হাসিনা-খালেদা আমাদেরকে এবার মাফ করুন

আমরা পেট্রোলে পুড়বো, আমরা ঘুষ দিতে দিতে রোগা পটকা হয়ে মারা যাবো, আমরা এলাকার পাতি শোয়া সরকারি গুণ্ডাবাহিনীকে সেলাম দিতে দিতে আমাদের কাধ কুজো

থেকে কুজোতর হয়ে যাবে। এই আমাদের গণতন্ত্র। যার একপক্ষে চেতনাজীবী আওয়ামী লীগ অন্যপাশে গণতন্ত্র উদ্ধারকারি খালেদা। এই পরিস্থিতি যদি দ্রুতই, সহসাই কাটতে হয় তাহলে নির্বাচনহীন কোন পদ্ধতির মাধ্যমে হাসিনার পতন। এ ছাড়া রেহাই পাওয়ার আর কী কোন সহজ পথ রেখেছেন তারা?

বাংলাদেশের নাগরিকদের একমাত্র অপরাধ তারা এই ভূমিতে জন্ম নিয়েছেন। যদি এই ভূমিতে জন্ম না নিয়ে এই দেশের নাগরিকরা অন্য পশ্চিমা কোন দেশে জন্ম নিতেন তাহলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির জমিদারিত্ব তাদের সহ্য করতে হোত না। ঘটনা যেহেতু জমিদারি সেখানে আমাদের মত আম আদমি বা সাধারণ প্রজারা রাজার ইচ্ছে মেনে নেওয়া ছাড়া কিছুই নেই।

‘গণতন্ত্র’ শব্দটির প্রতি আমাদের যে বিশ্বাস তা ধর্ম বিশ্বাসের তুলনায় কমতো নয়ই বরং মাঝে মধ্যে তা আরো অনেক বেশি জোরালো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশে কোথায় গণতন্ত্র আছে? অতীত ইতিহাস না ঘেঁটে শুধু নব্বই পরবর্তী নির্বাচিত সংসদীয় সরকারের তুলনা করলেই অনেকে একমত হবেন যে গণতন্ত্র একটি ধারণামাত্র। তবুও আমরা সংবিধানের নামে, গণতন্ত্রের নামে জিকির তুলছি। বলছি, কোনভাবেই অসাংবিধানিক সরকার হতে দেওয়া হবে না।


আওয়ামী লীগের সুশাসনের স্লোগান উইপোকায় কাটছে

গত জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের দিনবদলের ইশতেহারে প্রধানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিলো পাঁচটি বিষয়ের ওপর- ১. দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং বিশ্বমন্দার মোকাবিলায় সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ২. দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, ৩.বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ৪. দারিদ্র্য ঘুচাও বৈষম্য রুখো ও ৫. সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি নিয়ে আলাপ করার কিছু নেই। পেঁয়াজের দাম ১’শ টাকা ছাড়িয়েছে। ডিমের হালির দাম হয়েছে ৪০ টাকা। চালের প্রশ্ন তোলা অবান্তর। কারণ গরিব, মধ্যবিত্ত ও ধনী মিলিয়ে চালের দাম কেজি প্রতি ৫৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যসব বিষয়ে লিখে তালিকা ভারী করা যাবে, কিন্তু যারা বাজারে যান তারা জানেন দ্রব্যমূল্যের তাপে জীবন সিদ্ধ হবার উপক্রম। বিশেষত শহরের মধ্যবিত্তের অবস্থা বেশ নাজুক। কারণ বেতন বাড়েনি। সীমিত আয়ের মধ্যবিত্তদের দুর্গতির কথা মাথায় রেখে সরকার চলে না। সরকার চলে নিজের আখের গুছিয়ে। কারণ নির্বাচনে ব্যায় আছে। সেগুলোতে পাবলিকের পকেট থেকেই নিতে হবে।

অন্যদিকে কৃষক যা উৎপাদন করেন তা সে যখন বিক্রি করতে বাজারে যান তখন কিন্তু দাম পান না। এ কারণে কৃষক পাট বিক্রি না করে রাগে দুখে পুড়িয়ে ফেলছেন।

আবার বিপরীতে বিরোধী দল অপেক্ষায় আছে কোনো মতে মসনদে বসা। পাবলিককে তারপর আবোল তাবোল একটা কিছু বুঝিয়ে দিলেই হলো। এই দুই বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও শক্তির কোথাও মধ্যমনিতে জনগণ নাই। জনগণ আছেন শুধু ভোটের বেলায়।

