বার্ন ইউনিটের ফটোসেশন, মিডিয়ার দৈন্যতা ও একজন কেভিন কার্টার

উপমহাদেশের প্রভাবশালী মিডিয়া ডেইলিস্টারের উপরের ছবিটি আমার চিন্তার উদ্রেক করেছে।


ডেইলি স্টারের ছবি

তারা ছবির শিরোনাম দিয়েছে ‘Shocking Shooting’ নামে। সেখানে নাম উল্লেখ নাই এমন একটি র্সোস থেকে ছবি নিয়ে একটি ফটো স্টোরি করেছে। ঢাকা ট্রিবিউন এবং সর্বশেষ আজকে প্রথম আলো একটি স্টোরি করেছে। তবে এসব রিপোর্টে কোথাও পেশাদারিত্বের ছাপ নেই; অন্তত একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে এটা আমার মনে হয়েছে।

ঘটনা এতোদূর গড়িয়েছে যে, বিবিসি বাংলা এই বির্তক নিয়ে একটি স্টোরি করেছে গতকাল রবিবার। তবে তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব ছিল। তারা অভিযুক্ত আলোকচিত্রি সাইফুল হক অমির সাক্ষাতকার নিয়েছে। তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে। তবে র্বান ইউনিটে ছবি তোলা না তোলা নিয়ে আমার কথা আছে, সে বক্তব্য এই লেখার শেষে করছি।

পত্রিকাগুলো কী বলছে:
পত্রিকাগুলো বলছে, একজন আলোকচিত্রী (প্রতিবেদনে আলোকচিত্রির নাম নেই। অথচ এই আলোকচিত্রী দুনিয়ার প্রভাবশালী কয়েকজন আলোকচিত্রীর একজন। সে কথা পরে আসছি)র্বান ইউনিটি গিয়ে অগ্নিদ্বগ্ধ একজন মানুষকে দাড় করিয়ে ছবি তুলছেন। এই ছবি তোলা অমানবিক। এই ছবি তুলে ওই আলোকচিত্রী কোটি কোটি টাকা আয় করবেন।’ যেহেতু আলোকচিত্রীর নাম না প্রকাশ করে পেশাদারিত্বের পরিচয় প্রথম থেকেই দেয়নি মিডিয়াগুলো সে কারণে মিডিয়াগুলো অভিযুক্ত সাইফুল হক অমির মতামত নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেনি।

বাস্তবে কী ঘটেছে?
সাইফলু হক অমি দাঁড়িয়ে থাকা যে লোকটার ছবি তোলা হয়েছে তাকে দাড়ানোর অনুরোধ করেনি। লোকটি প্রথমে প্রথমে বসা ছিলেন। এ সময় তিনি গায়ে প্রচণ্ড জ্বালা অনুভব করায় বিছানা থেকে উঠে দাড়ান। এরপর জুতা খোজার চেষ্টা করেন। সাইফুল হক অমি অগ্নিদ্বগ্ধ ব্যাক্তির জুতা খুজে দেন। এ জন্য ওই ব্যাক্তি খাকিটা লজ্জাও পান।এ সময় তিনি অনুরোধ করেন দাড়ানো অবস্থায় তাঁর কিছু ছবি তুলতে চান। অগ্নিদ্বগ্ধ ব্যাক্তি তাতে রাজি হন। সেখানে আরো ২০/২২ জন আলোকচিত্রী ছিলেন। তাদের সাথে তার পার্থক্য ছিল তিনি একট টুকরা কালো কাপড় নিয়ে গিয়েছিলেন। অমি যেহেতু একজন পেশাদার আলোকচিত্রী সে কারণে তিনি ছবি অন্যদের মত সাটার ক্লিক করেন না। অমির বাড়তি ‘অপরাধ’ তিনি আগুনে দ্বগ্ধ ব্যাক্তির পেছনে একটি কালো কাপড় দিয়েছেন। এটা দিয়েছেন ছবিটি অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো আসবে। আলো নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। তাহলে অমি’র অপরাধটা কোথায়? এ বিষয়ে সাইফুল হক অমি বিবিসিকে বিস্তারিত বলেছেন। বিবিসির রির্পোটটি পড়তে নিচের লিংকে যেতে পারেন http://www.bbc.co.uk/bengali/news/2015/02/150208_pg_burn_victims_media_debate

