নিকৃষ্টের তীব্র আবেগ! – স্লাভোয় জিজেক

এখন যেহেতু সবাই শার্লি এব্দোর হত্যাযজ্ঞে হতভম্ব, তাই সাহস করে চিন্তা করার জন্যে এখন সঠিক সময়ও বটে। আমাদের মৌলিক স্বাধীনতার উপর একটি হামলা হিসাবে এই হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিধাহীন চিত্ত্বে আমাদের নিন্দা জানানো উচিৎ। শার্লি এব্দো মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়েছে, তাদের নিয়ে উপহাস করেছে এই বিষয়গুলোকে সামনে এনে নিন্দার লাগাম টেনে ধরারও উচিৎ হবে না। কিন্তু সার দুনিয়াব্যাপী নিন্দা জানানোই কি যথেষ্ঠ? আমাদের আরো চিন্তা করে দেখা দরকার।

চিন্তা করার মানে এই না যে এই অপরাধের সাথে পশ্চিমের অপরাধের তুলনামূলক আলোচনা টেনে বলতে হবে “যে পশ্চিম তৃতীয় বিশ্বে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে, সেই পশ্চিম এই হামলার নিন্দা জানানোর কে?” এসব সস্তা তুলনা। পশ্চিমের বহু লিবারাল বামপন্থীরা ইসলামোফোব হওয়ার ভয়ে যে ধরনের চিন্তা করেন সেসব চিন্তার কথাও বলছি না। এই লিবারাল বামপন্থীদের ভুল হলো, তারা ইসলামের যে কোন সমালোচনাকেই ইসলামোফোবিয়া বলে খারিজ করে দিতে চায়। যেমন এরা সালমান রুশদিকে খারিজ করে দিয়েছিল এই বলে যে তিনি বিনা দরকারে মুসলিমদের খেপিয়ে তুলেছেন এবং সেই হিসাবে তার উপর জারি হওয়া ফতোয়ার জন্যে তিনি কিছুটা হলেও নিজেই দায়ি। এই ধরণের অবস্থানের সমস্যা হলো, পশ্চিমের লিবারাল বামপন্থীরা যতোই পশ্চিমের করা অপরাধের অপরাধবোধে ডুবতে থাকবে, ততোই মুসলিম মৌলবাদীরা তাদেরকে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃনা লুকিয়ে রাখা মুনাফিক হিসাবে চিহ্নিত করবে। এই পরিস্থিতি সুপার ইগো’র প্যারাডক্সের জন্ম দেয়। আপনি অন্যদের মন জুগিয়ে যতো চলতে চাইবেন, অন্যদের দাবি দাওয়াও ততো বাড়তে থাকবে, আরো বাড়তে থাকবে আপনার অপরাধবোধ। বিষয়টা অনেকটা এমন যে, আপনি ইসলামকে যতো ছাড় দেবেন, ইসলাম ততো আপনার ঘাড়ে চেপে বসবে। এসব কারণে সিমন জেঙ্কিংসদের দেখানো মধ্যপন্থি পথ সম্বন্ধে আমি একমত নই। তাদের দাবি অনুযায়ি আমাদের কাজ হলো “অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখানো, এধরণের ঘটনার পর অতিরিক্ত প্রচার প্রচারণা না চালানো, এবং প্রতিটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে যাওয়া ভীতিকর দূর্ঘটনা হিসাবে দেখা”। কিন্তু শার্লি এব্দোর উপর হামলা কোন বিচ্ছিন্ন দূর্ঘটনা ছিল না। এই হামলার একটা সুস্পষ্ট ধর্মীয় ও রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল এবং খুব পরিস্কার ভাবেই এটা আরো বড় একটা চিত্রের অংশ মাত্র। অবশ্যই আমাদের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিৎ না, ইসলামোফোবিয়ায় ডুবে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু এই বড় চিত্রটাকে আমাদের নির্দয়ভাবে বিশ্লেষন করা উচিৎ।

