অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের ‘নায়ক’ খালেদা, বামদের ভূমিকা কী?

অবরুদ্ধ গণতন্ত্র। গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য সাবেক আর্মি প্রধানের স্ত্রী ও সেনা অভ্যন্তরে গড়ে উঠা দল বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন হচ্ছে। এটা অবশ্যই স্মরণে রাখা দরকার যে, বামরা এরকম শাসকশ্রেণীর অভ্যন্তনীরণ সঙ্কটে জনগণের সামনে কোন বার্তা নিয়ে আসেনি। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে খালেদা জিয়াই ভোটপন্থি গণতন্ত্র উদ্ধারের সব থেকে বড় নেতা হিসেবে আর্বিভূত হয়েছেন। বাংলাদেশের এরকম পরিস্থিতি হলে বামরা পালিয়ে থাকেন। জনগণ সংগ্রাম থেকে পালিয়ে যাওয়া নেতাদের প্রতি আস্থা রাখে না। বামরা তাদের ঐতিহাসিক কর্তব্য হাজিরে ব্যর্থ হয়েছেন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সিপিবি-বাসদ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সরকার বিরোধী আন্দোলন না করে বরং দুই নেত্রীকে এক জায়গাতে বসানোর চেষ্টা করেছেন। এটা কোনভাবেই জনঘনিস্ট রাজনৈতিক কর্মসূচী ছিলো না।

আমাদেরকে মনে রাখা দরকার, আ.লীগ বা আ.লীগ বা বিএনপি ভারতকে প্রভু মেনে বাংলাদেশে রাজনীতি করে। এ কারণে অমিত শাহ’র ফোন কল এসেছে খালেদার কাছে এটা শুনলে আ.লীগ মনে করে তারা মসনদ হারাতে যাচ্ছে। এটার অর্থ আ.লীগ ভারতের সমর্থনে টিকে আছে আর বিএনপিও ভারতের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়।

কিন্তু দেশের বামপন্থিরা ভারত প্রসঙ্গে কী করে? দেশের মেইনস্ট্রিমের বামপন্থি হিসেবে যাদেরকে মানুষ চেনে বা জানে তারাও ভারতপন্থি। একমাত্র সাম্প্রদায়িক ইস্যু ছাড়া তারা কোন ইস্যু দেখে না। কারণ এই ইস্যুটি ভারতেরও ইস্যু। এর মানে এই নয় যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বিভক্তি ও ফ্যাসাদ নেই। কিন্তু প্রধান বিপদ এটা নয়। একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠার ক্ষেত্রে বাধাগুলোই এখানে বড় বাধা। তার মানে বামরাও ভারতপন্থি। তবে দুখের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি ভারতের প্রভাবপুষ্ট যে কোন একটি দলই পাল্টাপাল্টি করে ক্ষমতায় থাকবে সেটা হয় আ.লীগ না হয় বিএনপি। এ কারণে রাষ্ট্র হিসেবে এই দেশের দাড়ানোটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

দেশের সংকটপূর্ণ সময় সিপিবি বাসদের একটি সংবাদ সম্মেলন কিন্তু তুমুল চিন্তা করার বিষয়। দেখুন এখানে। বাসদের কমরেড খালেকুজ্জামান বলছেন, একদিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটানো হচ্ছে’। এই হচ্ছে বামদের উন্নত সুশিল নৈতিকতার ভাষা ও স্বৈরাচার ব্যবস্থা সম্পর্কে জনভাষ্য!

তো, এই পরিস্থিতি থেকে যখন দেশ বেরিয়ে আসবে ৫ বছরের ভোটের গণতন্ত্রে তখন নেতা হিসেবে সেলিম ভাই কিম্বা খালেকুজ্জামানকে জনগণ মানবে নাকি খালেদা জিয়াকে মানবে? এই সত্য সাধারণ রাজনীতি জ্ঞান। এর জন্য নিশ্চয় মার্কস পড়তে হয় না। এরপর যদি খালেদা পোস্টার চিকায় লেখেন গণতন্ত্রের ‘মানষকন্যা’ তখন কী উচ্চ আদালত এই লেখার প্রতি কোন রুল দিবেন নাকি বামরা গাল দিবেন? বাকিটা থাক ভবিষ্যাতের জন্য।

তবে বাংলাদেশে ভবিষ্যাতের রাজনীতিতে সাধারণভাবে বা শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে বা ভোটের মাধ‌্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাবনা কম। সেটা না হলেও রাজনীতিতে খালেদা ইতিহাস হয়ে যাচ্ছেন।

মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশে গণতন্ত্র হলো পাঁচ বছর পর ভোটের দিন লম্বা লাইনে দাড়িয়ে ভোট দেয়া। এ অর্থে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র সংকটে। আর বামপন্থিরা যে আর্দশবাদী গণতন্ত্রের কথা বলেন, তা কোনকালেই বাংলাদেশে ছিলো না, এ কারণে বামপন্থিদের ধারণাত্মক গণতন্ত্র এখানে কোনকালেই অবরুদ্ধ ছিলো না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের ‘নায়ক’ খালেদা, বামদের ভূমিকা কী?

