জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কি ধর্ষকদের?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এ ধরণের প্রশ্ন অনেকের কাছেই স্পর্ধার বিষয় মনে হবে। কিন্তু এটাই বর্তমান বাস্তবতা। আমাদের যা কিছু গর্ব করার, তার সবই দিনে দিনে নষ্টদের অধিকারে চলে যাচ্ছে। জানবিবিও তা থেকে বাদ গেল না। নষ্টামি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে ক্যাম্পাসের সবাইকে। চলছে অবাধে নারী নিপীড়ন ও সন্ত্রাস। মাদকের বিস্তারও ভয়াবহ আকারে ঘটে চলেছে। সবাই যেন এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতে থাকলেও এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষক, ক্যাম্পাসের আলোচিত বুদ্ধিজীবী মহল এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কারও কোনো কার্যকর ভূমিকা বা উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। সবাই নিশ্চুপ। এই হচ্ছে অগ্রসর একটি প্রগতিশীল ক্যাম্পাসের আজকের অবস্থা!

জাহাঙ্গীরনগরে চলতি বছরে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে অপরাধমূলক কর্মকান্ড। কিন্তু প্রমাণ মিলছে না, অপরাধীরা তাই বহাল তবিয়তে। ফোন দিলেই চলে আসে মাদকের ডিলার। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাউকে খুঁজে পায় না। বাইরে থেকে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মেয়েরা। প্রশাসন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে পারছে না। জুনিয়রদের হাতে সিনিয়ররা লাঞ্ছিত হচ্ছে হরদম। ওদিকে ভিসি বলছেন, ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক মান বাড়ছে। সব পক্ষের এড়িয়ে যাবার এই মানসিকতা স্বাভাবিকভাবেই সমস্যাকে আরও গভীরতর করে তুলছে।

ধর্ষণের প্রমাণ মেলে না!
জাবিতে নারী নিপীড়ন ঘটছে নানা প্রকারে। বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, এ বছর এমন অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকটি। ক্যাম্পাসের ছাত্রীরাও ছিনতাই, টিজিং ও অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন নিয়মিত। ফলে ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের চলাফেরা সীমিত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর আগের তুলনায় ছাত্রীরা হল থেকে কম বের হন। আগে যেখানে মাঝরাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ চত্বরগুলো মুখরিত থাকত, এখন সেখানে রাত দশটার মধ্যেই ক্যাম্পাস সুনসান হয়ে যাচ্ছে।

নিয়মিত ছাত্রীদের যখন এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই ক্যাম্পাসে বেড়াতে এসে বহিরাগতরা পড়ছেন আরও বড় সমস্যার মধ্যে। সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদুল আজহার ছুটিতে বহিরাগত এক তরুণী বোটানিক্যাল গার্ডেনে গণধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিগত এক বছরে কমপক্ষে এমন তিনটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটার শক্ত অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাগুলো জানলেও তারা এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ‘অভিযোগের ভিত্তি নেই’ বা ‘আমরা জানি না’ বা ‘লিখিত কোনো অভিযোগ কেউ করেনি’ ইত্যাদি বলে দায় এড়িয়ে গেছেন।

সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর ক্যাম্পাসে ঈদুল আজহার ছুটি চলছিল। ছুটির সময়ে হল খালি করার নির্দেশনা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে পুরো ক্যাম্পাস ছিল শ্মশানের মতো নিস্তব্ধ। কিন্তু পোষ্যকোটায় ভর্তি হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বজন কিছু শিক্ষার্থী ছুটির এই সময়টিতে ক্যাম্পাসেই ছিল। ঘটনার দিন এদের সঙ্গে আরও ৮-১০ জন ছিল। তারা সবাই মিলে ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় নিয়মিত আড্ডা দেয়।

৯ অক্টোবর একটি যুগল ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসে। তারা বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় যাওয়া মাত্র তরুণটিকে কিল-ঘুষি দিয়ে ওই দলের দুজন মিলে বেঁধে ফেলে। বাকিরা তরুণীটিকে পাশে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং ফেলে রেখে যায়।

গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত মর্মে কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ ওঠে। এদের মধ্যে আছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ভাই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আসিফ ইকবাল। প্রকৌশল অফিসের মিস্ত্রি আলমগীর মাস্টারের ছোট ভাই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাসেল খন্দকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের পিয়ন ইসমাইলের ছেলে সোহেল ঈসরাফিল ও আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলের নিরাপত্তা প্রহরী মাহবুবের ছোট ভাই শওকত আকবর। ক্যাম্পাসে ছিনতাই, টিজিং, নারী নিপীড়নসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে এদের বিরুদ্ধে।

আসিফ ইকবালের বড় ভাই আব্দুর রহমান বাবুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের অভিনয় ও ব্ল্যাকমেইল করে দেড় মাস যাবৎ জোরপূর্বক নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করার মতো জঘন্য অভিযোগ রয়েছে আসিফের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ক্যাম্পাসের আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে তার যুক্ত থাকার বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অনেকেই ওয়াকিবহাল।

রাসেল খন্দকার আল বেরুনী হল ছাত্রলীগের সভাপতি উজ্জ্বল কুমারের ছত্রছায়ায় থাকে। গত রোজার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর বাজারে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের দ্বারা এক দোকান ভাঙচুরে সে যুক্ত থাকে ও ২৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। হলে একাধিকবার বড়দের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটিয়েও সে পার পেয়ে গেছে।

সোহেল ঈসরাফিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হয়েও ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের পরিচয় দেয়। বিএনপির হরতালের সময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুরের দায়ে কয়েক মাস আগে গ্রেফতার হয়েছিল। পরে জামিনে বের হয়ে এসেই ইসলামনগর বাজারে প্রকাশ্যে পিস্তল নিয়ে মহড়া দেয় বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।

শওকত আকবরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতেই চলে তার সব কুকর্ম। ঈদুল আজহার দুই দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গাড়ি আটকিয়ে চাঁদা আদায় করে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্যাম্পাস ছুটির সময় এই চারজনসহ ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ চারটি মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়িয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরীরা তাদের দেখেছেন বলে স্বীকার করেন। যে দিন তরুণীটি ধর্ষিত হন, ঠিক তার পরের দিন ১০ অক্টোবর শুক্রবার তিনটার সময় আসিফ ইকবাল, রাসেল খন্দকার, সোহেল ঈসরাফিল, শওকত আকবরসহ আরও কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনের কালভার্টের ওপর আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ও তার ছোট বোনকে আটকিয়ে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এ ঘটনা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্র ও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ‘ক্যাম্পাসের কিনা তা জানতে চেয়েছিলাম’ দাবি করে পরে একপর্যায়ে তারা চলে যেতে বাধ্য হয়।

?oh=d6d9d8f67a5205a09d15ea34f2e1086e&oe=54D91487&__gda__=1423925595_3c710b822de968bda4df4a3f207130e2″ width=”400″ />
এই পথ ধরে এগুলে সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে যে কারো!

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ক্যাম্পাসের একজন শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী বলেন, ‘প্রথমে বেশ কয়েকজন এই ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলেছিলেন। তারা বিভিন্নজনকে ঘটনা জানিয়েছিলেন। ঘটনার দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অবহিত করা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে জাবি কর্মচারী সমিতির এক সভায় আলোচনাও হয় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করে। নিরাপত্তারক্ষীসহ সাধারণ কর্মকর্তাদের কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার কথা ভাবেন। এই প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তখন দু’একটি সংবাদ মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনার কথা ছাপাও হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তীতে বিষয়টি এড়িয়ে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরাও পরে পিছিয়ে যান। এখন এই প্রত্যক্ষদর্শীরা সরাসরি দেখেছেন বলতে রাজি হচ্ছেন না। যিনি আগে দেখেছি বলেছেন, তিনিও এড়িয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের আন্তরিকতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হলে আর মুখ খুলে এরা কেউ চাকরি হারাতে চাইবেন না।’

বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হওয়াটা এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৩ সালের ঈদুল আজহার ছুটির সময় ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসা অপর এক বহিরাগত তরুণীকে শহীদ মিনার এলাকা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই তরুণীর সঙ্গে আসা যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের বিষয়টি জানালে ওই যুবকসহ নিরাপত্তারক্ষীরা দুই ঘণ্টা পুরো ক্যাম্পাসে খোঁজাখুঁজি করেও তরুণীটির হদিস পাননি। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকৃতি দিলেও তারা নিজেদের পরিচয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নন। প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান সজল নিজেও তখন ওই তরুণীকে খুঁজতে বেরিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

