‘বিষভরা সিরিঞ্জ’ হত্যার নতুন কৌশল জঙ্গীদের

২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন এম.ই.এস গেট চেকপোষ্ট সংলগ্ন জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের উপর সিএনজি থেকে খোরশদে আলম রুবেল (২৩) নামের এক লোককে আটক করে পুলিশ।
বিমান বন্দর হতে মিরপুর যাওয়ার ফ্লাইওভারের সংযোগস্থলে সকালে একটি সিএনজি বিমান বন্দরের দিক হতে মিরপুর এর দিকে যাচ্ছিল। পুলিশ সিএনজিটিকে থামানোর সিগন্যাল দিলে একজন লোক দ্রুত নেমে পালানোর চেষ্টা করে কিন্তু ধরা পড়ে যায়। আটককৃত রুবেল এর কাছ থেকে একটি পিস্তল , একটি ম্যাগাজিন ,দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং দেহ তল্লাশি করে দুইটি Discard Ajter Single use MB সিরিঞ্জ যার একটিতে ২ এমএল অপরটিতে ৩ এমএল তরল জাতীয় পর্দাথ উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল স্বীকার করে, সে এক স্কুল শিক্ষককে হত্যার উদ্দেশ্যে মিরপুরে যাচ্ছিল। তাদের কাছে ওই শিক্ষক এর বিরুদ্ধে নাস্তিক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে । শিক্ষক যখন সকালে ব্যায়াম করার জন্য বের হবে তখন তার গতিরোধ করে উভয় পার্শ্ব হতে সিরিঞ্জের মাধ্যমে তার শরীরে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করবে।

আরো বেশ কিছু ঘটনায় বিষ ভরা সিরিঞ্জ উধার করে পুলিশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলামকে হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে ধারালো অস্ত্রের সঙ্গে দুটি সিরিঞ্জ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগেও কয়েকটি ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে সিরিঞ্জ। সেগুলোতে বিষও ভরা ছিল। বিষভরা সিরিঞ্জ নিয়ে কয়েকটি হত্যা প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে জঙ্গিরা।

জামা’আতুল মুজাহেদীন (জেএমবি) ও আনসারুল্লা বাংলাটিমের মতো উগ্র জঙ্গি সংগঠন তাদের টার্গেট হত্যাকাণ্ডে এই সিরিঞ্জ ব্যবহার করছে।

বিভিন্ন সময়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বা হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে-এমন কয়েকটি ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে এই সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছিল। এর আগে ঢাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে হত্যা করতে যাওয়ার সময় আটক এক জঙ্গি সদস্যের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল সিরিঞ্জ।

গত বছর উত্তরায় ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন ও চলতি বছরের অক্টোবরে মিরপুরের মনিপুর স্কুলের শিক্ষককে হত্যাচেষ্টায় জড়িত জঙ্গি সংগঠনের কয়েক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া সাভারে ব্লগার আশরাফুল আলমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়। ওইসব ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি সদস্যরা রিমান্ডে স্বীকার করেছে, হামলার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতেই তারা টার্গেট করা ব্যক্তির শরীরে বিষে ভরা সিরিঞ্জ পুশ করছে।

বহনে সুবিধাসহ নানা কারণে এটি তাদের নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

গত বছর উত্তরায় আসিফ মহিউদ্দিনকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আনসারুল্লা বাংলাটিমের সদস্য সাদ আল নাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ডে সে জানায়, ধারালো অস্ত্র ছাড়াও তাকে হত্যা করতে তারা সিরিঞ্জ নিয়ে গিয়েছিল। নাহিন আদালতেও এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়ে জানায়, প্রথম দফায় বেঁচে যাওয়ার পর চিকিৎসাধীন আসিফ মহিউদ্দিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও হত্যা করতে যায় সে। নিজে চিকিৎসকের এপ্রোন পরে বিষভরা সিরিঞ্জ নিয়ে তিন দিন অপেক্ষা করে ছিল ঢাকা মেডিকেলে। কিন্তু সিরিঞ্জটি পুশ করার সুযোগ পায়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষক সোহেল মাহমুদ জানান, সিরিঞ্জে বিষ ভর্তি করে কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হলে তা খুব দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিষক্রিয়া হয়ে খুব কম সময়ের মধ্যেই তার মারা যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ছাড়াও মৃত ব্যক্তির বিভিন্ন অঙ্গের ভিসেরা পরীক্ষা করতে হয়। তবে মৃত ব্যক্তির সুরতহাল প্রতিবেদনে ইনজেকশন পুশ বা সিরিঞ্জ উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ না থাকলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা সাধারণত এসব পরীক্ষা করান না।

জঙ্গিরা নানা বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে এদের ভালো জানাশোনা রয়েছে। এ কারণে তারা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন কৌশল উদ্ভাবন করছে। অথচ দেশের প্রশাসন কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার এতটা প্রযুক্তি জ্ঞান নেই। এই অবস্থা চলতে থাকলে জঙ্গীরা যাকে টার্গেট করবে তার বেচে থাকা অসম্ভব হয়ে যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “‘বিষভরা সিরিঞ্জ’ হত্যার নতুন কৌশল জঙ্গীদের

    1. মিঃ আকাশ,
      এই খারাপ কাজটা করে

      মিঃ আকাশ,
      এই খারাপ কাজটা করে ফারাবীর মত অসুস্থরা। সেই ফারাবীকে আপনারা নির্লজ্জ্বভাবে ব্লগে স্বাগতমে জানাচ্ছেন। আপনারা প্রত্যক্ষভাবে জঙ্গিবাদকে সমর্থন যোগাচ্ছেন নয় কি?

