মৃত্যুর পরেও অভিজিতের ওপর হামলা চলছে!

এই রাষ্ট্রে মৌলবাদ সরকারিভাবে ছাপা হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে, স্কলারশিপ পায় মসজিদ-মন্দির-মাদ্রাসার মাধ্যমে, শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এরশাদ মৌলবাদকে সরকারিভাবে পানি খাওয়ায়, আর দেশের সবচেয়ে সরল লোক ও শেখ হাসিনার পারিবারিক বন্ধু শামীম ওসমানরা এই দেশে মৌলবাদের চাষবাস করে, আর জনাবা প্রধানমন্ত্রী সারা দিন মৌলবাদ খোঁজেন, জামাত বিরোধী শ্লোগান দেন, কিন্তু ইসলামী ব্যাংক ছাড়া তার চলেই না, বিএনপিকে তিনি শেষ করে ফেলতে চান, কারন বিএনপি নাকি ইদানীং তার চেয়ে বড় হুজুর হয়ে গেছে! তাবলীগ জামাতকে জমি দিয়ে, কওমী মাদ্রাসাকে মাস্টার্সের সমান সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি খালেদার চেয়ে বড় হুজুর হওয়ার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। বর্তমানে মদীনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালাচ্ছেন। এই হলো এই দেশের অবস্থা। মৌলবাদের বিরুদ্ধে এখানে হুমায়ুন আজাদ, অভিজিৎরা জন্মাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু পুরো রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রচালকরা আদতে সব মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষক। ফলাফল?

লেখক অভিজিৎ রায়ও হুমায়ুন আজাদের দলে যোগ দিতে বাধ্য হলেন। এভাবে একের পর এক খুন হচ্ছেন ভিন্নমত পোষণকারীরা, মৌলবাদবিরোধীরা। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, অভিজিৎ রায়রা এই সময়ের মানুষ নন। কারণ এই সময়টা তো ‘মুক্তমনা’ বানানোর নয়, এই সময়টা বরং ‘মূর্খমনা’দের। অভিজিৎ রায় ‘মুক্তমনা’ ব্লগ বানিয়েছিলেন মুক্তচিন্তা প্রসারের জন্য। মানুষকে কুসংস্কার, বিশ্বাস, ভুল, অন্ধ দাসত্ব থেকে বের করে আনার জন্য। তার কাজে তিনি সফল। কিন্তু ফলাফল হচ্ছে, তিনি ও তার বন্ধু ব্লগাররা দেশের মূর্খমনাদের তেমন কোনো উন্নতি ঘটাতে সমর্থ হলেন না। বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মূর্খমনাদের দোরাত্ম্য বেড়েছে। তাদের আঘাতে জীবন দিচ্ছেন অভিজিৎরা। এমনকি মৃত্যুর পরেও তাদের মুক্তচিন্তার ওপর হামলা বন্ধ নেই। কিভাবে?

থাবা বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা দেখলাম, তার ব্লগ বন্ধ করে দেয়া হলো। তার লেখা লুকিয়ে ফেলা হলো। অভিজিৎ রায় ঠিক থাবা বাবার মত করে লেখেন না, তার লেখা অনেক পরিশীলিত। তার পরেও তার প্রতিষ্ঠিত ব্লগটি এখন দেখা যাচ্ছে না। তার ফেসবুকে ঢুকলে লিঙ্ক ছাড়া কোথাও কানেক্ট করা যায় না। টাইমলাইনে কিছু দেখায় না। তাহলে ঘটনা কী দাঁড়াল? মৃত্যুর পরেও অভিজিতের ওপর হামলা চলছে। তার মতকে গোপন করতে বাধ্য হচ্ছে বন্ধু-স্বজনেরা। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকজন এই অবস্থায় তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করতে বাধ্য হয়েছেন।

?oh=643a787468a0e892882b6bc30e049ecc&oe=557E63E7″ width=”400″ />
দেশে মুক্তমনা ব্লগ এখন দেখা যাচ্ছে না

