতবর্ষে তৈড়ি হয়েছিল, ভারত ও পাকিস্তান তৈড়ি হওয়ার পর তা নতুন রূপ ধারণ করলো। তৈড়ি হলো ‘শত্রু সম্পত্তি’ গোছের আইন। ফলে সংখ্যালঘুদের সম্পদ দখল ও লুটের সুযোগ পেলো সংখ্যাগুরু রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা। এতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি আরো বিকাশ লাভ করেছে। একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের জন্ম হলেও তাতে সংখ্যালঘুদের উচ্ছেদ ও তাদের সম্পদ দখলের এই প্রক্রিয় বন্ধ হয়ে যায় নাই। জামাত, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ প্রতিটি দলের নেতা কর্মীদের নাম পাওয়া গেছে বাংলাদেশে সংগঠিত হওয়া বিগত কয়েক বছরের বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায়। সুতরাং, বাংলাদেশের ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা যে কেবল ইসলামী রাজনীতির অংশ না, বরং ডানপন্থী ধর্মনিরপেক্ষদের রাজনীতিরও অংশ তা পরিস্কার হয়। কিন্তু এইসব সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো সংগঠিত হয় ধর্ম পরিচয়ের দোহাই তুলেই। পাশাপাশি বৃহত ভারতরাষ্ট্রের আধিপত্ব ও আগ্রাসনকে রাষ্ট্রটির হিন্দু পরিচয় সামনে এনে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শক্তিশালী হয়েছে। আর বর্তমান দুনিয়ায় ‘ইসলাম’ যেভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে এবং মুসলিম পরিচয়টি যেভাবে একটি রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিণত হতে শুরু করেছে বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে তার হাওয়া বাংলাদেশেও লেগেছে। ফলে, বাংলাদেশের লুটেরা ও অপরিণত বুর্জোয়া শ্রেণির লুটপাটের খাতিরে টিকিয়ে রাখা সাম্প্রদায়িকতা বড় হয়ে উঠে পুরো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেয় কি না সেই ভয় আমরা আজকাল করে থাকি। ইরাক-সিরিয়ায় আইসিসের উত্থান এবং বাংলাদেশের তরুনদের মধ্যেও সালাফিবাদের হাওয়া লাগা এই যুগে সেই ভয় না করে উপায়ও নাই।

কিন্তু পরিস্থিতি এমন হবে তা গত শতকেও কল্পনা করার উপায় ছিল না। প্রাচ্যের আর সব দেশের মতোই পশ্চিমা উপনিবেশের হাত ধরে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি ধারণা বাঙলার মানুষের মাঝেও নতুন সমাজ ও নতুন পৃথিবীর আকাঙ্খা জাগিয়ে তুলেছিল। তারপরও যে আমরা আজকে এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি তার পেছনে বিশ্বজোরা সমাজতন্ত্রের পতন এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদবিরোধী শক্তি হিসাবে বাম রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান হাড়িয়ে ফেলার মতো গুরুতর কিছু ঘটনা দায়ি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসাবে নিজেদেরকে প্রচার করেই ইসলামী সন্ত্রাসবাদ বিকাশ লাভ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর জ্বালানী সম্পদ ও বাজারের উপর দখল ও নিয়ন্ত্রন টিকিয়ে রাখার জন্যেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এসব