অভিজিৎ হত্যার শিক্ষা : বাঙালী সাহায্যের হাত বাড়ায় না

তিনি লেখালেখি করতেন। মানুষকে মুক্তবুদ্ধি, স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন দেখাতেন, আলোকিত মানুষ ও দেশের কথা বলতেন। দেশের জন্য তার অসীম মায়াই তাকে প্রবাসী হয়ে যেতে দেয়নি। প্রবাসে থেকেও তার সব কাজের বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশ, বাংলা ও বাঙালী। দেশের গন্ডি পেরিয়েও সেসব কাজ গুরুত্ব ধরেছে অন্যান্য দেশের অনেক মানুষের কাছেও। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তার বন্ধুর সংখ্যা অনেক। কিন্তু যে দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে তার সমস্ত কিছু নিবেদিত, সেই দেশের মানুষ তাকে এ কী প্রতিদান দিল?

?oh=b260720b40f7f37ef37a62ed22b98207&oe=55900363&__gda__=1435272565_2fafc9f9c1418e0275ae8901af059a90″ width=”400″ />
দেশে এলেন বইমেলার জন্য, হয়ে গেলেন লাশ!

এই লজ্জা আমরা কোথায় রাখব। অভিজিৎ রায় দেশে এসেছিলেন বই মেলা উপলক্ষে। এসেছিলেন জ্ঞান দিয়ে মানুষকে আলোকিত করতে। অথচ তাকে বন্দি করা হলো চির অন্ধকারের জগতে। পৃথিবী থেকে মুছে দেয়া হলো জীবিত অভিজিতের নিশানা। তাও গভীর রাতে কোনো নির্জন গলিতে নয়। একেবারে মহাসড়কে, ঢাকার মতো শহরে রাত তখন সবে শুরু হয়। কোনো অজপাড়ায় নয়, দেশের প্রধান শিক্ষাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে ঘটেছে এই ঘটনা। ঘটেছে বই মেলা থেকে ফিরে যাওয়া হাজারো মানুষের মধ্যে। পুলিশ দাঁড়িয়েছিল ঘটনাস্থলের বিশগজের মধ্যেই। তাও দু’একজন না, শত শত পুলিশ। শত শত মানুষ। এটাও কি সম্ভব?

?oh=a7a840f71c8fb979ba77a36e6903e822&oe=557EBF29″ width=”400″ />
খুনিরা পালাচ্ছে, ওদের ধরেন বলে বন্যার রক্তে ডোবা দুর্বল স্বরের আকুতি!

?oh=14b78f6b7c0aa2a79c6967ddfefed4d6&oe=5587225F&__gda__=1434884917_6e54bbd338637c3c5a6472ad30235939″ width=”500″ />
পাশেই দাঁড়ানো পুলিশ! তারাও ধরল না খুনিকে।

এতগুলো মানুষ ছিল, কেউ ধরল না? এই একটা প্রশ্নের জবাব কেউ দিতে পারছেন না। ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে, মানুষ ছবি তুলেছে। কিন্তু আহতদের দিকে বাড়ায়নি সাহায্যের হাত। এটা কি পৃথিবীর অন্য কোথাও ঘটা সম্ভব? এটা কি বাঙালীর কোনো সমস্যা? এত মানুষের সামনে খুন হয়, মানুষ ছবি তোলে? একটা মেয়ে নিজেও কোপ খেয়েছে, সে সাহায্যের জন্য রক্তাক্ত হাত বাড়িয়ে কাঁদছে, কিন্তু সবাই দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে! এটা কিভাবে সম্ভব?

?oh=af86613f99ba12526fc843498d8f571a&oe=55877730″ width=”300″ />
বাঙালী দর্শক। কারো নেই সাহায্যের হাত, আহত স্ত্রী একাই চেষ্টা করছেন!

?oh=1d6ea2436b3b9e83f595949d909acfbf&oe=558836CE” width=”400″ />
এই নারী কি কোনোদিন বাঙালী জাতিকে ক্ষমা করতে পারবেন?

তাহলে যারা কথা বলেন, কাজ করেন, তারা কার জন্য কথা বলবেন, কার জন্য কাজ করবেন? কেউ মার খেলে অন্যরা ধরবে না, এগিয়ে আসবে না? সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকারি বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। কেউ কথা বলে না। ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বললে জঙ্গিরা খুন করে। কেউ কথা বলে না। চোখের সামনে খুন করা হয়, মানুষ ছবি তোলে, ধরতে আসে না। উল্টো খুন হওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ বলে ধর্ম রক্ষা করে। এ কেমন জাতি? এ প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাচ্ছি না।

?oh=79b9f02642b2b3ad7fb02cb5bacb74fd&oe=558D8895&__gda__=1435200028_33eaf00dd3158fd3ced4a41feed5db35″ width=”400″ />
মতপ্রকাশের বিপরীতে মস্তিষ্কের ঘিলুপ্রকাশ- এটাই মৌলবাদের রূপ!