  1. গনবিচ্ছিন্ন সিপিবি-বাসদকে
    গনবিচ্ছিন্ন সিপিবি-বাসদকে গণতন্ত্রের নেতৃত্বদানে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সেটা স্বপ্নেই থেকে যাবে! কারন একটাই তারা গনবিচ্ছিন্ন , গনবিচ্ছিন্নদের দিয়ে কখন গণতন্ত্র চর্চা হয় না ।

    1. এটা চাওয়ার ব্যাপার না।যারা
      এটা চাওয়ার ব্যাপার না।যারা নিজেদের বাম বলে দাবী করেন ইতিহাসের এরকম পরিস্থিতিতে তাদের ঐতিহাসিক কর্তব্য অাছে।সে কর্তব্য পালন না করলে ইতিহাস তাদদের ক্ষমা করবে না

  2. বামপন্থীরা দিন রাইত
    বামপন্থীরা দিন রাইত পশ্চিমাগোরে গাইলায় আর সেখান থিকা এনজিওর ফান্ড আনা যায় নাকি সেইটা ভাবে। তবে মাঝে মাঝে আধা ছটাক ভারত, দুই সের আমেরিকা, এক সের মানবতা, ৫ সের হতাশা এবং এক চিমটি নুন দিয়ে খিচুড়ি তত্ত্ব ছাড়ে।

  3. তবে বাংলাদেশে ভবিষ্যাতের

    তবে বাংলাদেশে ভবিষ্যাতের রাজনীতিতে সাধারণভাবে বা শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে বা ভোটের মাধ‌্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাবনা কম। সেটা না হলেও রাজনীতিতে খালেদা ইতিহাস হয়ে যাচ্ছেন।

    খালেদা ইতিহাস হয়ে গেলেও দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কিছু দেখছি না । গণতান্ত্রিক এই সংকট কালে বামরা আশানুরূপ ভুমিকা রাখতে না পারলে এর ফলও তাদেরকে দীর্ঘ দিন ভোগ করতে হবে।

  4. দেশ আজ মহাবিশ্ববেহায়ার কবলে !
    দেশ আজ মহাবিশ্ববেহায়ার কবলে !

    এই নষ্ট, ভন্ড, বর্বর, নির্লজ্জ ও পতিত দলটির (আওয়ামী লীগ) কারণেই দেশের গণতন্ত্র আজ মৃত !

  5. কিন্তু দেশের বামপন্থিরা ভারত

    কিন্তু দেশের বামপন্থিরা ভারত প্রসঙ্গে কী করে? দেশের মেইনস্ট্রিমের বামপন্থি হিসেবে যাদেরকে মানুষ চেনে বা জানে তারাও ভারতপন্থি। একমাত্র সাম্প্রদায়িক ইস্যু ছাড়া তারা কোন ইস্যু দেখে না। কারণ এই ইস্যুটি ভারতেরও ইস্যু। এর মানে এই নয় যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বিভক্তি ও ফ্যাসাদ নেই। কিন্তু প্রধান বিপদ এটা নয়। একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠার ক্ষেত্রে বাধাগুলোই এখানে বড় বাধা। তার মানে বামরাও ভারতপন্থি।

    খালেক ভাই আর সেলিম ভাইদের বাস্তবসম্মত ভিশনের অভাব রয়েছে । তারা জনগণের দাবী বুঝতে অনেক সময়ই অপারগ থাকেন।

    1. খালেক ভাই আর সেলিম ভাইদের

      খালেক ভাই আর সেলিম ভাইদের বাস্তবসম্মত ভিশনের অভাব রয়েছে ।

      আপনার মতো লোকেরা থাকতে “ভীষণ” এর অভাব দেখা দিল?
      উহু, এটা ভাল কথা নয়! খাড়ান, কমরেড ভাইদের আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলে দিচ্ছি।
      দামটা কিন্তু একটু কম রাখবেন, বেচারাদের যে অবস্থা!

    2. মিঃ শেহ্জাদ,
      আওয়ামী দলচ্যুত

      মিঃ শেহ্জাদ,

      আওয়ামী দলচ্যুত বিশিষ্ট টকমারানি মাহমুদুর মান্নার ভিশন বুঝি খুব ভালো? তা আপনার এই নেতা এ পর্যন্ত দেশের জন্য কয়টা বাল ফালাইছে? ভোটে খাড়াইলে জামানত বাঁচাইতে পারে?

      1. @ ইকারাসঃ আপনার তো কথাই ঠিকমত
        @ ইকারাসঃ আপনার তো কথাই ঠিকমত হয়না। আপনি সবাইরে বন্ধুও বানান, আবার শত্রুও বানান। আপনার বুক আর পিঠের মধ্যে কোন পার্থক্য আমি খুঁজে পাইনা !

        আগে নিজে লাইনে আসেন, তারপর সবার সাথে কমুনিকেট করেন।

      2. ইকারাস সাহেব, ইহার পর কিভাবে
        ইকারাস সাহেব, ইহার পর কিভাবে সহি উপায়ে বন্ধু বানাতে হয় এবং কিভাবে তা নষ্ট করতে হয় সেটা পাল সাহেবের কাছে যথাযথ শিক্ষা করে বলগিন করতে আসবেন।
        :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :মাথাঠুকি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 − = 76