ডিজিটাল থেকে বাকশালের পথে আ.লীগ, কী হবে বাংলার

মহাসঙ্কটকালিন পথ পাড়ি দিচ্ছে দেশ। এই পরিস্থিতির তৈরী হয়েছে বিশেষত ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে আ.লীগ ক্ষমতায় আসার ফলে। দেশে তৈরী হয়েছে দূর্বিসহ দীর্ঘ যন্ত্রণাময় শাসনের।এখন বামপন্থিদের করনীয় ছিলো সরকারের ফ্যাসিবাদ বিরোধী কর্মসূচীর নিয়ে মাঠে হাজির থাকা।


এই ছবিতে সিপিবির সভাপতি সেলিম, বাসদের খালেকুজ্জামান, কামাল হোসন, ও মান্নান রাজপথে আন্দোলনে মাত্র এক সপ্তাহ আগেও।

সেটা না করে দেশের বামপন্থি প্রভাবশালী দুই সংগঠন সিপিবি বাসদ সরকারের ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমকেই সমর্থন করছে। অথচ এইতো কিছুদিন আগেও মান্নার নাগরিক ঐক্যর সাথে আন্দোলনে মাঠে ছিলো সিপিবি বাসদ। একেই বলে ভোল পাল্টে ফেলা।

এই সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন করলো তখন একটি স্ট্রং ম্যাসেজ বা শক্তিশালী বার্তা সব মহলে পৌছে গেছে, তা হলো সরকার গায়ের জোরে যে কোন কিছু করতে পারে।’ এরকম একটি সরকারের বিরুদ্ধে যার পেছনে জনবল বলতে শহরের কিছু ব্লগার, ফেসবুকার, সুবিধাভোঘী গুণ্ডা মাস্তান আর ভয়ে থাকা কিছু সেক্যুলার বাদে দেশের সিংহভাগ মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে রয়েছে। সরকার বিরোধীরাই যে সংখ্যাগরিষ্ট তা প্রমাণের জন্য বুর্জোয়া শাসন ব্যবস্থায় একমাত্র প্রমাণিত ব্যবস্থা হলো নির্বাচন। ৫ জানুয়ারির বলপূর্বক একপাক্ষিক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ লীগ না বিএনপির পক্ষে আছে তা বোঝা যাবে না। দরকার একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা বা পদ্ধতি। সামান্যতম সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আ.লীগের যে ভরাডুবি হবে তা বুঝতে বিগত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনগুলোর দিকে চোখ রাখুন। একমদম ক্রিকেটিয় ভাষায় বাংলাওয়াশ বা ধবল ধোলাই।
আ.লীগ জবরদস্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে ভর করতে হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও আমলাদের ওপর। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষ বিছিন্ন এসব শক্তি যতই শক্তিশালী হোক তারা ক্ষমতাকে নিরাপদ, ভয়হীন গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম করতে পারে না। আ.লীগও তাই পারেনি। আ.লীগ যেমন একদলীয় ব্যবস্থা কায়েমের অতিত বিপদ থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে তেমনি আ.লীগকে যারা হটিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চায় সেই বিএনপি জোটের পথ পদ্ধতিতেও জনসম্পৃক্ততা নেই, নেই দেশ ও জনগন। ফলে আপাত পরপরস্পর বিরোধী দুই জোট আ.লীগের নেতৃত্বাধীন ‘সেক্যুলার’ ১৪ দল এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ‘গণতন্ত্রের জন্য লড়াইরত’ ১৮ দলের রাজনৈতিক দর্শন ও উন্নয়ন নীতি এক এবং অভিন্ন। জনগনের ইচ্ছেও অভিপ্রায়ও এই দুই জোটকে ঘিরে দানা বাধে, তারা এই জোটগুলোর ভেতরই আছে। ফলে বাম বলয়ে যারা বিকাশ দেখতে পান, তারা আসলে অন্ধের হাতি দর্শনের স্তরেই আছেন। বাম বলয়ের বিকাশ হতে পারে একমাত্র শ্রেণী রাজনীতি গড়ে তোলা, শ্রেণী সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে। অন্যভাবে যারা চেষ্টা করছেন তাদের রাজনীতি চাপা পড়ে যাবে, যাচ্ছে আ.লীগ বিএনপি বা মূল ধারার রাজনীতির ভেতর। কারণ এ ধরনের বামপন্থি (বর্তমানে এ ধারাই বেশি) আন্দোলন শেস পর্যন্ত বুর্জোয়া রাজনীতির অনুসঙ্গ হিসেবেই কাজ করে।