?oh=f4ac099c9e840b047d6739dbf6f0cbe4&oe=5595FD79&__gda__=1431256368_5d919710be3835913dfe31e4ce638fd1″ width=”300″ />
বাঙালীর এই সূর্য সন্তানদের চিনে রাখুন।

অভিজিৎ হত্যা আমাদের ভয়ানক এক শিক্ষা দিয়ে গেছে। বাঙালীর চরিত্রে সমস্যা আছে। অভিজিৎ হত্যার ছবিগুলো যতবার দেখছি তত মনে হচ্ছে, আমিও কি এমনটা করতে পারতাম। মনে হয় পারতাম, কারণ রিকশাওয়ালাকে যখন বাইকওয়ালা চড় দেয়, আমি কথা বলিনি। আমি শুধু আমার স্বার্থটাই দেখেছি। আমার পুরো জাতি আজ ভয়ঙ্কর স্বার্থপর, অন্ধ স্বার্থপর, যে স্বার্থপরতা তাকেও গিলে খাচ্ছে। আমি সেই জাতির একজন হয়ে আজ ভয়াবহ অসহায় বোধ করছি। বাঙালীর মহত্বের যে কোনো বাণীর মুখে মূত্র বিসর্জন করতে আমার আর কোনোদিন বাধবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৭ thoughts on “অভিজিৎ হত্যার শিক্ষা : বাঙালী সাহায্যের হাত বাড়ায় না

  1. বাঙালি আত্মকেন্দ্রিক জাতি।
    বাঙালি আত্মকেন্দ্রিক জাতি। এতগুলো মানুষের সামনে মেরে খুনিরা চলে যেতে পারে বলেই পূণারাবৃত্তি ঘটছে এধরনের হত্যাকান্ডের। তারা ভাবেনা এ পরিস্থিতিতে তারাও একদিন পড়বে।

  2. কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাই না ,
    কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাই না , ভাবতে অবাক লাগে এই জাতি ‘৫২ , ‘৭১ দিয়েছে আমাদের , কিন্তু আজ আমরা সম্পূর্ণ মেরুদন্ডহীন , সাহসের ছিঁটেফোটা নেই , বিবেক নেই , নেই মানুষ হত্যা দেখেও কোন রকম বিকার ।

  3. এটা যে সম্ভব, তা আমরা দেখতেই
    এটা যে সম্ভব, তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে কিভাবে সম্ভব? এতগুলো মানুষ, কেউ এগিয়ে এলো না? এই ছবিগুলো আমাদের মনুষ্যত্বের প্রশ্নটাকে টেস্ট স্ট্যাটাসের সমান করে দিয়েছে।

  4. কিছু বলার ভাষা নেই মাঝে মাঝে
    কিছু বলার ভাষা নেই মাঝে মাঝে ভাবি আমরা কি এই বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলাম। এই দেশের জন্য নিজের জীবনের ঝুকি নিয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা। শত শত মানুষের সামনে হত্যা কারি এসে খুন করে পালিয়ে গেল। সাহায্যের জন্য এউ এগিয়ে এল না সবাই মন দিয়ে সিনেমা দেখল। আসলে এই দেশে জন্ম গ্রহন করে মাঝেমাঝে লজ্জায় পড়ে যাই।

  5. অবশ্য যা ঘটছে সেটা ঠিকই
    অবশ্য যা ঘটছে সেটা ঠিকই আছে… আসলে আমরা আমাদের জাত চেনাচ্ছি… আমরা যতই উপরি ভালো মানুষ কিংবা সুশীল সাধু কিংবা পাক-পবিত্র ঝান্ডাধারীর ভাণ ধরি না কেন আমরাতো আসলে অত ভালো মানুষ নই। আমরা সংকীর্ণতার পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত। সুতরাং আমরাতো আমাদের থেকে মুক্তমনাদের সহ্য করতে পারবো না।

  6. বাঙালী সাহায্যের হাত বাড়ায় না
    বাঙালী সাহায্যের হাত বাড়ায় না ///// এই কথার ব্যপারে আমার তীব্র আপত্তি আছে॥ রানা প্লাজা,জিহাদ উদ্ধার সহ এইরকম শত শত উদাহরণ দেওয়া যাবে যে বাঙালী কেমন সাহায্য প্রবন জাতী।

    বাঙালী বুঝে কাকে সাহায্য করা উচিত আর কাকে উচিত না ।

    1. বাঙালী বুঝে কাকে সাহায্য করা

      বাঙালী বুঝে কাকে সাহায্য করা উচিত আর কাকে উচিত না ।

      তাই নাকি? তা বাঙালি কিভাবে বুঝল তিনি অভিজিৎ রায়? তার গায়ে লেখা ছিল নাকি?

    2. আলুকিত: ঠাডায় ২টা বন চটকানা
      আলুকিত: ঠাডায় ২টা বন চটকানা দেয়া দরকার আপনার ধ্যাবড়া গালের উপ্রে। রানা প্লাজার উদাহরণ দিসেন, ওইখানে কি সব নুনুর আগা কাটা সহি মুসলমান আছিলো? ৫ অক্ত নামাজ পইড়া কপালের ছাল চামড়া উঠায় ফেলসিলো তারা? ওইখানে কোন নামাজ না পড়া বা মালাউন ছিলো না? ওইখানে সাহায্য করতে গেসিলো যারা, তারা কি হাজিরা খাতা দেইখা উদ্ধার করতে নামসিলো?
      আমি মনে প্রাণে চাই কোন একদিন ট্রাকের তলে পইড়া মরেন আপনি, চেহারা এমনভাব ভচকায় যেন চিনার উপায় না থাকে, বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে একদিকে কুত্তায়, আরেকদিকে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে টানাটানি করুক। এই জিনিস কল্পনা করেন, তাইলে বুঝবেন সাহায্য কারে করা উচিত, কারে উচিত না- এই কথাটার মর্ম।

  7. হত্যার সময় কি কেউ জানতো যে,
    হত্যার সময় কি কেউ জানতো যে, তিনি অভিজিৎ রায় বা বুদ্ধিজীবী বা ওবামার কোনো এজেন্ট কিংবা কোনো অফিসের কেরানি? তাহলে তখন কেউ এগিয়ে এল না কেন? এদেশে ব্যক্তিস্বার্থ চর্চ্চা একটা বিশেষ সীমায় পৌঁছেছে।

  8. তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা
    তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনী কাদের রক্ষা করার জন্য? অভিজিৎ রায়ের উপর হামলার পর পুলিশের এসব নিরাপত্তা যে কার্যকর কিছু না প্রমাণ হল। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা কখনই দিতে পারে নাই। তথাকথিত এসব নিরাপত্তা লোক দেখানো ছাড়া কিছুই না। অন্তত এই ঘটনাটির পর জঙ্গিদের কাছে এই ম্যাসেজটাই গেল।

    দুইটা সন্ত্রাসী খুন করে পালিয়ে গেল এতগুলো মানুষের সামনে, ভাবতেই অবাক লাগে। হয়ত অভিজিৎকে রক্ষা করা যেত না, কিন্তু আশেপাশের মানুষগুলো উদ্যোগী হলে খুণীরা পালিয়ে যেতে পারত না। খুণী জঙ্গিদের কাছে এই ম্যাসেজ গেল- এদেশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খুন করে গেলেও কেউ এগিয়ে আসবেনা। ভবিষ্যতে যে কেউ এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন।

  9. সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সামনা
    সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সামনা সামনি লড়াই করার মত মানসিক দক্ষতা বর্তমানে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের নেই। এরা পারে শুধু নিরস্ত্র অবস্থায় কোন অপরাধীকে ধরে ক্রস ফায়ারের নামে মিথ্যা নাটক সাজাতে,সামনা সামনি বন্দুক যুদ্ধের সাহস এদের নেই। দলীয় করন আর দুর্নীতির স্বীকার হয়ে পুলিশের মরালিটি ধ্বংস হয়ে গেছে। আর আমরা সাধারন মানুষ হয়ে গেছি আত্নকেন্দীক। তাইতো কেউ মরে পড়ে থাকলেও আমরা কেউ ফিরে তাকাই না

  10. আলুকিত: ঠাডায় ২টা বন চটকানা
    আলুকিত: ঠাডায় ২টা বন চটকানা দেয়া দরকার আপনার ধ্যাবড়া গালের উপ্রে

    পোংটা পোলা, থাপরানের মন চাইলে চলে আসেন, আমার বাড়ি নাটোর সদর, চৌধুরী বড়গাছা,মসজিদের পাশে।

    _ ভদ্রতা নিয়ে কেউ জন্মায় না ভদ্রতা শিখতে হয়॥

    1. আপনার মতো জঙ্গী মনমানসিকতা
      আপনার মতো জঙ্গী মনমানসিকতা হলে তো হোম সার্ভিসে কল্লা নামায় দিয়ে আসতাম। কিন্তু মুক্তচিন্তার অধিকারী হওয়ায় আমাদের সরাসরি থাবড় দেয়া লাগে না। দুই লাইন লিখলেই চলে।
      * ভদ্রতা হলো মানবতাবাদীদের বৈশিষ্ট্য আর জঙ্গীদের মুখোশ। মানবতাবাদীরা কারো লুঙ্গি উল্টায় নুনু দেখে সহযোগীতা করে না। ধর্ম দিয়ে বিচার করা ধর্মবাজদের কাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 25 = 26