শুধু বহিরাগত নয়, এ বছর এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা এক ছাত্রীও ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ আছে। বাইরে থেকে এসে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে গিয়ে অপরিচিতরা চলে যান বোটানিক্যাল গার্ডেন বা সুইমিং পুলের দিকে। সেখানে আড্ডারত মাদকসেবীরা এদের ধরে নিয়ে যায় বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনের দিকে। সেখানে তারা নির্বিঘ্নে যা খুশি তাই করে। তাদের হাত থেকে উদ্ধার পেয়েই ক্ষতিগ্রস্তরা এলাকা ত্যাগ করেন। কেউ জানেনি ভেবে তারাও বিষয়টি চেপে যান। ক্যাম্পাসের ভেতর এ নিয়ে আলাপ আলোচনা কিছু চললেও তথ্যপ্রমাণ না মেলার কারণে এর কোনো প্রতিকার হয় না। ক্যাম্পাসের মানসম্মানের কথা বলে বিষয়টি সবাই মিলে চাপা দিয়ে দেন। এবারের ঘটনায়ও প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি উপরোল্লিখিত চারজনকে শোকজ করলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার মতো কোনো প্রমাণ পায়নি। ভিসি বলেছেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও এখনো তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনই দেয়নি। একইভাবে এই এক বছরে ক্যাম্পাসের ছাত্র ও অছাত্ররা মিলে নারী নিপীড়নের যেসব ঘটনা ঘটিয়েছে তার কোনোটিরই বিচার হয়নি। এর ফলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

কয়েকটি ঘটনা
গত ১৭ মে, ২০১৪ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনের পরিচালক কামাল হোসেনকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটায় ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল হোসেন দিপু।
গত ৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে পরিসংখ্যান বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আমির হামজা রিয়াদকে রড দিয়ে বেধড়ক পেটায় বঙ্গবন্ধু হলের জুনিয়রদের ১০-১২ জনের একটি দল। সে সময় আহত রিয়াদকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
এর কিছুদিন আগে ২১ জুন, পরিসংখ্যান বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ সরকার সনিকে এই রিয়াদ মারপিট করে বলে জানা যায়।

গত দুই মাসে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বেড়াতে এসে জুনিয়রদের কাছে মার খেয়েছেন, অকথ্য ভাষায় গালি শুনেছেন বা অপরিচিতদের দ্বারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন, এমন ঘটনা এক ডজনেরও বেশি হবে বলে জানান মাস্টার্স শেষ করতে চলা পরিসংখ্যান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এরকম ঘটনা ঘটে। সব তো কানে আসে না। কিছুদিন আগে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়ার সময় এক সিনিয়র ভাইয়ের রিকশার সঙ্গে কিছু ছেলের ঝামেলা লেগে যায়। শামীম নামের ওই বড় ভাইকে তারা তখন বেধড়ক পেটায়। কেউ এসবের কোনো প্রতিবাদ করতেও যায় না। কারণ প্রতিবাদ করতে গেলে মার খেতে হবে। সেই মার খেয়েও পরে কিছু হবে না। তাই সবাই দেখেও না দেখার ভান করে চলছে।’

গত ৬ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে জাবি থিয়েটার (টিএসসি) আলবেয়ার কাম্যুর ‘দ্য আউটসাইডার’ নাটকের প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সেখানে উপস্থিত হয়ে ৪৩তম ব্যাচের কিছু ছাত্র নাটকের বিভিন্ন ডায়লগ ধরে কটূক্তি করতে থাকে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় যে, আয়োজকরা প্রদর্শনী বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তারা মাইকে ঘোষণা করেন যে, ‘যারা পেছন থেকে কটূক্তি করছেন, তারা কিছু বলার থাকলে মাইকে এসে বলুন।’ এই ঘোষণার পর ওই ছাত্ররা ধীরে ধীরে কেটে পড়ে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠান শেষে প্রক্টর তপন কুমার সাহাকে জানানো হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪২তম ব্যাচের এক ছাত্রী বলেন, ‘এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতি এই ক্যাম্পাসে দেখতে হবে, তা আমরা কেউ ভাবিনি। ক্যাম্পাসে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা তো নেই, উল্টো যা হয় তা বন্ধ করে দেয়ার আয়োজন আছে। দিওয়ালির অনুষ্ঠানে গেলে শিক্ষকরা ছাত্রীদের ডেকে বলেন, মুসলিম হয়ে দিওয়ালিতে যাও কেন? কোনো মেয়ে টিজের শিকার হলে তারা অভিযুক্তদের খোঁজার চেয়ে মেয়েদের খুঁত ধরতে বেশি আগ্রহী থাকেন। ক্যাম্পাসের আজকের এই পরিণতির পেছনে একশ্রেণীর শিক্ষকের ভূমিকাই প্রধান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসের বড় একটি কারণ এখন মাদক। মাদক ক্যাম্পাসের কোথায় নেই। কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসের বঙ্গবন্ধু হলের একজন নিরাপত্তাকর্মী নাজিম মারা যান। বয়সে যুবক এই নাজিম ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল চালাতেন। তাকে দেখে হলের নিরাপত্তাকর্মী মনে হতো না। ইসলাম নগর বাজারে তার আড্ডা ছিল। ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে ছিল তার দহরম মহরম। সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসে মাদকের চালানসহ ছাত্রলীগের অস্ত্রশস্ত্র বহন করত এই নাজিম। তার মৃত্যুর পর বলা হয় যে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন। ক্যাম্পাসের ভেতর উড়ো খবর আছে মদের আড্ডায় গিয়ে তার মৃত্যু হয়।

?oh=957277b2da1b96700ebe56e43adeb3d2&oe=54D2340B&__gda__=1423837619_c17d8f7a01b32a810e12398c90eedfda” width=”400″ />
মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণ- সব কিছুই ঘটে এই সুইমিং পুলের আশেপাশে

গত ৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বটতলা এলাকা থেকে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। আটককৃতরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সন্তান। তাদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহানারা ইমাম হলের ঝাড়ুদার রোকেয়া আক্তারের ছেলে মো. মহসিন (২০) এবং অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের মালি মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল হালিম (২৫)। এদের সঙ্গে আগে উল্লেখিত ৯ অক্টোবরের ঘটনায় জড়িত গ্রুপটির সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাদের অনুমতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে গাঁজা সরবরাহ করে থাকেন আলী নামের একজন কর্মচারী। তিনি মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে ক্যাম্পাসে কর্মরত। মাদকসেবী শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ‘দাদু’ নামে পরিচিত। দাদু কেমন আছেন বলে ফোন দিলেই তিনি বুঝে যান যে গাঁজা লাগবে। এছাড়া এসব কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পরিবহন কর্মচারী, হলের গার্ড এবং ঝাড়ুদারদেরও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাওলাদার মুহিবুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্তদের পেছনে থেকে বড় ভাইয়ের ছায়া দেন বলে অভিযোগ আছে। ৩৮ ও ৩৯ ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী এসব তৎপরতার সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িত। যদিও মাদকসেবীরা অধিকাংশই ক্যাম্পাসে নতুন, ৪১ ও ৪২ ব্যাচের।

বর্তমানে ক্যাম্পাসে সর্বাধিক জনপ্রিয় মাদক হচ্ছে ইয়াবা। সাভার এলাকার গেন্ডা, হেমায়েতপুর এবং ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর বাজার, কলমা, পানধুয়া, ওয়ালিয়া থেকে নির্দিষ্ট একটি চক্রের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ইয়াবা সরবরাহ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্পটে শিক্ষার্থীরা প্রায় প্রকাশ্যেই মাদক গ্রহণ করে থাকে। হলগুলোতে নির্দিষ্ট রুমে রাত ১টার পর শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে গাঁজা ও মদ্যপান করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিভিন্ন কাগজে খবর প্রকাশ হলেও প্রশাসন এদের ধরতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এই ঘটনাগুলো এক সূত্রে গাঁথলেই যে কেউ জাহাঙ্গীরনগরের বাস্তব অবস্থা বিচার করতে পারবেন।

সবাই চুপ!
এত কিছু ঘটছে ক্যাম্পাসে, কিন্তু কেউ দেখছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অন্যায় ঠেকাবে কি, তারা অধিকাংশই নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণকালের দুর্নীতিবাজ প্রশাসন শরীফ এনামুল কবীরের পক্ষের প্যানেল থেকেই চলতি বছরের মার্চে দেশের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ড. ফারজানা ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বলতে বিভিন্ন বিভাগে ৪০ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন, যার অধিকাংশই রাজনৈতিক বিবেচনায় বলে অভিযোগ আছে। উপাচার্য থাকাকালে ড. শরিফের বিরুদ্ধে শূন্য পদের চেয়ে অধিক শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ ছিল। তার তিন বছরের মেয়াদকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২০০ বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ড. শরিফের প্যানেলের ফারজানা ইসলামও সেই একই পথে হেঁটেছেন।

সম্প্রতি জৈব রসায়ন এবং আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগে চারটি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিলেও সেখানে ছয়জনকে নিয়োগ দিয়েছে তার প্রশাসন। এর মধ্যে তিনজনই আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আত্মীয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই বিভাগে ২২টি পদের বিপরীতে এমনিতেই ২৩ জন শিক্ষক ছিল। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন, ড. শরিফের ভাতিজা এবং সহকারী প্রক্টর সেলিনা আক্তারের স্বামী কাজী রাসেল উদ্দিন, সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসানের স্ত্রী আফরোজা পারভীন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের ভাতিজা মোজাম্মেল হোসাইন। বাকি তিনজন সুব্রত বণিক, মো. মাহফুজ আলী খান এবং ড. মোহাম্মদ মোরশেদকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনা হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলে যে, ‘সবকিছু বিবেচনা করে বোর্ড সঠিক প্রার্থীদেরকেই নিয়োগ দিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। তাদের বিরোধী অংশগুলো এই নিয়ে সোচ্চার হলেও ক্যাম্পাসের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে তারাও এ পর্যন্ত খুব কমই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এসবের মধ্যেই শিক্ষকদের একাংশ গত ২৯ অক্টোবর গণনিয়োগ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক আচরণ এবং প্রশাসনিক আধিপত্য দিয়ে শিক্ষকের চাকরিচ্যুতিসহ নানা বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ক্যাম্পাসে শরীফ এনামুলের সময়কার খারাপ অবস্থা আবারও ফিরে আসছে। তারা ৯ অক্টোবরের ধর্ষণের ঘটনার তদন্তও দাবি করেন। এর বাইরে পুরো ক্যাম্পাসে ভয়ানক ওই ঘটনা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে তেমন কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি। ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচী নেই। জিজ্ঞেস করা হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা কথা বলছেন প্রশাসনের সুরে। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তো উত্তর সব সময় একটাই- তদন্ত চলছে, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, টিম করা হয়েছে, অচিরেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা সব ঠিকই করছি, ব্লা ব্লা ব্লা!

?oh=79b5624b0e0dc8be4515221c0a97bfe3&oe=54DA0784&__gda__=1424660328_9d4d68ee0c14d3529ed81984f21fe119″ width=”400″ />
সব কিছু চলে যাচ্ছে নষ্টদের অধিকারে!

প্রগতিশীল ক্যাম্পাস হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সুনাম রয়েছে। নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ক্যাম্পাস এটি। ক্যাম্পাসের ভেতরের পরিবেশও অসাধারণ। এটি সেই ক্যাম্পাস, যেখানে পাখিদের জন্য গান হয়। অথচ এখানে বেড়াতে এসেই যদি কোনো নারীকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়, তাহলে ক্যাম্পাসের আর কী থাকল! সবাই মান সম্মান বাঁচাতে এসব ঘটনা এড়িয়ে যান। কিস্তু এর ফলে অপরাধীর হাত আরও লম্বা হয়। ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতির যে ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে, তা একেবারে স্পষ্ট। সাংস্কৃতিক অবস্থারও ব্যাপক অবনমন ঘটেছে। কিন্তু কারো মুখে এ নিয়ে কোনো রা নেই।