অভিজিৎ কিভাবে মারা গেছেন, এটা এখন সবাই জানেন। বইমেলা থেকে ফেরার পথে অসংখ্য মানুষ ও পুলিশের বেষ্টনীর মধ্যেই তাকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের কর্তাদের প্রথম বক্তব্যটি কি ছিল? শাহবাগ থানার এসআই সোহেল রানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানার চেষ্টা করছে, বিষয়টি কেন ঘটেছে।” এটাই আসল বিষয়। যে রাষ্ট্রে মৌলবাদের জয়জয়কার, সেখানে পুলিশকর্তা কি মুক্তমনার পক্ষে জোর তদন্ত করবে নাকি মৌলবাদীর পক্ষে দাঁড়িয়ে আলামত গোপন করবে? মৌলবাদবিরোধীদের ওপর এ যাবৎ অনেক হামলা হয়েছে, রাষ্ট্র তার বিচার করেনি। এখন এটা স্পষ্ট যে, এ দেশে মুক্তমনারা বারংবার খুন হবেন, আর মূর্খমনারা সংসদে বসে ধর্মের বুলি আওড়াবে।

?oh=c39fbd78f8aba834e0819141e8d53bbd&oe=55864B6B” width=”400″ />
অভিজিৎ রায়ের টামলাইন দেখায় না

যারা মৌলবাদকে বিরোধিতা করেন, কিন্তু রাষ্ট্রের সঙ্গে ও শাসকশ্রেণীর সঙ্গে মৌলবাদের সংযোগস্থলটি দেখতে পান না, তারা মৌলবাদ উৎখাতের সংগ্রাম এগিয়ে নিতে পারবেন না। শত্রু-মিত্র নির্ণয় করাটা যে কোনো সংগ্রামের প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মৌলবাদকে যারা চিনেছেন, রাষ্ট্রকে চেনাটা আজ তাদের কর্তব্য। তাহলে বুঝতে পারা যাবে যে, কিভাবে মৃত্যুর পরেও অভিজিৎদের ওপর হামলা সংগঠিত হয়! কেন তারা খুন হন, কিভাবে খুন হওয়ার পর তাদের মত গোপন করতে বাধ্য করা হয়? কিভাবে তাদের খুনীরা বহাল তবিয়তে টিকে থাকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৯ thoughts on “মৃত্যুর পরেও অভিজিতের ওপর হামলা চলছে!

  1. কি আর বলব ? অভিজিৎ রায়রা ভুল
    কি আর বলব ? অভিজিৎ রায়রা ভুল সময়ে ভুল দেশে জন্ম নিয়েছিলেন। যে দেশের রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে মদিনা সনদে দেশ চালানোর কথা বলা হয়, ভোটের রাজনীতির স্বার্থে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীদের সাথে রাজনৈতিক জোট করা হয় সেই দেশের পক্ষে এ আর অসম্ভব কি ? হত্যার বিচারের চেয়ে বড় এখন বিরোধী জোট কিংবা হেফাজতের হাতে নুতুন কোন ইস্যু তুলে না দেওয়া। ক্ষমা করুন অভিজিৎ।

    1. হত্যার বিচার চাই। ফায়দা খোঁজে
      হত্যার বিচার চাই। ফায়দা খোঁজে যারা তাদেরও ধরা দরকার। কিন্তু কে ধরবে? এই সমাজে ওরা পার পেয়ে যাবে। ওদের কিছু হবে না।

  2. একটি বইয়ের জন্য একটা প্রকাশনী
    একটি বইয়ের জন্য একটা প্রকাশনী বন্ধ হয়ে যাওয়া, প্রকাশ্যে অভিজিৎ রায়ের মতো মানুষ খুন হওয়া একটি সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। এ সমাজ ধর্মের , এ দেশ ধর্মের, এ সমাজ মূর্খের। মুক্তমনারা এ সমাজে লাঞ্চিত হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে হুমায়ন আজাদ, অভিজিৎ রায় উনারা শুধু ব্যাক্তি নন, উনারা এক নব চেতনার নাম। উনারা বেচে থাকবেন সবার মাঝে।

    1. এই দেশ কি আমার? এখানে মানুষ
      এই দেশ কি আমার? এখানে মানুষ আছে? এত গুলো মানুষের ভীড়ে কিভাবে তাকে খুন করা হলো? তবে কি টিএসসিতে ওরা মানুষ ছিল না?