আওয়ামী লীগ যে সুশাসনের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তার সিকিভাগও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। উল্টো বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের নামে রেন্টাল বা ভাড়ায় চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের যে ভয়ঙ্কর নজির স্থাপন করলো তা বাংলাদেশের জন্য কোনভাবেই ভাল হবে না। কারণ এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানির দাম দেয় সরকার, তাদের কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ অর্থ (কেন্দ্র ভাড়া নামে) দেয় সরকার। আবার বিদ্যুতের দামও দেয় সরকার। কী চমৎকার তাই না? এরকম একটি কেন্দ্রের মালিক হলে আপনি আবার বিদ্যুৎ না দিয়েও অর্থ পাবেন প্রতি মাসে। এ কারণে কেন্দ্র নেওয়ার জন্য কত তেলেসমতি ব্যবসায়ীদের। রেন্টাল কেন্দ্র যাতে ২০২০ সাল পর্যন্ত থাকতে পারে সে জন্য সরকার ইতিমধ্যে নীতিগত সায় দিয়েছে। কারণ এ সরকার বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আনেনি। কারণ বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসলে রেন্টালের দরকার হোত না। এই হলো আওয়ামী লীগের বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড।

মন্দের ভালও হয় না
কৃষির সব জায়গায় বিদেশী পুঁজি ও উপকরণ শাসন করছে। বীজ চলে গেছে বহুজাতিক কম্পানির দখলে। সার ও কীটনাশকের বেলায়ও তাই। অর্থ্যাৎ কৃষি উৎপাদনের সব উপকরণ বিদেশীদের দখলে। আর কৃষি পণ্যের বাজার দখল করে আছে এ দেশের ফড়িয়া ও বড় মজুদদাররা। তারা কম দামে কৃষকের কাছ থেকে কৃষি পণ্য কিনে মজুদ করে আবার বেশি দামে তা বিক্রি করে। এখানে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নাই। সরকারও কোন না কোনভাবেই ওইসব এজেন্টদের কাছ থেকে টু পাইস কামায়। এই একই অবস্থা বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে। তাহলে আদর্শ হিসেবে কৃষক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ফারাক কী? কোন ফারাক নেই।

শ্রমিকের প্রশ্নে যদি বলা যায় তাহলে কম বেতনে ‘কাবাব’ হওয়ার জন্যই এ হৃদয়হীন শহরে আসেন গ্রামের সর্বস্ব হারানো তরুণ-তরুণীরা। যাদের ন্যুনতম বেতন ৩ হাজার টাকা।

আচ্ছা বলুনতো, ৩ হাজার টাকা দিয়ে কী হয়?

শ্রমদাস এসব মানুষ মালিকের লোভের বলি হন। পুড়ে মারা যান কারখানায়। কারণ আগুন নেভানোর মত যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থা রাখতে অনেক খরচ। মালিকেরা চান যত কম খরচে বেশি মুনাফা। যদি এ প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে তুলনায় করা যায় তাহলে বিএনপি আওয়ামী লীগ উভয়ই মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। এ বিষয়ে তারা খোলামেলা বলেনও।
একইভাবে ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে দেশের পররাষ্ট্র নীতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেলায় সমান। আপাতত বিএনপিকে ভারত বিরোধী শক্তি মনে হলেও বিএনপির আমলে কি ভারত বাংলাদেশে কম ব্যবসায়ীক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে? কয়েকদিন আগে সিলেটের জনসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন স্পষ্টই ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে থাকুন। বেশি লাভ হবে।’

‘তাহলে মন্দের ভাল আওয়ামী লীগ’ এই যে জনপ্রিয় কথাটি বলা হয়, সেটা কেন? কারণ শহুরে সেক্যুলার বা অসাম্প্রদায়িক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মনে করেন যে, আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট করবে না। অর্থ্যাৎ অর্থনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি খোলা বাজার বা মুক্ত বাজার অর্থনীতি। শুধু রাজনীতির ক্ষেত্রে একজন কম্যুনাল বা সাম্প্রদায়িক, আর একজন নন কম্যুনাল বা অসাম্প্রদায়িক। এটা মধ্যবিত্তের একটা মানসিক দৈন্যতা ছাড়া কিছুই না। তারা উভয়ই সমানভাবে সাম্প্রদায়িক ও জনগণের ওপর নির্যাতন-নিগৃহে সমান পারদর্শী।

লগি বৈঠা দিয়ে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পিটিয়ে মারছে মানুষ!!

হিসেব করে বের করা যাবে, এ দেশ থেকে হিন্দু সংখ্যালঘুরা যে সম্পত্তি হারিয়েছেন তার কত শতাংশ আওয়ামী লীগের হাতে আর কত শতাংশ বিএনপির হাতে। পরিসংখ্যান দেখলে অনেকেই আঁতকে উঠবেন যে সিংহভাগ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দখলে রয়েছে। এ জমি হারানো হিন্দুরাই পরবর্তীতে পাড়ি দিয়েছেন ভারতে।

মন্দতো মন্দই। মন্দের ভাল হয় না। দুই মন্দ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবং তাদের জোট।