সন্ত্রাসীদেরকে আত্মঘাতি অন্ধবিশ্বাসী হিসাবে ডিমোনাইজ করার চাইতে এই ডিমোনিক মিথের কাপড় খুলে দেয়া বেশি দরকারি। বহু আগে ফ্রেডরিক নিৎসে ধারণা করেছিলেন যে পশ্চিমা সভ্যতা ‘শেষ মানুষে’র পথে এগিয়ে চলেছে। এই ‘শেষ মানুষ’ হলো এমন এক জন্তু যার নাই কোন উন্মাদনা, নাই কোন বিশ্বাস। সে স্বপ্ন দেখতে পারে না, তার জীবন ক্লান্তিকর, সে ঝুকি নিতে পারে না। সে খালি শান্তি আর নিরাপত্তা চায়, একের প্রতি অপরের সহনশিলতার প্রকাশ হিসাবেঃ “যখন তখন একটু খানি বিষ, একটু মধুর স্বপ্নের জন্যে। সবশেষে অনেকখানি বিষ, আরামদায়ক মৃত্যুর জন্যে। তাদের দিনের বেলায় একটু সুখ, রাতের বেলায় একটু আরাম, কিন্তু তারা খুবি সাস্থ্য সচেতন। ‘আমরা সুখ আবিস্কার করেছি’ – বলে ‘শেষ মানুষ’, আর চোখ মারে”।

সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে পশ্চিমা প্রথম বিশ্ব আর তার বিরুদ্ধে মৌলবাদী প্রতিক্রিয়ার ফারাকটা হলো বস্তুগত ও সাংস্কৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ থেকে লম্বা ও সুখি জীবন যাপন আর নিজেকে অতিক্রম করার উদ্দেশ্য নিয়ে জীবন বিলিয়ে দেয়ার ফারাক। এই বিরোধ কি নিৎসের বলে যাওয়া প্যাসিভ এবং একটিভ নিহিলিজমের বিরোধ নয়? আমরা পশ্চিমারা হলো নিৎসের শেষ মানুষ, প্রতিদিনকার বোধশুন্য আরামের মধ্যে ডুবে আছি, যেখানে মুসলিম জঙ্গীবাদীরা সবকিছু বাজি রাখতে প্রস্তুত, সংগ্রামের জন্যে জীবন বিলিয়ে দিতে তারা কুন্ঠা বোধ করে না। উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস তার ‘দ্বিতিয় আগমনে’ যেমন বলেছেন, “যারা শ্রেষ্ঠ তাদের কোন বিশ্বাস নাই, যারা নিকৃষ্ট তাদের আবেগের অভাব নাই” আমাদের বর্তমান অবস্থা অনেকটা তেমন। আমাদের বর্তমান সময়কার নিরাবেগ লিবারাল আর আবেগি মৌলবাদীদের মধ্যে পার্থক্যটা ইয়েটস’এর এই বাক্যে পরিস্কার হয়। যারা শেষ্ঠ তারা ঠিকমতো মোকাবেলা করতে ভুলে গেছে, অন্যদিকে যারা নিকৃষ্ট তারা বর্ণবাদী, ধর্মীয় এবং সেক্সিস্ট অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করে যাচ্ছে।