হত্যা ক্যু’র রাজনীতি মেনে নিছে বাংলাদেশ

দেশের একদল মানুষ পেট্রোল পোড়া মানুষ দেখে বলতে চেষ্টা করেন, আপনাদের বিবেক জাগ্রত হোক বার্ন ইউনিটের পোড়া মানুষ দেখে।’ এ ধারার মানুষ বলতে চেষ্টা করেন বার্ন ইউনিটে যেসব মানুষ মারা গেছেন বা জীবনের সঙেগ লড়ছেন তাদের এই করুন পরিণতির জন্য খালেদা জিয়া দায়ি। কারণ তার নেতৃত্বাধীন দল ও জোটের নেতা কর্মীরা এ পেট্রোল বোমা মারছেন।আগুনে পুড়িয়ে হত্যার জন্য খালেদা ও তার মিত্রদের পরিহার করুন। কথায় যুক্তি আছে। যদি আপনি হত্যাকারিদের বিরুদ্ধে দাড়াতে চান তাহলে আপনাকেতো এই দুই দল বা আ.লীগ ও বিএনপির বিরুদ্ধেই দাড়াতে হবে। বাকশাল অংশ বাদ দিলে আ.লীগ নিকট অতিতে বিরোধী দল থাকাকালে সাধারণ মানুষ কিন্তু কম পুড়ে মারা যায়নি রাজনীতির আগুনে। সে সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এগুলো আ.লীগ করেছে, এখন যেমন আ.লীগ বলছে এসেব বোমা বিএনপি মেরেছে। কিন্তু বাস্তবে কি দেখা গেছে? ৯৬ সালে কিম্বা ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আ.লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় এসব ‘পেট্রোল’ ‘গান পাউডার’ মারার পরও জনগণ তাদেরকে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এনেছে। তাহলে এ থেকে কী বর্তমানে এ সিদ্ধান্ত টানা যেতে পারে, সাধারণ মানুষ যারা ভোট দেয় তারা ‘সুশিল’ এসব অমিয়বানী প্রচার শোনার পরও ধর্তব্যে নেয় না। অর্থ্যাৎ তারা ‘খুনিদেরকেই’ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে।
এই হত্যা ক্যু’র রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিয়েছে। সে কারণে রাজনীতির আগুনে আমরা সাধারণ মানুষ যতই হত্যার স্বীকার হই না কেন তাতে আ.লীগ বা বিএনপির ক্ষমতায় আসতে কোন সমস্যা হয় না।
এখন যেমন বিরোধী দলের ‘বোমায়’ মারা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ তেমনি সরকারি বাহিনীর গুলিতে নিহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কারণ সাধারণ অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেনি। এ কারণে সমাজের কতিপয় মানুষ সাধারণের

ইউটিউবের উপরের ভিডিওতে শেখ সেলিম বলছেন যে, শাহবাগে বাসে আগুন দিয়ে যে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল সেটা যুবলীগের আজম ও নানকের নির্দেশে করা হয়েছিল।উপর অসাধারণ ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করছেন।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই সংবাদপত্র বন্ধ হয়