    1. মুক্ত মনা মানে কিন্তু এক্টা

      মুক্ত মনা মানে কিন্তু এক্টা বিশেষ গোষ্টি কে হেও করে কিছু লিখা **** এই জদি হয় মুক্ত মোনা।

      এই যদি হয় মুক্তমনা, তাহলে কি? অভিজিৎদার মত চাপাতির কোপ খেতে হবে?

        1. আস্তিক-নাস্তিক দ্বন্দ্বকে যদি
          আস্তিক-নাস্তিক দ্বন্দ্বকে যদি প্রগতিশীল ও প্রতিক্রিয়াশীলের দ্বন্দ্বে না ঘুরিয়ে দেয়া যায়, তাহলে আমাদের এভাবে লাশ পড়বে আর লাভবান হবে ক্ষমতার কীটগুলো। দ্বন্দ্বটা ঘুরে গেলে মোল্লারা তো বটেই, অনেক নাস্তিকও প্রতিক্রিয়াশীলের দলে ভিঁড়বেন। তাই বন্ধুবেশী শত্রুদের সম্পর্কে সজাগ হওয়ার দরকার।

    2. মডারেট মুসলমান নামের
      মডারেট মুসলমান নামের শুয়োরগুলো অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ডে খুব খুশি বলেই মনে হচ্ছে। তারা জানেনা সহীহ ইসলাম কায়েম হলে এরাও রেহায় পাবেনা।

    3. অভিজিৎরা ভুল জায়গায় জন্ম
      অভিজিৎরা ভুল জায়গায় জন্ম নিয়েছে। এখানের রাষ্ট্র ব্যবস্থা জঙ্গিবাদের পৃষ্টপোষক। এটি একটি অকার্যকর রাষ্ট্র। সবকিছু ভেঙেচুড়ে আবার নির্মাণ করতে হবে। অভিজিৎ রায়ের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে অভিজিৎ রায়, হুমায়ুন আজাদদের প্রতি সম্মাণ দেখানো হবে। এরা যে জ্ঞানের দ্বীপ জ্বালিয়ে গেছেন তার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে।

      অভিজৎ হত্যাকারীদের বিচার এই রাষ্ট্র কখনই করবে না।

  3. এই দেশে সব কিছুই সম্ভব।
    এই দেশে সব কিছুই সম্ভব। যেখানে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতাকে হত্যা করা হতে পারে সেখানে কি হতে পারে না। মানুষ প্রতিনিয়ত জ্ঞানের বিরুদ্ধে লড়াই করে জ্ঞান অর্জন করে আলোর পথে যায়। আর আমরা জ্ঞানী কে হত্যা করে আলো নিভিয়ে দিয়ে নিজেকে অন্ধকারে মধ্য ডুবিয়ে দিতে চাই। আসলে অভিজিৎ দা এর দোষ কি তিনি তো ভুল সময়ে এসেছেন আর ভুল প্রদিপে জ্ঞানের দীপশিখা জ্বালাতে চায়েছে।

  4. অভিজিৎ রায়ের সাথে চিন্তাধারার
    অভিজিৎ রায়ের সাথে চিন্তাধারার ক্ষেত্রে অনেক ব্যাপারেই আমার মতের মিল নাই, তাই বলে তাকে খুন করতে হবে ?

    অবশ্য যা ঘটছে সেটা ঠিকই আছে… আসলে আমরা আমাদের জাত চেনাচ্ছি… আমরা যতই উপরি ভালো মানুষ কিংবা সুশীল সাধু কিংবা পাক-পবিত্র ঝান্ডাধারীর ভাণ ধরি না কেন আমরাতো আসলে অত ভালো মানুষ নই। আমরা সংকীর্ণতার পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত। সুতরাং আমরাতো আমাদের থেকে মুক্তমনাদের সহ্য করতে পারবো না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

72 − 62 =