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, অমি বিবিসির কাছে সত্য বলবেন, এমন কোন কথা নেই। রাইট পয়েন্ট। আপনারা যে কউ আগুনে দ্বগ্ধ ব্যাক্তির কাছে গিয়ে তাহলে আসল সত্যটা জেনে আসতে পারেন। তিনি এখনো র্বান ইউনিট ছাড়েন নি। তাহলে কুর্তকের দাকানদারী বন্ধ হবে।

অন্যরা কি করছে?
দেশের সবগুলো দৈনিক ও টিভি চ্যানেলগুলো কী করছে? প্রতিদিন যে র্বান ইউনিটের পোড়ামুখগুলোর ছবি পত্রিকাগুলো প্রকাশ করেন সেই ছবিগুলো কোন ফেরেশতা এসে নিশ্চয় পত্রিকা অফিসে দিয়ে যায় না। তাদের আলোকচিত্রীরাই এ ছবি তোলেন। আর পত্রিকাগুলো এ ছবি প্রকাশ করেন। তখন কী ‘শকিং শ্যুটিং’(!) মনে হয় না? তখন কী মনে হয় না এই আগুনে পোড়ামুখগুলো দেখিয়ে পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।

টিভি ক্যামেরাম্যান ও রির্পোটার যখন লাইভ পিটিসি দেন র্বান ইউনিট থেকে তখন কী মনে হয় না যে এটা ‘শকিং শ্যুটিং’। তখন কী তাদের মনে পড়ে না টিআরপি দৌড়ে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর মানুষগুলোকে রেহাই দেই? যেহেতু পত্রিকা বা টিভির এসব মনে হয় না, তাহলে বিশ্লের সেরা একজন আলোকচিত্রীর ক্ষেত্রে তাদের এরকম একচোখা নীতি কেন? সেটা কী তাহলে প্রফেশনাল জেলাসি থেকে?

কী হয় র্বান ইউনিটে?
র্বান ইউনিট আসলে ফেসবুকের স্টেটাসের মত। যে যেভাবে পারেন সে সেভাবে ব্যবহার করেন। র্বান ইউনিটে প্রবেশের আগে যথাযথ কর্তপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। এরপর অ্যাপ্রোন পরতে হয়। অর্থ্যাৎ বার্ন ইউনিটে প্রবেশের আগে মেডিকেল সায়েন্সের বেশ কিছু নিয়ম আপনাকে মানতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ২৪টি টিভি, গোটা বিশেক পত্রিকা ও হাজার খানেক অনলাইন এর বড় পাতি ক্ষুদে রির্পোটার ও আলোকচিত্রী এসবের কোন নিয়ম মানেন না। তারা শুধু র্বান ইউনিটের ক্ষেত্রেই এসব নিয়ম ভাঙেন তা নয়, তারা সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে যত্রতত্র ইচ্ছেমত ঘোরাফেরা করেন। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য সরকারি মেডিকেল হাসপাতালগুলোকে ব্যর্থ দেখানো। এ কারণে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজের দেয়া ডালে ডাল পান না, পান শুধু পানি। অথচ তারা একবারও প্রশ্ন করেন না, সরকারি মেডিকেল কলেজে খাদ্য বাবদ বরাদ্দ কত? একেকটি সরকারি হাসপাতালে আসন কত? আর রোগী কত সেবা পায়? এসব হিসেবে নিকেশ করলে তাদের লজ্জা লাগারই কথা। এসব প্রতিবেদন করার ফলে একের পর এক বেসরকারি হাসাপাতাল ক্লিনিক গড়ে উঠে। রোগীর পকেট কাটে। ইচ্ছেমত রোগীকে আইসউতে রেখে রোগীর আত্বিয়দের ফকির বানানো যায়। এসব নিয়ে মহান সাংবাদিকদের প্রতিবেদন চোখে পড়ে না। এসব ভিন্ন আলোচনা। কিন্তু একটি হাসপপাতালে সাংবাদিকতার জন্য তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করার সময় কী কী বিষয় আমাদের মনে রাখা জরুরী তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা ভুলে যাই।

র্বান ইউনিটের পোড়া মানুষের ছবি সব পত্রিকাগুলোই প্রকাশ করছে। সাইফুল হক অমি যখন ছবি তুলছিলেন, তখন সেখানে অন্তত ২০ জন আলোকচিত্রী ছিলেন। তাদের কারোর গায়ে অ্যাপ্রোন ছিলো না। তারা কেউ ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেননি। যখন তারাা ছবি তোলেন, যদি তাদের সেই ছবি অন্য একটি মিডিয়াতে এরকম ক্যাপশন দিয়ে ছাপিয়ে দেয় তাহলে পরিস্থিতি কী দাড়াবে?

যিনি অমির ছবি তুলেছেন, তিনি সেখানে কার অনুমতি নিয়ে গিয়েছিলেন? নাকি কোন পত্রিকা বা টিভির আলোকচিত্রী সাংবাদিক হলে আপনি অনুমতি না নিয়ে, অ্যাপ্রোন না পরে র্বান ইউনিটে ঢুকতে পারবেন আর তা না হলে আপনার ছবি তোলার অধিকার এভাবে নস্ট করা হবে? দারুন যুক্তি মিডিয়া বাহাদুরেরা।

আমি মনে করি র্বান ইউনিটে ছবি তুলতে দেওয়াই উচিত না। সেটা পত্রিকা, টিভি কিম্বা সাইফুল হক অমিই হন। কারণ আগুনে পুড়লে নানান ধরনের সংক্রামক ব্যাধিতে ওই মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। সে কারণে সেটা অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেই তার চিকিৎস্যা হওয়া উচিত।

অমি বনাম আলোকচিত্রী সাংবাদিকতা
সাইফলু হক অমি একজন বিশ্বের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, ওয়ার্ল্ড প্রেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারও জিতেছেন। বাংলাদেশের মিডিয়া কর্মীর কাছে নিউইয়ার্ক টাইমস হলো মক্কার অধিক। পৃথিবীর এই মহাপ্রতাপশালী মিডিয়া সার পৃথিবীর আলোকচিত্রীদের কাছ থেকে ছবি চেয়েছেন, ছবি রিভিউ করে দেওয়ার জন্য। এ জন্য সারা পৃথিবীর ৭০ জন বিখ্যাত আলোকচিত্রীকে এই জুরিস্ট প্যানেলে রেখেছেন। আমাদের সাইফুল হক অমি তাদের একজন।
পড়তে দেখুন নিচের লিংকে http://lens.blogs.nytimes.com/2015/02/03/apply-to-the-new-york-portfolio-review-part-iii/?_r=0
সাইফুল হক সম্পর্কে নিউইয়ার্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনটিও পড়তেন পারেন http://lens.blogs.nytimes.com/2013/01/04/from-bangladesh-a-photo-festival-builds-bridges/
তার সম্পর্কে জাতীসংঘের স্মরনার্থি বিষয়ক কমিশন থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রভাবশালী মিডিয়া রির্পোট করেছে পেড়তে ক্লিক করুন
জাতীসংঘ http://www.unhcr.org/4c18bfed6.html
ওয়াল্ড প্রেস ফটো http://www.worldpressphoto.org/saiful-huq-omi
ম্যাগনাম ফাউন্ডেশনের http://emergencyfund.magnumfoundation.org/projects/the-disowned-and-the-denied/
রির্পোটার এজের http://reportage.co.uk/contributor-profiles/saiful-huq-omi/