দেশে তাদের রাজনৈতক আধিপত্ব কায়েম করেছে। শ্রেণী স্বার্থগত কারনেই এসব দেশের অপেক্ষাকৃত বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত মুসলমানদের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী র্যা ডিকাল রাজনীতি জনপ্রিয় হয়েছে। সমস্যা হলো যে, এই রাজনীতি বেড়ে উঠেছে শ্রেণী চেতনাকে ধারণ করে নয়, জাতীয় চেতনাকেও নয়, বরং সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের চেতনাকে পূজি করে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতিতে বামপন্থীদের ব্যর্থতার ফলে তৈড়ি হওয়া শূন্যতার মাঝেই এই সাম্প্রদায়িক র্যা ডিকাল রাজনীতি বিকাশ লাভ করেছে। বাম ও অসাম্প্রদায়িক শক্তি যে এইভাবে জনবিচ্ছিন্ন হলো আর সাম্প্রদায়িক শক্তি যে জনপ্রিয় হয়ে উঠলো তাতে বামপন্থা ও কমিউনিজম বিরোধী প্রোপাগান্ডা যেমন দায়ি তেমন বামপন্থীদের ধর্ম সম্পর্কে বিবেচনাবোধও কম দায়ি নয়। কার্ল মার্ক্স ধর্মকে আফিমের সাথে তুলনা করেছেন, এই ডিসকোর্সটি কমিউনিস্ট বিরোধীরাও যেমন একবাক্যে প্রচার করে তেমনি বাঙলার কমিউনিস্টদেরকেও প্রচার করতে দেখা যায়। কার্ল মার্ক্স ধর্মকে আফিম বলেছিলেন সত্য, কিন্তু আসলে কি প্রেক্ষিতে বলেছিলেন তা আমরা বিবেচনা করি না। মার্ক্স যা বলেছিলেন তা হলো –

“ধর্মের যাতনা একিসময়ে এবং একিসাথে বাস্তবের যাতনারও প্রকাশ, এবং বাস্তবের যাতনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও বটে। ধর্ম হলো শোষিত জীবের দীর্ঘশ্বাস, হৃদয়হীন পৃথিবীর হৃদয়, আত্মাহীন অবস্থার আত্মা। ধর্ম হলো জনগণের আফিম”

সুতরাং, কার্ল মার্ক্স ধর্মকে কেবল জনগনের আফিমই বলেন নাই, শোষিতের দীর্ঘশ্বাস এবং হৃদয়হীন পৃথিবীর হৃদয়ও বলেছেন। এখন ধর্মকে আফিম, দীর্ঘশ্বস এবং হৃদয় উপমায় ভুষিত করে কার্ল মার্ক্স আসলে কি বুঝাতে চেয়েছেন সেই ব্যাখ্যায় আমরা আপাতত যাবো না। কিন্তু ‘ধর্ম হলো শোষিতের দীর্ঘশ্বাস’ এই বাক্যের প্রচারের বদলে যে ‘ধর্ম হলো জনগণের আফিম’ এই বাক্য প্রচার বেশি পেয়েছে, এটাই বাস্তবতা। এই প্রচারে জনগণ অথবা কমিউনিস্ট কারোই লাভ হয় নাই। কিন্তু বাম রাজনীতি ধর্মহীনতা এবং ধর্মবিরোধীতার অভিযোগ নিয়ে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি সেই শূন্যতা পুরণ করে শক্তিশালী হয়েছে। কার্ল মার্ক্স ধর্মকে যে গভির অন্তর্দৃষ্টির সাথে দেখেছেন এবং শোষিত মানুষের প্রতিবাদের আকাঙ্খার সাথে ধর্মের সম্পর্ক নির্দেশ করেছেন, পরবর্তি যুগের মার্ক্সিজমের প্রতিনিধীদের মাঝে সেই অন্তঃর্দৃষ্টি বিশেষ দেখা যায় না। ফলে ধর্মের সাথে কমিউনিজমের একটি কল্পিত যুদ্ধের চিত্র সোভিয়েত যুগের কমিউনিস্টরা এবং বর্তমানের কমিউনিস্ট বিরোধী ইসলামিস্টরা একেছেন, যার মাশুল সারা পৃথিবীতেই কমিউনিস্টদের দিতে হয়েছে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নাই। বাংলাদেশের কমিউনিস্টরা যদি আসন্য সাম্যবাদের স্বপ্নে বুদ হয়ে না থেকে বাঙলার গনমানুষের সমাজ, ধর্ম, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের সাথে নিজেদের জড়িয়ে নিতেন তাহলে হয়তো এই অবস্থা হতো না। মনজগতে উপনিবেশ শুধু ডানপন্থী নয় বামপন্থীদের সংগ্রামী চেতনাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তা বোঝা যায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকতাবাদের স্বপ্নে ডুবে না থেকে নিজেদের মাটি ও মানুষের জায়গা থেকে শ্রেণী সংগ্রামকে বুঝার দরকার ছিল, যেই কাজটি বিভিন্ন কারনে ব্যহত হয়েছে।