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বার বার সংবাদপত্র টুটি চেপে ধরা হয়েছে। এ দেশের মানুষ আইয়ুব খানের আমলেরও সামরিক সরকার দেখেছে, দেখেছে জিয়ার রহমানের কিছুদিন ও এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছর। এ সময় কিন্তু কোন সংবাদপত্র বন্ধ হয়নি, ২০০৭ সালের জরুরী তত্ববধায়ক সরকার সিএসবি টিভি বন্ধ করে দিয়েছিল (একে ছদ্মবেশি সামরিক সরকার বলাও হয়ে থাকে)। তবে সাংবিধানিকভাবে এটি সামরিক সরকার বলার সুযোগ নেই।
অথচ যাদেরকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠানো হলো সেই গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে সংবাদপত্র বন্ধ হয়েছে। শেক মুজিবের আমলে বাকশাল কায়েমের হওয়ার আগেই গণমাধ্যম ছিলো মুজিব সরকারের আতঙ্ক। সে সময় গণশক্তি, লাল পতাকা, হক কথা, মুত্রপত্র, স্পোকসম্যান, নয়াযুগ, দেশবাংলা, গণকন্ঠ বন্ধ করে দেয় সরকার। আর বাকশাল কায়েমের পর চারটি পত্রিকা ছাড়া সবগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর সংবাদপত্র বন্ধের কথা আমরা স্মরণ করতে পারি না। বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর একুশে টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে বিএনপি এর দায়িত্ব নেয়নি, দলটির দাবি লাইসেন্স সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে আদালত এটি বন্ধ করে দেয়।
এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আ.লীগ বেশ কিছু টিভি ও পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, চ্যানেল ওয়ান, ইসলামিক টিভি, দিগন্ত টেলিভিশন, আমার দেশ ও সাময়িকভাবে শীর্ষ নিউজ। এরপর বলপূর্বক ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর একুশে টেলিভিশন ফের বন্ধ করা হয় (এটি আ.লীগের ক্যাবল ব্যবসায়ীরা প্রচার বন্ধ করেছে। ফলে এটি বাংলাদেশ থেকে যারা ডিসে সংযোগ নিয়ে স্যাটালাইট টিভি দেখেন তারা দেখতে পান না)।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসছে যে আমার দেশতো মিথ্যাচার করেছে সে জন্য বন্ধ করা হয়েছে। দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি বা চ্যানেল ওয়ানের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ পাওয়া যাবে। এটা আংশিক সত্য। কারণ এসব চ্যানেলের মালিকরা রাজনৈতিক পক্ষ বিপক্ষে বিভক্ত। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও তাদের মিডিয়ারাও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বেশ স্পষ্ট। এর সমাধান কী টিভি বা পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া? তাহলে এখন যেসব টিভি ও পত্রিকাকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে তাদের ভবিষ্যাৎ কী হবে? সরকার পরিবর্তন হলে কি দেশের এসব পত্রিকা ও টিভি বন্ধ করে দেওয়া হবে? সে জন্য অপেক্ষা করা দরকার।
দেশের মিডিয়া নিয়ন্ত্রণকারী আইন আছে। সে পথে না হেটে সরকারেকে নির্বাহী শক্তি প্রদর্শন করে এসব মিডিয়া বন্ধ করতে হয়েছে। সারা পৃথিবীতে দলীয় টিভি পত্রিকা থাকে, মানুষ সেসব টাকা দিয়েও কিনে থাকে। যদি মানুষের প্রতি আস্থা থাকে কোন দেশের শাসকদের তাহলে সেই শাসক মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন মানুষ তার প্রতিদান দিবেই।
এই সরকার গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরেছে। আগে সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে। এই নীতিমালার ভয়ে টিভিগুলো নিজেরাই সেন্সরশিপ করে খবর ছাড়ছে। আর পত্রিকাগুলো আছে উদ্বিগ্নের ভেতর।
পত্রিকার সম্পাদকরা মিলে বিবৃতি দিয়েছে। পড়ুন তাদের বক্তব্য http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/461353/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%AA-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87
যেখানে বলা হচ্ছে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। এই হলো গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার নমুনা।


আইসিটি আইন কী শুধু বিরোধীদের জন্য

খালেদা জিয়া সরকার ২০০৬ সালে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ যার সংক্ষিপ্ত নাম আইসিটি আইন নামে একটি আইন পাশ করেন। এই আইনটি ২০১৩ সালে আ.লীগ বেশ কিছু সংশোধনী এনে পাশ করেন। সংশোধনী আইনে এমন সব বিধান যুক্ত করেন তাতে দেশের সব নাগরিক রাষ্ট্রের চরম নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হয়। হুট করেই কী সরকার এটা করেছে? আপাত দৃষ্টিতে সেরকম মনে হতেও পারে, কিন্তু সরকার এটা করেছে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা থেকেই। অর্থ্যাৎ সরকারের মাথায় আগেই ছিলো ৫ জানুয়ারির মত একরফা নির্বাচন এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা। এখন এই আইনে সরকার যাকে খুশি তাকে গ্রেফতার করতে পারে। এই আইনের ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারায় যদি কেউ অপরাধ করেন তাহলে সেটা কগনিজেবল বা আমলযোগ্য অপরাধ। পুলিশ যে কোন সময় তাকে গ্রেফতার করতে পারেন।
এখন এখানে কী রয়েছে? এসব ধারা নিজেরাই পেড়ে দেখতে পারেন। এই আইনের একটি ধারায় বলা হচ্ছে,
‘৫৭৷ (১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ৷

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি ৫[ অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে] এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷’
তাহেলে কোন বক্তব্য শুনলে আপনি নীতিভ্রস্ট হবেন? এটা নির্ভর করে ওই ব্যাক্তির ব্যাক্তিত্ব, বেড়ে উঠা ও নীতিবোধের ওপর। তাহলে এটা ভ্রস্ট হবার ব্যাপারটি কে ঠিক করবে?িএর মানদণ্ডই বা কী?
এই আইনের অন্যত্র বলা হচ্ছে, ৫৪৷ (১) যদি কোন ব্যক্তি কোন কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মালিক বা জিম্মাদারের অনুমতি ব্যতিরেকে-

