চট্টগ্রামের শীর্ষ চোরদের চুরির নমুনা

?oh=0ba453884b8936834fcc01b623b9a60c&oe=55506838&__gda__=1431817554_2806a29ac89f1e0a6c69891123536575″ width=”400″ />

ঢাকাইয়া শীর্ষ চোরা ব্যবসায়ীদের হিসাব একটু পরে দেই। বেক্সিমকো ও দরবেশ বাবার প্রতিষ্ঠানের নানা অপকর্ম নিয়ে পরে একটা বিশেষ কাজ করার ইচ্ছা আছে। ওরিয়নের অপকর্ম নিয়েও দ্রুতই একটি বিশেষ খবর দিব। এখন চট্টগ্রামের চোরদের কতকের চুরির নমুনা তুলে ধরছি। যারা সম্প্রতি আরও চুরির সরকারি অনুমতি পেতে চলেছেন। এরা সবাই যে অপরাধে দোষি, রাষ্ট্র তাদের সেই অপরাধ করার সুযোগ করে দিয়েছে।

এইচআর গ্রুপ
বড় ঋণখেলাপি গ্রুপ হিসেবে এইচআর গ্রুপ এবার ঋণ পুনর্গঠন সুবিধা পেতে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। চট্টগ্রামভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি ১৮ ব্যাংকের ২০টি শাখার কাছ থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। যার পুরোটাই তারা মেরে দিয়েছে। সরকারি ভাষায় একে বলা হচ্ছে খেলাপি। এইচ আর গ্রুপের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হচ্ছেন হারুন অর রশিদ। যিনি বছর দুয়েক আগে খেলাপি ঋণের দায়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালক পদ হারিয়েছেন। ন্যাশনাল আয়রন, এইচ স্টিল রি-রোলিং মিলস, রুবাইয়া ভেজিটেবল, রুবাইয়া প্লাস্টিক, এগুলো হলো এইচআর গ্রুপের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। আর বেনামি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে তালুকদার ট্রেডিং ও রহমান স্টিল।

মোস্তফা গ্রুপ

৬২ বছরের পুরোনো বনেদি প্রতিষ্ঠান মোস্তফা গ্রুপ। মোস্তফা গ্রুপও আরামে আছেছ। চট্টগ্রামভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যাশনাল, ইসলামী, পূবালী ও কৃষি ব্যাংকের পাওনাই ৫৫০ কোটি টাকা। আরও ৬ ব্যাংকের এ প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩৬৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে এ প্রতিষ্ঠানের ঋণ আছে ১২০০ কোটি টাকার ওপরে। কয়েকটি ব্যাংকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ নিয়ে জমি কিনেছে। এ গ্রুপের মালিকানাধীন একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড গত বছর ঋণের দায়ে নিলামে উঠেছিল।
পরিবহন, ভোজ্যতেল পরিশোধন, ইস্পাত, কৃষি, শিপ ব্রেকিং, পেপার মিল, গার্মেন্টস, সিনথেটিক লেদার, হ্যাচারি, ট্রান্সপোর্টেশন, ফিশারিজ, শিপিং, আবাসন খাতসহ শিল্প খাতের প্রায় সব এলাকায়ই মোস্তফা গ্রুপের পদচারণা। সৌদিয়া পরিবহনটিও এ গ্রুপের। এর বর্তমান চেয়ারম্যান হেফাজতুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন।

নুরজাহান গ্রুপ

চট্টগ্রামের এক সময়ের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগ্রুপ নুরজাহান গ্রুপের কাছে চট্টগ্রামের স্থানীয় শাখা ও ঢাকার শাখাগুলো মিলিয়ে প্রায় ২৬০০ কোটি টাকার পাওনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকাই তারা আত্মসাত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মামলাজটে পড়ে আছে এসব ঋণ নিয়ে। নুরজাহান গ্রুপের চেয়ারম্যান জহির আহম্মদ রতন। তার ভাই টিপু সুলতানও এর অনেক কিছু দেখাশোনা করেন। ইতোমধ্যে নুরজাহান সুপার অয়েল, নুরহাজান ফ্লাওয়ার মিলস, নুরজাহান লজিস্টিকস লিমিটেড, মেরিন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড এবং জাসমিয়া ভেজিটেবল অয়েল মিলস প্রায় পুরোপুরি খেলাপি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও জাইমা, আহমেদসহ নানা নামে এ গ্রুপের আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে।

ঢাকা ট্রেডিং হাউজ

ঢাকা ট্রেডিং হাউজের মূল ব্যবসা ছিল ভোগ্যপণ্য। এ ব্যবসার নামেই সরকারি-বেসরকারি ১০টি ব্যাংক থেকে ৬০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার টিপু সুলতান। যদিও তা বিনিয়োগ করেন পরিবহন ব্যবসা টিআর ট্রাভেলসে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা। এতে বিপাকে পড়েছে অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলো। এ ব্যবসায়ীর কাছে আটকে গেছে তাদের ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। ব্যবসা খারাপ বলে প্রতিষ্ঠানটি ভোগ্যপণ্যে লস দেখাচ্ছে আর পরিবহনে ব্যবসা করে লাভ উঠিয়েছে। এর বাইরে প্রতিষ্ঠানটির আগের ঋণও রয়েছে। ঋণ আত্মসাতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া ঢাকা ট্রেডিং হাউজও ঋণ পুনর্গঠন সুবিধা পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ

ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ যেন হঠাৎ গজানো এক প্রতিষ্ঠান। খাতুনগঞ্জের আমদানির বাজারে হঠাৎ করেই প্রতিষ্ঠানটি ঝড় তুলেছিল ২০১৩ সালে। সবচেয়ে বেশি আমদানি করেন নানা ধরনের পণ্য। শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারকের মধ্যে নিজের নাম ওঠান প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মোজাহের হোসেন। এক বছরের এ সাফল্যের পর ব্যাংক থেকে অবাধে ঋণ পায় তার প্রতিষ্ঠান। ২৯ ব্যবসায়ীর ১৫০ কোটি টাকা ও ১০ ব্যাংকের ৫৫০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে এখন তিনি পলাতক। পুলিশ বলছে, তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বিদেশেও তার ব্যবসা থাকতে পারে বলে পুলিশ আশঙ্কা করেছে, কিন্তু নিশ্চিত করেনি। পাওনা আদায়ে প্রাইম ব্যাংক অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ৬২ হাজার বর্গফুটের চারতলা শাপলা ফ্লাওয়ার কারখানার ভবনসহ জমি এবং দক্ষিণ পতেঙ্গার জমি নিলামে তুলেছে। এছাড়া তার মালিকানাধীন এমভি আল জুবায়ের-১ (বর্তমানে এমভি তুর্শা) নামের লাইটার জাহাজও নিলামে তোলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঋণ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় তিনি আবার ব্যবসায় ফিরে আসতে পারেন। নতুন করে ঋণ পাওয়া যাবে, এ সুযোগ এই পরীক্ষিত চোরেরা ছাড়তে চাইবে না।

সিলভিয়া গ্রুপ
চট্টগ্রামের সিলভিয়া গ্রুপও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নেয়া প্রায় ৮৮৮ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে অনেক দিন। সিলভিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সানমার হোটেল ও ফয়জুন শিপ ব্রেকিং, মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিং, মিসম্যাক শিপ ব্রেকিং, আহমাদ মুজতবা স্টিল ইত্যাদি। ঋণ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় সিলভিয়া গ্রুপের মালিকরা আবারও নতুন ঋণ নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য চাঙা করার সুযোগ পেতে পারেন বলে জানা গেছে। গ্রুপটির কর্ণধার হুমায়ুন কবির, মিজানুর রহমান শাহিন ও মজিবুর রহমান মিলন বেশ কিছুকাল ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সম্পর্কে তারা তিন ভাই।

উল্লেখ্য সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বড় ব্যাংকের টাকা চোর বা ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পুনর্গঠনের এক নীতিমালা প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, যেসব কোম্পানি ৫০০ কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হয়ে গেছে, ঋণ আর কোনোভাবেই শোধ করতে পারছে না, নিয়ম অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে যাদের সম্পত্তি নিলামে তুলে ব্যাংক তার লগ্নিকৃত অর্থ তুলে নেয়ার কথা, তাদের আবার ১২ বছরের জন্য নতুন করে সুযোগ দেয়া হবে। যদি খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি হয় তাহলে ডাউন পেমেন্টের হার হবে এক শতাংশ। এক হাজার কোটি টাকার কম হলে পুনর্গঠিত ঋণের ডাউন পেমেন্টের হার হবে সর্বোচ্চ দুই শতাংশ। ঋণ পুনর্গঠনের পর এক বছর গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যাবে। ওই এক বছর কোনো কিস্তি শোধ করতে হবে না। আবার ঋণ পুনর্গঠনের পর এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে খেলাপির তকমা উঠে যাবে। নতুন ঋণ নেয়ার সুযোগও তৈরি হবে তখন। পুরষ্কারটা ভালোই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “চট্টগ্রামের শীর্ষ চোরদের চুরির নমুনা

  1. জাতীয় চোরদের এই সুযোগ করে
    জাতীয় চোরদের এই সুযোগ করে দেওয়ার পেছনে বিরাট দালালচক্র আছে অবশ্যই। সেই দালালচক্র সরকার ও এই চোরদের পক্ষে মধ্যস্ততার কাজ করছে। না হলে সরকার চোরদের এই সুযোগ দিয়ে লাভ কি?

  2. পোস্টে উল্লেখিত প্রতিটা
    পোস্টে উল্লেখিত প্রতিটা প্রতিষ্ঠান জোচ্চর। এরা চট্টগ্রামের স্বীকৃত বাটপার ব্যবসায়ী। ব্যাংকের টাকায় এরা বিলাসী জীবন-যাপন করে। ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ শুরু থেকেই চট্টগ্রামের খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করে এসেছে। মোজাহের সাহেবের অতীত খুব একটা ভাল না। সে শুন্য থেকে উঠে এসেছে প্রতারণা করে। আমাদের পারিবারিক ব্যবসা এই মোজাহেের এর মাধ্যমে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। এদেরকে ঋণ রি-শিডিউল করে দিলে ফেরত পাওয়ার কোন সম্ভবনা নাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 − = 64