অবশ্য এইরকম পরিস্থিতি ভবিষ্যত পৃথিবীতে ঘটতে যাচ্ছে এইরকম একটি আশংকা মার্ক্সবাদ প্রভাবিত তাত্ত্বিক ফ্রানৎস ফাঁনো গত শতকের মাঝামাঝিতেই করেছিলেন। ফাঁনো পশ্চিমা উপনিবেশক এবং প্রাচ্যের উপনিবেশিত মানুষের মধ্যকার শ্রেণী সংগ্রামকেই আমাদের সময়কার কেন্দ্রীয় শ্রেণী সংগ্রাম হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। ফাঁনো লিখেছিলেন –

“গোত্র ও জাতের মধ্যকার ক্ষমাহীন যুদ্ধ এবং বিদেশীদের ফেলে রেখে যাওয়া বিভিন্ন পদ ও সম্পদ দখলের লড়াই থেকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি হবে। গ্রামাঞ্চল ও মফস্বলে স্থানীয় ধর্ম ও কাল্ট নতুন শক্তিতে বলিয়ান হয়ে উঠবে। বড় শহরগুলো, প্রাশাসনিক পদ পজিশনে, দুনিয়ার বড় দুই ধর্ম ইসলাম ও খ্রিষ্টান নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠিত হবে।…….একটি জাতির ভেতরে, ধর্ম জনগণকে একাধিক সমাজে বিভক্ত করছে, যেই প্রতিটা সমাজই আবার উপনিবেশ এবং উপনিবেশের বিভিন্ন ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে নির্যাতিত। পুরোপুরি অনাকাঙ্খিত সব ঘটনা এখানে সেখানে ছড়িয়ে পরে। ………দুই বড় ধর্মের জাতীয় বুর্জোয়া (অপরিণত বুর্জোয়া/লুটেরা বুর্জোয়া) শ্রেণী, যারা ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্বের সবচাইতে দূষিত রূপটি নিজেদের মধ্যে অঙ্গিভুত করে নিয়েছে এবং ইউরোপিয়ানদের কাছ থেকে জাতভেদের দর্শন (রেসিয়াল ফিলোসফি) ধার করেছে যা পুরো আফ্রিকা মহাদেশের জন্যে ক্ষতিকর” (পিটফল অফ দি ন্যাশনাল কনশাসনেস, দি রেচেড অফ দি আর্থ)

ফ্রানৎস ফাঁনো যেহেতু আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। তিনি মূলত আফ্রিকাকে উদাহরণ হিসাবে নিয়ে লিখেছিলেন। কিন্তু উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হওয়া আফ্রিকার সাথে উপনিবেশ থাকে স্বাধীন হওয়া ভারতের এই মিলগুলো উপনিবেশ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে প্রাচ্যের নির্যাতিত মানুষের একটি সাধারণ সংগ্রাম ও সেই সংগ্রামের বাধা বিপত্তিগুলো সম্বন্ধে আমাদের ধারণা দেয়। এই মিল এবং উপনিবেশকের বিরুদ্ধে সাধারণ শ্রেণী সংগ্রামের কথাই ফাঁনো বলে গেছেন। ফ্রানৎ ফাঁনো উপনিবেশের জনগণের মুক্তি সংগ্রামে জনগোষ্ঠির জাতীয় চেতনা বুঝাটা জরুরি মনে করেন। জাতীয় চেতনা এমন একটা জিনিস, যা উপনিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। যা টিকে থাকে তা হলো জাতীয় চেতনার কিছু বিচ্ছিন্ন ইমিটেশন। ফলে উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হওয়ার সময় এই জিনিসটা