প্রসঙ্গঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ; পরম পরিশুদ্ধ সাংস্কৃতিকতা তে’ও সামান্য সাম্প্রদায়িকতা সমর্থন যোগ্য নয় ।

আমার ব্যাক্তিগত মূল্যবোধের মধ্যে কখনোই জাতীয়তাবাদ অন্তর্ভুক্ত ছিলনা, এমনকি অদূর কিংবা সুদূর ভবিষ্যতেও সে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা যথেষ্ট ক্ষীণ। তবু’ও প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় কিছু মতামত শেয়ার না করে পারছিনা,

শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কখনওই বাংলাদেশী’দের কবি ছিলেন না, উনি ছিলেন বাঙ্গালী’দের কবি।
কাকতালীয়তাবশত বাঙ্গালী (ভারতীয় পশ্চিম বঙ্গ প্রদেশ বাসী) এবং বাংলাদেশী জনসমাজ প্রায় এক বা অভিন্ন ভাষাগত হওয়ার সুবাদে আমরা (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর জনসমাজ এর একটা বহুলাংশ) পশ্চিমবঙ্গ জাত বহু সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মুল্যবোধকে নিজস্ব জ্ঞান করি।

প্রসঙ্গতঃ আরও বলে রাখি, সুইৎজারল্যান্ড প্রদেয় নোবেল নামক স্বীকৃতি একজন মানুষের মৌলিক পরিচয়কে পরিবর্তিত করতে পারেনাই কখনও। যেমন নোবেল শান্তি-পুরস্কার প্রাপ্তি ড. ইউনুস কে অর্থলোলুপ, ভণ্ড এবং প্রতারক পরিচয় বদলে কোনও সাহায্য করেনাই। ডাচ সরকারের দৃষ্টিকোনে উনি একজন স্বনামধন্য চোর এর অধিক কিছু নয়।

এবার মুল কথায় আসি,
ব্রিটিশ শাসনামলে আমাদের এই উপ-মহাদেশীয় অঞ্চলের সকল প্রাদেশিক নীতি-নির্ধারণ এবং তৎ-প্রসূত সিদ্ধান্ত গৃহীত হত কলিকাতাস্থঃ কংগ্রেস থেকে। উপমহাদেশীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, উক্ত শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তৎকালীন কংগ্রেসে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন যাতে
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়” নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মিত না হয়; যার অনুচ্চারিত মনস্তাত্তিক কারন ছিল –
“অবহেলিত এই জনপদ শিক্ষার আলোকপ্রাপ্ত হলে তৎকালীন তথাকথিত পশ্চিমবঙ্গীয় সাংস্কৃতিক উৎকর্ষতা তুলনামুলকতা পাবে”।

আর এই উদ্ভুত ধারনা থেকেই উক্ত শ্রীযুক্ত কংগ্রেসে/রাজ্যসভায় প্রানপন “লবিং” করেছিলেন আজকের বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়” স্থাপনের বিরোধিতায়।

সংস্কৃতিমনস্কতার মুল ভিত্তি হল মানবিক সাম্যতার প্রতিষ্ঠা, যার অভাব আমি প্রকটভাবে তার মাঝে দেখেছি। বরং তার অধিকাংশ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আমার কাছে চিরকাল “বাবুয়ানা” জনিত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার অধিক কিছু মনে হয় নাই।

আমার এহেন ব্যাক্তিগত ধারনাপ্রসূত মতামত হয়ত অনেককেই মর্মাহত করবে জানি, তবুও বৈষম্যের বীর্যজাত ব্যাক্তিবর্গের বীরত্বগাঁথা চর্চা’র চেয়ে এ অনেক শ্রেয়ঃ বোধ করি।

পুনশ্চঃ
জীবন-জীবিকা’র অবসরে যদি খানিক সময় যোগাড় করতে পারি তবে আলবেয়ার কামু কিংবা আহমেদ ছফা পরব,
তবু মননকে এক-পাক্ষিক করবনা তথাকথিত সু- সাহিত্য চর্চায়…।

সর্বস্বত্ত সংরক্ষনঃ সেরিব্রাল ক্যাকটাস

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “প্রসঙ্গঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ; পরম পরিশুদ্ধ সাংস্কৃতিকতা তে’ও সামান্য সাম্প্রদায়িকতা সমর্থন যোগ্য নয় ।

  1. ব্রিটিশ শাসনামলে আমাদের এই

    ব্রিটিশ শাসনামলে আমাদের এই উপ-মহাদেশীয় অঞ্চলের সকল প্রাদেশিক নীতি-নির্ধারণ এবং তৎ-প্রসূত সিদ্ধান্ত গৃহীত হত কলিকাতাস্থঃ কংগ্রেস থেকে। উপমহাদেশীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, উক্ত শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তৎকালীন কংগ্রেসে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন যাতে
    “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়” নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মিত না হয়

    এই ব্যাপারটা অনেকের কাছেই শুনেছি, কিন্তু কোন দালিলিক প্রমাণ পাইনি বা চোখে পড়েনি। এই ব্যাপারে একটু হেল্প করবেন কি?

