শিশু খাদ্য নিয়ে প্রথম আলো গ্রুপের নির্লজ্জ ব্যবসা!

প্রথম আলো দেশের বিবেক! নানান ধরনের ওয়াজ নসিহত করে এই পত্রিকাটি। নারী ও শিশুদের প্রতি তাদের নাকি অনেক দায়িত্ব রয়েছে। প্রথম আলো সেই দায়িত্ব পালনে নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য মনে করিয়ে দিতে ভোলে না। এ কারণে এই পত্রিকাটি বেশিরভাগ মানুষ পড়েও। কিন্তু প্রথম আলো যা বলে তা সে কখনোই পালন করে না। মানে এই পত্রিকাটি একটি মোনাফেক গোষ্টির মুখপাত্র। শিশুদের প্রতি দায়িত্ব পালন করার কথা বললেও প্রথম আলো গ্রুপই দেশের সব থেকে বেশি দুই নম্বরি করে থাকে শিশু খাদ্য নিয়ে।

প্রথম আলো ট্রান্সকম গ্রুপের। এই গ্রুপের সব ব্যবসাই বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানির লোকাল এজেন্ট হিসাবে। মানে স্ট্রেইট প্রথম আলো ব্যবসার নামে যা করে তাহলো সাম্রাজ্যবাদী পন্য বাংলাদেশে এনে বিক্রি করা। এ কারণে তাকে সাম্রাজ্যবাদের লোকাল এজেন্ট বলা যায়। পত্রিকা গ্রুপটির পেপসিকো, ফিলিপস, নাইকন ক্যামেরা, স্যামসং মোবাইল ফোন, পিজা হার্ট, কেএফসি থেকে শুরু করে সব ব্যবসাই হলো বিদেশের পন্য নিজের দেশে বিক্রি করা। এ কারণে প্রথম আলো দেশের কোম্পানিগুলোর বিশেষত যারা নিজেরা পন্য উৎপাদন করে তাদের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলেই রিপোর্ট করে। সেরকম একটি ঘটনা হলো প্রাণ গ্রুপের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময় প্রথম আলো পুরোপুরি জেহাদে নেমেছিলো। তার কারণ কী জানেন? কারণ হলো প্রাণ গ্রুপ ফিলিপস এর বাংলাদেশ এজেন্ট হিসেবে সব কাগজ পাক্কা হয়ে গিয়েছিলো। ফিলিপস গ্রুপ ট্রান্সকমকে আর বাংলাদেশের এজেন্টশিপ দিবে না, দিবে প্রাণ গ্রুপকে। এ জন্য প্রথম আলো প্রাণের হলুদের ভেতর শিষা রয়েছে বলে প্রতিবেদন করেছিলো। প্রাণ গ্রুপের হলুদে শিষা নেই এ কথা বলছি না, নিশ্চয় আছে। কিন্তু প্রাণের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনের কারণ হলো ফিলিপস নিয়ে দ্বন্ধের ফল।

এসব ঘটনায় ভয় পেয়ে যায় প্রাণ গ্রুপ। তারা ফিলিপসকে জানায় যে, তোমাদের এজেন্টশিপ আমরা নিবো না।’ বোঝেন তাহলে অবস্থা! প্রাণ গ্রুপ মূলত কাদিয়ানি নির্ভর একটি গ্রুপ। বাংলাদেশে কাদিয়ানিদের দ্বারা পরিচালিত কোন ব্যবসা লসে নেই। এদের সাথে মার্কিনীদের সম্পর্কও ভালো। যাক সেটা ভিন্ন বিতর্ক। প্রথম আলোর হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণ শুধু ফিলিপসের এজেন্টশিপ বাতিল করেনি। তারা এবার অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মত গণমাধ্যম ব্যবসা বাজারে আনার স্বপ্ন দেখছে। তার প্রথম প্রচেষ্টা জাগোনিউজ২৪ ডট কম। কিন্তু এই নিউজ পোর্টালে যারা নিয়োগ পেয়েছেন এবং নিউজ পোর্টালটি যারা চালাচ্ছেন তাদের এমন কোন যোগ্যতা নেই যে তারা একটি প্রভাবশালী নিউজ পোর্টাল বানাবে।