পেশাদারিত্ব বনাম মানবিকতা ও একজন কেভিন র্কাটার
কেভিন র্কাটার সুদানের গৃহযুদ্ধের কালে ১৯৯৩ সালে তিনি নিচের ছবিটি তুলেছিলেন। ছবিটি তিনি নিউইয়ার্ক টাইমসের বিক্রি করেন। পরে ছবিটি বহগু পত্রিকা ছাপে। যেখানে একজন মূমুর্ষ ক্ষুদার্থ শিশুর পেছনে একটি শকুন। শিশুটি হামাগুড়ি দিয়ে জাতীসংঘের একটি ফুড শেল্টারের দিকে যাচ্ছে। শিশুটির লড়াই ফুড শেল্টারে গেলে সে বেঁচে যাবে। আর শকুনের অপেক্ষা শিশুটি মরলে সে তাকে খাবার বানিয়ে খাবে। তো, এই অবস্থায় ছবিটি তোলেন কেভিন র্কাটার। ছবিটি তুলে তিনি নিউইয়ার্ক টাইমসে জমা দেন। ১৯৯৩ সালের ২৬ র্মাচ নিউইয়ার্ক টাইমস ছবিটি প্রকাশ করে। এরপর শতাধিক পত্রিকা ছবিটি প্রকাশ করে। ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে এ ছবিটির জন্য তিনি পুলিৎজার পুরস্কার পান।

পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়ার পর ১৯৯৪ সালের ২৭ এপ্রিলে তিনি আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার কারণ, যে শিশুর ছবিটি তিনি তুলেছিলেন, তাকে তিনি বাঁচাতে পারতেন। তা না করে ছবি তোলার ওপরই তিনি মনোযোগ দেন।

মৃত্যুর আগে তিনি সুইসাইড নোটে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘”I’m really, really sorry. The pain of life overrides the joy to the point that joy does not exist… depressed … without phone … money for rent … money for child support … money for debts … money!!! … I am haunted by the vivid memories of killings and corpses and anger and pain … of starving or wounded children, of trigger-happy madmen, often police, of killer executioners … I have gone to join Ken if I am that lucky.’

টাইম ম্যাগাজিন থেকে পড়তেন পারেন কেভিনের সেই ছবি নিয়ে… http://content.time.com/time/magazine/article/0,9171,981431,00.html
এরপর বহু বির্তক হয়েছে পেশাদারিত্ব আগে নাকি মানবিকতা আগে? দুই পক্ষেরেই যুক্তি রয়েছে। যারা পেশাদারিত্ব আগে বলেন তারা কেভিনের মত ছবি তোলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে অমির মত ছবি তোলেন। বিশ্ব দরবারে যুদ্ধ, দারিদ্র, রাষ্ট্রের নিপিড়নের নির্মমতা তুলে ধরেন। এসব ছবি ছাপা হ্ওয়ার পর মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন, বৈষম্যর বিরুদ্ধে, দারিদ্রের বিরুদ্ধে, বহুজাতিকের বিরুদ্ধে কথা বলেন। আর পক্ষ আমার মত। যারা মনে করেন, ছবির চেয়ে দরকারি হলো মানুষ। তাদের আর আলোকচিত্রী হয়ে উঠা হয় না। দারা ঘরে ক্যামেরা ফেলে রেখে শুধু মানুষ দেখে।


কার্টারের সেই বিখ্যাত ছবি

র্বান ইউনিটের পোড়া মানুষের ছবি তোলার বিরুদ্ধে যেমন আমি, তেমনি আবার এই বিভৎসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হলে, মানুষের পক্ষে দাড়াতে হলে, আর কোন মানুষ যাতে আগুনে পুড়ে কয়লা না হয়, র্বান ইউনিটে ছটফট না করেন, সে জন্যও ছবিগুলো মানুষের জানা দরকার।

