দুর্বলতা এবং আত্মবিশ্লেষণ অথবা সমালোচনা।

দেইল্লা রাজাকারের ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে বগুড়াতে যে পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমন করেছে। ৪/৫জেলাকে ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করার সব রকমের চেষ্টাই করেছে। এর কারন জামাত শিবির খুব শক্তিশালী তা কিন্তু না। খবরের যে ছবি দেখা গেছে তাতে স্পষ্ট হয় যে জামাত শিবির অনেক সাধারণ মানুষকে পথে নামিয়ে আনতে পেরেছে। এই পথে নামিয়ে আনার জন্য কেবল টাকাই দিয়েছে আমার এমন মনে হয় না।আমার ধারনা ঐ অঞ্চলের মানুষ নানা কারনে এমনিতেই সরকারের কর্মকাণ্ডের উপর ক্ষেপা ছিল। এই সুযোগে আগুনে ঘি ঢেলেছে জামাত শিবির। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার সব চেষ্টাই তারা করেছে এবং কিছু সফলও হয়েছে। এটা সহজেই বুঝা যায় ঐ অঞ্চল গুলাতে সরকার দলের কোন রকম সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিল না।ক্ষমতায় গেলে জনগনের সাথে সরকারের দলের বিচ্ছিন্নতা বাড়তে থাকে।এটা একটা প্রমাণ।

পুলিশ নিয়ে আমরা প্রায় সবাই বিরক্ত। আমাদের পুলিশের দুর্নীতি এখন আর প্রমাণ করে বোঝাতে হয় না। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই এক কথায় স্বীকার করে। প্রতিটা ট্রাফিক পয়েন্টে প্রতি মিনিটে মিনিটে দেখতে পাওয়া যায়। ট্রাক থামিয়ে টাকা নিতে দেখা নতুন কোন কিছু নয়। জাতীয় কমিটির জ্বালানী মন্ত্রনালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের আগ্রাসন তো আমরা এই কয় দিন আগেই দেখলাম। পিপার স্প্রে যাদের উপর ব্যবহার করেছে তারা নিরস্ত্র ছিল। আর অবস্থান কর্মসূচির মতো নিরীহ কর্মসূচিতেও লাঠিপেটা পুলিশের অনেক পুরনো অভ্যাস। পুলিশ এই কাজ করে রাষ্ট্রের শাসকদের নির্দেশেই। এখন সাইদীর ফাঁসির রায়ের দিন জামাত শিবিরের তাণ্ডব পুলিশ যেভাবে মোকাবিলা করেছে। এতে অনেকে বাহবা দিয়েছেন। কিন্তু আমার কাছে ভাল মনে হয়নি। প্রথম দিনের চেয়ে পরের দিন তাদের তাণ্ডব ছিল আরো বেশি কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা ছিল কম।তাহলে প্রথম দিন এত প্রাণহানির কারন কিছুটা ধুয়াসা মনে হয়না! পুলিশ অনেক অদক্ষতার পরিচয় দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়েছে। হতে পারে পুলিশের গোঁয়ার্তুমির কারনে মৃত্যুর সংখ্যাটা বেশিই হয়েছে। এই সত্যটা স্বীকার করতেই হবে।কারন খুবই স্পষ্ট। হঠাৎ করে পুলিশ বাহিনী ভাল মানুষ হয়ে গেছে এটা তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না।