প্রাণ গ্রুপের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা একটি পত্রিকাও আনতে চায়। তবে আগে থেকেই সাবধান করে দেওয়া যায় প্রাণ গ্রুপকে মিডিয়া আনার ব্যাপারে। তাহলো, জাগো নিউজের মত নিম্ন মেধা ও রুচির লোকজন যদি তাদের পত্রিকা আনে তাহলে সেটা হবে বড় একটা অশ্বডিম্ব। প্রাণ গ্রুপ একটি হিসেব করে দেখেছে, ভারতের স্টার জলসা ও জি বাংলায় তারা প্রতি মাসে যত টাকা দেয় বিজ্ঞাপন বাবদ সেই টাকা দিয়ে তারা নিজেরাই একটি মিডিয়া চালাতে পারে। তবে দুঃখের কথা হলো, মিডিয়া আর হলুদের ব্যবসা কিন্তু এক না। সেটা ইতোমধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ বুঝতে পেরেছে। সো, বিনিয়োগের আগে মার্কেট এনালিসিস করাসহ কয়েক’শ কাজ আছে সেগুলো আগে পরীক্ষা না করে বাজারে এলে তার পরিস্থিতি হবে ভয়ানক নেতিবাচক।

গুড়ো দুধ কেলেঙ্কারি!
বাংলাদেশে প্রথম আলোর ফাদার অর্গানাইজেশন ট্রান্সকম গ্রুপ বহুজাতিক কোম্পানি নেসলের লোকাল এজেন্ট। এই নেসলের একটি দুধ আছে নাম নিডো। সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এক হিসেবমতে দেখা গেছে, প্রতি কেজি নিডোতে অযৌক্তিকভাবে ১৯৭ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই কাজ যদি অন্য কেউ করতো প্রথম আলো তার ১৪ টা বাজিয়ে ফেলতো।

আর্ন্তজাতিক বাজার দর অনুযায়ী নেসলের পূর্ন ননীযুক্ত নিডো ব্রান্ডের প্রতি কেজি দুধ শুল্ক,মূল্য সংযোজন কর, অগ্রিম আয়কর, ব্যাংকের সুদ, যাতায়াতসহ সকলপ্রকার খরচ যুক্ত করার পর মুনাফা ধরলে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৬৫৭ টাকা। অথচ নেসলের এ ব্রান্ডের প্রতি কেজি গুড়ো দুধের দাম বাজার বিক্রি করা হচ্ছে ৮৫৪ টাকা। অযৌক্তিকভাবে প্রতি কেজি নিডোতে ১৯৭ টাকা মুনাফা করছে এ বিদেশী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। শুধু নেসলেই নয় দেশের প্রায় সব দুধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোই আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে উচ্চমূল্যে দেশে দুধ বিক্রি করছে।

আর্ন্তজাতিক বাজারে গত এক বছরে পূর্ণ ও স্বল্প ননীযুক্ত গুড়ো দুধের দাম কমেছে ৪০ শতাংশের বেশি। কিন্তু এ সময় দেশের বাজারে গুড়ো দুধের দাম কমেছে সামান্যই। ভোক্তারা উচ্চমূল্যে কিনছে গুড়ো দুধ। ভোক্তাদের পকেট শূন্য করে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক মুনাফা লুটে নিচ্ছে। গত চার মাসের আন্তর্জাতিক বাজার বাংলাদেশে গুড়ো দুধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) যাচাই করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন।