  2. পোস্টের বক্তব্যের সমর্থনে বা
    পোস্টের বক্তব্যের সমর্থনে বা বিপক্ষে এখনই কোন মন্তব্য করতে পারছি না,তবে বিষয়বস্তু অনেক আলোচনার দাবি রাখে।পোস্টদাতাকে অনেক ধন্যবাদ।

  3. এই ব্যপারে কোন রেফারেঞ্চ দিতে
    এই ব্যপারে কোন রেফারেঞ্চ দিতে পারলে খুব ভাল লাগত। আমারো জানতে মঞ্চায় ঘটনা কি? যারা বংগভংগ রদের জন্য আন্দোলন করছে তারা ঢাবি চায়নাই , কেমন জানি খটকা লাগে। আর তাকেই জাতীয় কবির মর্যাদা, মাথা দেহি ঘুরায়। :কনফিউজড: :প্রশ্ন:

  4. খটকা লাগলো। ব্রিটিশ শাসনামলে
    খটকা লাগলো। ব্রিটিশ শাসনামলে আমাদের এই উপ-মহাদেশীয় অঞ্চলের সকল প্রাদেশিক নীতি-নির্ধারণ এবং তৎ-প্রসূত সিদ্ধান্ত গৃহীত হত কলিকাতাস্থঃ কংগ্রেস থেকে। মানে কি?

  5. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চরম বাধা দানকারীদের একজন ছিলেন। ঢাকাতে যাতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টা হতে না পারে সেজন্য তিনি আমরন অনশন ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন ভিসি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদদে এই বিরোধীতায় তারা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। পশ্চিম বঙ্গের কোন হিন্দু শিক্ষিত নেতা বাকি ছিলেন না, যারা ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেননি। এই সমস্থ বুদ্ধিজীবি কল্পনাতেও সহ্য করতে পারতেন না, যে পূর্ব বঙ্গের মানুষ, যারা সংখ্যা গরিষ্টতায় মুসলিম, তারাও শিক্ষিত হবে! পূর্ব বঙ্গের মুসলিম যাতে কোন ভাবেই শিক্ষিত হতে না পারে, তা বন্ধে যত উপায়-অবলম্বন ছিল তার সবটাই তারা প্রয়োগ করেছিল। সেটা যত দৃষ্টিকটুই হোক, বাধা দিতে সামান্যতম কার্পন্য তারা করেনি। উদাহরন হিসেবে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ১৯২৪ সালে পাটনা হাইকোর্টের কাছে হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন; কেননা তিনি ব্যারীষ্টার সাইয়্যেদ হাসান ইমাম নামের এক অচ্ছুত মুসলীমের কাছে কংগ্রেস পার্টি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। মুসলিম শিক্ষিত হবে দূরের কথা তাদের অস্থিত্ব স্বীকার করাও তাদের কাছে কঠিন ছিল।

    অসম্ভব মুসলিম ও পূর্ব বঙ্গ বিদ্ধেষী এসব বুদ্ধিজীবির আচরণের কারনে, দেশটি ধর্মীয় ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। মুসলমানেরা ধর্মীয় ভিত্তিতে ভাগ হয়ে যেতে কখনও আন্দোলন করেনি। হিন্দু বুদ্ধিজীবি এসব কট্টর, গোঁড়া আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত. ইসলাম বিদ্ধেষী ব্যক্তিবর্গ দ্বিজাতি তত্বের মাধ্যমে দেশ ভাগ হতে, সমুদয় মাল মসল্লা ও উপকরণ যুগিয়েছিল। আমাদের আফসোস! বর্তমানে আমাদের মধ্য থেকেই, মীর জাফর, ঘষেটি বেগমদের জন্ম হচ্ছে, তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য। ধিক্ তাদের অজ্ঞতার প্রতি।

    আরও জানতে ক্লিক করুন

  6. আচ্ছা রবীন্দ্রনাথ কি কখনো
    আচ্ছা রবীন্দ্রনাথ কি কখনো বলেছেন উনি বাংলাদেশীদের কবি? উনি নিজেই বলেছেন তিনি বাঙালীদের কবি। সম্ভবতঃ নজরুল বলেছিলেন উনি বাংলাদেশীদের কবি। নজরুলের একটা হামদ বা নাতকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত করা হোক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =