মিঃ আলা মওদুদী দ্য বেরাদর অফ শয়তান এন্ড ফাদার অব জামায়াত-ইসলাম

বর্তমানে নাস্তিক ব্লগারদের আইপি সহ অন্যান্য তথ্য দিতে বিভিন্ন ব্লগে চিঠি দিয়েছে বিআরটিসি আর বলা হচ্ছে সরকারী সিদ্ধান্তেই করা হচ্ছে এসব। তো সরকার যদি সত্যিই নাস্তিকদের ধরতে চায় তাহলে ধরুক। এরপর সিদ্ধান্ত নিক কে কতটা নৃশংস আর তাদের বিচার কি হওয়া উচিত।

এছাড়াও অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি জামায়াতে ইসলাম ও ইসলামী ছাত্র শিবির সহ তাদের নানা ভাই-বেরাদর সংগঠন ইসলামের একক সোল এজেন্ট হিসেবে দাবী করে আসছিলো সেই লিস্টে নাম লেখালো আবার রঙ্গবীর সহ বেগানা বিম্পি।

যাউক গিয়া সেসব এখন আসি মূল কথায়, ইসলামের আকীদা আর জামায়াতের আকীদা নিয়া কিছু জিনিস অনলাইনে পাইলাম তা তুইলা ধরলাম আপনাদের তরে।

ইসলামী আকীদা

কুরআন সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের আলোকে অবশ্যই আমাদের প্রিয় নবী ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন। পবিত্র কুরআনে اليوم أكملت لكم دينكم বলে প্রিয় নবীর মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করেছেন আল্লাহ তা’আলা। তাই তিনি যদি ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক না হন, তাহলে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক কে? অতিমানব অর্থ অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি। সুতরাং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতিমানব ছিলেন এবং মানবীয় দুর্বলতা থেকেও সম্পূর্ণ মুক্ত, পুতঃপবিত্র ছিলেন, বিধায় আজ তাঁর প্রদর্শিত দ্বীণ আমরা সঠিকভাবে পেয়েছি। তিনি খোদার ধন ভান্ডারের মালিকও ছিলেন। পবিত্র হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে,

اِنِّى أُوْتِيْتُ مَفاتيح خَزَائِنِ الْأَرْضِ

“প্রিয় নবী স্বয়ং বলেছেন, আমাকে জমিনের খণিসমূহের চাবি দেওয়া হয়েছে বা ধন-ভান্ডারের মালিক বানানো হয়েছে।
(বোখারী শরীফ, ২য় খন্ড, পৃষ্টা: ১০৪২। )

হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে এ ধরনের আরও একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও তাঁকে অদৃশ্যের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে:

عِلْمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِر عَلى غَيْبِه أَحَدًا – اِلَّا من ارْتَضى مِنْ رَسول

“অদৃশ্যের জ্ঞাতা, আল্লাহ আপন অদৃশ্যের উপর কাউকে ক্ষমতাবান করেন না আপন মনোনীত রাসূল ব্যতীত।”
( সূরা আল জিন । আয়াত : ২৬।)

এ আয়াতে প্রিয় নবীসহ আপন রাসূলদেরকে ইলমে গায়েব দেওয়ার বিষয়ে আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে।

আর তিনি স্বয়ং আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে কল্যাণদাতা হিসাবেই প্রেরিত হয়েছেন। পবিত্র কুরআন শরীফে এরশাদ হয়েছে,

وَمَآ أَرْسَلْناكَ اِلَّا رَحْمَةَ لِّلْعالَمِيْنَ

“হে নবী! আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত (কল্যাণ) স্বরূপ প্রেরন করেছি।”
(সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭ । )

অন্ধকারে নিমজ্জিত সমাজকে সত্য ন্যায়ের আলোতে আলোকিত করে, অসভ্য জাতিকে সভ্য করে, জাহান্নামীদেরকে জান্নাতের পথ প্রদর্শন করে তিনি কি কল্যাণ করেন নি? জামায়াতে ইসলামীর একটি সংস্থা ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ যদি কল্যাণ করতে পারে তাহলে প্রিয় নবীর শানে কেন এত বড় বেয়াদবী?

আর মওদূদীর আরেকটি ভ্রান্ত আকীদা হচ্ছে প্রিয়নবী কোন কিছু হালাল ‍কিংবা হারাম করতে পারেন না। অথচ পবিত্র কুরআন ও হাদীসে অসংখ্য দলীল রয়েছে শরীয়তের বিধানাবলীতে পরিবর্তণ, পরিবর্ধণ এবং কোন কিছুকে হালাল কিংবা হারাম করার ক্ষমতাও মহান আল্লাহ পাক তাঁর হাবীবকে দান করেছেন। যেমন-

قالتلوا الْذِيْنَ لَايُؤْمِنُوْنَ بِا للهِ وَلَا بِاليَوْمِ الْآخِرِ وَ لَا يُحَرِّمُونَ مَا حرم اللهُ وَ رَسُوْلُه

যুদ্ধ কর তাদের সাথে যারা ঈমান আনে না আল্লাহ উপর কিয়ামত দিবসের উপর এবং হারাম মানে না ওই বস্তুকে, যাকে হারাম করেছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল।”
(সূরা আ্ত তাওবা, আয়াত: ২৯। )

এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় আল্লাহ পাকের পরে তাঁর প্রিয় হাবীবও কোন কিছুকে হালাল কিংবা হারাম করতে পারেন এটাকে খোদাপ্রদত্ত ক্ষমতা বলা হয়। হাদীসে পাকে অসংখ্য প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে যে, প্রিয় নবী অনেক কিছুকে হালাল অথবা হারাম ঘোষণা করেছেন যেমন পবিত্র মক্কা শরীফের ন্যায় মদীনা শরীফকেও প্রিয় নবী নিজে হারাম বা পবিত্র ঘোষণা করেছেন। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করনে-

اِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَرَّمَ هَذَا الحرام

“নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হারাম শরীফ (মদীনাকে) হারামরূপে গণ্য করেছেন।”

অন্য হাদীস শরীফে রয়েছে-

اِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَرَّمَ مَا بَيْنَ لَابتى الْمَدِيْنَةِ

“প্রখ্যাত সাহাবী হযরত রাফে বিন খদীজ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয় প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র মদীনা মুনাওয়ারাকে পবিত্র হারামরূপে গণ্য করেছেন”।
(সহীহ মুসলিম শরীফ ও তাহাভী শরীফ। )

অতএব প্রমাণিত হলো, কোন কিছুকে হালাল, হারাম করার ক্ষমতা প্রিয় নবীর রয়েছে, এটা তাঁর খোদাপ্রদত্ত অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দলীলসমূহ: কুরআন শরীফ, বোখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তাহাভী শরীফ।

মওদূদীর আকীদা

১. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক নন।

২. রাসূল না অতিমানব, না মানবীয় দুর্বলতা থেকে মুক্ত। তিনি যেমন খোদার ধন-ভান্ডারের মালিক নন, তেমনি খোদার অদৃশ্যের জ্ঞানেরও অধিকারী নন বলে সর্বজ্ঞ নন।

৩. তিনি পরের কল্যাণ বা অকল্যাণ সাধন তো দূরে নিজেরও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে অক্ষম।

৪. তিনি কোন কিছু হালাল বা হারাম করতে পারেন না।

লন্ডনের ভাষণ, পৃষ্টা: ৩-১৯, কৃত: আবুল আলা মওদূদী, অনুবাদ: আখতার ফারূক, জুলকরনাঈন প্রেস, ৩৮, বানিয়া নগর, ঢাকা।

এবার বাকীটা আপনেগো ব্যাপার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “মিঃ আলা মওদুদী দ্য বেরাদর অফ শয়তান এন্ড ফাদার অব জামায়াত-ইসলাম

  1. মজার ব্যাপার হচ্ছে মিঃ আলা
    মজার ব্যাপার হচ্ছে মিঃ আলা মউদুদির লেখা বইগুলো জামাত যখন প্রথম বাংলায় অনুবাদ করে তখন দেশের আলেম-ওলামাদের তোপের মুখে পড়ে। পরবর্তিতে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করার সময় বিতর্কিত অংশগুলা হাপিশ করে দেয় জামাত। কিন্তু হাপিশ করলে কি হইব? আলা মউদুদির লেখা মূল উর্দু বই তো আর হাপিশ করতে পারে নাই। আমাকে আমাদের মেডিকেলের হলের মসজিদের ইমাম সাহেব তার কাছে থাকা আলা মউদুদির মূল উর্দু কিতাব দেখায়ে তার ভণ্ডামি দেখায়ে দিছিল।

    1. তারপরেও এদেশে তারা ইসলামের
      তারপরেও এদেশে তারা ইসলামের একমাত্র সোল এজেন্ট। ইস্টিশন ব্লগ দিয়া তাদের খোমা খুইলা দিতে হইবে।

  2. মাওলানা মওদুদী মুল ইসলাম
    মাওলানা মওদুদী মুল ইসলাম ধর্মকে আমুল পরিবর্তন করে রাজনৈতিক প্রয়োজনে নিজেদের মত করে তৈরী করেছে। জামায়াতের ধর্ম চর্চা মুল ইসলামের সাথে আসলেই কোন সম্পর্ক নাই। এই কথাটা সাধারণ ধর্মপ্রান মুসলমানরা আর কবে বুঝবে?

    ধন্যবাদ সুমিতকে, মওদুদী আরো কিছু ভন্ডামী তুলে ধরার জন্য।

      1. তাদের মতের বিরুদ্ধে যারা যায়
        তাদের মতের বিরুদ্ধে যারা যায় তারাই নাস্তিক। সেই হিসাবে তুমিও নাস্তিক। মওদূদীর খেলাফত যদি এই বঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হয়. তোমাকে-আমাকে সবাইকে নির্ঘাত শুলে চড়ে মরতে হবে। এখন আমাদেরকেই ভেবে বের করতে হবে, আমরা দেশটাকে তালেবানী রাষ্ট্র বানাব, নাকি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি চমৎকার বাংলাদেশের নাগরিক হব আমরা। সকল ধর্মের সহ-অবস্থান এই ব-দ্বীপের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।

  3. তবে যাই বলুন না কেন মওদুদীর
    তবে যাই বলুন না কেন মওদুদীর ব্যাখ্যাগুলোই যদি অন্য কেউ ধর্মীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের জায়গা থেকে না করত তাহলে তা হয়ে যেত নাস্তিকতা।ধর্মের জুব্বা পড়ানোর কারণেই মওদুদী হয়ে গেলেন ইসলামী চিন্তাবিদ।হায় রে ধর্ম!!!

পৃথু স্যন্যাল শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 5