(ক) উহার ফাইলে রতিগত তথ্য বিনষ্ট করিবার বা ফাইল হইতে তথ্য উদ্ধার বা সংগ্রহ করিবার উদ্দেশ্যে উক্ত কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেন বা অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রবেশ করিতে সহায়তা করেন;

(খ) কোন কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হইতে কোন উপাত্ত, উপাত্ত-ভাণ্ডার বা তথ্য বা উহার উদ্ধৃতাংশ সংগ্রহ করেন বা স্থানান্তরযোগ্য সংরতগণ ব্যবস্থায় রতিগত বা জমাকৃত তথ্য (removable storage medium) বা উপাত্তসহ উক্ত কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর তথ্য সংগ্রহ করেন বা কোন উপাত্তের অনুলিপি বা অংশ বিশেষ সংগ্রহ করেন;
২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি ৩[ অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে], বা অনধিক দশ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷’

এখন লাখ টাকার একটি প্রশ্ন করি? মাহমুদুর রহমান মান্না ভাইবার ব্যবহার করে সাদেক হোসেন খোকার সাথে কথা বলেছেন এ কারণে তাকে গ্রেফতার করা হলো, আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বিচারপতির স্কাইপে দেওয়া বক্তব্য প্রচার করলেন এ কারণে তিনিও জেলে গেলেন। তাহলে এসব বক্তব্য যারা চুরি করে রেকর্ড করলেন তারা কেন এই আনুযায় জেলে যাবেন না? যদি ধরে নেই রাষ্ট্র এটি করেছে। তাহলে রাষ্ট্র এইসব রেকর্ডগুলোতে প্রচার করার জন্য বাইরে দিবেন না। এখন পর্যন্ত সরকার স্বীকার করেনি এটি সরকার করেছে। ফলে যারা এই ব্যক্তিগত কথোপকথোকন প্রচার করলেন তারা কী জেলে যাবেন নাকি তারা আইনের বাইরে থাকবেন? কারণ আইসিটি আইন অনুযায়ী এ ধরনের আলাপ প্রচার করা মানে ১৪ বছরের জেল ও জরিমানা। ইতোমধ্যে এরকম ব্যক্তিগত আলাপ প্রচারের দায়ে আমার দেশের সম্পাদক জেলে। তাহলে বোঝা যাচ্ছে আইন হলো যাদের হাতে ক্ষমতা নেই তাদের উপর র্নিবিচারে প্রয়োগ করার একটি অস্ত্রমাত্র। যাদের উপর এসব আইন প্রয়োগ হচ্ছে তারাই আবার যখন সরকারের দলের আসনে বসবেন তখন পরিস্থিটিটা শুধু পাল্টে যাবে। এই হলো বাংলাদেশের আইনের শাসন ব্যবস্থা।

ডিজটাল থেকে বাকশাল

আ.লীগের বাকশাল নিয়ে যা কিছুই বলি না কেন তা নতুন কিছু না। বাকশাল ও রক্ষীবাহিনীর ভয়াল থাবার ব্যাপারে শুধু তারাই যথার্থ বলতে পারবেন যারা এর স্বীকার হয়েছেন। তবে একটি ছোট তথ্য দেই এই বইমেলায় আসা আলতাফ পারভেজের ‘মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী’ গ্রন্থ থেকে।এই গ্রন্থে ৪৪ জন শহীদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এদেরকে ১৯৭৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রক্ষীবাহিনী গুলি করে হত্যা করে রাজশাহীর তানোরে। তারপর গণকবর দেওয়া হয়।
২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দু’দফায় ক্ষমতায় আসার পর হত্যা, গুমের রাজনীতি অব্যাহত রাখে। েএ আমলে রক্ষীবাহিনী গঠন না করলেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীই ক্রসফায়ারে হত্যা শুরু করে বিএনপির আমলে। আ.লীগ ২০০৮ এর নির্বাচনে ক্রসফায়ার বন্ধের অঙ্গিকার করলেও ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ না করে বরং দ্বিগুন উৎসাহে চালু রেখেছে। আর বর্তমানে ক্রসফায়ার একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিরোধী মত দমনে ক্রসফায়ার হচ্ছে এ অভিযোগ এখন শুধু বিএনপিরই নয় বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও দেশের বহু মানুষের।
ডিজিটাল সরকারের অঙ্গিকার নিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার বাকশালের মত একটি একদলীয় ব্যবস্থায় এমনভাবে চাপিয়ে দিয়েছে যার বিরুদ্ধচারণ করলেই তাকে গুম বা ক্রসফায়ার করা হচ্ছে।