অচল দেশে গণতন্ত্র এখন গণভবনে!
জামাত বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল অবরোধে দেশ এখন অচল। বিরোধীদের দাবি, তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন দিয়ে দাও। তবে শেখ হাসিনার এক কথা। আম গাছটি আমার। নির্বাচন র্টির্বাচন আবার কিসের। কোন মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়। যদিও তিনি ৫ জানুয়ারির হাস্যকর নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। তবে যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে এসব কথা মানানসই। যুদ্ধে জয়ের পর ক্ষমতার মসনদে বসার পর কোন হাসিনা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিবেন? অর্থ্যাৎ, খালেদা যদি হাসিনাকে নির্বাচন বন্ধ করতে বাধ্য করতেন তাহলে হাসিনা খালেদার কথা শুনতেন। যেহেতু পারেনি নি সে কারণে খালেদার কথা হাসিনাকে কেন শুনবেন?
খালেদার তরফ থেকে বড় ভুল ১ বছর সময় দেয়া। এই এক বছরে সরকার আরো শক্তিশালী হয়েছেন। সো, হুয়াই বিএনপি ম্যান?!

তবে এই চিপা চাপায় পড়ে আমরা এখন কাহিল। এখন অচল দেশে গণতন্ত্র বাচাতে হলে গণভবনে গণতন্ত্র আনতে হবে। সেটা দীর্ঘ মেয়াদি প্রস্তুতি। সেই কাজটি করার মত কোন রাজনৈতিক শক্তিও দেখছি না।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি যদি আরো সঙ্ঘাতময় হয়ে উঠে তাহলে ২০০৭ সালের যে সিভিল মোড়কে সেনাক্যু সেটা হতে পারে। আর বাস্তবতা হলো মানুষ এখন হয়তো গতবারের চেয়ে বেশি করেই সেনাবাহিনীতে ডাকছে।

এবারের মত আমাদের রেহাই দিন
বাংলাদেশে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পর স্বাধীনতা পেয়েছে এরকম দুই দলের স্বেচ্ছাচারিতার বলি হওয়ার জন্য না।২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভান আমাদের কোন শিক্ষা যে দেয়নি তা বুঝতে হলে খুব বেশি বুদ্ধিমান হওয়ার দরকার নেই। এবার আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে আপনাদেরকে নেতা বানিয়ে। আপনারা একজন জোর করে নির্বাচন করবেন আর একজন তাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য বোম মেরে আমাদের মারবেন। সব ক্ষোভ আমাদের ওপর কেন বলতে পারেন? আমরা এখানে জন্মে গেছি বলে?

আর যদি ক্ষমা না করেন তাহলে জনগণ এমন প্রতিদান আপনাদের দিবে তা জন্মজন্মান্তরের জন্য আমাদের মনে থাকবে। মানুষ জন্ম একবারই পায়। সেই জনম শেষ হয়ে যাচ্ছে বোমায়, গুলিতে আগুনে। আমাদেরকে রেহাই দিন, মাফ করুন-না হলে জনগণ ক্ষমা করবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “হাসিনা-খালেদা আমাদেরকে এবার মাফ করুন

  1. খালেদা-হাসিনার কাছে জনগণ
    খালেদা-হাসিনার কাছে জনগণ কিছুই না। এদের রাজনীতি হচ্ছে ক্ষমতাকেন্দ্রিক। তাই এসব আহবানে তাদের সাড়া পাওয়ার কোন সম্ভবনা নাই।

  2. এ দেশের জনগন কি এই ২ নেত্রী
    এ দেশের জনগন কি এই ২ নেত্রী ছাড়া অন্য কিছু বোঝেনা ? যদিও এক এক করে ছোট খাটো যে দল গুলো রয়েছে তা সবই নিজেদের আলাদা করে যার যার সুবিধা মত দলে ঠাই নিয়েছে। আমাদের দেশটা পরবির্তন হওয়ার চান্স নেই। কারন খালেদা বলেন আর হাসিনাই বলেন, কিংবা অন্য কেউ ক্ষমতায় এলেও নিজ স্বার্থ চরিতার্থ হাসিল করার জন্য সবাই নিজেরটাই আগে ভাববে দেশেরটা নয়।

  3. দুটো ক্ষমতা লোভী রাজ নৈতিক
    দুটো ক্ষমতা লোভী রাজ নৈতিক দলের আদর্শ হীন রাজনীতির বলি হচ্ছে এদেশের সাধারন মানুষ। এই অপ্রিয় সত্য কথা গুলো বললে আজকাল অনেক উগ্র আওয়ামী পন্থীদের কাছ থেকে ‘সুশীল’ বলে ট্যাগ খেতে হয় । যাই হোক এই লেখার লেখক এখনো এই ট্যাগ খাননি দেখে কিছুটা অবাক হইলাম।

  4. ভাই হাসিনা বা খালেদা যেই
    ভাই হাসিনা বা খালেদা যেই ক্ষমতায় যাক কেন আমাদের তো কিছু যায় আসে না, তারপরও আমাদের উপরেই কেন হামলা করা হয়? অবরোধ নাকি আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য করা হইতাছে, কিন্তু আমাদেরই যদি এভাবে আগুনে ঝলসানো হয় , তাইলে অধিকার দিয়ে কি মুড়ি খাব??

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

94 − = 93