তবে মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা কি এই বর্ণনার সাথে খাপে খাপে মেলে? দুনিয়ার অধিকাংশ মৌলবাদীদের সাথে তাদের একটা পার্থক্য আছে। তিব্বতের একজন বৌদ্ধ কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন আমিশ, এদের মধ্যে অবিশ্বাসীদের জীবনধারার প্রতি ঘৃনা এবং হিংসা অনুপস্থিত। আমাদের আলোচ্য তথাকথিত মৌলবাদীরা যদি সত্য পথের সন্ধ্যান পেয়েই থাকে, তাহলে অবিশ্বাসীদের কথায় তারা আক্রান্ত বোধ করবে কেনো? তাদেরকে হিংসাই বা কেনো করবে? একজন বৌদ্ধ যখন একজন পশ্চিমা ভোগবাদীর দেখা পায়, সাধারণত সে তার বিরুদ্ধে ঘৃনার প্রকাশ করে না। সে শুধু জানিয়ে দেয় যে ভোগবাদীর সুখের সন্ধ্যান তার আত্মপরাজয়ের সামিল। প্রকৃত মৌলবাদীদের সাথে আমাদের আলোচ্য সিউডো-মৌলবাদীদের পার্থক্য হলো, অবিশ্বাসীদের পাপী জীবনধারার প্রতি এরা একিসাথে বিরক্ত, সম্মোহিত এবং আপ্লুত। পাপী অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা নিজেদের কামনা-বাসনার সাথেই যেনো লড়াই করছে, এটা বুঝা কস্টকর নয়। সুতরাং, ইয়েটস’এর বিচার বর্তমানের পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারছে না। যে প্রচন্ড ভাবাবেগ এই সন্ত্রাসীদের মধ্যে আছে, তার সাথে কোন শক্ত বিশ্বাসের উপস্থিতি নাই। একজন মুসলমানের বিশ্বাস কতোটুকু ভঙ্গুর হলে সে একটি ব্যাঙ্গ পত্রিকার নিচুমানের কার্টুন দেখে আক্রান্ত বোধ করতে পারে? মৌলবাদী ইসলামি সন্ত্রাসের পেছনে সন্ত্রাসীদের ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে কোন নিশ্চিত বিশ্বাস কিংবা আন্তর্জাতিক ভোগবাদী সভ্যতার হাত থেকে তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার কোন বাসনা আসলে নাই। এই মৌলবাদীদের সমস্যা এই না যে আমরা তাদেরকে আমাদের তুলনায় নিকৃষ্ট গন্য করি, বরং তারা নিজেরাই গোপনে গোপনে নিজেদের নিকৃষ্ট মনে করে। ফলে আমরা যতোই রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকার জন্যে বলি যে, আমরা আমাদেরকে তোমাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ভাবি না, তারা ততোই ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক পার্থক্য (তাদের পরিচয় রক্ষার চেষ্টা) এখানে প্রধান সমস্যা না, সমস্যাটা বরং এর ঠিক বিপরীত। আসলে ইসলামী মৌলবাদীরা ইতিমধ্যেই আমাদের মতো হয়ে গেছে, গোপনে তারা আমাদের মানদন্ডই ধারণ করে আর সেই মানদন্ডেই নিজেদের মাপে। এই মৌলবাদীদের যা নাই, তা হলো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে একটি সত্যিকারের বর্ণবাদী বিশ্বাস।

মুসলিম মৌলবাদের উত্থান সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে ওয়াল্টার বেঞ্জামিনের একটি পুরনো কথা মনে আসে, “প্রতিটি ফ্যাসিবাদের উত্থান হলো এক একটি ব্যর্থ বিপ্লবের সাক্ষি”। ফ্যাসিবাদের উত্থান হলো বামপন্থার ব্যর্থতা। ফ্যাসিবাদের উত্থানে প্রমান হয় যে, সমাজের মধ্যে অসন্তুষ্টি এবং বৈপ্লবিক সম্ভাবনা উপস্থিত ছিল যা বামপন্থীরা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। আজকের দিনের ইসলামি-ফ্যাসিবাদের উত্থানের পেছনেও এই কথা খাটে। মনে রাখতে হবে যে, মুসলিম দেশগুলোতে বামপন্থী সেকুলারদের পতন আর জঙ্গীবাদী ইসলামিজমের উত্থান একি সময়ে ঘটেছে। গত ২০০৯ সালে যখন পাকিস্তানের তালিবানরা সোয়াত উপত্যকা দখল করে নিল, তখন নিউয়র্ক টাইমসে ছাপা হয়েছিল, “ হাতে গোনা জমির মালিকদের বিরুদ্ধে বিরাট সংখ্যক ভুমিহীন মজুরদের অসুন্তষ্টি কাজে লাগিয়ে তারা একটি শ্রেণী বিদ্রোহের জন্ম দিয়েছে”। যেখানে ভুমিহীন মজুরদের যাতনা কাজে লাগিয়ে তালিবানরা পাকিস্তানের (এখনো একটি অতিমাত্রায় সামন্ত রাষ্ট্র) অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে, সেখানে পাকিস্তানের লিবারাল ডেমোক্রেট কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ভুমিহীন মজুরদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিতে পারছে না কেনো? দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে পাকিস্তানের সামন্ত শক্তিগুলো হলো তাদের লিবারাল ডেমোক্রেসির বন্ধু, এরা হাত ধরাধরি করে চলে। তাহলে লিবারালিজমের যে মৌলিক মূল্যবোধ, স্বাধীনতা এবং সাম্য, এদের কি হবে? ঘটনা হচ্ছে, মৌলবাদীদের প্রতিক্রিয়াশীল আক্রমনের হাত থেকে এইসব মূল্যবোধ বাঁচানোর মতো যথেষ্ঠ পরিমান শক্তি লিবারালিজমের নাই। মৌলবাদ হলো প্রতিক্রিয়া, মিথ ও মিথ্যা মিশ্রিত প্রতিক্রিয়া অবশ্যই। এই প্রতিক্রিয়া লিবারালিজমের একটি সাধারণ দুর্বলতার বিরুদ্ধে। এই দুর্বলতার কারনেই লিবারালিজম বারবার মৌলবাদের জন্ম দেয়। একলা লিবারিলজমের শক্তি নাই নিজেকে টিকিয়ে রাখার। শুধুমাত্র পুনরিজ্জিবিত বামপন্থাই পারে লিবারিলজমের অন্তর্গত মূল্যবোধগুলিকে বাঁচাতে। লিবারালিজমকে টিকে থাকতে হলে র্যা ডিকাল বামপন্থার ভাতৃত্বসুলভ সহযোগিতা দরকার। মৌলবাদের পায়ের নিচের মাটি সরিয়ে দেয়ার জন্যে, তাকে পরাজিত করার জন্যে এটাই একমাত্র উপায়।

প্যারিস হত্যাকান্ড নিয়ে চিন্তা করার মানে হচ্ছে, অনুমোদনকারী লিবারালের আত্মতুষ্টি ত্যাগ করা এবং মেনে নেয়া যে লিবারাল অনুমোদন এবং মৌলবাদের মধ্যে যুদ্ধটা আসলে একটা মিথ্যা যুদ্ধ। এই যুদ্ধ হলো দুই বিপরীত মেরুর মধ্যকার দুষ্ট চক্র যারা একে অপরের পূর্বানুমানের উপর নির্ভরশীল। ম্যাক্স হরেকহেইমার সেই তিরিশের দশকেই ফ্যাসিবাদ এবং পুঁজিবাদ সম্বন্ধে বলেছিলেন, “যারা পুঁজিবাদের সমালোচনা করতে চায় না তাদের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করাও উচিত নয়”। এই কথাটি এখনকার মৌলবাদের ক্ষেত্রেও খাটে। যারা লিবারাল ডেমোক্রেসির কোন ক্রিটিকাল বিচার করতে চান না, তাদের ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধেও কথা বলা উচিৎ নয়।

(গত ১০ জানুয়ারি নিউ স্টেটসম্যান পত্রিকায় প্রকাশিত দার্শনিক স্লাভোয় জিজেক লিখিত “Are the worst really full of passionate intensity?” নামক প্রবন্ধ থেকে অনুবাদ করা হয়েছে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “নিকৃষ্টের তীব্র আবেগ! – স্লাভোয় জিজেক

  1. । যে প্রচন্ড ভাবাবেগ এই

    । যে প্রচন্ড ভাবাবেগ এই সন্ত্রাসীদের মধ্যে আছে, তার সাথে কোন শক্ত বিশ্বাসের উপস্থিতি নাই। একজন মুসলমানের বিশ্বাস কতোটুকু ভঙ্গুর হলে সে একটি ব্যাঙ্গ পত্রিকার নিচুমানের কার্টুন দেখে আক্রান্ত বোধ করতে পারে? মৌলবাদী ইসলামি সন্ত্রাসের পেছনে সন্ত্রাসীদের ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে কোন নিশ্চিত বিশ্বাস কিংবা আন্তর্জাতিক ভোগবাদী সভ্যতার হাত থেকে তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার কোন বাসনা আসলে নাই। এই মৌলবাদীদের সমস্যা এই না যে আমরা তাদেরকে আমাদের তুলনায় নিকৃষ্ট গন্য করি, বরং তারা নিজেরাই গোপনে গোপনে নিজেদের নিকৃষ্ট মনে করে। ফলে আমরা যতোই রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকার জন্যে বলি যে, আমরা আমাদেরকে তোমাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ভাবি না, তারা ততোই ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে।

    ভাল্লাগসে ….

    যারা লিবারাল ডেমোক্রেসির কোন ক্রিটিকাল বিচার করতে চান না, তাদের ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধেও কথা বলা উচিৎ নয়।

  2. শার্লি হেব্দোর সব থেকে
    শার্লি হেব্দোর সব থেকে গাজাখুরি দৃশ্যটি ছিলো যখন কথিত টেরোরিস্টরা নিচ দিক দিয়ে হেটে যাচ্ছিল তখন অনেক নিরাপত্তা কর্মী বিল্ডিং এর ছাদ থেকে তাদের পর্যবেক্ষণ করছিলো। তারা কিন্তু তখন ইচ্ছা করলেই তাদের থামিয়ে দিতে পারত। এরপর কথিত টেরোরিস্টদের দুই জন এক দিকে চলে গেল আর বাকি দুইজন আরেক দিকে গেলো। তারপর হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হল। চলে যাওয়ার সময় তারা আবার তাদের আইডি কার্ডও রেখে গেলো । এ থেকেই প্রমানিত হয় যে পুরো ঘটনাটি 9/11 এর মত একটি সাজানো ঘটনা ছিলো। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল ফ্রান্স সরকার যেই ভিডিওটা ছাড়ছে সেখানে এক টেরোরিস্টরা আহমেদ মারাবাটের মাথায় গুলি করছে কিন্তু আহমেদ মারাবাটের মাথা থেকে কোন রক্ত বের হয় নি। আর পত্রিকা অফিসের ভিতরেও তো সিসি ক্যামেরা ছিল। তো সাহস থাকলে ফ্রান্স সরকার শার্লী হেব্দোর অফিসের ভিতরে কিভাবে হত্যাকান্ড ঘটেছে এর ভিডিও টা প্রকাশ করুক। এই ঘটনাটা যে ইসরাঈল করেছে এর সব প্রমান এখানে https://www.youtube.com/watch?v=zriVAbO040c

    1. কাক চিনেন ভাই ফারাবী? কাকের
      কাক চিনেন ভাই ফারাবী? কাকের ধারনা সে চোখ বন্ধ করে রাখলে যেমন কিছু দেখে না, তেমনি অন্যরাও দেখেনা। আপনাদের অবস্থা হয়েছে সেই রকম। স্বেচ্ছায় অন্ধত্ববরণকারীর চিকিৎসা সম্ভব না।

  3. আমাদের আলোচ্য তথাকথিত

    আমাদের আলোচ্য তথাকথিত মৌলবাদীরা যদি সত্য পথের সন্ধ্যান পেয়েই থাকে, তাহলে অবিশ্বাসীদের কথায় তারা আক্রান্ত বোধ করবে কেনো?

  4. অবশ্যই আমাদের অতিরিক্ত
    অবশ্যই আমাদের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিৎ না, ইসলামোফোবিয়ায় ডুবে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।// একমত নই। অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো হয় না বলেই এদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    মুসলিম দেশগুলোতে বামপন্থী সেকুলারদের পতন আর জঙ্গীবাদী ইসলামিজমের উত্থান একি সময়ে ঘটেছে।// তাহলে বামরা কেন মৌলবাদীদের সাফাই গায়? এদের মধ্যে কি চিরশত্রুতা থাকা উচিৎ ছিল না?

    1. অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়
      অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায় প্রতিক্রিয়াশিলরা। জঙ্গী তৎপরতা বৃদ্ধির বহু কারণ আছে, সেটা কম প্রতিক্রিয়ার কারনে না।
      বামপন্থীরা মৌলবাদীদের সাফাই গায় কোথায়? ফরহাদ মজহারের মতো হাতে গোনা দুই একজনের জন্যে সব বামদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ কেনো করছেন?

  5. গুরত্ব পূর্ণ একটি পোস্ট। পড়ে
    গুরত্ব পূর্ণ একটি পোস্ট। পড়ে ভাল লাগল। উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসের এই উক্তিটি অসাধারন

    যারা শ্রেষ্ঠ তাদের কোন বিশ্বাস নাই, যারা নিকৃষ্ট তাদের আবেগের অভাব নাই”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

60 − 59 =