যত্রতত্র লাশ মিলছে
বাংলাদেশ এখন লাশের ভাগাড় হয়েছে। যত্রতত্র লাশ মিলছে। এই লাশগুলো কার? কালের কন্ঠের সম্পাদকীয়তে এরকম উদ্বেগ ধরা পড়েছে।
http://www.kalerkantho.com/print-edition/editorial/2015/02/25/191835

এরকম যত্রতত্র লাশ মিলতো ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ এ। তখনকার পত্রিকাগুলো দয়া করে কেউ খুলে দেখতে পারেন। বেওয়ারিশ লাশ প্রতিদিন কত মিলতো। এমন কী আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, প্রচুর বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীতে। সেইসব দিনে ফিরে আসা রাজনীতির জন্য ভয়ঙ্কর, ইতিহাসের জন্যতো বটেই।
সিপিবি পুরানো প্রেম ছাড়তে পারছে না

কিছুদিন আগেও সিপিবি বাসদ নাগরিক ঐক্যর মান্না ও গণ ফোরামের নেতা কামাল হোসেনের সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছেন। এটা দিন সাতেক আগের কথা। যখনই মান্না সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগুলেন আর সেসব বক্তব্য বিভিন্ন উপায় প্রচার হওয়া শুরু হলো তখন ভোল পাল্টে ফেললো সিপিবি বাসদ।অথছ সিপিবি বাসদ গত কয়েক বছরে পঞ্চাশের বেশি রাজণৈতিক কর্মসূচী পালন করেছেন নাগরিক ঐক্যের মান্নার সাথে। এতোদিনকার রাজনৈতিক মিত্রকে ফেলে দিয়ে বলা শুরু করলো, খালেদা ও মান্নার বিচার যেনো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়।’ এটা বলার অর্থ হলো খালেদা ও মান্নার বিচার হয়।এই হলো ফ্যাসিবাদের সহযোগী।
তবে এটা সিবিবির পুরানো ভালোবাসা। ১৯৭৩ সালে ১৭ মার্চ জাসদের মিছিলে গুলিয়ে চালিয়ে স্পটেই সাত আটজনকে হত্যা করে মুজিব সরকার। এপর জাসদ অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় সরকার দলীয়রা। গণকন্ঠ অফিসে আগুন লাগানো হয়। সারা দেশে ১৭ জেলায় (তখন দেশে ১৭ জেলা ছিলো) ১৪৪ ধারা জারি করা, সারা দেশে জাসদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে সরকার। এসময় সিপিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সরকারকে জাসদে শক্তহাতে দমন করার কথা বলে।
এই হলো সিপিবি যারা সরকারের ফ্যাসিবাদী কাজে সব সময় অংশ নিয়েছে। বহুকথাই বলা যেতো। পরে এসব নিয়ে বিস্তারিত বলা হবে। এই পার্টিটি একাত্তুর পূর্বে আইয়ুবখানের সাথেও ছিলো।
সেই পুরানো প্রেম এখনো ছেড়ে যেতে পারেনি। এ কারণে কমউনিস্ট পার্টি হয়েও বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদীদের তৈরী ৭২ এর চরম ফ্যাসিবাদী সংবিধান প্রতিষ্থাপনের জন্য আজো আন্দোলন করেন।