  1. গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে

    গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল
    স্বীকার করে, সে এক স্কুল শিক্ষককে হত্যার উদ্দেশ্যে মিরপুরে যাচ্ছিল। তাদের কাছে ওই শিক্ষক এর বিরুদ্ধে নাস্তিক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে ।শিক্ষক যখন সকালে ব্যায়াম করার জন্য বের হবে তখন তার গতিরোধ করে উভয় পার্শ্ব হতে সিরিঞ্জের মাধ্যমে তার শরীরে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করবে।

    অপরাধী হয়তবা নিজেকে বাঁচাতে একথা বলেছেন।নিজেকে রক্ষা করতে নাস্তিকতার ইস্যু টেনেছেন ,যদি অপরাধের শাস্তি একটু কমে যায় এই আশায়।অপরাধীদের ধর্ম নেই কারন কখনো কোন ধর্ম অপরাধকে সাপোর্ট করেনা।ধর্ম নৈতিকতা শিখায় ত্রাস নয় ।

    1. বিষাক্ত সিরিঞ্জগুলা কি নিজেকে
      বিষাক্ত সিরিঞ্জগুলা কি নিজেকে বাঁচানোর জন্য! যতগুলো এই ধরনের অপরাধ ঘটেছে ধর্মের নামে, সারাবিশ্বে ঘটছে সেইসব কি ধরনের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়? ফারাবীর পিঠ চুলকাইলেন দেখলাম। ফারাবীদের ধর্ম কোন ধরনের নৈতিকতার শিক্ষা দেয় সজল ভাইজান?

      1. সালাম ।
        হাঃ হাঃ ভাইজান কি

        সালাম ।
        হাঃ হাঃ ভাইজান কি আমার ওপর বেজায় বেজার হয়ে আছেন ?

        যতগুলো এই ধরনের অপরাধ ঘটেছে ধর্মের নামে, সারাবিশ্বে ঘটছে সেইসব কি ধরনের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়? ফারাবীর পিঠ চুলকাইলেন দেখলাম।ফারাবীদের ধর্ম কোন ধরনের নৈতিকতার শিক্ষা দেয় সজল ভাইজান?

        ফারাবীদের ধর্ম সকল ধরনের নৈতিকতা শিক্ষা দেয় ।একজনের দোষে পুরো ধর্মটা দুষ্ট হবে এ কেমন কথা ?
        ছেলের দোষে কি বাবার ফাঁসি হবে নাকি ভাই ?

        যতগুলো এই ধরনের অপরাধ ঘটেছে ধর্মের নামে, সারাবিশ্বে ঘটছে সেইসব কি ধরনের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়?

        শুধু ধর্মের নামে বলছেন কেন ?
        হিরোশিমায় কি ধর্মের কারনেই পরমানু বোমা নিক্ষেপ করেছিল নাকি ?
        রাশিয়া ,ইউক্রেনে কি ধার্মের কারনেই সংঘাত হয় ?
        পল কি ধর্মের কারনেই হাজার মানুষ মারে ?
        মাওবাদিরাও কি ধর্মীয় ফ্যাসাদ বাঁধাইতো ?
        আফ্রিকায় এইডস এর ভাইরাস তাও কি ধর্মীয় মিশনারীরা ছড়িয়েছে ?
        কৃষ্ঞাঙ্গ ,শেতাঙ্গ ভেদাভেদ ধার্মীয় কারনেই তারা করেন ?
        না ধর্মের কারনে নয় ,এরা হলেন নাস্তিক্যবাদী যা আপনি আমি কেউ অজানা নয় ।তো এদের কারনে কি আমরা সারা পৃথিবীর নাস্তিকদের দোষী করব ?
        সবাইকে দোষী করা কি আমার উচিত্‍ হবে ?
        না হবে না ।
        কুলাঙ্গার থাকবে প্রতিটা ধর্ম কিংবা জাতীতে তাই বলে কি আমরা পুরো ধর্ম কিংবা জাতীকে দোষারোপ করব ?

          1. সালাম।
            হাঃ হাঃ হাঃ শওকত ভাই

            সালাম।
            হাঃ হাঃ হাঃ শওকত ভাই না এরাও বাদ যাবেনা ।আমি শুধু নাস্তিকদের দোষটা দেখিয়েছি কারন ইকারাস ভাই এক দলের জন্য পুরো ধর্মকে দোষী করছেন ।

          2. অবশ্যই। কারন, ধর্ম আর পাঁচটা
            অবশ্যই। কারন, ধর্ম আর পাঁচটা বৈশিষ্ট্যর মতো মানুষের একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হতে পারে বড়জোর। কিন্তু সেটা কখনোই মানুষ মারা, বিভেদ সৃষ্টিকারী কোন বিষয় হতে পারে না। নাস্তিকরা কখনো একজন একজনকে ধর্মের দোহাই দিয়ে মেরে ফেলেনি। নাস্তিকতা নিয়ে জেনে আসুন।

        1. “কুলাঙ্গার থাকবে প্রতিটা ধর্ম
          “কুলাঙ্গার থাকবে প্রতিটা ধর্ম কিংবা জাতীতে তাই বলে কি আমরা পুরো ধর্ম কিংবা জাতীকে দোষারোপ করব “- না তা ঠিক নয়। তবে দুয়েকজনের দোষে পুরো বনি কুরাইজা জাতিগোষ্ঠীকে হত্যা করা জায়েজ আছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 4