ধর্ষণের কথা ক্যাম্পাসের সবাই জানে। কিন্তু কেউ কিছু বলছেন না, কারণ সবাই প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। ধর্ষণের অভিযোগ তো এটাই একমাত্র নয়। ঘটনাক্রমে বাকিগুলোর প্রমাণও তারা পেলেন না। তাহলে কি ধর্ষণ হয়নি? নাকি আরেকটি প্রমাণহীন ধর্ষণের পথ উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন সবাই মিলে? মাদক, সন্ত্রাসের ভয়াবহ বিস্তার ও ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক অবনমনের কথা তো সবাই জানেন। এর প্রমাণ তো সবার চোখের সামনেই আছে। শুধু বাইরে থেকে বেড়াতে আসা নারীরা নয়, ধর্ষণের শিকার এখন পুরো ক্যাম্পাস! সবাই চুপ কেন? এজন্যই প্রশ্ন উঠছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কি ধর্ষকদের? যদি তা না হয়, তাহলে বাকিরা জেগে উঠুন! অমানুষদের থাবা থেকে ক্যাম্পাসটিকে রক্ষা করতে হবে।

?oh=befe7d8d7b3f55250b90605467040382&oe=54D45A35&__gda__=1425442189_26a846f9e77d76468724884bc1b1023e” width=”400″ />
প্রত্যাশা একটাই- অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ!

খবরের লিঙ্ক
১. জাবিতে ছিনতাই, ধর্ষণ ঘটলেও প্রতিকার নেই
২. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় : আবার ধর্ষণ!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কি ধর্ষকদের?

  1. আমাদের সময়েও এই টাইপের কিছু
    আমাদের সময়েও এই টাইপের কিছু ঘটনা ঘটেছে। ২০০৭-০৮ এর দিকে। ৩৪ তম ব্যাচের পরে ক্যাম্পাসে গাঁজাখোরের আড্ডা অনেকগুন বেড়ে গিয়েছে। বোটানিকালের রাস্তায় আগে আশেপাশের বহিরাগত নেশাখোরেরা ছিনতাই করতো। তখনও ক্যাম্পাসের পোলাপান তেমন একটা সম্পৃক্ত ছিল না। মেহের থেকে প্রীতিলতা হলের দিকে রাস্তাটি খুব নিরিবিলি ছিল। ওখানে একবার বহিরাগত পোলাপানে মেয়েদের ডিসটার্ব করেছিল। যাইহোক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এই আচরন আমাকে শুধু আঘাতই করে না, আমরা যে জাতির কুলাঙ্গার হচ্ছি সেটাই বুঝিয়ে দেয়।

  2. দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের সাথেই
    দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের সাথেই বসবাস করে আসছি। আগে ব্যাচেলর কোয়ার্টার সংলগ্ন আমবাগানে থাকতাম, এখন পানধোয়ায় থাকি। আমার মেয়ে কলতান কিন্ডারগার্টেন থেকে ভর্তি হয়ে এখন জাবি স্কুল ও কলেজ থেকে এবার যে এস সি পরীক্ষা দিচ্ছে। আপনার লিখাটি সম্পুর্ন রুপে সত্য, এটা আমি ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি। আমার অভিজ্ঞতায় বলছি, মাদকের এক আদর্শ স্পট হিসেবে এই ক্যাম্পাস সকলের নখদর্পনে। জাবি স্কুল ও কলেজের মাঠকে একটি মাদকের বাজার বলা যায়। আর পোষ্ট অফিসের পিছনের কর্মচারী ক্যান্টিনের সাথেও এই লেনদেন চলে।
    মেয়ের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এই ক্যাম্পাসকে এর অপুর্ব নইর্সর্গিক পরিবেশ দেখে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু এই লিখায় যে সকল বিরুপ ঘটনার বর্ণয়া করেছেন ৯যদিও তা ১০০ ভাগ সত্য), তাতে নতুন করে চিন্তা ভাবনা করছি।

    অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
    শুভকামনা রইলো।

  3. আমার আগের একটি লেখায় এসবের
    আমার আগের একটি লেখায় এসবের কিছু সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেছিলাম! ওমা সেই লেখায় চুশিলদের সেকি মন্তব্য!!! সেইসব চুশিলরা কোথায়???

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + = 7