ভিনদেশী তারা………

এই ভিনদেশী মেয়েটি খুব সিগ্রোহী বাংলাদেশী বধু হয়ে আসছে. অনেকদিন যাবৎ ভাবছি এই মেয়েটাকে নিয়ে লিখব. কিন্তু সময় মিলছে না…
আপনি যদি এই মেয়েটাকে প্রশ্ন করেন- “Are you from Thailand?” ও বলবে “Ya I am from Thailand”. আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন “Are you from japan?” সে উত্তর করবে “yes I’m from Japan”. আপনি যদি মেয়েটিকে আবার বলেন “Are you from Bangladesh?” সে হাসিমুখে উত্তর দেবে “Yap I am from Bangladesh”. কি চমত্কার মেয়ে তাই না? বিশ্বের সকল দেশের স্বঘোষিত নাগরিকত্ব নিয়ে বসে আছে. একেই তো বলে বিশ্ব নাগরিক.

এই ভিনদেশী মেয়েটি খুব সিগ্রোহী বাংলাদেশী বধু হয়ে আসছে. অনেকদিন যাবৎ ভাবছি এই মেয়েটাকে নিয়ে লিখব. কিন্তু সময় মিলছে না…
আপনি যদি এই মেয়েটাকে প্রশ্ন করেন- “Are you from Thailand?” ও বলবে “Ya I am from Thailand”. আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন “Are you from japan?” সে উত্তর করবে “yes I’m from Japan”. আপনি যদি মেয়েটিকে আবার বলেন “Are you from Bangladesh?” সে হাসিমুখে উত্তর দেবে “Yap I am from Bangladesh”. কি চমত্কার মেয়ে তাই না? বিশ্বের সকল দেশের স্বঘোষিত নাগরিকত্ব নিয়ে বসে আছে. একেই তো বলে বিশ্ব নাগরিক.
এবার আপনি যদি বলেন ” Are you from china?” ও আপনাকে বলবে ” you DOG, go to hale”. কিছু বুঝলেন? সারা বিশ্বরের সকল দেশের নাগরিকত্ব নিতে এই মেয়েটির আপত্তি নেই. কিন্তু সে চিনের নাগরিকত্ব নিতে নারাজ. এই মেয়েটির আসল জন্মভূমি কোনটি?
মেয়েটির আসল জন্মভূমি #ভিয়েতনাম . এটাই সম্ভাবত একটি রাষ্ট্র যে রাষ্ট্র তিন তিনবার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তিনবারই স্বাধীন হয়েছে. ভিয়েতনামকে স্বাধীন হতে যুদ্ধ করতে হয়েছে আমেরিকা, ফ্রান্স ও চীনের মত শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে.
আপনি জেনে অবাক হবেন যে বাংলাদেশের ১ টাকা = ৩০০ প্রায় ভিয়েতনাম কারেন্সী. তারপরেও তারা পৃথিবীর শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় প্রথম সারীর. অভাব, অনটন, সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সম্পর্ক প্রায় একই. তার পরেও তারা অনেক বেশি সুখী. ভিয়েতনামে ৫০০- ৭০০-১২০০ টাকা দিয়ে একটা চকলেট খেতে হয়.
মেয়েটির নাম ‘থাও’.. যার বাংলা অর্থ সবুজ ‘ঘাস’. থাও সত্যিই সবুজ ঘাসের মত সরল এক মানুষ. যার উপরে নিটল শিশিরবিন্দু পড়ে যেমন বহুরঙ্গিন রূপ মেলে ধরে তেমনি সকালের মিষ্টি আলোও তার মহিমা বৃদ্ধি করে.
থাওকে দেখে নিজের জাতিস্বত্তা নিয়ে একধরনের গ্লানি মনের মাঝে দানাবাধে. ভিয়েতনামীরা যেভাবে চীনকে ঘৃণা করে, আমরা আজও সেভাবে পাকিস্তানকে ঘৃণা করতে পারিনি. এখনো ক্রিকেটের মাঠে পাকিস্তানের পতাকা মাথায় বেধে আমরা ৩০ লক্ষ্ শহীদের রক্তকে অস্বিকার করি. এখনো পাকিস্তান প্রসঙ্গে ভারতকে প্রতিপক্ষ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভারতকে দুটি গালি দেই.
থাওয়ের সাথে কেটেছে আমার ২টি দিন. জীবনের এই দুটিদিন আমার জীবনে অম্লান হয়ে রবে. থাওয়ের কাছ থেকে পাওয়া আমার শ্রেষ্ঠ কমপ্লিমেন্ট হল ” আনন্দ, আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ যোক্তিক ও মানবিক মনের অধিকারী কেবল তুমিই একমাত্র”. জীবনে অনেক কমপ্লিমেন্ট পেয়েছি. কিন্তু থাওয়ের এই প্রসংসা বাণী তার মাঝে অন্যতম.
আরেকটা তথ্য, তা হল ভিয়েতনামের মানুষদের কোন ইশ্বর নেই. তারা সবাই প্রায় নাস্তিক. মজার ব্যাপার হল সেখানে যুক্তি দিয়ে ইশ্বর প্রতিষ্ঠা করাই ফ্যাশন. যেমন আমার দেশে ফ্যাশন হল যুক্তি দিয়ে ইশ্বরকে ভ্যানিশ করে দেওয়া.
[ছবিটি তোলা হয়েছে শ্রীলংকার খুব কাছ থেকে. এ যাত্রায় শ্রীলংকা দেখা হল না. কিন্তু আশাকরি আগামী বছর ঠিকই দেখা হবে. grin emoticon grin emoticon ]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

31 − = 30