দেইল্লা রাজাকারকে চাঁদে দেখাটা গুজব। কিন্তু মানুষ কেন এই গুজবে কান দিল? অনেক মানুষই তো আছে ,অনেক হুজুরই তো দেশে আছে ,অনেক পীর ফকির আছে,কিন্তু চাঁদে দেইল্লা রাজাকার কেন দেখা যাবে এই বিশ্বাস কেন সাধারণের মনে আসে? বাস্তব কথা হলো এই দেশে দেইল্লা রাজাকারের ওয়াজ শুনে নাই এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। একটা সময় ছিল দেইল্লা আসলে বড় বড় মাঠ ভরে যেত তার ওয়াজ শুনার জন্য। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ওয়াজের ক্যাসেটও মনে হয় তার। এই চল্লিশ বছর ধরে সে ওয়াজ করে আসছে হাটে,মাঠে,গায়ে ,গঞ্জে। যদিও জামাত শিবিরে যোগদানের পরে তার জনপ্রিয়তায় অনেক ভাটা পরে যায়। এখন কথা হলো দেইল্লা রাজাকার চল্লিশ বছর ধরে তার নিজেকে মানুষের সামনে ভুল ভাবে তুলে ধরে নিজেকে সেলিব্রেটি তৈরী করতে সক্ষম হলো। এই চল্লিশ বছরে কয়টা প্রকাশনা বেরিয়েছে এই রাজাকারের নামে? কয়টা মিছিল ,মিটিং করে জনগনকে জানানো হয়েছে যে এই দাঁড়ি টুপির আড়ালে যে মানুষটি আপনারা দেখছেন সে একাত্তরের ঘাতক দেইল্লা রাজাকার?বিচির শুরু হবার পরেও আওয়ামীলীগের মানুষরা কি জানে দেইল্লা রাজাকারের বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ রয়েছে? রায় ঘোষণার আগে আমার মতো অনেক মানুষই সুনির্দিষ্ট করে অভিযোগগুলো কি কি তা বলতে পারতো না। বেশির ভাগ মানুষ এসব জানার সুযোগ পায় নাই। এই কারনে আওয়ামীলীগের অনেক কর্মীর কাছে দেইল্লা রাজাকারের ভণ্ড চেহারাটাই সত্য বলে মনে হয়। এই দোষ তো অস্বীকার করার উপায় নাই! আওয়ামীলীগের নেতারা ডায়াসে দাঁড়িয়ে বিএনপির নামে যত বদনাম করে জামাতের নামে শতকরা এক ভাগ সত্য প্রকাশ করলেও মানুষ এত দিনে অনেক সচেতন হয়ে উঠত।

এই দেশের বেশির ভাগ মানুষ আওয়ামীলীগ,বিএনপির মতো জামাতে ইসলাম কে একটা রাজনৈতিক দল হিসেবেই জানে। সরকারের পালা বদলের সাথে ইতিহাসের পালাবদলে মানুষ সত্যিকারের ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কোনটা সত্য এই নিয়ে মানুষের দ্বিধা দন্দ তৈরী হয়েছে। জামাত শিবিরের অতীত এই ৪০ বছরে অনেকটাই চাপা দিতে পেরেছে। কিছু কৌতূহলী মানুষ ছাড়া এই ইতিহাস এখন কেউ জানে না।কিছু মুক্তিযুদ্ধা আছে যারা এখন জামাত শিবিরের মতো দলকে সমর্থন করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে এখন সুবিধাবাদের সাথে হাত মিলিয়েছে অনেক আওয়ামী নেতা। কাদের সিদ্দিকি এমনই একজন।এই অবক্ষয় প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই দলটি তেমন কোন কর্মকাণ্ডই করে নাই। মাঝে মাঝে কিছু বক্তৃতা করেছে। যে দলের অস্তিত্বে মুক্তিযুদ্ধ জড়িয়ে আছে সেই দল কি করে মুক্তিযুদ্ধ ব্যপারে এত উদাসীন হতে পারে?

অনেক কিছুর ভিড়ে,অনেক সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছি। কিন্তু নিজেদের সমালোচনা না করলে ক্ষতিটা নিজেদেরই হয়। এসব আমার ব্যক্তিগত ভাবনার ফসল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “দুর্বলতা এবং আত্মবিশ্লেষণ অথবা সমালোচনা।

  1. আপনার পোস্ট অনুসরণে অচিরেই
    আপনার পোস্ট অনুসরণে অচিরেই আমি একটি পোস্ট দিচ্ছি দেখলেই পরিস্কার ধারণা পেয়ে যাবেন.. আশা করি……….

  2. সব কিছুর উপরে ক্ষমতা। ক্ষমতার
    সব কিছুর উপরে ক্ষমতা। ক্ষমতার কাছে এইসব চেতনা ফেতনা ফালতু বিষয়। এসব নিয়ে মাথা ঘামাইলে ক্ষমতা নিয়ে কখন ভাববে?

  3. খুব বেশি কি আগের কথা আওয়ামী
    খুব বেশি কি আগের কথা আওয়ামী লীগ জামাতের সাথে জোট বেধেছিলো। শেখ হাসিনা যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে তখনও ৩০ লাখ শহীদের সাথে তার সেই বেঈমানীর কথা মুছে যায় না। শুধু সেই সম্য না, জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের ধোয়া তুলে আওয়ামী লীগ তার বারগেইন পাওয়ার বাড়াবে এটাও এখন ওপেন সিক্রেট। বিএনপির কথা নাই বললাম। তাই দেশ চালানোর নেতৃত্ব আকড়ে ধরে আছে যারা তাদের কাছে চেতনা ফেতনা বলে আসলে কিছু নাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 − = 74