ঢাকার আকাশ ভারি হচ্ছে গুজবের মেঘে, তবে বৃষ্টি নামছে না

ঢাকা এখন গুজবের শহর।নানাবিধ গুজব এখানে ডালপালা মেলছে। কেউ বলছেন বিদেশীরা হস্তক্ষেপ করবেন কারণ ভারতে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর নীতিগত বেশ কিছু পদ্ধতি নিয়েছেন। এসব গুজবের মধ্যে রয়েছে, মোদী যখন ঢাকায় আসবেন তখন দুই নেত্রীকে একসাথে সংলাপের আহবান জানাবেন। যথারিতীতে এই সংলাপ শুরু হবার পর ব্যর্থ হবে তখন ওয়ান ইলেভানের মত একটা পরিস্থিতিতে সরকার পরিবর্তন হবে।
এই গুজবের স্বপক্ষে যারা তারা বলছেন, ইন্ডিয়াতে যে রেজিম চেঞ্জ হয়েছে তার প্রমান দেশটির সচিবকে পরিবর্তন করা কারণ ইনি প্রো আ.লীগ ছিলেন, বাংলাদেশে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর স্ট্রেশন চিফকে সরিয়ে দেওয়া।কারণ এসব গোয়েন্দা সংস্থা ও ব্যাক্তি আ.লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
তবে গুজবের বাইরে যা সত্য দেখছি তাহলো, সরকার একনায়কত্ব ভূমিকায় চলে গেছে। এর পরিস্থিতি কোনভাবেই ভালো হবে না।
আর বিরোধীরা যেভাবে সরকার ফেলে দেওয়ার পথ নিয়েছেন তাতে যদি তারা ক্ষমতায়ও যান তবে সেই ‘আগুনের’ রাজনীতিও জনমুখি নয়। মাহমুদুর রহমান মান্না যেভাবে ক্ষমতায় যেতে চান তার সাথেও জনগন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্পর্ক বা যোগ নেই।
বিএনপির সাথে দেশেরিএকটি বড় অংশের সমর্থন থাকলেও তাদেরকে সংগঠিত করার বিষয়ে দলটির মনোযোগ ছিলো না আগে। আর পরিবর্তীত পরিস্থিতি জনগণকে সংগঠিত করার সেই দূরহ কাজটি তারা কোনভাবেই করতে চান না। চেয়ে আছেন তারা ভারতের দিকে। মোদি জি কখন বলবেন, সংলাপ হবে, তার আশায়।
তবে যতক্ষন বিএনপির সাথে জামাত আছে ততক্ষন এরকম কিছু একটা ঘটা কঠিন। কারণ জামাতকে ভারত তাদের জন্য ক্ষতিকর দল হিসেবে বিবেচনা করে। বিশেষত ভারতের অখণ্ডতার ইস্যুতে এ দলটিকে তারা ভিতির চোখেই দেখন। এটা জামাতের জন্য আশু সংকট ডেকে আনলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের জামাত ভিতিই জামাতকে টিকিয়ে রাখবে।
বাংলাদেশের দূভাগ্য যে বাংলাদেশের রাজনীতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রতিনিধিত্ব করে না। এমন কী যারা জনগনের নামে অভিনয় করেন তারাও মঞ্চ থেকে নামার আগেই জনগণকে গালমন্দ করেন। এ পরিস্থিতি যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন উপসম হয়তো সাময়িক হবে তাবে রোগ নিরাময় হবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “ডিজিটাল থেকে বাকশালের পথে আ.লীগ, কী হবে বাংলার

  1. দারুন লিখেছেন । এভাবে চলতে
    দারুন লিখেছেন । এভাবে চলতে থাকলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আর বি এন পির পেট্রল বোমাবাদের বিরুদ্ধে জন গণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে উত্থান ঘটতে পারে ইসলামী মৌলবাদের ।যদি তা হয় তাহলে সেটাই হবে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

  2. আপনার লেখা সবচাইতে জঘন্য
    আপনার লেখা সবচাইতে জঘন্য পোষ্ট। অন্তত আমার দেখা। নিজের মানের ধারেকাছেও যাইতে পারেন নাই। মনে হচ্ছে লেখাটা জোর করে লিখেছেন। গত দুইবছরে ৩৫০ এর উপরে মানুষ পুড়ে মরেছে। লীগে একবার পুড়ায়ে মারলো ৬ জন কাওরানবাজারে। একটা অপরাধের সাথে আরেকটা অপরাধের তুলনা করাটাই অন্যায়। তাতে ন্যায় অন্যায়ের বিচারটা নির্মোহ হয় না। যাই হউক, পোষ্টটা পড়ে মনে হইলো কালকে ইলেকশন দিয়ে জামাত বিএনপির ঘাড়ে ক্ষমতা দিয়ে দেয়াটাই ভালো। ইসলামী বিপ্লবটা না হইলে আর জমতেসে না।

    1. দলান্ধদের কাছে নিজের দলের
      দলান্ধদের কাছে নিজের দলের বিরুদ্ধে কিছু লেখা হলে জঘন্য লাগার কথা। আওয়ামীলীগ পঁচাত্তরের মত একদলীয় শাসন কায়েম করে ভুল পথে হাটছে। একবার শিক্ষা হয়নি।

    2. দুই দলই ক্ষমতায় যাবার জন্য
      দুই দলই ক্ষমতায় যাবার জন্য মানুষ মারে। এখানে চেতনার কোন ব্যাপার নেই। যারা শুধু বিএনপির মানুষ মারা দেখে আ.লীগের দেখে না, তারা লীগের লোক। দলীয় লোক দলকে বাচাতে চাইবে, এটা নিয়ে বক্তব্য নেই। বক্তব্য শুধু একটা পয়েন্ট ধরে যুক্তি নিয়ে ডিফেন্ড করার কিছু থাকলে কর।
      দুই. দেশের মানুষ দুই দলে বিভক্ত। এ কারণে খন করার পরও দেশের মানুষ প্রতিবার খুনিদেরকেই আবার ক্ষমতায় এনেছে। এইসব খুনিদের ব্যাপারে আমার কোন পক্ষমতা উভয়ের ক্ষেত্রেই এরকরকম।
      তবে মূল প্রশ্নটা হচ্ছে, এই যে খুন আর ক্রসফায়ার এই দুয়ের উৎস্য ৫ জানুয়ারি নির্বাচন। তাকে আড়াল করে কোন আলোচনা থাকতে পারে না।