নতুন করে আবিস্কার করার দরকার পরে মুক্তিকামী মানুষের। সাম্প্রদায়িক আত্মপরিচয়ের চেতনা এই জাতীয় চেতনা আবিস্কারের পক্ষে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাঙলার মানুষ তাই কখনো ইন্ডিয়ান, কখনো মুসলমান আবার কখনো বাঙালি পরিচয়ের মধ্যে নিজের জাতীয় চেতনা আবিস্কার করার চেষ্টা করেছে। ফলে হিন্দু, ভারতীয়, মুসলমান, বাঙালি নানাবিধ পরিচয়ের রাজনীতির মধ্যে এই ভুখন্ডের শোষিত মানুষ নিজেদের মুক্তি খুঁজেছে, তার পথ ধরে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ হয়েছে। কিন্তু শোষিত মানুষের মুক্তি মেলে নাই। অন্যদিকে শোষিত মানুষের পক্ষের রাজনীতি যারা করেন, তারা যেহেতু আত্মপরিচয়ের রাজনীতির পাশাপাশি ধর্ম ও জাতিগত সকল ধরণের আত্মপরিচয়কে দার্শনিকভাবে খারিজ করতে গেছেন ফলে শোষিত জনগণের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তারা গ্রহণ করতে পারে নাই। ফলে আর্যবর্ত, রাম রাজত্ব, সুলতান মাহমুদ কিংবা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার ডিসকোর্স দিনে দিনে শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে কমিউনিস্টরা ‘ধর্ম হলো জনগণের আফিম’ ডিসকোর্সে তলিয়ে গেছে। ফলে শোষিত গণমানুষের মুক্তির জন্যে দরকারী জাতীয় চেতনার আবিস্কারও বাকি থেকে গেছে। অথচ বাঙলায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের গোড়ার ইতিহাসে ফকির করিম শাহ এবং তার পুত্র টিপু পাগলার নেতৃত্বে ময়মনসিংহ ও শেরপুর অঞ্চলে যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল তার ইতিহাস আমরা প্রচার করি না। আল্লাহর দুনিয়ায় সব মানুষ সমান, সুতরাং জমির উপর কারো একক মালিকানা থাকবেনা এই দাবিতুলে টিপু পাগলার নেতৃত্বে পাগলপন্থীরা ব্রিটিশ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে প্রায় এক বছর ধরে একটি স্বাধীন সাম্যবাদী সমাজ কায়েম রেখেছিল যেখানে হিন্দু, মুসলিম, আদিবাসীরা একাকার হয়ে গেছিল। বাংলাদেশের হিন্দু, মুসলিম, আদিবাসী সবাইকে একজোট করে একটি অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা বাংলদেশের বামপন্থীদের চীরকালের স্বপ্ন। অথচ করিম শাহ নামে একজন ধর্মীয় নেতা এই কাজটি করেছেন।ধর্ম ও ধর্মীয় আন্দোলন সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টির অভাবে পাগলপন্থী আন্দোলনকে এই অঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের ডিসকোর্সে জায়গা করে দিতে বাংলাদেশের বামপন্থীরা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ইউরোপের এক মাস বয়সী প্যারি কমিউনের প্রচার করেন এখনো, পাগলপন্থীদের সাম্যবাদী সমাজের নয়। ফলে এই অঞ্চলের গণমানুষের জাত-পাত-সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা এবং সাম্রাজ্যবাদ এই দুইয়ের মোকাবেলায় শোষিত মানুষের ‘জাতীয় চেতনা’র আবিস্কারের কোন বিকল্প নাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও শোষিতের দীর্ঘশ্বাস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 6