অন্যদিকে আর্ন্তজাতিক মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গুড়ো দুধ কেনা বিদেশ থেকে আমদানি করছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক দামের চেয়ে বেশি দামে গুড়ো দুধ কেনার পেছনে ওভার ভয়েস করে মূদ্রা পাচার করা হয়ে থাকতে পারে।

ট্যারিফ কমিশনের দেওয়া ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সর্বশেষ অক্টোবরে প্রতি মেট্রিক টন গুড়ো দুধের এলসি খোলা গড় মূল্য দাড়ায় ২৭৬১ ডলার ও নিম্পত্তি মূল্য দাড়ায় ২৯৯৮ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্চ মাস থেকে গুড়ো দুধের দাম ধারাবাহিক ভাবে কমলেও স্থানীয় আমদানিকারকরা গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশী মূল্যে এলসি খুলেছে। বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলসি করার কারণ সম্পর্কে ট্যারিফ কমিশন মনে করছে, দেশের আমদানিকারকরা উৎকৃষ্ট মানের বিশেষ কোন গুড়ো দুধ আমদানির জন্য এলসি খুলেছেন অথবা ওভার ইনভয়েসিং (প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দেখিয়ে মুদ্রা পাচার) করেছে। তবে মে মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের প্রবণতার সঙ্গে মিলিয়ে এলসি মূল্যের প্রবণতা দেখা গেছে।

ট্যারিফ কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে স্বল্প ননীযুক্ত গুড়ো দুধ গড়ে ২৪৮ টাকা কেজি দরে এবং পূর্ণ ননীযুক্ত গুড়ো দুধ ৩৪৫ টাকা কেজি দরে আমদানি করা হয়েছে। আমদানি খরচের সঙ্গে প্যাকেটজাত ও যাতায়াত খরচ এবং মুনাফা যোগ করা হলে সল্প ননীযুক্ত গুড়ো দুধের ৪০০ গ্রামের মূল্য ১৭৩ দশমিক ৮০ টাকা এবং পূর্ণ ননীযুক্ত গুড়ো দুধের মূল্য ২৩৩ দশমিক ৮ টাকা দাঁড়ায়। তবে মূল্যে কোন প্রতিষ্ঠানই গুড়ো দুধ বিক্রি করেনি।

জানা গেছে, শুল্ক সাড়ে পাঁচ টাকা, মূল্য সংযোজন কর সাড়ে ১৭ টাকা (ভ্যাট), অগ্রিম আয়কর সাড়ে ৫ টাকা, ব্যাংকের সুদ সাড়ে তিন টাকা, যাতায়াত ও প্যাকেজিং খরচ ১২ টাকা, প্রশাসন, বিতরণ এবং অন্যান্য খরচ ৫ টাকা, মুনাফা ৩২ টাকা (২০ শতাংশ হারে) ধরে ট্যারিফ কমিশন প্রতি কেজি ও ৪০০ গ্রাম প্যাকেটজাত গুড়ো দুধের দাম নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দেশের প্রতিটি কাঙ্খিত মূল্যের অনেক বেশিতে খোলা বাজারে বিক্রি করছে। এ হিসেবে আবুল খায়েরের স্টারশিপ ও মার্কসের ৪০০ গ্রাম দুধের দাম ২১৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কিন্তু এর কাঙ্খিত মূল্য ১৯২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ৪০০ গ্রাম গুড়ো দুধে এ ব্রান্ডটি ২৭ টাকা বেশি নিচ্ছে। নিউজিল্যান্ড ডায়েরীর ব্রিান্ডের গুড়ো দুধ ডিপ্লোমা ও রেডকাউ প্রতি ৪০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ২৮৫ টাকায় এবং একই প্রতিষ্ঠানের ৪০০ গ্রাম এ্যাংকর দুধ বিক্রি হচ্ছে ২৮৬ টাকায়। এ ব্রান্ডের কাঙ্খিত মূল্য হিসেবে ধরা হয়েছে ২২৭ টাকা। ডিপ্লোমা ও রেডকাউ প্রতি ৪০০ গ্রামে কাঙ্খিত মূল্যের চেয়ে বেশি নিচ্ছে ৫৮ টাকা এবং এ্যাংকর বেশি নিচ্ছে ৫৯ টাকা। তানভীর ফুডের ফ্রেশ ব্রান্ডের ৪০০ গ্রাম গুড়ো দুধের বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২১৯ টাকা। এর কাঙ্খিত মূল্য ১৯৮ টাকা যা ২০ দশমিক ৮১ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রাণ স্বল্প ননীযুক্ত ও úূর্ন ননীযুক্ত ৪০০ গ্রামের দুটি প্যাকেটজাত গুড়ো দুধ বিক্রি করছে যথাক্রমে ৩২০ টাকা ও ২১৯ টাকা। এটির কাঙ্খিত মূল্য হওয়া উচিত টাকা ২৪৮ টাকা ১২ পয়সা ও ২২৩ টাতা ৯০ পয়সা। প্রাণের ৫০০ গ্রামের প্যাকেটজাত দুধ বিক্রি হচ্ছে ২৭৫ টাকা এটির দাম হওয়া উচিত ২৭৪ টাকা।