  3. যখন যৌক্তিক বিশ্লেষণ করে
    যখন যৌক্তিক বিশ্লেষণ করে গঠনমূলক সমালোচনা করার পর সেই সমালোচনার বদলে কেউ যদি পেশীশক্তি প্রয়োগ করে তবে সেটা ফ্যাসিবাদী আচরন।কিন্তু যখন কেউ মিথ্যা সংবাদ দিয়া বিভ্রান্ত করতে চায় এবং যুক্তির বদলে কুযুক্তির প্রয়োগ করে তখন তাদের উপর বল প্রয়োগ করা আবশ্যক।আমাদের দেশের মানুষ যাচাই বাছাই কম করে সিদ্ধান্ত নেয়।বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী আচরন এবং প্রয়োজনীয় আচরন দুটাই করেছে।দিগন্ত টিভি এবং আমার দেশ পত্রিকা কেন বন্ধ করা হইছে সেটা আপনি জানেন।সেটাকে বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বললে ভুল হবে।কিন্তু যারা সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করে তাদের প্রতি যেকোন ধরনের আক্রমন ফ্যাসিবাদী আচরন।সরকার এবং সরকার বিরোধী উভয় দিকেই দলকানা রোগ বিপজ্জনক।বামরা যখন এই রোগে আক্রান্ত হয় তখন সমস্যা আরো প্রকট হয়।

    1. ফ্যাসিবাদীরা চেতনা দিয়েই মুখ
      ফ্যাসিবাদীরা চেতনা দিয়েই মুখ বন্ধ করে। অন্তত ক্লাসিক ফ্যাসিজিম হিটলারের সেটার ক্ষেত্রে ঢাল ছিল সমাজতন্ত্র।
      গণতন্ত্র আছে আবার মিথ্যা কথা বলছে বলে ‘আমার দেশ’ বা ইসলামিক টিভি বন্ধ করবে এটা গণতন্ত্র না, এটা ফ্যাসিবাদ। ফ্যাসিবাদ যেই করুন না কেন তা ফ্যাসিবাদই থেকে যায়।
      এখনতো সবগুলো টিভিই বিটিভি। দেশে আলাদা করে কোন সংবাদপত্রও নেই। এরপরও যদি গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলতে হয় তাহলে বুঝতে কেন হাসিনা বা খালেদা টিকে আছে তার মূল রহস্য কোথায়? মূল রহস্য এরকম দলান্ধরা যে দেশে থাকে সে দেশের আ.লীগ বা বিএনপি মানুষকে দেখে ছারপোকার মত। তাহলে আর কী ছারপোকারা সব মারা যাক।

      1. মূল রহস্য এরকম দলান্ধরা যে

        মূল রহস্য এরকম দলান্ধরা যে দেশে থাকে সে দেশের আ.লীগ বা বিএনপি মানুষকে দেখে ছারপোকার মত। তাহলে আর কী ছারপোকারা সব মারা যাক।

        তার মানে ভোটের রাজনীতির নামে আমাদের দেশে যে গণতন্ত্রের চর্চা হয় তা আসলে দলকানাদের গণতান্ত্রিক দর্শন।আপনি যদি দিগন্ত কিংবা আমার দেশ বন্ধ করাকে অগনতান্ত্রিক ভেবে থাকেন তাহলে যেই দলকানারা আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির রাজনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে তাকে গনতান্ত্রিক আচরন হিসেবে বৈধতা দিতে হবে।সে ক্ষেত্রে রাজাকারের মন্ত্রী হওয়াটাও গনতান্ত্রিক।আবার অন্যদিকে বামদের প্রতি গনমানুষের বিমুখ হওয়াটাও গনতান্ত্রিক।তাই বলছি শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে কিংবা শুধু সমর্থনের জন্যই দলের সাফাই গাইলে গনতন্ত্র নির্বাসিত থাকবে।

        ডানরা অনেক সময় না বুঝেই দলকানা।কিন্তু বামরা সব বুঝেও দলকানার মত আচরন করলে সেটা জ্ঞানপাপীর মত কাজ হয়।

