অপদ্য বচন (১৬৬-১৭৫)

১৬৬. আমাদের সমাজে অনেকেই সত্য কথা বলতে চাইলেই নিজের ব্যাপারে সত্যটি শুনতে নারাজ।

১৬৭. কিছুদিন ধরেই বাংলা চলচ্চিত্রে ‘প্রচেষ্টা’ নামক ব্যাপারটিকে বাহবা দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তবে হালে স্বপন আহমেদ-এর লালটিপ গোত্রীয় চলচ্চিত্রগুলোকে কতখানি ‘প্রচেষ্টা’ বলা যায় সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ যথেষ্ট। এমনকি নোমান রবিন-এর ‘কমন জেন্ডার’-ও কিছু না হয়ে ওঠা চলচ্চিত্রের অংশ বলেই আমার মতামত। গত দু’এক বছরে বাংলা যে ছবিগুলো দেখেছি তার মাঝে একমাত্র দ্যা লাস্ট ঠাকুরকে ভাল প্রচেষ্টা এবং একই সাথে কিছু ‘করে দ্যাখানো’ বলে মনে হয়েছে। তবে শুধু ‘প্রচেষ্টা’ বললে আমার মনে হয় পরিচালক সাদিক আহমেদের প্রতিভাকে খাঁটো করা হবে। এক্সিকিউশন, গল্প, অভিনয় সব মিলে ‘দ্যা লাস্ট ঠাকুর’ এ্যাকটা ভিন্ন অবস্থান দাবী করে। দুঃখজনক ভাবে বাংলাদেশে লালটিপ, প্রজাপতি ব্যাবসা সফল হয় আর লাস্ট ঠাকুর থিয়েটার রিলিজ পায় না।

১৬৭. আধপিস রুইমাছ-ভাতে মধ্যবিত্ত বাঙালি।

১৬৮. আমার জানা মতে ফ্রেঞ্চ ভাষায় প্রতিটি জিনিষের একটি সুনির্দিষ্ট লিঙ্গ রয়েছে। খাতা, কলম, দেশ, দোকান-পাট থেকে শুরু করে সবকিছুর। বাংলা ভাষায় এরকম কোন জটিলতা নেই। তবে আমার ধারণা বাংলা ভাষায় লিঙ্গ ব্যবহারের এই নিয়ম প্রচলিত থাকলে খাবার দোকান হত স্ত্রী-লিঙ্গ। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ খাবার দোকান একটি নির্দিষ্ট মাসে হিজাব পড়ে থাকে।

১৬৯. ব্যাক্তি আমি শিক্ষকদের সম্মান করায় বিশ্বাসী। তবে আমার কাছে শিক্ষক মানে কেবল স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করা কোন ব্যাক্তি নয়।

১৭০. বাংলাদেশে নববর্ষ, ঈদ, পুজা, বড়দিন, … ও হরতাল পালিত হয়। প্রথমগুলি পালন করে সাধারণ মানুষ আর শেষেরটা রাজনৈতিক জানোয়ারেরা।

১৭১. প্রবাদ: ক্ষুধার্থ কালভদ্রে অপরের খাবার দেখেও প্রশান্তি পায়।
উদাহরণ: পর্ণোগ্রাফি

১৭২. নারী দিবসে, ফেসবুক দেখে মনে হয়, নারী একটি আলাদা ‘প্রজাতির’ প্রাণী। তাই একটি বিশেষ দিন আমরা বেছে নিয়েছি নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান, অন্তরঙ্গ বা দুরত্বসহ ভালোবাসা প্রকাশে।

১৭৩. উক্তি: শাহবাগ বিধর্মী ও নাস্তিকদের আড্ডা। শাহবাগ পরিত্যাজ্য। (খালেদা জিয়া)
অনুবাদ: ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাড়া বাংলাদেশে কারো বিদ্রোহ করার অধিকার নেই।

১৭৪. জামায়াত-শিবিরকর্মীদের পিতৃ পরিচয় থাকলেও, মনুষত্বের পরিচয় নেই।

১৭৫. মাঝে মাঝে মনে হয় গু+অল্প=গল্প।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “অপদ্য বচন (১৬৬-১৭৫)

  1. জোসসসসসসসসসসসস। দারুন সব বচন
    জোসসসসসসসসসসসস। দারুন সব বচন 😀 😀 😀
    আগের গুলোর লিঙ্ক জুড়ে দিলে ভালো হয় কিনবা এই ব্লগে না থাকলে ব্যক্তিগত সংরক্ষনের জন্য নতুন করে পোস্ট করতে পারেন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে।

  2. সেই অ-নে-ক দিন পর আপনার বচন
    সেই অ-নে-ক দিন পর আপনার বচন পড়ার সৌভাগ্য হইল। বরাবরের মতই ভাল লাগল……। ক্যামুন আছেন আপনি? ইদানিং হঠাৎ করেও আর দেখা হয় না।

  3. ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাড়া

    ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাড়া বাংলাদেশে কারো বিদ্রোহ করার অধিকার নেই

    কোন দেশে বাস করি আমরা ! জামাতিরা প্রকাশ্যে গৃহযুদ্ধের ঘোষনা দিয়ে বুক ফুলিয়ে মানুষ হত্যা করে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে, রাষ্ট্রদ্রোহী কাজে লিপ্ত, তারপরও কোন বিজ্ঞ আইনজীবিকে পাওয়া যায় না কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করার জন্য ! পাশাপাশি কোন ব্লগে কোন ব্লগার ইসলামকে কটাক্ষ করে কি লেখা লিখেছে সেটা নিয়ে বীর দর্পে মামলা ঠুকে দেয় কোর্টে ! হায়রে দেশের শিক্ষিত সমাজ ! অপরাধীদের বিচার চাইলে হয় নাস্তিক, আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলেও তারা হয় আস্তিক ! কবে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে আমাদের দেশের স্বঘোষিত বুদ্ধিবীবীদের ? কবে এসব বুদ্ধিজীবীগণ দল মতের উর্ধে উঠে নিরপেক্ষভাবে জাতিকে দিক নির্দেশনা দিয়ে যাবেন? সেই আশায় রইলাম…..

  4. বসের পোস্ট মিস করছিলাম।
    বসের পোস্ট মিস করছিলাম। সবগুলাই আগুনের গোলা হইছে। সবচে চরম হইছে এইটা-

    ১৭০. বাংলাদেশে নববর্ষ, ঈদ, পুজা, বড়দিন, … ও হরতাল পালিত হয়। প্রথমগুলি পালন করে সাধারণ মানুষ আর শেষেরটা রাজনৈতিক জানোয়ারেরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

39 − 36 =