সব থেকে বেশি দামে বিক্রি করছে নেসলের নিডো ব্রান্ডের গুড়ো দুধ। নিডোর ৩৫০ গ্রামের প্যাকেটজাত গুড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ২৯৯ টাকা। এটি কাঙ্খিত মূল্যে হওয়া উচিত ২৩০ টাকা ৩৯ পয়সা যা ৬৮ টাকা ৬১ পয়সা বেশি। তবে বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একমাত্র আরলা ফুডসের ডানোর প্রতি ৪০০ গ্রাম গুড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ২৮৫ টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে দুধের দাম না কমার কারণ হিসেবে ট্যারিফ কমিশন বলছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন গুড়ো দুধ বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান তাদের বাজারজাতকৃত পণ্যের গুনগত মানবৃদ্ধি ও ব্র্যান্ডিং এর দিকে নজর না দিয়ে পরিবেশক ও খুরচা ব্যবসায়ী পর্যায়ে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা দিয়ে তাদের পন্য কিনতে বাধ্য করানো হচ্ছে। দুধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো পুশ সেল (জোর করে বিক্রি করা) এর মাধ্যমে বাজার দখলের চেষ্টা করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গুড়ো দুধের দাম কমার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না।

প্রথম আলোর প্রাণ নিয়ে একটি রিপোর্ট দেখুন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৭ thoughts on “শিশু খাদ্য নিয়ে প্রথম আলো গ্রুপের নির্লজ্জ ব্যবসা!

  1. দীর্ঘদিন প্রথম আলো পড়ার
    দীর্ঘদিন প্রথম আলো পড়ার সুবাদে প্রথম আলোর অপসাংবাদিকতা সম্পর্কে কিঞ্ছিত ধারনা আছে। চমৎকার এই অনুসন্ধানি রিপোর্টির জন্য লেখক কে ধন্যবাদ

  2. প্রথম আলোর বিপক্ষে এই এটি
    প্রথম আলোর বিপক্ষে এই এটি একটি সত্য তথ্যমূলক দীর্ঘ পোস্ট ।পোস্টে প্লাস এবং প্রথম আলোর ভন্ডামি তুলে ধরায় জন্য লেখককে ধন্যবাদ জানাই ।
    কোন প্রতিষ্ঠান কাদিয়ানি কিংবা ইহুদি কতৃক পরিচালিত হোক তাতে আমাদের কোন আপত্তি নাই ,কিন্তু আমাদের আপত্তি তখনই যখন এরা প্রতারনার চরম শিখরে পৌঁছায় ।বাঙ্গালীর উচিত্‍ প্রথম আলোকে বয়কট করা ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 63 = 64