        ধন্যবাদ আপনাকে।

        1. বামদের ভোট দেয় না অবশ্যই এটা
          বামদের ভোট দেয় না অবশ্যই এটা গণতান্ত্রিক। এর আগে বুর্জোয়া গণতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করেছি যদি তা আপনার মাথার উপর দিয়ে না যায়।
          যতক্ষণ কেউ প্রমাণিত অপরাধী না হচ্ছেন ততক্ষণ তার নির্বাচনে দাড়ানো বন্ধ করা এবং জয় পেয়ে আসা বন্ধ করার কোন আইন নেই। রাজাকাররা জয় পেলে তাকে আটকানোরও কোন পথ নেই।
          অবশ‌্যই গণতন্ত্রে দিগন্ত টিভি আমার দেশে ইসলামিক টিভি চ্যানেল ওয়ান বন্ধের সুযোগ নেই। যদি থাকে তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় এসে যখন বেশিরভাগ বেসরকারি টিভি বন্ধ করবে তখন আমি সোচ্চার থাকলেও আপনার সোচ্চার থাকার অধিকার থাকে না। মানে ন্যায্যতা থাকে না।

  4. গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবার মত
    গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।কিন্তু গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধ করার কোন অধিকার কারো নেই।এখন আপনি বলতে পারেন অপরাধের বোধ আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।সেটা মতাদর্শ প্রচার কিংবা চর্চার ক্ষেত্রে অবশ্যই সত্য।কিন্তু মতাদর্শ প্রচারের নামে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা একটি অপরাধ।সরকার যেখানে এধরনের প্রয়াসকে অবদমিত করেছে সেখানে সরকারকে সাধুবাদ জানাই এবং যেখানে সত্যকে অবদমিত করার চেষ্টা করেছে সেখানে সরকারকে ধিক্কার জানাই।

    1. এবার লাইনে এসেছেন। আপনার কাছে
      এবার লাইনে এসেছেন। আপনার কাছে আইন আছে, আইন প্রয়োগ করুন। রাতের অন্ধকারে অফিসে গিয়ে যন্ত্র খুলে আনছেন, নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে বন্ধ করছেন এটা কী হলো?
      মতাদর্শ প্রচার হোক আর সংবাদ প্রচার হোক, মিথ্যা হলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিন। যেভাবে বন্ধ হচ্ছে তা কিন্তু অন্য কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  5. আমার দেশ পত্রিকার মিথ্যাচারে
    আমার দেশ পত্রিকার মিথ্যাচারে এ দেশে কি হয়েছে সেই ইতিহাস আপনার জানা আছে।ব্লগারদের প্রতি কিভাবে ধর্মীয় চেতনার দোহাই দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে তা আমরা জানি।রাজীব হায়দারের মৃত্যুর জন্য পরোক্ষ ভাবে আমার দেশ পত্রিকার ভূমিকা রয়েছে।আপনি যে বুর্জোয়া গনতন্ত্রের কথা বললেন সে বুর্জোয়া গনতন্ত্রে আইনের ফাঁকফোকর আপনার জানা থাকার কথা।তাই সে সময় আমার দেশ পত্রিকার মিথ্যাচার অবদমন না করা হলে রাজীব হায়দারের মত আরো অনেককেই প্রান হারাতে হত।আপনি যেভাবে বললেন সেভাবে ভাবলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে বাঁধা দেওয়াটা অগনতান্ত্রিক ছিল।কিন্তু হেফাজতকে বাঁধা না দিলে কি হত সেটা একবার ভেবে দেখেছেন কি?গনতন্ত্র একটি বিকাশমান প্রক্রিয়া। কোন পরম নির্দিষ্ট মানদণ্ড ধরে সবকিছুকে ব্যাখ্যা করতে গেলে সেটা ডগমায় পরিনত হবে।

    বিএনপি ক্ষমতায় এসে যখন বেশিরভাগ বেসরকারি টিভি বন্ধ করবে তখন আমি সোচ্চার থাকলেও আপনার সোচ্চার থাকার অধিকার থাকে না। মানে ন্যায্যতা থাকে না।

    প্রতিবাদ করার যৌক্তিক কারন থাকলে প্রতিবাদ করার ন্যায্যতা থাকে। আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কোন যৌক্তিক কারন আমি খুঁজে পাইনা।যা খুঁজে পাই তা হচ্ছে প্রতিবাদ করার জন্য প্রতিবাদ করার একরোখা দর্শন।

    আপনার লিখার কিছু অংশের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছি এবং কেন করেছি তার ব্যাখ্যা আমি দিয়েছি।আপনি আপনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।আপাতদৃষ্টিতে এই ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।তাই সিনথিসিস বেরিয়ে আসার কোন সম্ভাবনা দেখছিনা।যাই হোক,শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 65 = 73