বদলে যাওয়ার কাহিনী-৩

করিম এখন জেলে, তাকে আবরোধ চলাকালিন সময়ে বাসে পেট্রোল মারার অপরাধে অপরাধী করে জেলে পাঠানো হয়েছে।
অথচ এই করিম কিন্তু আমাদেরই মতোন সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ। সে একজন রাজমিস্ত্রী , টেনে টুনে বেশ ভালো না থাকলেও মোটামুটি সুখেই ছিল সে তার স্ত্রী ও কন্যা নিয়ে। ৫ ই জানুয়ারী বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধের কারনে সে আর কাজ পাচ্ছিল না। যেহেতু সে ছিল “hand to mouth” মানুষ ,সুতরাং কাজবিহীন হয়ে তাকে ঘরেই বসে থেকে ঘরে জামানো অবশেষ রসদটুকু দিয়ে নিজের ও পরিবারের পেট চালাতে হচ্ছিল। দুইদিন পর সেই রসদটুকুও শেষ হয়ে গেল। পরের দুই দিন তাদেরকে অনাহারেই কাটাতে হল।

করিম এখন জেলে, তাকে আবরোধ চলাকালিন সময়ে বাসে পেট্রোল মারার অপরাধে অপরাধী করে জেলে পাঠানো হয়েছে।
অথচ এই করিম কিন্তু আমাদেরই মতোন সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ। সে একজন রাজমিস্ত্রী , টেনে টুনে বেশ ভালো না থাকলেও মোটামুটি সুখেই ছিল সে তার স্ত্রী ও কন্যা নিয়ে। ৫ ই জানুয়ারী বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধের কারনে সে আর কাজ পাচ্ছিল না। যেহেতু সে ছিল “hand to mouth” মানুষ ,সুতরাং কাজবিহীন হয়ে তাকে ঘরেই বসে থেকে ঘরে জামানো অবশেষ রসদটুকু দিয়ে নিজের ও পরিবারের পেট চালাতে হচ্ছিল। দুইদিন পর সেই রসদটুকুও শেষ হয়ে গেল। পরের দুই দিন তাদেরকে অনাহারেই কাটাতে হল।
করিমের সাথেই কাজ করত কাশেম। সে করিমের বাসার পাশেই থাকত। করিমের মতো তারও কাজ বন্ধ ছিল কিন্তু করিম দেখত যে কাশেম দিব্যি তার পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছে।
করিমের দূরবস্থা দেখে কাশেম করিমকে কাজ দেওয়ার কথা বলে সেখানের অবরোধকারীদের স্থানীয় নেতার কাছে নিয়ে গেল। সেখানে গিয়ে জানতে পারল অবরোধে বিভিন্ন জিনিষ নষ্ট করলে কেমন অর্থ পাওয়া যায়। প্রথম প্রথম তার বিবেকে খুব বাজছিল। তাই সে সেখান থেকে চলে আসল।
কিন্তু তার দুইদিন পর অনাহারের জ্বালায় টিকতে না পেরে সে বাসে পেট্রোল দেওয়ার জন্য রাজী হল। কারন এতে সে ৬০০০ টাকা পাবে যা দিয়ে তার পরিবারের সকলের মুখে খাবার জুটবে।
অবশেষে সেই দিণটি আসল, সে মুখে জামছা দিয়ে নাম না জানা আরও দুইজনের সাথে মটর সাইকেলে একটা যাত্রীবাহী বাসে বোমা মারতে গেলে জনগন তাকে ও তার এক সঙ্গীকে ধরে গনপিটুনি দেওয়া শুরু করে, সাথে সাথে পুলিশ এসে পড়ায় তাদের জীবন রক্ষা হয়।
অবশেষে এখন সে জেলে, শুনলাম কালকে তাকে কোটে নেওয়া হবে!!
(এই কাহিনিটা কাল্পনিক। তবে এমন অনেক করিমরাই পেটের জ্বালায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়। এদের হয়ত এদেশের সরকার নিয়ে কোন মাথাব্যাথাই নেই , এরা শুধু চায় একটা দারিদ্র হোক কিন্তু সুখের জীবন। কিন্তু দেশের ফালতু টাইপ রাজনীতি ও স্বার্থনীতির কাছে বলি হয়ে এরা হারায় সবকিছু। আজ আমাদের সকল সাধারন জনগনের একটা চাওয়া রাজনেতা-রাজনেত্রীদের কাছে,” দয়া করে বন্ধ করুন এসব,আমাদেরকে একটু সুখে থাকতে দিন।”)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বদলে যাওয়ার কাহিনী-৩

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 3 =