তবে দেশের মিডিয়ার এহেন সঙিন অবস্থায় মিডিয়া কর্মী হিসেবে আমি বিপন্নবোধ করি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “বার্ন ইউনিটের ফটোসেশন, মিডিয়ার দৈন্যতা ও একজন কেভিন কার্টার

  1. রানা প্লাজার সময় আটকে পড়া
    রানা প্লাজার সময় আটকে পড়া আহতদের সাক্ষাৎকার প্রচার করেছিল সব টিভি। এখনো সব টিভিই পোড়া মানুষদের কথা বলতে বাধ্য করছে। এগুলো বন্ধ করা উচিত।

  2. র্বান ইউনিটের পোড়া মানুষের

    র্বান ইউনিটের পোড়া মানুষের ছবি তোলার বিরুদ্ধে যেমন আমি, তেমনি আবার এই বিভৎসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হলে, মানুষের পক্ষে দাড়াতে হলে, আর কোন মানুষ যাতে আগুনে পুড়ে কয়লা না হয়, র্বান ইউনিটে ছটফট না করেন, সে জন্যও ছবিগুলো মানুষের জানা দরকার।

    পুরোপুরি সহমত।

    1. সাইফুল হক অমির বিরুদ্ধে
      সাইফুল হক অমির বিরুদ্ধে মিডিয়ায় যা এসেছে তার পেছনে একজন প্রভাবশালী আলোকচিত্রীর হাত রয়েছে বলে আমার মনে হয়। কারণ এটা প্রফেশনাল জেলাসি। ওই আলোকচিত্রী তার ফেসবুক দিয়ে ডেইলিস্টারের ছবিটি যেভাবে শেয়ারও কমেন্ট করছেন তাতে মনে হচ্ছে একজন আলোকচিত্রীর পক্ষে না দাড়িয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

  3. সাংবাদিক মানে বুঝতাম জনতার
    সাংবাদিক মানে বুঝতাম জনতার পক্ষে কথা বলে। কিন্তু পরিক্রমা হয়েছে এখনকার সাংবাদিকরা নিজেদের পকেটের পক্ষে কথা বলে।

  4. অমি যত বড় হ্যাডমই হোক না কেন,
    অমি যত বড় হ্যাডমই হোক না কেন, কোন কিছুই তার এই কর্মকে জাস্টিফাই করে না। কারন, এত জ্ঞানী হয়েও সে নিজে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেনি। সে সেখানে নিশ্চয়ই ঘুরে বেড়াতে যায়নি, গিয়েছে ছবি তুলতেই। আর তার বক্তব্যে সে বলেছে, সে কাউকেই ছবি তোলার জন্য পোজ দিতে বলেনি। যদি পোজ দিতে না-ই বলে, রোগী দুই হাত ওপরে তুলেছিলো কেন? বগল চুলকাতে? ওই লোক স্যান্ডেল খুঁজতে উঠেছিলো, ওঠার পর তার পেছনে কালো কাপড় নিয়ে লোকটা কি চোখের পলকেই গিয়ে হাজির হয়ে গেছে? ছবি তোলার জন্য কি রোগীকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়নি?
    বাঙালিরে আবজাব বুঝিয়ে লাভ নাই। প্রথমত বার্ণ ইউনিটে যত্রতত্র ঘোরাঘুরির ওপর নিষেধ করা হয়েছে, তবুও একটা মানুষ সেখানে গিয়ে আয়োজন করে ফটোগ্রাফি করতে গেছে, বিষয়টা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের অনুভূতিকে আক্রান্ত করে। কে কেন অমির ছবি তুলে তাকে ঝুলিয়ে দিয়েছে, সেসব প্রশ্ন অবান্তর। ঘটনা ঘটেছে, এটাই হলো ফ্যাক্ট। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হওয়ার মানে আমি একটা কিছু হয়ে গেলাম- বিষয়টা যদি এমন হয়, তবে কিছুই বলার নাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 1 =